Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১১


প্রণয়ের_রূপকথা (১১)

রাত বিরেতে আলোচনা চলছে। আয়ানার বাবা আনোয়ার বেশ চিন্তিত। সেই সাথে রাগান্বিতও বোধ করলেন।
“দীপ্রকেই কেন পছন্দ করতে গেলে তুমি? আমার মাথাটা খারাপ করে দেবে। যদি দীপ্রর সাথে কুহুর বিয়ে হতো। তখন কী করতে?”

“বিয়ে তো হয়নি বাবা। তাহলে এ কথা কেন আসছে?”

“যদি হতো?”

“জানি না। আমি হয়তো খু ন করে ফেলতাম।”

“চুপ একদম। যা তা কথা বলবে না।”

বাবার ধমকে আয়ানা মিইয়ে গেল। আবিদা হতাশ কণ্ঠে বললেন,”এখন কী করবে?”

“বিষয়টা কোন দিকে যাবে খেয়াল করেছ? কুহুর সাথে বিয়ের ব্যাপার ওঠেছিল। সব ঠিক ঠাকই তো চলছিল। এখন যদি আয়ানা সেই জায়গায় আসে। তখন বিষয়টি কতটা খারাপ হয় বলো তো।”

কথাটা পছন্দ হলো না আয়ানার। ও দাঁড়িয়ে গেল। রাগ দেখিয়ে বলল,”তখন থেকে একই রকম কথা বলছো বাবা। কুহু এখানে কেন আসবে? দীপ্র দাদাভাই নিজেই তো বিয়ে ভেঙেছে।”

“তুমি ছোট মানুষ। চুপ করে থাকো।”

“সেই, ছোট মানুষ। ছোট মানুষ। থাকো তোমরা। ভাতিজির জন্য দরদ উতলে পড়ে।”

বলে গটগট শব্দে স্থান ত্যাগ করে আয়ানা। আবিদা চিন্তিত সুরে বলে,”খেয়াল করেছ? ওর জেদটা মারাত্মক। এমন তো আগে করেনি।”

আনোয়ার ভারী চিন্তায় পড়লেন। আবিদা আবারো বললেন,”মাথা কাজ করছে না। এখানে আসাই ঠিক হয়নি। জানি না কী করবে। আমার সংসারে অশান্তি না হোক।”

বলে তিনিও ওঠে চলে গেলেন। রয়ে গেলেন আনোয়ার একা। তিনি সমগ্র বিষয়টা নিয়ে ভেবে চলেছেন। এই ভাবনার মধ্য ওঠে এসেছে দীপ্র’র ব্যক্তিত্বও। ছেলেটা অল্প বয়সে দারুণ সব কাজ করেছে। করে চলেছে। সব মিলিয়ে মেয়ে জামাই হিসেবে দারুণ চয়েজ হবে। কিন্তু কুহুর ব্যাপারটা যে ভাবিয়ে তুলে। এখানে এসেই আটকে যেতে হয়। পরিস্থিতি বড়ো জটিল।

জ্বর একটু নেমেছিল। বৃষ্টিতে ভিজে সেটা আবার বাড়িয়েছে কুহু। সকাল সকাল তার অবস্থা আরো নাজেহাল হলো। ও একটা ঔষধ খেয়েছিল। তবে তা কাজে দিচ্ছে না। নাশতার টেবিলে অল্প একটু খেয়ে চলে এসেছে। এরই মধ্যে খবর এল দাদিজান নাকি ডেকেছেন। কুহুর শরীর একটুও নড়তে চাচ্ছে না। তবে না গিয়েও যে উপায় নেই। ও ওঠল ধীর পায়ে। তারপর অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই ছোটার চেষ্টা করল। যেন কেউ না ধরতে পারে।

“আসব দাদিজান?”

বৃদ্ধা বরাবরের মতনই তসবিহ পাঠ করছিলেন। কুহুকে দেখে বললেন,”আয়।”

ছোট কদমে ভেতরে প্রবেশ করল কুহু। বসল দাদির পাশে। দৃষ্টি ফেলে সামান্য হাসল।

“মন খারাপ নাকি?”

“না তো।”

“হাসার মধ্যে কেমন সুখ নাই।”

“সুখ তো হারিয়ে গেছে দাদিজান। বাবা চলে যাওয়ার পরই সব হারায় গেছে।”

দাদিজান আবার তসবিহ পাঠ করলেন। তারপর বললেন,”হায়াত মউত তো আমাদের হাতে নাই কুহু।”

“বিয়েটাও আমাদের হাতে নাই,তাই না দাদিজান?”

এ কথায় বৃদ্ধা একটু থামলেন। উত্তর করলেন না। কুহু মাথাটা নামিয়ে বললেন,”মায়ের দোষ নেই। আমিই চাই না দীপ্র ভাই আমার দায়িত্ব নিক।”

কুহু জানে, তাকে কী বলা হবে। তাই তো আগেভাগেই নিজের কথাটি জানাল। বৃদ্ধা একটু সময় নিয়ে বললেন,”পরিস্থিতি কিন্তু ভালো না কুহু। তোর মায়ের হাতে কিচ্ছু নাই। কাদের এত ভালো মানুষ ছিল যে নিজের সব রোজগার স্কুলটার পেছনে দিয়ে দিছে। হয়তো বুঝেনি এত দ্রুত চলে যেতে হবে। না হলে একটা পথ করে যেত।”

বলে দাদিজান আপসোস করলেন। কুহু বলল,”এটা নিয়ে তো আমাদের কখনো দ্বিমত ছিল না দাদিজান। আমরাও চেয়েছি স্কুলটার উন্নয়ন হোক।”

“দীপ্র দায়িত্ব নিলে কী সমস্যা বল তো আমায়। তোর মায়ের জন্য চাপ হবে সব সামাল দিতে। তুই শহরে গিয়ে পড়াশোনা করছিস। সেটার খরচা কীভাবে দেবে বল তো?”

কুহু মাথাটা নামিয়ে ফেলল। ছোট করে বলল,”দায়িত্ব মানেই কী টাকা দেয়া দাদিজান?”

কুহুর কথার মানে বুঝলেন না বৃদ্ধা। তিনি তাকিয়ে রইলেন। কুহু বলল,”তিনি যে আমাকে অপমান করলেন। সেই বেলায় কারো কোনো যায় আসে না? আমার কি আত্মসম্মান নেই?”

এ কথার জবাব আসলেই দিতে পারলেন না বৃদ্ধা। কুহু কেমন অভিমান করে বলল,”আপনি যে আপনার নাতিকে বেশি ভালোবাসেন। তা প্রমাণ হয়ে গেল।”

ওর অভিমান দেখে হেসে ফেললেন বৃদ্ধা। মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,”পাগল রে। তোকেই বেশি ভালোবাসি।”

“সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। যদি তেমনই হয়, তবে ওনার থেকে সাহায্য নিতে বলবেন না। আমি দয়া নিতে চাই না।”

“এটাকে দয়া মনে হলো তোর?”

কুহু জবাব দিল না। দাদিজান ছোট করে নিশ্বাস ফেলে বললেন,”তুই যা বলবি তাই হবে। তোর বাবা চাইত না বাপ দাদার সম্পত্তি বিক্রি করতে। সেই জন্য এত কষ্ট করে গেল জীবনে। সে তো নেই। এখন চাইলেই বিক্রি করা যাবে। তখন আর সমস্যা হবে না।”

কুহু বিরোধ করে বলল,”তেমন কিছুই হবে না দাদিজান। আমরা বিক্রি করব না কোনো কিছুই। বাবা যা চাইতেন। যা করতেন। তাই হবে।”

বলে কুহু নিজের বক্তব্য রাখল। বৃদ্ধা বললেন,”খরচা কীভাবে জোগাড় করবি তাহলে?”

“একটা কিছু করে নেব। আপনি চিন্তা করবেন না। শুধু দয়ায় বাঁচতে বলবেন না।”

বলেই দাদির হাত খানা ধরল কুহু। বৃদ্ধার বয়স হয়েছে। শরীরে ঢিল এসেছে সেই কবেই। আজকাল শুধু মৃ ত্যু র অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করে। দুনিয়ার মোহ এখন কেটে গিয়েছে। এখন মৃ ত্যু ই সবথেকে রহস্যময় ও সুন্দর মনে হয়।

একই সময় ডাকা হলো দীপ্রকেও। ছেলেটাকে দেখে এক পাশে গিয়ে দাঁড়াল কুহু। দাদিজান বললেন,”তোমার দায়িত্ব কমে গেল দীপ্র।”

দীপ্রর চেহারায় একটা কঠোর ভাব এল। বৃদ্ধা বললেন,”কুহু তোমাকে দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছে।”

এবারও কথা বলল না দীপ্র। দাদিজান ছোট করে নিশ্বাস ফেলে বললেন,”শোনো, আমি জানি বিষয় গুলো জটিল হয়েছে। তবে দুজন সম্পর্ক ঠিক করে নেবে। কী নেবে তো?”

কুহুর দিকে তাকালেন বৃদ্ধা। ও জবাব না দেয়াতে দীপ্র এবার বলল,”দাদিজান, আমি সম্পর্ক ঠিক রাখতে চাচ্ছিলাম। সেই জন্যই দায়িত্ব নিতে চেয়েছি। সেটা অস্বীকার করে বরং সম্পর্ক নষ্ট করা হলো।”

“কুহুর কাছে এটা অসম্মানজনক মনে হয়েছে। তাই সে নাকোচ করেছে।”

এবার দীপ্র পাশ ফিরে চাইল। কুহু একদম স্থির। চোখের পলকও বোধহয় পড়ছে না।

“এখানে অসম্মানজনকের কী হলো? ছোট একটা মানুষ। তার কথায় আপনারা কি শুরু করলেন দাদিজান।”

এবার প্রতিবাদ করে ওঠল কুহু। বলল,”আমি ছোট নই।”

বিরক্তি নিয়ে পুনরায় তাকাল দীপ্র। কুহু এক হাতে নিজের জামা খানা চেপে ধরল।
“আপনি দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমি বলেছি প্রয়োজন নেই। বিষয়টা এই অবধিই।”

“ও আচ্ছা। ঠিক আছে। দাদিজান আমি আসছি।”

বলেই চলে গেল দীপ্র। বোঝা গেল তার খুব রাগ ওঠেছে। দাদিজান চিন্তিত বোধহয়। তবে কুহু নিজের কথায় অটল। সে বড়ো সাহস করে কথা গুলো বলেছে। তাই কোনো নড়চড় নেই এই সিদ্ধান্তের।

| কাল, পরশু, তরশু আমার পরীক্ষা। সবাই দোয়া করবেন। আর মতামত জানান সুন্দর করে। |

চলবে…
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply