প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||২৯||
ফারজানারহমানসেতু
রোজা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো ওই জায়গায়। চোখের সামনে নিজের ফোনটা ভাঙা, নিস্তেজ, নিঃশব্দ। যেন ওটা শুধু একটা ফোন না…তার ছোট্ট একটা জগৎ, যেটাকে কেউ এসে এক মুহূর্তে ধ্বংস করে দিল। হাত কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা তুলে নিল রোজা । স্ক্রিনে ফাটল ধরেছে, মাঝখান দিয়ে কালো দাগ নেমে গেছে। মানে এর আর কাজ নেই! আজ থেকে সে রোজার থেকে মুক্তি নিয়েছে এমন অবস্থা। রোজার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। শখের জিনিস হারানোর কষ্ট। ইদানিং রোজার অতিপ্রিয় জিনিস হোক বা মানুষ সব মনে হচ্ছে দূরে চলে যাচ্ছে।
“এটা কি করলেন আপনি…?”
গলার স্বর যেন রাগ, কষ্ট, অপমান সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে ধাবিত হচ্ছে।
কিন্তু আশ্চর্য, অপর পক্ষের কোনো উত্তর নেই। আশেপাশে তূর্জান তখন আর নেই। সে চলে গেছে। তার কাজ করে সে গেছে। একবারও ফিরে তাকায়নি। কি এমন বলেছে রোজা যে তার ফোন ভাঙতে হলো। রোজা ঠোঁট কামড়ে ধরল। যেন কান্নারা না প্রকাশ পায়। তবুও চোখ ভিজে উঠছে।
“পাগল… একদম পাগল!”
নিজের মনেই বলে উঠল।কিন্তু আজকের “পাগল” শব্দটার ভেতরে আগের মতো মজা নেই। আজ সেখানে রাগ ছিল। আর অদ্ভুতভাবে,একটু ব্যথাও ছিল। বাগানের হালকা বাতাসটা এখন আর ভালো লাগছে না। চারপাশের ফুলগুলোও কেমন যেন নিষ্প্রাণ মনে হচ্ছে। রোজা ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল।
তার মনে শুধু একটা কথাই ঘুরছে,“কেন?রোজা কি এমন বলেছিল?শুধু মজা করেছিল! তাহলে তূর্জান এমন আচরণ করল কেন? তার কি অধিকার আছে? না কি এই.. এই “অধিকার”টাই রোজা বুঝতে পারছে না? ওইদিকে তূর্জান নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। মাথাটা প্রচণ্ড গরম হয়ে আছে । শ্বাস ভারী হয়ে আসছে। হাত দিয়ে চুলে টান দিয়ে আওড়াল,“নিজেকে কন্ট্রোল কর, তূর্জান…”
কিন্তু চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে, রোজার সেই কথা, “ সুন্দর একটা ছেলের ছবি। পৃথিবীর কোনো ছেলেই নিশ্চই তার প্রিয় মানুষের ভাগ কাউকে দিবে না। আর না তো প্রিয় মানুষের মুখে অন্য কারোর নাম শুনতে চাইবে…”
তারপর আবার জোক করছিল,“আর বিদেশে গিয়ে আরও বারো-তেরোটা…”
ভাবতেই তূর্জানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
সে জানে,রোজা সিরিয়াস না। ওগুলো যাস্ট ফান ছিল,কিন্তু তবুও তার বুকের ভেতর আগুন কেন জ্বলছে?কেন মনে হচ্ছে,কেউ তার নিজের জিনিসের উপর হাত দিয়েছে? তূর্জান জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।দূরে আকাশটা মেঘলা।
হালকা বাতাস বইছে। গোধূলির স্লান আলোয় চারিদিকে মায়া মায়া একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কবির ভাষায় এই সময়টাকেই সবচেয়ে মনোরঞ্জিত পরিবেশ ধরা হয়। হয়তো এই আলোতে দাঁড়ালে ব্যক্তি তার জীবনের অধিকাংশ সুখ উপলব্ধি করতে পারে।
কিন্তু তূর্জানের ভেতরের ঝড় থামছে না। নিজেকেই প্রশ্ন করল তূর্জান,“আমি কি করছি?একটা ফোন…শুধু একটা ফোন ভেঙে দিল তূর্জান! তাও কোনো কারণ ছাড়া। রোজা তো ভীষণ কষ্ট পেয়েছে ফোন ভাঙাতে।তূর্জান কি তার প্রেয়সীকে বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলল। রোজা তার জিনিস নিয়ে কতটা সেনসিটিভ। হালকা করে চোখ বন্ধ করল তূর্জান।
“তুই ওকে কষ্ট দিলি, তূর্জান নেওয়াজ। যাকে ছাড়া অচল অবিচ্ছেদ্য এক অপরিণত অংশ তুই!“
একটু থেমে আবার বলল, “ তবে আর না, না তোকে আর কষ্ট পেতে দেবো। না তো তোকে এখন থেকে পুরোটা একা ছেড়ে দিবো! আমি বড্ডো সুযোগসন্ধানী রোজা, নিজের প্রিয় জিনিস আটকে রেখে নিজের করতে আমি ভালো করে জানি! আপনার স্বাধীনতা শেষ মিসেস তূর্জান নেওয়াজ।”
ওইদিকে রোজা রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
বিছানায় বসে ফোনটা কোলে রাখল। হালকা করে আঙুল দিয়ে স্ক্রিনে ছোঁয়া দিল,কোনো রেসপন্স নেই। চোখের কোণে জমে থাকা জল এবার বাধ ভেঙে গড়িয়ে পড়ল। ধীরে ধীরে বলল রোজা, “এটা আমার প্রথম ফোন…”
তারপর হঠাৎ,তূর্জানের মুখটা মনে পড়ল।
রাগী চোখ…চুপচাপ কণ্ঠ…আর সেই অদ্ভুত অধিকারী আচরণ। রোজা চোখ মুছে ফেলল।
“আমি কেন কাঁদছি? পাষান লোক পারে তো শুধু অন্যের জিনিস নষ্ট করতে! ওনাকে তো আমি..!“
থেমে আবার বিরবিরালো, “ওনার কি যায় আসে?ওনি কে আমার ফোন ভেঙেছে তাতে তো উদ্ধার করে ফেলেছে আমাকে ?”
কথাগুলো বললেও নিজের কাছেই বেখেয়ালিপনা মনে হলো। কি থেকে কি বলছে মাথায় সমস্যা হয়ে গেলো না কি ওই লোকটার জন্য?মনের ভেতর থেকে উত্তর আসল না।ঠিক তখন দরজায় নক পড়ল।তুবার কণ্ঠ।“রোজা?”
রোজা দ্রুত চোখ মুছে বলল,“আস…”
তুবা ভেতরে ঢুকেই থেমে গেল।“এই কি রে এই অবস্থা কেন তোর ?আর আমি সেই কখন থেকে গার্ডেনে খুজছিলাম তোকে। এখনে এসে বসে আছিস কেন?”
রোজার হাতে ভাঙা ফোন দেখে চোখ বড় বড় হয়ে গেল।“কে করেছে এটা?”
রোজা একটু চুপ করে রইল। তারপর ধীরে বলল, “ একটা করে প্রশ্ন কর একটা করে উত্তর দেই! একের পর এক প্রশ্নের ঝড় তুলছিস কেন? “
আর ফোনের এই অবস্থার জন্য দায়ি তোর ভাই…”
তুবা নিঃশ্বাস ফেলে বিছানায় বসে পড়ল।“আমি জানতাম তোর ফোন ভাইয়া ছাড়া আর কে ভাঙবে? আচ্ছা বাদ দে এখন ঝটপট বলে ফেল কেন ভেঙেছে?”
রোজা খাইখাই দৃষ্টি নিয়ে তুবার দিকে তাকিয়ে বলল,,“মানে?”
তুবা একটু হেসে বলল,“ভাইয়ার রাগটা আমি চিনি! তাই বললাম আরকি..কিন্তু তুই কি বলেছিলি?”
রোজা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,“ কিছু না… যাস্ট মজা করেছিলাম…”
“কি মজা?”
“রিলেশন নিয়ে…”
তুবা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে হেসে উঠল। বিছানায় বালিশ নিয়ে স্বস্তি নিয়ে বসে হাসতে হাসতে বলল,“তুই মরেছিস…”
রোজা বিরক্ত হয়ে বলল,“এইটা তোর কাছে হাসির বিষয়?তোরা দুই ভাই বোনই পাগল!”
তুবা মাথা নাড়ল,“ সে যাই বলিস। কিন্তু তুই কিছু কথা, বা আবেগ এখনো বুঝিস না…”
“কি বুঝি না?”
তুবা একটু কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,“ভাইয়া তোর ওপর সিরিয়াস…”
রোজা স্থির হয়ে গেল। জ্বোরে চিল্লানি দিয়ে বলল,“কিহহ?”
“ আরে ভাই আস্তে! পুরো কথা শোন, মানে হলো..?”
তুবা এবার একটু সিরিয়াস হয়ে বলল,“রোজা, তুই ভাবছিস ভাইয়ার রাগটা এমনি? কিন্তু না… এটা পজেসিভনেস। ভাইয়া পরিবারের সবার প্রতি পজেসিভ।”
রোজার বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠল।
“পজেসিভ…? শব্দটা তার মনে বারবার ঘুরতে লাগল।না… এটা হতে পারে না। তূর্জান কেন এতো পজেসিভ হবে? নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল সে। রোজা বলল,“ কিন্তু ওনি তো…”
“ভাইয়া তো এমন না তাই মনে হচ্ছে তোর?মনে হচ্ছে ভাইয়া ইচ্ছে করে তোর ফোন ভেঙেছে তোকে কষ্ট দেওয়ার জন্য …”
রোজা হালকা মাথা ঝাকালো। যার মানে রোজা সত্যিই ভেবেছে তূর্জান শুধুমাত্র রোজাকে কষ্ট দিতে রোজার ফোন ভেঙেছে।তুবা হালকা হেসে বলল,“মানুষ বাইরে যেমন দেখায়, ভেতরে তেমন থাকে না সবসময়। ভাইয়ার ক্ষেত্রেও তেমন, ভাইয়া নিজের অনুভূতি হোক বা সামান্য মাথা ব্যাথা সেটাও সবার থেকে এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে।”
সন্ধ্যার দিকে পুরো বাড়িটা আবার ব্যস্ত হয়ে উঠল।কিন্তু আজ একটা অদ্ভুত টান টান ভাব আছে।রোজা তূর্জানের সামনে পড়া এড়িয়ে চলছে। এখন অবশ্য কারণটা রাগের বা ভুল বোঝাবুঝির নয়। এখন এড়িয়ে চলার কারণটা হলো রোজার কাছে তূর্জান নেওয়াজ কে মাফ চাইতে হবে। ফোন ভাঙার কারণে নয় হঠাৎ রেগে যাওয়ার কারণে। ফোনের কথা মিরানকে বলার পর বলেছে ফোন আবার কিনে দেবে। যদিও রোজার ভালোই হয়েছে আবার নতুন ফোন পাবে। কিন্তু তূর্জান কেন হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাবে? এভাবে ভাঙচুর করবে? যদিও তুবা রোজাকে বুঝিয়েছে। কিন্তু রোজা তো রোজাই এসব ভেবে বসে আছে। আর তূর্জানকে এভোয়েড করছে।
আর তূর্জান,সে ইচ্ছা করেই সামনে আসছে না। সেও দেখবে কতক্ষন এমন প্যাচার মতো মুখ করে রাখে? দুজনই দূরে তবুও একজন আরেকজনকে অনুভব করছে। এই কয়েকঘন্টা কথা না বলেই মনে হচ্ছে কতদিন কথা বলেনা। যদিও ব্যাপারটা রোজার কাছে ঝগড়া করতে পারছে না বলে এমন মনে হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? রোজা কি ঝগড়া করার জন্যই ওই পাথরমানবের সাথে কথা বলতে চায়ছে। চায়ছে তূর্জান এসে রোজার সাথে কথা বলুক!
রাতে ডিনারের পর রোজা ছাদে উঠে গেল। রোজার অদ্ভুত ফিল হলেই ছাদে চলে যায়। ছোটবেলার অভ্যাস এটা। আজকে আকাশে চাঁদ নেই,কিন্তু হালকা তারা আছে। বাতাসটা ঠান্ডা।
সে রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।তুবা ছাদে যেতে গেলেই মিরান দৌড়ে এসে পথ রোধ করল। যেন তুবা উপরে গেলেই কিছু অণর্থ হয়ে যাবে। মিরানের এমন আচরণ দেখে তুবা রেগে বলল, “ কি সমস্যা? এমন পথ আটকে দাড়ালে কেন? “
মিরান দুহাত বাড়িয়ে বলল, “ দেখছিলাম হাত কতবড় হয়েছে! তা আমি একা দেখে বুঝতে পারছি না। একটু দেখে বল তো কত বড় হয়েছে।”
“ কেন তোমার অনন্যার কি হয়েছে? তার কাছে গিয়ে হাতের মাফ নিয়ে এসো। “
“ এটা অবশ্য খারাপ বলিস নি! কিন্তু এখন তুই মেপে দেখ। “
“ রাগাবা না মিরান ভাই! বিরক্ত লাগছে কিন্তু!”
“ তোর ভালো লাগলো কবে? জীবনে কোনোদিন বলতে শুনলাম না আজকে আমার ভালো লাগছে। এই দৈনিক তো এই এককথাই বলিস।”
“ সর তো সামনে থেকে। “
মিরান যেন একেবারে গো ধরে আছে আজ তুবার সাথে ঝগড়া করবে। তুবাকে আরেকটু উস্কে দিয়ে বলল, “ তুবু বুড়ি,,,
“ একদম এইসব নামে ডাকবে না বলে দিলাম । “
“ আচ্ছা সরি, তুবা মহিলা…
বলতেই তুবা হাতে থাকা পানির বোতলের ক্যাপ খুলে পানি মিরানের গায়ে ঢেলে দিল। মিরান হকচকিয়ে গেলেও পুরো পানি নিজের গায়ে পড়ল না। বাকি পানি তুবার মাথায় গিয়ে জায়গা করে নিল। মিরান তুবার হাত থেকে বোতল নিয়ে পানি ঢেলে দিয়েছে। দুজনেই কিছুটা ভিজে গেছে। তুবাকে রেগে তাকাতে দেখে মিরান আমতা আমতা করে বলল, “ তুবুবুড়ি, বিশ্বাস কর আমার দোষ নেই!”
“ তাহলে দোষ কার আমার? “
“ হুমম! না মানে..!হ্যাঁ.. না।”
“ কি মানে? মানে? করছো। বিরক্ত! সরো তো, তোমার সাথে কথা বলার ইচ্ছে নেই। “
বলেই ছাদে উঠতে গেল। মিরান কি করবে? এই মেয়ে এমন কেন? দেখছে ছাদে যেতে দিবে না জন্য এমন আটকানো হচ্ছে, তাও কেমন বেয়ানাপনার মতো ছাদে ছুটতে চাচ্ছে। তুবার হাতে হ্যাচকা টান লাগতেই তুবা পিছনে তাকালো। মিরান হাত ধরেছে, মিরানের দিকে প্রশ্নবোধক তাকাতেই মিরান বলল, “ তুবুবুড়ি,থেমে যা। ছাদে ভাইয়া আছে।
প্রথম বাক্য শুনে অদ্ভুত অনুভূতি হলেও পরের বাক্য শুনে কেমন অনুভূতিরা পালালো মনে হলো। হাহ তবে কি করার? তুবা এখন নিজেই কনফিউশনে আছে। এই লোক ফোনে এতভালো কথা কি করে বলতে পারে? ফোনে কথা বলা মানুষটাকেই তুবা ভালোবাসে এই মানুষটাকে নয়। ফোনে মিষ্টি সূর দিতে পারে অথচ সামনে থেকে খ্যাচখ্যাচ করে। তুবা আর কথা বাড়ালো না। পিছে গিয়ে রুমের উদ্দেশ্যে হাটা ধরল।
হঠাৎ পেছন থেকে কণ্ঠ ভেসে আসলো
“ফোনটা কি নিবেন ম্যাডাম? ”
রোজা চমকে তাকিয়ে দেখল তূর্জান।
সে চুপচাপ দোলনায় বসে আছে। ফোন স্কল করছে। কিন্তু ওনি কখন এলো ছাদে। ভাবতেই মনে পড়ল। রোজা ছাদে আসার সময় আজ দরজা খোলা পেয়েছে। মানে রোজার আগে তূর্জান ছাদে এসেছে। ইশ! রোজা ছাদে এসে সেই তারা খোজায় ব্যাস্ত হয়েছে। তূর্জান নিশ্চই ভেবেছে রোজা পাগল। নয়তো আধাঘন্টা পার হয়ে গেলো রোজা জানতেই পারেনি সে বাদেও ছাদে আরেকজন আছে।
তূর্জানকে দেখবেই বা কেমন করে? সেই তো আধারে বসে আছে। তূর্জানের চোখের দিকে তাকাতেই দেখল আগের মতো কিছু নেই। আর থাকলেও বা কি? রোজার দ্বারা ওই রহস্যে ঘেরা চোখ পরা সম্ভব না। রোজা তো ঠিকই করেছে চোখের দিকে আর তাকাবে না। ওই বাদামি রঙা চোখ কেমন সুস্থ মানুষকে মাতাল করতে সক্ষম। রোজা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ মনে হলো তূর্জানের চোখে একটু ক্লান্তি আছে। তবে রোজা কিছু বলল না।
তূর্জান ধীরে ফোনের স্কিন থেকে চোখ সরিয়ে তাকালো রোজার দিকে। বলল, “ গত এক ঘন্টা যাবত, আপনার আশায় বসে আছি। যদি এদিকে একটু এগিয়ে আসতেন। “
রোজা কথা বললো না। রোজা তো আগেই ওই কণ্ঠ আর চোখের উপর উষ্ঠা খেয়েছে। শুধু তা এড়ানোর জন্য ঝগড়া করতো, তাও মনে হচ্ছে আর হবে না। এবার প্রেমে পড়বেই। রোজাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তূর্জান আবার বলল, “ আপনি আমার কাছে আসবেন? নাকি আমি আপনার কাছে আসবো? “
“ মানে? “
“ এদিকে এগিয়ে আসতে বলেছি না। এদিকে আয়। “
ছ্যাহ! এইমাত্র এই লোকের উপর ফিদা হচ্ছিলো। আপনি আপনি বলার স্টাইলটা তো ভালোই ছিল, এই তুই এনে তা লন্ডভন্ড করে দিলো। রোজা দোলনার দিকে এগোতেই তূর্জান পাশে বসতে বলল, রোজা বাধ্য মেয়ের মতো তূর্জনের পাশে বসল। তবে ঠিক করেছে চোখের দিকে তাকাবে না। তূর্জান একটা ব্র্যান্ডের ফোন রোজার হাতে ধরিয়ে দিল। ফোনটা দামি সাথে এক্সক্লুসিভ দেখতে। পুরাই জোশ! এক্সাইটমেন্টে রোজার তো নাচতে মন চাচ্ছে। কিন্তু যতই হোক তূর্জান নেওয়াজের সামনে তা করা যাবে না। রোজার দিকে তাকিয়ে বলল, “ পছন্দ হয়েছে? নাকি চেঞ্জ করতে হবে? “
রোজা উত্তর না দিয়ে বলল, “ পছন্দ কার? আপনার? “
“ হুমম! কেন? “
“ নাহ এমনি, আপনার পছন্দ ভালো। “
বলেই রোজা জিভ কাটলো। অন্য দিকে ঘুরে বিরবির করলো, “ যাক আপনার বউয়ের কপালে একটা জিনিস ভালো হবে। আপনার পছন্দ বেষ্ট।”
“সরি…”একটা শব্দ।কিন্তু সেই শব্দে কেমন যেন ভারী অনুভূতি। রোজা তাকিয়ে রইল তূর্জানের দিকে ।
“আপনি… সরি বললেন?”
তূর্জান হালকা হেসে বলল,“হ্যাঁ… ভুল করলে সরি বলতেই হয়। সরি যাস্ট একটা ওয়ার্ড। বাট এটা দিয়ে হাজার অভিমানের পাহাড় ভাঙা যায়। আমার একটা সরি যদি বিপরীত মানুষের অভিমান ভোলাতে পারে তবে তা আমার জন্য ছোট হবে না। বরং আমাকে তা দ্বিগুন অনুশোচনা থেকে মুক্তি দেবে। প্রিয় জিনিস বা মানুষ ধরে রাখতে গেলে একটু আরটুক সরি বললে কিচ্ছু হয় না। “
রোজা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।রোজার চুপ থাকার মাঝেই তূর্জান এক কাজ করে ফেলল। রোজার কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ল দোলনায়।
রোজা হকচকিয়ে গেলে তূর্জান নিজেই
বলল,” আমি ফ্রিতে কাউকে কিছু দেইনা। ফোন পেয়েছিস এবার আমার মাথা ম্যাসেজ কর। একজন দশবছর আগে থেকে বড্ডো জ্বালাচ্ছে মাথায় এসে, তারপর মাথা থেকে হৃৎপিণ্ডে অবস্থান করেছিলো। এখন দুটোই তার দখলে কিন্তু সে কিছু বুঝতেই চায় না। তাই তার শাস্তিটা তোকে দিলাম।
ইনশাআল্লাহ চলবে…
সরি… আসলে অসুস্থতার জন্য কথা দিয়েও কথা রাখতে পারিনি।
আমার পেইজ লিংক Farzana Rahman Setu
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৮
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৯
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৬
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৯
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৮
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৮
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৪