Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২১


প্রণয়ের_রূপকথা (২১)

পরেরদিন কুহুর দিন কাটল পুরো বাড়ি ঘুরঘুর করে। আজ সকাল থেকে তার ঘরের পাশে কাজ চলছে। খটখট সে শব্দে ঘরে থাকতে পারেনি সে। সন্ধ্যার দিকে লোক গুলো চলে যেতেই ও এসেছিল একটু ঘুমিয়ে নেবে বলে। কিন্তু সেই ঘুমটুকু আর হলো না। হৈ হৈ করে ঘরে প্রবেশ করল কুঞ্জ। বাচ্চাটাকে দেখলেই কুহুর মায়া হয়। আদর করতে ইচ্ছে করে। এই বাড়ির সবথেকে সরল মানুষটা কুঞ্জ। ওর মধ্যে বাকিদের মতন হিংসা নেই। নেই স্বার্থ। কুঞ্জ এসেই গাল ভরাট করে হাসল।

“কুহুপু, কুহুপু। দারুণ খবর আছে।”

“দারুণ খবর?”

“হুম,হুম।”

মাথা কাত করে জানাল কুঞ্জ। কুহু হাসল। বলল,”কী খবর রে কুঞ্জ? তোর জন্য কোনো মেয়ে টেয়ে এল নাকি রে? জানিস তো, পাশের বাসার মেয়ে গুলো তোকে খুব পছন্দ করে। আমাকে দেখলেই ওরা তোর কথা বলে।”

কুঞ্জর গাল দুটো একটু রঙিন হলো। কুহু হেসে বলল,”তা কী খবর রে?”

“রাত্রিপু এসেছে।”

“রাত্রিপু এসেছে?”

“হ্যাঁ।”

“আমাকে তো বলল না।”

“সাথে আবির ভাইও এসেছে।”

“আবির ভাই এসেছে?”

বিস্ময়ে কুহু দাঁড়িয়ে গেল। কুঞ্জ বলল,”হ্যাঁ। জানো,আবির ভাইকে কি হ্যান্ডসাম লাগছে। বিদেশে থাকলেই বুঝি সবাই সুন্দর হয়ে যায়? দীপ্র দাদাভাইয়ের মতন?”

শেষ কথায় কুহু ছোট করে তাকাল। কুঞ্জ বরাবরই কথার টোন দীপ্রর দিকে আনে। দীপ্রকে এত ভালোবাসে ও।

নিচে নেমেই অভিমান ঢেলে দিয়ে কুহু বলল,”বাহ, বাহ। আমাকে জানাও ই নি।”

রাত্রি হেসে ফেলল ওর কথায়। অদূর থেকে আবির বলল‍,”আমিই মানা করেছি।”

“ওয়াও। তাহলে তো ষোলো কলা পূর্ণই হলো।”

“সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।”

“ওসব কথায় মানব না।”

“আহা, এভাবে রাগ করে নাকি? এতদিন পর এলাম। একটু তো কনসিডার কর।”

এ কথায় কুহু একটু দমল। ও জবাব দেয়ার পূর্বেই বাড়িতে প্রবেশ করতে করতে দীপ্র বলল‍,”কে কী কনসিডার করবে? শালা, আসবি যে আমাকেও জানালি না?”

দীপ্র আর আবির মুখোমুখি হলো। হেসে দীপ্রকে জড়িয়ে ধরল আবির।

“ভাই, তোদের সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য বলিনি। রাগ করিস না।”

“আচ্ছা রাগ করলাম না। কী খবর বল‍?”

“চলছে বেশ ভালো।”

“ফুপু-ফুপা এল না?”

প্রশ্নটা রাত্রির দিকে চেয়ে করল দীপ্র। রাত্রি তখন কুহুর সাথে দাঁড়ানো।

“কাল আসবে। আজ বাসায় গেস্ট আছে। ভাইয়ার তর সইছিল না। তাই চলে এলাম আজই।”

“ভালোই হয়েছে। জমিয়ে গল্প করা যাবে।”

বলে হাসল দীপ্র। কুহু এদিকেই চেয়ে ছিল। আনমনেই চেয়েছিল। দীপ্রর হাসি খানা সুন্দর। কেন যেন ওর চোখে লাগল। ও নজর ফিরিয়ে নিতেই কণা এসে পাশে দাঁড়াল। ফিসফিস করে বলল,”আবির ভাইকে দারুণ লাগছে রে আপু। তুই দীপ্র ভাইকে না চাইলে অন্তত আবির ভাইকে ট্রাই কর না প্লিজ। আয়ানাপুকে আমি একদমই ভরসা করি না। কখন না আবার আবির ভাইকে ধরে টানাটানি শুরু করে।”

পাশেই ছিল রাত্রি। ওর কথা শুনতে পেয়ে মুখ টিপে হাসল। কুহু ধমকের সুরে বলল‍,”তোর মাথায় সব সময় এগুলোই ঘুরে? ভাইয়াকে সাইয়্যা বানানোর ইচ্ছে আমার নেই। তুই ট্রাই কর।”

“হ্যাঁ রে কণা, চাইলে ট্রাই করতে পারিস। আমার ভাই কিন্তু সুন্দর।”

বলে পুনরায় হাসল রাত্রি। কণা হতাশার মতন করে বলল,”ছোট বলে চান্স নিতে পারছি না। বড়ো হলে ঠিক ঠিক ট্রাই করতাম।”

ওদের কথার মাঝে আগমন হলো আয়ানার। ও এসেই ঢং শুরু করল। আবির বলল,”বাপ্রে, আয়ানাকে তো চেনাই যাচ্ছে না। পুরোপুরি গ্রামের মেয়ে হয়ে গিয়েছিস রে।”

আয়ানার গায়ে সালোয়ার কামিজ ছিল। আজই পরা হয়েছে। গ্রামের মেয়ে কথাটা শুনে আয়ানা নাক ছিটকাল।

“ছি, গ্রামের মেয়ে? সত্যিই গ্রামের মেয়ে লাগছে আমাকে?”

ওর ছি বলার ধরনটা সবারই চোখে লাগল। ও নিজেও বোধহয় বিষয়টা বুঝতে পারল। পরিস্থিতি বদলের প্রয়াসে বলল,”না মানে, আমাকে গ্রামের মেয়ে লাগবে এটা ভাবতেই কেমন যেন লাগছে।”

“গ্রামের মেয়ে কি খারাপ হয় নাকি আয়ানাপু?”

ফট করেই বলে ফেলল কণা। আয়ানা একরাশ বিরক্ত হলো। একটু চিবিয়ে চিবিয়ে বলল‍,”তুই কি ঝগড়া করতে চাস কণা? আমি সেরকম কিছু মিন করে তো বলিনি।”

“তোমার কথার ধরনেই তো বোঝা যায়।”

আয়ানার রাগ হলো। ইচ্ছে হলো ঠাস করে মেয়েটাকে চড় বসাতে। দীপ্র কণ্ঠের স্বর বদলে বলল,”যে যার ঘরে যাও। ওরা মাত্র এসেছে। ফ্রেশ হোক। তারপর আড্ডা দেয়া যাবে।”

মায়ের কানের কাছে এসে ঘ্যানঘ্যান করতে লাগল আয়ানা। আবিদা বিশাল বিরক্ত।
“থামবে তুমি?”

“থামব কেন? কণাকে আমি আসলেই চড় মা রব। পরে আমাকে কিছু বলতে পারবে না।”

“মা রো। মানা করেছে কে? পরে দীপ্রকে হারালে কান্নাকাটি করতে আসবে না।”

এই এক জায়গাতেই আটকে যেতে হয় আয়ানাকে। ওর কান্না পায়। রাগ হয়। ও ঠোঁট কামড়ে বলে,”ঐ মেয়েটা আমার সাথে এমন কেন করে? ওর সমস্যা কী? আমাকে দেখতে পারে না। একদমই না।”

“তুমিও দেখতে পারো না। দুজনেই সমান সমান।”

“তুমি আবার ওদের সাপোর্ট করছো।”

“সাপোর্ট করছি না। বাস্তবতা দেখাচ্ছি।”

“দেখতে চাই না এমন বাস্তবতা। আমি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। ভালো লাগে না।”

বলে চোখের পানি হাতের তালুতে মুছে নেয় আয়ানা। তারপর যেতে থাকে নিজের ঘরের দিকে। যেতে যেতে চোখ যায় ছাঁদের সিঁড়ির দিকে। কুহু ব্যস্ত পায়ে ফোন হাতে নিয়ে ছাঁদে ওঠে চলেছে।

আয়ানা এসে দাঁড়ায় সিঁড়ির কাছে। ছাঁদ অন্ধকার। কাজের সময় ছাঁদের লাইট কেটে গিয়েছে। লোক গুলো লাগাবে লাগাবে করে আর লাগায়নি। কুহু ফিসফিস করে কথা বলছে। ভালো করে শোনা যাচ্ছে না। আয়ানা এবার আরো বেশি করে মনোযোগ দিতে যায়। ঠিক তখনই নিচ থেকে পায়ের শব্দ ভেসে আসে। কেউ আসছে। ও সর্তক হয়। অন্ধকারের মধ্যে লুকানোর জায়গা খুঁজতে থাকে। সিঁড়িতে বেশ কটা ড্রাম রাখা। চাল রাখা সেগুলোতে। উপায় না পেয়ে দুই ড্রামের মাঝে সংকীর্ণ যে খালি জায়গা টুকু সেখানেই লুকিয়ে পড়ে। অন্ধকার আর তাড়াহুড়োতে হাতে বেশ অনেকটা ব্যথাও লাগে। ছাঁদের দরজা চাপানো ছিল। তা খুলে রাত্রি এগিয়ে যায়। কুহু ওকে দেখে বলে উঠে,”ঝামেলায় পড়েছি রাত্রিপু। বড়ো ঝামেলায় পড়েছি।”

রাত্রির চোখে মুখে চিন্তার ছাঁপ। আয়ানা খালি জায়গা থেকে বের হয়ে আসে। হাতে অনেকটা ব্যথা পেয়েছে। ও ঠোঁট কামড়ে সামনের দিকে এগোয়।

“এভাবে ঘামছিস কেন?”

“রাত্রিপু, রাত্রিপু।”

কুহুর কণ্ঠ কাঁপছে। রাত্রি ওর বাহু টেনে ধরে। “কুহু। সব ঠিক আছে?”

“আমার ভয় লাগছে রাত্রিপু। ভয় লাগছে আমার।”

“ভয় কেন লাগছে? কী হয়েছে বোন?”

কুহুর গলাটা শুকিয়ে আসে। ও কেঁদে ফেলে শব্দ করে। রাত্রি দু হাতে মেয়েটিকে জাপটে ধরে।

“ভয় পাচ্ছিস কেন কুহু? বল আমায় কী হয়েছে? বল কী হয়েছে?”

“তুমিও আমাকে ভুল বুঝবে। আমি খারাপ রাত্রিপু। আমি খারাপ।”

কাঁদতে থাকে কুহু। রাত্রি বুঝে না কী বলবে। এভাবে না কথা শুনে কোনো মন্তব্যও করতে পারছে না।
“ভুল কেন বুঝব? তুই বল না কী হয়েছে। কী করেছিস?”

কুহুর গলা শুকিয়ে আসে। ও শুকনো ঢোক গিলে বলে,”সায়ের, সায়ের আমাকে মে রে ফেলবে। মে রে ফেলবে আমায়।”

ছেলেটা সম্পর্কে জানে রাত্রি। ও ভ্রু কুঞ্চিত করে বলে,”ওর সমস্যা কী?”

“পাগল হয়ে গিয়েছে। সম্পর্ক না করলে বাড়িতে সব বলে দেবে।”

“কী বলবে?”

এবার কুহুর কান্নাটা আরো বেড়ে গেল। ওর কান্নাটা রাত্রিকে ভাবিয়ে তুলল। রাত্রি ভয়ার্ত গলায় বলল‍,”কী ভুল করেছিস কুহু?”

“পালাতে চেয়েছিলাম রাত্রিপু। পালাতে চেয়েছিলাম আমি।”

সহসাই কথাটা বলে ফেলল কুহু। রাত্রি বিস্ময়ে কথা হারিয়ে ফেলল। কুহু কান্নায় ভেঙে পড়ল। বসে পড়ল মেঝেতে।

| পর পর দুদিন গল্প। আমার পাঠকদের জন্য আশ্চর্য রকম এর সারপ্রাইজ হলো। সবাই মন্তব্য করবেন। সুন্দর সুন্দর। আরো একটা বিষয় যারা মিস করেছেন দেখে নিন চটপট 👇

চলবে…..
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply