প্রেমবসন্ত_২ ।৩৪.১।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
নিস্তব্ধতায় ঘিরে ধরেছে চারপাশ।নিধির ঘরে শুধু তার ফুঁপানোর শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।প্রেম ফ্যালফ্যাল করে খানিকক্ষণ নিধির কান্না মুখশ্রী দেখল।গায়ে কেমন অদ্ভুত রঙের একটা টুকটুকে জামদানি শাড়ি পরেছে।অঙ্গে কিছু পাতলা গয়নাও আছে।কান্নার চোটে নাক-মুখ লাল হয়ে একাকার।তপ্ত শ্বাস ফেলল সে।হাত বাড়িয়ে বুকে টানতেই নিধি প্রেমের বুকে মুখ গুঁজে শব্দ করে কেঁদে উঠল।
প্রেম নীরবতা ভেঙে আদুরে গলায় বলল,
“আমার ভালোবাসা নিয়ে তোর সন্দেহ আছে?”
নিধি কান্নার ফলে কথা বলতে পারল না।দম আঁটকে আসছে তার।প্রেমের মন ব্যথিত হলো এতে।সাবধানে নিধিকে বিছানায় বসিয়ে সামনে বসল সে।বিছানায় ফেলে রাখা কাপড়ের গামছা এনে নিধির চোখ,নাক মুছিয়ে বলল,
“শুধু একবার বল,তুই আমার হাত ধরবি।”
নিধি মাথা নিচু করে বসেছিল।উত্তেজনায় শরীর কাঁপছে।কোনো কিছুর উত্তর এই মুহূর্তে সে দিতে পারছে না।ধৈর্য হারাল প্রেম।ছটফটে ভঙ্গিতে উচ্চস্বরে ধমকে উঠল তৎক্ষণাৎ,
“কলিজা ছিঁ’ড়ে ফেলব একদম।যদি ভুলেও তুই এই বিয়েতে রাজী হয়েছিস,কসম তোর কলিজা টে’নে ছিঁ’ড়ব।”
ভয়ে চোখ বড় বড় করে মাথা তুলল নিধি।ভয়ের চোটে কান্না থেমে গেছে তার।গলা শুকিয়ে এসেছে আতঙ্কে।বহু কষ্টে বলতে চাইল কিছু।তবে প্রেমের হিংস্রতায় মুখ খুলতে বেশ কষ্ট হলো তার।
“আমি কী করে বারণ করব?মরে গেলেও তো দাদার মুখের উপর কথা বলতে পারব না আমি।”
“তা পারবি কেন?পারিস তো শুধু নাকে কাঁদতে।এই মেয়ে,কান্না থামা।বিরক্ত লাগছে এখন।”
নিধি শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে একটু শিটিয়ে এলো প্রেমের কাছে।খুব শক্ত করে প্রেমের হাত মুঠোয় নিয়ে মিনমিন গলায় বলল,
“চলুন পালিয়ে যাই?”
প্রেম অদ্ভুত চোখে তাকাল।পিটপিট করে পলক ফেলে হতবুদ্ধি গলায় বলল,
“তোর বাপ তোকে মানুষ না বানিয়ে ছাগল বানালে বেশি ভালো হত।হতচ্ছাড়ি,পালিয়ে বিয়ে করতে যাব কোন দুঃখে?”
“তাহলে করব কী?আপনি একবার দাদার সাথে কথা বলুন না।”
প্রেম কী যেন ভেবে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল।এদিকে নিধি মরে যাচ্ছে চিন্তায়।বাড়ির কেউ যদি এসে দেখে প্রেম তার ঘরে একা,তাহলে কী হবে,ভেবেই তার শরীর কাঁপছে।নিধি করুণ স্বরে বলে,
“কেউ ঘরে চলে এলে কেলেঙ্কারি ঘটে যাবে।আজকে দিনটা যাক,আমিই দাদার সাথে কথা বলব।”
প্রেম ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
“ওসব বালের ভয় আমি পাই না।”
“যান না।”
প্রেম দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল।দাঁড়িয়েও আবার খোঁপ করে নিধির চোয়ালটা চেঁপে ধরে হিসহিসিয়ে বলল,
“If you dare not listen to me, I’ll rip your heart out, my sweetheart.”
প্রেম নিজের বাক্য ব্যায় করে প্যান্ট এর পকেটে হাত গুঁজে মুখ দিয়ে বাঁশি বাজাতে বাজাতে ঘর ছাড়ল।নিধি আঁটকে রাখা নিশ্বাস টুকু ছাড়তেই ঘরে হুড়মুড়িয়ে প্রবেশ করল নিশা আর জারা।নিশা দৌঁড়ে এসে কিছুটা চিৎকার করে বলল,
“তুই আমার ভাইয়ের সাথে টাংকি মারিস?”
নিধি আতঙ্কে নিশার মুখ চেপে ধরে বলল,
“একটু তো দয়া কর।এভাবে গলা ফাটাচ্ছিস কেন?”
ছেলের বাড়ির লোক এলো বলে।কায়নাত অর্ণর ঘর থেকে সবে বের হয়েছে তৈরি হয়ে।সিঁড়ির কাছে এসে কী মনে করে যেন শাড়ি উঁচু করে পায়ের দিকে তাকাল।উজ্জ্বল রাঙা পায়ে সোনালি রঙের পায়েলখানা যেন জ্বলজ্বল করছে।ঠোঁট টিপে হাসল সে।তবুও মুখে রাগের ভান আনল।এত তাড়াতাড়ি গলে গেলে হবে?লোকটার উপর কেন যে রেগে থাকা যায় না!আজ কিছুতেই রাগ ভাঙা যাবে না,যতক্ষণ না অর্ণ তার রাগ ভাঙাচ্ছে।সে সিঁড়িতে পা রেখে চঞ্চল চোখে ড্রয়িংরুম পর্যবেক্ষণে করল।নিচে সব বাড়ির মহিলারা ব্যস্ত।কায়নাত অর্ণ আর আব্দুর চৌধুরীর কণ্ঠস্বর শুনে কপাল কুঁচকে সদর দরজার দিকে তাকাতেই থমকে গেল।অর্ণ কালো পাঞ্জাবি পরে গায়ে সাদা শাল জড়িয়েছে।ফরসা শরীরে বেশ মানিয়েছে কালো রঙে।রক্তের ন্যায় ঠোঁট জোড়া ব্যস্ত হয়ে কী যেন বলছে।কালো চোখের মণি শান্ত থেকেও যেন অশান্ত।কায়নাত শুকনো ঢোক গিলল।হঠাৎ অর্ণ কথা শেষ করে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে এলে দুজনের চোখা-চোখী হতেই কায়নাত পা পিছলে পড়ল অসাবধানতার কারণে।অর্ণ গম্ভীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক জায়গায়।কায়নাত কোমর চেপে ধরে আহাজারি করে উঠল।ওপাশ থেকে ছুটে এলেন লতা বেগম,বেহরুজ বেগম এবং আব্দুর চৌধুরী।লতা বেগম মেয়েকে উঠিয়ে বিচলিত হয়ে বললেন,
“পড়লি কী করে?সাবধানে নামবি না?”
আব্দুর চৌধুরী কায়নাতের মাথায় হাত রেখে বললেন,
“ব্যথা পেয়েছ?”
কায়নাত ঠোঁট উল্টে দুপাশে মাথা নাড়িয়ে অভিমানী চোখে অর্ণকে দেখে বলল,
“ব্যথা পাইনি।”
“ঠিক ভাবে দেখে হাঁটবে তো।”
কায়নাত উত্তর দিল না। কায়নাত সত্যি ব্যথা পায়নি।হালকা একটু কোমরে লেগেছে।রাগের সাথে একটু লজ্জাও লাগল অর্ণর সামনে এভাবে পড়ে যাওয়ায়।আব্দুর চৌধুরী কড়া চোখে তাকালেন অর্ণর দিকে।দাঁত কটমটিয়ে বললেন,
“দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলে কেন?বউ যে পড়ে ব্যথা পেয়েছে দেখোনি?”
অর্ণ চাপা গলায় উত্তর দেয়,
“আপনার মেয়ে যে কানা সেটা তো আগে জানতাম না।”
“ভালো করে কথা বলো।একে তো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছ,আবার মুখে মুখে জবাবও দিচ্ছ?”
অর্ণ কপালের ভাঁজ দৃঢ় করল।আজ যেন প্রথম একটা শ্বশুর শ্বশুর ভাইব পেয়েছে আব্দুর চৌধুরীর মধ্যে।শ্বশুররা বোধহয় এমনই হিটলার টাইপ হয়?তার ভাবনার সুতো ছিঁড়ে আব্দুর চৌধুরী বললেন,
“এত বড় হয়েও ঘটে আক্কেল হলো না তোমার।চোখের সামনে থেকে যাও তো বাপু।”
অর্ণ চোখ ছোট ছোট করে বলল,
“ভারী সুবিধাবাদী লোক তো আপনি।একটু আগে আপনার আমাকে ছাড়া কাজই হচ্ছিল না,আর এখন মেয়েকে সামনে পেয়ে জামাইকে ভিলেন মনে হচ্ছে?এমন হিটলারগিরী বাদ দিয়ে ভালো উপদেশও তো দিতে পারেন নাকি?”
আব্দুর চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললেন,
“আমার থেকে কেমন উপদেশ চাইছ তুমি?”
অর্ণ বলল,
“আপনার মেয়ের শখ সে আমাকে দশ বাচ্চার বাপ বানাবে।এখন আপনার কাজ আমাকে উৎসাহিত করা।তা না করে নাক ফুঁসছেন কেন?”
উপস্থিত সকলেই হতভম্ব।কায়নাত লজ্জায় মুখ চেপে ধরল।হায়হায়!এই লোককে এতদিন সে শান্ত-শিষ্ট ভদ্রলোক ভেবে এসেছে।এখন দেখছে ঠিক তার উল্টো।আব্দুর চৌধুরী বললেন,
“বেশি বাড়াবাড়ি করছ তুমি।ভদ্রভাবে কথা বলার বয়স তোমার হয়নি এখনও?”
অর্ণ ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি টেনে নিল।
“ভদ্রতার সংজ্ঞা যদি আপনার মেয়ের সামনে আমাকে কাপুরুষ বানানো হয়,তাহলে সেই ভদ্রতা আমার দরকার নেই।”
“এই দেখো!এখনো মুখ চালাচ্ছে!”
কায়নাত লতা বেগমের হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল,
“আব্বুকে এখান থেকে সরাও।এখন দেখছি জামাই-শ্বশুর মারপিট শুরু করে দেবে।”
বেহরুজ বেগম ধমক দিলেন ছেলেকে।
“কী হচ্ছে অর্ণ?তিনি তোমার চাচার সাথে সাথে শ্বশুরও হন।এমন বেয়াদবি করছ কেন?”
অর্ণ বিরক্ত হয়ে বলল,
“এই আক্কেলবিহীন মেয়েটাকে যে কেন বিয়ে করেছিলাম আমি বুঝতেই পারছি না।”
আবার ধমকে উঠলেন আব্দুর চৌধুরী,
“বারবার তুমি কায়নাতকে অপমান করছ কেন?মেয়ে কিন্তু তোমার কাছে দেব না আমি।”
অর্ণ সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়ে নিভু গলায় বলল,
“না দিলেন।আপনার মেয়ে এমনিতেও আমার কোনো কাজে আসে না।বলদ মেয়ে কোথাকার।”
আব্দুর চৌধুরী খেঁকখেঁক করে উঠলেন।বেহরুজ বেগমকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“আপনার বড় ছেলে ভারী বেয়াদব ভাবি।শ্বশুরের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সে আদব-কায়দা নেই।অমন অসভ্য ছেলের কাছে মেয়ে দেয়া ভুল হয়েছে।”
অর্ণ উপরে যেতে যেতে সব শুনল।কায়নাত অর্ণকে দেখে তাল মিলিয়ে বলল,
“এই লোক আমার সাথে কখনও ভালো করে কথাও বলে না।সব সময় ধমকের উপরে রাখে।উপায় থাকলে কবে ছেড়ে ছুড়..”
বাকি কথা বলার আগেই অর্ণ উপর থেকে তেরে আসতে আসতে বলল,
“তোমার মুখ ভেঙে ঠ্যাং তোমার বাপের ঘরে সাজিয়ে রেখে আসব আমি।বেয়াদব মহিলা, বাপের সামনে আসতেই মুখে বুলি ফুটেছে না?”
অর্ণকে অমন করে তেরে আসতে দেখে কায়নাত ছুটে গেল অন্যদিকে।বেহরুজ বেগম কপাল চাপড়ে অর্ণকে বাঁধা দিয়ে আব্দুর চৌধুরীকে বললেন,
“ভাই তুমি রেগো না।আমি ওর সাথে কথা বলছি।তুমি যাও এখান থেকে।ছেলেরা এই এলো বলে।”
আব্দুর চৌধুরী চোরা চোখে অর্ণকে দেখে হনহন করে বাড়ি থেকে বের হলেন।অর্ণ সেদিকে তাকিয়ে বলল,
“ছোট চাচ্চু হঠাৎ আজ হিলটার শ্বশুরের রূপ ধরল কেন?এমন শ্বশুর তো বাপের জন্মে দেখিনি।”
বেহরুজ বেগম কড়া গলায় বললেন,
“বেশি কথা বোলো না।যাও এখান থেকে।”
ছেলের বাড়ির লোক চলে এলো।ছ’জন জন মানুষ এসেছেন তারা।ছেলে,ছেলের বাবা, এক চাচা আর দুজন ছেলে-মেয়ে এসেছে।হয়তো সম্পর্কে ভাই-বোন হবে।ড্রয়িংরুমে সোফায় বসে আছেন তারা।উপস্থিত চৌধুরী বাড়ির সকল পুরুষ।নিধি মাথায় ঘোমটা টেনে বসে আছে দাদার পাশে।ছেলের নাম সোহান।শ্যাম বর্ণের ছেলেটা বেশ দেখতে।বাড়ির প্রত্যেক মহিলারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।মতিউর চৌধুরী আগ বাড়িয়ে আজ মেয়ের সম্মন্ধে কথা বলছেন।নিধির মোটেও পছন্দ হলো না এসব।
পাশের বড় সোফায় অর্ণ,প্রেম,স্বার্থ আর নাজনীন বসে ছিল।আর তাদের সামনে সোফায় চাচারা সবাই।অর্ণ খেয়াল করল আব্দুর চৌধুরী নাজনীন আর তার দিকে কেমন রাগী রাগী চোখে বারে বারে তাকাচ্ছেন।কপাল কুঁচকে ফেলল সে।নাজনীনের কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“আমার সৎ শ্বশুর অমন করে আমাদের দেখছে কেন,বলো তো?”
অর্ণর কথায় নাজনীন কপাল কুঁচকে বলল,
“সৎ শ্বশুর মানে?”
“তোমার আসল,আপন শ্বশুর।”
নাজনীন নাক ছিঁটকাল অর্ণর সম্বোধনে।সে নিজেও খেয়াল করেছে ব্যাপারটা।নিশ্চিত জয়া নালিশ করেছে বাপের কাছে।কেঁদে কেঁদে বলেছে নাজনীনের সাথে সংসার করবে না।নাজনীন দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিচু স্বরে বলল,
“কিছু তো বলতে পারব না ভাই।শ্বশুরের আগে চাচাও তো লাগে।”
নাজনীন আড়চোখে দূরে এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা জয়ার দিকে তাকাল।মেয়েটা নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কায়নাতের পাশে।ছেলের ছোট ভাইটাকে মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না অর্ণর।কেমন অদ্ভুত ভাবে ঠোঁট কামড়ে কায়নাতের দিকে তাকিয়ে আছে।অর্ণ কায়নাতের দিকে তাকিয়ে আরেক ধাপ বিরক্ত হলো।বেয়াদব বউটা আজ হাতের চুড়ি-টুরি সব খুলে রেখেছে।কে দেখে বলবে এই মেয়ে বিবাহিত?ঠাটিয়ে এক চড় মারতে ইচ্ছে করল তার।চোখ গরম করে তাকাল।কায়নাত ফিরেও তাকাল না সেদিকে।
অবশেষে ছেলের বাড়ির মানুষ জানালেন মেয়েকে তাদের ভীষণ ভালো লেগেছে।আপত্তি না থাকলে ওরা আলাদা করে একটু কথা বলবে।আজগর চৌধুরী রাজী হলেন।নিশাকে বললেন তাদের সাথে বাগানে যেতে।দুপুরবেলা তো আর ছাদে যাওয়া যায় না।নিশা মাথা নাড়িয়ে বাগানে এলো ওদের নিয়ে।সেখানে স্বার্থ লুকিয়ে লুকিয়ে এক কোণায় সিগারেট টানছিল।ওদের দেখেই সেটা ফেলে দিল।নিশা চোখ পাকিয়ে তাকাল তার দিকে।স্বার্থ বোকা হেসে এগিয়ে এলো ওদের দিকে।ওরা বসল সবাই বেতের চেয়ারে।নিশা ইচ্ছে করেই নিধির সাথে বসল।সোহান অপ্রস্তুত হাসল।সে ভেবেছিল তাদের একটু আলাদা করে কথা বলতে দেয়া হবে।
তার মনের কথা হয়তো বুঝল স্বার্থ।সে বলল,
“সোনা,নতুন জামাই-বউয়ের মাঝে তুই কাটা হয়ে বসে আছিস কেন?তুই আমার সাথে এদিকে আয়।”
নিশা ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ পাকাল।
“তুমি বেশি কথা বলো।”
সোহান স্বার্থর কথায় বললো,
“ধন্যবাদ ভাইয়া।আমিও চাইছিলাম একটু আলাদা করে কথা বলতে।”
নিশা মুখের উপর বলে দিতে চাইল, “শালা দেব এক ঘুষি।ইচ্ছে শুনেই তো তোর দাঁত খুলে ফেলতে ইচ্ছে করছে।” মনের কথা মনে রেখে জোর করে উঠে দাঁড়াল নিশা।তবে বেশি দূরে গেল না।সোহান স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে মৃদু হেসে বলল,
“আপনার পুরো নামটা কিন্তু এখনও জানি না।”
নিধি মিনমিন গলায় বলল,
“নিধি চৌধুরী।”
“আমি কী বলে ডাকব?”
পাশ থেকে নিশা একগাল হেসে বলল,
“মা বলে ডাকবেন।”
বিরক্ত হলো সোহান।স্বার্থ নিশার চোয়াল চেপে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল,
“কী সমস্যা?বিরক্ত করছিস কেন ওদের?”
নিশা পাত্তা দিল না।কান পেতে রাখল পাশে।সোহান ফের বলল,
“আমার ব্যপারে সব কিছুই তো শুনেছেন।আমার এই বিয়েতে কোনো আপত্তি নেই।আপনি কী রাজী আছেন?”
নিধি চুপ করে রইল।প্রেমের ভয়ঙ্কর মুখ খানা ভেসে উঠল সামনে।বিয়েতে রাজী হলে প্রেম সত্যি সত্যি যে তার রুহু টেনে ছিঁ’ড়বে,এতে তার বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই।
(আজকে বেশি রেসপন্স চাইইইইইইই।পরের পর্ব বড় করে দেব।২.৫k রিঅ্যাক্ট টার্গেট।
গল্প পড়ে সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করবেন।রিপ্লাই করার চেষ্টা করব।ভালোবাসা নেবেন সবাই।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৭(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩১.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৯