প্রেম আসবে এভাবে
ইশরাতজাহানজেরিন
পর্ব_৩
অনুজার সামনে দাঁড়ানো লোকটি শার্ট খুলেই সাওয়ার নিতে ওয়াশরুমে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সাওয়ার থেকে সাদা তোয়ালে পড়া অবস্থায় বের হয়। তখনি লোকটির ডাকে রুমে কাজের মেয়ে আসে। লোকটি তাকে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “কে এটা?”
মেয়েটি অনুজার দিকে একবার তাকালো। ঘাবড়ে বলল,” উনি প্রিয়া ম্যামের বান্ধবী।”
“তাহলে আমার রুমে কি করছে?”
“আস..লে আমরা যখন আপনার রুম টা পরিষ্কার করছিলাম তখন তা দেখার জন্য সে এসেছিল। বলেছিল একটু পড়েই চলে যাব। স্যার আমরা বুঝতে পারিনি যে তিনি এখানেই ঘুমিয়ে পড়বেন। সরি স্যার। আর আমরাও ভাবতে পারিনি আপনি হঠাৎ না জানিয়ে চলে আসবেন।”
“হোয়াট?” আমি এখানে না থাকলে যে কেউ আমার রুমে এসে পড়বে নাকি? এটা কী পাবলিক সম্পত্তি?” লোকটির এক ধমকেই চুপসে যায় মেয়েটি। হঠাৎ সে পেছন ফিরে দেখল ঘুমন্ত অতিথির ঘুম তার চিৎকারে ভেঙে গেছে। অনুজা বিরক্তি নিয়ে চোখ মেলতেই লোকটিকে দেখে চিৎকার করে উঠে বলল,” আপনি কে? এমা ছিঃ জামাকাপড় নেই নাকি? কিসব পড়ে আছেন? এই যে মেয়ে, একে একটা জামা দাও তো।”
“তুমি জানো আমি কে?এসব কি বলছ? তাও আবার আমার বাড়িতে আর আমার রুমে অবস্থিত থেকে?”
“আপনার রুম মানে?”
হঠাৎ পাশ থেকে মেয়েটি বলল, “ম্যাম উনি হলেন আমাদের ছোট স্যার। মিস্টার প্রিতুল রিজওয়ান।”
কথাটি কানে যেতেই অনুজা সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে লজ্জা আর ভয়ের এক অদ্ভুত মিশ্রণ তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। কোনো কথা বলার শক্তি তার আর থাকে না। এক দমে সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, দৌড়ে নিজের কক্ষে আশ্রয় নেয়। অনুজার এমন আকস্মিক প্রস্থান দেখে প্রিতুল বিস্ময়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখে প্রশ্নের ছায়া। মনে মনে ভাবে এই মেয়েটার কি সত্যিই কোনো সমস্যা আছে? অন্তত একবার ক্ষমা চাইতে পারত। তা না করে বাচ্চাদের মতো এমনভাবে পালিয়ে গেল কেন?
ওদিকে অনুজা ভয়ে তাড়াহুড়ো করে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। বুকের ভেতর ধকধক করা হৃদয় সামলাতে সামলাতে সে নিঃশব্দে প্রার্থনা করে ওঠে, “আল্লাহ, তুমি যদি আমাকে রক্ষা না করতে, ওই সুদর্শন রাক্ষসটা বুঝি আমাকে গিলেই ফেলত।”
বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে বাড়িটাকে ছুঁয়ে পড়ছে। বাগানের গাছগুলো বিকেলের হালকা হাওয়ায় দুলছে, পাতার ফাঁক গলে রোদের টুকরো টুকরো আলো বারান্দার মেঝেতে পড়ে আছে। ঠিক সেই সময় প্রিয়া বাড়ি ফিরে আসে। দরজার কাছেই ভাইয়ের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। অনেক দিন পর ভাইকে সামনে পেয়ে প্রিয়ার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ” ভাইয়া!” প্রিতুল রিজওয়ান তাকিয়ে হালকা মাথা নাড়ায়। ” ভাইয়া, আমার এক বান্ধবী এসেছে। এখানেই থাকবে কিছুদিন। দাঁড়াও, ওকে ডেকে আনি, তোমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই।”
প্রিতুল বিরক্তির সঙ্গে কথাটা কেটে দেয়, ” দরকার নেই। দেখেছি তাকে। ওর কি কোনো ভদ্রতা নেই? ক্ষমা চাইতেও শেখেনি। এসব ম্যানার্সহীন মানুষের সাথেই বন্ধুত্ব করা হয় তাই না?” এক দমে কথাগুলো বলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়। প্রিয়া বিস্মিত হয়ে তাকায়। মানে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারলাম না।”
” উফ্, কিছু না। ভালো লাগছে না। একটু বিশ্রাম নেব।”
” আচ্ছা থাকো। আমি পরে এসে কথা বলব।” এই বলে প্রিয়া ঘরের ভেতরে চলে যায়। আর প্রিতুল ধীর পায়ে বারান্দার দিকে এগিয়ে যায়। এই বারান্দাটা তার খুব প্রিয়। নিঃশব্দ, একান্ত, নিজের মতো করে ভাবার জায়গা। কিন্তু আজ অকারণ বিরক্তি তার মনে। কোথা থেকে যেন এক অচেনা মেয়ে এসে তার শান্ত জায়গাটাকে অগোছালো করে দিয়েছে। এই ভাবনাটা তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মেয়েটির গায়ে যদি ভাইরাস থাকে তখন? এই নিয়ে তিনবার জায়গাটা সে ক্লিন করিয়েছে। তবুও কেমন একটা লাগছেই। ঠিক তখনই পাশের বারান্দা থেকে খিলখিল হাসির শব্দ ভেসে আসে। প্রিতুল চোখ তুলে তাকায়। দেখে, প্রিয়ার বান্ধবী অনুজা বাইরে দিকে পাথর ছুড়ে হাসছে। একেবারে বাচ্চাদের মতো নির্ভার ভঙ্গিতে। হঠাৎ তার চোখ পড়ে পাথরগুলোর দিকে। মুহূর্তেই তার মুখের ভাব বদলে যায়। বিস্ময় আর রাগ একসঙ্গে জমে ওঠে চোখে।
” এই তুমি কি পাগল? এই দিকে এসো, আসো বলছি, এখনই!” তার কণ্ঠে ধমকের তীক্ষ্ণতা স্পষ্ট। বিকেলের শান্ত পরিবেশে সেই আওয়াজ যেন হঠাৎ করে ছেদ টেনে দেয়।
প্রিতুলের তীক্ষ্ণ কণ্ঠে অনুজা ভয়ে কেঁপে ওঠে। তবু সে জানে, এটি তার নিজের বাড়ি নয়। এই বাড়িতে যতদিন আশ্রয়ে আছে, ততদিন সবার কথা মেনে চলাই তার কর্তব্য। এক মুহূর্তও দেরি না করে সে ধীর পায়ে প্রিতুলের ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রিতুল রিজওয়ান ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকায়। “এখানে এসো। তোমার মাথায় কোনো সমস্যা আছে নাকি?”
অনুজা কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে বলে, ” আমি কী এমন করেছি? সবাইকে কি আপনার মতো করেই ভাবতে হবে?” শেষ কথাটা সে প্রায় ফিসফিস করে বলে।
” কী বললে?”
অনুজা তড়িঘড়ি সংশোধন করে নেয়। ” না… আমি বলতে চেয়েছি, আমার মাথায় কোনো সমস্যা নেই।” প্রিতুলের দৃষ্টি তার হাতে আটকে যায়। “হাতে কী ওগুলো?”
অনুজা হাত খুলে দেখায়। “এগুলো? এগুলো তো পাথর। ভেবেছিলাম আপনি বুঝি আমার সঙ্গে খেলবেন, তাই ডেকেছেন।” প্রিতুল বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। “তুমি এগুলো কোথায় পেলে?”
” আপনার ঘরেই তো ছিল।” তার কথায় প্রিতুলের কণ্ঠ কঠিন হয়ে ওঠে। ” সাহস কীভাবে হয় আমার জিনিসে হাত দেওয়ার? চুরিও করোও? জাস্ট ওয়াও, একে তো কথা বলার ভদ্রতা নেই, এখন দেখা যাচ্ছে চোরও সাথে।” অনুজার চোখ বড় হয়ে যায়। “এই পাথর নেওয়ার জন্য এত কিছু? আমি বাড়ি গেলে এর থেকেও সুন্দর পাথর এনে দেব। আমাদের বাড়ির পাশে তো এমন পাথরের অভাব নেই। চট্টগ্রাম গিয়েছেন কখনো? পাথরের অভাব নেই আমাদের।” তার কণ্ঠে সরলতা, অথচ কথার ভেতর অনিচ্ছাকৃত খোঁচা। প্রিতুল কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থাকে। রাগ আর বিস্ময়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
প্রিতুলের কণ্ঠ হঠাৎ কঠিন হয়ে ওঠে। ” চুপ করো। জানো এগুলোর দাম কত? সবকটি বিদেশ থেকে আনা।”
অনুজা চোখ গোল করে তাকায়। “ওহ! বুঝি আপনার টাকার খুব আধিক্য ছিল? আমি তো জানতাম না বড়লোকেরা পাথর কিনেও টাকা খরচ করেন।”
প্রিতুল বিরক্তিতে দাঁত চেপে ধরে। “বাড়াবাড়ি করছো। এমন চললে এই বাড়িতে এক মুহূর্তও থাকতে পারবে না। শুধু প্রিয়ার বান্ধবী বলেই এখনো সহ্য করছি।”
অনুজার কণ্ঠ নরম হয়ে আসে। ” দুঃখিত, ভাইয়া।”
প্রিতুল ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ” ভাইয়া বলছ কেন? আমি কারও ভাই নই। অন্তত পক্ষে চোরের তো কখনোই না।”
অনুজা তাড়াতাড়ি বলে ওঠে, “দয়া করে আজেবাজে কথা বলবেন না। পাথরগুলো বাগানেই ফেলেছি। কাল সকালে এনে দেব।”
প্রিতুল ক্লান্তির সঙ্গে হাত ছুঁড়ে দেয়। “উফ্! বেরিয়ে যাও। মাথাটা একেবারে হ্যাং করে দিলে। জাস্ট লিভ।” অনুজা আর কোনো কথা না বলে নীরবে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার পেছনে রয়ে যায় একরাশ বিরক্তি আর না বলা প্রশ্ন।
অনুজা আর কোনো কথা না বলে নীরবে নিজের ঘরে ফিরে আসে। দরজা বন্ধ করতেই যেন ভেতরের সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। বিছানার এক কোণে বসে পড়ে সে। চারপাশের এই অচেনা বাড়ি, এর মানুষজন, তাদের আচরণ—সবকিছু তার মনে অদ্ভুত এক চাপ সৃষ্টি করে। তার চিন্তার ভেতর ভেসে ওঠে নাভিদের মুখ, সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়ের উদ্বিগ্ন মুখখানা। অজান্তেই চোখের কোণে জল জমে ওঠে। অন্যদিকে নাভিদ তখনও অনুজার কথাই ভাবছিল। তার চারপাশে লোকজন থাকলেও মনটা যেন অন্য কোথাও আটকে আছে। ঠিক সেই সময় তার এক লোক এসে দাঁড়ায়। “স্যার, একটা খবর পেয়েছি।”
নাভিদ চোখ তুলে তাকায়। ” কী খবর?”
“অনুজা ম্যাডামকে রাস্তার পাশের এক দোকানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। তিনি যে যানটিতে উঠেছিলেন, তার নম্বরও পাওয়া গেছে।”
এই কথা শুনে নাভিদের চোখে তীব্রতা জ্বলে ওঠে। “তাহলে এখনও দাঁড়িয়ে আছ কেন? গিয়ে খুঁজে বের করো তাকে।”
আদেশ পেয়ে লোকগুলো দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই নাভিদের ফোন বেজে ওঠে। ফোনে কথা বলার ভঙ্গি দেখেই বোঝা যায়, ওপাশের মানুষটি তার খুব কাছের কেউ। কণ্ঠ নরম হয়ে আসে তার, চোখে জেগে ওঠে অদ্ভুত এক দৃঢ় প্রত্যয়। সে জানে আর বেশি দেরি নয়, খুব শিগগিরই সেই মানুষের সঙ্গে তার মুখোমুখি দেখা হবে। ভাগ্যের সুতো ধীরে ধীরে টানটান হয়ে উঠছে। দূরে থাকা দুটো জীবনের মাঝখানে দূরত্ব কমে আসছে নিঃশব্দে।
দেখতে দেখতে দুটো দিন কেটে যায়। এই কদিনে অনুজা আর প্রিতুলের মধ্যে এক ধরনের স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়ে যায়। সম্পর্কটা পুরোপুরি বন্ধুত্বও নয়, আবার শত্রুতাও নয়। এক অদ্ভুত টানাপোড়েন। সুযোগ পেলেই দুজনেই একে অপরকে খোঁচা দিতে ছাড়ে না, তবু কোথাও যেন অদৃশ্য এক টান কাজ করে।
এক রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে অনুজা নিজের ঘরের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়। চারপাশে নীরবতা, আকাশে ম্লান চাঁদের আলো। ঠিক তখনই পেছন থেকে হঠাৎ একটি হাত এসে তার কোমরে স্পর্শ করে।
অনুজার সারা শরীর শিরশিরিয়ে ওঠে। বুকের ভেতর দম আটকে আসে। সে দ্রুত ঘুরে তাকায়। সামনে প্রিতুল। ” আপনি?” কিছু বলার আগেই প্রিতুল হাত তুলে তাকে থামিয়ে দেয়। “আজ আমি বলব, তুমি শুধু শুনবে। প্রথম যেদিন তোমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখেছিলাম, সেদিন থেকেই তুমি আমার চোখে আলাদা হয়ে উঠেছিলে। অজান্তেই তোমাকে ভালো লেগে যায়। বুঝতে না বুঝতেই আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
অনুজা বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।”
” সত্যি বলছেন? জানেন, আমারও আপনাকে ভালো লেগেছিল।” এই কথা শোনামাত্র প্রিতুল এক মুহূর্ত দেরি না করে অনুজাকে জড়িয়ে ধরে। ঠিক তখনই তীক্ষ্ণ শব্দে ঘড়ির অ্যালার্ম বেজে ওঠে। ধড়ফড়িয়ে অনুজা ঘুম থেকে উঠে বসে। বুকের ভেতর তখনও সেই স্পর্শের অনুভূতি লেগে আছে। “আহ্, একটু আশ্রয় পেলেও মন্দ হতো না।” নিজের মনে বলে সে। কিন্তু পরক্ষণেই ভ্রু কুঁচকে যায় তার। এসব কী দেখলাম আমি? লোকটা সত্যিই ভীষণ সুদর্শন। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কিছু হওয়া কি আদৌ সম্ভব? আমি নিজে থেকে কি কিছু চেষ্টা করব? সবসময় যে ছেলেদেরই আগে ভালোবাসার কথা বলতে হবে, এমন তো কোনো নিয়ম নেই।
সে নিজেকে সামলে নেয়। স্নান সেরে প্রিতুল আর প্রিয়ার সঙ্গে নাশতায় বসে। দিন এভাবে গড়িয়ে যায়, আরও কয়েকটি দিন পার হয়। কিন্তু অনুজা ধীরে ধীরে বুঝতে পারে প্রিতুলের আচরণে বিশেষ কোনো পরিবর্তন নেই। তার চোখে অনুজার জন্য আলাদা কোনো অনুভূতির ছাপ দেখা যায় না।
এক রাতে প্রিতুল বাড়ি ফিরলে অনুজা কাউকে কিছু না জানিয়েই তার ঘরের দিকে চলে যায়। তাকে দেখে প্রিতুল বলল,” আরে, অনুজা? কিছু হয়েছে?”
” হ্যাঁ… অনেক কিছু। আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি? একা একা ভালো লাগছে না।”
” প্রিয়া কোথায়?”
” বাইরে গেছে।”
” তুমি যাওনি কেন?”
” এসব জায়গা আমার ভালো লাগে না।”
প্রিতুল হালকা হাসে। ” আমারও না। কিন্তু যেতে তো হয়। যাক, বলো—কী কথা?”
অনুজা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে, তারপর হঠাৎ জিজ্ঞেস করে, ” আপনার কি কোনো বিশেষ মানুষ আছে?”
প্রিতুল একটু বিরক্ত হয়। “ভালোবাসা ছাড়া আর কোনো বিষয় নেই নাকি?”
” আচ্ছা থাক।” কথা ঘোরাতে সে প্রিতুলের হাতে থাকা বইটির দিকে তাকায়। ” এটা কীসের বই?”
“মানুষের মন বোঝার বিষয় নিয়ে লেখা।”
” বাহ! এসবও পড়েন? আমিও একটু দেখব।”
“আরে বোকা, এটা অন্য ভাষার উপন্যাস। পড়তে পারবে?” অনুজা মুখ বাঁকায়। “না থাক। এসব আমার মাথায় ঢোকে না।” প্রিতুল মৃদু হেসে ওঠে। অনুজা তখনও বুঝতে পারে না এই হাসির পেছনে দূরত্ব আছে, না ভবিষ্যতের কোনো অদেখা ইশারা। হঠাৎ করেই প্রিতুলের ফোনে কল আসতে শুরু করে। একবার নয়, বারবার। বিরক্ত হয়ে সে একের পর এক কল কেটে দেয়। কিন্তু ফোন থামার কোনো লক্ষণ নেই। শেষমেষ অস্বস্তি আর বিরক্তির মিশেলে প্রিতুল ফোনটা বন্ধ করে দেয়। তারপর অনুজার দিকে তাকিয়ে সংক্ষেপে বলে, “গুড নাইট।” আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই নিজের ঘরের দিকে চলে যায়। অনুজা কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। বুকের ভেতরটা হালকা ভারী হয়ে আসে। নিরুপায় মুখে সে নিজের রুমে ফিরে যায়।
নাভিদ তার আলিশান রুমে চিন্তিত মুখে বসে আছে। হঠাৎ। সে তার লোকজনকে ডেকে পাঠায়, “অনুজার বাবা-মাকে ছেড়ে দাও। আর ওদের বলে দাও সব টাকা আমি মওকুফ করে দিয়েছি। আর শুনো, এই সপ্তাহের মধ্যেই আমি রওনা হব। সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক করে রেখো।”
“ওকে, স্যার।”
লোকজন চলে গেলে নাভিদ ঢুকে পড়ে সেই ঘরে, যেখানে নেহাকে আটকে রাখা হয়েছিল। মেয়েটিকে সে বলল, “একটু পর আমার লোকেরা তোমাকে তোমার বাড়ি পৌঁছে দেবে।”
নেহা মাথা তোলে। চোখ দুটো লাল। “আমি কোথাও যাব না।”
নাভিদ চমকে তাকায়। “হোয়াট? কেন?”
“কারণ আমি আপনাকে ভালোবাসে ফেলেছি। আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই। ওই অনুর থেকে শতগুণ সুন্দর আমি। কিসের কমতি?”
নাভিদের কণ্ঠটা হঠাৎ শক্ত হয়ে ওঠে। “বয়স কত একবার দেখেছ?”
“ভালোবাসা বয়স মানে না। আমাকে বিয়ে করে নিন, প্লিজ। প্রথম দেখাতেই আপনাকে ভালো লেগে গিয়েছিল। আপু তো অনেক দিন আগেই চলে গেছে। তাহলে আমাকে ভালোবাসতে কি সমস্যা আপনার?”
নাভিদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। “এখনও তুমি বাচ্চা। আবেগের বশে এসব বলছ। পড়াশোনাতেই মন দাও, সেটাই তোমার জন্য ভালো। আর শোনো—আমি অনুজাকেই ভালোবাসি। ওর জন্য আমি সব করতে পারি।” বলেই সে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। ভেঙে পড়ে নেহা। নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে। রাতের আঁধারে জোর করেই নেহাকে তার বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
–
রাত তখন গভীর। অনুজা গভীর ঘুমে ডুবে মগ্ন শালিক কুঞ্জে। হঠাৎ অদ্ভুত এক অনুভূতিতে তার ঘুমের পর্দা নড়ে ওঠে। যেন কেউ আছে। অন্ধকার ঘরে একজন মানুষ ঢুকে পড়ে। বোঝা যায় না। লোকটি ধীরে ধীরে অনুজার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। অদ্ভুত এক স্নেহ, আবার একই সাথে শীতল অনুভূতি। তারপর সে বারান্দায় গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। অন্ধকারের সাথে মিশে যায় তার উপস্থিতি।
এরপর……
চলবে?
( ৭টায় যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ আসবে তাই এটা এখনি দিয়ে দিলাম। ৬ টায় নতুন গল্পের একটা স্পয়লার আসবে।)
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, প্রেম আসবে এভাবে
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১৫+১৬
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩৭+৩৮
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৭
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪+৫
-
প্রেমতৃষা সারপ্রাইজ পর্ব
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১৩+১৪
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১৯+২০
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩৯ ( প্রথম অর্ধেক+শেষ অর্ধেক)
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১১+১২
-
প্রেমতৃষা ৪২ (প্রথম অর্ধেক)