Golpo romantic golpo প্রিয়তার পূর্ণতা

প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৮


প্রিয়তার_পূর্ণতা

Nadia_Afrin

আজকের বাড়ির পরিবেশটা একটু অন‍্যরকম।
একটা গুমোট ভাব।
মা সোফায় গোমড়া মুখে বসে আছে।পাশেই রিপা।সুমা আপুও ছিল কিছুক্ষণ।একটু আগেই ছেলেকে নিয়ে ঘরে গেল সে।প্রলয় বাড়ি নেই।কাজে বাইরে গেছে।ফিরবে সন্ধ্যায়।
আমার পুলিশ ভাইয়া এসেছিল একটু আগে।বাড়িতে ইনভেস্টিগেশন করতে এসেছিল।মাকে সামান্য কটা প্রশ্ন করেছে।তাতেই তিনি মুখ বোম করে রেখেছেন।
বাড়িতে রান্না বন্ধ,খাওয়া বন্ধ।এমনকি কথা বলাও বন্ধ।
খালাশাশুড়িরা রয়ে গেছেন এখনো।সঙ্গে আরো কজন আত্মীয় আছে।সকাল থেকে না খেয়ে তারা।আর কতোক্ষণ না খেয়ে থাকবে?কেমন দেখাচ্ছে বিষয়টা?
এদিকে আমার কিছু ড্রেস দিতে দুটো ছোট বোন আসছে।রওনা হয়ে জানিয়েছে আমায়।আগে জানলে নিষেধ করতাম।বাড়ির পরিবেশ ভালো নয়।
ওরা এসে খাবে কী?না খেয়ে গেলে শশুরবাড়ির নিন্দা হবে।এ বাড়ি এখন আমারো।নিন্দা হলে আমারো গায়ে লাগবে।
খাবার যে অর্ডার করবো,তার সুযোগ ও নেই।প্রলয় থাকলে হতো।নতুন বউ আমি।কী দিয়ে কী করি?
মাকে বরং একবার বলেই দেখি।
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

সাহস সঞ্চয় করে মাকে বললাম,”মা কী রান্না হবে আজকে?রান্নাটা আমি করে দেই?”

তিনি ঝাঁঝালো স্বরে বললেন,”করো।বেশি করে করো।আমার কল্লাটা কেঁটে দেই।পাকিয়ে ফেলো।
ছি ছি ছি!
এমন বউ আমি জীবনে দেখিনি।
বাড়িতে পুলিশ ঢোকায়!”

“মা বাড়িতে তো এমনি এমনি পুলিশ আসেনি।আমার গহনাগুলো চুরি গেছে মা। খোঁজ করতে হবেনা বলুন?”

“হ‍্যা।তাই তুমি সামান্য কটা গহনার জন্য নতুন বউ হয়ে বাড়িতে পুলিশ নিয়ে আসবে?”

“সামান‍্য কটা গহনা?
ওখানে প্রায় দশভরি সর্ণ ছিল।একজন নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে স্বপ্ন।মধ‍্যবিত্ত মানুষের কাছে ইচ্ছে,চেষ্টা,শখ।”

“হয়েছে তো তোমার শখ পূরণ?
বাড়িতে পুলিশ এনে শাশুড়িকে জেরা করালে।”

“জেরা কোথায় করা হলো মা আপনায়?
যথেষ্ট সম্মান দিয়ে সামান্য কটা প্রশ্ন করা হয়েছে।
এছাড়াও ওটা আমার ভাই।অন‍্য কেউ তো নয়।”

“তোমার ভাই তো!
সে আসবে অথিতি হিসেবে।তাকে রেধে-বেড়ে খাওয়াবো।তা না সে এলো ইনভেস্টিগেশন করতে।”

আমি কিছু বললাম না এবারে।
মাথা নিচু করে চুপ রইলাম।পাশ থেকে খালাশাশুড়ি বলে উঠলো,”তা হ‍্যা গো বউমা,তোমার সামান্য একটু ধৈর্য্যও কী নেই?
তোমায় তো তোমার শাশুড়ি বলেছেই আমাদের ভাইকে দিয়ে গহনা গুলো খুঁজে দেওয়ার ব‍্যবস্থা করবে।তারপরও কেন এতো বাড়াবাড়ি?
সত‍্যিই বাবা!এখনকার বউদের কোনো ধৈর্য্য নেই।আমাদের সময়ে শশুর বাড়িতে যদি বুক থেকে নিজের কিডনিও চুরি হতো তবুও মুখ বন্ধ রাখতাম।সংসার করতে হলে এমন অনেক কিছু মেনে নিয়েই করতে হয়।”

একটু হেসে বললাম,”কিডনি বুকে থাকেনা খালাম্মা।
আর আমি কী এমন অন‍্যায়টা করেছি যে এতো কথা শোনাচ্ছেন?আমি শুধু আমার চুরি হওয়া গহনাগুলো খোঁজার চেষ্টা করছি।ওগুলো আমার নানুর।মার মায়ের স্মৃতি।আমার আর মার কাছে ওগুলো খুবই স্পেশাল ও প্রিয়।”

“তুমি তোমার প্রিয় নিয়েই থাকো।
ভাব এমন যেন ওরই শুধু হারিয়েছে।আমার গহনাও যে হারিয়েছে,আমি হয়েছি এমন উতলা?
ওগুলো আমারও বিয়ের গহনা ছিল।তাতে এখন কী করবো?কেঁদে বুক ভাসাবো?
নাকি স্বামী শশুরবাড়ির লোকেদের নামে মামলা ঠুকবো?”

মিনমিনে স্বরে বললাম,”মা আমি কিন্তু আপনার উপকারও করতে চেয়েছি।”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।

“থাক।অনেক হয়েছে তোমার উপকার।এবার দয়া করো।চুপ থাকো।আর তর্ক করোনা।নতুন বউয়ের মুখেমুখে এতো তর্ক মানায়না।
বউকাল আমরাও পার করেছি।শাশুড়ির মুখে চোপা তো দূরে থাক,চোখ তুলে তাকানোর সাহস অব্দি পাইনি।”

মাথা নুয়ে ফেললাম আমি।

সুমা আপু ছেলে নিয়ে এলেন।
সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন,”আচ্ছা যা হওয়ার হয়েছে।প্রিয়তা হয়ত বুঝতে পারেনি।
এরকম ভুল আর দ্বিতীয়বার করবেনা।
না খেয়ে থাকলেতো আর সমাধান হবেনা।
রান্না করে খেতে হবে।বাড়িতে অথিতি আছে।
আজ আমাদের মন ভালো নেই।প্রিয়তা আজকের রান্নাটা বরং তুমি করো।”

“ঠিক আছে আপু।মেনুটা বলে দিন।”

“টানা কদিন মাংস হয়েছে।আজ বরং মাছ রাধো।বড়ো মাছের ঝোল।চিংড়ি মাছের ভুনা।সঙ্গে ডিম।
তার সঙ্গে শাক ভাজবে,ডাল রানবে আর বেগুনের চপ।সাথে দই-মিষ্টি।সেগুলো ফ্রিজে আছে।”

বললাম,”এত্তো কিছু?”

আপু ভ্রু কুচকে বললেন,”কই এতো কিছু?
প্রতিদিন তো আমরা এমনই খাই।আজ আরো অথিতি আছে বাড়িতে।
ভেবেছিলাম আরো কিছু আইটেম করতে বলবো।কিন্তু তুমি আবার বলতে পারো রান্নার নাম নিয়ে তোমাকে শাস্তি দিচ্ছি।”

আমি এবার দু-হাত কচলাচ্ছি সমানে।আসলে আমি এতো রান্না পারিনা।
আপুকে বললাম সেটা।
আপু বলল,”তাহলে কী পারো?”

“ভাজি পারি।ভাত,ডিম ও পারি।মাছ আর ডালটা কখনো করিনি।”

“ঠিক আছে।ওগুলোই করো আপাতত।বাকিটা আমি দেখছি।”

রান্না ঘরের দিকে যেতে লাগলাম।
একবার পেছন ঘুরে বললাম,”ফ্রিজে মাংস আছে একটু?আমার বোনেরা আসবে।”

তৎক্ষণাৎ শাশুড়িমা বললেন,”কেন?কী কারণে আসবে?কী দরকার?আরো কিছু নিয়ে আসবে নাকি?”

“ঐ আমার কিছু ড্রেস দিতে আসবে।

মা হতাশ হলেন যেন।সোফায় পিঠ এলিয়ে দিয়ে বললেন,”ফ্রিজে সব আছে।যা পারো করো।আমায় আর বিরক্ত করোনা প্লিজ।”

রান্না ঘরে গেলাম।যেগুলো পারি করলাম।
এবার মেইন ডিশ গুলো রান্না করতে হবে।মসলার পরিমাণ গুলো আমি বুঝছিনা। ইউটিউব দেখেও বুঝতে পারছিনা।সব বলে পরিমাণ মতো।এই পরিমাণটাই তো আমি জানিনা।
পড়েছি মহা মুশকিলে।
সময় পার হচ্ছে।কাজের কাজ হচ্ছেনা।সুমা আপুও আসছেনা।
এদের এতো বড়ো বাড়ি অথচ হেল্পিং হ‍্যান্ড নেই একটাও।কাজের একটা মানুষ থাকলে আমি অন্তত তার থেকে একটু হেল্প নিতে পারতাম।
আমাদের বাড়ির সব কাজ আমার মা করলেও একটা আন্টি আছে।যিনি আমার মাকে সাহায্য করে।
শুনতে পেলাম আমার বোনরা এসে পড়েছে।এদিকে আমার রান্নাই হয়নি।

বের হলাম কিচেন থেকে।ওদেরকে নিয়ে ঘরে গেলাম।নাস্তা দিলাম।
বসতে বলে ছুটে আবারো কিচেনে এলাম।
সুমা আপুকে ডাকলাম।সে এসে চরমবিরক্ত নিয়ে বলে,”এই সামান্য রান্নাটাও পারোনা।তোমরা যে জীবনে কী করে খাবে আল্লাহ্ই জানে।
সবে একটু চোখটা লেগেছে।কটা দিন কতো দখল গেল।আজ একটু রেস্ট নিতে শুয়েছি,ওমনি শুরু করেছো ডাকাডাকি।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

অদ্ভুত!তিনিই কিন্তু তাকে ডাকতে বলেছে।

বললাম,”স‍্যরি আপু।আমায় একটু দেখিয়ে দিন শুধু।আমি নিজেই করে নেব।
আমার বোনরা চলে এসেছে।ওদের খেতে দেব।”

সুমা আপু বললেন,” এ আবার তেমন কঠিন কাজ নাকি!শুধু একটু পরিমাণ মতো মসলা দিয়ে কসিয়ে নিয়ে রান্না করে নেবে।
তুমি নিজেই করতে পারবে।চেষ্টা করো।দেখবে ঠিক পারবে।প্রতিবার আমি দেখিয়ে দিলে নিজে শিখতে পারবে কখনো?”

আমি কিছু বলার আগেই উনি চলে গেল।

প্রতিবার শিখিয়ে দিতে বলেছি কী আমি?
একবার দেখিয়ে না দিলে কীভাবে করবো?
পরিমাণটাই তো দেখিয়ে দিতে বলেছি।

মাথায় হাত দিয়ে বসলাম।কী করি এবার?
বড্ড অসহায় লাগছে।

নিজেই করতে লাগলাম।কী দিচ্ছি,কতোখানি দিচ্ছি বুঝতে পারছিনা।হাতে সময় কম।শাশুড়িমা আধঘন্টার মাঝে রান্না শেষ করে খাবার টেবিলে সার্ভ করতে বলেছে।আপাতত ইউটিউব দেখার মতো সময় নেই।হাতের কাছে যা পাচ্ছি তাই দিয়েই রাধছি।

আধঘন্টার জায়গায় পঞ্চাশ মিনিট পার হয়ে যায় রান্না হয়না আমার।
বোনগুলোকে সেই কখন নাস্তা দিয়ে এসেছি।ওদের নিশ্চয় খিদে পেয়েছে।স্কুল থেকে ফিরেই এখানে চলে এসেছে।
মনের মাঝে প্রচন্ড অশান্তি হচ্ছে।এদিকে মা সহ খালাশিশুড়িও লাগিয়েছে এটা-ওটা বলা।
এতো ঢিলা কেন আমি।কিচ্ছু পারিনা।হ‍্যান ত‍্যান আরো কতো কথা!
পাগল পাগল লাগছে আমার।
হঠাৎ পেছনে কেউ এসে দাঁড়ায়।
আমি সরল দৃষ্টিতে পেছন ঘুরি।প্রলয় দাঁড়িয়ে।
ওকে দেখে ফট করে কেঁদে ফেলি মুখে দু-হাত দিয়ে।
প্রলয় বিচলিত হলো আমার কান্না দেখে।
হাত ধরে পাশের চেয়ার টায় বসালো।পানি খাওয়ায়।
চুলোর কাছে যায় সে।চুলোতে মাছ বসানো।প্রলয় একটু টেস্ট করে।

আমি কাঁদতে কাঁদতে বলি,”আমি রান্না করতে পারিনি।বাড়ির সবাই না খেয়ে।আমার বোনগুলোও না খেয়ে আছে।”

প্রলয় একটু হেসে লবণের কৌটা থেকে লবণ নিয়ে তরকারিতে দেয়।
বলে,”সব মোটামুটি ঠিক আছে।লবণ কম ছিল। দিয়ে দিয়েছি।খুব টেস্টি না হলেও খাওয়ার মতো হয়েছে।”

আমি চোখের পানি মুছলাম।প্রলয় ঘরে যেতে বলে আমায়।
ঘরে গিয়ে দেখি আমার বোনেরা বিছানায় বসে ফোন টিপছে।
চোখে পানি জমে আমার।বেচারারা না খেয়ে আছে প্রথমবার বোনের বাড়ি এসে।কান্নাভেজা কন্ঠে বললাম,”খাবার,,,!”

আমার বোন দুজন অতি উৎসাহের সঙ্গে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে বলল,”ভীষণ টেস্টি ছিল চিকেন বিরিয়ানি।
তুমি ভাইয়াকে বলেছো আমাদের চিকেন বিরিয়ানি পছন্দ?থ‍্যাংক ইউ আপু।”

আমি হতভম্বের মতো তাকিয়ে।পেছন থেকে প্রলয় ঘরে ঢুকে ড্রয়ারের কাছে গিয়ে কিছু বাহির করলো।
আমি ওর কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বললাম,”ওরা এসব কী বলছে?আমি কিছু বুঝছিনা।”

“ওদেরকে আমি বিরিয়ানি আনিয়ে খাইয়ে দিয়েছি।
মনে নেই আপনার বাড়ি থাকাকালীন কথায় কথায় বলেছিলেন ওদের নাকি চিকেন বিরিয়ানি খুবই পছন্দ।
তো এজন্যই আনিয়ে নিলাম।”

প্রলয় ড্রয়ার থেকে কোনো ফাইল নিয়ে চলে যায়।
আমি আমার বোনদের কাছে গিয়ে বলি,”তোরা প্রলয়কে বলেছিলি এখানে আসার কথা?”

ওরা বলল,”হ‍‍্যা।বলেছিলাম তো।তোমায় কল করার পর ভাইয়াকেও জানিয়েছিলাম।”

আমি স্বস্তি পাই।বোনেরা হাসিমুখে বিদায় নিয়েছে।
প্রলয়ের প্রতি সম্মান কাজ করে আমার।ইদানিং এক অদ্ভুত ভালোলাগাও কাজ করে।
তবে মনে খটকা রয়ে গেছে।আমার এক দূর সম্পর্কের বোন নাকি প্রলয়ের পরিচিত।এমনকি ও নাকি অদিতি মেয়েটাকেও চিনতো।প্রলয়ের সম্পর্কে জানে।প্রলয় নাকি একজন সাইকো।ও নিজেই নাকি অদিতিকে খু*ন করেছে।
আমার একথা বিশ্বাস হয়নি।তবে মনে একটু খুতখুত লাগছে।এ বাড়িতে প্রচুর রহস্য আছে।
বিশেষ করে প্রলয়ের কথার মাঝে।ও যেন কিছু বোঝাতে চায়।তবে সরাসরি বলেনা।
আমার সত‍্যটা জানতে হবে।প্রলয়ের বিষয়ে বেশি করে জানতে হবে।

মনস্থির করে নিচে এলাম।সবাই অলরেডি খাবার টেবিলে বসে গেছে।প্রলয় ড্রয়িংরুম থেকে বের হয়ে ডাইনিং এ এলো।আমায় চোখের ইশারায় বসতে বলল টেবিলে।
গিয়ে বসলাম।আমার ঠিক সামনে বসেছে প্রিঅন্তি।ও নিশ্চুপ খাবার খাচ্ছে।
প্লেটে শাশুড়িমা তরকারি বেড়ে দিচ্ছে।ওর শাশুড়ি বলছে কী কী খাবে প্রিঅন্তি।কোনটা দেবে,কোনটা নয়।মেয়েটা তাই ই খেয়ে নিচ্ছে।কোনো রুচি-অরুচি নেই।
খালাম্মার ইন্সট্রাকশনে বিরক্ত হয় প্রলয়।
উচু স্বরে বলে,”আপনি নিজের খাবার নিজে খাননা খালা।প্রিঅন্তির যা লাগে ও নিয়ে খাবে।ও কী বোবা নাকি?যে চেয়ে খেতে পারবেনা।”

খালাম্মা চুপ গেলেন।
সুমা আপু মাংসের বাটি থেকে সবাইকে মাংস তুলে দিতে লাগলেন।পাতে মাংস নিয়ে ভাত মাখিয়ে সবাইতো অবাক।
বড়ো বড়ো চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,”মাংসে কালো জিরা কেন?”

আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম।
রিপা হাসছে সমানে।আমায় নিয়ে ঠাট্টা করছে।
প্রলয় তাকে ধমক দিয়ে বললেন,”দাঁত না কেলিয়ে চুপচাপ খেয়ে নে।একজনের ভুল হতেই পারে।পাগলের মতো এতো হাসার কী আছে?
প্রথমবার রান্নাতে তুই কী করেছিলি মনে নেই?
পায়েসে হলুদ গুড়ো দিয়েছিলি কালার আনতে।
আবার আসছে অন‍্যকে নিয়ে হাসতে।”

রিপা মুখটা ছোট করলো।
শাশুড়িমা ভাত মাখতে মাখতে বলল,”ভেবেছিলাম মাংস দিয়ে পেট ভরে ভাত খাবো।
বউ এমন রাধাই রেধেছে,যে মুখে রুচছে না।”

“কেন মা?তোমরা নাকি মাছ খেতে চেয়েছো!
মাছ রান্নাটাতো ভালোই হয়েছে।ওটা দিয়েই খাবে।মাছ রেখে মাংস খুঁজছো কেন?”

“ও বাবা!মাংস রাধা হয়েছে তো খাবোনা?
নিজের বউয়ের দোষ দেখতে শেখ প্রলয়।সব বিষয়ে মায়ের সঙ্গে লড়তে আসিসনা।”

“হ‍্যা দোষ আমার বউয়ের।সমাধান ও আমি বের করে ফেলেছি।
কাল থেকে আবার আসমা আন্টি আর রিতা আন্টি কাজে আসবে।”

মা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,”কেন?ওরা কেন আসবে?বাড়িতে বউ থাকতে কাজের লোক কেন লাগবে?”

“আমার বউকে কী কাজের লোক পেয়েছো তোমরা?
সব কাজ ও কেন করবে?
যদি বাড়ির লোকেরই কাজ করতে হয় তো তোমরাও করবে।রান্নাবান্না তুমি আর প্রিয়তা করবে।তোমার দুই মেয়ে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার।আর আমি বাইরে কাজ করবো।
প্রিয়তা একা কিছু করবেনা।খাবো সবাই,থাকবো সবাই।তো ও একা কেন সব করবে?”

মা চুপচাপ বসে পড়লেন।
আবারো খাবারে মননিবেশ করলেন।
ভাত মাখতে মাখতে বললেন,”কিন্তু দুজন কেন?”

“একজন রান্নার কাজে সাহায্য করবে।আর একজন ঘর পরিষ্কারে।”

“ঘরগুলোও কী তোর বউ পরিষ্কার করতে পারবেনা?”

আমি কিছু বলার আগেই প্রলয় বলে উঠলো,”না পারবেনা।আর ওদের বেতন দেব আমি,তো তোমার সমস্যাটা কোথায়!”

অর্ধেক খেয়েই উঠে যায় সে।পিছে যাই আমিও।
খালাম্মা প্রিঅন্তিকে বলছে,”এটুকু খেয়েই খাওয়া শেষ করো।”

মেয়েটা মাথা ঝাঁকাচ্ছে।
প্রলয় রাগান্বিত স্বরে বলে,” প্রতিবন্ধি মেয়ে কোথাকার!এসব মেয়েদের জন্যই শাশুড়িরা পুত্রবধুদের অত‍্যাচার করে শান্তি পায়।”

আমি চুপ রইলাম।
প্রলয় গিয়ে সোফায় বসে।
আমি অন‍্যপাশে বসে বললাম,”আমি কিন্তু অতটাও অকর্মণ‍্য নই।
ঘরটর গোছানো গুলো করতেই পারতাম আমি।”

সে ভ্রু কুচকে বললেন,”আপনার কী শুধু শুধু বকা শুনতে ভালো লাগে?নাকি আপনার মাথা খারাপ?
আর একটা কথা,আসমা আন্টি ও রিতা আন্টি বহু আগে থেকেই এ বাড়িতে কাজ করতো।বিয়ের কদিন আগে মা তাদের ছাটাই করে দেয়।
দুজনের অবস্থাই বেশ খারাপ।আসমা আন্টির স্বামী ক‍্যান্সারের রুগী।চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা লাগে।ছোট একটা বাচ্চা আছে।অর্থ উপার্জনের একমাত্র ব‍্যাক্তি তিনি।এবার তারও কাজ গেলে ওদের চলবে কী করে?
রিতা আন্টির বাবাও অসুস্থ ভীষণ।
এছাড়াও ওরা মানুষ হিসেবে খুবই ভালো।আমায় ছোট থেকে কোলে পিঠে মানুষ করেছে।
চাইলেই বিনা কারণে সাহায্য করতে পারি আমি তাদের।কিন্তু তাদের আত্মসম্মান প্রবল।অন্তত কিছু বড়োলোকের মতো ছোট মনের নয়।যে কোটি টাকা পকেটে থাকলেও লোকের জিনিসে নজর দেবে।
কাজের বিনিময়ে টাকা নেবে তারা।”

সত্যিই প্রলয়ের মনটা বড়ো।ওকে যতো দেখছি অবাক হচ্ছি।

উঠে দাঁড়ায় সে।
পকেটে হাত গুজে বলে,”দুনিয়াটা টাকার খেলা প্রিয়তা।শূন‍্য পকেটে থেকে দেখেছি। রক্তের ভক্তরাও অবহেলা করে।
টাকা থাকলে পুরো দুনিয়া আপনার হাতের মুঠোয়।
টাকা না থাকলে আপনি উচ্ছিষ্ট।”

(এই গল্পই কপি করে সবাই হাজার হাজার রিয়েক্ট পাচ্ছে।অথচ আসল লেখিকা আমি,আমার কোনো দাম নেই।এভাবে আমি অচিরেই হারিয়ে যাবো এই লেখালেখি থেকে।আপনারা একটু সাপোর্ট করুন আমায়।লাইট কমেন্ট করুন।বিশ্বাস করুন ভীষণ কষ্ট করে লিখছি আমি।
পরিস্থিতি আমার লেখার উপযোগী নয়।মানসিক চাপ,বেবি,অসুস্থতা,ভয় আমায় রোগী বানিয়ে ফেলছে।
আপনারা আমার ও আমার বেবি,পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।
এই পর্বে অন্তত ২k লাইক আসতে হবে।নাহলে এই গল্পটির ইতি টানা হবে।আমার পরিশ্রমের মূল‍্য অন‍্যকেউ পেলে আমার লিখেই বা লাভ কী?)

ইবই,,,বৃষ্টির পানির ফোটায় জ্ঞান ফিরলো আমার।এভাবে কতোক্ষণ ছিলাম জানিনা।মরা মেয়ে সহ আমাকে এখানে ফেলে রেখে গেছে অমানুষিক গুলো।
চোখ মেলতেই দেখি ধুধু অন্ধকার মাঠের মধ্যে পড়ে আছি আমি।পাশেই আমার মৃত মেয়ে পড়ে আছে।
মেয়েকে জড়িয়ে ধরলাম।

হাসতে হাসতে পাগল হয়ে যাচ্ছে রাজিয়া।
আজ যেন তার খুব সুখের দিন।
নিজ হাতে মেয়েকে দাফন করলো।
বৃষ্টিতে ঘুরে ঘুরে ভিজতে লাগলো।

এরপর সকাল হলো।এলাকা বাসি রাজিয়াকে পাগল অবস্থায় পেলো।বাচ্চার কথা জিজ্ঞেস করতেই মাতোয়ারা বেগম বললো,’মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নিজের হাতেই নিজের বাচ্চাকে মেরে কবর দিয়েছে রাজিয়া।
গ্রাম বাসীরা আক্ষেপ করলো।
রাতারাতি সুস্থ মেয়েটার এ কী হয়ে গেল।
বিষয়টি নিয়ে তেমন মাথা ঘামালেন না কেউই।নিজের খেয়ে কে ই বা পরের মোষ তাড়াবে।

সাতদিন পর বাড়ি ফিরলো রায়হান।
পাগলী রাজিয়া এতোদিন শুধু মেয়ের কবরের কাছেই ছিল।পাশের বাড়ির সেই ভাবী সময় করে খাইয়ে দিয়ে যেতো তাকে।
মাতোয়ারা বেগম বা তার বাড়ির কেউ খোঁজ ও নিতো না রাজিয়ার।

রায়হান এসে উঠোনে দাড়াতেই কোথা থেকে যেন ছুটে এলো রাজিয়া।
স্বামীকে জড়িয়ে ধরতেই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো তাকে।
গায়ের পোশাক হাত দিয়ে ঝাড়তে লাগলো।
রাজিয়া তার নিজের পোশাকের দিকে তাকালো।
এতো নোংরা,গন্ধ যুক্ত পোশাক দেখেই হয়ত রায়হান সরিয়ে দিচ্ছে তাকে।
সামান্য হাসলো রাজিয়া।
দৌড়ে কলপারে গেলো।রায়হান রাজিয়ার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো।মাতোয়ারা বেগম ছেলেকে ঘরে নিয়ে গেল।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply