Golpo romantic golpo প্রণয়ে গুনগুন

প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৭


প্রণয়ে_গুনগুন

পর্ব_৭

মুন্নিআক্তারপ্রিয়া


প্রণয় গালে হাত দিয়ে বসে আছে। সাথে আছে
কুলসুম, কুলসুমের স্বামী বিপ্লব এবং মাসুদ।কুলসুমদের বাড়ির ছাদে বসেছে সবাই। বিপ্লব বৃহস্পতিবার রাতে এসেছে। গোল বৈঠক বসার কারণ আছে। গুনগুনের কথাগুলো খুব ভালোভাবেই প্রভাবিত করেছে ওকে। এখন আড্ডা দিতে ভালো লাগে না। গুনগুনের কথাগুলো মাথায় বেশ করে জেঁকে বসেছে। কিন্তু কোত্থেকে, কীভাবে, কী শুরু করবে কিছুই বুঝতে পারছিল না। তাই ঠিক করেছে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রণয় ব্যবসা করবে। কিন্তু কী ব্যবসা করবে সেটাও বুঝতে পারছে না। সেই বিষয়েই বিশেষ আলোচনা চলছে এখন। শীতের উষ্ণ, নরম রোদ গায়ে মাখিয়ে মাসুদ বলল,

“চল কাচা শাক-সবজি বেঁচি। তুই ভ্যান চালাবি। আর আমি ‘ঐ শাক লাগব, শাক। লাল শাক, লাউ শাক, কুমড়া শাক, পাট শাক নিয়া যান, নিয়া যান।’ আইডিয়া কেমন?”

কুলসুম বলল,

“তোর মতোই বাজে।”

মাসুদ আহত হলো। এত সুন্দর আইডিয়াকে কেউ বাজে বলতে পারে? ইগোতে লেগেছে খুব। ও নাক-মুখ কুঁচকে বলল,

“তাই? তাইলে তুই ক।”

কুলসুম কিছুটা ভাবুকচিত্তে বলল,

“উমম… মেকআপ অথবা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের বিজনেস করলে কেমন হয়?”

প্রণয় নাকচ করে বলল,

“আরে না! আমার এসব ব্যাপারে কোনো আইডিয়া নাই।”

বিপ্লব বলল,

“তাহলে ড্রেসের?”

“না, ভাই। ড্রেস সম্পর্কে তো আমার আরো আইডিয়া নাই।”

কুলসুম দ্বিধান্বিত হয়ে বলল,

“তাইলে কী করবি? আর তো কিছু দেখি না।”

প্রণয়ও এবার একটু ভেবে বলল,

“ধুর! গুনগুনকে লাগবে। ও একটা ভালো আইডিয়া দিতে পারবে।”

মাসুদের মেজাজ এবার আরো বেশি বিগড়ে গেল। চোখ পাকিয়ে, গাল ফুলিয়ে বলল,

“কথায় কথায় খালি গুনগুন। উঠতে গুনগুন, বসতে গুনগুন, খাইতে গুনগুন, ঘুমাইতে গেলে গুনগুন। হাগতে গেলেও কি গুনগুন করস? শোন, বেশি গুনগুন করবি না। তোর টুনটুন কে’টে দেবো তাহলে।”

কুলসুম ঠাস করে এক থা’প্প’ড় বসাল মাসুদের গালে। মাসুদ গালে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“তুই মা’র’লি ক্যান আমারে?”

“তোদের ভাইয়া সামনে বসে আছে দেখছস?”

“হ, দেখছি। তুই দেখস না ওয় কেমন গুনগুন করে? দুইদিন ধইরা এই মাইয়্যা ওর জীবনে আইসা সব উলটা-পালটা কইরা দিতাছে। আগেই তো ভালো আছিলাম আমরা।”

বিপ্লব তখন বলল,

“এটা কিন্তু তুমি ভুল বললে, মাসুদ। তোমরা যেই লাইফস্টাইল মেইনটেইন করো এটা কোনো জীবন না। মানসিক শান্তি নাই এখানে। ভবঘুরে জীবন-যাপন কতদিন ভালো লাগে? অন্যের দায়িত্ব না নিলেও মাঝে মাঝে নিজের দায়িত্বটা নিতে হয়। আর এসব ক্ষেত্রে আমাদের জীবনে নারীর ভূমিকা থাকে। কখনো মায়ের কিংবা কখনো বউয়ের। গুনগুন প্রণয়ের বউ না হলেও ওর জীবনে মেয়েটা ব্লেসিং হয়ে এসেছে। তোমাদের যেমন ঝগড়া-ঝাটির কথা শুনেছি এতে করে অন্য কোনো মেয়ে হলে কখনোই এতটা ভাবত না। কারো এত দায় পড়েনি নিজের খেয়ে অন্যের জন্য ভাববে কেউ। এই দুনিয়ায় কেউ কাউকে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করে না। গুনগুন প্রণয়ের ভালো চায় বলেই ওর জীবন বদলাতে চাচ্ছে।”

বিপ্লবের কথাগুলো মাসুদকে কতটা প্রভাবিত করেছে জানা নেই, তবে প্রণয়কে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে। কুলসুম বলল,

“আমি তোদের ভাইয়ার সাথে একমত। মেয়েটা রাগি হোক আর যাই হোক, ভালো মনের মেয়ে। এটা তো মানতেই হবে।”

“প্রণয়রে আর তোরে গুনগুন কালা জাদু করছে আমি শিওর।” বলল মাসুদ।

কুলসুম বলল,

“তোরেও করা দরকার ছিল।”

“আমারে কালা জাদু, সাদা কাদু কোনোডাই করতে পারব না কোনোদিন। ওরে আমার ভালো লাগে না। কোনোদিন ভালো লাগবও না। খালি প্রণয় ব্যবসা করতে চাইতাছে বইলা রাজি হইছি। কারণ ওয় আমার কলিজার দোস্ত। ওর লেইগ্যা আমার জান সবসময় হাজির।”

মাসুদের কথার মাঝেই গুনগুন চলে এসেছে। প্রণয় অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। কুলসুম তখন ওকে খোঁচা মেরে ফিসফিস করে বলল,

“এভাবে তাকিয়ে থাকিস না হা’দা’রা’ম! আমিই ওকে আসতে বলেছিলাম।”

প্রণয় শুধরে গিয়ে, সংযত ও স্বাভাবিক হয়ে বসল। যেন সে জানতই যে, গুনগুন আজ আসবে। গুনগুন কাছে এসে সবার উদ্দেশে বলল,

“কেমন আছেন সবাই?”

কুলসুম বলল,

“ভালো আছি। বসো।”

গুনগুন বসতে বসতে মাসুদ মুখটা গোমড়া করে বলল,

“এতক্ষণ তো ভালোই ছিলাম। কিন্তু মনে হয় না এখন আর ভালো থাকব। কখন আবার থা’প্প’ড় দিয়া বসো তার তো কোনো ঠিক নাই। তোমার তো আবার মুখের চেয়ে হাত বেশি চলে। তাও আবার রকেটের গতিতে।”

গুনগুন হেসে বলল,

“হাত চালানোর কাজ করলে তো হাত চালাবোই।”

“তুমি কি জাদুবিদ্যা জানো?”

গুনগুন হকচকিয়ে বলল,

“মানে?”

প্রণয় এবার মাসুদকে ধমক দিয়ে বলল,

“থামবি তুই?”

“হ থামতাছি। ওরে কিছু কইলেই তুমি এমন ছ্যাঁত কইরা উঠস ক্যান?”

“তোর আজেবাজে কথা বন্ধ কর, মাসুদ।”

কুলসুম গুনগুনকে বলল,

“এই পাগলের কথা বাদ দাও। তোমাকে ডেকেছি, তোমার ভাইয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। ও হচ্ছে বিপ্লব, আমার হাজবেন্ড।”

এরপর বিপ্লবের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আর ও হলো গুনগুন। তোমাকে বলেছিলাম ওর কথা।”

গুনগুন সালাম দিল,

“আসসালামু আলাইকুম, ভাইয়া।”

বিপ্লব সালামের জবাব নিয়ে বলল,

“ওয়া আলাইকুমুস-সালাম। ভালো আছেন?”

“আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভাইয়া, আপনি?”

“আপনার বোনের সাথে থাকলে অলওয়েজ ভালো থাকি।”

গুনগুন হাসল। মাসুদ পিঞ্চ মেরে বলল,

“এই মাইয়্যার থেকে একটু দূরেই থাইকেন, ভাই। কখন দুমদাম মা’ই’রা বসব তখন আপনার ভালো থাকার দুনিয়া একদম কালো হইয়্যা যাইব।”

কুলসুম ধমক দিল,

“মাসুদ!”

গুনগুন ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,

“মনে হচ্ছে ঐদিন থা’প্প’ড়ের ডোজটা কম হয়ে গিয়েছিল আপনার জন্য।”

মাসুদ এবার হন্তদন্ত হয়ে বলল,

“দেখছিস দেখছিস কী কইল আমারে? এখন তো কিছু কবি না ওরে।”

“তুই ওর পেছনে আগে লাগিস। অযথাই ঝামেলা বাঁধাস কেন?”

“বাহ্, বাহ্! এহন তুইও ওর দলে। শা’লা আমি হইলাম আমের আঁটি।”

প্রণয় এতক্ষণে মুখ খুলল। নড়েচড়ে বসে বলল,

“বোঝার জন্য থ্যাঙ্কস। এখন দয়া করে মুখটা বন্ধ করে বসে থাক।”

মাসুদ সত্যি সত্যি চুপ করে বসে রইল। এত অবহেলা, অবমাননা তার সহ্য হচ্ছে না। একটা মেয়ের জন্য বন্ধু এভাবে পর হয়ে গেল? ঠিক আছে না বলল কথা, কী আসে যায় তাতে?

“এই নাও কেক খাও। আমি বানিয়েছি।” গুনগুনকে কেক এগিয়ে দিল কুলসুম।

গুনগুন মৃদু হেসে বলল,

“আপনি তো রূপবতীর সাথে গুণবতীও, আপু।”

কুলসুম লজ্জা পেল। প্রসঙ্গ বদলে বলল,

“গুনগুন শোনো না, একটা আইডিয়া লাগবে বুঝলে।”

“কোন ব্যাপারে?”

“ব্যবসার জন্য। প্রণয় ভেবেছে ব্যবসা শুরু করবে। কী ব্যবসা করা যায় বলো তো? আমরা তো কোনো কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।”

গুনগুন মুখের কেকটুকু শেষ করে বলল,

“ফুডকোর্ট দেওয়া যেতে পারে।”

এ কথা শুনে মাসুদ যেন আকাশ থেকে পড়ল। আর চুপ করে থাকতে না পেরে বলল,

“কীহ্! ফুডকোর্ট? মানে খাবারের দোকান দেবো আমরা? রাস্তায় দাঁড়িয়ে খাবার বিক্রি করব?”

“আপনাকে বলিনি। প্রণয়ের জন্য বলেছি।”

মাসুদ এবার কিছুটা রাগী কণ্ঠে বলল,

“এই মেয়ে? প্রণয়ের জন্য বলছ মানে কী? প্রণয় আর আমি কি আলাদা নাকি? ও যা করবে, আমিও তাই করব। তোমার উদ্দেশ্য আসলে ভালো না। তুমি আসছ আমাদের আলাদা করতে।”

“আমার এত আজাইরা সময় হয়নি যে এরকম উলটা-পালটা ইনটেনশন ক্রিয়েট করব।”

“তুমি কি কোনোভাবে আমাকে অপমান করার চেষ্টা করতেছ?”

“না, একদম না। চেষ্টা করব কেন? আমি তো আপনাকে ডিরেক্ট অপমান-ই করলাম।”

“প্রণয় শুনলি ও কী বলল?”

প্রণয় বিরক্ত হয়ে বলল,

“ভাই তুই একটু চুপ থাক তো বা’ল! একটা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে এখানে।”

মাসুদ বসা থেকে উঠে গেল। বলল,

“হ। এহন তো আমার কোনো গুরুত্ব-ই নাই তোর কাছে।”

এরপর রাগ করে ছাদের অন্য মাথায় চলে গেল। পকেট থেকে সিগারেট বের করে সিগারেট খাচ্ছে। গুনগুন একবার ওর দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। বিপ্লব বলল,

“গুনগুনের আইডিয়াটা কিন্তু খারাপ না। খুব অল্প টাকা দিয়েই এই বিজনেস শুরু করা যাবে।”

প্রণয় আফসোসের সুরে বলল,

“কিন্তু আমি তো কোনো রান্নাবান্না-ই পারি না।”

কুলসুম বলল,

“আমি তো পারি। এমনিও আমার রান্না করতে খুব ভালো লাগে। তোকে আমি সব শিখিয়ে দেবো। যতদিন না ভালোমতো রান্না শিখতে পারছিস, ততদিন আমি তোর ফুডকোর্টে শেফের দায়িত্ব পালন করব যা।”

বিপ্লব বলল,

“আর তোমার বিজনেসে পার্টনারশিপে ইনভেস্ট আমি করব। অ্যাজ অ্যা বিগ ব্রাদার হিসেবে। লাভের কোনো পার্সেন্টেজ আপাতত আমার লাগবে না। তোমার বিজনেস বড়ো হলে তখন চাইলে দিতেও পারো, না-ও পারো। আমার কোনো জোরজবরদস্তি নেই।”

প্রণয়ের বুকের ভেতরটা কেমন যেন হুহু করছে। ভালো লাগার সাথে কষ্টের যে একটা সংমিশ্রণ থাকে ঠিক সেরকম অনুভূতি। জীবনে কোন পূণ্য সে করেছিল জানা নেই। নয়তো কুলসুম, বিপ্লব, মাসুদ, গুনগুনের মতো মানুষগুলোকে সে কীভাবে পেল জীবনে? ওর খুব কান্না করতে ইচ্ছে করছে। আনন্দে, প্রচণ্ড খুশিতে।

গুনগুন বোধ হয় বুঝতে পারল প্রণয়ের অবস্থা। তাই হেসে বলল,

“আর আমি হবো আপনার প্রথম কাস্টমার।”

ছাদের অন্যদিকে থাকলেও মাসুদ এতক্ষণ ওদের কথোপকথন শুনতে পাচ্ছিল। এবার সে এগিয়ে এসে বলল,

“ভাবিস না আমি তোরে এমনে ছাইড়া দিমু। আমি হমু তোর ফুডকোর্টের ওয়েটার বুঝছস?”

প্রণয় এবার শব্দ করেই হেসে ফেলল। গুনগুন মাসুদের দিকে তাকাতেই মাসুদ বলল,

“তাকাইয়া আছো ক্যান? তোমার জন্য তো আর আমি আমার বন্ধুরে ছাইড়া দিতে পারি না। তোমার চোখ দেইখা বুঝতাছি তুমি অনুতপ্ত। থাক, সরি কইতে হইব না। তোমারে আমি মাফ কইরা দিছি।”

গুনগুন মাসুদের হাত থেকে সিগারেট নিয়ে ফেলে দিয়ে বলল,

“আমি কোনো ভুল করিনি। আর অনুতপ্তও নই। আপনার সিগারেটের গন্ধে বিরক্ত হচ্ছিলাম।”

মাসুদ অস্থির হয়ে বলল,

“হায়, হায় কামডা করলা কী! প্রণয়, তুই কি এখনো ওরে কিছু কইবি না?”

প্রণয় নিশ্চুপ রইল। মাসুদ মেকি কান্নার সুরে গান গাইতে লাগল,

“যখন তোর কেউ ছিল না,
তখন ছিলাম আমি।
এখন তোর গুনগুন আসছে,
পর হয়েছি আমি।”

সবাই ওর নাটক দেখে হাসছে। প্রণয় হেসে বলল,

“শা’লা ড্রামাবাজ!”


মাত্র তিনদিনের মধ্যে সবাই মিলে সব ব্যবস্থা করে ফেলল। হয়তো আরো কিছুদিন সময় নিয়ে শুরু করা যেত। কিন্তু বিপ্লবের সময় কম। তাকে আবার সিলেট ফিরে যেতে হবে। প্রণয়ের জন্যই সে দুদিন বাড়তি ছুটি নিয়েছিল। কারণ সে জানে, প্রণয় এখনো দায়িত্ব নেওয়াতে অজ্ঞ। সবকিছু হয়তো গুছিয়ে করতে পারবে না। তাই বড়ো ভাইয়ের দায়িত্ব নিয়ে সে নিজেই সব গুছিয়ে দিয়েছে সাথে থেকে। কুলসুমকে দেখেশুনে রাখে বলে বিপ্লব আলাদাভাবেই কৃতজ্ঞ প্রণয়ের প্রতি। যদিও প্রণয়ের এরকম ছন্নছাড়া, ভবঘুরে স্বভাব ও জীবন-যাপন ওর পছন্দ ছিল না। কিন্তু প্রণয়ের চরিত্র ভালো, মন ভালো ও পরোপকারি বলে অজান্তেই প্রণয়কে সে নিজের ভাই ভাবতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখন যখন জানতে পারল, প্রণয় দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে, নিজের জীবনটাকে বদলাতে যাচ্ছে তখন সত্যিই সে মন থেকে ভীষণ খুশি হয়েছে। প্রণয়ের এই পরিবর্তনটা সত্যিই খুব প্রয়োজন ছিল। এজন্য সে মনে মনে গুনগুনের প্রতিও কৃতজ্ঞ। ভাগ্যিস মেয়েটা প্রণয়ের জীবনে এসেছিল! না হলে কি এই পরিবর্তিত প্রণয়কে ওরা কেউ কখনো দেখতে পেত?

যেরকম কথা হয়েছিল, সেরকমটাই করা হয়েছে সব। কুলসুম বাড়ি থেকে কিছু খাবার বানিয়ে এনেছে। আর কিছু খাবার এখানেই বানানো হচ্ছে। প্রণয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ওকে রোল বানানো শেখাচ্ছে। এবং সত্যি সত্যিই প্রণয়ের আজকের প্রথম কাস্টমার গুনগুন। সাথে শিহাবও আছে। কুলসুমের গাইডলাইন ফলো করে প্রণয় সাকসেসফুলি চিকেন রোল বানিয়ে ফেলেছে। এজন্য খুশিতে সে আত্মহারা। রোল বানানো শেষ হলে মাসুদ এসে বলল,

“দে, রা’ক্ষ’সী’টাকে দিয়ে আসি।”

প্রণয় চোখ গরম করে তাকাল। মাসুদ দাঁত বের করে হেসে বলল,

“না মানে আমাদের রাজরানিকে দিয়ে আসি।”

মাসুদ ওয়েটারের দায়িত্ব-ই পালন করছে। খাবার নিয়ে গুনগুনকে দিয়ে বলল,

“নেন রানি, খেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন। রিভিউ দিয়েন।”

পাশ থেকে বিপ্লব বলল,

“ভাই আমার অর্ডারটা নিবেন না? আমাকে গরম করম চারটা চিকেন রোল দেন।”

মাসুদও বিপ্লবের সাথে হেসে বলল,

“অবশ্যই স্যার।”

এরপর আবার গুনগুনকে বলল,

“ম্যাম, খাবার কেমন হয়েছে?”

“ভালো। বাট তারচেয়েও ভালো লাগছে আপনার পজিশনটা। ওয়েটার পদে আপনাকে ভালো স্যুট করেছে।”

মাসুদ ভাব নিল। চুলে হাত দিয়ে চিরুনি করে বলল,

“হাহা! তুমি কি ভাবছ তুমি আমারে এমনে অপমান করবা আর আমি রাগ কইরা এই পদ ছাইড়া দিমু? আর এই সুযোগে তুমি প্রণয়ের কাছাকাছি আসবা? তোমার সেই স্বপ্নে বালি, থা’প্প’ড়ের রানি। আমি প্রণয়রে ছাড়তাছি না।”

“ছাড়তে হবে না। আপনি ওনাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকুন, শুয়ে থাকুন। আমার কোনো সমস্যা নেই।”

“ছি অ’শ্লী’ল মেয়ে মানুষ!”

বিপ্লব ও শিহাব ওদের কথা শুনে হাসছে।

প্রণয়ের এই পরিবর্তন পুরো এলাকায় পজিটিভ এবং নেগেটিভ দুইটা প্রভাবই ফেলেছে। কেউ আড়ালে-আবডালে খুব হাসাহাসি করছে, আবার কেউ কেউ মন থেকেই প্রণয়ের কাজকে ও পরিবর্তনকে এপ্রেশিয়েট করছে। প্রথমদিন হিসেবেও ওর দোকানে লোকজন কম ছিল না। ওর সাঙ্গপাঙ্গ যারা ছিল তারা সবাই এসেছিল ওর দোকানে এবং টাকা দিয়েই খেয়েছে। প্রণয় ওদের ফ্রি-তে খাওয়াতে চাইলেও কেউ খায়নি ফ্রি-তে। এই জিনিসটা গুনগুনের ভীষণ ভালো লেগেছে। মানুষ হিসেবে এসব ছেলেরা কেমন গুনগুন জানে না, জানার ইচ্ছেও নেই। কিন্তু ওরা যে প্রণয়ের প্রকৃত বন্ধু এতে কোনো সন্দেহ নেই। ওরা ছাড়াও এলাকার অনেক মানুষ এসেছিল। গুরুজনরা প্রণয়ের সরাসরি প্রসংশা এবং দোয়াও করেছে।

গুনগুন দূর থেকে এসব দেখে এবং মনে মনে ভীষণ খুশি হয়। এখন আর ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় প্রণয়কে সিগারেট হাতে টং দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায় না। কাজে ব্যস্ত দেখা যায়। কখনো সরাসরি দু, একটা কথা হয় আবার কখনো কখনো চোখে চোখে কথা হয়, অথবা একে-অপরের দিকে তাকিয়ে শুধু হাসি আদান-প্রদান করে।

তবে সব ভালো সময় আসলে বেশিদিন ভালো যায় না। প্রণয়ের ভালোটা অভিশাপ হয়ে এলো গুনগুনের জীবনে। ওসমান গণির কাছে এই বিষয়টা ভালো লাগেনি। এলাকার ব’খা’টে ছেলের সাথে মেয়ের আনাগোনা, ওঠা-বসা মোটেও তার জন্য সম্মানজনক নয়। সুমনা বেগম যতটা পেরেছেন আরো আগ বাড়িয়ে মশলা মাখিয়ে বলেছেন। এতদিন ওসমান গণি চুপ ছিলেন। গুনগুনকে তিনি কিছুই বলেননি। শুধু জানতে ও বুঝতে চেয়েছিলেন যে, গুনগুন আসলে কী চায়! কিন্তু আজ অফিস থেকে ফেরার পথে যখন নিজ চক্ষে দেখলেন যে, গুনগুন প্রণয় ও কুলসুমের সাথে দোকানে দাঁড়িয়ে হেসে হেসে কথা বলছিল তখন তিনি সত্যিকার অর্থেই প্রচণ্ড বিরক্ত হয়েছেন।

রাতে খাওয়ার পর গুনগুনকে রুমে ডেকে পাঠালেন তিনি। জিজ্ঞেস করলেন,

“কী চাচ্ছিস তুই?”

গুনগুন প্রশ্নের মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছে না। তাই জিজ্ঞেস করল,

“কী চাচ্ছি মানে?”

“আমার মান-সম্মান ডুবাবি এটাই কি তোর শেষ ইচ্ছে এখন?”

“কী বলছ আমি কিছুই বুঝতেছি না।”

“পাড়ার ঐ ব’খা’টে ছেলের দোকানে তোর কী? এত কীসের হাসাহাসি?”

“খাবার কিনতে গেছিলাম।”

“দোকানের অভাব পড়ে গেছিল? আর খাবার কিনতে গিয়ে এরকম হাসে কে?”

“কুলসুম আপু আমার পরিচিত। তাই ওনার সাথে কথা বলছিলাম।”

“গুনগুন, একটা কথা মাথায় রাখিস যে, জন্ম আমি তোরে দিছি। তুই আমারে দেস নাই। আমারে এসব উলটা-পালটা বুঝাইতে আসিস না। আমি সবই বুঝি।”

গুনগুন শ্লেষাত্মক কণ্ঠে বলল,

“আফসোস তো আমার এখানেই। জন্ম দিয়েই শুধু দায়িত্ব শেষ করে ফেলছ। এখনো নিজের মেয়েকে চিনতে পারোনি।”

“চেনার তো আর কিছু বাকি রাখিস নাই। তোর রুচি এখন এত নিচে নেমে গেছে যে ঐ ছেলের সাথে…”

“তুমি ভুল ভাবতেছ! ওনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই।”

“আমি খুশি হবো যদি সত্যিই আমি ভুল প্রমাণিত হই। নিজের স্ট্যান্ডার্ড এতটাও নিচে নামাইস না। যা ইচ্ছে হয় করিস, কিছু বলি না। তার মানে এই না যে, যাকে তাকে আমি তোর সাথে মেনে নেব। আমার বংশের একটা রেপুটেশন আছে।”

“হাহ্! এতটাই রেপুটেশন যে তোমার জন্য আমাকে কতকিছু ফেইস করতে হচ্ছে বারংবার!”

“গুনগুন!”

“আমার সাথে রাগারাগি করতে হবে না। ওনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব ভেবে নিজের প্রেশার বাড়িও না। আর যে তোমার কানে এসব বি’ষ দিচ্ছে তাকেও একটু তোমার হেলথ্ এর কথা ভাবতে বইল।”

সুমনা বেগম তেলে-বেগুনে জ্ব’লে উঠে বললেন,

“তুই কারে মিন করে বললি এই কথা? আমি তোর বাপের কানে বি’ষ ঢালি? তোর কিচ্ছা-কাহিনি পুরা এলাকা জানে।”

“ওহ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি নিজেই নিজের কাহিনি জানি না। যাই হোক, গেলাম আমি।”

গুনগুন চলে যাওয়ার পর সুমনা বেগম দাঁত কিড়মিড় করে বললেন,

“একটা অ’স’ভ্য, বে’য়া’দ’ব মেয়ে! তোমার সামনে কীরকম চ্যাটাংচ্যাটাং কথা বলে গেল আমাকে। ডানা খুব বড়ো হয়েছে। উড়তেছে খুব। ওর ডানা ভা’ঙ’বা না তুমি?”

ওসমান গণি কোনো জবাব দিলেন না।

গুনগুন বাবার রুম থেকে বেরিয়ে দুই তলায় গেল শিশিরকে পড়ানোর জন্য। কলিংবেল বাজানোর পর সমুদ্র দরজা খুলে দিল। গুনগুনকে দেখেই হেসে জিজ্ঞেস করল,

“কেমন আছেন?”

গুনগুন মৃদু হেসে বলল,

“জি, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আপনি?”

“ভালো। ভেতরে আসুন।”

সমুদ্র দরজা খুলে দাঁড়াল। গুনগুন সোজা শিশিরের রুমে চলে গেল। শিশির গুনগুনকে পেয়ে কথার ঝুড়ি নিয়ে বসেছে। সপ্তাহে ওকে তিনদিন পড়ায় গুনগুন। এই তিনদিনে পুরো সপ্তাহের গল্প জুড়ে দেয় শিশির। গুনগুনও ওকে গল্প করে করেই পড়ায়, যাতে করে পড়ার প্রতি বিরক্তি না আসে শিশিরের। আজ এসে প্রথমেই জানতে পারল, সমুদ্র এত ঘনঘন আসে না বাড়িতে। গতবার যাওয়ার পর আবার কিছুদিনের মধ্যেই এসেছে। আসার সময় শিশিরের জন্য বড়ো একটা পুতুল নিয়ে এসেছে। সেই পুতুল কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ লাফালাফি করল শিশির। গুনগুন কিছুই বলল না। ওর হাসি-খুশি মনটা নষ্ট করতে চায়নি একদম।

কিছুক্ষণ বাদে গুনগুন বলল,

“এবার পড়তে বসো।”

“পুতুলটা সুন্দর না?”

“খুব। একদম তোমার মতোন।”

শিশির লজ্জায় মুখ ঢেকে বলল,

“থ্যাঙ্কিউ।”

শেলী চৌধুরী চা, মিষ্টি আর কিছু ফলমূল কেটে নিয়ে এসেছেন গুনগুনের জন্য। টেবিলের ওপর রেখে বললেন,

“গুনগুন, আজ রাতে আমাদের সাথে খেয়ে যাবে। বিরিয়ানি রান্না করেছি। আজ কিন্তু আর কোনো নিষেধ শুনব না।”

শেলী চৌধুরী এমনভাবে বললেন যে, গুনগুন আর মুখের ওপর ‘না’ করতে পারল না। শিশিরকে পড়িয়ে ডাইনিংরুমে খেতে গেল। সমুদ্রও আছে ওদের সাথে। গিয়ে দেখল শুধু বিরিয়ানি নয়, শেলী চৌধুরী গরুর মাংস, রোস্ট, ফিরনিও রান্না করেছেন। তিনি সবার প্লেটে খাবার বেড়ে দিয়ে নিজেও খেতে বসলেন। বললেন,

“শিশিরটা একদম খাওয়া-দাওয়া পছন্দ করে না। দেখো না কেমন তালপাতার সেপাই হয়েছে। হালকা বাতাস এলেই উড়ে যাবে এমন অবস্থা। কিন্তু সমুদ্র একদম ওর বিপরীত। খেতে খুব পছন্দ করে। আগে যখন বাড়িতে থাকত প্রতিদিন ওর জন্য এটা, ওটা রান্না করাই লাগত। এখন বাড়িতে থাকে না, রান্নাও করা হয় না। আসেও না তেমন যে, রান্না করে একটু খাওয়াব।”

সমুদ্র খেতে খেতে বলল,

“এইতো চলে এলাম আবার।”

“হ্যাঁ, এসেছিস তো নিজের কাজেই। না হলে কি আর আসতি?”

“যেজন্যই আসি না কেন, এসেছি এটাই কি বেশি না?”

“হ্যাঁ, খুব। একদম উদ্ধার করেছিস আমায়।”

“তোমার শুধু অভিমান আর অভিমান।”

“এই অভিমানটুকু বুঝলেও তো ভালো লাগত। বাদ দে এখন এসব। আরেকটা রোস্ট নে।”

গুনগুন ও শিশির চুপচাপ শুনছে এবং খাচ্ছে। শেলী চৌধুরী এবার গুনগুনকে বললেন,

“প্রণয়ের পরিবর্তন দেখেছ, গুনগুন? কীরকম ছিল আগে মনে আছে? আর এখন ওর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। মাশ-আল্লাহ্! ছেলেটার পরিবর্তনে আমি খুব খুশি হয়েছি। দুদিন ওর দোকানের খাবারও খেয়েছি। খাবার কিন্তু খুব ভালো বানায়। দামও কম।”

শেলী চৌধুরীর মুখে প্রণয়ের প্রসংশা শুনে কেন জানি গুনগুনের ভীষণ ভালো লাগছিল। মনে মনে একটা আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিল সে।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে শেলী চৌধুরীর রুমে বসে কিছুক্ষণ গল্প করল দুজনে। নিজের পড়া আছে বলে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছিল গুনগুন। সিঁড়িতে যখন ছিল, তখন প্রণয়ের কল এলো। গুনগুন রিসিভ করে বলল,

“হ্যালো।”

ফোনের ওপাশ থেকে প্রণয় বলল,

“ছাদে আসো তো একটু।”

“কেন?”

“আসো, দরকার আছে।”

“ঠিক আছে।”

গুনগুন আর নিজেদের ফ্ল্যাটে না ঢুকে সোজা ছাদে চলে গেল। প্রণয় পায়চারি করছিল আগের মতো। গুনগুনকে আসতে দেখে থেমে গেল। গুনগুন কাছে এসেই বলল,

“আবার ঐ ছাদ থেকে এই ছাদে এসেছেন?”

প্রণয় হেসে বলল,

“হুম।”

“কেন? কী দরকার? ফোনে বলা যেত না?”

“ওয়েট।”

বলে প্রণয় একটু পেছনে গিয়ে ফুলগাছের আড়াল থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে এলো। গুনগুনের হাতে দিয়ে বলল,

“ফোনে তো আর এটা দেওয়া যেত না।”

প্যাকেট হাতে নিয়ে গুনগুন জিজ্ঞেস করল,

“কী এটা?”

“শাড়ি।”

“শাড়ি?”

“হুম। তিনটা কিনেছিলাম। একটা তোমার জন্য, একটা কুলসুমের জন্য আর একটা মায়ের জন্য। কালকে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাব। তখন দেবো শাড়িটা।”

“আন্টির জন্য কিনেছেন, কু্লসুম আপুর জন্য কিনেছেন ঠিক আছে। কিন্তু আমার জন্য কেন? শুধু শুধু টাকা নষ্ট করা একদম ঠিক হয়নি।”

“তোমার জন্য কিছু কেনা যদি টাকা নষ্ট করা হয়, তাহলে এরকম টাকা নষ্ট আমি হাজারবার করতে চাই।”

গুনগুন হেসে ফেলল। প্রণয়ও হাসল। বলল,

“শাড়ি তোমার পছন্দ হবে কিনা জানিনা। আনাড়ি তো, বুঝি না এসব। পছন্দ না হলেও একবার অন্তত পরো। আমার ভালো লাগবে।”

“আচ্ছা। স্টিল বলব, কোনো দরকার ছিল না আমার জন্য শাড়ি কেনা। টাকা সেভিংস করতে হবে।”

“দরকার ছিল। শাড়িতে তোমাকে খুব সুন্দর লাগে। আর টাকার ব্যাপারে ভেবো না। এখন আর উলটা-পালটা খরচ করি না আমি। টাকা জমাচ্ছি। মাঝে মাঝে শখ করে শখের মানুষদের জন্য তো একটু টাকা খরচ করাই যায়।”

“আজকাল খুব গুছিয়ে কথাও বলতে শিখে গেছেন দেখছি।”

“ঐযে সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস। তোমার সঙ্গে থেকেই শিখেছি। আচ্ছা শোনো আর একটা কথা।”

“কী?”

“কাল থেকে আমি দুটো টিউশনি করাব সকালে। আমি কিন্তু খুব ভালো স্টুডেন্ট। টিউশনি করাব শুনে আবার হেসো না।”

“হাসব কেন? আমার তো আরো ভালো লাগছে শুনে।”

“ভাবলাম সকাল থেকে তো আর কোনো কাজকর্ম করি না। তাই সময়টাকে একটু কাজে লাগাই। কুলসুমকে বলার পর ও-ই দুটো টিউশনি ঠিক করে দিল।”

গুনগুন হাসছে। কিছুটা শব্দ করেই হেসেছে বলে প্রণয় শুনতে পেল। জিজ্ঞেস করল,

“হাসছ যে?”

“ভাবছি।”

“কী?”

“প্রথম প্রথম আপনাকে দেখলে বিরক্ত হতাম। আর এখন যত দেখি, তত-ই মুগ্ধ হই। আপনি আমাকে বারংবার বাধ্য করছেন মুগ্ধ হতে।”

“গুনগুন?”

“হুম?”

“আমার এই আমি’র পেছনের পুরো ক্রেডিটটা-ই তুমি। আগে কারো একটা নেগেটিভ কথা আমার সহ্য হতো না। আর এখন কত মানুষ বু’লি করে, মজা নেয় আমার না একটুও রাগ হয় না। তখন তোমার কথা মনে পড়ে। তুমি বলেছিলে, কোনো পেশা-ই ছোটো না।”

“এখনো এটাই বলব। এইযে আপনি রাগ না করে এখন ধৈর্য ধরেন এটাই আপনার জীবনে সফলতা নিয়ে আসবে দেখবেন। আপনি জীবনে অনেক বড়ো হবেন আমার মন বলছে। আমি যদি না-ও থাকি তখন, আমাদের যোগাযোগ যদি না-ও থাকে তারপরও আপনার সেদিন আমার বলা কথাগুলো মনে পড়বে। মিলিয়ে নিয়েন।”

“তুমি কেন থাকবে না?”

“কেউ কি চিরকাল থাকে? নাকি কোনো সম্পর্ক থাকে চিরকাল?”

“জানি না। তবে তুমি থাকবে। তোমাকে থাকতে হবে।”

গুনগুন হাসল। প্রণয় বলল,

“গুনগুন, তুমি কেন সেদিন আমার মাথায় একটু হাত রাখলে না?”

“কারণ আপনার ভরসার জায়গা আমি হতে চাই না।”

“প্রথমত সরি, কারণ তোমার পারমিশন ছাড়াই এখন তোমার হাত ধরব। আর দ্বিতীয়ত…”

বলে প্রণয় গুনগুনের ডান হাতটা ধরে নিজের মাথায় রেখে বলল,

“তুমি চাও অথবা না চাও, ইতোমধ্যে প্রণয়ের ভরসা নাম এখন গুনগুন।”

চলবে…

[পরীক্ষার জন্য গল্প দিতে লেইট হলো। তাই আজ বিশাল বড়ো (৩২০০+) শব্দের পর্ব দিয়ে পুষিয়ে দিলাম। আজ যদি বড়ো কমেন্ট না পাই তাহলে কাট্টি হুহ!😼]


Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply