ভবঘুরে_সমরাঙ্গন
পর্ব_৪৩
তাজরীন ফাতিহা
মার্ভ জেনের সাথে হেড খোশগল্পে মেতে আছেন। জিনান আদহাম, মুনতাজির জায়েদ, নেওয়াজ শাবীর এখনো আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে। তাদের কারো মুখে হাসি নেই। প্রত্যেকের মুখ গম্ভীর। এর অবশ্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে। গত দেড় ঘণ্টা ধরে হেড তাদেরকে দাড় করিয়ে রেখে ননস্টপ কথা বলে চলেছেন। গল্পে এতই মজেছেন যে তাদেরকে যাওয়ার পারমিশন পর্যন্ত দিতে ভুলে গেছেন। রাগ লাগছে ভীষণ তবে কিছু করার নেই। এই প্রফেশনে এরকম অভিজ্ঞতা নতুন নয়। তাই মুখ বুঝে হজম করছে তারা। উইন্ডো গ্লাসে আবারও টোকা পড়ার শব্দে হেডের কথা বলায় ফুলস্টপ পড়লো। তিনি আসার পারমিশন দিলেন। গ্লাস ডোর ঠেলে প্রবেশ করলো আজারাক সাইফার। তার পরনে কালো লেদারের হুডি, চোখে সানগ্লাস, কানে ব্লুটুথ ইয়ারবাড। এসেই জিনান আদহাম, নেওয়াজ সবার সাথে হাত মিলালো। মুনতাজির তাকে দেখে হাত মিলানোর পাশাপাশি জড়িয়ে ধরে বললো,
“ওয়েলকাম AC।”
আজারাক সাইফার অধর বেঁকিয়ে বললো,
“থ্যাংকস এমজে (MJ)।”
বলেই হেডের দিকে এগিয়ে গেলো। হেড দাঁড়িয়ে তার সাথে মোলাকাত করে বললো,
“অনেকদিন পর সাইফার।”
আজারাক এর বিপরীতে শুধু হাসি ফেরত দিলো। মার্ভ জেন এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে বললো,
“হ্যালো মিস্টার এসি।”
আজারাক সাইফার ঘুরে তার দিকে চাইলো। এতক্ষণ খেয়াল করেনি তাকে। এক মুহুর্ত তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলো। তারপর চেয়ারে বসলো। হেড সবাইকে বসার পারমিশন দিলেন। সবাই বসলো। হেড বেশ খানিকক্ষণ আলোচনা করলেন এবারের মিশন নিয়ে। কথা শেষে আজারাক সাইফার বললো,
“পুলিশ কাস্টডিতে দেয়ার আগে আমি কি কিলার জাদের সাথে একটু একাকী কথা বলতে পারি?”
হেড মাথা নাড়িয়ে পারমিশন দিলেন।
কিলার জাদের সামনে পায়ের উপর পা তুলে কপাল ও গালে দুই আঙ্গুল ঠেকিয়ে ঘাড়টা একপাশে হেলে রেখে রহস্যময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাইফার। কিলার জাদের পায়ে ব্যান্ডেজ করা। যেখানে গতকাল বুলেট ছুঁড়েছিল সাইফার। কিলার জাদ সামনের চেয়ারে বসে হিংস্র নজরে দাঁত খিঁচিয়ে তাকিয়ে আছে তার পানে। যেন এখনই গিলে ফেলবে তাকে। আজারাক হুডির পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে একটা সিগারেট ঠোঁটে ধরলো। তারপর লাইটার জ্বালিয়ে খুবই ধীর গতিতে এক আঙুল দিয়ে আগুন ধরালো। আগুনের ঝলকানিতে তার মুখটা হলুদ, কমলার মিশ্রণে অব্যাখ্যেয় ও গূঢ় প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করেছে। লাইটার সরিয়ে সিগারেট হাতে নিয়ে মুখ থেকে ধোঁয়া বের করতে করতে বললো,
“দুনিয়াতে এত নাম থাকতে কিলার আজাদ কিংবা জাদ নামে পরিচিত হওয়ার কারণ?”
কিলার জাদের ঠোঁটের কোণে ব্যঙ্গাত্মক হাসি যেন জানতো এই প্রশ্নটাই তাকে করা হবে। সে পায়ের উপর পা তুলে সিনা টানটান করে বললো,
“বাপ মায়ে রাখছে কি আর করার?”
আজারাক সাইফারের ভ্রু সংকুচিত হলো। বোঝাই যাচ্ছে কথাটা তার মনঃপুত হয়নি। সে সিগারেটে লম্বা টান মেরে বললো,
“উহু তোর বাপ তো রেখেছে আমজাদ পাঠান। সেখান থেকে কিলার আজাদ হওয়ার রিজন তো বুঝলাম না।”
আমজাদ পাঠান ওরফে কিলার জাদ দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“চেয়েছিলাম তোকে বদনাম করতে কিন্তু সব পরিকল্পনা কিভাবে যে ভেস্তে গেলো। আমার এতদিনের এত পরিশ্রম মাঠে মারা গেলো”
একটু আগে সাইফারের ঠোঁটে বাঁকা হাসি থাকলেও এখন তা মিলিয়ে গিয়ে ভর করেছে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত মুখশ্রীতে। মহূর্তের মধ্যে গর্জন করে উঠে চেয়ারে লাথি দিয়ে কিলার জাদকে সুদ্ধ উল্টে ফেললো। কিলার জাদ ছিটকে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেলো। মাথায় আঘাত পেয়ে উঃ শব্দ করে উঠলো। আজারাক এগিয়ে গিয়ে চুল মুঠো করে ধরে বললো,
“কু****বাচ্চা আমার জীবনটা শেষ করে তোদের শান্তি হয়নি, না? আমার জীবন থেকে চার চারটা বছর নষ্ট করেছিস তোরা? শুধুমাত্র তোদের কুকর্মের প্রমাণ জোগাড় করেছিলাম বলে আমার প্রফেশনে দাগ লাগিয়ে দিয়েছিস তোরা? আমাকে মানুষের সামনে অপমানিত, লাঞ্ছিত করেছিস তোরা? আমাকে পাথরে পরিণত করেছিস তোরা? তারপরও কোন মুখে আমার জীবনকে বদনামের ভাগীদার করতে উঠে পড়ে লেগেছিলি তোরা? বল নিমকহারামের বাচ্চা।”
বলেই দেয়ালের সাথে শক্ত করে ঠেসে ধরে বারি মারলো। কিলার জাদের মাথা থেকে রক্তের ফোয়ারা বইছে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে জিনান, মুনতাজির, নেওয়াজ, মার্ভ জেন আরও কয়েকজন এজেন্ট ছুটে এলো। জিনান আদহাম দৌঁড়ে আজারাককে সরাতে চাইলো কিন্তু তার গায়ে অদ্ভুত শক্তি ভর করেছে যেন। এক চুলও নড়াতে পারলো না। তারপর নেওয়াজ, মুনতাজির এগিয়ে এসে জোরপূর্বক টেনে সরাতে সরাতে বললো,
“কি করছেন মিস্টার সাইফার? পুলিশের হাতে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত অপরাধীর গায়ে হাত দেয়া নিষিদ্ধ আপনি ভুলে গেছেন? কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন? তার শাস্তি কোর্ট বিবেচনা করবে। এসব করে আপনি কেন কালার হচ্ছেন?”
আজারাক ছটফটিয়ে উঠে বললো,
“ওকে নিজ হাতে খুন করবো আমি। আমার জীবনটা জাহান্নাম বানিয়ে ছেড়েছে এই কুলাঙ্গারের দল।”
মুনতাজির তাকে ধরে বললো,
“ঠাণ্ডা হন। আপনি কি ভুলে গেছেন আপনি সাসপেন্ড এজেন্ট? এরপর সাসপেন্ড হলে কিন্তু চিরজীবনের জন্য এই পেশা আপনার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। আগের বার সাময়িক নিষিদ্ধ করলেও এবারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে দেয়ার চান্স আছে। তাই ঠান্ডা মাথায় কাজ করুন।”
আজারাক সাইফার জিদ নিয়ে বললো,
“করুক সাসপেন্ড। এতে আমার চুলও ছিঁড়বে না।”
জিনান আদহাম পরিস্থিতি শান্ত করতে বললো,
“কুল মিস্টার এসি। এসির বৈশিষ্ট্য কিন্তু ঠান্ডা থাকা। সো কাম ডাউন।”
নেওয়াজ বললো,
“তাছাড়া হেডের কানে এটা গেলে তিনি কিন্তু আপনার উপর নারাজ হবেন মিস্টার সাইফার।
আজারাক সাইফার কিছুটা শান্ত হলেও রাগ কমলো না তার। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুঁসতে লাগলো। কিলার জাদ নিজের ঠোঁট ও মাথার রক্ত মুছে সাইফারের দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জ হেঁসে বললো,
“তোর কাছের বন্ধুর তো বা**লডাও ছিঁড়তে পারিস নাই খালি ত্যাজ দেখাস আমগো লগে। আমরা তোর সর্বনাশ করলেও তোর পিঠে ছুরি কিন্তু সেই বসাইছে। আহা কি দোস্তি তোগো, একবারে লা জবাব!”
এই কথা শুনে আজারাক একেবারে শান্ত হয়ে গেলো। অধর একটু বেঁকিয়ে ধীরগতিতে মার্ভ জেনকে ক্রস করে বাইরে বেরিয়ে গেলো। জিনান, নেওয়াজ, মুনতাজির, মার্ভ জেন হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। কি হলো? সাইফারের প্রস্থানে রুম একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেলো। শুধু একজনের ঠোঁটে নির্লজ্জ হাসি এবং দুজনের চোখ প্রজ্জ্বলিত।
__
সকাল সকাল দরজায় টোকা পড়ায় মারওয়ান দরজা খুলে দিলো। নিশাত রান্নাঘরে ব্যস্ত। দরজা খুলেই দেখলো দরজার ওপাশে একজন ভদ্রমহিলা ও ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন। মারওয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেলো। এরা কারা? ভদ্রমহিলা মিষ্টি হেঁসে জিজ্ঞেস করলেন,
“এটা ফৌজিয়া নিশাতের বাসা না?”
মারওয়ান অসস্তুষ্ট কণ্ঠে বললো,
“জ্বি না। এটা মারওয়ান আজাদের বাসা।”
ভদ্রমহিলা আবারও হেঁসে বললেন,
“হ্যাঁ আপনাকেও চিনি। একটু জরুরি কথা ছিল। আমরা কি ভেতরে আসতে পারি?”
মারওয়ান না চাইতেও তাদেরকে ঢুকতে দিলো। সকাল সকাল ভেজাল এসে হাজির। ভদ্রলোক আর ভদ্রমহিলাকে তাদের গেস্টরুমের বিছানায় বসতে দিলো। নাহওয়ান বাবার পিছন পিছন এসে অচেনা দুজন মানুষকে দেখে চুপসে গেলো। দ্রুত মারওয়ানের কোলে উঠে গেলো। ভদ্রমহিলা নাহওয়ানকে দেখে বললেন,
“কি মিষ্টি বাচ্চা! তোমার মা, বাবা কোথায়?”
মারওয়ানের চোখে মুখে বিরাগ দেখা দিলো। এতক্ষণ আপনি বলে এখন তুমিতে নেমে এসেছে। অপরিচিত কাউকে ফট করে তুমি বলা কেমন ম্যানার্স? তবুও অসন্তোষ চেপে বললো,
“গ্রামে।”
ভদ্রমহিলা ও ভদ্রলোক বোধহয় একটু অবাকই হয়েছেন। ভদ্রমহিলা ধাতস্থ হয়ে বললেন,
“ওনারা কবে আসবেন।”
মারওয়ান কথা বাড়াতে চাচ্ছিলো না। তাই সংক্ষেপে বললো,
“যেদিন সময় হবে।”
ভদ্রমহিলা নাহওয়ানকে দেখিয়ে বললেন,
“এতটুকু বাচ্চাকে রেখে গেলেন কেন?”
মারওয়ান এবার চরম বিরক্ত হলো। এই মহিলা কি বলছে আবোল তাবোল আল্লাহ জানে? দাঁত খিঁচে বললো,
“তো কি নিয়ে যাবে?”
ভদ্রলোক এতক্ষণ চুপ থাকলেও এবার মুখ খুললেন,
“তুমি বোধহয় বিরক্ত হচ্ছো আমাদের কথায়। যদিও তোমাদের পরিবারের বিষয়ে জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে ছিল না। আসলে তোমার বাবা, মাকে একটু দরকার ছিল তাই জিজ্ঞেস করছি। কিছু মনে কোরো না বাবা।”
মারওয়ান কপাল ভাঁজ করে বললো,
“আমার মা, বাবাকে আপনাদের কি দরকার? আমাকে বলুন। তাদেরকে বলে দেবো।”
ভদ্রমহিলা একটু কাঁচুমাচু করে বললেন,
“আসলে আমার ছেলের জন্য তোমার বোনকে চাইতে এসেছি।”
মারওয়ান আগের ভঙ্গিতেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে বললো,
“আমার যে বোন আছে আপনারা কিভাবে জানলেন?”
প্রশ্নটি করে পরক্ষণেই মনে হলো তার পিতা মাহাবুব আলম এখানে এসে মসজিদে গিয়ে বন্ধুবান্ধব পাতায়নি তো আবার? হতেই পারে মাহাবুব আলমের পরিচিত এরা। সম্ভবত মানহার বিয়ের কথা জানাতে পারেননি। ভদ্রমহিলার কথায় তার চিন্তা ভঙ্গ হলো।
“চারপাশে খোঁজ নিয়েই জেনেছি আরকি। আমার ছেলে গোয়েন্দা অফিসার। তার জন্যই পাত্রী খুঁজছিলাম। তোমার বোনকে নিয়ে এসো। একটু দেখি।”
মারওয়ান ছেলেকে চেপে ধরে ভাবলো মানহাটার বিয়ে এই ছেলেটার সাথে হলে কত ভালো হতো। একটা ভালো পরিবার, ভদ্র ছেলে পেতো। অথচ তার বাচ্চা বোনটা পেয়েছে একটা স্টুপিডকে। ভাবলেও রাগে দুঃখে মাথায় রক্ত উঠে যায় তার। রাগ ঝেড়ে বললো,
“ও তো গ্রামে। এখানে নেই।”
ভদ্রমহিলা ও ভদ্রলোকের মুখটা কালো হয়ে গেলো। তারপর দাঁড়িয়ে বললেন,
“আচ্ছা আরেকদিন আসবো তাহলে।”
মারওয়ান আরও কিছু বলতে চাইলো তার আগেই তারা বেরিয়ে গেলেন। দরজায় দাঁড়িয়ে জুতো পড়ার সময় মারওয়ান বললো,
“কিছু খেয়ে যান।”
ভদ্রমহিলা হেঁসে বললেন,
“না বাবা। আরেকদিন আসবো। এরপর তো অনেকবার আসতে হবে তখন নাহয় খাবো। তোমার বাবা, মা আসলে একটা খবর দিও। তোমার নাম্বারটা দাও সেইভ করে রাখি।”
মারওয়ান মানহার বিয়ে হয়ে গেছে কথাটা যখনই জানাতে যাবে তখনই নিশাত রেডি হয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য রুম থেকে বের হলো। নিশাত ভেবেছে তারা চলে গেছেন। নিশাতকে দেখে ভদ্রমহিলা একটু জোরেই বললেন,
“ঐযে তোমার বোন? মিথ্যা বললে কেন? ও তো ঘরেই আছে। দেখি মেয়েটার মুখটা একটু দেখে যাই।”
মারওয়ান, নিশাত উভয়ই থতমত খেয়ে গেলো। মারওয়ান পিছু ঘুরে নিশাতকে দেখে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে বললো,
“কোথায় আমার বোন?”
ভদ্রমহিলা এবার একটু বিরক্তই হলেন। বললেন,
“আশ্চর্য তোমার সামনেই তো দাঁড়িয়ে আছে। ঐযে নিকাব পড়া মেয়েটা।”
মারওয়ান চোখ ঘুরিয়ে এমন রিয়েকশন দিলো যে ভদ্রমহিলা ও ভদ্রলোক উভয়ই ভয় পেয়ে গেলেন। মারওয়ান এতক্ষণে বুঝলো আসল কাহিনী। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“তাকে আপনাদের অবিবাহিত লাগে কোন দিক দিয়ে? একটু এক্সপ্লেইন করুন দেখি। তার বয়স আপনাদের থেকে সর্বোচ্চ ধরলে দশ বছরের কম হবে মনে হয়। আর আপনারা এসেছেন এই অর্ধবুড়া নারীর সাথে আপনাদের কচি ছেলের বিয়ে দিতে?”
ভদ্রলোক এবং ভদ্রমহিলা উভয়ই একসাথে বললেন,
“What! বুড়া?”
“আজ্ঞে হ্যাঁ। বোরকার ভিতরে বুড়া না জুয়ান বুঝবেন কিভাবে? এজন্যই মূলত কটটা খেয়েছেন।”
ভদ্রমহিলা তবুও বিশ্বাস করতে নারাজ। তিনি মিনমিন করে বললেন,
“চোখ দুটো কি সুন্দর, বাচ্চাদের মতো হাইট। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না সে বুড়ো।”
মারওয়ান নির্লিপ্ত গলায় বললো,
“আরে সব মেকআপের ফল। নিচে তরতাজা তাগড়া বুড়ি।”
“তরতাজা তাগড়া বুড়ি মানে?”
মারওয়ান মনে মনে গালি দিয়ে বললো,
“মানে আপনি।”
“আমি মানে।”
“মানে আপনিও বুড়ো সেও বুড়ো। হয়ে গেলো না এক থুরো।”
ভদ্রমহিলা তাও মাথা নাড়িয়ে নিজের সংশয় প্রকাশ করে বললেন,
“কণ্ঠটাও তো কি মিষ্টি ছিল? কোনোভাবেই তো বয়স্ক কণ্ঠ লাগেনি।”
মারওয়ান এবারও কিছু বলার জন্য উদ্যত হতেই নিশাত এগিয়ে এসে বললো,
“আপনারা ভুল ভাবছেন। আমি বিবাহিত। আমার স্বামী, বাচ্চা সব আছে। ভুল ধারণা মনে রাখবেন না।”
ভদ্রমহিলা আশ্চার্যন্বিত কণ্ঠে বললেন,
“তবে তুমি মা, বাবা, ভাইয়ের সাথে থাকো কেন?”
নিশাত শান্ত কণ্ঠে বললো,
“জানি না আপনারা এই মিথ্যা গুজব কোথা থেকে শুনেছেন তবে আমি মা, বাবার সাথে থাকি না। আমি আমার স্বামীর সাথেই থাকি বাচ্চা নিয়ে। আর ইনিই আমার স্বামী। কোলে যে বাচ্চাটা দেখছেন সে আমার ছেলে নাহওয়ান।”
ভদ্রমহিলা ও ভদ্রলোক পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন। আসলে এত এত শক নিতে পারছেন না তারা। স্বামী ছেলেকে ভাই ভেবেছিলেন তারা? কি সাংঘাতিক অদ্ভুত কথা!
_
“শুনুন ফ্লাফি না বমি করছে?”
ইহাব কফি খাচ্ছিলো আর ফোন স্ক্রল করছিল। হঠাৎ মানহার কথা শুনে সেদিকে চেয়ে বললো,
“বমি করছে কেন?”
মানহা চিন্তিত কণ্ঠে ফ্লাফিকে ঝুড়ির মধ্যে রেখে বললো,
“জানি না। কয়েকদিন হলো খাওয়াদাওয়াও কমিয়ে দিয়েছে। সারাক্ষণ ঘুমায়।”
ইহাব কপালে হাত ঠেকিয়ে ফোন দেখতে দেখতে বললো,
“তোমার রোগে ধরেছে। ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া, খাবারে অরুচি।”
মানহা বিরক্তি নিয়ে বললো,
“আমি মজা করছি না।”
ইহাব ফোনের দিকে নজর দিয়েই বললো,
“আমিও সিরিয়াস।”
“আশ্চর্য কেমন সিরিয়াস আপনি? বললাম ফ্লাফি বমি করছে, খাওয়াদাওয়া কমিয়ে দিয়েছে, সারাক্ষণ এক জায়গায় বসে থেকে ঝিমায় নয়তো ঘুমায়। এগুলো নরমাল লাগছে আপনার কাছে?”
ইহাব ভ্রু কুঁচকে বললো,
“লক্ষণ তো ভালো ঠেকছে না। ও কি পাশের বাড়ির আশপাশ ঘেঁষে নাকি?”
“হ্যাঁ যায় তো মাঝে মাঝেই।”
“সর্বনাশ! এগুলো তো প্রেগন্যান্সির সিমটমস্।”
মানহা অবাক হয়ে বললো,
“কিন্তু কিভাবে…”
ইহাব দাঁত খিঁচে বললো,
“কিভাবে মানে? আসো দেখিয়ে দেই।”
মানহা থতমত খেয়ে বললো,
“বুঝেছি বুঝেছি। দেখানো লাগবে না।”
“ঘোড়ার ডিম বুঝেছো। একটা বিড়ালও তোমার চেয়ে বুদ্ধিমান। ঠিক নিজের পার্টনার খুঁজে আসল কাজ সেরে ফেলেছে। আর তুমি একটু কাছে ঘেঁষলেই ফিট খাও। আমার ভবিষ্যতের রেড লাইট জ্বালায় দিছি এই অ্যাটাকরে বিয়ে করে।”
মানহা চোখ মুখ শক্ত করে বললো,
“আমি এখন মোটেও ফিট খাই না।”
“ও আচ্ছা তাহলে কি খাও? আমার বাইট??”
“ছিঃ আস্তাগফিরুল্লাহ!”
ইহাব গালে হাত ঠেকিয়ে বললো,
“আস্তাগফিরুল্লাহ কেন? বরং আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ পড়।”
মানহা ভ্রু কুঁচকে মুখ কঠিন রেখে বললো,
“আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ কেন পড়বো?”
ইহাব দু’হাত পিছনে নিয়ে আড়মোড়া ভেঙে বললো,
“আলহামদুলিল্লাহ পড়বে তোমাকে কামড়ের অফার করেছি দেখে। আর সুবহানাল্লাহ পড়বে আমার অতি সুশ্রী ওষ্ঠ দিয়ে তোমাকে দংশন করবো বলে।”
মানহার কান দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। সে দ্রুত ‘অসভ্য’ বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। ইহাব তা দেখে পিছন থেকে জোরে জোরে বলতে লাগলো,
“আরে কই যাচ্ছো? ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করছিলাম তো?”
তারপরই সুর টেনে গাইতে লাগলো,
“তুমি জ্বালাইয়া গেলা লাল বাতি,
নিভাইয়া গেলা না।”
মানহা আজ সারাদিন আর ঘর মুখো হয়নি। শাশুড়ির সাথে সাথে থাকার চেষ্টা করেছে যদিও উর্মি ভুঁইয়া আগের মতো তার সাথে কথা বলেন না তবুও এই কাজ সেই কাজ করে সময় কাটিয়েছে। এখন রান্নাঘরে সন্ধ্যার জন্য সিঙ্গারা, পুরি বানাচ্ছে। সিঙ্গারায় আলুর পুর ভরে ডুবন্ত তেলে ছেড়ে দিলো। ইহাব বাইরে থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো। রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে দেখলো মানহা মনোযোগ দিয়ে রুটি বেলছে। ইহাব আশপাশটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিঃশব্দে মানহার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। মানহা একমনে পুর ভরে রুটি বেলছে। ইহাব মানহার কানের কাছে গিয়ে একটু মোটা আর বিকৃত কণ্ঠে ফিসফিস করে বললো,
“এই মেয়ে তোরে আমার ভাল্লাগছে। আমি তোরে জ্বিন নগরীতে নিয়া যামু। এখন শুধু একখান কামড় দিয়া যামু গা। তাই বেশি তেড়িবেড়ি না কইরা সোজা হইয়া খাড়ায় থাক।”
আচমকা কানের কাছে অদ্ভুত কণ্ঠ শুনে মানহা ভয়ে গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে উঠলো। দ্বিতীয়বার চিৎকার দিতে নিলে ইহাব মানহার মুখ চেপে ধরলো। মানহা ভয়ে ঘেমে একাকার। মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলো। কেমন যেন চারপাশ অন্ধকার লাগছে। সে সম্পুর্ণ ভর ইহাবের উপর ছেড়ে দিলো। ইহাব ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে মানহাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। মানহার মুখের দিকে তাকিয়ে আফসোসের স্বরে বলতে লাগলো,
“দিতে চাই বাইট,
হয়ে যায় কাইত।
এদিকে আমার ভবিষ্যৎ
আসার জন্য করতেছে ফাইট।
আল্লাহ গো লাল বাত্তি নিভে
কবে জ্বলবে আমার লেড লাইট?”
চলবে….
(আসসালামু আলাইকুম।)
ভবঘুরে_সমরাঙ্গন
পর্ব_৪৪
তাজরীন ফাতিহা
নিশাতের স্কুল ছুটি হলো মাত্র। সে নিজের ব্যাগপত্র গুছিয়ে স্টুডেন্টদের পরীক্ষার খাতা ব্যাগে ঢুকালো। এই স্কুলে প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে ক্লাস টেস্ট হয়। তাই প্রায়ই পরীক্ষার খাতা কাটার জন্য বাসায় আনতে হয় নিশাতের। ক্লান্ত মুখশ্রী ম্লান হয়ে আছে তার। স্কুল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় অবসন্ন ভঙ্গিতে হাঁটতে হাঁটতে সকালের কথা মস্তিষ্কে ভেসে উঠলো। নাজমা ম্যাডাম কি রসিয়ে রসিয়েই না তার স্বামীর বদনাম করছিলেন অন্য কলিগদের কাছে। কথায় আছে, মেয়ে মানুষের পেটে কথা বেশিদিন থাকেনা। আর তা যদি হয় নাজমা ম্যাডামের মতো মহিলা মানুষ তাহলে তো কথাই নেই। নিশাতের এত খারাপ লাগছিল মনে চাচ্ছিলো তখনই রিজাইন দিয়ে চলে আসতে। এত এত মানুষের সামনে প্রতিনিয়ত করুণা, অবজ্ঞা, হেয় নজরে থাকার চেয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকাই তার কাছে শ্রেয়।
ভীষণ কান্না পাচ্ছিলো যখন সে প্রবেশ করা মাত্রই অফিসরুমের সব চোখ তার দিকে অদ্ভুত নজরে তাকিয়ে ছিল। নিশাত কোনমতে তাদেরকে পাশ কাটিয়ে ক্লাসে চলে এসেছিল নাহলে ওখানে দুমিনিট থাকলে লজ্জা অপমানই বোধহয় সে মরে যেতো। এই সমাজের মানুষ শুধু কথা দিয়ে নয় চক্ষু দিয়েও মানুষ মারতে পারে।
বাসায় এসে আজকে একটা কথাও বললো না। নাহওয়ান মাকে দেখেই কোলে ওঠার জন্য ছটফট করছে। নিশাত আজ ছেলেকে কোলে নিলো না। এড়িয়ে গেলো। বেশ খানিকক্ষণ গোসল করে বের হলো। তারপর নামাজ পড়ে বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে পড়লো। মারওয়ান এতক্ষণ ধরে নিশাতের সব কর্মকাণ্ডই নীরবে দেখলো । নাহওয়ান তার পা পেঁচিয়ে বললো,
“মা কুতা বলে না বাবা।”
মারওয়ান ছেলেকে কোলে নিয়ে বললো,
“মা ক্লান্ত। পরে বলবে। আয় ভাত খাইয়ে দেই।”
নাহওয়ান মাথা নাড়িয়ে বললো,
“মায়েল সাতে কাবো। মায়েল কাচে যাবো।”
মারওয়ান ছেলেকে খাটের উপরে উঠিয়ে দিলো। নাহওয়ান হেঁটে নিশাতের বুকের ভেতর ঢোকার জন্য কসরত চালাচ্ছে। নিশাতের চোখটা লেগে গিয়েছিল। নাহওয়ানের নড়াচড়ায় চমৎকার ঘুমটা ভেঙে গেলো। এমনিতেই সারাদিনের ধকল, সকালের সেই পরিস্থিতি, এখন আবার আরামের ঘুম ভাঙা সব মিলিয়ে মাথায় রাগ চেপে বসলো। নাহওয়ান মাকে চোখ খুলতে দেখে ফোকলা হেঁসে তাকিয়ে বললো,
“মা ভাতু কাবে না।”
নিশাত রাগ নিয়ন্ত্রণ করে কোনো জবাব না দিয়ে আবারও চক্ষু মুদলো। নাহওয়ান মাকে কথা বলতে না দেখে বুকে জোরে কামড় বসিয়ে দিলো। নিশাত উঃ শব্দ করে চেঁচিয়ে উঠে নাহওয়ানের পিঠে দুমদাম কয়েকটা লাগিয়ে ক্ষান্ত হলো। যেন সারাদিনের পুঞ্জীভূত ক্রোধের নিষ্পত্তি ঘটালো। কিল খেয়ে নাহওয়ানের মুখের হাসি নিভে গেছে। নিশাত রাগান্বিত কণ্ঠে বললো,
“সবসময় ইতরামি তাইনা? বেয়াদব কোথাকার। একবার নিষেধ করেছি বুকে কামড়াবি না। সারাক্ষণ দুধ দুধ আর দুধ। কিছু না বলতে বলতে একেবারে মাথায় উঠে নাচছে।”
নাহওয়ান মায়ের অপ্রত্যাশিত মাইর, ধমকে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠে ‘বাবা বাবা’ করতে লাগলো। নিশাত চোখ রাঙিয়ে ভেঙিয়ে বললো,
“একদম চুপ। সারাক্ষণ ব্যাবা ব্যাবা। তোর ব্যাবার কাছে গিয়ে ঘ্যানর ঘ্যানর কর যা। অজাতের ঘরের অজাত পয়দা করেছি।”
নাহওয়ান চুপ না করে কান্নার স্বর আরও বাড়িয়ে দিলো। মারওয়ান নিশাতের চিৎকার আর নাহওয়ানের কান্নায় দ্রুত টয়লেট থেকে বেরিয়ে এলো। আঁধভেজা খালি গা। গলায় গামছা। কোকড়া চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে গোসল থেকে তাড়াহুড়া করে বেরিয়েছে। ছেলেকে চিৎকার করে কাঁদতে দেখে এগিয়ে গেলো। নাহওয়ান বসে বসে কাঁদছে। পরনে সাদা সেন্ডুগেঞ্জি। সেটায় বারবার চোখ মুছছে। বাবাকে দেখেই ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠে এগিয়ে এসে গুলুমুলু হাত দুটো বাড়িয়ে দিলো। মারওয়ান ছেলেকে কোলে নিয়ে বললো,
“কি হয়েছে? তোদের মা, বেটার কি হলো আবার। দুই মিনিটও গোসল করতে দিলি না ক্যা কু শুরু করেছিস।”
নাহওয়ান আঙুল দিয়ে নিশাতকে দেখিয়ে কাঁদতে কাঁদতেই বললো,
“মাচ্চে। পিটে ডুম ডুম কিল ডিচে। উফ বেতা।”
বলেই আবারও চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কাঁদতে লাগলো বাচ্চাটা। মারওয়ান কপাল কুঁচকে বিছানায় চাইলো। নিশাত ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে তাই তার মুখটা মারওয়ান দেখতে পারছে না। বাচ্চাটাকে মেরে কি নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে পাষাণ নারী! সে সব সহ্য করতে পারলেও ছেলেকে মারা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেনা। রাগ ওঠে তার। কিছু না বলে ছেলেকে কোলে নিয়ে কান্না থামিয়ে ভাত খাইয়ে দিলো। তারপর হাঁটতে হাঁটতে নাহওয়ানকে ঘুম পাড়ালো। বাচ্চাটা ঘাড়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত কান্নার ফলে হেঁচকি উঠে গিয়েছিল নাহওয়ানের। এখন ঘুমানোর ফলে হেঁচকি কমে গিয়েছে। সে ছেলেকে পাশের রুমে বালিশ দিয়ে বর্ডার করে শুইয়ে দিলো। নাহওয়ান ঘুমের ঘোরেই করুণ গলায় মারওয়ানের গেঞ্জি মুঠো করে অস্ফুটভাবে বললো,
“মাচ্চে, মাচ্চে। ইনদি বেতা।”
মারওয়ান ঘুমন্ত ছেলের কপালে, গালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো। বাচ্চাটা ঠোঁট ফুলিয়ে ঘুমাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক করে গম্ভীর মুখে নিজের রুমে প্রবেশ করে বিছানার দিকে চাইলো। নিশাত আগের ভঙ্গিমায় শুয়ে আছে। তার চোখের সাদা অংশ লালাভ হয়ে আছে। মুখের আদল কাঠিন্যতায় ছেয়ে গেছে। গটগট পায়ে হেঁটে বিছানার শোয়া ঘুমন্ত নিশাতকে হ্যাঁচকা টানে বসালো। নিশাত ভ্রুর ভাঁজে বিরক্তির রেখা টেনে মারওয়ানের দিকে চাইলো। মারওয়ান উগ্রভাবে নিশাতের বাহু চেপে ধরে বললো,
“কিসের তেজ দেখাও? এই বয়সে বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে দেখে শরীরে শক্তি ভর করেছে? মনে প্রজাপতি উড়ছে? নতুন বিয়ের শখ জেগেছে মুখে বলতে পারছো না তাই সন্তানকে মেরে বিষ কমাচ্ছো?”
নিশাত কথার মানে বুঝে মারওয়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে বললো,
“খবরদার ফালতু কথা বলবেন না। আমি আমার সন্তানকে বকবো নাকি মারবো সেটা আপনাকে বলে করবো না নিশ্চয়ই।”
মারওয়ান নিশাতের চোয়াল চেপে ধরে নিজ মুখের সামনে এনে বললো,
“আমাকে বলবি না তো কাকে বলবি? ওটা আমার সন্তান। তুই জাস্ট গর্ভে ধরেছিস আদারওয়াইজ সবকিছু আমার। রক্ত, বীজ এভরিথিং।”
নিশাতের কান্না পেলো কেন যেন। সবার এত এত কথা তারউপর ঘরের ভাদাইম্মা পুরুষের কথাও যদি শুনতে হয় তখন কেমন লাগে? কান্না পেলেও সেটা প্রকাশ করলো না। নিজেকে দুর্বল প্রমাণ কিছুতেই করবে না সে। মারওয়ানের চোয়ালে ধরা হাতটায় শক্ত করে নক দাবিয়ে বললো,
“সবকিছু আপনারই যেহেতু গর্ভে ধারণ করেও দেখাতেন। দেখতাম কত হেডম আপনার? মানে বিচার যাইহোক না কেন তালগাছ তার। নাই গাছের ছাল, পাড়ে খালি ফাল।”
মারওয়ান রুক্ষভাবে বললো,
“কথাবার্তা সাবধানে বলবি। ছাল আছে কি নেই সেটা নিশ্চয়ই তোকে দেখাবো না। এসব তেজ আমার সামনে দেখাবি না। এসব গোনার টাইম নেই আমার।”
“ইশরে আপনাকে গুণে যেন কে উল্টিয়ে ফেলছে? ভ্যালুলেস পুরুষের আবার বড় বড় কথা। ছাড়ুন আমাকে।”
“এই আমার বাসায় বসে গলা নাচাবি না।”
নিশাত হাসতে হাসতে বললো,
“এটা নাকি তার বাসা? জোকস অফ দ্যা ইয়ার। বহুদিন পর অনেক হাসলাম। বিনোদন আর বিনোদন।”
মারওয়ান চোখ গরম করে বললো,
“আমার বাসা না তো কার বাসা?”
“আমার শ্বশুর আব্বার।”
“আব্বাটা কার?”
“আমার।”
মারওয়ান চোয়াল শক্ত করে বললো,
“ফাইজলামি হচ্ছে? মেরে গুম করে রাখবো কেউ হদিশও পাবে না। সবাইকে বলে বেড়াবো নতুন নাগরের সাথে ভেগেছে।”
নিশাত রাগান্বিত কণ্ঠে বললো,
“লাগাম টেনে কথা বলুন। নিজের মতো ইতর ভাবেন সবাইকে? আপনার নাগরী যে চিঠি দিয়েছিল সেটা কিন্তু ভুলিনি। আহা কি পিরিতি, আমার জাদ! ঢংয়ের প্যাঁচাল আমার সাথে পাড়বেন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আপনার কুকীর্তি পুরো বংশে সাপ্লাই করবো।”
বলেই মারওয়ানের হাত ঝটকা দিয়ে ফেলে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো। ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। রাগে শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুটছে। এমনিতেই সকাল থেকে মাথা ঠিক নেই বাসায় এসেও একটার পর একটা অশান্তি লেগে আছে। মারওয়ানও বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। নিশাত চলে যেতে নিলে তার খোলা চুলে টান পড়লো। মাথায় হাত দিয়ে ব্যথাসূচক শব্দ করলো। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো মারওয়ান তার চুল পেঁচিয়ে ধরেছে। নিশাত চোখ কুঁচকে মাথার নিম্নাংশ চেপে ধরে বললো,
“চুল ছাড়ুন। অসভ্যের মতো করছেন কেন? আগে তো একটা গুণ ছিল বউ না পেটানো। এখন কি সেটাও খুয়াবেন?”
মারওয়ান মুখ শক্ত করে চুল প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে নিশাতকে টেনে আনলো। নিশাতের চোখে পানি এসে গেছে ব্যথায়। অন্ধকার দেখছে চারিপাশ। মাথার পিছন চেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইলো স্তব্ধ হয়ে। মারওয়ান হাত শিথিল করতেই নিশাত ঘুরে রাগে জিদে মারওয়ানের গেঞ্জি বুকের কাছ থেকে টেনে ছিঁড়ে ফেললো। তারপর ফোঁপাতে লাগলো। মারওয়ান তব্দা খেয়ে তার সুতির গেঞ্জিটার দিকে তাকিয়ে আছে। যেটার হাল বর্তমানে ছিঁড়ে বেহাল। হাত থেকে নিশাতের চুলের গোছা পড়ে গেলো। রক্তিম চোখজোড়া উঠিয়ে নিশাতের দিকে চাইলো। নিশাত ফোঁপাতে ফোঁপাতে মারওয়ানের ছিঁড়ে যাওয়া গেঞ্জির বুকের কাছটায় কামড় বসিয়ে দিলো। মারওয়ান উঠিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে বললো,
“এত তেজ কই থেকে আসে? গেঞ্জি ছিঁড়েও তেজ কমে না আবার কামড় দিচ্ছিস? স্বামী, সন্তানকে যেভাবে পারছিস মারছিস, কামড়াচ্ছিস শরীরে শক্তি বেশি হয়েছে?”
নিশাত কেঁদে উঠে মারওয়ান যে হাত দিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সেই হাতে কামড় দিয়ে ধরে রাখলো। মারওয়ান চোখ বুজে কন্ট্রোল করছে নিজেকে। এই লিলিপুটের পাগলা রাগ উঠেছে। সে এখন যাই করবে এর বিপরীতে কামড়ে রাগ মিটিয়ে তবে দম নেবে। খানিকপর নিশাত মুখ উঠিয়ে মাথা চেপে ধরলো। অতিরিক্ত রাগ উঠলে মাথা ব্যথায় টনটন করে তার। নিশাত বাথরুমে গিয়ে মাথায় পানি ঢাললো বেশখানিকক্ষণ। মারওয়ান ছেঁড়া গেঞ্জি আর ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ফোঁসফোঁস করছে। কিছু বলা যায়না অমনি আক্রমণ শুরু করে। বিষ পিঁপড়া একটা।
নিশাত বাথরুম থেকে বেরিয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে নিজে নিজে বলতে লাগলো,
“তেজ দেখাচ্ছে? যে পুরুষের বউ, বাচ্চা পালার মুরোদ নেই সে এসেছে আমাকে শাসাতে। মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষ কোথাকার।”
মারওয়ান সবই শুনলো তবে কিছুই বললো না। গেঞ্জি পাল্টে শার্ট গায়ে দিয়ে রুম থেকে বেরুতে নিলে নিশাত জোরে জোরে বললো,
“যেখানেই যাওয়া হয় নিজের বীজকে যেন সাথে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ থেকে বীজ, বীজের বাপ কোনটার সাথে আমার সম্পর্ক নাই। বাপের কাছে নালিশ দিয়ে মাইর খাওয়ানো তাইনা? এই অজাত পেটে ধরেছিলাম? একে খাইয়ে বড় করছি? পেটে দশমাস শত্রুর বীজ বুনেছি সে তো শত্রুতা করবেই।”
মারওয়ান চোয়াল শক্ত করে ঘুমন্ত ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
__
মানহাকে খুবই মনোযোগ দিয়ে দেখছেন সাইকিয়াট্রিস্ট নাজনীন আনোয়ারা। মানহার শরীর আরও ভেঙে গেছে। গত পরশু ইহাব তাকে মানহার অজ্ঞান হওয়ার ব্যাপারে ইনফর্ম করেছিল। মানহার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল সেই রাতে। ইহাব ভয়ে কথা বলতে ভুলে গিয়েছিল। তারপর ডাক্তার এসে জ্ঞান ফিরিয়েছে। এসব শুনে সে ইহাবকে মারাত্মক বকাঝকা করেছে। একটা প্যানিক অ্যাটাকের কাউন্সিলিং পেশেন্টকে ভয় দেখানোর কারণ কি? এমনিতেই তাদের হার্ট দুর্বল থাকে, এসময়ে যেকোনো কিছু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সবকিছু নিয়ে মজা করা উচিত নয়। নাজনীন আনোয়ারা মানহাকে দেখে বললেন,
“আফরিন, আমার কেন যেন মনে হচ্ছে তুমি কিছু লুকাচ্ছো? দেখো মা এসব সেন্সিটিভ বিষয় লুকালে তোমার ভবিষ্যতে কিন্তু এর ইফেক্ট পড়বে। তুমি কি স্বাভাবিক একটা বিবাহিত জীবন চাও না?”
মানহার হাত কাঁপছিলো। কোনমতেই হাতটা স্বাভাবিক হচ্ছিলো না। মুখের কথা কেমন যেন আউলিয়ে যাচ্ছিলো তার। কোনরকম মুখ খুলে বললো,
“আমি একটা স্বাভাবিক জীবন চাই। তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি কিন্তু হচ্ছে না। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। নিজেকে এখন পৃথিবীর আবর্জনা মনে হয়।”
বলে মাথা খামচে ধরে কেঁদে দিলো। নাজনীন আনোয়ারা মানহার কাঁপা হাতের উপর হাত ঠেকিয়ে বললেন,
“রিল্যাক্স আফরিন। তুমি না ব্রাভো গার্ল? এভাবে ভেঙে পড়লে তো চলবে না বাচ্চা। তুমি কিভাবে ফাইট করছো সেটা আর কেউ না জানলেও আমি জানি। দুনিয়ার সবাই তোমাকে ভুল বুঝলেও, খারাপ বললেও আমি জানি তোমার মতো রোগীদের মেন্টাল হেলথ কন্ডিশন কতটা ভঙ্গুর থাকে। ওইসব বিষাক্ত স্মৃতি, স্পর্শ মস্তিষ্ক থেকে মুছে ফেলা কঠিন। সেই নরপশুদের কোনো শাস্তি হয়না তোমার মতো নিরীহ নিষ্পাপ ফুলগুলো আজীবন সাফার করে। তুমি কেন ঐসব পশুদের জন্য নিজেকে কষ্ট দেবে?”
মানহা মুখ ঢেকে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
“আমার অপবিত্র শরীর কি করে তাকে স্পর্শ করতে দেবো বলুন? সে কাছে আসলেও কেন যেন ঘেন্নায় বমি পায়, ওই জঘন্য স্মৃতি বারবার ভেসে ওঠে। আমি ভুলতে চাই কিন্তু ভুলতে পারিনা। সেদিন যখন সে ভয় দেখালো আমার মনে হচ্ছিলো কিছু বিশ্রী বিষাক্ত হাত আমার শরীরে কিলবিল করছে, চুমু দিতে চাইছে। কয়েকবছর আগে ঠিক এভাবেই আমাকে চেপে ধরে চুমু খেয়েছিল, শরীরে নোংরা স্পর্শ করেছিল আমার স্কুলের স্যার। ছিঃ কি জঘন্য!”
বলেই মানহা মাথা চেপে ধরে গলগল করে বমি করে চেম্বার ভাসিয়ে ফেললো। নাজনীন আনোয়ারা উঠে এসে তাকে ধরলেন। কাঁপছে মানহা। তিনি লোক ডেকে এনে পরিষ্কার করালেন। তারপর মানহাকে রিল্যাক্স হতে দিয়ে তিনি আবারও বসলেন। মানহা একটু শান্ত হয়ে আবারও বলতে লাগলো,
“প্রায়ই ওই অপ্রত্যাশিত জঘন্য ছোঁয়ার শিকার হয়েছি। একদিন মাঠে খেলতে গিয়ে বেশ বেলা হয়ে গিয়েছিল। দ্রুত বাড়ি ফিরতে নিলে আমার এক প্রতিবেশী কাকা আড়ালে নিয়ে আমার সমতল বুকটাকে কতক্ষণ যে মুদেছে হিসেবে ছাড়া। চিৎকার করতে পারিনি। মুখটা চেপে ধরে ছিল। আট বছরের একটা বাচ্চার মস্তিষ্কে এসব কেমন প্রভাব পড়ে বলতে পারেন ম্যাম? একটা বাচ্চার শরীরে তারা কি দেখেছিল? আরেকটু হলে রেপ হতাম ভাগ্যিস বড় ভাইয়া চলে এসেছিল নয়তো সেদিন খবর ছাপা হতো আট বছরের মেয়ের ধর্ষণে মৃত্যু। তারপর থেকে ওই বিষাক্ত স্মৃতি পুষে একেকটা দিন পার করেছি। কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারিনি। বাড়ির পাশের এক আপুকে ভীষণ ভালো লাগতো। আপুটা কি যে মিষ্টি ছিল! সারাক্ষণ তার কাছেই পড়ে থাকতাম।”
বলে একটু দম নিলো। কাঁদতে কাঁদতে তার গলা বসে গিয়েছে। আবারও বলতে লাগলো,
“বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে বাপের বাড়ি বেশি আসতে পারতো না। কালে ভদ্রে দুই একবার দেখা পেতাম। তাও যৌতুক নিতে আসতো। শ্বশুরবাড়ির লোককে খুশি করতে হবে তো। মুখে, শরীরে থাকতো অজস্র কালসিটে দাগ। জিজ্ঞেস করলে ফ্যাকাসে হেঁসে বলতো শ্বশুরবাড়ির আদর। যখন জিজ্ঞেস করতাম এ কেমন আদর? বিষাদ হেঁসে বলতো বিয়ে হলে বুঝবি তখন কলিজায় মোচড় মারতো। পুরুষ মানুষ মানেই আমার কাছে আতঙ্কে রূপ নিলো। সেই সুন্দর মিষ্টি আপুটার যেদিন নীল জখমযুক্ত লাশ বাড়িতে এলো আমি পাথরের মতো জমে গিয়েছিলাম ঐ নীল মুখটা দেখে। ততদিনে পুরুষের প্রতি ঘৃণার পারদ আমার সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে গিয়েছিল আহারে সুন্দর মেয়েটাকে কিভাবে মেরে ফেলেছে জালিমের দল। পুরুষ মানুষই খারাপ এরকম আরও নানা কথা।
আমি খেতে পারতাম না, কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারতাম না। এমনকি ঘুমালেও ওইসব বিষাক্ত স্মৃতি আমাকে তাড়া করতো। কতবার যে ঘুম থেকে চিল্লিয়ে উঠতাম হিসেব ছাড়া। ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে হতো। পরে আম্মু আমার সাথে থাকা শুরু করলো। এরপর থেকে পুরুষ দেখলেই আমার ট্রমা কাজ করে। আমি যে কিছুতেই ভুলতে পারিনা। আমাকে মেরে ফেলুন। এত ট্রমা নিয়ে বাঁচতে ভালো লাগেনা। আমিও অভিশপ্ত। চারপাশের মানুষকেও আমার অভিশাপের জালে জড়িয়ে রেখেছি।”
বলেই ঢুকরে কাঁদতে লাগলো। সাইকিয়াট্রিস্ট নাজনীন আনোয়ারা কথা হারিয়ে ফেললেন। কি বলবেন তিনি? মেয়েটাকে কাউন্সিলিং করিয়ে তিনি যতটুকু না ঠিক করতে পারবেন তার চেয়ে বেশি পারবে তার সঙ্গী। মানহাকে টিস্যু এগিয়ে দিয়ে তিনি ওয়েটিং রুমে গেলেন। সেখানে ইহাব আগে থেকেই বসা ছিল। তার চোখ দুটি লাল হয়ে আছে। কানে ইয়ারপড। মানহার বলা সব কথাই সে শুনেছে। নাজনীন আনোয়ারা বললেন,
“ওকে নিয়ে যাও। কিছু মেডিসিন দিয়েছি সময় মতো খাইয়ে দিও। আর শোনো তুমি যেহেতু সব শুনেছো তাই আমি চাইবো ওকে তুমি সর্বোচ্চ সাপোর্ট দেবে। এসব ভীতি দূর করবে। আর আমি তো আছিই সপ্তাহে সপ্তাহে থেরাপি দেয়ার জন্য।”
ইহাব মাথা নাড়িয়ে তার পিছুপিছু গেলো। চেম্বারে ঢুকে দেখলো মানহা এখন স্বাভাবিক। একটু আগের বলা কথাগুলো যে সেই বলেছে কেউ বিশ্বাস করবে না। একটা মানুষ মনে এত কষ্ট, ট্রমা, নিকৃষ্ট অধ্যায় পুষে রেখে আদৌ বাঁচতে পারে? পারে বোধহয় নাহয় মানহার তো মরে যাওয়ার কথা।
_
রাত বারোটা। মারওয়ান এখনো বাসায় আসেনি। নিশাত অনেকবার ফোনে কল দিয়েছে প্রত্যেকবার বন্ধ পেয়েছে। কান্না করতে করতে গলা ব্যথা করছে। লোকটা তার ছানাকেও নিয়ে গেছে। সেতো রাগের বশে নিয়ে যেতে বলেছিল। সত্যি সত্যি নিয়ে যাবে জানলে কখনোই বলতো না। তার ছানাটা তাকে ছাড়া কেমন আছে? দুপুরে কিভাবে পাষাণের মতো মারলো সে? কত কাঁদলো একটাবার ধরলো না পর্যন্ত। এই ভেবেই কেঁদে চলেছে নিশাত। দরজায় টোকার আওয়াজে বিছানা থেকে দ্রুত উঠে দরজা খুলে দিলো। ওড়না মাটিতে লুটিয়ে আছে। দরজা খুলেই ছেলেকে দেখে হুহু করে কেঁদে উঠে মারওয়ানের কোল থেকে বাজের মতো একপ্রকার ছিনিয়ে নিয়ে গালে কপালে চুমু দিতে দিতে বললো,
“আব্বা, আব্বা রে আপনি কোথায় ছিলেন? মায়ের সাথে এত রাগ?”
নাহওয়ানের দুই হাত ভর্তি চকলেট, চিপস। মায়ের আদর পেয়ে আরও গুটিয়ে গেলো। সারাদিন পরে মায়ের ওম পেয়ে চুপচাপ পড়ে রইলো। মারওয়ান ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ছেলেকে নিশাতের থেকে কেড়ে নিয়ে বললো,
“আমার বাচ্চাকে যেন ধরা না হয়।”
নিশাত ছলছল চোখে নাহওয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। নাহওয়ান বাবার দিকে তাকিয়ে মায়ের দিকে তাকালো। মারওয়ান ছেলের হাত, মুখ ধুইয়ে দিয়ে গামছা দিয়ে মুছিয়ে দিয়ে বিছানায় বসিয়ে বাথরুমে চলে গেলো। নিশাত এই ফাঁকে নাহওয়ানকে কোলের মধ্যে ঢুকিয়ে অজস্র চুমু খেলো। পিঠে হাত বুলিয়ে বললো,
“ব্যথা পেয়েছেন আব্বা?”
নাহওয়ান ঠোঁট ফুলিয়ে হেঁসে বললো,
“বেতা নাই।”
নিশাত আবারও ছেলেকে কোলে ঢুকিয়ে আদর করতে লাগলো। মারওয়ান বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে মা, ছেলের কাণ্ড দেখতে লাগলো। নাহওয়ান বাবাকে দেখে বললো,
“ইট্টু মাল কুলে উটচি।”
“কেন উঠেছিস? এক্ষুনি নাম।”
“ইট্টু তাকি।”
মারওয়ান গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে নিশাতের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে বললো,
“শত্রুর বীজ পেটে নিয়ে গর্ভ নাকি দূষিত হয়ে গেছে? শত্রুর বাচ্চার সঙ্গে কিসের মিত্রতা আবার? বহুরূপী।”
চলবে…
(আসসালামু আলাইকুম।)
Share On:
TAGS: তাজরীন ফাতিহা, ভবঘুরে সমরাঙ্গন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৩
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ২৬+২৭
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৩৩+৩৪
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব (৯,১০)
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন গল্পের সব লিংক
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ২৯+৩০
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৫৭+বোনাস
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন ১৫+১৬
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৬১