Golpo কষ্টের গল্প পিদিম জ্বলা রাতে

পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৩০


পিদিম জ্বলা রাতে. ৩০ ✍️ #রেহানাপুতুল

রাবেয়া ঘাবড়ে উঠে। বুকের আঁচল ঠিক করতে করতে বেরিয়ে যেতে চায়। জাবেদ রাবেয়ার হাত টেনে ধরে। রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। রাবেয়াকে নিজের গা ঘেঁষে বসিয়ে নেয়।
হিসহিসিয়ে বলে,
“মিথ্যা বলেছি। তোমার সাথে আমার জরুরী আলাপ আছে। বাইরে প্রচুর বৃষ্টি। কথার সাউন্ড বের হবে না। মা,বাবা,খুকী মরার মতো ঘুমায়। সুতরাং ভয় পেয়ো না। আমার কথা শুনো। আমি তোমার শত্রু নয়। দেবর। বলতে পারো হাফ হাজব্যান্ড। মানে আধা স্বামী।”

“সেইটা এতো লুকায়া রাইতের কালে কইতে হইবো ক্যান? দিনেই তো কইতে পারতেন?”
প্রচন্ড আক্রোশে বলল রাবেয়া।

“রাবেয়ার হাত শক্ত করে চেপে ধরে আছে জাবেদ। রাবেয়া হাত সরানোর জন্য মোচড়ামুচড়ি করছে। তবুও মুক্ত করতে পারছে না কিছুতেই। বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। এমন নিস্তব্ধ বৃষ্টিমুখর রাত্রিতে রাবেয়ার চিৎকারও পৌঁছাবে না অন্য রুমে ঘুমে বুঁদ হয়ে থাকা বাকি মানুষদের কানে। তা ভেবে রাবেয়া থরথর করে কাঁপছে। বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে যেন বেরিয়ে আসবে।

কাঁপা অসহিষ্ণু কণ্ঠে বলল,
“হাত ছাড়েন কইলাম! নইলে খুব খারাপি হইবো।”

জাবেদের ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি। চোখদুটো ঈষৎ লালচে! তার ভিতরে জমে থাকা ক্ষোভ আর প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে।
” ভাবি,আমি জানি সেইরাতে ডাকাতেরা তোমাকে কিছু না কিছু করেছে। আমারই লোভ হয় তোমার রঙ ভরা অঙ্গের সবকিছু লুটপাট করে নিতে৷ ডাকাতদের আর কী বলব। যাইহোক আমি জানি এসব তুমি কাউকে বলনি। তা ঠিক আছে। কিন্তু ভিতরে সেই লুকানো যন্ত্রণা দিনরাত গুমরে গুমরে কষ্ট দিচ্ছে তোমাকে। তাই আমি চাই নিজের মানুষ ভেবে তুমি আমাকে সব বলো। তোমার মনটাকে হালকা করো। আমি এই শান্তনাটুকু দেবার জন্যই তোমার রুমে এলাম। দিনে এসব বলার সেই সুযোগ কই বলো? তুমি তো ভুল বুঝছো আমাকে। আমি কিছু করব না। তুমি স্বইচ্ছায় কিছু না দিলে।”

রাবেয়ার বুকের পাঁজরগুলো হিম হয়ে আসে। টনটন করে উঠে পুরো বুকটা৷ সে মরিয়া হয়ে হাত ছাড়াতে চেষ্টা করল। মনে পড়ল সেই রাতের কথা। যে রাতে দুই নরপশু তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখনই বাইরে বজ্রপাতের ঝলকানি। মুহূর্তের জন্য ঘর আলোকিত হয়ে উঠল। সেই আলোয় রাবেয়া দেখল জাবেদের চোখে কামনার গাঢ় প্রলেপ! রাবেয়ার মাথা ঘুরে উঠল।
দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
“আপনার শ্যাষের কথাটা খুবই বিচ্ছিরি! বাজে! আমি আপনার বড় ভাইয়ের বউ। আপনার কাছে সম্মানের মানুষ!”

জাবেদ পট করেই রাবেয়াকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে নেয়। শাড়ির ভাঁজের ভিতর দিয়ে সরু উদাম কোমরটাতে হাত বুলাতে লাগল আলতো করে। নেশাতুর কণ্ঠে বলল,
“বাধা না দিয়ে বরং চোখ বন্ধ করে অনুভব করো। দেখবে কতটা আরাম লাগছে তোমার কাছে।”

সেদিনের মতো হঠাৎ রাবেয়ার মনে এক পাহাড় সাহস সঞ্চিত হলো। সে পাশে টুলের উপরে থাকা টচ লাইটটা হাতে নিল। জাবেদ দেখেনি। তার মাথা ঝুঁকে আছে রাবেয়ার পেটের উপরে। রাবেয়া লাইট দিয়ে জাবেদের মাথায় শক্তভাবে আঘাত করে বসল। জাবেদ রাবেয়ার কোমর হতে নিজের হাত দু’খানা সরিয়ে নিলো। মাথা চেপে ধরলো দানবীয় ব্যথায়! ঠিক তখনই দরজায় শব্দ হলো। জাবেদ মুহূর্তেই চৌকির তলায় ঢুকে গেল।

বৃষ্টির মাঝেই শোনা গেল খুকির কণ্ঠ!
“ভাবি,বাইরে আসো। আব্বার রুমে। আম্মার মাথায় পানি দিতে হইব। আমি রসুন তেল গরম কইরা আনতাছি। আম্মার হাত পায়ে ঢলতে হইবো!”

“আসছি আপা,” বলে রাবেয়া মাথায় আঁচল টেনে দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। লজ্জায় জাবেদের বিষয় গোপন রাখল অন্যদের কাছে। স্রস্টাকে স্মরণ করল এ যাত্রায়ও নিজের সম্ভ্রমকে সুরক্ষিত রাখতে পারল বলে। জাবেদ চৌকির তলা থেকে বেরিয়ে আসে। খোলা দরজা দিয়ে লুকিয়ে চলে যায় নিজের রুমে। ক্ষোভে ফেটে পড়ছে,কিছুই করতে পারল না বলে।

তারপর জাহেদ বাড়ি এল। রাবেয়া স্বামীর বুকে মাথা রেখে ঢুকরে কেঁদে উঠল। জীবনের সবকিছুকে সহজ করে দেখা জাহেদ বুঝে নিল তার বিরহে রাবেয়া কাঁদছে। এছাড়া তো আর কোনো কারণ তার জানা নেই। এদিকে ভয়ে রাবেয়া তার কাছেও গোপন রাখল সেই রাতের ঘটনাটি। পাছে যদি জাহেদ তাকেই ভুল বুঝে। তার সতীত্বের দিকে আঙুল তোলে? কী হবে তার? যাবেই বা কোথায়? নিম্নবিত্ত ঘরের মেয়ে সে। সেখানে তার জীবনের দায়ভার কে বহন করবে? এমন শতেক ভাবনার কোনো থই না পেয়ে কোনদিন আর স্বামীকে বলা হল না সেই কাল রাতের বিদঘুটে কাহিনী। ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগাল জাবেদ।

তার পর হতে রাবেয়া যথাসম্ভব জাবেদকে এড়িয়ে চলে। যেটা জাহেদের চোখে তেমন ধরা পড়েনি। কেননা তার বছর খানেক পর জাবেদ ধীরে ধীরে কর্মজীবনে পা রাখে। বাড়িতে আসতো দু মাস পর পর। থাকতো দুই বা তিনদিন। জাহেদও জাবেদের সাথে তেমন কথা বলে না। যেটা রাবেয়াও ধরতে পায়নি। তাদের স্বামী স্ত্রীর জাবেদকে এড়িয়ে চলার কারণ দুটো হলেও সূত্র একই সুতোয় প্রোথিত।

দিন গড়ায়। মাস গড়ায়। বছর যায়। বছর আসে। ঋতু বদল হয়। রাবেয়া পর পর দুই ছেলের মা হয়। তারা বড় হতে থাকে। স্বামী,সংসার, শ্বশুর, শাশুড়ী, ননন, সামাজিকতা,দুই সন্তানের লালন পালনে রাবেয়া ব্যতিব্যস্ত থাকে রাতদিন। এদিকে জাবেদ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে রাবেয়া ও জাহেদ থেকে প্রতিশোধ নিবে। রাবেয়া তাকে আঘাত করেছে। এটার প্রতিশোধ নিবে সে তার সম্ভ্রমহানি করে। জাবেদ বাড়ি এলেই রাবেয়ার আশপাশে ছোঁক ছোঁক করতে থাকে।

ঘরে জামালের স্ত্রী আসে। তারপর আসে জাবেদের স্ত্রীও। তবুও জাবেদের কামুক ভালোলাগার রেশ রয়েই যায় রাবেয়ার শরীরের উপরে৷ সে কিছুতেই রাবেয়াকে আর একলা পায় না। কাছে ভিড়াতে পারে না। ক্রমশ সুযোগ দূরে চলে যেতে লাগল।
একসময় জাহেদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ল। অসুস্থতার দরুণ সে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে এল। জাবেদের মাথায় হাত। এবার! ঘরে ভাই থাকলে কীভাবে রাবেয়াকে পাবে সে? জাবেদ বুদ্ধি খাটাতে থাকে। তাকে মারার প্রতিশোধ প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ এসে গিয়েছে। পাশাপাশি রাবেয়াকে পাওয়া। এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে৷ সুতরাং জাহেদকে অচল করতে হবে। বিছানায় নির্জীব হয়ে পড়ে থাকলে,তখন রাবেয়ার জন্য না প্রতিবাদ করতে পারবে। না তার গায়ে হাত তুলতে পারবে। না আগের মতো মাস্তান দিয়ে তাকে তুলে নিতে পারবে। কিছুই পারবে না। কেবল অসহায়ের মতো রাবেয়ার দিকে চেয়ে চোখের জল ফেলবে।

জাবেদ খোঁজখবর নেয় ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে। জানতে পারল একটা ট্যাবলেটের নাম। যেটা সপ্তাহে ১ টা করে খেলেই যথেষ্ট। ধীরে ধীরে স্নায়ুকোষ ড্যামেজ হতে থাকবে। স্মৃতিশক্তি লোপ পাবে। দৈহিক শক্তি পড়ে যাবে। তারপর সে ট্যাবলেট আনিয়ে নেয় স্ত্রীর ভাইকে দিয়ে৷ স্ত্রীকে ভুল গল্প শোনায়। কিন্তু ঘটনাক্রমে সেই ট্যাবলেটের পাতা ড্রেসিং টেবিলে চলে যায় আর তৌসিফ দেখে যায়।

শুনানি শেষে বিশাল আদালত কক্ষে পিনপতন নিরবতা নেমে এল। এবং বাতাসও যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। বিচারক স্তব্দ হয়ে রইলেন। তারপর জাবেদকে জিজ্ঞেস করলেন কয়েকটি নৈব্যত্তিক প্রশ্ন। জাবেদ নিচু মাথায় সব প্রশ্নের উত্তর দিল। একেকটা শব্দ যেন তার বুকের ভেতর থেকে টেনে টেনে বের করতে হচ্ছে।

জাহেদ কাঠের বেঞ্চে বসে আছে পাথরের মতো। চোখের পাতা নড়ে না। রাবেয়া তার কাছে এতো বড় বিষয় গোপন করল এতটা বছর? পাশে বসা রাবেয়ার হাত কাঁপছ!
তার ভিতরেও একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে৷ সেই রাতে ওই দুজন ডাকাত ছিল না? জাবেদের হাত ছিল সেখানে? তারজন্য জাহেদ তাকে তুলে নিয়ে বেধম মারলো? এই নির্মম সত্য এতটা বছর তাকে জানাল না? রাবেয়া শক্ত করে হাতটা মুঠো করে রেখেছে, যেন এই মুহূর্তে ভেঙে পড়ে যাবে মড়মড় করে। তৌসিফ সামনে তাকিয়ে আছে পাথর চোখে! তার ভেতরটা তছনছ হয়ে যাচ্ছে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যে এত বড় অজগর সাপের সন্ধান পেয়ে যাবে,এটা তার চিন্তারও বাইরে ছিল। তানভিরের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। শ্বাসটা অস্বাভাবিক হারে উঠানামা করছে। মনি স্বামীর দিকে চেয়ে ঘৃণায় একদলা থু থু ফেলল মেঝেতে। সলিমুল্লাহ ও মর্জিনা ঘৃণার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে জাবেদের থেকে।

বিচারক রায় পাঠ করলেন। ঘোষণা দিলেন। সমস্ত প্রমাণাদি ও উপযুক্ত সাক্ষ্য পেয়ে আদালত জাবেদকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল। সাথে নগদ অর্থ জরিমানাও হলো। সবশেষে কাঠগড়ার কাঠের শব্দে আদালত ভেঙে পড়ার মতো অনুভূতি হলো সবার। মানুষ উঠতে শুরু করল।

সলিমুল্লা দাঁড়িয়ে বললেন,
“জজ সাহেব,আমি পিতা হইয়া কইতাছি,এই কুলাঙ্গাররে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পঁইচা পঁইচা মরুক। আমি তার আগে মরলে ওই যেন আমার মরা মুখটাও না দেখে।”

বিচারক চুপ রইলেন মৌনমুখে। জাবেদ স্থির ভঙ্গিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।
রাবেয়া চেয়ারের হাতাটা ধরে উঠে দাঁড়াল কুঁজো বুড়োর ন্যায়। হাঁটতে গিয়ে পা কেঁপে উঠল। জাহেদ তাকে ধরে ফেলল। চোখে চোখ পড়তেই দু’জনেই বুঝে গেল,এই অসীম যন্ত্রণা বোঝানোর নয়। মর্জিনা নিচু মাথায় আদালত থেকে বাইরে এল।
বাড়ি ফেরার পথে কেউ কারো সাথে কথা বলল না। তৌসিফ ও তানভির অনুভব করতে পারছে মায়ের ভিতরের অবস্থা এখন চিতার মতো। সবাই বাড়িতে চলে গেল। রায়ে সন্তুষ্ট পরিবারের সবাই।

সারা বাড়িতে অদ্ভুত নিরবতা বিরাজ করছে। কেউই কারো সাথে কথা বলছে না। রাবেয়া অবশ পায়ে ঘরের পিছনের একটি নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল। সেই চেনা বিল, কচুরিপানা, গাছ,ফুল,পাখি,সবজির মাচা, সবই আগের মতো আছে। শুধু তার ভেতরটা আর আগের মতো নেই। তার জীবনের এই নিন্দিত কাহিনী তার দুই ছেলে জেনে গেল! এই সীমাহীন লজ্জা সে কীভাবে ঢাকবে? কীভাবে দুই ছেলেকে মুখ দেখাবে সে আর? অন্যদের কথা না হয় সে বাদই দিল।

সেই সন্ধ্যায় রাবেয়া প্রদীপে তেল ভরে জ্বালিয়ে নিল। প্রদীপের উজ্জ্বল আলোটা কাঁপছে। টিনের বেড়ায় সেই আলোর ছায়াটা নাচছে অবিরাম। রাবেয়া চুপচাপ বসে আছে সেই আলোর দিকে তাকিয়ে।
জাহেদ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলল, “রাবু… শক্ত থাকো।”

রাবেয়া স্বামীর দিকে না তাকিয়ে শীতল কণ্ঠে বলল,
“সত্যের আলো কী সবসময় এমন জ্বলে তৌসিফের বাবা?”

“অবশ্যই জ্বলবে।”
তার পরের দিন তৌসিফ ও তানভির চলে গেল। যাবার আগে দুই ভাই মাকে ঝাপটে ধরে বুকে টেনে নিল। রাবেয়া হাউমাউ করে কেঁদে উঠল ছেলেদের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে। তারা দুই ভাই মায়ের জড়তা দূর করতে বলল,

“এই পৃথিবী তোমাকে ভুল বুঝুক। কিন্তু তোমার দুই ছেলে কোনোদিন তোমাকে ভুল বুঝবে না। তুমি ভুলে যাও এসব। ধরে নাও কিচ্ছু হয়নি।”

তৌসিফ ও তানভির চলে গেলে রাবেয়া বসে পড়ল। ছেলেদের কথায় তার মন শান্ত হল না। তার এসব কিছু সবাই জেনে গেল? এবার সারা পাড়া জেনে যাবে। আত্মীয় স্বজন জেনে যাবে। এক কান হতে শত কান হবে। তাকে দেখলেই মানুষ বাঁকা চোখে তাকাবে। মন্দ কথা হাওয়ার বেগে ছোটে। তার জন্যই স্বামীর এই অবস্থা হলো? এই অপরাধবোধ তাকে আজন্ম কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে। খাবলে খাবলে খাবে। রাবেয়া ভাবতে থাকে তার অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে।

রাবেয়ার মতো নানান দুর্ভাবনায় ঘরের প্রতিটি মানুষ। একেকজনের ভাবনার বিষয় একেকরকম। কিন্তু কেউই জানে না যেই পিদিম জ্বলা রাতের ঘটনার রেশ বহু বছর পরে এসেও রয়ে গেল। এবং জ্বলে উঠলো মশালের ন্যায়। সেই সূচিত কালো অধ্যায়ের ইতি ঘটবে এমন কোনো এক পিদিম জ্বলা রাতেই। যা ইতিহাস হয়ে রয়ে যাবে আজন্মকাল!

চলবে…৩০

#সামাজিক #storytelling #writer #bengalistory #lifelessons #genre #lovestory #twist #loveyourself #✍️ #রেহানাপুতুল ✍️ #রেহানাপুতুল

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply