Golpo romantic golpo বি মাই লাভার

বি মাই লাভার পর্ব ২১


বিমাইলাভার

পর্ব-২১

সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

ঘুমন্ত নৈঋর স্বপ্নে এক ভীষণ অদ্ভুত দৃশ্য এলো। দিলশাদ যেন ছটফট করছে। কোনো এক অন্ধকার রুমে সে শ্বাস নিতে পারছে না।মুহুর্তেই ঘুম ভাঙলো মেয়েটার।ধীরে সুস্থে উঠে বসে বাইরে বের হলো।তার রুম থেকে দুটো রুম পড়েই দিলশাদের মাস্টার বেডরুম। ইলেকট্রনিক লকে নিজের ফিংগার প্রিন্ট দিতেই খুলে গেল সেটা। ভিতরে প্রবেশ করে নৈঋ আলো জ্বেলে দিলো। ডান পাশে ছোট্ট স্টাডি রুমটা আর ক্লোজেট পেরিয়ে বেডরুমে প্রবেশ করলো।হালকা আলোয় সে বুঝতে পারলো দিলশাদ সত্যিই ছটফট করছে।ঘেমে গেছে একবারে। গায়ে হাত দিতেই বুঝলো বেশ জ্বর। আস্তে-ধীরে তাকে ডাকলো। অচেতন অবস্থায় কিছু বিরবির করে বলছিল।

“হানি বিয়ার… কি হয়েছে? চোখ খুলে তাকাও।”

কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দিলশাদের ফোন হাতে নিলো।এখানেও নিজের ফিংগার প্রিন্ট দিতেই খুলে গেল। ওয়াল পেপারে একটা মেয়ের ছবি দেওয়া।মেয়েটাকে নৈঋ চিনে। দিলশাদের খুব কাছের একজন। দুটো কমলা হাতে নিয়ে বসে আছে সে। অন্য সময় হলে আরো খানিকটা সময় মেয়েটাকে দেখতো কিন্তু এই মুহুর্তে জ্যাককে কল দিলো।মিনিট দশেক পর ডাক্তার সমেত প্রবেশ করলো জ্যাক।কিন্তু বেডরুম পর্যন্ত আসার পূর্বে অনুমতিও চাইলো। নৈঋ নিজের দিকে একবার তাকালো।না এবার আর সে উল্টো পাল্টা পোশাক পড়ে নেই। অনুমতি দিয়ে দিলশাদের বিছানার অপর পাশটায় গিয়ে বসলো।

“জ্বর আসাটা স্বাভাবিক। কিছু সময় পর নেমে যাবে।”
“কোনো মেডিসিন দিবেন না?হুশ নেই তো।”
“ম্যাম একটু সময় দিন।সকাল অবধি নেমে যাবে। মাথায় একটু জলপট্টি দিলে ভালো হয়।”

ডাক্তার চলে যেতেই একজন পরিচারিকা পানি নিয়ে এলো।পুরো রাত চললো থেকে থেকে মাথায় জলপট্টি দেওয়া। পরদিন সকালে দিলশাদের ঘুম ভাঙতেই দেখলো তার পাশেই হেলান দিয়ে আধশোয়া অবস্থায় ঘুমিয়ে আছে নৈঋ।এক পা প্রায় তুলে দিয়েছে বুকের উপরে। আলগোছে পা নামিয়ে উঠে বসলো দিলশাদ।এক হাতে টেনে মেয়েটাকে বিছানায় শুইয়ে দিতেই গলা খাকাড়ি দিলো জ্যাক।

“চিফ, এখন কেমন আছেন?”
“হুম ঠিক আছি।কিড্ডো এখানে কেন?”
“চিফ গতরাতে লেডি নিজে আমাকে আপনার নাম্বার দিয়ে কল দিয়েছিল।ডাক্তার এসেছিল।”
“ও পুরো রাত এখানেই? আচ্ছা তুমি এসো।”

দিলশাদ ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলো নৈঋ বিছানা জুড়ে ঘুমিয়ে আছে। এ চিলতে স্বস্তি দেখা দিলো ওর চোখে মুখে। বিরক্ত না করে সে ল্যাপটপ নিয়ে বসে গেল। দিন কয়েক পর কিড্ডোর এডমিশন। নিজের ইনসিকিউরিটির জন্য ওকে ঘরে বসিয়ে রাখা সম্ভব নয়।


খুশবু কফির মগটা বেশ জোরেই রাখলো টেবিলের উপর।প্রত্যয়ের উপর সে ভীষণ বিরক্ত।দিলশাদকে কিছুই বলতে দিচ্ছে না।অথচ দিলশাদের বুঝা প্রয়োজন। নৈঋতা আর ছোটো নেই।এখন কেন?গত কয়েক বছর ধরেই সে বলতে চাইছে কিন্তু ওরা শুনলে তো? নির্জনা মেয়েটার জন্য ওর খারাপ লাগছে। এখন রাগের বশবর্তী হয়ে যদি সে কোনো খারাপ পদক্ষেপ নেয়? ওর ভাবনা কে থামিয়ে দিতে রিয়ান বলল,

“তোর মাথাটা যদি সম্পূর্ণ খারাপ না হয় তাহলে তুই নৈঋকে নিয়ে দিলশাদকে কিছুই বলবি না।”
“বলাটা উচিৎ।তোরা কি বুঝতে পারছিস না?”
“তুই বুঝতে পারছিস না।হিজ ইজ আ সাইকোপ্যাথ। ভুলে গেছিস? একটা সময় ছিল ও লাল রঙ ছাড়া কোনো রঙে শান্ত হতো না।ওর রাগ,জেদ জানিস না? একমাত্র নৈঋতা পারলো ওকে নিজের অজান্তে সামাল দিতে।ভুলে গেছিস? ইলহামের ভাগ্নিকে আপন করে নিতে দিলশাদ লাল রঙ ছেড়ে সাদা রঙ আপন করেছে?”

খুশবু খানিকটা দমে গেল।ওর মনে পড়ে গেল দশ বছর আগের দিলশাদের কথা।বয়স কুড়ির এক ছেলের নিষ্ঠুরতম কাজগুলো। আপন মনে ঢোক গিললো সে।তারা কখনোই সাধু পুরুষ বা ব্যক্তি হিসেবে নিজেদের মনে করেনি কিন্তু দিলশাদ ভিন্ন।ও নিজে একটা ভয়াবহ মস্তিষ্কের মানুষ। ওর মানুষের দিকে যারা আংগুল তুলেছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়নি।মনে পড়লো ক্লাস নাইনে পড়ার সময়ের কথা।একদিন স্কুল পালিয়ে ওরা চলে গিয়েছিল ঘুরতে। সেখানেই প্রথম নিজ হাতে কাউকে আঘাত করে দিলশাদ।একজন বয়স্ক ভিক্ষুককে দুইজন লোক ভীষণ আঘা’ত করছিল। ওরা থামাতে গেলে হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইলহামের ডান হাতে আঘাত করে একজন। দিলশাদ এগিয়ে গিয়ে ধরলে ওকেও আঘাত করে বসে। প্রত্যয় ওরা খানিকটা দূরে ছিল। ওরা যখন এলো তখন চার পাঁচজন মিলে মাতাল দুটোকে কাবু করে ফেলেছিল। খুশবু বয়স্ক লোককে দূরে সরিয়ে রেখে আসার পর দেখতে পেল দিলশাদ, ইলহামের হাতে থাকা দুটো ধারালো অস্ত্র। আর ওদের সামনে পড়ে আছে দুজন নিথর দেহের মানুষ। র’ক্তে ভেসে যাচ্ছে নদীর পাড়ের ওই জায়গাটুকু।ওরা ওই লোক দুটোকে মেরে ফেলেছে। খুশবু চিৎকার করতে চাইলে রিয়ান ওকে থামালো।এরপর শুরু হলো লা’শ লুকানোর ব্যবস্থা। টেনে নদীর পানির একদম কাছাকাছি নিয়ে গেল ওরা। দিলশাদ ঠান্ডা মাথায় বসে বসে ওই লোকগুলোর আংগুলের প্রথম অংশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলল।পরিচয় লুকানোর ওই বুদ্ধিটা এতোটুক বয়সে কী করে এসেছিল ওর? হুট করেই খুশবুর মনে হলো দিলশাদ প্র‍্যাকটিক্যাল ক্লাসে যেমন নীরব থাকে, চশমাটা এক হাতে চোখের দিকে ঠেলে দিয়ে খুব সূক্ষ্ম ভাবে ওদের সবার প্র‍্যাকটিকাল করে দেয় ঠিক একই ভাবে ব্যাগে থাকা সার্জিকাল ব্লেড দিয়ে কাজ করছে। যেন ওর সামনে ব্যক্তি নয় একটা ব্যাঙ মাত্র।

এরপর কতশত ঘটনা ঘটলো? শাযলীন পরিবারের এক ভয়াবহ সত্য সামনে এলো।ওরা জড়িয়ে গেল সেই সত্যের সাথে।পরিবার থেকে প্রতিটা মানুষ আলাদা হয়ে গেল।দিলশাদ নিজের সেই ভয়ংকর দিকটা ছেড়ে এক মুখোশ পরে নিলো।সেই মুখোশের আড়ালে সব ঢাকা পড়লো।কেবল চিফ ডাকটা আর ওর হাতের ব্ল্যাক সাফ্যায়ার আংটিটা জানে ওর ক্ষমতা কতটুক।

“শোন তোদের কথা ঠিক আছে। কিন্তু তোরা ভুলে যাচ্ছিস নৈঋ ইলহামের ভাগ্নি। দিলশাদ আর ইলহাম বন্ধু নয় ভাই ছিল।”

“র’ক্তের সম্পর্ক ওদের? বল তুই? আমাকেও তো তুই ভাই ডাকিস। এখন আমি তোকে বিয়ে করতে চাইলে তখন ও কি আমি তোকে ভাইয়ের মতোই দেখবো?”

“আরে নাহ। এক মিনিট! রিয়ান তুই কি ইনডায়রেক্টলি আমায় প্রপোজ করলি?আমি কিন্তু….

” কোথায় লংকা কোথায় আবু ডংকা। তোকে প্রোপজ আর আমি?”
“তুইও যেমন বাজে, তোর চেহারাও বাজে সাথে তোর উদাহরণ গুলোও।”
“যা ভাগ। আর যা বলেছি মাথায় রাখিস।”
“তুই ভাগ শালা।”

রিয়ান জবান না দিয়ে শিষ বাজাতে বাজাতে চলে গেল।খুশবু এই মুহুর্তে খানিকটা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল।রিয়ান কি তাকে সত্যিই বিয়ের প্রস্তাবটা দিয়েই দিলো?


‘চিফ আজ রাতের ইনভাইটেশন….
” কিড্ডোর জন্য আউটফিট রেডি আছে?”
“ইয়েস চিফ।আপনি অনুমতি দিলে লেডিশীপের রুমে পৌঁছে দিবো।”

দিলশাদ উঠে দাঁড়ালো।শরীরটা ভালো লাগছে না তবুও আজকের এই ডিনারটা বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।আজ জানতেই হবে সেদিন হাসপাতাল থেকে কিড্ডোকে ওই অবধি কে নিয়েছিল? নির্জনা একা এতোটুক করার সাহস কোনো দিন ও পাবে না।ওর সাথে কে ছিল এটা জানতে হবে।কারণ শাযলীনদের উত্তরাধিকার বেঁচে আছে এটা হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ জানে না।

“কিড্ডো?”
“হুম?”
“কি হয়েছে? এতো চুপচাপ কেন?”
নৈঋতা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল দিলশাদের দিকে। এই ব্যক্তি দুই দিন আগেও মরতে মরতে বেঁচেছে।তাকে একটা বারের জন্যও কেউ জানায়নি সে এতোটা আঘা’তপ্রাপ্ত।কতো নিখুঁত ভাবে প্রতিটা মানুষ অভিনয় করে গেছে অথচ এখন জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে? গলার কান্না গলায় আটকে রইল।দিলশাদ বুঝি কিছু একটা বুঝলো। ওর পাশে বসে এক হাতে ব্যাগটা এগিয়ে দিয়ে বলল,

“বিজনেস ডিনার পার্টি কিড্ডো। যেতেই হবে।তোমার আউটফিট। আর কিছু লাগবে?”

“আমি ঘুমাবো।যাবো না।”
“ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যাবে।আমরা আধ ঘন্টা থাকবো আবার চলে আসবো।গেট রেডি মাই লেডি।”

স্টাইলিশ দরজার বাইরেই ছিল। নৈঋতা সাধারণ কোথাও যাওয়ার সময় নিজে নিজে তৈরী হয় কিন্তু যদি সত্যিই সেটা দিলশাদের বিজনেস মিটিং থাকে তবে স্টাইলিশ আসবেই। ঘন্টা দুই পর নৈঋতা বেরিয়ে এলো।দিলশাদের মাস্টার বেডরুমে প্রবেশ করতেই দেখলো ওর শার্টের কাফলিংক্স লাগানোর চেষ্টা করছে।
“এটা নয়।এটা আগেও পরা হয়েছে।”

নৈঋতা এগিয়ে গেল দিলশাদের ওয়াকিং ক্লোজেটের দিকে। নীল রঙের রুবি পাথর বসানো কাফলিংক্স হাতে নিয়ে দিলশাদের হাতে পরিয়ে দিচ্ছিলো।দিলশাদ স্থির দৃষ্টিতে তাকে দেখলো। এই রঙের পোশাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে কিড্ডোকে। দিলশাদের কাফলিংকের রঙের সাথেও মিলে যাচ্ছে ভীষণ ভাবে। ড্রয়ার থেকে ব্ল্যাক সাফ্যায়ার আংটিটা বের করলো দিলশাদ। নৈঋতা সেটার দিকে তাকিয়ে দেখলো আরেক বার।আংটিটা সে চিনে।যেদিন রশীদ মহলে নিয়ে গিয়েছিল সেদিন খানিক সময়ের জন্য এটা পরতে দিয়েছিল দিলশাদ।কিন্তু আজ কেন?

গাড়ি থেকে নামার পর প্রত্যয় এগিয়ে এলো ওদের দিকে। নিচু হয়ে নৈঋতার জুতোয় লেগে থাকা কিছু একটা মুছে দিতেই বেশ কয়েক জন ফিসফিস শুরু করলো।রিয়ান সহ কয়েক জন ওদের দেখে এগিয়ে গেছে। নৈঋতা খুশবুকে খুঁজছে, ওকে দেখা গেল খানিকটা দূরে।দিলশাদের মুঠো বন্ধী ওর এক হাত।খুশবুর কাছাকাছি যেতেই হাতের ওয়াইন গ্লাসটা রেখে নৈঋতাকে এক হাতে নিজের দিকে এগিয়ে নিলো।চোখ ইশারায় প্রত্যয় কিছু বলল যেন।

” আচ্ছা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।ও আমাদের ছোট্ট রাজকন্যা। নৈঋতা শাযলীন।”

বাকীরা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও দুই একজনের চোখ মুখের রঙ বদলে গেল। তাদের মাঝে একজন নারী বলল,
“ইলহাম শাযলীনের ভাগ্নি?”
“হ্যাঁ আমাদের ইলহামের একমাত্র উত্তরসূরী।”
“এতো দিন কই ছিল?শুনে ছিলাম ও….
প্রশ্ন সম্পূর্ণ করার আগেই একজন তাকে ইশারা করলো।এতক্ষণে ওরা বুঝতে পারছে কেন এই মেয়ে আসার সাথে সাথেই প্রত্যয় ওরা এগিয়ে গিয়েছিল।কিন্তু এই মেয়েটা কার সাথে এসেছে? কে ছিল?ভীড়ের মধ্যেই কেউ একজন বলল ” দিলশাদ” ছিল মেয়ের সাথে। তখন কারোর কারোর বুঝতে বাকী রইল না যে লোক চক্ষুর আড়ালে এতো দিনেও শাযলীনদের জিইয়ে রাখা ব্যক্তিটা আর কেউ নয়।

নির্জনা দিলশাদকে দেখে ওর দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল। দিলশাদ তার উপস্থিতি বুঝতে পেরে বলল,
“কিছু বলবে?”
“কোথায় ছিলে তুমি?আমার কথা আছে তোমার সাথে।”
দিলশাদ মাথা দিয়ে ইশারা করে বাইরের দিকে হাঁটলো।নির্জনা এবং সে একটা নীরব পরিবেশে এসে দাঁড়িয়েছে।নির্জনা দিলশাদের হাত ধরে বলল,
“তোমার হাত ভাঙলো কি করে?কোথায় ছিলে তুমি?কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না।”
“বলো কি বলবে?”
“দিলশাদ এবার তো আমাদের বিয়ের ডেটটা ফিক্সড করা উচিৎ। গতবার তুমি এতো লোকের সামনে আমাকে অপমান করলে,তোমার কি মনে হয় না আমি সরি ডিজার্ভ করি?”
“আমি আমার সরি তোমাকে পাঠিয়েছি নির্জনা।লিমিটেড এডিশনের স্পোর্টস কারটা নিশ্চয়ই তোমার পছন্দ হয়েছে।”
“তা হয়েছে কিন্তু এভাবে আর কত দিন?”
“বিয়েটা আর সম্ভব নয়।কারণটা তুমি জানো।”

নির্জনা কিছু না বলে দিলশাদের বুকের কাছে হাতটার দিকে মাথা রেখে ওকে জড়িয়ে ধরলো। কিছু বলছিল সে কিন্তু দিলশাদ কোনো জবাব দিচ্ছে না।দূর থেকে সেটা নৈঋতা দেখতে পেয়েছে। রিয়ান একবার ভাবলো এই বুঝি মেয়েটা রিয়্যাক্ট করে বসবে কিন্তু ওকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিয়ে নৈঋতা পাশে থাকা পেস্ট্রি নিয়ে খাওয়া শুরু করেছে।দুই গাল ভরে খাচ্ছে মেয়েটা।যেন কোনো বাচ্চার সামনে টিভিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে পছন্দের কোনো কার্টুন আর সে সেটা দেখে গপাস গপাস করে গিলছে খাবার।

পুরো ডিনার পার্টিতে নৈঋতাকে এটা ওটা খেতেই দেখা গেল।কখনো সে স্ট্রবেরী খাচ্ছে আবার কখনো আংগুর। খুশবু অবশ্য কাছাকাছি থেকেছে। ওয়াশরুমেও সাথে করেই নিয়ে গেছে। নৈঋতা ভিতরে ঠিক সেই সময় ওয়াশরুমে প্রবেশ করলো রিয়ান।

“গাধা, এটা লেডিস ওয়াশরুম।”
“গাধার বউ। কারোর বাড়িতে ওয়াশরুম লেডিস আর জেন্টস আলাদা থাকে না।”
“তুই কিন্তু বেশি কথা বলছিস।”
“কি করবি?চুমু দিবি?”

খুশবু রেগে গিয়ে ওর হাতে থাকা লিপস্টিক ঢিল দিলো।রিয়ান সেটা হাত দিয়ে ধরেই দিলো দৌড়।খুশবু ছুটলো ওর পিছু পিছু। নৈঋতা বের হয়ে কাউকে দেখলো না। বেসিনে হাত ধোয়ার সময় দেখা মিললো নির্জনার।এতো দিনে সে বুঝে গেছে দিলশাদের কাছাকাছি যেতে হলে তাকে এই মেয়েকে সামলে চলতে হবে।সে মুখে মেকী হাসি ফুটিয়ে বলল,
“কি খবর কিড্ডো?বাচ্চা মেয়ে এখানে কেন?”
“সেটা আপনার হবু বরকে জিজ্ঞেস করলেই পারেন।”
“জানোই যখন আমার হবু বর তবে কেন এখানে তার হাত ধরে এলে?ওই জায়গাটা কি আমার ছিল না?নৈঋতা তোমার সাথে আমার কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু যেটা আমার সেটাকে আমার হতে দাও।”
“আমি কখনোই না করিনি। তবে এই বিষয়ে আপনাকে আমি বলতে পারি আপনি আপনার হবু বরকে ম্যানেজ করুন। ছলে বলে কৌশলে আমাকে দূরে পাঠানোর জন্য রাজি করুন।এতে আপনার আমার দুজনের ভালো।”

“তুমিও তাহলে ভালো মন্দ বুঝো?শুনো তবে তুমি নিজেকে একটা বার দেখো।মনে হয় না রুপকথার সে দুঃখী মেয়েটা তুমি? কিন্তু এটা বাস্তব জীবন। এখানে তোমার মতো দুঃখী মেয়েরা সহানুভূতি পায়, ভালোবাসা পায় না।আমি তোমার ভালো চাই।”

নির্জনার কথাতে নৈঋতা হেসে বলল,
“আমিও।”

ফিরে এসে সে চুপচাপ বসে ছিল ঠিক সেই সময় দিলশাদ এবং প্রত্যয় কয়েক জনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। নৈঋতা জানে না তারা কে কিন্তু বুঝতে পারলো আবার দেখা হতে যাচ্ছে ওদের। কথা বলার মাঝখানেই দিলশাদ প্রত্যয় কে জিজ্ঞেস করলো,
“রিয়ান? খুশবু?”
প্রত্যয় মাথা ইশারায় বুঝালো জানে না ওরা কই আছে। ফিরে আসার সময় হলে খুশবুকে দেখা গেল।ওর ঠোঁটের লিপস্টিকের বারোটা বেজে গেছে। সে সম্পূর্ণ মেকাপ তুলে ফেলেছে মুখ থেকে। অদ্ভুত ভাবে রিয়ানের সাদা শার্টের বা পাশে দাগ দেখলো নৈঋতা। মনে হচ্ছে মেকাপ লেগেছে।


ফিরে আসার সময় গাড়িতে বসেই ঘুমিয়ে গেছে নৈঋতা। কিন্তু এই মুহুর্তে দিলশাদের ক্ষমতা নেই তাকে তুলে বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার। তাই সে জ্যাককে নির্দেশ দিলো কোথাও একটা নিয়ে যাওয়ার। গাড়ি ছুটতে লাগলো বাতাসের পেট চিড়ে। নৈঋতার যখন ঘুম ভাঙলো তখন গাড়ি থেমেছে। কেবল থামেইনি ভোরের আলো রাতের আকাশকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। নিজের মাথাটা আবিষ্কার করলো দিলশাদের কোলের উপর রাখা ছোট্ট কুশনে, গায়ের উপর পাতলা চাদর। ধীরেধীরে উঠে বসলো সে। গাড়ির জানালা দিয়ে দেখলো তারা কোনো পাহাড়ের চূড়ায় আছে।এখানে সূর্যোদয় হচ্ছে মাত্র।দিলশাদ ঘুমিয়ে আছে। অদূরে আরো দুটো গাড়ি দেখতে পেল।জ্যাককেও দেখা গেল ফোল্ডিং চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে আছে৷ সে ধীর পায়ে গাড়ি থেকে নামতে চাইলে দিলশাদ হাত বাড়িয়ে ওর হাতটা ধরে বলল,
“আর পাঁচটা মিনিট পর বের হও কিড্ডো।সূর্য এখনো উঠেনি।”
নৈঋত কিছু বললো না। গায়ের চাদরটা জড়িয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছিল।ঠিক চার মিনিট সাতান্ন সেকেন্ড পর সূর্যের প্রথম আলো উঁকি দিলো আকাশের বুকে। আর সেই মুহুর্তে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে দিলশাদ বলল,
“হ্যাপি বার্থডে মাই রেইনবো। হ্যাপি বার্থডে।”

চলবে( আজকে যারা বলবেন পর্ব ছোট্ট তারা মীর জাফর 😒 আর আমি ঘ’ষেটি বেগম।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply