প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||২৩||
ফারজানারহমানসেতু
রিক্সাটা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। রাতের বাতাসে হালকা ঠান্ডা ভাব। রাস্তার দুইপাশে আলো ঝলমল করছে। দূরে কোথাও চায়ের দোকানে আড্ডা চলছে, আবার কোথাও দোকান বন্ধ করার শব্দ। আজ রোজাদের ফিরতে একটু বেশিই দেরি হয়ে যাচ্ছে। রোজা রিক্সার একপাশে বসে আছে। মুখে খুব একটা ভাব নেই। কিন্তু মাথার ভেতরে যেন যুদ্ধ চলছে।
“এই একমাস মিষ্টি করে কথা বলবো! ধুর! এরে দেখলেই তো জ্বালানোর ইচ্ছে উঠে যায়। ”
সে চোখের কোণ দিয়ে তূর্জানের দিকে তাকাল।
তূর্জান চুপচাপ সামনে তাকিয়ে আছে। তার মুখে স্বাভাবিক গাম্ভীর্য। যেন পাশে কেউ বসেই নেই।
রোজা মনে মনে বলল,“এই লোকের মুখটা এমন করে রাখে কেন? যেন সবসময় কেউ তার একশো টাকা ধার করে পালিয়ে গেছে!”
হঠাৎ তূর্জান বলল,“কিছু বললি?”
রোজা চমকে উঠে বলল,“না তো!আমি কি বলবো?”
তূর্জান ভ্রু তুলে তাকিয়ে বলল,“তোর মুখ নড়ছিল।”
রোজা দ্রুত বলল,“আমি গান গাইছিলাম।”
তূর্জান শান্তভাবে বলল,“তোর গলা এত আস্তে যে গান না ভূতের ফিসফিসানি বুঝা যায় না।”
রোজা দাঁত চেপে বলল,“আপনি কি সব সময় মানুষকে খোঁচা দেন?”
তূর্জান মনে মনে বলল, “ পাশে বউ রেখে মানুষকে খোঁচাতে যাবো কেন? “
রোজা তূর্জানকে চুপ থাকতে দেখে মনে মনে বলল, “ ধৈর্য ধর রোজা, ধৈর্য ধর। বাজি মনে রাখ। একে জ্বালানোটা একমাস পর থেকে আবার শুরু করবি, ততদিন ধৈর্য ধর!”
তারপর রোজা হঠাৎ মিষ্টি গলায় বলল,“আপনি ক্লান্ত তূর্জান ভাই ?”
তূর্জান একটু অবাক হয়ে তাকাল।এই মেয়েকে রাতে আবার ভূত টূত ধরল না কি? এর মুখ দিয়ে আজ এত ভালো কথা বেরোচ্ছে। তাও শান্ত গলায় বলল,“না।”
রোজা আবার বলল,“আজ তো অনেক হাঁটলেন।আমার ড্রেস কেনার জন্য! তাই জিজ্ঞাসা করলাম!
তূর্জান এবার কপাল কুঁচকে তাকাল রোজার দিকে, বলল, “তুই ঠিক আছিস তো?”
রোজা বিরক্ত হয়ে বলল,“কেন? আমার আবার কি হবে ?”
“কারণ তুই আজ অতিরিক্ত,অস্বাভাবিকভাবে ভদ্র।”
রোজা মনে মনে বলল,“হায় আল্লাহ! শুরুতেই ধরা পড়ে গেলাম নাকি!রোজা প্রথম দিনেই বেশি স্মার্ট সাজার চেষ্টা করিস না।”
রোজা গলা পরিষ্কার করে বলল,“মানুষ কি সবসময় একরকম থাকে নাকি?”
তূর্জান ঠান্ডা গলায় বলল,“তুই থাকিস। কিন্তু আজ নেই! রহস্য কি? কি কারণে আজ এত স্বাভাবিক?”
রোজা এবার চুপ করে গেল, না প্রথম দিনেই বেশি হয়ে গেছে। এখনো উনত্রিশ দিন। রোজাকে চুপ করে এক কোনায় সরে বসতে দেখে তূর্জান বলল,” কি রে, এভাবে সরে যাচ্ছিস কেন? হেটে যাবি? রিক্সা থামাতে বলব? “
বলতেই রোজা আরো সরে বসল। ঠিক তখনি রিক্সা উচু কিছুতে বাধতেই রোজা হোচট খেয়ে পড়তে গেল সামনের দিকে। তবে পাশে তূর্জান নেওয়াজ থাকতে তার প্রেয়সী পড়বে কেমন করে। ঠিক কোমড়ে এক হাত পেচিয়ে ধরে ফেলল। রোজাকে ঠিক করে বসিয়ে দিতেই রোজা বলল, “ এভাবে সাপের মতো কোমড় পেচিয়ে ধরে আছেন কেন? আমার কোমড়ের হাড় ভেঙে গেল!”
“ ও তোর পড়ার ইচ্ছে ছিল। তো আগে বলতি, ধরতাম না! “
বলেই কোমড়ে হাত রেখেই হালকা ধাক্কা দিল। রোজা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তূর্জানের হাত ধরে ফেলল। আগের থেকেও অনেকটা তূর্জানের দিকে সরে বসেছে। ভয়ে হাত এখনো ধরে আছে, দূর থেকে কেউ দেখলে ভাববে, স্ব-ইচ্ছায়, দুজন দম্পতি একে অন্যকে ধরে আছে। যেন ছেড়ে দিলেই, দুজনের পথ আলাদা হয়ে যাবে। আর সেই ভয়েই দুজন একে অন্যের সাথে এটে বসে আছে। রোজা তূর্জানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ এই আপনি পাগল, আমাকে ফেলে দিতে চাইছেন! আমাকে মেরে আমার না হওয়া স্বামীকে বিধবা করতে চাইছেন!”
“ বিয়ে হওয়ার আগেই সে তোর হাজবেন্ড হয় কেমনে? “
“ যেমনে, সেমনেই!”
“ তা তো বুঝলাম, কিন্তু যেভাবে ধরে আছিস। মনে হচ্ছে যেন তোর বাপের কেনা সম্পত্তি আমি!”
“ আপনি আমার বাপের কেনা সম্পত্তি হতে যাবেন কেন? “
“ আমাকে এভাবে ধরেছিস যদি আমার বউ জানে রাগ করবে! সরে বস, আমি তোর জন্য আমার বউয়ের হক নষ্ট করতে পারবো না।”
“ আজব, আমি আপনার বউয়ের হক নষ্ট করলাম কোথায়? “
“ এই যে রিক্সায় আমার পাশে এভাবে হাত ধরে আমার বউয়ের বসে থাকার কথা! সেখানে আগেই তুই রিক্সায় আমার পাশে বসলি, আবার হাতও ধরে আছিস। “
“ আমার ঠেকা পড়ছে আপনার বউয়ের হক নষ্ট করার, আমি শুধু পড়ার ভয়ে হাত ধরেছি। আর আমার আপনাকে বিশ্বাস নেই,একবার ফেলতে গিয়েছেন, আবার কখন সত্যি সত্যিই ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেন! তার থেকে ধরে আছি, ভালো আছি! বাড়িতে যেতে আর একটু পথ, যদি আমাকে ফেলে দিতে চান, তাহলে আপনাকে ধরেই পরবো। আমি একা পড়তে যাবো কেন? “
“ তোর লজিকের প্রশংসা করতে হয়। তবে এভাবে ধরার অপরাধে আমিও একদিন তোর হাজবেন্ডের পাশে আমার বউকে বসিয়ে সারা শহর ঘুরাবো!”
রোজা আর কথা বলল না। শুধু হাত ধরে রইলো আগের মতোই। তূর্জান এতক্ষন বেশ মজাই পেয়েছে, শুধু একটু তার রাগিনি বউকে জ্বালালো তাই আর কি? তার বোকা হরিনী কি শেষের কথাটা বুঝেছে। না বোঝেনি। তার রাগিনী ঝগড়া করার মতো কথা বোঝে, অনুভূতি নিয়ে কিছু বললে বোঝে না। রিক্সাটা ধীরে ধীরে বাড়ির সামনে এসে থামল। ওদিকে মিরান অনেক আগেই পৌঁছে গেছে।
বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ফোনে কারো সাথে কথা বলছে। তাদের নামতে দেখে মিরান তূর্জানের কানে ফিসফিস করে বলল,“ওহো! অবশেষে রাজকুমারী আর তার দেহরক্ষী হাজির!”
মিরান সোজা হয়ে হাসতে হাসতে বলল,“আমি ভাবছিলাম তোমরা হয়তো আবার শপিং শুরু করেছ।”
তূর্জান ব্যাগগুলো নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল।ভেতরে ঢুকতেই তানিয়া নেওয়াজ বললেন,“এত দেরি হলো কেন?”
মিরান নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,“বড় আম্মু, আজ ইতিহাস তৈরি হয়েছে।”
রেহেনা নেওয়াজ বললেন, “আবার কি করলি? নিশ্চই কিছু অঘটন ঘটিয়ে এসব বলছিস? “
“ ওহ আম্মু, আমি কিছু করিনি! আজ বনু নিজের জন্য এতগুলো ড্রেস কিনেছে! এন্ড আজকে বনু তার শপিং কম্পিলিট করেছে।”
রাফিয়া অবাক হয়ে বলল,“সত্যিই ?”
রোজা ব্যাগগুলো সোফায় রেখে বলল, “হ্যাঁ কিনেছি। ভাইয়া তোমার সমস্যা?”
মিরান বলল,“সমস্যা আমার না। সমস্যা তোর, তুই আজ অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছিস।”
মোস্তফা নেওয়াজ বলল, “ তোমরা সবাই আমার মেয়েকে কি পেয়েছো? যার যা ইচ্ছে বলছো। “
রাহেলা নেওয়াজ বলল, “ এই তোরা চুপ কর! মোস্তফার কলিজা নিয়ে মজা করিস না। “
“ মা, তুমি আমাকে খোচা দিলে কেন? “
“ তোরে খোচালাম কই? আজকাল সত্যি কথারও ভাত নাই রে মিরান। “
তাজারুল নেওয়াজ বলল, “ তোমরা সব চুপ করো! রোজা আম্মুর শপিং শেষ হয়েছে এটাই অনেক। “
এইসব কথার মাঝেই তূর্জান চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। সবাই তার বউয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, অথচ সব কেনাকাটা তূর্জান নিজে করেছে। নয়তো রোজার শপিং সারারাতেও শেষ হতো না। তার চোখ হঠাৎ রোজার দিকে গেল। রোজা তখন তুবার সাথে কথা বলছে আর হাসছে।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে পড়েছে। তূর্জান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। ঘেমে থাকা মুখ খুব আদুরে লাগছে। একটু ছুঁয়ে দিলে কি খুব ক্ষতি হবে? ওদিকে রোজা হঠাৎ তাকিয়ে দেখল তূর্জান তাকিয়ে আছে।
তাদের চোখ সেকেন্ডের জন্য আটকে গেল এক গোলকধাধায়। রোজা ভ্রু উচিয়ে বলল, “ কি? “
তূর্জান ইশারায় বোঝালো, চুল ঠিক করতে?
রোজা দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল। তারপর মনে মনে বলল,“হিটলার! এক মাসের মধ্যে আপনাকে আমার কথায় উঠাবো আর বসাবো। দেখবেন শুধু!”
রোজার ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল। আর তূর্জান দূর থেকে সেই হাসিটা দেখেই বুঝে গেল,
“এই মেয়ে মাথায় আবার কিছু পাকাচ্ছে।”
সকালটা নেওয়াজ বাড়িতে আজ একটু আলাদা রকম ব্যস্ততায় শুরু হলো। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে হাঁড়ি-পাতিলের শব্দ, সাথে তানিয়া নেওয়াজ আর রেহেনা নেওয়াজের কথাবার্তা।
রোজা ঘুম জড়ানো চোখে সিঁড়ি দিয়ে নামছিল। চুলগুলো এলোমেলো, চোখ আধা বন্ধ। নামতে নামতেই হাই তুলল। ঠিক তখনই সামনে থেকে তূর্জান উঠে আসছিল। দুজনের হঠাৎ ধাক্কা লাগল।রোজা “উফ!” বলে এক পা পিছিয়ে গেল।
তূর্জান বলল,“সকালে চোখ খুলে হাঁটা যায় না?”
রোজা চোখ কচলাতে কচলাতে বলল,“আপনি সকালে সামনে কেন?আর ফোনের ভিতরে গিয়ে হাটছেন না কি?”
তূর্জান ভ্রু কুঁচকে বলল,“ ফোনের ভিতরে গিয়ে হাটছি মানে? “
“ ফোনের দিকে তাকিয়ে হাটছেন কেন? “
“ এমনি, আর সিঁড়ি কি তোর একার? না তোর একা হাটার অধিকার, আর কারো নেই? তাই হাত পা ছড়িয়ে হাটছিস!”
রোজা মুখ বাঁকাল। তারপর হঠাৎ মনে পড়ল,বাজি! এই বাজি সে জিতবেই! রোজা বাজিতে আজ পর্যন্ত হারে নি! আর এই বাজিতে হারবে অসম্ভব !সে দ্রুত গলা নরম করে বলল,
“সরি…”
তূর্জান থমকে দাড়াল যেন, বলল, “কি বললি? আবার বল? শুনতে পাইনি।”
“সরি।”
তূর্জান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল রোজার দিকে। তারপর ধীরে বলল, “ আজ সূর্য কোন দিক থেকে উঠেছে? না কি আমি ভুল জায়গায় এসে গেছি?”
রোজা দাঁত চেপে জোর করে হাসল। হাসি আসবে কোথা থেকে রোজার তো এই লোকের মাথা ফাটাতে ইচ্ছে করছে! তাও বলল,“মানুষ ভুল করলে সরি বলতেই পারে।”
তূর্জান মাথা নেড়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। হুমম! আমি শিওর আজ বাড়িতে অন্য কিছু ভর করেছে।
রোজা মনে মনে বলল, “এক মাস… শুধু এক মাস সহ্য কর রোজা, তারপর তোর দিন ওই হিটলার ব্যাটাকে জ্বালানোর ।”
রোজা নিচে নামতেই দেখল মিরান সোফায় বসে মোবাইল ঘাঁটছে।সোফায় বসতেই রোজাকে দেখে মিরান বলল,“ওহ! ঘুমকুমারী উঠেছেন, তা আজ এত সকালে? কোনো মিশন টিশন আছে না কি !”
রোজা বলল,“ ভাইয়া চুপ করো।”
মিরান চোখ ছোট করে বলল,“ বনু আজ তোর গলা এত শান্ত কেন?”
রোজা বলল,“আমি সব সময়ই শান্ত।”
মিরান রোজার কথা শুনে যেন হাসির কোনো জোকস শুনল মনে হলো। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেয়ে বলল,“ বনু বিশ্বাস কর, তোর এই কথা শুনলে পৃথিবীর মানুষ হাসতে হাসতে অজ্ঞান হয়ে যাবে। তুই শান্তসৃষ্ঠ্য আর বিড়ালের মাছ না খাওয়ার গল্প এক মনে হচ্ছে। “
রোজা এই কথাটাও গিলে নিল। যাই হয়ে যাক বাজিতে হারা যাবে না। পরে সবাইকে দেখে নিবে হুহ!ঠিক তখনই আরাজ দৌড়ে এসে বলল,
“ফুপি! আজ আমাকে স্কুলে তুমি নিয়ে যাবে!”
রোজা বলল,“কেন?”
“কারণ ছোট কাকু গেলে বকাবকি করে।”
মিরান বলল,“ এই রোজার চামচা, আমি তোকে কবে বকা দিলাম?”
আরাজ গম্ভীর হয়ে বলল, “হ্যাঁ। তুমি আমাকে বকেছো!”
“ কবে বকা দিলাম তোকে? “
“ সেদিন মিস বললো হোমওয়ার্ক করোনি ভালো করেছো! তুমি আমাকে বকা দিলে। “
সবাই হেসে উঠল। এরা ছোট থেকে বড় সবাই পারেও বটে!
এই সময় তানিয়া নেওয়াজ এসে বললেন,” রোজা চা টা তূর্জানকে দিয়ে আয় তো মা! আর আসার সময় তুবাকে ডেকে নিয়ে আসিস। এসে ব্রেকফাস্ট করে নে। “
রোজা আজ খুব শান্তভাবে চায়ের কাপ নিয়ে তূর্জানের রুমে গেল। তূর্জান বেলকনিতে রাখা সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করছে।রোজা তূর্জানের রুমের সামনে গিয়ে নক করল। ভিতরে থেকে তূর্জান আসতে বললে,কয়েক সেকেন্ড দরজার দিকে তাকিয়ে থেকে ভিতরে গেল। তূর্জানের দিকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে,কি ভেবে মিষ্টি গলায় বলল,“আপনার চা তূর্জান ভাই?”
তূর্জান হাত থেমে গেল। আজ তার উপর শনি চলছে। ল্যাপটপের স্যাটার বন্ধ করে তূর্জান ধীরে বলল,“তুই ঠিক আছিস?”
রোজা হেসে বলল,“হ্যাঁ।”
“জ্বর এসেছে নাকি?”
রোজা দাঁত চেপে বলল,“আমি শুধু আপনার চা দিতে আসলাম। বড় আম্মু বলল তাই!”
তূর্জান বলল,“ চা লাগবে না। তুই বরং একটু পর রেডি থাকিস ডক্টরের কাছে যাবো। “
“আপনি ডক্টরের কাছে যাবেন, তো আমি গিয়ে কি করবো?”
“ আমি যাবো না। তোকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো। “
রোজা মনে মনে বলল,“ধুর! মানুষটা কথা বললেই রাগ উঠে।”
ওদিকে তূর্জান চুপচাপ বসে রোজার দিকে তাকাচ্ছিল। আজ রোজার আচরণ পুরো বদলে গেছে।এত ভদ্র?এত শান্ত? তূর্জানের মনে সন্দেহ হলো। মনে মনে বলল, “এই মেয়ের মাথায় নিশ্চয়ই কিছু উল্টো পাল্টা চলছে…”
আর ঠিক তখনই রোজা তূর্জানের সামনে রাখা সোফায় বসে পড়ল। তূর্জানকে বলল, “ আপনি চা খাবেন না! ভালো কথা! আমিই খাই। “
বলেই চা খেতে শুরু করল। চা খেতে খেতে বলল, “ এটা আপনার চা নাকি গরম পানি? এর থেকে পানি গরম করে খাওয়া বেশি ভালো?
তূর্জান তাও কোনো কথা বলছে না দেখে রোজা মনে মনে বলল,“প্রফেসর তূর্জান নেওয়াজ… প্রস্তুত হন। খেলা শুরু হয়েছে। আমি আপনার চায়ের মতো কিছুদিন পর আপনার জীবনটাও খেয়ে ফেলবো।”
তূর্জান রোজার চা খাওয়া দেখে,কপালে আঙুল স্লাইড করতে করতে বলল, “ আমার চা তুই খাচ্ছিস কেন? আমার এখন ইমিডিয়েটলি চা লাগবে!”
“ এ্যাহ! আপনিই তো বললেন, চা লাগবে না। এখন আবার বলছেন চা লাগবে!”
“হুমম! এখনি লাগবে!”
“ ওকে, দাড়ান! দুইমিনিটে চা এনে দিচ্ছি। “
“ নিচে গিয়ে যেতে আসতেই তোর আধাঘন্টা। “
বলেই রোজার হাত থেকে কাপ এক চুমুক নিয়ে বলল, “ চায়ে অতিরিক্ত চিনি চিনি লাগছে, তুই আমার সুগার বাড়ানোর জন্য ঠোঁটে কি লাগিয়ে চায়ে চুমুক দিলি। তোর ধান্দা কি সত্যি করে বলতো? “
“ আপনার কাছে এই চা অতিরিক্ত মিষ্টি লাগছে? এই চায়ের থেকে পানি খাওয়া ভালো!”
“ তাহলে কি তুই, নিজে ভালো চা টুকু খেয়ে তোর ঠোঁটের লাগানো মধু টদু দিয়ে আমাকে চা দিলি না কি? এই তুই আবার আমাকে মারতে টারতে চাচ্ছিস না কি?“
রোজা নিজেই যেন নিজের ফাদে পা দিলো। আসলো একটু জ্বালাতে এসে নিজেই জ্বলে যাচ্ছে। রোজাকে চুপ থাকতে দেখে তূর্জান
বলল,” তবে যাই বলিস,তুই আবার আমার বউয়ের হক নষ্ট করলি! আমার কাপ থেকে তার চা খাওয়ার কথা তুই আগে খেলি। এর শাস্তি…
তূর্জানের কথা শেষ হওয়ার আগেই রোজা বলল, “ আপনার বউকে আমার হাজবেন্ডের কাপ থেকে চা খাওয়াবেন তাই তো!”
তূর্জান মনে মনে খুশিই হলো। যাক তার বউ রিক্সায় বলা কথা না বললেও শুনেছে। তূর্জান বলল, “ হুমম! পুরো এককাপ দুজনকে দিয়ে খাওয়াবো!”
ইনশাআল্লাহ চলবে…
আমার পেজ লিংক Farzana Rahman Setu
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৯
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৬
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৯
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২০
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৮
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৪
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২১