Golpo romantic golpo প্রিয়তার পূর্ণতা

প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৫


প্রিয়তার_পূর্ণতা

Nadia_Afrin

মলিন মুখে বসে আছি ড্রয়িংরুমে।মা সেই যে গিয়েছে ব‍্যাংকে।ফেরার নাম নেই।
মা আমায় বলতে দেয়নি কিছু।তার ধারণা নতুন আত্মীয়কে কিছু বললে আমার সংসারে অশান্তি হবে।
এজন্য আমি চুপ থেকেছি।মায়ের নিষেধ পালন করেছি।সেই থেকে মা শুধু ঘুরছে।একা হাতে সব ম‍্যানেজ করছে।মায়ের চিন্তিত ও বিভ্রান্ত চেহারা দেখে আমি অবশ‍্য একবার বলেছিলাম জিনিস গুলো কাল বা পরসু নেওয়ার কথা।বাবা বাড়ি ফিরে সব দিয়ে যেত।
শাশুড়িমা জবাব দিয়েছে,”আমি এসেছি তোমায় নিয়ে যাবো বলে।এলাকাবাসী সহ আত্মীয়দের বলে এসেছি বউ আজ ঘর সাজানো জিনিস নিয়ে আসবে সঙ্গে করে।সবাই সেসব দেখার জন্য মুখিয়ে আছে।এবার না নিয়ে গেলে আমার সম্মান নষ্ট হবে।”

আমি তখন কিছু বলতে চেয়েছিলাম।আমার মামি নিষেধ করেছে।সেকেলে ধারণা অনুযায়ী মেয়ের বাড়ির লোকদের ছেলের পরিবারের কাছে একটু নত হয়ে থাকতে হয়।চাওয়ার আগে জিনিস দিতে হয়।এতে মেয়ে ভালো থাকে।
কিন্তু এ কেমন ভালো থাকা?

এতো কিছুর মাঝে প্রলয় নেই।মা বেড়িয়ে যাওয়ার পরপরই প্রলয় চলে গেছে।আমায় বলেনি পর্যন্ত।
শাশুড়িমাকে জিজ্ঞেস করলে বলেছে তার নাকি কোন কাজ চলে এসেছে।তাকে ছাড়া উদ্ধার হবেনা।
আমি জানি এসবই নাটক।আসল কাজ হয়ে গেছে।কথা পাড়া শেষ।এবার শুধু কথা মাফিক কাজ হবে।তার থেকে আর লাভ কী?
বাকিটা তার মা সামলাবে।
আনমনে এসব ভাবতে ভাবতে পানির গ্লাসটা হাতে নিলাম।
মামিরা শাশুড়ি মাকে খেতে দিয়েছে।উনারা খাচ্ছে আর উল্লাস করছে।

দুপুর তিনটে নাগাদ মা এলো ট্রাক ভর্তি ফার্নিচার নিয়ে।ট্রাক থেকে নামতেই মায়ের ক্লান্ত ও মলিন চেহারা খানি দেখে আমার বুকটা ধ্বক করে ওঠে।দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো স্বরে বললাম,”তোমার খুব কষ্ট হলো মা।আই এ‍্যাম স‍্যরি।”

মায়ের ক্লান্তির চেহারার এক ঝলক হাসির রেখে মেলে।
আমার গাল দুটো ধরে বলে,”ধুর পাগলি!
এটা আবার কোনো কষ্ট হলো নাকি!
মেয়ের সুখের জন্য মায়েদের এসব একটু আধটু করতেই হয়।”

আমি মায়ের দিকে তাকিয়ে তার শরীরের ঘাম মুছে দিতে লাগলাম।লক্ষ‍্য করলাম মায়ের গলায় তার প্রিয় হারটি নেই।হাতের বালা ও চুড়ি নেই।সবসময় পড়ার চেইনটাও নেই।আঙুলে পড়ার তিনটে আংটির একটাও নেই।কানের ঝুমকো নেই।ওপর কানের রিং নেই।
ব‍্যতিব‍্যস্ত হয়ে বললাম,”মা তোমার গায়ের গয়না কোথায়?ছিনতায়-ডাকাতি হলো নাকি?যাওয়ার সময় তো পড়ে গিয়েছিলে।
তুমি ঠিক আছোতো মা?”

মায়ের গলায় জবাব নেই।মাথা নিচু করলেন তিনি।আমি তাকে একপ্রকার ঝাঁকিয়ে জানতে চাইলাম কী হয়েছে।
মা নরম গলায় বললেন,”বিক্রি করে দিয়েছি।”

আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।বলছে কী!

উচ্চস্বরে বললাম,”কেন?কী প্রয়োজনে?এতো বিপদ পার করেছো জীবনে,কখনো দেখিনি ঘরের গহনা বিক্রির কথা মুখে নিয়েছো।বাবা পছন্দ করেনা এসব।
আজ কী এমন হলো যে এতো বড়ো কাজ করলে তাও কাউকে না জানিয়ে।বাবা জানে এ কথা মা?”

মা মাথা দু-পাশে নাড়লেন।

আমি আবারো চড়া গলায় বললাম,”এই কাজ কেন করলে?কী দরকার ছিল এমন করার?”

মা আমার দিকে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে রইলেন দু-দন্ড।এরপর ধীর গলায় বললেন,”ফার্নিচার কিনতে।”

চমকে উঠে বললাম,”কিন্তু তুমি তো ব‍্যাংক থেকে টাকা ওঠাতে গিয়েছিলে।”

“ব‍্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারিনি মা।কী যেন ইস‍্যু হয়েছে।তোর বাবাও নেই।সব লেনদেন তো তিনিই করে।এজন‍্য আমি সঠিক বুঝতে পারিনি।”

আমি এবার কেঁদেই ফেললাম।
কান্নাভেজা কন্ঠে বললাম,”টাকা তুলতে পারোনি তো ফিরে আসতে।গায়ের গহনা খুলে কেন বিক্রি করতে গেলে?”

মা থমথমে গলায় বললেন,”মানসম্মানের জন্য।”

আমি মাকে ঝাঁকিয়ে বললাম,”কিসের মানসম্মান হ‍্যা?মেয়ে বিয়ে দিলেই কাড়ি কাড়ি পণ দিতে হবে নাকি।আর পণ দিলেই সম্মান থাকে নাকি?”

মা আমার মুখ চেপে ধরে বলল,”এভাবে বলতে নেই মা।ওরা শুনতে পাবে।”

আমি মাকে সরিয়ে দিয়ে বললাম,”শুনলে শুনুক।তাতে আমার কী?
যাবোনা আমি ঐ ঘরে।করবোনা আমি সংসার।যারা সামান্য সুবিধা-অসুবিধা বোঝেনা তাদের ঘরে আমি যাবোনা।”

শাশুড়িমা হয়ত ঘর থেকে কিছু আন্দাজ করলেন।
ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে এসে বললেন,”কিছু হয়েছে বেয়ান?”

মা শুকনো হেসে বললেন,”ঐ কিছুনা।মাকে ছেড়ে যাবেতো তাই কষ্ট পাচ্ছে।”

শাশুড়িমা আমার কাধে হাত রেখে বললেন,”কষ্টের কী আছে পাগলি!এক মাকে ছেড়ে অন‍্য মায়ের কাছে যাবে।আমিও তো তোমার মা।”

আমি কিছু না বলে হনহন করে চলে গেলাম।শাশুড়িমা আমার যাওয়ার পানে তাকিয়ে মায়ের দিকে তাকালেন।
মা আবারো একটু হাসলো।

আমি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ফুসছিলাম শুধু।একই সঙ্গে রাগ,অভিমান,কষ্ট সবই হচ্ছে।
এই গহনাটা আমার মায়ের বিয়ের।
আমার বিয়ের আগের দিন মা এই গহনা বের করতে করতে বলেছিলেন,’এই গহনা আমার বিয়ের।পড়বো মেয়ের বিয়েতে।মেয়ের বিয়ের মৌসুম শেষ না হওয়া পযর্ন্ত এ গহনার ছাড় নেই।’

অথচ বিয়ে শেষ না হতেই গা থেকে গহনা গেল খোয়া।
হাতের আংটি দুটো কীভাবে বিক্রি করলো মা?
ওটানা তার স্বামীর দেওয়া প্রথম উপহার!
জন্মের পর কখনো মায়ের আঙুল খালি দেখিনি।আজ দেখলাম।বড্ড বেমানান লাগছে।
মা অন‍্যায় করেছে।

ফোন হাতে নিলাম আমি।
বাবার নম্বর বের করলাম।কল দেব।বাবাকে জানাবো সব।এসব কোনোকালেই পছন্দ করেনি বাবা।
পরক্ষণে ভাবলাম থাক!এসময় ফোন দিয়ে বকা শোনানোটা ভালো দেখাবেনা।বাড়ি ভর্তি লোকজন।

ফোনটা বিছানায় আছাড় দিয়ে ধপ করে বিছানায় বসে পড়লাম।
শাশুড়িমা ফার্নিচার গুলো নেড়েচেড়ে দেখছেন।তার মুখে হাসি।
মাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,”কী সুন্দর হয়েছে বেয়ান।আপনার পছন্দ সত‍্যিই ভীষণ রুচিশীল পছন্দ।তা জিনিস গুলোর দাম বুঝি বেশ নিল?”

মা এবারেও সৌজন‍্যমূলক হাসেন।
আমি ঘরের জানালা দিয়ে সবই দেখছি।
নিজের প্রতি ভীষণ রাগ হচ্ছে আমার।
সব হলো আমার জন্য।আমার জন্য মাকে তার সাধের গহনাগুলো হারাতে হলো।

আমি ঘরে বসে রইলাম।সবাই এসে ডেকেছে কবার।খুলিনি দরজা।মনে পাহাড় সমান দুঃখ।কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছেনা।

ঘন্টা তিনেক পর মা এলেন ওদের খাইয়ে দাইয়ে।
এসে দরজা নক করলেন।খুলে দিলাম।
হাতে খাবারের থালা মায়ের।
আমার সামনে বসে ভাত মাখতে লাগলেন।একবার মুখপানে তাকিয়ে বললেন,”এখনো রেগে আছিস মায়ের ওপর?”

আমি কোনো জবাব দিলাম না।

মা মুখে ভাতের লোকমা তুলে দিয়ে বললেন,”বাদ দে না মা।একটু পর না তুই চলে যাবি।মন খারাপ করে থাকিস না আর।আমার ভালো লাগবেনা।
সামান্য কটা গহনা।তোর বাবাকে বললে একসময় গড়িয়ে দেবে।
ওগুলো গেছে যাক।”

আমি কেঁদে উঠে বললাম,”হ‍্যা সবই যাক।তোমরা তো জমিদার।দশ ভরি গেল,কোনো পদক্ষেপ নিতে দিলে না।আমাদের ভান্ডার আছে নাকি?
এভাবে করতে করতে একদিন সব সবাই নিয়ে নেবে।
তোমাদের রাস্তার ফকির বানিয়ে দেবে।”

মা একগাল হেসে বলেন,”হলাম নাহয় মেয়ের জন্য ফকির।তবুও তো মেয়ে ভালো থাক।”

আমি মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,”তুমি এতো সহজ-সরল ভালো কেন মা?”

“কারণ আমি যে মা।মায়েরা সহজ-সরল আর ভালোই হয়।”

“সব মায়েরাই কী হয়?”

“আমার জানামতে হয়।”

আমি দু-দন্ড ভেবে বললাম,”হয়ত হয়না।”

মা আমার মুখে আবারো খাবার তুলে দিয়ে বলল,”ওসব তোর ভাবতে হবেনা।
খেয়ে নে পেট ভরে।”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
অন‍্য কোনো গ্রুপে বা পেইজে আর গল্পটি পাবেন না।সুতরাং সম্পূর্ণ গল্প পড়তে এবং আপডেট পেতে মূল লেখিকাকে ফলো দিয়ে রাখুন।

খাওয়া শেষে আমার সব গুছিয়ে নিলাম।
মা প্রলয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে তার মা উত্তর দিয়েছে।
বিকেল নাগাদ বাড়ি থেকে বের হলাম ঐ বাড়ির উদ্দেশ্যে।
ঘরে গিয়েই তো আমি অবাক।পুরো ঘর খালি।একটা চেয়ার অব্দি নেই।
আমার বিষ্ময়ের দৃষ্টি দেখে মা বললেন,” ঐ তুমি সব নিয়েই আসবে এজন্য সরিয়ে ফেলেছি সব।ভালো করিনি বলো?”

আমি কোনো উত্তর না দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
তখনই প্রলয় এলো।হাতে ওর ব‍্যাগ। সে আমার বাড়ি থেকে বেড়িয়েছে সেই কখন,অথচ বাড়িতে ঢুকলো সবে।তারমানে সত‍্যিই হয়ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ ছিল।

প্রলয় কোনো কথা না বলে গটগট করে সিড়ি বেয়ে উঠতে লাগলো।
আমায় দেখে নাক-মুখ কুচক‍ে তাকালো।
দরজার সামনে আমায় দাঁড়ানো দেখে ও আর ভেতরে ঢোকেনা।অন‍্যপাশে চলে যায়।
আমি ফ্রেশ হতে ব‍্যাগ থেকে একটা ড্রেস বের করে বাথরুমে যাই।
মিনিট দুয়েক পর হঠাৎ প্রচন্ড চিৎকারের শব্দ পেলাম।প্রলয় চিৎকার করছে।
তড়িঘড়ি বের হলাম।

মা দাঁড়িয়ে মাথা নুয়ে।প্রলয় চিৎকার করে বলছে,আমার ঘরে আমার অনুমতি ছাড়া কোন সাহসে জিনিস সরানো হয়?
এগুলো কী কারো বাপের টাকায় কেনা?
সব আমার রোজগারের টাকায় কেনা হয়েছে।তাহলে আমার অনুমতি ছাড়া কী করে আমার ফার্নিচারে হাত দেওয়া হয়?

মা মিনমিনে স্বরে বললেন,”বউ সব নিয়ে আসবে এজন্য সরিয়েছি।”

প্রলয় কড়া গলায় বলে,”বউ নিয়ে এসেছে বউকে বলবে সেগুলো যেন তার মাথায় করে রাখে।
আমার ঘরে কারো বাপের টাকার জিনিস এ‍্যালাউ নেই।আমি ফকির নই।ওমন ফার্নিচার ডাবল করে কেনার ক্ষমতা আমি প্রলয় সরকার রাখি।”

উক্ত কথাগুলো প্রলয় আমার দিকে তাকিয়েই বলল।
প্রচন্ড অপমান বোধ করলাম আমি।
দিয়েও যাবো আবার কটু কথাও শুনবো?
উনারাই তো চাইলো সব।

প্রলয় রাগ দেখিয়ে চলে গেল।যাওয়ার সময় তার মাকে বলেছে সব ফার্নিচার গুছিয়ে রাখতে।ওগুলো বিক্রি করবে।
মা বলেছে সামনে তোর বোনের বিয়ে।

প্রলয় আরেকদফা চিৎকার করে বলে,”বোনের বিয়ে তো আমি কী করবো?”

মা মিনমিনে স্বরে বলে,”না মানে ভাবছিলাম ওগুলোতো ঠিকই আছে।রংটং করে বিয়ে পাড়ি দেব।”

প্রলয় সোজাসাপ্টা জবাব,”মেয়ের বিয়ে দেনাপাওনা কীভাবে দেবে তোমাদের ব‍্যাপার।ভাই হিসেবে যতোটা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে দেব।
আমার ঘরের একটা সুতোও নিতে দেবনা।”

এই বলে কথা শেষ।
প্রলয় চলে যায়।মা হাইহুতাস শুরু করে।
এ কী ছেলেকে মানুষ করেছে!
বউয়ের সামনে মাকে অপমান করে।
ছোটবোনকে হিংসা করে।
আরো কতো কী যে বলল!

আমি শুধু বললাম,”মা উনিকি এসব নেওয়াতে আপত্তি জানিয়েছিল?”

মা সরু চোখে বলেন,”আপত্তি থাকলে ট্রাকের ভাড়া দিয়ে যায় আমার হাতে?
আমার ঠ‍্যাকা নিজের টাকায় ট্রাক ভাড়া করে তোমার বাড়ি থেকে ওসব নিয়ে আসা?
এগুলোতে আমি থাকবো?আমি ব‍্যবহার করবো?
তাহলে আমার এতো দায় কিসের?
ও বলেছে এজন্য গিয়েছি।এখন ভালো সাজতে চাইছে।এই ছেলে হলো ভীষণ ধূর্ত।দশ বছর সংসার করেও ওর মনের কথা বুঝবেনা।
খামাখা বউয়ের সামনে ভালো থাকতে আমার সঙ্গে রাগ দেখায়।
প্রতিবাদ করলাম না দায়ে পড়ে।ঐ ছেলের সঙ্গে মুখ লাগিয়ে লাভ নেই।অযথা চিৎকার করবে। বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।লোকে ভাববে নতুন বউ এনে পরদিনই ঝগড়া করছি আমি।
এজন্যই ওকে বলার সুযোগ দিলাম।
আর তোমাকেও বলি বউ শোনো,ওতো স্বামী ভক্ত হইয়ো না।কখনো দেখেছো তোমার স্বামী তোমার প্রতি দরধ করেছে?সবসময় তো দেখি ধমকের ওপর রাখে তোমায়।”

মায়ের কথা শুনে আমি মাথা নিচু করলাম।কাকে বিশ্বাস করবো আমি?
শাশুড়িমাকে নাকি নিজের স্বামীকে?
আমার জায়গায় অন‍্য কেউ হলে হয়তো স্বামীর কথাই বিশ্বাস করতো আগে।কিন্তু আমি পারছিনা।কারণ আমি শুনেছি প্রলয়ের ভেতরে নাকি বিশাল প‍্যাঁচ আছে।মাও বলছে এসব।
কোন দিকে যাই আমি?

মা চলে গেলেন।
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।কিছুক্ষণ পর মা আবারো এসে বললেন,”কোথায় কী রাখবে কিছু ভেবেছো?
নাকি পুরোনো গুলোই রাখবে,নতুন গুলো আমায় দেবে?না মানে ওগুলো ব‍্যবহার করে কমফোর্ট আর কী!”

বললাম,”যা একবার ঘর থেকে বেড়িয়েছে আর যা নিয়ে একবার ঝগড়া হয়ে গেছে তা আর প্রয়োজন নেই।
আমি আমার নতুন গুলোই ব‍্যবহার করবো।”

মাকে দেখলাম গোলগোল চোখ করে তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে।
আমি চলে গেলাম রান্নাঘরে।সকলে টেবিলে বসেছে।হাতে হাতে খাবার বেড়ে খেতে দিলাম।ননাস এ বাড়িতেই থাকে ছেলে নিয়ে।স্বামী বিদেশ।
রিপা সহ মা সবাই এক সঙ্গে বসে গেলেন।
মা একবার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,”বসবে নাকি খেতে?”

আমি কিছু বলার আগেই সে মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলে,”ঠিক আছে আমাদের আগে খেতে দিয়ে নাও।প্রলয় আসলে একসঙ্গে খাবে।”

মনে মনে বললাম,আমি কী একবারো বলেছি প্রলয় এলে খাবো?আপনারাই তো পরিবার।আপনাদের সঙ্গেই খেতাম এক টেবিলে।
বাড়ি থেকে সেই কখন খেয়ে এসেছি।ক্ষিদে পেয়েছে আমার।প্রলয় কখন আসবে সেই ভরসায় থাকতে হবে এবার।

তাদের খাবার দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম একপাশে।
ননদকে দেখলাম বেছে বেছে ভালো মাংসের টুকরোগুলো পাতে নেয়।ননাস ভালো মাছটা নেয়।
নেওয়ার পরও শাশুড়িমা আরো বেশি করে পাতে তুলে দিয়ে বলে,”খা বেশি করে।তোদের ভাইতো তোদের জন্যই ইনকাম করে।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

ওরা খেয়ে চলে যায়।
আমি সব খাবার ঢাকা দিয়ে রেখে সোফায় বসে থাকি।বসে থাকতে থাকতে কখন যেন চোখ বুজে গেছে।
প্রায় রাত দুটো নাগাদ ডাক দেয় প্রলয়।হাতে তার খাবারের থালা।আমার হাতে থালা দিয়ে বলে,”ধরুন খেয়ে নিন।”

ঘুমের ঘোরেই হাতে নিলাম।এরপর ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম,প্লেটে বিরিয়ানি,সঙ্গে এক্সট্রা কাবাব। আবার মিষ্টিও আছে দেখছি।
আমার মা আমায় এভাবে গুছিয়ে খেতে দিত।

প্রলয়ের দিকে তাকালাম আমি।
সে চোখ ঘুরিয়ে নিল।।
বললাম,”এগলো কোথায় পেলেন?”

“কোথায় আর পাবো!আমার শশুর দিয়ে গেল।ঘরের ফার্নিচার যেহেতু দিয়েছে,এগুলো আর বাদ থাকবে কেন?”

উনার কথাই কেমন যেন খোঁচা মারা।
আমি চুপ থাকলাম।
উনি তাড়া দিয়ে বলল,”খেয়ে নিন।খেয়ে আমায় উদ্ধার করুন।পতিব্রতা স্ত্রী সেজে আবার না খেয়ে আছে।কে বলেছে আমার জন্য না খেয়ে থাকতে?”

“ আপনি জানলেন কী করে?”

“ক্ষুদার্থ মুখ দেখেই বোঝা যায়।আর টেবিলেও তিনটে এঁঠো থাল।”

উনি বসলেন।
আমি খাবারের থালা রেখে কিচেনে গেলাম।
একজনের খাবার এনেছে।উনার জন্য খাবার বেড়ে তরকারি নিতে গিয়ে দেখি শুধু মাছ আছে।
মাংস,ডিম সবই শেষ।মাছ তাও একপিছ মাত্র।
এই কী দুজনের খাবার?

ঐ মাছটা উঠিয়েই পানি সহ এলাম।
সোফা থেকে উনার আনা খাবারটা উঠিয়ে তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম,”এটা বরং আপনিই খান।আমি ঘরের টাই খাচ্ছি।”

“কেন?নাকি নিজের হকেরটা বাদে পণের টা খেতে পছন্দ করেন আপনি?”

এবার আর চুপ থাকলাম না।
বললাম,”পণ কেউ ইচ্ছে করে দেয়না।আপনারা চেয়েছেন এজন্য দেওয়া হলো।”

“আমরা চাইবো আর দিয়ে দিতে হবে?এসব দিয়ে নিজেদের ধনী প্রমাণ করতে চান?শোঅফ?
শুনুন পণ দিলেই শুধু মেয়ে ভালো থাকবে এটা সবচেয়ে ভুল ধারণা।যেখানে ভালো থাকার,সেখানে একটা সুতো না দিয়েও ভালো থাকা যায়।
পণ হলো একপ্রকার ধ্বংস।লোভের সুত্র।যতো দেবেন,ততো চাহিদা বাড়বে।
আপনি শিক্ষিত মেয়ে।প্রতিবাদ করা উচিৎ ছিল।
যে নিজের মায়ের সুবিধা করে দিতে পারেনা।সে সন্তান হিসেবে ব‍্যর্থ।”

আমি মাথা নিচু করলাম।
উনি আবারো বললেন,”খেয়ে নিন।ভেবেছিলাম আপনাকে আর কিছু বোঝাবোনা না।কিন্তু তবুও আবার বোঝাচ্ছি মায়া লাগলো তাই।
এর বিনিময়ে বাপের বাড়ি থেকে আসার সময় পরবর্তীতে আকাশের চাঁদ নিয়ে আসবেন পণ হিসেবে।না আনলে আমার সম্মান থাকবেনা।
আত্মীয়স্বজন চাঁদ খাওয়ার জন্য বসে আছে শশুর বাড়ির।
মা-বাবাকে বলবেন আজকের ভেতরেই চাঁদে যেতে।”

আমি ফ‍্যালফ‍্যাল করে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে।
উনি মাছ-ভাতের থালাটা হাতে নিয়ে খেতে লাগলো।
এই প্রথম মনে হচ্ছে উনি আমার ভালো চায়।

খাওয়ার মাঝখানে তাকে প্রশ্ন করলাম,”আপনি একসঙ্গে এতো কাজ করেন কী করে?
ব‍্যবসা আবার চাকরি।
অসম্ভব কিছু।”

“ এক্সপার্ট-ইমপোর্টে শেয়ারে আছি মাত্র।সেখানে আমার তেমন খাঁটতে হয়না আরকি।
পারিবারিক ব‍্যবসাটা আমার মূল লক্ষ‍্য।”

“তাহলে চাকরি করেন কেন এতো বড়ো ব‍্যবসা থাকতে?”

“একজনের স্মৃতি ধরে রাখতে।নিজেকে ব‍্যস্ত রাখতে।চাকরিটা আমার না করলেও চলবে জানেন।তবে এই চাকরিটার জন্য একসময় প্রচুর পরিশ্রম করেছিলাম।
আমার প্রথম উপার্জনের রাস্তা এটা।সঙ্গে একজনের স্বপ্ন পূরণের কারিগর।এজন‍্যই ধরে রেখেছে।
চাকরি বাদে বাকিটা সময় চলে যায় ব‍্যবসা সামলাতে।সঙ্গে সপ্তাহিক ছুটির দিন তো আছেই।এছাড়াও আমার ব‍্যবসা ক্ষেত্রে আমার রিলেটিভরাই জড়িত।হেল্প করে তারা।নিজের চাপটা একটু কম।সব মিলিয়ে ব‍্যবস্থা হয়ে যায়।
জানেন সৃষ্টিকর্তা আমার থেকে ভীষণ প্রিয় একটা জিনিস কেড়ে নিয়েছে।প্রতিদান হিসেবে বহুত অর্থ,সফলতা দিয়েছে।যে কাজেই হাত দেই আজ অব্দি সফলতা ব‍্যতিত ঠকে আসিনি।
এজন্য টাকাকেই আপন করে নিলাম।”

“প্রিয় জিনিসটা কী?”

আমার প্রশ্নে উনি থমকে যায়।
খাবারের থালায় পানি ঢেলে চলে যায়।

(ইবুক,,,,,সন্তান হিসেবে শুন‍্য তুমি,স্বামী হিসেবে কলঙ্ক,মানুষ হিসেবে অভিশাপ তুমি,এবার পিতা হয়ে কুৎসিত হইয়ো না।
তাহলে বিলীন হয়ে যাবে তুমি।

পড়ুন ই-বই “আধারে অনন‍্যা”
https://link.boitoi.com.bd/hmWh

মাত্র ৩০ টাকা

(প্রিয়তার পূর্ণতা টাইপ গল্প আরেকটি পড়তে আমার #বড়োজা বইটি কিনতে পারেন মাত্র ২৯৯ টাকায়।
প্রতারিত হওয়া এক নারীর বিষয়ে জানতে পারবেন।

এছাড়াও কম মূল‍্যে মাত্র ৪০ টাকায় ক্রয় করতে পারেন আমার ইবুকটি।যা এই টাইপেরই গল্প।
ক্রয়ের লিংক,,,,https://link.boitoi.com.bd/ndUL
শত্রুতার জের ধরে যেভাবে হত‍্যা করা হয়েছিল তিন মাসের শিশুসন্তানকে।এটা তারই গল্প।)

গল্প নিয়মিত না দেখে আমি ক্ষমা চাইছি।
আমি পারছিনা সবদিক সামলাতে।
এই গল্পটা অধীক কপি হচ্ছে।আপনারা রিয়েক্ট করবেন পড়া শেষে।সকলে যেন আসল লেখিকা খুঁজে পায়।
আমায় আর একটু সময় দিন।এই ঠান্ডা-কাশি থেকে আগে মুক্তি পেয়ে নেই।একটু অনিয়ম হলেও লেখাটা পুরোটাই পাবেন।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply