Golpo romantic golpo প্রণয়ে গুনগুন

প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৪


প্রণয়ে_গুনগুন

পর্ব_১৪

মুন্নিআক্তারপ্রিয়া


গুনগুন ঘরের দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রণয় মাসুদসহ আর কতগুলো বন্ধুকে নিয়ে আসবাবপত্র সব গুছাচ্ছে। গুছানো প্রায় শেষের দিকে। তেমন করে দুজনের এখনো কোনো কথা হয়নি। প্রণয় আসার পর থেকেই সুমনা বেগম ঘরের দরজা আটকে বসে আছেন। ওসমান গণি এখনো অফিসে। ছুটি হয়নি তার।

অল্পবিস্তর কাজ যেটুকু বাকি ছিল ঐটুকু মাসুদদের বুঝিয়ে দিয়ে প্রণয় গুনগুনের কাছে এলো। গুনগুন দরজার সামনে থেকে সরে গিয়ে জায়গা করে দিল। প্রণয় অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“রুমে যাব?”

গুনগুন ছোট্ট করে বলল,

“হু।”

প্রণয় লজ্জা পাচ্ছে। পেছনে একবার ওদের দিকে তাকিয়ে বলল,

“কী ভাববে ওরা…”

“নাটক না করে রুমে যান।”

“ঠিক আছে। যাচ্ছি।”

প্রণয় রুমে যাওয়ার পর গুনগুনও ভেতরে ঢুকে দরজা হালকা চাপিয়ে দিল। প্রণয় তড়িঘড়ি করে বলল,

“আরে আরে কী করছ!”

“কী শুরু করেছেন আপনি?”

প্রণয় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল,

“আমি আবার কী করলাম? দরজা তো তুমি আটকে দিলে। বদমতলব তো তোমার।”

“আমি এসব জিনিসপত্রের কথা জিজ্ঞেস করেছি।”

প্রণয় এবার হেসে বলল,

“ওহ তাই বলো! শ্বশুরবাড়ির জিনিসপাতি ভেঙেছি। এজন্য শ্বশুরের হয়তো মন খারাপ। তিনি যেন হাসিমুখে মেয়েকে আমার হাতে তুলে দেন সেজন্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে গেলাম।”

“হাহ্! পুরো দুনিয়া আব্বুর হাতে তুলে দিলেও তিনি কখনোই আমাকে খুশি মনে আপনার হাতে তুলে দেবেন না।”

প্রণয়ের মুখের হাসি উবে গিয়ে, চোখ-মুখ শক্ত হলো। কঠিন হয়ে বলল,

“পুরো দুনিয়া কারো হাতে তুলে দিলে সেটা শুধু তোমাকেই দেবো। তোমার বাবাকে না।”

“তাহলে এসব করার কী প্রয়োজন ছিল? শুধু শুধু টাকাগুলো কেন নষ্ট করলেন?”

“যাতে তোমার দিকে কেউ আঙুল তুলে কথা বলতে না পারে। আমি চাই না, আমার জন্য বাড়িতে তুমি কোনো কথা শোনো।”

“আর কী চান না?”

“চাই না মানে? জিজ্ঞেস করো কী চাই আমি।”

“কী চান?”

“শুধু তোমাকে।”

গুনগুন বিরক্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাস নিল। দুহাত বগলদাবা করে দাঁড়িয়ে বলল,

“হয়েছে। যান এখন আপনি।”

“ওমা! এটুকু সময়ে কী হয়ে গেল? তুমি তো কিছুই করলে না।”

“আশ্চর্য তো! কী করব?”

“কিছু না করলে দরজা কেন বন্ধ করলে? যা করবে না তা নিয়ে কখনো আমাকে আশা দেবে না। আমি আরো কত কী ভেবে বসে আছি!”

বিস্ময়ে চোখ দুটো বড়ো বড়ো হয়ে গেল গুনগুনের। সে জিজ্ঞেস করল,

“কী ভেবেছিলেন আপনি?”

“অন্তত একটু জড়িয়ে ধরা কিংবা চুমু…”

গুনগুন আঙুল তুলে শাসিয়ে শাসিয়ে বলল,

“নিজের সীমার মধ্যে থাকেন বুঝলেন? নয়তো খুব খারাপ হয়ে যাবে বলে দিচ্ছি।”

প্রণয় চোখ টিপ দিয়ে বলল,

“বিয়ের পর তো আর কোনো সীমা থাকবে না।”

গুনগুন রেগেমেগে দরজা খুলে বলল,

“এই যান তো যান। এক্ষুনী বের হোন।”

“এভাবে অপমান করতেছ? সমস্যা নেই। তুমি আমাকে রুম থেকে বের করে দিলেও আমি তোমাকে স্বাচ্ছন্দ্যে আমার রুমে ওয়েলকাম করব। আমি তো আর তোমার মতো নির্দয়, নিষ্ঠুর না।”

“যাবেন আপনি?”

“যাচ্ছি, যাচ্ছি।”

গুনগুনকে রাগিয়ে দিয়ে প্রণয় সবাইকে নিয়ে বের হয়ে গেল। গুনগুন বিছানার ওপর বসে স্বগতোক্তি করে বলল,

“কী যে এক যন্ত্রণা!”


ওসমান গণি রাতে বাড়িতে ফিরে একটুখানি নয়, বরং অনেকটাই চমকে গিয়েছেন। ড্রয়িংরুম জিনিসপত্র দিয়ে একদম সাজানো-গোছানো। রুমে ঢোকার পর সুমনা বেগমের থেকে সবটা শুনলেন তিনি। এরপর শিহাবকে দিয়ে গুনগুনকে নিজের রুমে ডেকে পাঠালেন।

গুনগুন বাবার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল,

“ডেকেছিলে?”

“হুম। ভেতরে আয়।”

গুনগুন ভেতরে ঢুকে বলল,

“বলো।”

“এসব নাটকের মানে কী?”

“কোন নাটক?”

“প্রথমত একটা ক্যারেক্টারলেস দুই নাম্বার ছেলেকে ভালোবাসলি। ঐ ছেলের জন্য কত ভালো ভালো বিয়ের প্রস্তাব রিজেক্ট করেছিস তুই। তোকে এত বুঝিয়েও মাহবুবের থেকে দূরে সরাতে পারিনি। অনেক কষ্টে তোকে প্রমাণ জোগাড় করে দিলাম। ভেবেছিলাম, এবার তুই শোধরাবি। কিন্তু না! তুই তো এবার এরচেয়েও বড়ো ভুল করে বসে আছিস। জেনে-বুঝে এভাবে পচা শামুকে তুই কেন পা কাটতেছিস আমি সেটাই বুঝতে পারছি না। না আছে ঐ ছেলের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা, না আছে পরিবার আর না করে কোনো ভালো কাজকর্ম। এরকম একটা গুণ্ডা, বখাটে, খারাপ একটা ছেলেকে তুই কেন বিয়ে করতেছিস? ওর তো মাথাতেও সমস্যা আছে মনে হচ্ছে। সেদিন এসে বাড়ির সবকিছু ভাঙচুর করে চলে গেল। আজ এসে আবার সব কিনে বাড়ি সাজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। ড্রামা হচ্ছে? ড্রামার স্টেজ সাজিয়ে বসেছি আমি?”

মনোযোগ দিয়ে এতক্ষণ গুনগুন বাবার সব কথাগুলো শুনল। এবার একটু থেমে দম নিয়ে বলল,

“আব্বু, মাহবুবের ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই। একমাত্র ওকে নিয়েই তুমি আমায় যা ইচ্ছে তাই বলতে পারবে। কথা শোনাতে পারবে। আমাকে অপমান করতে পারবে, ছোটো করতে পারবে। জবাবে আমি কিছুই বলতে পারব না। কারণ আমি ঐ সময়ে অন্ধ ছিলাম। ভালোবাসতাম আমি মাহবুবকে। ভালোবেসে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। ও যা বলত তা-ই আমার কাছে সঠিক মনে হতো। কিন্তু কখনো এটা ভাবিনি যে, একদিন ও আমাকে সত্যি সত্যিই অন্ধ প্রমাণ করে দেবে।”

একটু থেমে ফের বলল,

“কিন্তু প্রণয়ের বিষয়টা আলাদা এবং প্রণয় নিজেও আলাদা। আমি ওকে ভালোবাসি না। কোনো অন্ধবিশ্বাসও করি না। কিন্তু ওকে কেন জানি বিশ্বাস করতে পারি। ওকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত আমি অন্ধ হয়ে নিইনি। যতটুকু বিশ্বাস করলে একটা মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া যায় ততটুকু বিশ্বাস আমি ওকে করতে পারি। ওর শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এটা তুমি বলতে পারবে না। হয়তো ওর গ্রাজুয়েশনের সার্টিফিকেটটা শুধু নেই। কিন্তু ও অনেক মেধাবী। পরিবার ওরও আছে। আমার মতোই। আমি শুধু এই বিষাক্ত পরিবার ছেড়ে একা থাকার সাহস করতে পারিনি কারণ আমি একটা মেয়ে। আর প্রণয় ছেলে বলে পরিবার ছাড়া একা থাকার সাহস করতে পেরেছে তফাৎ শুধু এটুকুই। আসবাবপত্র কিনে ক্ষতিপূরণ দেওয়াটা ওর মানসিক কোনো সমস্যা না; আমার প্রতি এটা ওর ভালোবাসার প্রমাণ ও সম্মান। ও খারাপ ছেলে তাদের জন্যই, যারা ওকে খারাপ হতে বাধ্য করে। প্রণয় আর কার কার জন্য খারাপ আমি জানি না, জানতে চাইও না। আমি শুধু জানি, পৃথিবীতে কেউ যদি নিঃস্বার্থভাবে আমাকে ভালোবেসে থাকে তাহলে সে প্রণয়। আমাকে যদি কেউ আগলে রাখতে পারে তাহলে সেই মানুষটা শুধুই প্রণয়। তুমি আমার বাবা হয়েও যা পারবে না ঐ ছেলেটা এখনো আমার স্বামী না হয়েও তা পারবে। একটা জ্বলন্ত উদাহরণ দেই তোমাকে। তুমি তো আমার জন্মদাতা বাবা। আমাকে জন্ম দিয়েছ,বড়ো করেছ, আদর করেছ একটা সময়। এরপরও তুমি আমাকে গভীর রাতে একা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার আগে একটাবার ভাবোনি যে, এই রাতের বেলায় আমি কোথায় যাব, কার কাছে যাব। অনেক খারাপ কিছু হতে পারত আমার সাথে। তুমি একটাবার আমার জান, সম্মান নিয়ে ভাবোনি। অন্যদিকে ঐ খারাপ ছেলেটাই আমার অপরিচিত হয়েও আমাকে কুলসুম আপুর বাসায় নিয়ে আশ্রয় দিয়েছে। তাহলে তুমিই বলো আমি কেন ওকে বিয়ে করব না? ও কোনো পচা শামুক না। ও ঝিনুকের মাঝে লুকিয়ে থাকা হীরে। তাই তুমি ভয় পেও না। আমার পা কাটার সম্ভাবনা নেই। আশা করি, তুমি তোমার সব উত্তর পেয়ে গেছ। আমি রুমে যাচ্ছি। কাজ আছে আমার।”

পেছন থেকে ওসমান গণি তখন বললেন,

“এখনো সময় আছে গুনগুন। ভেবে দেখ। তুই এই বখাটে ছেলেকে বিয়ে করবি নাকি কোনো ডাক্তারকে বিয়ে করে নিজের ব্রাইট ফিউচার আর ক্যারিয়ার তৈরি করবি।”

গুনগুন পেছনে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,

“আর কিছু ভাবার নেই। দুদিন পর আমার বিয়ে। বখাটে ছেলেটার হাতে আমাকে তুলে দেওয়ার জন্য উপহার হিসেবে সারাজীবনের জন্য মুক্তি দেবো তোমায়। আর কখনো তোমার বাসায় পা রাখব না। আর হ্যাঁ, বখাটে ছেলেটাকে বিয়ে করেই আমি আমার ক্যারিয়ার বানাব ইন-শা-আল্লাহ্।”

ওসমান গণি হতাশ হয়ে গুনগুনের চলে যাওয়া দেখছেন। তিনি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন যে, গুনগুনকে বুঝিয়ে আর কোনো লাভ নেই।
.
.

বিয়েটা হবে একদম ঘরোয়াভাবে। কোনো আয়োজন, গান-বাজনা কিছুই নেই। তবুও পুরো এলাকা জানে, আজ প্রণয় ও গুনগুনের বিয়ে। সবাই বিষয়টা নিয়ে খুবই অবাক। কেউ ধারণা করেনি যে, গুনগুন অন্তত প্রণয়কে বিয়ে করবে। কেউ কেউ প্রণয়কে খুব ভাগ্যবান বলছে তো, আবার কেউ কেউ গুনগুনকে বলছে বোকা। বোকা না হলে কি এরকম শিক্ষিত, সুন্দরী কোনো মেয়ে একটা গু’ণ্ডা, বখাটে ছেলেকে বিয়ে করে? সবারই ধারণা, এই সংসার খুব বেশিদিন টিকবে না। প্রণয় কখনোই গুনগুনের কদর করতে পারবে না। আর গুনগুন সেদিন ঠিকই বুঝতে পারবে যে, সে প্রণয়কে বিয়ে করে ভীষণ ভুল করেছে।

কথা কখনো এক জায়গায় আটকে থাকে না। পাখিদের মতো কথারও অদৃশ্য ডানা আছে। ঠিকই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় কথা পৌঁছে যায়। এসব নেতিবাচক মন্তব্য গুনগুনের কানেও এসেছে। প্রতিনিয়ত আসছে। কিন্তু সে তার সিদ্ধান্তে অটল।

কুলসুম যখন গুনগুনকে শাড়ি পরিয়ে সাজাচ্ছিল তখন শেলী চৌধুরী এলেন বাড়িতে। কোনো আয়োজন করা হয়নি বলে তাকেও দাওয়াত করা হয়নি। কিন্তু বাকি সবার মতো তিনিও জানেন, গুনগুনের আজ বিয়ে।

গুনগুনকে দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে বললেন,

“কী মিষ্টি লাগছে তোমাকে! খুব সুন্দর লাগছে। মাশ-আল্লাহ্।”

গুনগুন মৃদু হেসে বলল,

“সরি আন্টি দাওয়াত দিতে না পারার জন্য। আপনি তো সবই জানেন।”

“ধুর বোকা মেয়ে! দাওয়াতটাই কি সবকিছু নাকি। শিহাব গিয়ে আমাকে বলে এসেছে। ও না বললেও তোমাকে এক নজর দেখতে আমি অবশ্যই আসতাম।”

একটু থেমে তিনি একটা সোনার চেইন গুনগুনের গলায় পরিয়ে দিতে দিতে বললেন,

“এটা তোমার জন্য।”

গুনগুন চেইনটা খুলতে যাবে তখন তিনি বাঁধা দিলেন। গুনগুন বলল,

“না, না আন্টি। আমি এটা নেব না।”

“কেন নেবে না? আমি তোমায় এটা ভালোবেসে দিয়েছি।”

“আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন। এতেই আমি খুশি।”

“দোয়া তো আমি অবশ্যই করব। তোমাকে এটা বলে দিতে হবে না। কিন্তু এই ছোট্ট উপহারটা আমি তোমাকে ভালোবেসে দিয়েছি। আর তুমি ফিরিয়ে দিচ্ছ? তোমার মা যদি দিত, কী করতে? ফিরিয়ে দিতে তখন?”

মায়ের কথা মনে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে গুনগুনের চোখে পানি চলে আসে। শেলী চৌধুরী ব্যস্ত হয়ে বললেন,

“আহা! কাঁদবে না একদম। সাজ নষ্ট হয়ে যাবে।”

তিনি স্নেহ ও মমতায় গুনগুনকে জড়িয়ে ধরে পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন। কুলসুম ও রাধিকা মুগ্ধ হয়ে দৃশ্যটা দেখছে। ওদের চোখও চিকচিক করছিল।


প্রণয় ওর মা পমিলা বেগম, মাসুদ আর বিপ্লবকে নিয়ে বরযাত্রী এসেছে। কুলসুম তো আগেই চলে এসেছে। কাজী আসার পর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে একদম সাদামাটাভাবে বিয়েটা হয়ে গেল। কোনো আনুষ্ঠানিকতা, খাওয়া-দাওয়া কোনো কিছুরই আয়োজন নেই। তারপরও গুনগুনের একটুও খারাপ লাগছে না। বরং সে খুশি। এই আজাবখানা থেকে সে সারাজীবনের জন্য বের হতে পারছে।

বিদায়বেলায় গুনগুন অন্যসব মেয়েদের মতো কাঁদল না। বরং সে খুশি। হাসতে হাসতে বাড়ি থেকে বের হলো। বাবার থেকেও সে বিদায় নেয়নি। গাড়িতে ওঠার আগে শুধু শিহাবকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়ে বলেছে,

“আপুকে ভুলে যাবি না তো?”

শিহাব কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“না।”

“প্রতিদিন তুই আমার সাথে দেখা করতে যাবি। মনে থাকবে?”

শিহাব উপর-নিচ মাথা ঝাকাল। গুনগুন বলল,

“না গেলে কিন্তু তোর ভাইয়াকে বলে তোকে তুলে নিয়ে যাব।”

শিহাব কান্নার মাঝেই হেসে ফেলল। গুনগুনকে জড়িয়ে ধরে বলল,

“তুলে নেওয়ার আগেই আমি তোমার কাছে চলে যাব।”

গুনগুন শিহাবের মাথায় চুমু খেল। আদর করে বলল,

“আমার জান।”

গুনগুন আর প্রণয়কে দেখার জন্য এলাকার অনেক মানুষ ভিড় করেছে। গুনগুন গাড়িতে উঠে বলল,

“এত মানুষ জড়ো হয়েছে কেন? আমাদের আগে কখনো দেখেনি নাকি!”

পাশে বসে প্রণয় বলল,

“দেখেছে। কিন্তু বর-বউ সাজে তো আর দেখেনি।”

“দুই মিনিটের রাস্তার জন্য আবার গাড়ি এনেছেন কেন?”

“সবাই এখন কুলসুমের বাসায় যাবে। তুমি আর আমি মেইনরোড থেকে ঘুরে আসব।”

গুনগুন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“কেন?”

“তাছাড়া আর কী করব? দুই মিনিটের পথের জন্য তো আর গাড়ি নেওয়া যায় না। আবার নতুন বউকে হাঁটিয়েও নেওয়া যায় না। এরচেয়ে ভালো আমরা একটু ঘুরে আসি দুজনে।”

“হুম ভালো বুদ্ধি।”

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে প্রণয় বলল,

“বিদায়ের সময় তুমি কাঁদলে না কেন?”

“কেন কাঁদব? মেয়েরা আপন মানুষকে ছেড়ে আসলে কাঁদে। আমি তো আর আপন মানুষ ছেড়ে আসিনি।”

প্রণয় গুনগুনের হাতের ওপর হাত রেখে বলল,

“তুমি আপন মানুষের কাছে এসেছ।”

গুনগুন চোখ পাকিয়ে হাত সরিয়ে নিল। প্রণয় হতাশ হয়ে বলল,

“হাত সরিয়ে নিলে কেন?”

“ব্যাড টাচ করেন কেন?”

প্রণয় যেন বিস্মিত হতেও ভুলে গেছে। নিজের বিয়ে করা বউকে স্পর্শ করলে সেটা ব্যাড টাচ হয় কীভাবে?

“আমরা এখন ম্যারিড গুনগুন। হাতটাও ধরতে পারব না?” বলল প্রণয়।

গুনগুন বলল,

“এখন হাত ধরবেন, পরে কোমরে ধরবেন। তারপর আরো কত কী! বুঝি তো আপনার ধান্দা আমি।”

প্রণয় হতাশ হয়ে কথা বলাই ভুলে গেছে। সিটের সাথে হেলান দিয়ে বলল,

“মাসুদের অভিশাপে মনে হচ্ছে বিয়ে করেও চিরকুমার হয়ে থাকতে হবে।”

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply