প্রণয়ে_গুনগুন
পর্ব_২১
মুন্নিআক্তারপ্রিয়া
গুনগুন ও প্রণয় মুখোমুখি বসে আছে। ওদের পাশে বসে আছে মাসুদ ও কুলসুম। গুনগুন একদম ভাবলেশহীন। যেন কিছুই হয়নি। কিন্তু প্রণয় সবটা জানে। রাতে মাসুদ আর কথা পেটে আটকে রাখতে পারেনি। প্রণয়কে সব বলে দিয়েছে। তার আগেই অবশ্য কুলসুমকেও জানিয়েছে।
প্রণয় সবটা জানার পর মাসুদকে নিয়ে এসেছে বাসায়। মাসুদ ভয়ে আসার সময় কুলসুমকেও মেসেজ করে আসতে বলেছে। বলা তো যায় না, স্বামী-স্ত্রী মিলে যদি আবার ওকে মা’রে? দুজনই তো মা’স্তা’ন!
সবাই একসাথে যখন নিরবতা পালন করছিল তখন সেই নিরবতায় ভাঙন ধরিয়ে কুলসুম বলল,
“এরপর কি আমরা জাতীয় সঙ্গীত গাইব?”
প্রণয় বলল,
“মানে?”
“সবাই এরকম নিরবতা পালন করছিস কেন?”
“তুই হঠাৎ এভাবে আসলি কেন? রাত দশটার পর তো তুই আসিস না।”
কুলসুম খুব কাঁদোকাঁদো ভান ধরে বলল,
“তুই এভাবে বলতে পারলি আমাকে?”
“আহ্! ঢং করিস না তো। আমি নরমালি জিজ্ঞেস করেছি। কেন এসেছিস? কোনো দরকার?”
মাসুদ কাচুমুচু করে বলল,
“আমি আইতে কইছি।”
কুলসুম রেগেমেগে বলল,
“কেন রে কোনো দরকার ছাড়া কি আমি তোর বাসায় আসতে পারি না? ঠিক আছে, চলে যাচ্ছি।”
কুলসুম উঠে চলে যাওয়ার সময় মাসুদ ওর হাত ধরে টেনে আবার বসিয়ে দিল। মুখটা অসহায়ের মতো করে বলল,
“এই ডা’কা’ত’দের হাতে রাইখা যাইস না আমারে!”
প্রণয় ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। মাসুদ ফট করে বলল,
“আমার কোনো দোষ নাই।”
“আজকের ব্যাপারে কিছু জানিস তুই?” কুলসুমকে জিজ্ঞেস করল প্রণয়।
কুলসুম ভাব ধরে আছে যে, সে প্রণয়ের সাথে কথা বলতে একদম আগ্রহী নয়। তাই ভেংচি কেটে জিজ্ঞেস করল,
“কোন ব্যাপারে?”
“হিয়ার কলেজে যে গিয়েছিল ওরা?”
কুলসুম এবার আমতা আমতা করে বলল,
“কই না তো! আমি কী জানব?”
মাসুদ পেট পাতলা হলেও, কুসুম এরকম নয়। সে মাসুদকে কথা দিয়েছিল, এই কথা সে কাউকে বলবে না। সেই ওয়াদা রাখতেই ঝটপট মিথ্যা বলে ফেলল কুলসুম। যদিও ওর মুখে একটা চোর চোর ভাব আছে। প্রণয় কিছু বলার পূর্বেই গুনগুন সোজা হয়ে বসে বলল,
“আপনার যা জানার আছে, আমাকে জিজ্ঞেস করুন। ওনাদের শাসাচ্ছেন কেন?”
প্রণয় গম্ভীর হয়ে বলল,
“আমি কাউকেই শাসাচ্ছি না।”
“আপনি ওনাদেরকে জেরা করছেন।”
“আর করলেই বা কী? ওরা আমার ফ্রেন্ড।”
গুনগুন চুপ করে তাকিয়ে আছে। প্রণয়ের রাগ হচ্ছে খুব। গুনগুন কেন এত রিস্ক নিতে গেল? রাগটা এজন্যই হচ্ছে। কিছুটা সময় নিয়ে রাগ কন্ট্রোল করে মাসুদ ও কুলসুমকে বলল,
“তোরা বাসায় যা।”
মাসুদ গাল ফুলিয়ে বলল,
“না। এই বিষয়ে যা কওনের আমগোর সামনেই ক। দোষ আমারও আছে। রাগ দেখাইলে আমারেও দেখা। গুনগুন তো একা কিছু করে নাই।”
কুলসুম হঠাৎ করে হেসে হাত তালি দিয়ে বলল,
“বাহ্, বাহ্ শ’ত্রু, শ’ত্রু দেখি মিত্র হয়ে যাচ্ছে। দারুন, দারুন!”
প্রণয় ওর দিকে তাকাতেই থতমত খেয়ে বলল,
“এমনিই বললাম আরকি!”
প্রণয় মাসুদকে বলল,
“তোর থেকে আমার দরদ কিছু কম না। বাসায় যা।”
গুনগুনও তখন শান্ত কণ্ঠে বলল,
“মাসুদ ভাই, বাসায় যান।”
মাসুদ উঠে দাঁড়াল। শার্টের কলার ঠিক করে বলল,
“তোমার ওপর আমার ভরসা আছে। তুমি কইতাছ বইলা যাইতাছি। হিয়ারে যেই থা’প্প’ড়গুলা দিছ ঐগুলা প্রণয়রে দিলে ফিট হইয়া যাইব। তাই কোনো টেনশন করলাম না।”
এরপর কুলসুমের দিকে তাকিয়ে বলল,
“চল দোস্ত।”
কুলসুম এবং মাসুদ দুজনে চলে যাওয়ার পর প্রণয় দরজা আটকে এলো। গুনগুন বিছানা ঝাড়ছিল শোয়ার জন্য। প্রণয় দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ঘুমাবে নাকি?”
গুনগুন ভীষণ রেগে আছে। কিন্তু প্রকাশ করছে না। শুধু গম্ভীর হয়ে বলল,
“হু।”
“খাবে না? খাবার নিয়ে আসছি। খেয়ে তারপর ঘুমাও।”
“ক্ষুধা নেই। খাব না আমি। আপনি খেয়ে নিন।”
“ঠিক আছে, খেও না। আমিও খাব না।”
প্রণয় জোর তো করলই না, উলটো নিজেও রাগ করে রাতে খেল না। জামা-কাপড় চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখল, গুনগুন ইতোমধ্যে একপাশ ফিরে শুয়ে পড়েছে। প্রণয়ও লাইট নিভিয়ে এসে অন্যপাশ ফিরে শুয়ে পড়ল।
গুনগুনের দুচোখ বন্ধ। কিন্তু সে প্রণয়ের উপস্থিতি টের পাচ্ছে। রাগ যে কখন অভিমানে পরিণত হয়েছে গুনগুন বুঝতেও পারেনি। প্রণয় আজ একটাবার খাওয়ার জন্য জোর করল না, রাগ ভাঙাল না, জড়িয়ে ধরল না, দুষ্টুমি করল না, গুনগুনকে একটু জ্বালালও না! উলটো আবার নিজেই রাগ করে অন্যপাশ ফিরে শুয়ে পড়ল। কেন? গুনগুন কি কোনো ভুল করেছে? অন্যায় করেছে? গুনগুনের চোখ উপচে পানি আসছে। ঠোঁট ভেঙে কান্না পাচ্ছে তার।
একবার ঐপাশে মাথা ঘুরিয়ে দেখল, মাঝখানে বিশাল জায়গা রেখে প্রণয় ঐপাশ ফিরে শুয়ে রয়েছে। গুনগুন মাথা ঘুরিয়ে নিল। বালিশের ওপর হাত রেখে, সেই হাতের ওপর তার গাল রাখা। ঠোঁট কামড়ে ধরে মনেপ্রাণে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে সে।
আচমকা ঝড় এলো। প্রাকৃতিক কোনো ঝড় নয়। কৃত্রিম ঝড়। ঝড়ের বেগে কাছে এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল প্রণয়। গুনগুনের উন্মুক্ত পেটের ওপর হাত রেখে, ঘাড়ে মুখ গুঁজে বলল,
“সরি!”
একটুখানি স্পর্শ, গভীর আলিঙ্গন ও প্রণয়ের মুখ ফুটে বলা ছোট্ট একটা শব্দ ‘সরি!’ ব্যস, গুনগুনের সকল রাগ-অভিমান গলে পানিতে রূপান্তন হলো। এতক্ষণ আটকে রাখা কান্নাগুলো আর বাঁধ মানল না। গুনগুন হুহু করে কাঁদছে। বাচ্চাদের মতো ফোঁপাচ্ছে। প্রণয় একটানে ওকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। নিজের হাতের ওপর গুনগুনের মাথা রেখে, কিছুটা ওর ওপর ঝুঁকে শুয়ে বলল,
“একদম কাঁদবে না!”
গুনগুন দুহাতে ঠেলে প্রণয়কে সরানোর চেষ্টা করছে। প্রণয় অন্যহাতে গুনগুনের দুহাত চেপে ধরে বলল,
“আমাকে গায়ের শক্তি দেখাচ্ছ? পারবে তুমি আমার সাথে? আমি কিন্তু হিয়া নই।”
গুনগুন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“জানি! কিন্তু হিয়ার ওপর আপনার মায়া। অনেক দরদ।”
প্রণয় বিস্ময়াভিভূত হয়ে বলল,
“কী?”
“কিছু না। আপনার সাথে এখন কথা বলতে ইচ্ছে করছে না আমার। ঘুমাব আমি।”
“কিন্তু আমি কথা বলব। এভাবে দুজন দুজনকে ভুল বুঝে, রাগ-অভিমান নিয়ে দুই প্রান্তে ঘুমাতে পারব না। ওঠো।”
গুনগুনকে টেনে শোয়া থেকে উঠে বসাল প্রণয়। গুনগুন দুহাতে চোখের পানি মুছছে। প্রণয় বলল,
“আমার ওপর তোমার কী কী অভিযোগ?”
“কোনো অভিযোগ নেই।”
প্রণয় কান্নারত গুনগুনকে অবাক হয়ে দেখছে। সামনে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে থাকা মেয়েটাই নাকি হিয়াকে ওর কলেজে গিয়ে মে’রে এসেছে! এটা কেউ বিশ্বাস করবে? মাসুদ না বললে হয়তো প্রণয় কখনোই বিশ্বাস করতে পারত না। যদিও সে জানে, গুনগুন ভীষণ রাগি, তেজি ও সাহসী কিন্তু তবুও ও যে কোনো মেয়েকে এভাবে মা’র’তে পারে এটা প্রণয়ের কল্পনাতেও আসেনি কখনো!
দীর্ঘশ্বাস নিয়ে প্রণয় গুনগুনের দুহাত ধরে বলল,
“তুমি কি ভাবছ, তুমি হিয়াকে মে’রে’ছ বলে আমি ওরকম রিয়্যাক্ট করেছি?”
গুনগুন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল,
“তাছাড়া আর কী?”
“না, গুনগুন! ঐ মেয়ে আমার কে? আমি কেন ওর জন্য ঘাবড়াব? রিয়্যাক্ট করব? আমি তোমাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছিলাম। আমার ভয় এখানেই যে, যদি তোমার সাথে খারাপ কিছু হতো? যদি তোমার ক্ষতি কেউ করত? তোমার জন্য চিন্তা হয় বলেই রিয়্যাক্ট করি। দুনিয়ায় তুমি ছাড়া আমি কিচ্ছু নিয়ে ভাবি না, কাউকে নিয়ে ভাবি না। তোমার গায়ে একটা ফুলের টোকা পড়লেও আমি পাগল হয়ে যাব। যে এই কাজ করবে, হয়তো তাকেও আমি খু’ন করে ফেলব।”
“কে কী করত আমাকে? মাসুদ ভাইয়া ছিল, রাধিকা ছিল, আপনাদের সাঙ্গপাঙ্গ ছিল।”
“কুলসুম বাকি ছিল কেন? ওকেও নিয়ে যেতে।”
“মনে ছিল না তখন। মনে থাকলে ঠিকই নিয়ে যেতাম।”
প্রণয় হেসে ফেলল। বলল,
“ঠিক আছে, পরেরবার এমন কিছু হলে কুলসুমের সাথে আমাকেও নিয়ে যেও।”
“পরেরবার এমন কিছু হবে মানে? ক্লাস ফাইভের ওপরে আপনি কোনো মেয়েকেই আর পড়াতে পারবেন না। তাছাড়া আপনার বিজনেস তো এখন ভালোই চলছে। টিউশনি না করলেও তো হয়।”
“তুমি বললে আর করব না।”
“হ্যাঁ, দরকার নেই।”
“মাসুদ বলল, তুমি নাকি হিয়াকে খুব মে’রে’ছ?”
“ভুল বলেছে। ঐটাকে খুব মা’রা বলে নাকি? একদম জানে মে’রে ফেলতে পারলে ভালো লাগত।”
“কেন?”
“কেন মানে? ঐ প্র’স্টি’টি’উ’ট’টা আপনাকে ব্ল্যা’কমেইল করেছিল। আপনার দিকে খারাপ নজর দিয়েছিল। অন্তত ওর চোখ দুইটা যদি পারতাম তুলে ফেলতে! যেই হাত দিয়ে আপনাকে ও স্পর্শ করেছে, ঐ হাত যদি মুচড়ে না দিয়ে ভে’ঙে ফেলতে পারতাম তাহলে আমার শান্তি লাগত!”
কথাগুলো বলতে বলতে রাগে কাঁপছিল গুনগুন। প্রণয় মুগ্ধ হয়ে শুনছিল, দেখছিল গুনগুনকে। এই কি সেই গুনগুন? আগের গুনগুন? উঁহুম! একদম নয়। প্রণয় তো মেলাতে পারছে না।
প্রণয়কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে গুনগুন থেমে বলল,
“এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”
“দেখছি।”
“কী?”
“তোমাকে। কে যেন সবসময় বলে, আমাকে ভালোবাসে না। শুধু ঘৃণা করে। কে যেন এটাও বলেছিল, তার কোনো হিংসা হয় না আমাকে নিয়ে। সেই মেয়েটা কি তুমিই? আমার কেন জানি বিশ্বাস হচ্ছে না। এই সত্যি করে বলো তো তুমিই কি আমার গুনগুন? নাকি আমার বউকে কোথাও আটকে রেখে ওর রূপ ধরে এসেছ? বলো, বলো সত্যি করে বলো?”
“ধ্যাত! ড্রামা কিং!”
গুনগুন এক দৌঁড়ে বিছানা থেকে নেমে গেল। উদ্দেশ্য রান্নাঘরে যাবে। প্রণয়ও অন্য সাইড দিয়ে নেমে দরজার সামনে দাঁড়াল। জিজ্ঞেস করল,
“পালাচ্ছ কোথায়?”
“রান্নাঘরে যাব। খাবেন না?”
“খাওয়া-দাওয়া সব পরে। আগে প্রমাণ দাও যে, তুমিই আমার বউ।”
“কী পাগলামি শুরু করলেন?”
“এখনো তো কিছুই শুরু করিনি। তবে এবার করব।”
প্রণয় একটু একটু করে সামনে আগাচ্ছে। গুনগুন একটু একটু পেছনে যাচ্ছে। শক্ত করে শাড়ির আঁচল ধরে বলছে,
“সমস্যা কী? কী চাচ্ছেন?”
“তোমায়।”
“ফাজলামো করবেন না।”
গুনগুন পেছাতে পেছাতে একদম দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকে গেছে। দেয়ালের সাথে মাথা লাগার পূর্বেই প্রণয় দ্রুত এক হাত গুনগুনের মাথার পেছনে রাখল। গুনগুন স্থির হতেই প্রণয় দেয়ালের ওপর দুপাশে হাত রেখে বলল,
“ব্যস? পালানো শেষ? এটুকুই গণ্ডি ছিল?”
প্রণয়ের এই রোমান্টিক রূপটাকে গুনগুন ভীষণ ভয় পায়। তারচেয়েও বেশি পায় লজ্জা। চোখে চোখ মেলাতে পারে না একদম। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে। কখনো কখনো ভয়ে দম আটকেও আসে। এইযে এখন যেমন ভয়ে বুকটা ধুকপুক করছে। হৃৎস্পন্দন হচ্ছে দ্রুত। প্রণয় ঘনিষ্ঠ হলো আরো। এক হাতে গুনগুনের উন্মুক্ত কোমরে রেখে টেনে কাছে নিয়ে এলো। দুজনের মাঝে এখন আর কোনো দূরত্ব নেই। গুনগুনের দৃষ্টি নত। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে মেয়েটা। সেই ভারী নিঃশ্বাস প্রণয়ের বুকে আছড়ে পড়ছে। গুনগুন যেমন প্রণয়ের রোমান্টিক রূপকে ভয় পায়, অন্যদিকে গুনগুনের এই লজ্জা পাওয়াটাকে ভীষণ ইনজয় করে প্রণয়। এই যেমন এখনো লজ্জাবতী গুনগুনকে দেখে ওর দারুণ ভালোলাগা কাজ করছে। গুনগুনের বুকের দ্রুত ওঠানামা থেকে শুরু করে, হাত-পা কাঁপুনিও স্পষ্ট টের পাচ্ছে প্রণয়। ঠোঁট টিপে মুচকি মুচকি হাসছে সে। অন্য হাত দিয়ে গুনগুনের গালে স্লাইড করতে করতে আঙুল এসে স্থির হলো গুনগুনের কাঁপান্বিত পেলব ঠোঁটের ওপর। গুনগুনের নিঃশ্বাস এখন আরো ভারী হচ্ছে। প্রণয় বাঁকা হাসি দিয়ে আঙুল থুঁতনি থেকে গলায় নিয়ে এলো। গলা থেকে স্লাইড করে করে বুকের কিছুটা কাছে আসতেই ফট করে ওর হাত ধরে ফেলল গুনগুন। প্রণয় হাসল, তবে বাঁধা মানল না। উপরন্তু গুনগুনের ধরে রাখা হাতটিতে প্রণয় ঠোঁট ছোঁয়াতেই, গুনগুন হাতও সরিয়ে নিল। প্রণয় যেন নিজের পরিকল্পনায় জয়ী হতে পেরেছে, এমন ভনিতায় হাসল। ফের তার হাত গুনগুনের বক্ষভাগে স্পর্শ করতে গেলে, গুনগুন সেই স্পর্শ ঠেকাতে প্রণয়কে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। প্রণয় হেসে ফেলে। সেও গুনগুনকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল,
“আমার বউ আমার থেকেও চতুর!”
প্রত্যুত্তরে গুনগুন মুচকি হাসল। প্রণয় ফের ফিসফিস করে বলল,
“আজ তো অন্তত বলে দাও।”
গুনগুন নিস্তেজ ও ভারী কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“কী?”
“লাভ ইউ।”
মুচকি হাসল গুনগুন। প্রণয়কে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
“হেইট ইউ!”
প্রণয় এবার শব্দ করে হাসতে হাসতে বলল,
“না, ঠিক আছে এবার। এটাই আমার আসল বউ। আমার পাখি। আমার বউপাখি।”
গুনগুন সুযোগ পেয়ে প্রণয়কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দৌঁড় দিল। তবে প্রণয়ের নাগালের বাইরে যেতে পারল না। পেছন থেকে হাতে টান পড়ায় গুনগুনকে বাধ্য হয়েই থেমে যেতে হলো। প্রণয় গুনগুনের হাত ধরে টেনে কাছে এনে, কোমর জড়িয়ে ধরল। এরপর তার স্বভাবসুলভ বেসুরো কণ্ঠে গাইতে লাগল,
“ও বউ,
তুমি আমায় কি ভালোবাসো না?
ও বউ,
কেন তুমি আমার কাছে আসো না?
ও বউ,
চলো ঝগড়া, মা’রা’মা’রি,
ভুলে যাই তাড়াতাড়ি;
ইতনা গুস্সা কিউ?
তুমি কেন এত বোকা সাজো?
আমায় একটু বোঝো,
শোনো না,
আই লাভ ইউ।
ও বউ…”
চলবে…
[বিঃদ্রঃ দয়া করে নাইস, নেক্সট, সুন্দর এসব মন্তব্য করবেন না। কয়েকজন ব্যতীত প্রায় সবাই শুধু এই কমেন্টগুলোই করেন। সত্যি বলতে আপনাদের ভাবলেশহীন মন্তব্যের জন্যই লেখার আগ্রহ পাই না মাঝে মাঝে। তিন হাজার, সাড়ে তিন হাজার একটা পর্ব কষ্ট করে দেওয়ার পরও যখন আপনাদের এই এক শব্দের একটা কমেন্ট পাই তখন সত্যিই খুব হতাশ হই। আমরা লেখকরা লিখিই আপনাদের জন্য, অথচ আপনাদের কোনো গঠনমূলক মন্তব্যই পাই না। তাহলে কেন ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও একজন লেখক গল্প দেবে বলুন? এখন থেকে আপনারা যেমন রেসপন্স করবেন, আমিও তেমনই গল্প দেবো। কারণ উৎসাহ না পেলে আমিও লেখার আগ্রহ পাই না। এখন বাকিটা আপনাদের ওপর নির্ভর করছে যে, আপনারা দ্রুত গল্প চান নাকি সপ্তাহে একটি করে মাত্র পর্ব পড়বেন। হ্যাপি রিডিং।🫶]
Share On:
TAGS: প্রণয়ে গুনগুন, মুন্নি আক্তার প্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৮ (১ম অংশ)
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৭
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৮
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৭
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৪
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৬
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১১
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১০
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৯