Golpo romantic golpo প্রণয়ে গুনগুন

প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২৬


প্রণয়ে_গুনগুন

পর্ব_২৬

মুন্নিআক্তারপ্রিয়া


“অনেক সাধনার পরে আমি
পেলাম তোমার মন,
পেলাম খুঁজে এ ভুবনে,
আমার আপনজন…”

প্রণয় আজ সকাল থেকেই এই গানটা শুনছে। গুনগুন ব্যাগ গুছাচ্ছিল। সব ঠিকঠাক আছে কিনা আরেকবার চেক করে প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে, বিছানায় কাৎ হয়ে শুয়ে প্রণয় ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। গুনগুন ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“কী দেখেন?”

প্রণয় হাসল। শোয়া থেকে উঠে সোজা হয়ে বসে বলল,

“আমার বউটাকে দেখি।”

“এত দেখতে হবে না। আপনার ব্যাগটা চেক করে দেখুন, সব নিয়েছি কিনা।”

প্রণয় উঠে এসে গুনগুনের পাশে ফ্লোরে বসে বলল,

“আরে ধুর! রাখো তোমার ব্যাগ। ব্যাগ দেখে কী করব? আমি তো শুধু আমার বউকেই দেখব।”

“সবসময় এত আহ্লাদ করেন কেন আপনি? আর সকাল থেকে সেই একটাই গান বারবার শুনে যাচ্ছেন। সমস্যা কী?”

“বউকে আহ্লাদ করব না তো কাকে আহ্লাদ করব? আর এই গানটা শোনারও কারণ আছে”

“কী কারণ?”

“কারণটা তুমি ধরতে পারোনি? আসলেই? আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি তো জানি, তুমি খুব বুদ্ধিমতি।”

গুনগুন কিছুটা ক্ষেপে গেল। কর্কশকণ্ঠে বলল,

“আমার বুদ্ধি নিয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে দিচ্ছি। আর চাইলে বলতেও পারেন। কারণ বুদ্ধি থাকলে কি আর আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি হই?”

“ভাগ্যিস তখন তোমার ব্রেইন কাজ করেনি! আর শোনো, তুমি আর আমার সাথে নাটক কোরো না। এখন আমি জানি, তুমিও আমাকে ভালোবাসো। আর এটা তুমি নিজে গতকাল রাতে স্বীকার করেছ। এজন্যই তো এই গানটা বারবার শুনছি। অনেক সাধনার পর তোমার মন পেয়েছি আমি। সাথে অবশ্য আরো অনেক কিছু পেয়েছি। বলছিলাম যে, যদি আরেকবার একটু আদর…”

গুনগুন কথা শেষ করতে দিল না। প্রণয়ের মুখ চেপে ধরে বলল,

“কোনো আজেবাজে কথা আমি শুনতে চাই না। আপনি ব্যাগগুলো দেখুন। রাতে আমাদের বাস। ভুলে গেছেন?”

প্রণয় হেসে গুনগুনের হাত ধরে বলল,

“না ভুলিনি। বলছিলাম, আমরা কিন্তু চাইলে আর কয়টা দিন সিলেটে থেকে যেতে পারি। রাতারগুল ছাড়া তো আর কোথাও ঘোরা হলো না।”

গুনগুনের মুখটা হঠাৎ করেই অন্ধকার হয়ে এলো। সে প্রলম্বিত শ্বাস নিয়ে বলল,

“না! সিলেট নিয়ে এখন আমার এতটা বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, আমি আর এখানে থাকার সাহস করতে পারছি না। আপনার কিছু হয়ে গেলে আমি শেষ হয়ে যাব।”

প্রণয় মনে মনে হাসল। গুনগুন ওকে যে এতটা ভালোবাসে এটা কি গুনগুন আদৌ নিজেও জানে? প্রণয় গুনগুনের হাতটা আরেকটু শক্ত করে ধরে বলল,

“চিন্তা কোরো না, আমরা আবার সিলেটে আসব। এখন যতটা বাজে অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢাকায় ফেরত যাচ্ছ, তখন এরচেয়েও ভালো অভিজ্ঞতা ও সুন্দর সুন্দর স্মৃতি নিয়ে ফিরে যাবে। আমি তোমায় কথা দিচ্ছি।”

গুনগুন মৃদু হেসে বলল,

“ইন-শা-আল্লাহ্।”

“শোনো, তুমি এখন অনেক আবেগপ্রবণ মনে হচ্ছে। চাইলে আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারো। আমি কিছু মনে করব না। আমার আবার বউয়ের জন্য দয়ার শরীর তো! খুব মায়া।”

গুনগুন প্রণয়ের বুকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

কুলসুম রান্নাবান্না শেষ করে খাবার টেবিলে এনে সাজাচ্ছিল। গুনগুনকে দেখে জিজ্ঞেস করল,

“ব্যাগ গুছানো শেষ?”

“হ্যাঁ।” বলল গুনগুন।

“ঠিক আছে। ওদেরকে তাহলে ডাকো। সবাই একসাথে খেয়ে নিই।”

গুনগুন আগে বিপ্লব ও মাসুদকে ডেকে তারপর প্রণয়কে ডাকতে গেল। প্রণয় ব্যাগের সবকিছু চেক করছিল তখন। গুনগুন বলল,

“খেতে আসুন।”

প্রণয় মাথা তুলে তাকিয়ে বলল,

“তোমাকে?”

গুনগুন কটমট করে তাকিয়ে আছে প্রণয়ের দিকে। দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

“একটা থা’প্প’ড় দেবো।”

প্রণয়ও গাল এগিয়ে দিয়ে বলল,

“দাও।”

“ধুর!”

গুনগুন রেগে চলে এলো। প্রণয় হাসছে। তবে সময় না নিয়ে সেও খেতে এলো। সবাই ইতোমধ্যে চলে এসেছে ডাইনিং রুমে। বিপ্লব তখন বলল,

“আজই চলে যেতে হবে?”

প্রণয় বলল,

“হ্যাঁ, ভাইয়া। গুনগুনের মানসিক অবস্থা এখন ভালো না। এখানে থাকলে আরো ট্রমায় পড়ে যাবে।”

“আমি খুবই দুঃখিত! এত আদর করে নিয়ে এসেও তোমাদের ভালোমতো রাখতে পারলাম না।”

গুনগুন বলল,

“এভাবে বলবেন না ভাইয়া। আপনি, মাসুদ ভাইয়া, কুলসুম আপু যেভাবে শুরু থেকে পাশে ছিলেন এভাবে ক’জন বিপদে পাশে থাকে বলুন? এসব বলে আমাদের লজ্জা দেবেন না। সবকিছু ঠিকঠাক হলে আমরা আবার একসময় সিলেট আসব ইন-শা-আল্লাহ্।”

মাসুদ বলল,

“তোমরা আইসো। আমি আসমু না। কাপলদের সাথে আমার ভালো লাগে না।”

কুলসুম বলল,

“চিন্তা করিস না। এবার তোকে বিয়ে করিয়ে তোর বউকে সাথে করে নিয়ে আসব।”

“এসব ভাবের আলাপ আমার সাথে করিস না। সর। তোরাই তগো বউ, জামাই নিয়া সুখে থাক।”

বিপ্লব বলল,

“চিন্তা করো না, আমি তোমার বিষয়টা দেখব।”


আজ ঢাকায় ব্যাক করবে প্রণয়, গুনগুন ও মাসুদ। কুলসুম কিছুদিন থেকে যাবে। বিপ্লব ছুটিতে একদম ওকে নিয়েই ঢাকায় ফিরবে। বিপ্লব টিকেট কাউন্টার পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এসেছিল। বাস ছাড়তে দেরি হবে বলে, সে চলে গিয়েছে বিদায় দিয়ে।

প্রণয় ও গুনগুন পাশাপাশি সিটে বসেছে। অপজিট সিটে মাসুদ। ওরা বাসে ওঠার আগেই অনেকে উঠেছিল। এসে দেখল, মাসুদের পাশের সিটে একটা মেয়ে বসে আছে। মাসুদের সীট ছিল জানালার পাশে। মেয়েটা মাসুদকে দেখেই চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল। মাসুদ ফাঁকা ঢোক গিলে বলল,

“আমি বসব।”

মেয়েটা ক্যাটক্যাটে কণ্ঠে বলল,

“তো বসেন। আপনার সীট কোলে নিয়ে আমি বসে আছি নাকি।”

“ইয়ে মানে! আপনি না উঠলে আমি সীটে যাব কীভাবে?”

“এই পাশের সীট আপনার?”

“জি।”

মেয়েটা বিরক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়াল মাসুদকে যাওয়ার জন্য জায়গা দিয়ে। পাশ থেকে প্রণয় ও গুনগুন চুপচাপ সব দেখছে। সীটে বসে মাসুদ প্রণয়কে মেসেজ করল,

“বন্ধু, আমারে তোর লগে বইতে দে প্লিজ! এই মাইয়্যাডা কেমন খ্যাঁকখ্যাঁক করে দেখ। আমার ডর লাগতাছে! গুনগুনরে এই ছেড়ির লগে বহা। আমি তোর লগে বমু।”

মেসেজ দেখে প্রণয় উত্তর দিল,

“শা’লা তোর অভিশাপে কতদিন আমার উপোষ থাকা লাগছে জানোস? এতদিন পর আমার বউয়ের মনডা গলছে। আর তুই আমাদের আলাদা করতে চাস? তোর যদি বসতে অসুবিধা হয় তাহলে তুই বাসের ছাদে গিয়ে বসে থাক।”

মেসেজটা দেখে মাসুদ দুঃখী দুঃখী চোখে প্রণয়ের দিকে তাকাল। ওর কাঁধে মাথা রেখে গুনগুন চোখ বন্ধ করে বসে আছে এখন। এটা দেখেই মাসুদের গা জ্ব’লে যাচ্ছিল একদম। সে লিখল,

“তুই শা’লা নি’ম’ক’হা’রা’ম! বউয়ের লেইগা আমার লগে এমন করলি না? আমি তোরে অভিশাপ দিলাম, তোর দুই হালি বাচ্চা হইব। সারাদিন ক্যাসেটের মতো বাজব। তোরে জ্বালাইব। রাইতে ঘুমাইতে দিব না। তোর কোলে হাগব, মুতব। দুই হালি বাচ্চার অত্যাচারে তুই সারাদিন কানবি।”

“দুই হালি দিয়ে কী হবে? একটা ক্রিকেট টিম নয়তো ফুটবল টিম যেন বানাতে পারি এই অভিশাপ বা বদ দু’আ যেটাই হোক দে। এখন আর আমার মাথা খাইস না। ঘুমা।”

মেসেজটা পাঠিয়ে প্রণয় ফোন প্যান্টের পকেটে রেখে, গুনগুনের হাত ধরে চুপ করে বসে রইল। মাসুদ মেসেজ পড়ে প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে স্বগতোক্তি করে বলল,

“শা’লা!”

পাশ থেকে মেয়েটা চিড়বিড় করে বলে উঠল,

“অ্যাই আপনি আমাকে গা’লি দিলেন কেন?”

মাসুদ থতমত খেয়ে বলল,

“গা.. গা’লি? কই না তো! আমি তো আপনাকে কোনো গা’লি দেইনি।”

“মিথ্যা বলবেন না। আমি নিজের কানে শুনেছি আপনি আমাকে শা’লা বলেছেন।”

“না, না আপনাকে বলিনি। আমার বন্ধুকে বলেছি। ঐযে ঐ সীটে আমার বন্ধু আর আমার সতিন বসে আছে।”

মেয়েটা চোখ বড়ো বড়ো করে বলল,

“আপনার সতিন মানে?”

মাসুদের মাথা ও কথা দুটোই গুলিয়ে যাচ্ছে। সবসময় গুনগুনের সাথে সতিনের মতো ঝগড়া করে, এখন আবার মেয়েটার পাশে বসে নার্ভাস ফিল করছিল। সব মিলিয়ে মাসুদের এখন হযবড়ল অবস্থা। কী থেকে যে কী বলছে কিছুই বুঝতে পারছে না। মেয়েটা তখনো বিস্ময় নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। মাসুদ ঢোক গিলে বলল,

“দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না। নার্ভাসের জন্য উলটা-পালটা কথা বলে ফেলতেছি। আমার বন্ধু আর বন্ধুর বউ বসে আছে পাশের সীটে। আপনি এভাবে কেন তাকিয়ে আছেন? আমার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, বিশ্বাস করুন। আমার বন্ধুকে ডাকব?”

“থাক, থাক কাউকে ডাকতে হবে না। আপনি ছেলেরুপী মেয়ে হলেও আমার কোনো সমস্যা নেই। বরং আরো ভালো।”

মাসুদ হতাশ চোখে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা কি কোনোভাবে ওকে গে ভাবছে? কী আশ্চর্য ব্যাপার! ছেলে মানুষের প্রতি তো ওর কোনো কালেই আকর্ষণ ছিল না। আসলে আসল সমস্যা তো এই মেয়েগুলোই। সবসময় দুই লাইন বেশি বুঝবে। ছেলেরা বলবে তিল, ওরা সেটাকে বানাবে তাল। সোজা কথা এরা জীবনেও সোজাভাবে নেবে না। অদ্ভুত কারবার এদের!

বাস চলছে। সবাই যে যার মতো বসে আছে। কেউ কেউ ঘুমাচ্ছে, কেউ ফোন দেখছে। প্রণয়-গুনগুনও ঘুমে। বাসের লাইট বন্ধ হতেই মেয়েটা আঁটশাঁট হয়ে বসল। হয়তো পাশে অচেনা ছেলে বলেই মনে কিছুটা ভয় কাজ করছে। যদিও সে যথেষ্ট সাহসী। শুধু সমস্যা একটাই যে, রাতে সে ঘুমাতে পারবে না। পাশে যদি কোনো মহিলা বসত তাহলে আরামসে ঘুমিয়ে যেতে পারত। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আরকি!

মাসুদ মেয়েটার জড়তা বুঝতে পারছিল। সেই সাথে নিজেকে অনেক ছোটোও মনে হচ্ছিল। কিছু কিছু পুরুষের জন্য মেয়েরা গোটা পুরুষজাতিকে বিশ্বাস করতে ভয় পায়। এটা সত্যিই পুরুষদের জন্য ভীষণ লজ্জাজনক একটা ব্যাপার।

ঘুম যাতে না আসে তাই মেয়েটা কানে হেডফোন লাগিয়ে কার্টুন দেখছিল। মাসুদ এটা দেখে মনে হেসে ফেলল। এত বড়ো মেয়েও কার্টুন দেখে? আচ্ছা দেখুক! মাসুদও দুহাত বগলদাবা করে একদম জানালার পাশে ঘেঁষে বসেছে। চোখ বন্ধ করে সে ঘুমানোর চেষ্টা করছিল। চোখ দুটো যখন প্রায় লেগে আসবে আসবে ভাব, তখনই কারো ধাক্কাধাক্কিতে মাসুদের ঘুম ভেঙে গেল। কী হয়েছে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়েটা মাসুদের শার্টে ব’মি করে দিয়েছে। মাসুদ পাথরের মতো স্থির হয়ে বসে আছে। কী হলো এটা? সে একবার মাথা নত করে তার শার্টের দিকে তাকাল, আরেকবার মেয়েটার দিকে তাকাল। মেয়েটা তখন মুখে হাত দিয়ে বসে আছে। আরেকবার ব’মি আসতেই এবার মাসুদের ওপর দিয়েই সে জানালার কাচ খুলে ব’মি করতে লাগল। মাসুদ দুহাত উঁচু করে পাথর হয়ে বসে আছে, যেন মেয়েটার গায়ে ভুল করেও কোনো স্পর্শ না লাগে।

ব’মি করে মেয়েটা ক্লান্ত হয়ে সীটে হেলান দিয়ে বসে পড়েছে। মাসুদ পকেট থেকে টিস্যু বের করে নিজে কয়েকটা নিয়ে বাকিটা মেয়েটিকে দিল। মাসুদ তখন ফোনের ফ্লাশ লাইট অন করতেই মেয়েটা ঘাড় ফিরিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠে বলল,

“ওহ গড! আমি এটা কী করেছি!”

এরপর তড়িঘড়ি করে মাসুদের শার্টের ব’মি মুছতে লাগল। মাসুদের মধ্যে জড়তা কাজ করছিল। মিনমিন করে বলল,

“ঠিক আছে, ঠিক আছে। কোনো ব্যাপার না।”

“আ’ম সো সরি! আমি ইচ্ছে করে করিনি। আসলে আমি বাসে জার্নি করতে পারি না। ব’মি চলে আসে। ট্রেনের টিকিটও পাইনি। আবার বাসে জানালার পাশে সীটও পাইনি। আপনাকে ডেকেছিলাম, যখন ব’মি আসছিল। কিন্তু আপনি ওঠার আগেই….! আ’ম সো সরি।”

“সমস্যা নেই। আপনি আমাকে শুরুতে বললেই আমি সীটটা ছেড়ে দিতাম। যাই হোক, আপনি এখন আমার সীটে এসে বসুন। বলা তো যায় না যদি আবার ব’মি করে দেন!”

মেয়েটা অপরাধীর মতো মাথা নত করে ছিল। এরপর উঠে সে মাসুদের সীটে বসল। মাসুদ ব্যাগ থেকে শার্ট বের করে বদলে নিল। এরপর পাশে বসে বলল,

“আবার খারাপ লাগলে বইলেন।”

মেয়েটার মধ্যে আগের সেই রাগি ভাবটা এখন আর নেই। অনেকটা নরম হয়ে গেছে বলা যায়। অনেকক্ষণ নিরবতা পালন করে মেয়েটা নিজে থেকেই বলল,

“আমি ইসরাত। আপনি?”

“মাসুদ।”

“আপনি ঢাকায় থাকেন?”

“হ্যাঁ। আপনি?”

“আমার বাসা সিলেটেই। ঢাকায় আমি পড়াশোনা করি।”

“ওহ আচ্ছা।”

“সিলেটে কোথায় এসেছিলেন?”

“ঘুরতে।”

“কেমন ঘুরলেন?”

মাসুদ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,

“ভালোই!”

“ভালো তো হবেই। কারণ আমাদের সিলেট ভীষণ সুন্দর।”

“হ্যাঁ।”

কিছুক্ষণ কথা বলে দুজনই চুপ হয়ে গেছে। এরপর মাঝপথে যখন খাওয়ার জন্য ব্রেক টাইম দিয়েছে তখন সবাই বাস থেকে নামছিল। ইসরাত এরমধ্যেই ঘুমিয়ে গেছে। মাসুদ ডেকে জিজ্ঞেস করল,

“নামবেন না?”

ইসরাত হাই তুলে বলল,

“হ্যাঁ, একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার ছিল।”

“চলুন।”

প্রণয় গুনগুনকে নিয়ে আগেই নেমে গিয়েছে। মাসুদ এলো তখন ইসরাতকে নিয়ে। ইসরাত আগে সরাসরি ওয়াশরুমে চলে গেল।

“গুনগুন কই?” প্রণয়কে জিজ্ঞেস করল মাসুদ।

প্রণয় বলল,

“ওয়াশরুমে গেছে। তোর ব্যাপার কী?”

“কীয়ের ব্যাপার?”

“সবই তো দেখলাম।”

“কী দেখছোস তুই? তোর বউরে ছাড়া তুই আর কিছু চোখে দেহস? হায় আল্লাহ্!”

“নাটক করিস না। মেয়েটা তোর গায়ে ব’মি করছে দেখলাম। এরপর ভাব হইল কীভাবে?”

“আরে ভাব-টাব কিছু না।”

“মানাবে তোদের। ভেবে দেখতে পারিস।”

মাসুদের সাথে ইসরাতের অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। আর কথা বলে যা বুঝেছে, ইসরাত অনেক ভালো ফ্যামিলিতে বিলং করে। পরিবারের সবাই ওয়েল এডুকেটেড। নিজেও ঢাকার ভালো স্বনামধন্য প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করে। আর সেখানে মাসুদ তো ওর নখেরও যোগ্য না। তাই হেসে বলল,

“ধুর ব্যা’টা! সব মাইয়্যা কি আর গুনগুনের মতোন? তাও তো তুই পড়ালেখা করছোস, ভালো স্টুডেন্ট আছিলি। তুই দেখতেও অনেক সুন্দর। ঐ জায়গায় তো আমি কিছুই না। বামন হইয়্যা চাঁদের দিকে হাত বাড়ানোর সাহস আমার নাই।”

প্রণয় দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মাসুদের কাঁধে হাত রেখে বলল,

“আমরা কেউই পার্ফেক্ট না, মাসুদ। সবার জীবনেই কিছু না কিছু কমতি থাকে। তোর তো সুন্দর একটা পরিবার আছে। বাবা আছে, মা আছে, ভাই-বোন আছে। আমার আর গুনগুনের তো একটা পরিবারও নাই। আমরা দুজনই ব্রোকেন পরিবারের। গুনগুন আমার চেয়েও সুন্দর, শিক্ষিত, ওর মাথার ওপর অন্তত বটবৃক্ষের মতো একটা বাবা ছিল। ও চাইলেই পারত আমার থেকেও ভালো কাউকে বিয়ে করে সুখে থাকতে। কিন্তু ও তো ভালো কাউরে চ্যুজ করে নাই। আমার মতো বখাটে, বাজে একটা ছেলেকে বিয়ে করছে তাও আবার ভালো না বেসেই। আমার এতগুলো কথা বলার কারণ হলো, আমরা কেউই ভবিষ্যৎ জানিনা দোস্ত। কিন্তু যখন আমরা সত্যিকার অর্থেই কাউকে ভালোবেসে ফেলি, তখন আর আমরা এটা খুঁজতে যাই না যে, সে আমার জন্য পার্ফেক্ট কিনা। তখন আমরা সেই মানুষটার ইমপারফেক্টশনকেও ভালোবেসে ফেলি। আমি জানিনা, এই মেয়েটার সাথে তোর কিছু হবে কি না, আমি ওর কথা ভেবেও এসব তোকে বলিনি। শুধু এজন্যই বলেছি, কারণ আমি চাই না তুই কখনো নিজেকে ছোটো মনে করিস। তোর জায়গা থেকে তুই একদম ঠিক আছিস। তোর মতো মন সবার নাই।”

মাসুদের চোখ ছলছল করছিল। কান্না এড়িয়ে যেতে প্রণয়কে জড়িয়ে ধরে বলল,

“সর শা’লা আমারে আর ইমোশোনাল কইরা দিস না।”

ওয়াশরুমে মোটামুটি বেশ ভিড়। মহিলাদের জন্য হাঁটা যাচ্ছে না ঠিকমতো। বের হতে গিয়ে ধাক্কা খাওয়া লাগছে। ইসরাতের সাথেও গুনগুনের ধাক্কা লেগে গেল তখন। একটুর জন্য ইসরাত প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। গুনগুন তখন পেছন থেকে ওর হাত ধরে ফেলল। সাবধানে বের করে বাইরে এনে বলল,

“ঠিক আছেন?”

ইসরাত হেসে বলল,

“জি, আপু। থ্যাঙ্কিউ।”

গুনগুন হেসে বলল,

“ওয়েলকাম।”

এরপর গুনগুন চলে আসার পরও ইসরাত কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। ওর কাছে গুনগুনকে কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। মনে করতে পারছে না বলে আর মাথা ঘামাল না। আশেপাশে তাকিয়ে মাসুদকে খুঁজতে লাগল।

মাসুদ, প্রণয় ও গুনগুন একটা টেবিলে বসে ছিল তখন। ইসরাতকে দেখে হাত উঁচু করে নাম ধরে ডাকল মাসুদ। ইসরাত দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেল। কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে বসার সময় গুনগুনকে দেখে বলল,

“আরে আপনি!”

গুনগুনও বলল,

“আপনি?”

মাসুদ বলল,

“তোমরা দুজন দুজনকে চেনো নাকি?”

ইসরাত বলল,

“ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার সময় ধাক্কা লেগে আমি পড়ে যাচ্ছিলাম। তখন আপু আমায় ধরে নিয়ে এসেছে।”

“ওহ আচ্ছা। ওদের কথাই তখন আপনাকে বলেছিলাম। ও হচ্ছে আমার বন্ধু প্রণয় আর ও হলো প্রণয়ের ওয়াইফ, গুনগুন।”

ইসরাত নাম শুনে প্রণয় ও গুনগুনের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠে বলল,

“হায় আল্লাহ্! এজন্যই তো বলি, আপুকে এমন চেনা চেনা লাগছিল কেন! নাম শুনে আর ভাইয়াকে দেখার পর এখন চিনতে পারলাম। সিলেটে যে রিসেন্ট একটা ঝামেলা হলো আপনারাই তো ছিলেন?”

গুনগুন হাসার চেষ্টা করে বলল,

“হুম!”

ইসরাত উচ্ছসিত হয়ে বলল,

“ভাইয়া, আপনি একদম ঠিক করেছেন। এই ভিডিয়ো দেখার পর তো আমাদের বাসার সবারই মেজাজ খারাপ হয়ে গেছিল জানেন না! এসব জা’নো’য়া’র’দে’র জন্য কোথাও মেয়েদের শান্তি নেই। আব্বু, আম্মু সবাই আপনার খুব প্রশংসা করছিল জানেন? আমার এক ফ্রেন্ড তো আপনি বলতে অজ্ঞান একদম। আর শুধু আফসোস করে যে, আপনি কেন বিবাহিত হলেন? গুনগুন আপু যদি আপনার বউ না হয়ে বোন হতো তাহলে ভালো হতো এসব কথা বলে আফসোস করে শুধু।”

গুনগুনের এখন মোটেও হাসি পাচ্ছে না। রাগ লাগছে। মেজাজ চিড়বিড় করছে। ইসরাতের ওপর না, ইসরাতের ঐ বান্ধবীর ওপর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুনগুন জোরপূর্বক হাসছে। ও যে ভেতরে ভেতরে জ্বলছে এটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে প্রণয়। এজন্য মনে মনে হাসছেও সে।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে গুনগুন প্রণয়কে বলল,

“ওরা এখানে বসুক। চলুন, আমরা চা নিয়ে আসি।”

প্রণয় বলল,

“তুমিও বসো। আমি চা নিয়ে আসছি।”

“না, আমি যাব আপনার সাথে। অন্য কিছু খাবারও নেব।”

“আচ্ছা চলো।”

গুনগুন ওঠার সময় ইসরাতকে জিজ্ঞেস করল,

“তুমি আর কিছু খাবে?”

ইসরাত হেসে জবাব দিল,

“না, আপু।”

“ঠিক আছে। বসো তাহলে।”

বলে গুনগুন ও প্রণয় চলে যাচ্ছিল। মাসুদ তখন পেছন থেকে বলল,

“আমারে জিগাইলা না ক্যান?”

গুনগুন ঘাড় ফিরিয়ে বলল,

“আমি তো জানি আপনি কী খাবেন। আপনি খাবেন সিঙ্গা। তবে আমি তো এটা এখন এলাউ করব না। তাই জিজ্ঞেস করারও প্রয়োজন মনে করিনি।”

এরপর ওরা চলে যাওয়ার পর ইসরাত মাসুদকে জিজ্ঞেস করল,

“সিঙ্গা কী?”

মাসুদ পানি পান করে বলল,

“সিগারেট।”

“আপনি সিগারেট খান?”

ইসরাত এতটা বিস্মিত হয়ে প্রশ্নটি করল যে, আর একটুর জন্য মাসুদের নাক-মুখ দিয়ে পানি বেরিয়ে যায়নি। সে গ্লাসটা টেবিলের ওপর রেখে ঢোক গিলে বলল,

“একটু একটু খাই আরকি!”

“খাওয়া উচিত না।”

মাসুদ কী বলবে বুঝতে পারছে না কিছু। ইসরাত বুঝতে পারছে যে, মাসুদ বিব্রতবোধ করছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জিজ্ঞেস করল,

“আপনি আর আপু সবসময়ই কি এমন ঝগড়া করেন? খাওয়ার সময়ও কতবার কথা কাটাকাটি হলো দুজনের।”

“ওর কথার ধরণ দেখেছেন? এমনি এমনি কি আর ওকে সতিন বলি? আমার বন্ধুকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।”

ইসরাত হাসতে হাসতে বলল,

“বন্ধুর জন্য কেউ এতটা পাগল হয় জানতাম না।”

মাসুদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ইসরাতের হাসি দেখছিল। ইসরাত হাসি থামিয়ে বলল,

“বাই দ্য ওয়ে, আপনি তো আমার সাথে খুব সুন্দর করে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলেন। ভাইয়া আর আপুর সাথে ওরকম অশুদ্ধ ভাষায় কথা বলেন কেন?”

মাসুদ মাথা চুলকে বলল,

“জানিনা, আপনার সাথে কথা বলার সময় শুদ্ধ ভাষা চলে আসে কেন জানি!”

ইসরাত হেসে বলল,

“এনিওয়ে, আপনার অশুদ্ধ ভাষায় বলা কথাগুলোও সুন্দর লাগে।”


হোটেলের বাইরে এসে প্রণয় দোকানে যাচ্ছিল। গুনগুন তখন ওর হাত ধরে টেনে একটা বাসের আড়ালে নিয়ে গেল। জায়গাটা মোটামুটি অন্ধকার। প্রণয় ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“এখানে নিয়ে এলে কেন?”

গুনগুন চোখ-মুখ কুঁচকে তাকিয়ে আছে। ধীরে ধীরে গুনগুন এক পা, এক পা করে আগাচ্ছিল, আর প্রণয়ও তখন এক পা, এক পা করে পেছাচ্ছিল। হঠাৎ করে গুনগুনকে ওর ভয় লাগছে। প্রণয় পেছাতে পেছাতে বলল,

“অ্যাই, তুমি কি এখানে আমাকে মা’র’তে নিয়ে এসেছ?”

গুনগুন এবার এগিয়ে গিয়ে প্রণয়ের শার্টের কলার চেপে ধরল। প্রণয়কে বাসের সাথে চেপে ধরে বলল,

“অ্যাই শা’লা, ইসরাতের কথা শুনে তখন খুব মজা লাগছিল তাই না?”

প্রণয় বিস্ময়ে মুখে হাত দিয়ে বলল,

“হায় আল্লাহ্! এ কী ভাষা! তুমি আমাকে শা’লা বললে? এই হারা’মজাদা মাসুদ আমার বউকে নষ্ট করে ফেলছে। ওর থেকে তুমি এসব গা’লি শিখেছ তাই না?”

“গা’লি? শা’লা কোনো গা’লি হলো? গা’লি-তে আমার পিএইচডি করা আছে। শুধু মুখ দিয়ে বের হয় না এটাই যা সমস্যা। প্রয়োজন হলে গা’লি মুখ থেকে বের করব।”

“কিন্তু আমি কী করেছি? আমার ওপর তুমি এমন ক্ষেপে আছো কেন?”

“ইসরাত যখন বলল, ওর বান্ধবী আপনার জন্য পাগল হয়ে গেছে, এবং আফসোস করতেছিল আমি যদি আপনার বউ না হয়ে বোন হতাম তাহলে খুব ভালো হতো। তখন এরকম দাঁত বের করে হাসতেছিলেন কেন? খুব আনন্দ লাগছিল তাই না? ফেসবুকে মেয়েরা আপনাকে নিয়ে পোস্ট শেয়ার দিচ্ছে। এসব দেখে আপনি তো এখন আকাশে উড়তেছেন।”

প্রণয় হেসে গুনগুনের হাত থেকে শার্টের কলার ছাড়িয়ে নিল। এরপর হাত ধরে বলল,

“আমার কি এতকিছু দেখার সময় আছে নাকি? আমি আমার বউকে দেখেই কূল পাই না! তাছাড়া আমি তখন হাসছিলাম তোমাকে জেলাস হতে দেখে। যাই বলো না কেন, তুমি রাগ করলে যতটা না সুন্দর লাগে, তারচেয়েও বেশি সুন্দর লাগে যখন তুমি আমাকে নিয়ে জেলাস হও। আহ্! কী যে শান্তি লাগে আমার। তোমার ঐ জেলাসিতে আমি ভালোবাসা খুঁজে পাই। আমাকে খুঁজে পাই।”

গুনগুন হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

“ধুর! ফা’ল’তু একটা!”

এরপর ও চলে যাচ্ছিল। প্রণয়ও তখন পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে গুনগুনকে শুনিয়ে গুনগুন করে গাইছিল,

“আহা ম’রি সুন্দরী
ডার্লিং ভেরি সরি,
কী যে করি, মন মানে না।
দোহাই তুমি রাগ করো না,
দোহাই তুমি রাগ করো না।”

গান শুনে গুনগুন হেসে ফেলল। হাসতে হাসতে বলল,

“আচ্ছা আপনি এরকম বেসুরো কণ্ঠ নিয়েও গান গাওয়ার কনফিডেন্স পান কোথায়?”

“বউয়ের সামনে আবার সুরেলা, বেসুরো কণ্ঠ আছে নাকি? এটা তো আমার হিডেন ট্যালেন্ট। শুধু তুমি জানো।”

গুনগুন থেমে গেল। দুহাত সামনে জড়ো করে বলল,

“দয়া করে আপনার হিডেন ট্যালেন্ট হিডেন-ই রাখুন প্লিজ!”

প্রণয় হেসে সুর দিয়ে বলল,

“সরি, মাই প্রিটি লিটল বেবি…”

গুনগুন দীর্ঘশ্বাস নিয়ে রাগ দেখিয়ে বাসের দিকে হাঁটা ধরল। উলটো ফিরেই মুচকি হাসল সে, যা প্রণয় একটুও টের পেল না।

গুনগুন চলে যাওয়ার পর প্রণয় দোকানে গিয়ে চা নিল আগে। এরপর মাসুদ ও ইসরাতকে নিয়ে বাসে এলো। প্রণয় এসে সীটে বসার পর গুনগুন ব্যাগ থেকে গাঢ় লাল রঙের লিপস্টিক বের করে ঠোঁটে দিচ্ছিল। প্রণয় জিজ্ঞেস করল,

“এই রাত-বিরাতে হঠাৎ লিপস্টিক দিচ্ছ কেন? এখন আমাকে একদম সি’ডি’উ’স করবে না। এটা পাবলিক প্লেস। বেডরুম না।”

গুনগুন চোখ গরম করে তাকাল। কিছু বলল না। লিপস্টিক ব্যাগে রেখে, প্রণয়ের কাছে এগিয়ে এলো। প্রণয়ের সাদা শার্টে বুকের কাছটায় চুমু দিয়ে লিপস্টিকের দাগ বসিয়ে দিয়ে চোখ পিটপিট করে একটা হাসি দিল। প্রণয় হকচকিয়ে বলল,

“এটা কী করলে?”

গুনগুন চোখ পিটপিট করে বলল,

“সিল মেরে দিলাম। কেউ যেন আর আপনার দিকে নজর দিতে না পারে। আপনি শুধু আমার।”

“মানুষ দেখলে কী ভাববে?”

“কী আর ভাববে? এটাই ভাববে যে, এই চিকনা আমার।”

প্রণয় মাথা নত করে হাসছে। এরপর গুনগুনের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,

“তাহলে ঠোঁটেও একটা দাও।”

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply