প্রেমবসন্ত_২
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
৯.
অর্ণকে ডেকেও কায়নাত পাত্তা পেল না।সে ভ্রু-ভাঁজ করে বলল,
“এইযে,শুনছেন আমার কথা?আমার কাছে আসুন না একটু?”
অর্ণ বিরক্ত হয়ে পিছু ফিরল।গটগট পায়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে একদম কায়নাতের সামনে এসে দাঁড়াল।কায়নাত আতঙ্কে ঘাড়টা উঁচু করে চোখ বড় বড় করে বলল,
“এত কাছে তো আসতে বলিনি।আপনাকে আমি দেখতে পাচ্ছি না।একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ান।”
অর্ণ দু’পা পিছিয়ে গিয়ে দাঁত চিবিয়ে বলল,
“লিলিপুট,বেয়াদব মহিলা সমস্যা কী আপনার?”
“আপনি আমাকে এসব নামে ডাকছেন কেন?”
“তাহলে কী বলে ডাকব?পাগল নাকি তারছেড়া?”
কায়নাত মুখ কালো করল।ঘাড় উঁচু রেখেই স্বরে রাগ নিয়ে বলল,
“আপনি মানুষটা খুব খারাপ।”
সে উল্টো ফিরে হাঁটা ধরল।ভেবেছিল নাজনীন ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করবে।লোকটা তার মেজাজ’টাই খারাপ বানিয়ে দিলো।অর্ণ পেছন থেকে কায়নাতের রাগ দেখে নাক কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইল।এইটুকু মেয়ের এত রাগ ভাবা যায়?
ঘরের ভেতরে আব্দুর চৌধুরী সমান তালে বাবার সাথে কথা কাটা-কাটি করে যাচ্ছে।মাশফিক চৌধুরী রেগে ফায়ার।চৌধুরী বাড়ি বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে বিশাল বড় করে।দাওয়াত দেয়া হয়েছে পুরো গ্রামের মানুষকে।শেষ সময়ে এসে এভাবে বিয়ে ভেঙে যাবে সেটা আজগর চৌধুরী স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।তিনি কী করবেন বুঝতে পারছেন না।নিশার কথা বললে মাশফিক চৌধুরী সোজা বারণ করে দেন।মেয়েকে তিনি পড়াচ্ছেন।তা ছাড়া নিশার একটা মতামত আছে।আজগর চৌধুরী বলেছেন নিশার সাথে তিনি একবার কথা বলতে চান।নিশা যদি রাজী না থাকে তাহলে তিনি ছোট ছেলের একমাত্র মেয়েকেই চৌধুরী বাড়ির বউ বানিয়ে আজ তারই বাড়িতে প্রবেশ করবেন।এই ঘরে নিশাকে ডাকা হলো।আজগর চৌধুরী নিশাকে কাছে ডাকলেন।নিশা আড়চোখে বাবা মায়ের আনন দেখে এগিয়ে গিয়ে দাদার পাশে বসল।স্বার্থ বুকে হাত গুঁজে নীরবে তাকিয়ে রইল এদিকে।সে জানে দাদা কী বলবেন।নাজনীন চুপচাপ চেয়ারে বসে।তাকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে না তার বিয়ে ভেঙেছে।আশ্চর্য হলেও এটাই সত্যি।
আজগর চৌধুরী নিশার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“ইতোমধ্যে খবরটা বোধহয় পেয়ে গেছো।আমার বাড়ির সম্মান জড়িয়ে আছে এখানে।পুরো গ্রাম জানে আজ চৌধুরী বাড়ির ছেলের বিয়ে।”
নিশা বলল,
“বুঝতে পারছি।কিন্তু এখন কী করবেন?”
“আমার নাতির বউ হবে তুমি?চৌধুরী বাড়ির বউ?”
নিশা আঁতকে উঠে বিস্মিত চোখে বাবা মায়ের দিকে তাকাল।আজগর চৌধুরী বললেন,
“তুমি রাজী না থাকলে আমি জোর করব না।তবে আমি আশাবাদী।”
অর্ণ এতক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেও এবার কাছে এগিয়ে এলো।ছোট বোনের কাঁধে হাত রেখে গম্ভীর গলায় বলল,
“বিয়েটা যখন ভেঙেই গেছে তখন এসব নিয়ে আরেকটা ঝামেলা বাঁধানোর কোনো দরকার নেই।আমি চাই না আমার বোনকে এখনই বিয়ে দিতে।”
আজগর চৌধুরী ব্যথিত হলেন।হঠাৎ নীরবতা ছিন্ন করে নাজনীন বলল,
“আমি বিয়ে’ই করব না।যা হওয়ার হয়ে গেছে।”
আজগর চৌধুরী শক্ত গলায় বললেন,
“বৌভাতের অনুষ্ঠানে পুরো গ্রাম দাওয়াত করা হয়েছে।এত এত আত্মীয়কে দাওয়াত করে নিয়ে আসা হয়েছে।যা হওয়ার আমার হবে,তোমার কী হবে?বিয়ে করবে না মানে কী?”
“তাই বলে আপনি নিশাকে এভাবে জোর করছেন কেন?ওর নিজের লাইফ বলতে একটা জিনিস আছে।”
“আমি জোর করছি না ওকে।”
“সবার সামনে এভাবে প্রস্তাব রাখলে সে বারণ করবে কী করে?”
নিশা একটা কথাও বলল না।সে সত্যি’ই কথা বলার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।যেখানে সে এক অসম প্রণয়ে আঁটকে আছে,সেখানে অন্য একজনকে বিয়ে করা অসম্ভব।নিশা শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে নাজনীনের দিকে ফিরে বসল।শান্ত গলায় বলল,
“আমার ভাইয়দের মতো তোমাকেও আমার ভাইয়ের নজরে দেখি নাজনীন ভাই।তুমি বিশ্বাস করো,এই বিয়ে আমার পক্ষে সম্ভব নয়।আমি তোমাকে নিজের ভাইয়ের মতো দেখে এসেছি সব সময়।”
“তুই রাজী থাকলেও আমি তোকে বিয়ে করতে পারব না।”
আজগর চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে লতা বেগমকে কাছে ডাকলেন।চোখের ইশারায় কিছু বলতেই তিনি আড়চোখে স্বামীকে দেখে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।মেয়ের বাড়ির লোক চুপচাপ সব কিছুতে সায় দিচ্ছেন।তাদের কিছুই করার নেই।মেয়েটার জন্য তো আর ছেলের বাড়ির মানুষদের নাক কা’টতে দেয়া যায় না।লতা বেগম মেয়েদের ঘরে ঢুকলেন।গিয়ে দেখলেন মেয়েরা ফুঁসুরফুঁসুর করছে।জয়া বিছানার এক কোনায় শুয়ে শুয়ে হালকা খাবার খাচ্ছে।তিনি এগিয়ে এলেন।গম্ভীর গলায় বললেন,
“জয়া,উঠে এসো।”
মায়ের কণ্ঠস্বর শুনে জয়া হুড়মুড়িয়ে উঠে বসে।কায়নাত বলে,
“কী হয়েছে মা?”
তিনি বললেন,
“আব্বা নাজনীনের সাথে জয়ার বিয়ের প্রস্তাব রেখেছেন।তিনি চাইছেন আজ জয়াকে…”
তার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে কায়নাত আশ্চর্য হয়ে বলল,
“তোমরা কী পাগল?আমার বিয়ে নাহয় অনাকাঙ্খিত কোনো একভাবে হয়েছিল,কিন্তু জয়া?নাজনীন ভাইয়ের সাথে ওর যায়?ওদের বয়সটা তো একবার দেখবে তোমরা?”
“বাড়ির কর্তা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এখানে আমার কথা কে শুনবে?ওর বাবা যেখানে রাজী সেখানে আমি একটা কথাও বলতে পারব না।”
জয়া আতঙ্কে চিৎকার করে বলল,
“ওই লোকের সাথে আবার কীসের বিয়ে?তোমরা কী আর মেয়ে পাওনি?উনার সাথে বিয়ে হলে দিন-রাত মার খেতে হবে তুমি জানো?”
“তোমার দাদা আগে তোমার সাথে কথা বলবেন।তিনি যদি জিজ্ঞেস করেন তোমার মত আছে নাকি,তাহলে তুমি বারণ করে দিবে।”
জয়ার সাথে বাকি মেয়েরাও ওই ঘরে গেল।জয়া মুখ কালো করে দাদার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই নাজনীন ধমক দিয়ে বলল,
“সর সামনে থেকে!”
মেয়েটা চমকে উঠে পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।সবার সামনে কেমন ধমকাচ্ছে খারাপ লোক।সে মুখটা আরও ছোট করে ফেলল।দাদা হাসানকে বললেন,
“কাজী সাহেবকে ঘরে নিয়ে এসো।”
জয়া চোখ বড় বড় করে মায়ের দিকে তাকায়।তার মতামত নেয়ার প্রয়োজনবোধ করল না দাদা?সে আতঙ্কিত হয়ে বলল,
“এই বিয়ে আমি করব না দাদা।”
আজগর চৌধুরী গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
“বেশি কথা আমার পছন্দ নয়।”
মেয়েটা আর কথা বলার সাহস পেল না।এমন নয় যে কেউ বিয়েটা আঁটকাবার চেষ্টা করেননি।বরং বাড়ির প্রত্যেকেই আজগর চৌধুরীকে বলেছেন বিয়েটা নিয়ে আর একটু ভাবতে।জয়া ছোট মানুষ।নাজনীনের সাথে একদমই বেমানান।
শেষে জয়ার সাথে নাজনীনের বিয়েটা হয়েই গেল।বাড়ির সব চেয়ে ছোট মেয়েটা চৌধুরী বাড়ির বউ হলো।নাজনীন চৌধুরীর বধূ।
সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ি ফিরলেন সবাই।মেয়ের বাড়ির মানুষ ভীষণ লজ্জিত হয়েছেন।ক্ষমা চেয়েছেন।তাদের কিছুই করার ছিল না।
চৌধুরী বাড়ির বিশাল ড্রয়িংরুমে বড়’রা বসে আছেন।আব্দুর চৌধুরীর মুখ ভীষণ ভার।তিনি মেয়েকে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চাননি।তার চেয়ে বড় কথা নাজনীনের সাথে মেয়ে দিতে চাননি।বয়সের দিক দিয়ে দেখতে গেলে নাজনীনের কাছে জয়া একটা হাঁটু সমান মেয়ে।তিনি বিরক্ত হয়ে চুপচাপ অনেকক্ষণ বসে ছিলেন।এক পর্যায় সহ্য করতে না পেরে বললেন,
“নাজনীনের সংসার করবে কী করে ও?মেয়েটার সাথে অন্যায় করে ফেললাম মেজ ভাই।”
মাশফিক চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।অর্ণ’রা যেহেতু সেখানেই ছিল ভাইয়েদের সাথে তাই কথাটুকু তাদের কান অব্দিও পৌঁছিয়েছে।অর্ণ হঠাৎ ঠোঁট চেপে মৃদু স্বরে বলল,
“ভালোই হয়েছে।আমি একা আগুনে পুড়ব কেন?একটু নাজনীন ভাইও তাপ সহ্য করুক।”
প্রেম ঠোঁট টিপে হাসল।আব্দুর চৌধুরী আশ্চর্য হয়ে বললেন,
“তোমার আবার কী হয়েছে?”
“আপনার বড় মেয়েকে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন এমন করেই।আজ আবার ছোট মেয়েটাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে বাবার ভয়ে এই কাজটা করে বসলেন।আপনারা কেন মেয়েদের কথাটা একবারও ভাবেন না বলুন তো?জয়ার বয়স কত?কায়নাতেরই এখনো ১৮ হয়নি সেখানে জয়া তো নিতান্তই বাচ্চা মেয়ে।বিয়ের মানে আদৌ বোঝে ও?বিয়ে দিয়ে দিলেই হয় না চাচা।বিয়ের দায়িত্ব’টাও বুঝতে হয়।”
সবাই চুপ করে গেলেন।অর্ণ কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলল,
“আপনার বড় মেয়ে,অর্থাৎ আমার স্ত্রীর কথা আলাদা।তার বিয়ে কিভাবে হয়েছিল সেটা আপনি ভালো করেই জানেন।কিন্তু জয়ার সাথে এটা ঠিক করেননি।নাজনীন ভাই এবং ওদের বয়সের গ্যাপটা অন্তত দেখা উচিত ছিল।ঠিক তেমন ৭ বছর আগে দাদারও উচিত ছিল আমার এবং কায়নাতের বয়সের পার্থক্যটা দেখা।”
আজগর চৌধুরী সেখানে উপস্থিত নেই।বাড়ির বউয়েরা ছিলেন সেখানে।বাড়ির মেয়েরা নাজনীনের বাসর ঘর সাজাতে গেছে।নিচে বাড়ির মানুষ বাদে সব আত্মীয়রা রাতের খাবার সেরে বিশ্রাম নিতে কক্ষে অবস্থান করেছেন।
রেখা বেগম শাড়ির আঁচল মুখে চেপে বললেন,
“আব্বার মুখের উপর কথা বলার সাহস কারোর নেই।কী করে আঁটকাতাম?”
“কেন নেই বড় আম্মা?কেন আপনারা প্রতিবাদ করতে পারেন না?রীতিমত চৌধুরী বাড়ি এখন অব্দি দুইটা বাল্যবিবাহ হয়েছে।আমরা নাহয় ছোট বলে মুখের উপর কথা বলতে পারি না কিন্তু আপনারা?আপনারা কেন চুপ করে বসে থাকেন?”
অর্ণ আজ পরিবার মানল না।সোজা কড়া গলায় বলল,
“নেহাত গ্রামের প্রভাবশালী লোক আপনারা।নাহলে আমি নিজে গিয়ে থানায় খবর দিয়ে আসতাম।”
অর্ণ উঠে দাঁড়াল।মাশফিক চৌধুরী ছেলের রাগ দেখে মেজাজ ঠান্ডা করতে বললেন,
“এত রেগে যাচ্ছ কেন?তোমার বউকে বলো ঠান্ডা সরবত বানিয়ে আনতে।”
অর্ণ আশ্চর্য হয়ে বাবার দিকে তাকাল।এতক্ষণ সে কাদের সামনে কী বলল?আব্দুর চৌধুরী হতাশ হয়ে ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখলেন।প্রেম হাসি চেপে কোনোরকম উঠে দাঁড়াল।সব পাগলের দল-বল চৌধুরী বাড়ি এসে হাজির হয়েছে।অর্ণ প্রস্থান করতেই মাশফিক চৌধুরী হতাশ গলায় বললেন,
“নিশ্চিত আমার বড় ছেলেটার মাথায় সমস্যা।আমার বড় বউমা কত মিষ্টি একটা মেয়ে।একখানা পুতুল বউ পেয়েও ওর পছন্দ হয়নি।তুই’ই বল?ওকে নিয়ে আমি করবটা কী?”
আব্দুর চৌধুরী বললেন,
“শুধু রূপ থাকলেই তো হলো না মেজ ভাই।ওদের মধ্যে বোঝা-পড়ার তো একটা ব্যাপার আছে নাকি?সময় দাও,দেখবে একদিন সব ঠিক হয়ার যাবে।”
•
নাজনীনের বাসর ঘর সাজানো হচ্ছে ফুল দিয়ে।নানারকম ফুলের বাহার ছড়িয়ে পড়েছে বড় ঘরটায়।সুগন্ধে মুখরিত চারপাশ।জয়াকে এখনো এই ঘরে আনা হয়নি।কায়নাত বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে শুয়ে গোলাপের পাপড়ি ছিঁড়ছে।আলতার মতো ফরসা কোমর খানা উন্মুক্ত হয়ে উঁকি দিচ্ছে বাইরে।পা দুটো উপরের দিকে উঁচিয়ে পা দুলাচ্ছে।মেয়েরা সবাই ঘর সাজাতে ব্যস্ত।ছেলেরা সাজাতে চাইলে মেয়েরা বারণ করেছে।নিধির ধারণা ছেলেদের থেকে বেশি সুন্দর করে মেয়েরা ঘর সাজাতে পারে।
মাহি কাজ করতে করতে বলল,
“এটা কোনো কথা হলো?জয়াকে এখন ভাবি বলে ডাকতে হবে?”
নিধি বলল,
“ভাইয়া অনুমতি দিলে নাম ধরে ডাকবি,নাহলে ভাবি বলেই ডাকতে হবে।”
“ইশ,কত কিছু ভেবে রেখেছিলাম নতুন ভাবিকে নিয়ে।বজ্জাত মহিলা শেষে পালিয়ে গিয়ে পুরো প্ল্যানটাই মাটি করে দিলো।”
নিশা ওদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে কায়নাতের দিকে তাকাল।মেয়েটা পা দুলিয়ে দুলিয়ে আরাম করে শুয়ে শুয়ে ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ছে।সাদা রঙের চাদরের মধ্যে একটা লাল টুকটুকে পুতুল বউ শুয়ে আছে।নিশা মন দিয়ে কায়নাতকে দেখল।মেয়েটার ব্যবহার যেমন মধুর মতো,ঠিক তেমন দেখতেও পুতুলের মতো।সে এগিয়ে এলো।কায়নাতের পাশে বসে বলল,
“মনে কী রং লেগেছে ভাবি?”
কায়নাত চোখ পাকিয়ে বলল,
“ভাবি ডেকো না।আমাকে নাম ধরে ডাকবে।”
“তুমি তো আমার বড় ভাইয়ের বউ।নাম ধরে কী করে ডাকি বলো?”
“ভাইয়ের বউ বলে কী নাম ধরে ডাকা যাবে না?”
“অবশ্যই যাবে।”
“তাহলে?”
“তাই সই।”
হেসে ফেলল দু’জনেই।কায়নাত উঠে বসল।মাথার ঘোমটা ভালো করে মাথায় জড়িয়ে নিচু স্বরে বলল,
“আমাকে কেমন লাগছে দেখতে?”
“লাল টুকটুকে বউ।”
কায়নাত ঠোঁট উল্টে বলল,
“আরে বাবা,আমি যে বউ সেটা তো জানি’ই।লাগছে কেমন?সুন্দর?নাকি..”
নিশা ওকে থামিয়ে দিয়ে মুচকি হেসে বলল,
“ভীষণ সুন্দর লাগছে।”
“তাহলে তোমার ভাই অমন করে কেন?”
“কেমন করে?”
“এত সুন্দর একটা বউ থাকতেও লোকটা কেমন কেমন যেন করে।উনি যে কেন আমার জামাই হতে গেল কে জানে!”
নিশা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল।কায়নাতের গাল টেনে দিয়ে বলল,
“আমার ভাই কিন্তু কোটি’তে একটাই।জামাইকে আঁচলে বাধোঁ!”
“আঁচলে কী করে বাঁধবো?উনি তো আমার কাছেই আসে না।”
ঘরের মধ্যে মেয়েরা শব্দ করে হেসে ফেলল কায়নাতের কথা শুনে।কায়নাত মুখ কালো করল।সে কী কিছু ভুল বলেছে?অর্ণ তো তার ধারের কাছেই আসে আসে না।মুখটা সব সময় গম্ভীর করে রাখবে।যদি ভুলেও একবার সামনে চলে যায়,তাহলে বকা-বকি শুরু হবে।আর কথাটা হবে,”এইযে বেয়াদব মহিলা,কী হচ্ছে এখানে হ্যা?আপনার কী মার খেতে ইচ্ছে করছে?”
নিশা ওদের রেখে ঘর থেকে বের হলো।দাদি বলেছিলেন দেখা করতে।সে ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে যাওয়ার সময় দেখল স্বার্থ এই রাত করে সদর দরজা দিয়ে বাইরে বের হচ্ছে।সে কপাল কুঁচকে তাড়াতাড়ি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।একপ্রকার দৌঁড়ে বাড়ি থেকে বের হলো।সদর দরজা পেরিয়ে যেতেই দেখতে পেল স্বার্থ অন্ধকারে আপছা আলোয় বাড়ির বাগানে হাঁটছে হুডির পকেটে হাত ঢুকিয়ে।নিশা এগিয়ে গেল।তার হাতের কাঁচের চুড়ির ঝুনঝুন শব্দ শুনে স্বার্থ পিছু ফিরে তাকায়।নিশা ঘাড় উঁচু করে কপাল কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে।স্বার্থ আশ্চর্য হয়ে বলল,
“নেশার বাচ্চা,এত রাতে বাইরে কী হচ্ছে?”
নিশা একপা এগিয়ে এসে নিচু গলায় বলল,
“তুমি বুঝি ভূতের সাথে দেখা করতে এসেছ?এত রাতে বাইরে কী হচ্ছে?”
“আমি তো সিগারেট খাওয়ার জন্য এসেছিলাম।”
নিশা নাক-মুখ কুঁচকে ফেলল।ছোট ছোট হাত জোড়া হঠাৎ করে স্বার্থর হুডির পকেটে হামলে পড়ল।স্বার্থ হতভম্ব।বিস্মিত গলায় বলল,
“কী করছিস?”
নিশা পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে মুঠোয় নিয়ে পেছনে লুকিয়ে ফেলল।স্বার্থ গম্ভীর হয়ে বলল,
“কী হলো এটা?”
“দেখলে না?”
“দিয়ে দে।”
“উহুম!”
“দে।”
“এসব ভালো নয়।”
“মার খাবি।”
“দাও!”
“নিশু!”
নিশা স্বার্থর চোখে চোখ রাখল।স্বার্থ শুকনো ঢোক গিলে দৃষ্টি সরিয়ে শক্ত গলায় বলল,
“সামনে থেকে যা।”
“কেন?”
“বলছি তাই!”
“যদি না যাই?”
“জ্বলাচ্ছিস অনেক।”
নিশা ঠোঁট টিপে হাসল।আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই।অথচ বাড়ির ছাদের উপর থেকে প্রেম,শেহের,আর আদাল ওদের সব কাণ্ড দেখছে।শেহের মুচকি মুচকি হাসছে ওদের দেখে।প্রেম মুখখানা গম্ভীর করে রেখেছে।ছোট বোন যে এতদূর অব্দি চলে গেছে সেটা তার ধারণার বাইরে ছিল।আদাল নাক-মুখ কুঁচকে ফিসফিস করে বলল,
“নিশু কী খেলাটাই না দেখাল বলো?ওকে কোলে করে বড় করলাম আমরা; অথচ আমাদের নাকের ডগা দিয়ে কিভাবে প্রেম করছে।দেখছ?”
শেহের বলল,
“দোয়া কর।”
নিচে নিশা স্বার্থকে জ্বালানোর জন্য তার সামনে এসে দাঁড়াল।কোমরে হাত দিয়ে ঘাড় উঁচু করে স্বার্থর চোখে চোখ রাখল।স্বার্থ পড়েছে মহা বিপদে।মেয়েটা বড্ড জ্বালাচ্ছে তাকে।
“তোমার কী কিছু কিছু হয় না,স্বার্থ ভাই?”
স্বার্থ কপাল কুঁচকে বলে,
“কী হবে?”
“নিকনিক?”
“নিকনিক আবার কী?”
“ঐযে কাপলরা যা করে?”
“কাপলরা কী করে?”
নিশা বিরক্ত হলো।বলল,
“তুমি কী একটু রোমান্টিক হতে পারো না?এমন আনরোমান্টিক কেন বলো তো?”
স্বার্থ সরু চোখ জোড়া কুঁচকে ঝুঁকে এলো নিশার মুখের কাছে।মেয়েটার চিবুক উঁচিয়ে ধারাল গলায় বলল,
“একে তো বাচ্চা একটা মেয়ে,আবার এসেছিস আমাকে জ্বালাতে।আমি ধরলে আগুনে ছাই হয়ে যাবি নেশার বাচ্চা।”
নিশা লাজে দৃষ্টি নত করল।ছাদের উপর থেকে প্রেম চিৎকার করে বলল,
“ওই নিশু,ফাজিল বাড়িতে ঢোক।স্বার্থ ভাই,তোমাকে তো..!”
নিশা চমকে স্বার্থর হাত শক্ত করে ধরে ছাদের উপরে উকি মারল।ভাইয়াদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয়ে দৌঁড়ে গেল বাড়ির ভেতরে।স্বার্থর ঠোঁটের কোনায় একটুখানি মায়াময় হাসি।সে চোখের উপর হাত রেখে হেসে ফেলল।
(২k রিয়াক্ট পূরণ করুন।পেইজ যারা ফলো করেননি তারা ফলো করুন।বলে যান আজকের পর্ব কেমন ছিল?অর্ণ আর কায়নাতকেও আগামীতে পাবেন ইনশাআল্লাহ।আমি আগেই বলেছি #প্রেমবসন্ত_২ তে সব গুলো কাপলকে সমান ভাবে উপস্থাপন করা হবে।ভালোবাসা নিও আমার পাখিরা😭🫶)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৭(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৮