Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১১


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||১১||

ফারজানারহমানসেতু

পরদিন সকালটা স্বাভাবিক শান্তই ছিল। কিন্তু সেই শান্তির ভেতরে চাপা কিছু লুকিয়ে ছিল যে আগুন কারও চোখে ধরা পড়েনি, শুধু দু’জনের ভেতরে ধীরে ধীরে জ্বলছিল।
রোজা খুব ইচ্ছে করেই আজ দেরিতে উঠেছে। কাল রাতের ছাদের কথাগুলো মাথায় ঘুরছে। যদিও সব কথা শোনেনি। আর পুরো কে না শুনে কাউকে কিছু বলা ঠিক না। তবে তূর্জান যে তার বাবাকে,, “ তোমাকে কাকা শশুর বানাবো!” হতেও পারে অন্য মেয়ের কথা বলেছে। রোজা একটু বেশিই ভাবছে। তবে এই কথাটা কানে লেগে আছে। কেউ কিছু বললেই এমন হয়,, মনে হয় তাকে নিয়ে কথা বলেছে? আর এটাও এক ধরনের রোগ। এসব ভেবে আবার নিজেই মনেমনে বলল,”আমি কি কোনো প্রজেক্ট নাকি? যে বাবার সাথে মিলে তূর্জান ভাই বাজি ধরবে? “

নিচে ডাইনিংয়ে আজ সবাই একটু দেরিতে জড়ো হয়েছে। তূর্জান আগেই বসে আছে। সামনে চা। চিনি কম চায়ে। চোখ শান্ত, কিন্তু সেই শান্তির নিচে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
রোজা আসতেই তূর্জানের চোখ একবার তাকালো রোজার দিকে । মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তারপর আবার নামিয়ে নিল।

মিরান ফিসফিস করে তুবার কাছে বলল,
“ এই তুবু আজকে আবহাওয়া এত ভারী কেন?”

তুবা রেগে বলল,” আমার নাম ঠিক করে বলবা। “

মিরান নাটকীয় ভাবে বলল,“তুবা বুড়ি আজকে আবহাওয়া এমন কেন?”

তুবাও সেভাবেই বলল,“ মিরান ভাই আজকে ঝড় আসবে।”
রোজা চুপচাপ গিয়ে বসলো। আজ সে তূর্জানের বিপরীতে বসেছে। ইচ্ছে করেই বসলো।
তূর্জান হালকা গলায় বলল,“ কারো কমনসেন্স নেই তার জন্য বড়রা আজ বসে আছে,, এত দেরি হলো কেন ?”

রোজা বড়দের দিকে তাকিয়ে বলল,, “ সরি, কাল রাতে দেরি করে ঘুমিয়েছি তো তাই!”

তানিয়া নেওয়াজ বললেন, “ পিকনিক তো দশটার দিকে শেষ হয়ে গিয়েছিলো রোজা!”

রোজা কিছু বলার আগেই তুবা বলল, “ আম্মু রোজার অনেক দিনের এসাইনমেন্ট বাকি ছিলো,, আর আমাদের ভার্সিটিতে নাকি নতুন প্রফেসর যোগ হবে। তাই প্রিন্সিপাল বলছে সব এসাইনমেন্ট শেষ করে জমা দিতে। আর রোজা সেগুলোই রাতে করেছে!”

তানিয়া নেওয়াজ ও বলে আবার কিচেনে গেলেন। তূর্জান আবার বলল, “ তাহলে সবাইকে বলা উচিত ছিলো। এত দেরি হলো!”

রোজা কাঁটাচামচ তুলে তূর্জানের দিকে তাকিয়ে কিরমিরিয়ে বলল,” ভাই আমার প্রত্যেকটা ব্যাপার নিয়ে তোর এতো সমস্যা কেন? তু্ই ব্যাটা দুইদিন এসে কাজিনদের কেই এমন ট্রিট দিচ্ছিস, তাহলে তোর বউয়ের কপালে কি আছে ওই আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানে। “

তবে মুখে বলল,“আমার সময়, আমি ঠিক করবো।”
তূর্জান বলল,“আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করলাম।”

“তূর্জান ভাই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক না।কিছু প্রশ্নের উত্তর নিজে খুজে নিতে হয়।”

টেবিলের পরিবেশ একটু থমকালো। এরা খাওয়ার সময় ও তর্ক করছে। এরা মিলে গেলে বাড়িতে একটা ডাক্তার, উকিল, আর পুলিশ রাখা লাগবে। মারামারি করবে, ডাক্তার চিকিৎসা করবে। পরে পুলিশ কেস জারি করবে, উকিল সব মিটমাট করবে।

তাজারুল নেওয়াজ তূর্জানকে বললেন,“ তোমার বন্ধুরা এসেছে বিডি ঘুরতে,, আর তুমি তাদেরকে কোথাও নিয়ে যাচ্ছ না। আজকে বিকেলে সবাই বাইরে যাবে, রিভার সাইডে। নতুন অতিথিরা নদী দেখতে যাবে।”

আ্যমেলা উচ্ছ্বসিত,“ইয়েস আঙ্কেল আপনি ঠিক ধরেছেন ! আমরা আজ রিভার সাইডে যাবো। আই লাইক রিভার !”

মিরান চুপিচুপি তুবাকে বলল,“নদীর ধার মানেই ড্রামা, আজকে দুলাভাইয়ের ড্রামা দেখবো। কি বলেন বেয়াইন।”

তুবা শুনে ভ্রু কুঁচকালো। বোন থেকে বেয়াইন। এ কেবল মিরানের দ্বারাই সম্ভব।

তুবাও কম না, সে বলল,“ড্রামা হলে হবে আমার ভাই আর ভাবির আপনি দূরে থাকবেন বেয়াই।”

মিরান হালকা হেসে বলল,“সবাই পারে না দূরে থাকতে পারে না বেয়াইন।”
তুবা এবার সরাসরি তাকাল।বলল,“তুমি কি বলতে চাইছো মিরান ভাই ?”

“যা বোঝার, তুই বুঝেছিস ।”

“তুমি ধরে নেও সবাই তোমাকে বুঝে?”

“না। কিন্তু তুই একটু তো বুঝিস।”

“অভার কনফিডেন্স ভালো না মিরান ভাই। আমি কিন্তু অনন্যা নামে ওই আপুকে চিনি, তোমার সব কথা বলে দিবো।”

“ জানিস পৃথিবীতে সবথেকে খারাপ কাজ হলো নিজের কথা কাউকে শেয়ার করা। শেয়ার করলেই তারা সেইটা নিয়ে মজা করে। “

“ মিরান ভাই তুমি রেগে যাচ্ছো? “

“ না বোন, আমি হাসছি দেখ, আমার মুখে তুই হাসি দেখতে পাচ্ছিস। “

★★

বিকেলে নদীর ধারে সবাই গিয়েছে। হালকা বাতাস, পানির ঢেউ, আকাশে সাদা মেঘ। দৃশ্যটা একদম শান্ত, যার ভিতরে হাজারো অনুভূতি্য জোয়ার ভাসছে। কিন্তু আবার শান্ত দৃশ্যের ভেতরে ঝড় জমছে।
রোজা, আ্যমেলা, তুবা আর আলিশার সাথে হাঁটছে। তূর্জান, অনিল আর মিরান একটু পেছনে।

হঠাৎ আ্যমেলা আলিশা কে বলল,“ আপু আমি একটু সামনে যাচ্ছি ছবি তুলতে, তুমি যাবে? “

আলিশাও গেল। রোজা তুবার সাথে দাঁড়িয়ে রইল। তূর্জানকে রোজাদের দিকে যেতে বলে মিরান বলল,,” দুলাভাই, বাপের উপরে গিয়ে চান্স দিচ্ছি আপনাকে । জিতে আসেন দেখি কতো পারেন আমার বাপের অতি যত্নে দশ বছরে মানুষ করা মিসাইল থেকে।জানি আজকে আপনি জিতবেন না। কারণ আমার বাপের সঙ্গে বলা আপনার কিছু কথা এই মিসাইল শুনে ফেলছে। তাও দেখেন কি করতে পারেন? “

মিরানের সাথে অনিলও সায় দিল।” যা ব্রো, তোর বউয়ের থেকে জিতে আয়। আজকে না জিততে পারলে বাসায় যাবো না। যতক্ষণ তোর ছোট্ট বউ না হাসে ততক্ষন বাসায় যাওয়া বয়কট!”

এরা যে এত পাগল তূর্জান হয়তো জানতো না। অনিল একজন সিক্রেট অফিসার হয়েও এমন পাগলামো করে জানলে লন্ডনের সরকার অনিল কে এতদিনে হসপিটালে ভর্তি করতো নিশ্চিত। তবে তূর্জানও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়।

তূর্জান বলল, “ অনিল আমার শালাকে একটু আদর যত্ন কর, বিল আমি দিবো।ততক্ষন আমি আসছি। তবে বলে গেলাম আজ বউয়ের রাগ না ভাঙানো পর্যন্ত বাড়িতে যাবো না। “

বলেই এগিয়ে গেলো।তা দেখে তুবা অন্য বাহানায় দূরে গিয়ে আ্যমেলার কাছে দাড়াল।

তূর্জান আজ কালো প্যান্টের সাথে অফ হোয়াইট শার্ট পড়েছে। চোখে রোদ চশমা। দেখতে মাশাআল্লাহ। রোজা অলিভ কালারের গাউন, সাথে হিজাব পড়েছে। ঠোঁটে হালকা লিপবাম ছাড়া কোনো প্রসাধনীর ব্যবহার নেই। তবে উজ্বল ত্বক অলিভ কালারে অনেক মানিয়েছে।

তূর্জান প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে বলল,“এড়িয়ে চলা কি নতুন শখ তোর? নাকি আমার সাথেই এমন ?”

“আপনার পিছু নেওয়া কি পুরোনো অভ্যাস, নাকি আমার পিছু নিচ্ছেন শুধু ?”

“আমি পিছু নেইনি, তুই দাড়িয়ে পড়েছিস।”

“ তাতে আপনার কি? আপনি ও ওখানেই দাড়িয়ে পড়তেন!”

“ তুই এমন বাকা কথা কোথায় শিখেছিস? সোজা কথা মুখ থেকে বেড়োয় না? “

“ না, তাতে আপনার কি? “

তূর্জান বিরবির করল, “ সব কিছুতেই বলছিস আমার কি? আরে তুই সম্পূর্ণটাই আমার। সবার বউ কি সুন্দর স্বামীর সাথে কথা বলে, তুই ভুলে গেছিস এইটা মানলাম, কিন্তু একটু সোজাসুজি কথা তো বলতে পারিস। তোর থেকে সিরিয়ালের নায়িকা ভালো!”

তবে মুখে বলল, “ একটু ন্যাকামো শিখে নিস তো।”

“ কেন,আর আমি সিরিয়ালের মতো ন্যাকা নায়িকা হতে পারবো না।ন্যাকামো করে কারোর ভালোবাসা পাওয়ার আশাও নেই। আমি তো ভিলেনী হবো, কি সুন্দর ত্যাড়া কথা বলে!”

“ ভিলেনী কি সুন্দর ত্যাড়া কথা বলে। তুই ভালো না হইলে তোর স্বামীর কপালে দুঃখ আছে!”

“ থাকলে আছে, আর আমার স্বামীর কপালে দুঃখ থাকলে তাতে আপনার কি? “

তূর্জান বিড়বিড় করলো, “ হায়রে কপাল আমার, বউ আমার কপালে দুঃখ দিবে, আবার আমারে বলে আপনার কি? বাহ বউ! বাহ! স্মৃতি হারানোটা দরকার ছিলো। নয়তো এতো সুন্দর রুপ কেমনে দেখতাম। “

তবে এই কথা না বলে বলল, “ সকালে এড়িয়ে চললি কেন? কি কারণে ?”

“কারণ আপনি আমাকে একটা খেলা ভাবছেন।”

“খেলা?আমি তোকে খেলা ভাববো কেন?”

“ আপনি আমার বাবাকে তাহলে বললেন কেন,
“ আমার বাবাকে আপনি আমাকে নিয়ে খেলায় জিতবেন। “

“ আগের কথাটুকু শুনেছিস? “

“ নাহ, তবে যেটুকু শুনেছি সেটুকু থেকে বুঝেছি আপনি আমাকে নিয়ে কোনো খেলায় মেতেছেন!”

তূর্জান অবাক এই মেয়ের জন্য সে শেষ হচ্ছে। আর এই সাত আট দিনে এই মেয়ে নতুন নতুন ভুল বুঝে যাচ্ছে। তূর্জান অবাকীয় কণ্ঠে বলল,
“ খেলা মানে? “

“হ্যাঁ খেলাই তো। রাউন্ড, জেতা-হারা এইসব শব্দ ব্যবহার করেছেন বাবার সাথে । আমি কোনো ট্রফি না।”

তূর্জানের চোখ গম্ভীর হলো।“তুই সত্যিই ভাবিস আমি তোকে ট্রফি বানাতে চাই?”

“আপনি আমার বাবার সামনে দাঁড়িয়ে কি বলেছিলেন ভুলে গেছেন?”

তূর্জান চুপ।রোজা কণ্ঠ উঁচু করল,“‘মেয়ে, মেয়ে করছো! কাকা শশুড় বানিয়ে ছাড়বো।’ এটা কি সম্মান?”

নদীর হাওয়া হঠাৎ ঠান্ডা লাগতে শুরু করল।“ওটা মজা ছিল।”

“সব মজা সম্মানজনক না তূর্জান ভাই।”

“তুই ওখানে ছিলি না।”

“শুনেছি।”

“পুরোটা শুনেছিস?”

“ না তবে যেটুকু যথেষ্ট।”

তূর্জান এবার একটু রেগে গেল।“তুই সবসময় অর্ধেক শুনে পুরো সিদ্ধান্ত নিস?”

“আমি যা দেখি, তাই বিশ্বাস করি।”

“তাহলে চোখ দিয়ে দেখা বাদ দিয়ে মন দিয়ে দেখ, অন্য কিছুও পেতে পারিস। সন্দেহ ছাড়া।”

“দেখেছি। আপনার চোখে চ্যালেঞ্জ।”

“আর তোর চোখে?”

“আপনার মতো লোকের সাথে লড়াই করার ইচ্ছে নেই।”

“তাহলে কেন পালাচ্ছিস ?”

“আমি পালাচ্ছি না। আমি নিজের সীমা জানি।”

“সীমা?”

“হ্যাঁ। আমি কারও অহংকারের অংশ হতে চাই না।”

তূর্জান ধীরে বলল,“আমি অহংকারী?”

“আপনি ভাবেন আপনি জিতবেনই।”

“আমি হারতেও জানি।”

“প্রমাণ কি ?”

“কাল রাতের পাঁচ মিনিটে।রোজা থমকালো। কাল রাতে রোজা আগে কথা বলেনি। তূর্জানই আগে কথা বলেছে। তাও বলল,“ওটা কোনো প্রমাণ না।”

“তুই কাল ভয় পেয়েছিস? “

“না।আমি আধারে ভয় পাই না।”

“তাহলে আজ এত রেগে আছিস কেন?”

“কারণ আমি পছন্দ করি না কেউ আমাকে নিয়ে বাজি ধরুক।”

তূর্জান গভীর স্বরে বলল,
“আমি কখনও তোকে নিয়ে বাজি ধরিনি।”

“আপনার কথা আর আপনার ভঙ্গি দুটো আলাদা।”

“তুই কি চাস,আর আমি কিভাবে কথা বলি?”

“কিছু না।”

“আমি যদি বলি আমি সিরিয়াস?”

“আমি বিশ্বাস করবো না।”

“কেন?”

“কারণ আপনি অভ্যস্ত খেলতে।আমাকে খেলা বানানোর চেষ্টা করেছেন।”

“ রোজা আমি খেলছি না।”

“তাহলে থামুন।”

দুজনেই চুপ থাকল কিছুক্ষন ।নদীর ঢেউয়ের শব্দ বাড়ছে।প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।তূর্জান হঠাৎ বলল,
“তুই আমাকে কথা বলার সুযোগই দিচ্ছিস না।”

“আমি কেন দেবো?”

“কারণ আমি চাই কথা বলতে।”

“আপনি যা চান সব পেয়ে যান?”

“সব না। কিছু অতিরিক্ত ভাবেও চেয়ে পাচ্ছি না।”

“তাহলে এবার না পেতেও শিখুন।”

তূর্জানের চোয়াল শক্ত হলো।“তুই আমাকে আমার চাওয়া জিনিস হারাতে বলছিস ।”

“আমি নিজেকে বাঁচাতে চাইছি।”

“আমার থেকে?”

“আপনার অহংকার থেকে।”

এক মুহূর্তের জন্য দুজনেই চোখে চোখ রাখল। আগুনে আগুন।কেউ কারো থেকে কম না।একটা লাভা তো আরেকটা ম্যাগমা।হঠাৎ পেছন থেকে মিরানের গলা—
“ওইইই!ভাইয়া তোমরা নদীতে ঝাঁপ দিবা নাকি ঝগড়া শেষ করবা?”এক কাজ করো দুজনেই নদীতে সাতার কেটে মনের ঝামেলা ফেলে দিয়ে এসো। “

আ্যমেলা বলল, “ মিরান, তুমি আমাকে ফেলে দিতে বলছো কেন?

সবাই আহম্বক এ আবার কি বলে? মিরান বললো, “এইযে মিস ঝামেলা তোমাকে কখন ফেলতে বললাম?”

“ তুমি আমাকে ঝামেলা বলো, ওদেরকে ঝামেলা ফেলে দিতে বললে!”

তুবা বুঝিয়ে বলল, “ আরে ঝামেলা মানে, যা নিয়ে মানুষের মধ্যে দন্ড তৈরি হয়। “

সবাই তাকিয়ে আছে।রোজা তূর্জানের থেকে সরে গেল।

রোজা বড় হয়ে রাগী, বদমেজাজি হলেও সেই ছোট্ট রোজার মতো মনটা নরম আছে। তবে সেটাতে পৌছানো ভারি মুশকিল এটা তূর্জান বুঝেছে। সেই দশ বছর আগের মতো আজও হাওয়াই মিঠাই কিনলো। তার প্রেয়সীর ভাগে বেশি রেখে। সবার ভাগের টা তাদেরকে দিয়ে একটা ছোট্ট ছেলেকে দিয়ে গন্তব্যে পাঠিয়ে দিল হাওয়াই মিঠাই। রোজা একটা চেয়ারে বসে ছিলো। ছেলেটা দৌড়ে রোজার কাছে গেলো।
ছেলেটা রোজাকে গিয়ে বলল, “ আন্টি তোমাকে ওই আঙ্কেলটা এই টা দিয়েছে। “

রোজা বলল, “ কোন আঙ্কেল? “

ছেলেটা হাত দিয়ে দেখালো। তবে কাউকে পেল না। জায়গা শূন্য, রোজা বললো, তোমার আঙ্কেল কে গিয়ে ফেরত দাও! বলো আন্টি নেবে না। “

ছেলেটা রোজার কথামতো আবার দৌড়ে তূর্জান কে খুজে তার কাছে গেলো। তূর্জান কি বোঝালো কে জানে? ছেলেটা আবার এসে বললো, “ আন্টি নেও, আঙ্কেল তোমাকে ভালোবেসে দিয়েছে। তুমি না নিলে রাগ করবে!”

রোজা কিছুতেই নেবে না। কোথাকার কোন লোক কি ভেবে দিয়েছে কে জানে? রোজা ছেলেটাকে বলল,” তোমার আঙ্কেল কে গিয়ে বলো আন্টি বিবাহিত, আঙ্কেল ছাড়া আর কারো দেওয়া জিনিস খায় না। “

ছেলেটা আবার দৌড়ে নিরুদ্দেশ হলো। রোজার শিখিয়ে দেওয়া কথা বলল তূর্জানকে। তূর্জান মিটিমিটি হাসলো। যাক তার বউ মিথ্যা বললেও সত্যি টা বলেছে। ছেলেটার হাতে থাকা হাওয়াই দুটো ছোট্ট ছেলেকে দিয়ে দিল। তার বউ যা একবার অন্য ছেলের দেওয়া ভেবেছে তা আর দেবেই না। আবার দুইটা কিনে নিয়ে হাটা ধরল রোজার কাছে। রোজার পাশে বসে হাওয়াই দুটো বাড়িয়ে দিল। রোজা নিবে না ভেবে তাকালো তূর্জানের দিকে। তূর্জান তার দিকেই তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে ইশারা করল নিতে। নিবেনা করেও হাতে নিল। তূর্জান পাশ ফিরে মুচকি হাসল। যাক বউ তার স্মৃতি হারিয়েও টক ঝাল মিষ্টি হয়েছে।তূর্জান বেশ বুঝতে পারল রাগ শেষ, নয়তো এই নতুন রোজাকে এই কয়দিনে যা চিনেছে। তাতে এই মেয়ে রেগে থাকলে হাওয়াই মিঠাই খাওয়া দূর, ছুয়েও দেখতো না।

ইনশাআল্লাহ চলবে….

অনেকের প্রশ্ন আমার পেইজ কয়টা। আমার গল্পের পেইজ একটা। এখন যেখানে আমি গল্প দিই।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply