প্রেমআসবেএভাবে
ইশরাতজাহানজেরিন
পর্ব_১৩
অনুজা সামনের দিকে এগিয়ে দেখল, ওখানে একটা বিড়াল দাঁড়িয়ে আছে। সে একটু ভয় পেয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পেছনে ঘুরে দেখল, নাভিদের আর কোনো সাড়া শব্দ নেই। “ওমা, লোকটি তো ঘুমিয়ে পড়েছে,” অনুজা মনে মনে বলল। “কি নিষ্পাপ লাগছে! মনেই হচ্ছে না যে একটু আগে সে আমার সঙ্গে ঝগড়া করেছিল। মানুষটার শরীরটাও অনেকদিন ধরেই খারাপ যাচ্ছে, তাই হয়তো ঘুম এসেছে। ওকে জাগানো ঠিক হবে না। তিনটা প্রায় বেজে গেছে, আমাকে ভোর হওয়ার আগে চলে যেতে হবে।” এই ভাবেই অনুজা দ্রুত রেডি হয়ে গেল। যাওয়ার আগে সে নাভিদের কপালে হালকাভাবে চুম্বন দিয়ে বলল, “ঘুম থেকে ওঠার পর তুমি আর আমাকে এই রূপে দেখবে না। যখন দেখবে, তখন আমি লাল বেনারসিতে বধূরূপে থাকব, আর তুমি থাকবে শেরওয়ানিতে।” অনুজা নিচে থাকা ড্রাইভারের সঙ্গে বেরিয়ে তার বাড়ির পথ ধরল। নাভিদের কাছে যাওয়ার আগে সে বাড়ির দরজা লক করে গিয়েছিল। রাতের সেই নিস্তব্ধতায় কেউও তার বাহিরে থাকা লক্ষ্য করতে পারল না। বাড়ির মধ্যে ঢুকে, অনুজা নিজের রুমে চলে গেল এবং দরজা বন্ধ করে বসল। ক্লান্ত শরীরের জন্য চোখমাথা এক মুহূর্তেই এক হয়ে গেল। কাল আবার বিয়ে সারাদিনের ব্যস্ততা মনে পড়তেই সে নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়ল। সকাল আটটায় অনুজার ঘুম ভাঙল। উঠে ফ্রেশ হয়ে সে পার্লারে চলে গেল। বুকটা আজ সকাল থেকেই অদ্ভুত ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে অনুজা পার্লারের কাজে মন দিল। মাঝে মাঝে নাভিদের ফোনে কল করল, মেসেজ করল, কিন্তু কোনো রেসপন্স এলো না। “দূর! বউ হবো বলে এত ভাব দেখাচ্ছে সে। আজকে তুমুল ঝগড়া হবে তার সাথে। একবার খালি আসুক কি করবে? ব্লক মেরে দেবে? তাতে তো আমার কিছু যায় আসে না। একটু পরই তো আমি তার বউ হয়ে যাব। ব্লক করলেও লাভ হবে না।” অনুজা একাই সাজতে এসেছে। তার সৎবোন নেহা নাকি বান্ধবীদের সঙ্গে সাজবে, তাই সবাই অন্য জায়গায় চলে গেছে। অনুজাও চাইছে সাজার পর বাড়ির সবাই তাকে একেবারেই দেখুক। অবশেষে, রাগের ধাক্কা সামলাতে সামলাতে, অনুজা নাভিদের সঙ্গে ফোনে এরোপ্লেন মুডে রেখে দিল।
সাজ শেষ করে অনুজা ফোন অন করল। চোখ মেলেই সে বিস্ময়ে ঘায়েল। ফোনে একের পর এক কল এসেছে নানা নাম্বার থেকে। এর মধ্যে প্রিতুলের নাম্বারও ছিল। হঠাৎ মনে হলো, প্রিতুল কি এমন অসময়ে তাকে কল করবে? এসব ভেবে অনুজার মনটা ভীষণ টেনশনে পড়ে গেল। আর দেরি না করে, সবার আগে প্রিতুলের নাম্বারে কল করল সে। “হাই, অনুজা… তোমাকে এতগুলো কল দিলাম। তুমি কল ধরনি কেন? তুমি এখন কোথায় আছো?”
“এত কিছু তোমাকে কেন বলতে হবে? আমার কি ঠ্যাকা? আমার এত কিছু শোনার দরকার নেই। এখন বলো, এতগুলো কল কেন করেছো?” অনুজার স্বর কিছুটা কটাক্ষময়।
“অনুজা, আমি যা বলব, একটু মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করো। তোমার ধৈর্য হারালে চলবে না।”
“মানে? তুমি কি বলতে চাইছ?”
“তুমি একটু শান্ত থাকার চেষ্টা করো… আসলে নাভিদ…”
প্রিতুল আরও কিছু বলতে উঠলেই অনুজা তৎক্ষণাৎ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল, “নাভিদের কি হয়েছে আবার?”
“না, কিছু হয়নি। কিন্তু তুমি একটু দ্রুত নাভিদের বাসায় আসো, তো দেখি।”
“কিন্তু কেন? আর আমি এখন কী করে আসব বলো?
আমার তো বউ সাজা হয়ে গেছে।”
“এসব এখন বাদ দাও। বেশি সময় নেই। যা করার, তাড়াতাড়ি করো। ড্রাইভার হয়তো এতক্ষণে তোমার পার্লারের সামনে চলে এসেছে।”
অনুজা দ্রুত রেডি হয়ে বাইরে এলে দেখল, ড্রাইভার এসে পৌঁছেছে। কিন্তু এ যে নাভিদের বাড়ির ড্রাইভার নয় মনে হচ্ছিল প্রিতুলের পার্সোনাল ড্রাইভার। অনুজা লোকটিকে জিজ্ঞেস করল, “কি হয়েছে ঐ বাড়িতে? কেউ কিছু বলছে না। আপনি কি কিছু জানেন?” সে আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইল।
“তেমন কিছু না। আপনি একটু দ্রুত আসেন। নাভিদের শরীর একটু খারাপ হয়েছে। আর কি বলব।”
অনুজার মাথায় কোনো কাজ হচ্ছিল না। এর আগেও নাভিদ অসুস্থ হয়েছিল। তখনও তো কাউকে কিছু জানান হয়নি। আর এখন কি এমন হয়েছে যে, বিয়ে রেখেই এসে বলছে? মা-বাবাকেও তো কল দিয়েছিল। কেমন যেন গলাটা ব্যথা লাগছিল। কিন্তু তারা সবাই একই কথা বলল তাড়াতাড়ি নাভিদের বাড়ি চলে আসতে হবে। নেহা, আর অনুজার বাবা-মা আগেই সেই বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। অনুজাকেও তাদের সঙ্গে আনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রিতুল আগেই গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল। গাড়িতে করে যাওয়ার সময় অনুজার মন জুড়ে ভয় কাজ করছিল। এ কেমন ভয়। এই ভয়টা কেমন? কেন এত অজানা? সে নিজেও বোঝে না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সে নাভিদের বাড়িতে পৌঁছায়। আসলে এত তাড়াতাড়ি আসার কথা ছিল না। বাবার বাড়ি বিদায় দিয়ে স্বামীর হাত ধরে এই বাড়িতে প্রবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা অন্যরকম।
বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়ল অসংখ্য মানুষ। বুকটা হঠাৎ থমকে গেল। এত ভিড় কেন? মেহমানরা কেন সেন্টারে না গিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে আছে? চারিদিকে এত কান্না আর হুলস্থুল কেন? হঠাৎ ভেতর থেকে অনুজাকে দেখে তার সৎ মা কান্নায় ভেঙে পড়লেন, “মারে, এটা কি হয়ে গেল? সব শেষ।” এই বলে তিনি মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ভেঙে পড়লেন। অনুজা কিছুই বুঝতে পারছিল না। নিজের সৎ মায়ের এমন উন্মুক্ত আবেগ সে আগে কখনো দেখেনি। তার মা কখনো তাকে এভাবে বুকে জড়িয়ে ধরেননি।
এক এক করে ভেতর থেকে সবাই অনুজার কাছে আসতে লাগল। হঠাৎ প্রিতুল বেরিয়ে এল। অনুজার হাত ধরে সে তাকে নাভিদের রুমে নিয়ে গেল। চারপাশে থাকা সবাই যেন তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। প্রতিটি প্রহর যেন শেষ হয়ে গেছে। হঠাৎ অনুজার চোখ পড়ল সাদা কাফনে মোড়ানো দেহটির ওপর। বুকের ভেতর মচরের মতো ধাক্কা খেয়ে উঠল। “কি হয়েছে, বলো প্রিতুল? তোমরা কেউ আমাকে কিছু বলছ না কেন? আর নাভিদ কোথায়?” অনুজার কণ্ঠে কাঁপন।
প্রিতুল কিছু না বলে কাপড়ে মোড়ানো দেহটির মুখ খুলে দিল। যা দেখে, অনুজা স্তম্ভিত হয়ে মাটির দিকে লুটিয়ে পড়তে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই প্রিতুল তাকে শক্তভাবে ধরে ফেলল। অনুজা নিজের অস্তিত্ব সামলে নিয়ে ধীরে ধীরে নাভিদের কাছে এগোতে লাগল। “তোমার কি হয়েছে? উঠো… দেখো আমি বউ সেজে চলে এসেছি। এটা কি তোমার ঘুমানোর সময়? বর সাজতে হবে না তোমাকে? কেন সব সাদা কাপড় দিয়ে গা ঢেকে রেখেছ?” প্রিতুল তাকে সামলে বলল,
“নাভিদ নেই। এসব পাগলামি করা বন্ধ করো, উঠো প্লিজ।”
“তুমি মিথ্যুক! তুমি চাও না আমি আর নাভিদের এক হই? আমাদের বিয়ে হোক? তাই তুমি এত নাটক করছ!” অনুজার গলার কম্পমান স্বরে বেদনা মিশে উঠল।
নাভিদের এমন মৃত্যুতে অনুজার সৎ মা নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। মেয়ের কষ্টে তার হৃদয় আঘাতিত। তাই তিনি মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে বললেন,
“নারে মা, ধৈর্য ধর। মৃত্যু তো সবারই হয় আগে বা পরে।”
“থামো বলছি। ও জান গো, উঠো। দেখো, সবাই আমার নাভিদ ঘুমাচ্ছে। শেষবারও আমি ওকে এমন নিষ্পাপ শিশুর মতো ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম। আমার শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত সে আমার পাশে থাকবে এই প্রতিজ্ঞা ছিল। আমাকে ফেলে কোথাও যাবে না।”
হঠাৎ পেছন থেকে একজন কণ্ঠ শোনা গেল, “অনেক দেরি হয়ে গেছে। লাশ আর রাখা যাবে না।”
“না! দূরে থাকুন সবাই। আমাকে এভাবে জীবন্ত অবস্থায় মারতে পারবেন না। কীভাবে বলতে পারেন এসব? মনে হচ্ছে প্রাণ থেকে কেউ দেহটা বের করে নিয়ে যাচ্ছে।” অনুজা পাগলের মতো লাশকে বুকে ধরে কান্না শুরু করল। প্রিতুল বারবার তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছিল না। অনুজা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিল। ধীরে ধীরে সময় কেটে গেল। লাশকে গোসল করিয়ে সাদা কাপড়ে মোড়ানো হল। চারপাশে মানুষ অনেক কিছু বলছে। কেউ সহানুভূতি প্রকাশ করছে, কেউ কান্না করছে। আহারে! আজ ছেলেটার বিয়ে ছিল, দেখুন মেয়েটার অবস্থা। ওরা একে অপরকে কত ভালোবাসত! কেউ আবার বলছে,
“মা, ছেলেটা ছাড়া একা কিভাবে বড় হয়েছে, সেটা বোঝানো কঠিন। সে সুখ পাওয়ার আগেই তার বেলা ফুরিয়ে গেল। বাবা জীবিত অথচ ছেলেটার অবস্থা দেখুন।”
আকাশ আজ সত্যিই কালো, মেঘঘন। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিবুঝি আজকেই পড়তে হল। এতক্ষণ অনুজার হুঁশ ছিল না। শরীরের অবস্থা অনেক খারাপ, তাই সবাই চাইছিল লাশকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যেতে। লাশের মুখ তখনও বাঁধা হয়নি। হঠাৎই অনুজার জ্ঞান ফিরে আসে। চোখ খুলতেই সে দৌড়ে চলে যায় নাভিদের কাছে।
“আল্লাহ, তুমি আমাকে এত বড় দুঃখ দিও না। আমাকেও তুমি নিয়ে যাও। আমি কেমন করে থাকব, খোদা? যেই সুখ তুমি আমার কপালে রাখনি, সেই সুখের আশা কেন দিলে?” অনুজা অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলল। এইবার প্রিতুল আর তাকে আটকায়নি। আশপাশের লোকেরা বলল, “লাশ যতক্ষণ রাখবে ততই কষ্ট পাবে। বিদায় দাও অনু। ওকে তো তুমি ভালোবাসো। দোয়া কর, আল্লাহ যেন জান্নাত দান করে।”
কিছু মহিলারা এসে অনুজাকে জোর করে লাশের কাছ থেকে সরিয়ে নিল। “কেনো আমার সঙ্গে এমন করছেন? ছাড়ুন আপনারা। শেষবার তো তাকে একটু দেখতেই দেন।”
শেষবারের মতো অনুজা নাভিদের চাঁদের মতো মুখখানা দেখল, “জান গো, তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করো। এই জন্ম আমাদের সাথে মিথ্যা সুখের নাটক করেছ। পরপারে ঠিকই সুখ আমাদের দরজায় হানা দেবে, দেখো।”
আস্তে আস্তে সময় কেটে গেল। লাশের মুখ বেঁধে, সবাই তাকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ব্যস্ত হল। প্রিতুল নিজেও কঠিন চুপচাপ। নাভিদের বাবা সন্তান হারানোর বেদনায় কাতর, কারো অবস্থাই ভালো নয়। নাভিদের নিজের তৈরি মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হলো। বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়। রাত হয়ে গেল, সব কাজ শেষ। অনুজার শরীর এতটাই খারাপ, তাকে স্যালাইন দেওয়া হলো। মানুষজন বলল, “মেয়েটা আবার শোকে মারা যেন না যায়। খুব খারাপ অবস্থা।”
মুষলধারার বৃষ্টির মধ্যেই নাভিদকে রেখে আসা হলো অন্ধকার ঘরে। সব কাজ শেষে প্রিতুল বাসায় ফিরল। বাড়ি আস্তে আস্তে ফাঁকা হতে লাগল। বিকেলে প্রিতুলের পরিবার এবং রুশদাও উপস্থিত ছিল। আগেই আসতে পারত, যদি তাদের ফ্লাইট মিস না হতো। রাতের মধ্যে সব ঠিকঠাক করে, অনুজার মা, বাবা এবং নেহা নিজেদের বাড়িতে চলে গেলেন। কারণ এখানে এত অতিথি তাই এখানে থাকা সম্ভব নয়। তবে অনুজা এখানেই রইল। তাকে রুম থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। শেষে প্রিতুল নিষেধ করল, যেন কেউ অনুজাকে বিরক্ত না করে। কেউও দ্বিমত পোষণ করেনি। মেয়েটার এই অবস্থায় তার সাথে এমন জোর করা যুক্তিসঙ্গত নয়। রাতে অনুজা অনেক পাগলামি করল। নাভিদের কবরের কাছে যেতে চাইল। প্রিতুল বারবার তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। কারণ যতক্ষণ অনুজা মৃত্যুকে পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে মেনে নেবে না, ততক্ষণ সুস্থ হতে পারবে না। প্রিতুল শেষমেশ ঘুমের ওষুধ দিয়ে রাত জুড়ে তার পাশে রইল। সারারাত অনুজা চোখের পাতা এক করতে পারল না। কোথায় রেখে এসেছে সে তার প্রিয় বন্ধুকে? কত স্মৃতি! কত মায়া! যদিও মাঝেমাঝে তাদের অনেক ঝামেলা হয়েছিল, তবুও সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল।
রাতে অনুজা নাভিদের পার্সোনাল ড্রয়ার থেকে একটি হলুদ রঙের ডায়েরি বের করল। প্রতিটি পৃষ্ঠায় জড়িয়ে ছিল নানা রহস্য, স্মৃতি এবং লেখা কিছু শেষবারের কথা। ডায়েরি পড়তে পড়তে অনুজা কখন টেবিলে ঘুমিয়ে পড়ল, তা নিজেও জানল না। ভোরে অনুজার আচমকা চিৎকারে প্রিতুলের ঘুম ভেঙে গেল। আর তখনি…
চলবে?
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, প্রেম আসবে এভাবে
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৪
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ৬
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৮
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৫
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৮
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১৭+১৮
-
পরগাছা পর্ব ৭
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৪
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪+৫
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১৯+২০