প্রণয়ের_রূপকথা (৭৭)
সকাল হতেই দীপ্রর ঘুম ভেঙে গিয়েছে। এদিকে কুহুর ঘুম কাটছেই না। কাটবে কেমন করে, মেয়েটি ঘুমোলোই তো কিছু সময় আগে। ও সারারাত দীপ্রর দিকে চেয়েছিল। দেখছিল মানুষটার মুখের গড়ন। সরু নাক। মারাত্মক ঠোঁট। এসব দেখে দেখে ওর আর ঘুম হলো কোথায়? এখন তাই উঠতে পারছে না। দীপ্রর গলা এমন ভাবে জড়িয়ে আছে যে দীপ্র নিজেও পারছে না ছাড়াতে। এদিকে খানিক বাদেই মিটিং আছে। দীপ্র দু হাতে মেয়েটিকে আগলে ধরে ডাকল,”কুহু। উঠতে হবে এখন।”
“উহু।”
ঘুমুঘুমু ভাবে বলল মেয়েটি। ওর মুখটা দীপ্রর গলার কাছে। গভীর ভাবে ডুবে আছে। নিশ্বাস গুলো পড়ছে ছেলেটির গলায়। দীপ্রর উন্মুক্ত শরীরে, তা আরো বেশি মোহ তৈরি করছে। দীপ্রর হাত মেয়েটির পিঠ থেকে ঘাড়ে এসে আটকায়। উন্মুক্ত ঘাড়ে হাত ছুঁইয়ে বলে,”উঠতেই হবে জান। একদমই সময় নেই।”
কুহুকে দু হাতে চেপে ধরেই শোয়া থেকে উঠে বসে দীপ্র। মেয়েটি প্রায় ওর কোলেই এসে পড়েছে। এখনো গলা ছাড়েনি। মুখটাও বুকে লুকানো। দীপ্র আর পারে না। এমন করলে ওর নিজের ও যে নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এই মেয়েটিকে যতই ভালোবাসে, ওর তো কমই লাগে। দীপ্র দম ফেলে। মেয়েটির গায়ে ওর শার্ট। ঢিলে ঢালা শার্টে, আরো বেশি আকর্ষণ দিচ্ছে। এদিকে ঘড়ির কাটা কানে এসে হুংকার তুলে। দীপ্র নিজের লাগাম টানে। কুহুকে ওভাবেই কোলে করে নিয়ে সোজা চলে যায় শাওয়ারে।
দীপ্র তৈরি হচ্ছে। কুহু বসা বিছানার ওপর। ও একটু বেশিই বাচ্চা হয়ে গেছে আজ। নড়াচড়া নেই। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। একদম বাচ্চাদের মতন বসা। চুল গুলোও পুরো শুকায়নি। দীপ্র হেয়ার ডায়ার তুলে দিয়ে বলল,”চুল শুকিয়ে নে। এখনো শীত যায়নি। ঠান্ডা লেগে যাবে।”
কুহু কথা বলে না। ওভাবেই থাকে। দীপ্র আড়চোখে দেখে। ভ্রু কুঞ্চিত করে। কুহু এবার উঠে আসে। ছোট ছোট কদমে এসে দাঁড়ায় দীপ্রর কাছে। ফট করেই ছেলেটির পেট জড়িয়ে ধরে। দীপ্র কী বলবে বুঝে না।
“না গেলে হয় না?”
দীপ্রর এত অসহায় লাগছে। ও কী করবে? এসেছে তো কাজে। কাজ না করলেও যে চলবে না। কুহুর মনটা খারাপ। ওর মনটা এটাকে দীপ্রর বিজনেস মিটিং নয় বরং হানিমুনের অনুরূপ ভেবে নিয়েছে। তাই তো ছাড়তে চায় না মন। দীপ্র আদুরে হাতে মাথায় হাত বুলায়। থুতনি ঠেকিয়ে বলে,”এটা তো হানিমুন নয় রে বোকা। এখন তো কাজ করতেই হবে। কথা দিচ্ছি তোকে, যখন আমরা হানিমুনে আসব, তখন তোকে ছাড়া আর কোনো দিকে যাব না। একদমই না।”
কুহুকে মেনে নিতে হয়। হুট করেই মেয়েটির মন কেমন যেন হয়ে গিয়েছে। ভয়ডর,লজ্জা সব পালিয়েছে। দীপ্র ওর গাল ছোঁয়। বলে,”সন্ধ্যায় বের হব। ততক্ষণ রেস্ট নে। আশেপাশে বের হওয়ার দরকার নেই। কিছু দরকার হলে কল করে নিবি। ঠিক আছে?”
“আচ্ছা।”
ব্যাস এটুকুই ওর জবাব। ও আর কিছু বলে না। দীপ্র বুঝে মেয়েটির মন মানছে না। তবে ও আর সান্ত্বনা দেয় না। বরং বেরিয়ে আসে। যাতে করে কাজের ক্ষতিটা না ঘটে।
দুপুরের দিকে কুহুর নাম্বারে কল এল। কল করেছে রাত্রিপু। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রাত্রি বলল,”হায় আল্লাহ। এত ব্লাশ করছিস কেন?”
কুহু সামান্য তোতলায়। নজর ফিরিয়ে বলে,”এই যা। এত বেশি বলো কেন রাত্রিপু?”
“হুম,হুম। এখন তো বেশিই বলছি। আপনি ব্লাশ করবেন আর বলতে পারব না আমি?”
“ধ্যাত, তুমিও না।”
“আমিও কী? দেখেই কিন্তু বুঝতে পারছি।”
“কী?”
“এই যে, গতরাতে আপনাদের মধুরাত গিয়েছে।”
কুহু লজ্জায় লাল হয়ে যায়। রাত্রি হাসে। বলে,”তখন তো খুব ভাব নিলি। যেতে চাইলি না। আমি কতটা লড়াই করলাম বল তো।”
সত্যিই রাত্রির অবদানের শেষ নেই। কুহুর নারাজিতে, বড়োরা প্রায় সম্মতি দিয়েই দিয়েছিল। রাত্রি যে কীভাবে কী ম্যানেজ করল। ও আসলে চাচ্ছিল দুজন একটু এক সাথে ঘুরে আসুক। যা সময় যাচ্ছে। কখন আবার কী হবে তার ঠিক ঠিকানা নেই। দেখা যাবে বিয়ের আয়োজনেও কোনো গন্ডগোল হয়ে আছে। রাত্রি আজকাল খুব ভয় পায়। দু বোন বেশ কিছু সময় গল্প করে। কুহুর চোখ মুখ, গলা সব কেমন সুখ সুখ। ফোনের এপাশ থেকেও রাত্রি দেখতে পায়, মেয়েটির সমস্ত শরীরে গতরাতের ভালোবাসা মিশে আছে। আসলে মানুষটা যখন ভালোবাসার হয়, তখন তার ভালোবাসা দেয়ার প্রক্রিয়া যেমনই হোক,যতটা কষ্টেরই হোক, তা কেমন যেন সুখে বদলে যায়। রাত্রি বুক ভরে দম নেয়। অরণ্যও ভালোবাসার ক্ষেত্রে মারাত্মক। তবে রাত্রির নিকট তা কখনোই কষ্টের হয় না। বরং সবটা সুখের লাগে। কিন্তু আজ যদি অরণ্যর জায়গায় অন্য কেউ হোতো, রাত্রি আর ভাবতে পারে না। ওর শরীর কেঁপে উঠে। ও অন্য মনস্ক হয়ে যায়। কুহু খেয়াল করে। ডাকে,”এই রাত্রিপু।”
“হুম।”
ধ্যান ফেরে ওর। ও পুনরায় বলে,”শুনছি তো।”
“মনে হলো কোথায় যেন হারালে।”
রাত্রি একটু সময় নেয়। তারপর বলে,”একটা বিষয় মনে এলো।”
“কী বলো তো।”
“আজ যদি অরণ্যর সাথে আমার বিয়ে না হোতো। যদি রাগীব আমার স্বামী হোতো। তবে আমি কীভাবে সব মেনে নিতাম?”
রাত্রির কথা গুলো কুহু বুঝতে পারে। হয়তো তখন পরিস্থিতি অন্য হোতো। তিন কবুলের বড়ো জোর। এটা সব কিছু বদলে দেয়। ওরা দুজন পুনরায় কথা বলতে থাকে। কণা এত সময় দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। রাত্রির কথা গুলো ও শুনেছে। ওর খুব শরীর খারাপ লাগছে। সত্যিই তো, যদি রাগীবের সাথে রাত্রিপুর বিয়ে হয়ে যেত। তখন কণা কী করত? কণা যে তখন ম রে যেত। একদমই ম রে যেত।
আজ বিকেল বিকেলই ফিরে এসেছেন ববিতা। ওনার সাথে এসেছে সাগর ও। এসেই সে বেশ একটা ভাব নিয়ে দাঁড়াল। এদিক সেদিক উঁকি দিতে লাগল। ববিতা ভ্রু কুঞ্চিত করে দেখছিলেন। এবার কাছে এসে দাঁড়ালেন। সাগরের ধ্যান ফিরতেই ও চমকে পিছিয়ে গেল।
“কী?”
দাঁত কেলিয়ে হাসল সাগর। তারপর ই বলল,”না মানে, শুনলাম জেসমিন আইছে।”
“হ্যাঁ, তো?”
“একটু দেখা করতাম আর কি। কতদিন হয় না দেখি না ওরে।”
“কেন? ও না তোর প্রেমিকা হয়?”
“হ। প্রেমিকা হইত। এখন আর প্রেমিকা না।”
ববিতার ভ্রু তখনো কুঁচকে। সাগরই বলল,”আগে তো গিফট দিতে পারতাম। এখন তো পারি না। তাই ব্রেকাপ কইরা ফেলছে।”
ববিতা আশ্চর্য হয়ে পড়লেন। বললেন,”এটা আবার কেমন প্রেম। ও তো তোরে ভালোই বাসে নাই। উপহারের লোভে সম্পর্কে ছিল।”
সাগরের মুখটা শুকনো হয়ে গেল। ও বলল,”প্রেম তো উপহার ছাড়া অয় না কাকি।”
“কে বলল হয় না? শোন, সম্পর্ক কখনো উপহারে টিকে না। টিকে থাকে ভরসায়, ভালোবাসায়।”
সাগর শুনল মন দিয়ে। তারপর বিড়বিড় করে বলল,”ঠিক কথা কাকি। শালীর বেডি আমারে না। গিফটের সাথে প্রেম করছে। ওরে আমি দু পয়সা দিয়েও আর জিগামু না। পরীর মতন মাইয়া বউ বানামু। ও যদি জেসমিন হয় তয় আমার বউ হইব গোলাপ।”
ইদ মোবারক বাচ্চা’রা। সবার ইদ কাটুক আনন্দে, সুস্থতায়, ভালোবাসায়। 🌙
চলবে…
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি
Share On:
TAGS: প্রণয়ের রূপকথা, ফাতেমা তুজ নৌশি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১১
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৪৫
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৬৬
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৫৩
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৩৮
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৪২
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭৩
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭২
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২৭
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭১