Golpo romantic golpo প্রিয়তার পূর্ণতা

প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৭


প্রিয়তার_পূর্ণতা

Nadia_Afrin

কাউচে বসে হাসফাস করছি আমি।অশান্ত মন।কাকে বোঝাই?
প্রলয় সামনেই বসে আছে।ল‍্যাপটপে কাজ করছে কী যেন।
প্রলয় কাল কেঁদেছে।ভীষণ কেঁদেছে।ওর কান্নার কারণ আমার জানা নেই।
জানতে চেয়েছি।প্রশ্ন করেছি।নিরবতা ছাড়া কিচ্ছু পাইনি।
এরপর থেকে আমার মনে আনচান ভাব।সত‍্য জানার আকাঙ্খা।

মা এলেন ঘরে।এসে আমায় ডেকে নিচে আসতে বললেন।কিছু আত্মীয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
প্রলয়ের দিকে একবার তাকালাম।সে কাজে ভীষণ ব‍্যস্ত।মায়ের ডাক শুনেছে কিনা সন্দেহ!
মাথায় ঘোমটা টেনে নিচে এলাম।শাশুড়ির ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই খালা শাশুড়ি নিজেই আমাকে সালাম দিলেন আগে।আমি হাসি-মুখে উত্তর নিলাম।তাদের পাশে গিয়ে বসলাম।শাশুড়িমা আমায় দেখিয়ে বললেন,”কেমন হয়েছে আমার বউমা?”

খালা শাশুড়ি মুখ বাকিয়ে বললেন,”বউ ভালো।তবে চুল গুলো কেমন ছোট।দেখে মনে হয় ঘোড়ার লেজ!
রুক্ষ।তারপর ঘনো কলোও নয়।আগা ফাঁটা।গোড়া নড়বড়ে।ভালো লাগলোনা।মনে হয় তেল-শ‍্যাম্পু কিনে ঘসেনা।টাকা গোছাচ্ছে এভাবে।সেই টাকায় বাপের বাড়িতে ছাদ তুলে দেবে।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

সবাই হাসতে লাগে হোহো করে।
আমায় নিয়ে ঠাট্টা করছে।আমিকি জোকার?
কোনো সম্মান নেই আমার?

একটু হেসে বললাম,”খালাম্মার পার্লার আছে?চুল দেখেই দেখছি গবেষণা শুরু করে দিলেন।
পার্লার থাকলে এ‍্যাড্রেস দিয়েন।ট্রিটমেন্ট নিতে যাবো।সমস‍্যা নেই টাকা দিয়েই ট্রিটমেন্ট নেব।তেল-শ‍্যাম্পুর টাকা নাহয় আপনাকেই দেব।
আর আমার বাবার বাড়ি সম্ভবত আপনি দেখেননি।আমার বাবার ঘর ছাদেরই।সুতরাং তাদের আর নতুন ছাদের প্রয়োজন নেই।এরচেয়ে ভালো সেই গোছানো টাকা দিয়ে আপনাকে একটা ছাদের ঘর দিয়ে দেই খালাম্মা।”

“তুমি কী আমায় টাকার গরম দেখাচ্ছো বউ?”

“টাকার গরম আর কীভাবে দেখাবো বলুন!
টাকার অভাবে আমি কিনা তেল-শ‍্যাম্পু মাখতে পারিনা।আপনিই তো বললেন।”

তিনি চুপ গেলেন।মুখে অসন্তোষ ভাব।

শাশুড়ি প্রসঙ্গ এড়াতে বললেন,”আমার বউমা দেখতে যেমন,পড়ালেখাও আছে কিন্তু।
অনার্সে পড়ছে।”

খালাশাশুড়ি আবারো মুখ বাকিয়ে বললেন,”দেখলাম পড়াশোনার ছিড়ি।
বউ দেখতে সুন্দর,বনেদি ঘরের ঠিক আছে।কিন্তু বউয়ের একটু ভদ্রতা কম।
ঘরে ঢুকে খালাশাশুড়িকে সালাম করলোনা।বসতে না বলতেই পাশে এসে বসলো।বড়োদের প্রতি একটু সম্মান কম।”

“সালামের আশায় থাকলেই সালাম পেতেন।সালাম দেওয়া এবং উত্তর নেওয়া কিন্তু প্রায় একই।
আপনার মেয়েতো আমার ছোট।সেতো আমায় সালাম দিলনা।তাহলে সেও কী অভদ্র?”

“অদ্ভুত!এখানে আমার মেয়ে এলো কোথেকে?”

“কেন খালাম্মা?আপনি পরের মেয়ের শিক্ষা-সংস্কার নিয়ে কথা বললে আপনার মেয়েই বা বাদ যাবে কেন?
নাকি পরের মেয়ের ভুল মহাভুল,আর আপনার মেয়ের ভুল ভুল না?”

সে থতমত খেয়ে গেল।
তবুও দমলো না।মোদ্দাকথা ইনি আমায় অপমান করতেই ডাকিয়েছে।একটার পর একটা খুঁত খুঁজে বের করছে এজন্য।
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
অন‍্য কোনো গ্রুপে বা পেইজে আর গল্পটি পাবেন না।সুতরাং সম্পূর্ণ গল্প পড়তে এবং আপডেট পেতে মূল লেখিকাকে ফলো দিয়ে রাখুন।

এবারে বলল,”যাই হোক,প্রিয়তা আমার বউয়ের মতো হতে পারবেনা।
আমার ছেলের বউ আমায় কতো মানে জানো?এইতো সেদিন বললাম স্বামী নিয়ে শহরে ঘুরে এসো।আমায় ছাড়া কিছুতেই যাবেনা।
মেয়েটা বাচ্চা একদম।মাঝেমধ‍্যে রাতেও বলে আমায় ওদের সঙ্গে থেকে গল্প করতে।আমায় ছাড়া নাকি ওদের ভালো লাগেনা।
ছমাস বিয়ের,আমায় অনুমতি ছাড়া টয়লেটেও যায়না।”

ফট করে বললাম,”আপনি বাইরে থাকলে বউয়ের টয়লেট পেলে কী ওভাবেই বসে থাকে?
কখন আপনি এসে অনুমতি দেবে তারপর বাথরুম যাবে সেই আশায় থাকে?
আর বিয়ের তো সবে ছমাস।আরো ছমাস যেতে দিন।”

এরই মাঝে দেখলাম সেই বউটা ঘরে ঢুকলো।
আমি একনজর তাকালাম।মলিন চেহারা মেয়েটার।গায়ে একটা পাতলা চেইন ও নেই।অথচ শাশুড়ির গলায় হার,চেইন, কানের ঝুমকো,হাতের চুড়ি।এমনকি পায়ের নুপুর পযর্ন্ত আছে।দামি শাড়ি পড়েছে।বউ মানুষের বেনারসি টাইপ শাড়ি।
আর বউটার পরণে বয়স্ক মানুষের টাঙ্গাইল শাড়ি।

মেয়েটাকে দেখেই খালাশাশুড়ি বলল,”ঐতো আমার বউমা অন্তি।
মা অন্তি এদিকে এসে বসো আমার পাশে।”

মেয়েটা মাথা নিচু করেই বসলো।শাশুড়ি খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলো।মাথায় ইশারা করেই জবাব দিচ্ছে।ওপরে তাকাচ্ছেনা পর্যন্ত।
যেন শাশুড়ি হাতের পুতুল।বা রোবট।যাকে রিমোট দিয়ে কন্ট্রোল করা হচ্ছে।
আমার একটু আশ্চর্য বোধ হলো।

এবার আমার শাশুড়ি এগিয়ে এলেন।চেয়ার টেনে বসলেন।
হেসে হেসে বলতে লাগলেন,”ওর নাম প্রিঅন্তি।তোমার নামের সঙ্গে ভীষণ মিল।কাজেও মিল থাকতে হবে কিন্তু।
যাকগে!
ও তোমার ছোটজা।প্রলয়ের এক বছরের ছোট ওর স্বামী।বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়া আছে।
জানো প্রিয়তা,আমাদের অন্তি কিন্তু ভীষণ লক্ষি।খুবই সংসারি একটা মেয়ে।
বিয়ের ছ-মাসে বাবার বাড়ি থেকে দুটো ফ্ল‍্যাট নিয়েছে।তোমার তো ঘরভর্তি জিনিস দিয়েছে বাবার বাড়ি থেকে।অন্তির বাবা অন্তিকে বাড়ি ভর্তি জিনিস দিয়েছে।
শুনেছিএকটা বাড়িও করে দেওয়ার কথা ছিল।কিন্তু বেচারার বাবাটাই হটাৎ মারা গেল।”

আমার রাগ হলো।এসব মেয়ের প্রতি আমার রাগ হয়।সমাজে গৃহবধুরা নির্যাতন হওয়ার পেছনে এসব মেয়েরাই দায়ি।এরা বাবার বাড়িকে রাজভান্ডার মনে করে শশুর বাড়িতে দু-দিন পরপর এটা-সেটা নিয়ে এসে লোভ দেখায়।
এরপর কোনোদিন দিতে না পারলে তখন হয় অত‍্যাচারিত।
এই মেয়েটার সঙ্গেও একদিন তাই হবে।
এর শাশুড়ি আমার শাশুড়ির মতোই।একই হাড়ির ভাত কিনা!

অন্তি তখনও মাথা নিচু করে।
আমার বিরক্ত বোধ হচ্ছে রীতিমতো।
মাকে বললাম,”মা একটা কথা ছিল।”

“বলো।”

“আমার গহনাগুলো খোঁজার চেষ্টা করবেন বলেছিলেন।আপনার কে যেন পুলিশ,আর্মি।কথা বলেছেন?”

মা যেন চমকে ওঠে।গোলগোল চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আমতা আমতা করে বলে,”জানিয়েছি জানিয়েছি।ও খোঁজ শুরু করেছে।”

“কিন্তু কী খোঁজ শুরু করলো?আমার থেকে কিছু জানতেও এলো।গহনার কোনো ক্লু নিল না।কোনো ছবিও নিল না।তাহলে কীভাবে খুঁজছে?”

মা এবার বিরবির করে বলতে লাগলেন,”ছবি ঐ ছবি।মানে ছবি,,,!”

সুমা আপু হাত রাখলেন তার পিঠে।হাসি হাসি মুখ করে বললেন,”ছবি দিয়েছি আমি।মা জানেনা।
তোমার বিয়ের ছবি ছিল ঐ গহনা পড়া।ওগুলোই দিয়েছি।
আর খোঁজ নিতেও আসবে।আসলে বিয়ের বাড়ি তো।বাড়ি ভর্তি মেহমান এজন্য আসেনি।”

বুঝলাম না মেহমান দেখে ইনভেস্টিগেশন করতে আসা যাবেনা?উনাদেরই নাকি পরিচিতজন।তাহলে তো কাজ আরো সহজ।সিভিল ড্রেসে আসবে।সাধারণ খোঁজ নেওয়ার নাম করে ইনভেস্টিগেশন করবে।
এছাড়াও উনারাই তো বলল আত্মীয়দের ভেতরে কেউ করেছে একাজ।তাহলে তো সবাই উপস্থিত থাকাকালীন খোঁজ নিলেই বেশি ভালো হবে।আছেও মাত্র কজন আত্মীয় আছে।সব তো চলেই গেছে।
হয়ত আর এক-দুদিন পর একজনও যে যার বাড়ি চলে যাবেন।তখন সারাদিন বাড়ি খুঁজে বের করে ইনভেস্টিগেশন করতে হবে।

আমার ভাবনার মাঝখানেই মা বললেন,”এবার তুমি ঘরে যাও প্রিয়তা।পরিচয় পর্বতো শেষ হলো।”

পরিচয় না ছাই।হলো শুধু আমার অপমান ও আমার প্রতিবাদ।
মনে মনে বললাম এটা।

নিজের ঘরের দিকে যেতে লাগলাম।
যা বুঝছি,এদের ভরসায় থাকলে চলবেনা।আমারই কিছু একটা করতে হবে।বলাও তো যায় না,আবার গহনা গুলো ফেরতও পেতে পারি ভাগ্যে থাকলে।হাত গুটিয়ে থাকলে সেই সম্ভাবনাটাও নষ্ট হবে।

দরজার সামনে এসে নক করলাম।
কোনো আওয়াজ নেই।ভেতরে উকি দিলাম।প্রলয় নেই ঘরে।ট‍্যাপটপ বিছানায় পড়ে আছে।
বাইরে গেছে হয়ত।ঘরে ঢুকলাম।
ফোনটা হাতে নিয়ে আমার এক ফুফাতো ভাইকে কল দিলাম।ও একজন পুলিশ।
দু-বারের বেলা রিসিভ করলো সে।
বলল,”কিরে এখন কল করছিস কেন?কাল গেলি।আজ আর তোকে নিয়ে আসতে পারবোনা।”

বললাম,”মজা করিসনা ভাইয়া।একটা হেল্প দরকার।”

“কী হেল্প?তবে আগেই বলে দিচ্ছি এখন ফুসকা-টুসকা খেতে চাইলে এনে দিতে পারবোনা।আমি ডিউটিতে আছি।”

“ওসব কিছু না ভাইয়া।
আমি একটা ভুল করে ফেলেছি।আমার বিয়ের ঐ গহনা যেগুলো নানুর দেওয়া,সবই হারিয়ে গেছে।”

“হোয়াট!
কবে?কখন?কীভাবে হলো এইকাজ?”

“জানিনা।ঘুমের মাঝে কেউ নিয়ে গেছে।খুলে রেখে শুয়েছিলাম।বিয়ের রাতেই এটা হয়েছে।”

“কিন্তু বলিসনি কেন আমায়?কালও সারাদিন তোদের বাড়ি ছিলাম।
জানাসনি কেন?”

“মা জানাতে নিষেধ করেছিল।তার ধারণা পুলিশ কেস হলে বাড়িতে পুলিশ আসবে ইনভেস্টিগেশনে।এতে তাদের মান যাবে।নতুন আত্মীয়!”

“এটা কোনো কথা?নতুন আত্মীয় তো কী হয়েছে?একটা জিনিস চুরি গেছে,পুলিশকে জানাতে হবেনা?এতে তাদের মনে করার কী আছে?তাদেরকে কী ব্লেইম করা হবে নাকি?
যাওয়া হবে শুধু জিজ্ঞাসাবাদে।
আর তুইও এতো বোকা কেন?
এতো বড়ো ঘটনা আমায় জানালিনা?”

“কী করবো বল?মা নিষেধ করলো যে।”

“তোরাও বোকা বাবা!আমি মামিকে বকে দেব।
মামির সেই সরলতা এখনো গেল না।সেকেলে ধারণা আজো মনে চেপে রেখেছে।”

“বকেদে তো ভাইয়া।তবুও মা যদি একটু চতুর হয়।”

“হুম।তা হ‍্যারে প্রিয়তা শুধু তোরটাই চুরি গেছে নাকি অন‍্যকারোরও।”

“শুনলাম আমার শাশুড়ির ও নাকি চেইন,বালা চুরি গেছে আলমারি থেকে।”

“তাহলে চুরি হয়েছে তো বড়ো আকারেই।ভুল হয়েছে আগে না জানিয়ে।মাঝে তিনটে দিন পার হয়ে গেছে।না জানি গহনা গুলো কতো হাত পযর্ন্ত চলে গেছে।”

আমি চিন্তিত স্বরে বললাম,”এখন কী হবে ভাইয়া?”

“তুই এক কাজ কর।একটা রিপোর্ট লেখা।
আমি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ইনভেস্টিগেশন শুরু করে দিচ্ছি।চুরিটা যেহেতু ঐ বাড়ি থেকে হয়েছে,তো ইনভেস্টিগেশনের জন্য আমার কিন্তু ঐ বাড়িতে যেতে হতে পারে।তোর কোনো আপত্তি নেই তো?”

আমি এবার আমতা আমতা করতে লাগলাম।এই সিদ্ধান্তহীনতায়ই তো ভুগছি আমি।
কী বলি?

তখনই হঠাৎ পেছন থেকে কেউ আমার ফোনটা টেনে নেয়।
ভ্রু কুচকে পেছনে তাকিয়ে দেখি প্রলয়।
প্রলয় ফোনটা কানে ধরে নিজের পরিচয় দিয়ে বলে,”আপনার যখন ইচ্ছা চলে আসতে পারেন।
আমাদের কোনো সমস্যা নেই।গহনা গুলো খুঁজে বের করতে যা করতে হয় করুন।
আমি আপনার পাশে আছি।”

কল কেঁটে দেয়।
আমার দিকে ফোন এগিয়ে দেয় সে।
ফোন হাতে নিয়ে বলি,”ভাইয়া বাড়িতে আসলে কোনো সমস্যা হবেনা?কেউ কিছু মনে করবেনা?”

“কে কী মনে করবে অদ্ভুত!
আচ্ছা আপনি এতো বোকা কেন?নাকি ন‍্যাকামো করতে থাকেন সবসময়?আমার অসহ‍্য লাগে এসব ন‍্যাকামি।”

ন‍্যাকামির কী করলাম আমি?প্রচন্ড অপমান বোধ হলো আমার।
প্রলয় চলে গেল দরজা হাট করে খুলে।
আমি ঘরে আনমনে বসে রইলাম।
সেই বউটা মানে প্রিঅন্তিকে দেখলাম আমার ঘরের সামনে দিয়ে নত মুখে কোথাও হেঁটে যাচ্ছে।
আচমকা ওর হাতে থাকা পার্স থেকে একশত টাকার নোট পড়ে গেল।মেয়েটা খেয়াল করেনি।চলে যাচ্ছে আনমনে।যেন কোনো ধ‍্যানে আছে।
আমি বের হলাম।টাকাটা দরজার সামনে থেকে কুড়িয়ে নিয়ে মেয়েটাকে ডাক দিলাম নাম ধরে।সম্পর্কে ছোটজা।বয়সেও ছোটই হবে।নাম ধরে ডাকাই যায়।
বললাম,”তোমার টাকা পড়ে গেছে।”

মেয়েটা দ্রুত এলো।টাকাটা নিয়ে আবারো যেতে নিল।আমি থামিয়ে দিলাম তাকে।
বললাম,”ঘরে এসে বসোনা।আমি একা একা বোর হচ্ছি।তোমার সঙ্গে একটু গল্প করা যাবে।”

মেয়েটা আসতে চাইলো কিনা জানিনা।দাঁড়িয়েই ছিল দরজার সামনে।আমি ওর হাত ধরে আমার ঘরে নিয়ে এলাম।
বিছানায় বসিয়ে পাশে বসলাম।
ছোট বেলা থেকেই আমি একটু বেশিই মিশুক মেয়েদের সঙ্গে।অল্পতেই মিশতে পারি।

প্রশ্ন করলাম,”তোমার বাবার বাড়ি কোথায়?”

মেয়েটা জবাব দেওয়ার আগেই দেখি ঘরে খালাশাশুড়ি,আমার শাশুড়ি উপস্থিত।মেয়েটা ভীত চোখে তাকালো নিজের শাশুড়ির দিকে।খালাশাশুড়ি যেন পারলে ওকে খেয়ে নেই।কড়া চোখের চাহনি।
দাঁত কড়মড় করছে।
শাশুড়িও গাল-মুখ কুচকেছে।
বুঝলাম না মেয়েটা কী করেছে?
এমন করছে কেন এরা?

খালাশাশুড়ি মেয়েটাকে একপ্রকার ধমক দিয়ে উঠতে বলল।
রাগী গলায় বলল,”তোমায় এই অসময় এই ঘরে আসতে কে বলেছে।আমার অনুমতি নিয়েছো এখানে আসার আগে?”

আমি কী তার ছেলের বউকে খেয়ে নেব?এ ঘরে আসলে কী হবে?আর অসময়ই বা কেমন সময়?কারো ঘরে আসতে আবার শুভ সময় লাগে নাকি?
আর সামান্য ওপর তলা আসতেও শাশুড়ির অনুমতি নিতে হয় নাকি?

প্রিঅন্তি আমতা আমতা করে কিছু বলতে চায়।
ওরা শোনেনা।মেয়েটাকে টেনে টেনে নিয়ে যেতে লাগে।
দরজার কাছে যেতেই মেয়েটা অশ্রুসিক্ত নয়নে পেছনে ঘুরেছে।ওর চাহনিতে আছে বিশাল কিছু।যা ও কাউকে বলতে চায়।

আমি চুপ রইলাম।উনার পুত্রবধু উনি মিশতে না দিলে কিছু করার নেই।মেয়েটাও তো কিছু বলল না।

আমি মন খারাপ করে জানালা খুলে দাঁড়ালাম।এক দমকা হাওয়া এসে আমায় ছুয়ে যায়।
খোলা চুলগুলো নড়ছে।
প্রলয়ের খারাপ ব‍্যবহার আমি সহ‍্য করতে পারিনা।কান্না পেয়ে যায় আমার।আদরে মানুষ হয়েছি আমি।মা-বাবার বড্ড আদরের।
প্রলয়ের অহেতুক খারাপ ব‍্যবহার আমায় দুঃখ দিচ্ছে।
হঠাৎ চোখ যায় নিচে।সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরহিত একটা ছেলে ফোনে কথা বলতে বলতে যাচ্ছে।
মুখটা দেখে আমার বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠলো।
ও অয়ন।আমি যাকে পছন্দ করতাম।তবে কখনো বলা হয়নি।অয়ন ছিল আমার কলেজের সিনিয়র।বর্তমানে ভালো জব করে।
শুনেছি অয়ন নাকি দেশের বাইরে চলে যাবে খুব দ্রুতই।ইচ্ছে ছিল ওর বাইরে যাওয়ার আগেই পছন্দের কথা জানিয়ে দেব।কিন্তু সাহস হয়নি।যদি ও বারণ করে?আমি লজ্জা পেয়ে যাবো।একপ্রকার ভীষণ যন্ত্রণা পাবো।
আনমনে ডেকে উঠলাম তাকে।
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।

“অয়ন ভাই!”

সে চারপাশে তাকালো।ডাকের উৎস পাচ্ছেনা।আবারো আমি ডাকলাম।
বললাম,”অয়ন ভাই শুনছেন?”

সে এবার ওপরে তাকায়।
আমায় দেখে।এক চিলতে হাসে।এই হাসিরই প্রেমে পড়েছিলাম আমি।এটা প্রেম।শুধু একতরফা।ভালোবাসা নয়।ভালোবাসা হয় দুজনাতে।

অয়ন ভাই হাত নাড়ে।চিৎকার করে বলে,”এখানে কেন?নিচে এসো।”

আমার অবাধ‍্য মন মানছেনা।ইচ্ছে করছে ছুট্টে গিয়ে একটু কথা বলে আসি।
কিন্তু কীভাবে?
ভাবতে ভাবতে নিচে এলাম।
মা কী যেন কাজ করছে।সবাই গল্প করছে।প্রলয়কে দেখলাম না।মাকে গিয়ে ধীর স্বরে বললাম,”আমার এক পরিচিতজন বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।একটু কথা বলে আসবো মা?বা বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসবো?”

মা শুনলো কিনা জানিনা।শুধু বলল,”যাও যাও।”

অনুমতি পেয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে গেলাম আমি।বাড়ির একপাশে পায়ে হাঁটা গলি এটা।
গেলাম।অয়ন ভাই দাঁড়িয়ে।আমায় দেখেই প্রশ্ন করলো,”কী ব‍্যাপায় প্রিয়তা?তুমি এখানে কেন?”

“ঐ এটা আমার শশুর বাড়ি।”

অয়ন ভাই অবাক হলেন।
চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে বলল,”হোয়াট?
বিয়ে হয়ে গেছে তোমার?
কবে কখন কার সঙ্গে?”

আমি কিছু বলার আগেই পাশ থেকে কেউ বলল,”চারদিন হলো বিয়ের।বরের নাম প্রলয় সরকার।”

অয়ন সরু চোখে প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে আমার দিকে তাকায়।
আমি একটু হেসে বললাম,”বাড়িতে আসুন।বসুন।”

অয়ন ভাই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে,”নাহ থাক।আজ নয়।একটু কাজ আছে।ভালো থেকো।”

অয়ন ভাই চলে যায়। আমি দাঁড়িয়ে থাকি।
প্রলয় বলে,”এই ছেলেটাকে পছন্দ করেন?”

ফট করে তাকালাম তার দিকে।এনার কী সুপার পাওয়ার আছে নাকি?

“এমন কেন মনে হলো?”

“আপনার গভীর দৃষ্টি,বাড়ি ভর্তি লোক রেখে বাইরে ছুটে আসা এসব দেখেই মনে হলো।”

একটু হেসে বললাম,”তেমন কিছু না।”

বাড়ির দিকে হাঁটা ধরলাম আমি।

প্রলয় পেছন থেকে বলে,”ছেলেটা সম্ভবত আপনাকে পছন্দ করে।দুজনের পছন্দ মিলে গেলে কিন্তু ভালোবাসা হয়ে যায়।”

আমি থমকে দাঁড়ালাম।প্রলয় এগিয়ে এসে আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,”সমস‍্যা নেই ভালোবাসুন।ভালোবাসা ভালো জিনিস।
ভালোবাসাদের মিল দেখতে,খুশি দেখতে আমার ভালো লাগে।”

এ কেমন কথা?স্বামী হয়ে উনি আমাকে অন‍্যকাউকে ভালোবাসতে বলছে।
কী চায় এই লোকটা?ইনি কী আমায় তার পথ থেকে সরাতে চায়?
তারমানে আমার শোনা কথাই কী ঠিক?ইনি সাইকো?ইনিই কী তার আগের ওয়াইফ মানে অদিতিকে মে*রে ফেলেছে?

ইবই,,,,সন্তান হিসেবে শুন‍্য তুমি,স্বামী হিসেবে কলঙ্ক,মানুষ হিসেবে অভিশাপ তুমি,এবার পিতা হয়ে কুৎসিত হইয়ো না।
তাহলে বিলীন হয়ে যাবে তুমি।

পড়ুন ই-বই “আধারে অনন‍্যা”
https://link.boitoi.com.bd/hmWh

মাত্র ৩০ টাকা
এটা প্রিয়তার পূর্নতা টাইপ গল্প।কিনে পড়তে পারেন।
দাম মাত্র ৩০ টাকা।

(প্রতিবাদি পর্ব কেমন লাগলো?প্রিয়তা এভাবেই ধীরে ধীরে প্রতিবাদি হবে।
এক চমৎকার কিছু আসতে চলেছে গাইস।

🍄আমি নিয়মিত হচ্ছি প্রিয়রা❤❤
লাইক কমেন্ট করে আমার আগ্রহ বাড়িয়ে দাও।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply