Golpo কষ্টের গল্প পরগাছা

পরগাছা পর্ব ৫


পরগাছা |৫|

ইসরাত_তন্বী

(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

সময় বহমান। সময়কে আটকে রাখার সাধ্য এই তুচ্ছ আমাদের নেই। হাসি, কান্না, ঠাট্টা, তামাশার মধ্যে দিয়ে জীবন থেকে পেরিয়েছে তিনটা দিন। শেখ বাড়ির পরিবেশ প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে আরুষের দাদী আয়েশা শেখের আগমনে। সঙ্গে এসেছেন তার একমাত্র কন্যা সালেহা শেখ এবং নাতনি সারথী শেখ। এখন কিছুদিন থাকবে তারা।সব মিলিয়ে বাড়ির পরিবেশ জমজমাট। চন্দ্রাকে মাথায় তুলে রাখছে একপ্রকার। সবার ধারণা যে মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা রাখে সে ভালোবাসার যোগ্য। পঁচে যাওয়া মস্তিষ্ক থেকে দুর্গন্ধযুক্ত ভাবনা ছাড়া আর কোনো চিন্তা আসার সুযোগ আছে নাকি? উঁহু, নেই।

ধরিত্রীর বুকে রাত নেমেছে। প্রকৃতির চারপাশ ঘিরে ধীরে ধীরে অন্ধকার তার নিগূঢ় চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে। গুঞ্জরিকা মাগরিবের নামাজ পড়ে পালঙ্কের একপাশের চুপচাপ বসে আছে। হাঁটু জোড়া বুকে ঠাঁই পেয়েছে। মাথাটা অবলীলায় হাঁটু জোড়ার উপরে রাখা। দৃষ্টি নিবিষ্ট মেঝেতে। ওর পাশেই বসে বাদাম খাচ্ছে আরিকা। কক্ষে একটা লণ্ঠন জ্বলছে মৃদু আলোয়। সেই দ্যুতিতে আবছা স্পষ্ট চারপাশ। নিচের বসার ঘর থেকে ভেসে আসছে সকলের উচ্চ হাসির শব্দ। বাড়ির পুরুষেরাও সন্ধ্যা নাগাদ বাড়িতে ফিরে এসেছে প্রতিদিনের মতোই।

গুঞ্জরিকা নিজের মধ্যকার পরিবর্তন বেশ অনুভব করতে পারছে। আজকাল সবকিছু থেকে নিজেকে কেমন যেন গুটিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এটা তো হওয়ার ছিল না। তবুও কেন মন মস্তিষ্ক হার মেনে নিচ্ছে? গুঞ্জরিকা তো স্বেচ্ছায় এই অভিশাপ শরীরে জড়ায়নি। ছলে-বলে-কৌশলে ওকে অভিশপ্ত করা হয়েছে। তাহলে কিসের এত ঘৃণা ওর প্রতি? কেন সবার কাছে এতটা অবহেলিত? আজ আর চোখের কোণে পানির দেখা মিলল না। কেবল একবুক বিতৃষ্ণা জাগল সাথে অবজ্ঞার হাসির রেশ ছড়াল ঠোঁটের কোণ ঘেঁষে।

সেভাবেই আঁখি জোড়া বুঁজে মন মস্তিষ্কের অহেতুক আলোচনায় সামিল হলো গুঞ্জরিকা। ভাবল অনেক কিছু। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। যে নিজেকে ভালোবাসে না তাকে অপরজন কীভাবে ভালোবাসবে? গুঞ্জরিকার তো সাতকুলে কেউ নেই। তাই নিজেকে নিজে ভালো না বাসলে হাড় মাংসের তৈরি দেহ খানা যে শিঘ্রই মনের মতো ক্ষয়ে যাবে‌। তখন কোথায় ঠাঁই মিলবে? সুন্দরী আনন থাকতেই ভালোবাসার মানুষের বুকে ঠাঁই মিলছে না। তাহলে পঁচা শরীর নিয়ে বুঝি মিলবে? এত বড়ো সৌভাগ্য যে ওর নেই। এখন থেকে গুঞ্জরিকা নিজেকে খুব খুব ভালোবাসবে। সবাইকে দেখিয়ে দিবে নিজেকে নিজে ভালোবাসলে আর কারোর ভালোবাসার প্রয়োজন হয় না। ছোট্ট জীবনে অন্যকে বোঝানোর চেয়ে নিজেকে বোঝানো শতগুণ শ্রেয়।

গুঞ্জরিকা বড়ো একটা শ্বাস ফেলল। সযত্নে পুষে রাখা যাতনা গুলো ওই দীর্ঘশ্বাসের সাথেই সমাপ্তি টানার বৃথা প্রয়াস মাত্র। আলোগোছে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল। আলমিরার দিকে অগ্রসর হলো। একটা গাঢ় লাল টকটকে সুতি শাড়ি বের করল। বুকে জড়িয়ে প্রাণ ভরে শ্বাস নিল। এটা ছিল আরুষের থেকে উপহার পাওয়া প্রথম শাড়ি। বিয়ের বছরপূর্তিতে উপহার দিয়েছিল। গুঞ্জরিকা এই শাড়িটা পরার মনস্থির করল। ঠিক তক্ষুনি ডেকে উঠল আরিকা, “মা, মা।”

গুঞ্জরিকা ঘাড় ঘুরিয়ে ওকে দেখল। ভ্রু তুলে জানতে চাইল, “কী হয়েছে? বল বাচ্চা।”

“বাবা-মা, বাবা-মা।”

গুঞ্জরিকার কপালে গুটিকয়েক ভাঁজের সৃষ্টি হলো।আরিকার বলা কথাটা বোঝার চেষ্টা করল‌। পর মুহূর্তেই খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। সেই সুমধুর শব্দ বদ্ধ ঘরের চারপাশে প্রতিধ্বনিত হয়ে মিষ্টি গুঞ্জন তুলল। আরিকা মূলত শাড়িটার কথা বুঝিয়েছে। যেটা ওর বাবা মাকে উপহার দিয়েছে। নিজের অবসর সময়ে আরিকার সাথে জীবনের সুখ দুঃখের অনেক গল্পই করে থাকে গুঞ্জরিকা। কিন্তু বড়ো কথা আরিকা সবটা মনে রেখেছে। গুঞ্জরিকা নিজের হাসি থামিয়ে বলল, “ভাগ্যিস তুই ছিলিস বাচ্চা। নাহলে আমায় কে হাসাত? কেঁদে কেঁদে নিশ্চয় ভাগ্যের দোষ দিতাম তখন। হাহ্!”

আরিকা এত জটিল কথা বুঝল না। তবে মাথা নেড়ে মায়ের সাথে সবসময়ের মতোই সম্মতি দিল। গুঞ্জরিকা শাড়িটা বুকে জড়িয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। স্মৃতির পাতায় উঁকি দিলো অনেক কিছুই। সবসময় হয়ত অতীত খারাপ হয় না। কিছু সময় সুখকর ও হয়।
.

বসার ঘরে আড্ডার আসর জমে উঠেছে। সাথে মুড়ি, মুড়কি এবং চা। সবমিলিয়ে বিশাল এক সভা বসেছে। সকলের আনন্দ যেন ফুরাচ্ছে না। পরিবারের সবাই উপস্থিত আছে। এমনকি আরুষ ও উপস্থিত রয়েছে। আয়েশা শেখ নিজে ডেকে এনেছেন প্রাণপ্রিয় নাতীকে। আরুষের পাশেই চন্দ্রা বসে আছে। আয়েশা শেখ চন্দ্রাকে নিজের সাথে জড়িয়ে রেখেছেন। বারবার কপালে চুমু এঁকে দিচ্ছেন। নাত বৌ ওনার খুব পছন্দ হয়েছে।আড্ডার মাঝেই আসমান শেখ নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজে উঠে চলে গেলেন। সবাই দেখল কিন্তু গল্পগুজব থামাল না। ছেলে যেতেই আয়েশা শেখ মুখ এগিয়ে চন্দ্রার কানের কাছে নিলেন। ফিসফিস করে বললেন, “দাদু ভাইয়ের সাথে কিছু মিছু হইয়াছে তোর নাত বৌ? বাচ্চা কাচ্চা নিয়া কিছু ভাইবাছস?”

বয়স্ক মানুষটা নিজের কানে কম শোনেন বলে ভেবে থাকেন অন্যরাও কম শোনে। তাই ওনার কণ্ঠস্বর বরাবরই একটু জোরেই থাকে। ফিসফিস করে বলা কথাগুলো কমপক্ষে দশ হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা যে কেউ অনায়াসেই শুনতে পারবে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। আয়েশা শেখের মুখনিঃসৃত কথাগুলো সবাই শোনা মাত্রই বসার ঘরজুড়ে পিনপতন নীরবতা খেলে গেল। সকলের স্থির দৃষ্টি নিবিষ্ট রইল ওনার দিকেই। চন্দ্রার তো লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। কারোর দিকে তাকানোর সাহস টুকু হলো না। লাজুক মুখ নামিয়ে বসে রইল। আরুষের কপালে গুটিকয়েক ভাঁজের সৃষ্টি হয়েছে ইতোমধ্যে। আয়েশা শেখ প্রথমে বিষয়টা বুঝলেন না। ভ্রু কুঁচকে সবার দিকে চাইলেন। সবটা যখন উপলব্ধি করলেন তখন পান খাওয়া লাল দাঁতগুলো দেখিয়ে হেসে উঠলেন। হাসতে হাসতেই বললেন, “সব্বাই অ্যামনে চাইয়া আছস ক্যান? আমগোর বংশের কথা মুই ভাবব না তো কে ভাবব ক তো নাত বৌ?”

“তাহলে আপনার আরেকটা বিয়ে দিয়ে দেই দাদী? এই বংশের দেখভালের দায়িত্ব তো আপনার।”

গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠস্বর ভাসমান হলো কক্ষের সর্বকোণে। কথাটা তামাশার ছলে নিয়ে হেসে উঠল সকলে। হাসির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। আয়েশা শেখ বললেন, “মোর জীবন যৌবন দুইডাই শেষ দাদুভাই। তোমগোর এখন সময়। দুই চারডা বাচ্চা লইয়া থামবা। মোর কত স্বপ্ন আছিল তোমারে লইয়া। মুই বাঁইচা থাকতে তোমার সন্তানের মুখ দেখবার পারব কিনা কেডায় জানে?”

আরুষ তিতিবিরক্ত এইসবে। চন্দ্রা সেই যে চোখ নামিয়েছে আর তোলেনি। সারথী নানির কথাতে তাল মেলাল, “ভাবী শিঘ্রই সুখবর শুনতে চাই কিন্তু আমরা।”

উপস্থিত সকলে ঠোঁট টিপে হাসছে। অদিতি আলগোছে সামনে তাকাতেই চোখজোড়া স্থির হয়ে এল। চৌকাঠের ওপাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে গুঞ্জরিকা। শরীরে জড়ানো লাল টকটকে শাড়ি। ফর্সা শরীরে ভীষণ মানিয়েছে। হাঁটু ছুঁই ছুঁই মেলে দেওয়া। প্রাণবন্ত বদনখানা জ্বলজ্বল করছে। অদিতি একপ্রকার চিৎকার করে উঠল, “ভাবীজান! এ আমি কী দেখছি! তুমি এখানে এসেছ! এসো এসো ভেতরে এসো।”

অদিতির অকস্মাৎ উঁচু কণ্ঠে সবাই কমবেশি চমকাল। পরক্ষণেই দরজার দিকে চাইতেই বেশখানিকটা অবাক হলো বৈকি। আরুষের কুঁচকে যাওয়া ভ্রু যুগল সমতল হয়ে এসেছে। বিরক্তি মিশ্রিত চোখদুটোতে শীতলতা খেলে গেছে। মন্ত্রমুগ্ধের মতো গুঞ্জরিকার দিকেই তাকিয়ে আছে। অথচ গুঞ্জরিকা এইসব দেখেও দেখল না। বসার ঘরেও প্রবেশ করল না। প্রয়োজনীয় কথাটা বলল কেবল, “অদিতি আমার কক্ষে আসবে একটু? প্রয়োজন ছিল তোমায়।”

অদিতি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়াল, “অবশ্যই ভাবী জান চলো।”

গুঞ্জরিকা উলটো ঘুরে হাঁটা ধরতেই কর্ণগোচর হলো আয়েশা শেখের বলা কিছু কথা, “কেমন বেয়াদব মাইয়া ভাবন যায়! বড়ো দের সম্মান করতে শিখে নাই। বাপ মায়ের দেওয়া শিক্ষা নাই।”

বাবা-মা তুলে বলা এমন তিক্ত বাণে না চাইতেও গুঞ্জরিকার পদযুগল থেমে গেল। পিছু ফিরল। এখঝলক দেখল আরুষের দিকে। দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলল। অথচ তাকে আজ কেন যেন পুরুষের খাতাতে ফেলতে পারল না গুঞ্জরিকা। মনটা বিষিয়ে উঠল। বার কয়েক শ্বাস ফেলে নিজেকে সামলিয়ে নিল। মুচকি হাসল। আয়েশা শেখের দিকে তাকাল,
“সম্মান যথাস্থানে করতে হয় দাদী। সম্মানের অযোগ্য কাউকে সম্মান দিলে পিঁপড়া তখন নিজেকে পাখি ভাবতে শুরু করে। এই পরিবারের সুশিক্ষায় আমি মুগ্ধ। দোয়া করি মানুষ ভাতের অভাবে মরে যাক তবুও তার এমন পরিবারে জন্ম না হোক।”

মুখের কথাতে সমাপ্তি টেনে হনহনিয়ে ওখান থেকে প্রস্থান করল গুঞ্জরিকা। ওর পিছু পিছু অদিতিও বেরিয়ে গেল কক্ষ থেকে। আজকাল অশান্তি যেন গুঞ্জরিকার পিছু ছাড়ছে না। যেদিকে যাচ্ছে সেদিকেই ঝামেলা ওত পেতে আছে। কী মুশকিল! তীব্র অপমানে আয়েশা শেখ ফ্যাচ ফ্যাচ করে কেঁদে ফেললেন। ক্রন্দনরত গলায় বাচ্চাদের মতো আরুষের কাছে বিচার দিলেন, “ওই দুই পয়সার মাইয়া মোরে যা নয় তাই বলল দাদু ভাই। তুমি কিচ্ছু কইবা না তারে?”

আরুষ চকিতে ফিরে তাকাল আয়েশা শেখের দিকে। “দুই পয়সার মাইয়া’ শব্দগুলো ছুটে চলল মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরনে। তীব্র রাগে চোখ মুখ রক্তিম হয়ে উঠল। তবুও নিজেকে সংযত রাখল। জীবনে প্রথম বারের মতো আয়েশা শেখের সাথে কঠিন গলায় কথা বলল,

“আপনার কথিত ওই মেয়ে আমার স্ত্রী দাদী। তাকে কটুকথা শোনানোর দুঃসাহস কারোর থাকা উচিত নয়। সে ভুল কিছু বলেনি। সে কারোর থেকে নূন্যতম সম্মানটুকু না পেলে অন্যকে কেন সম্মান দিবে?”

কলিজা টুকরো নাতীর এমন কথায় আয়েশা শেখের কান্নার বেগ বাড়ল। কাঁদতে কাঁদতে চন্দ্রার কানে বিষ ঢাললেন একপ্রকার, “ওই কালনাগিনীর হাত থেইকা নিজের স্বামীরে হেফাজত কর নাত বৌ। নইলে পরে পস্তাতে হইব। দেখছস তোর স্বামীরে ভুলানোর লাইগা ওই পোড়া মুখ লইয়া কেমন নাল টকটকে শাড়ি পইরাছে। সময় থাকতে আঁচলে বাইন্ধা নে রে নাত বৌ।”

আরুষ এইসব শুনেও শুনল না। বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। বড়ো বড়ো পা ফেলে ওখান থেকে প্রস্থান করল। এই পরিবার, পরিবারের মানুষগুলো আজকাল মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চন্দ্রার মস্তিষ্কে কথাগুলো বেশ প্রভাব ফেলল। তৎক্ষণাৎ মাথা নাড়ল। আরুষ যেতেই ছোট্ট করে জবাব দিল, “আচ্ছা দাদী।”
.

মধ্য নিশীথে দরজার কড়া নাড়ার শব্দে গুঞ্জরিকার তন্দ্রা হালকা হয়ে এল। মাত্রই চোখজোড়া বুজেছিল। আগে পিছে না ভেবে শোয়া থেকে উঠে বসল। শরীরে লেপ্টে থাকা শাড়িটা ভালোভাবে জড়িয়ে পালঙ্ক থেকে নেমে দাঁড়াল। এগিয়ে গেল দুয়ারের দিকে। তখনও ক্রমশ কড়াঘাতের শব্দ শোনা যাচ্ছে। গুঞ্জরিকা খুব ভালো ভাবে জানে এখন কে আসতে পারে‌। এক আকাশসম বিতৃষ্ণা নিয়ে দরজার কপাট খুলতেই নেত্র যুগল ছোট ছোট হয়ে এল। অপ্রত্যাশিত একটা অতিব পরিচিত মুখ চোখের পর্দায় ভাসল। কপালে গুটি কয়েক ভাঁজের সৃষ্টি হলো।

দরজার ওপাশে ওষ্ঠজোড়ায় হাসি ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চন্দ্রা। গুঞ্জরিকা ঘুমু ঘুমু চোখে, কর্কশ গলায় জিজ্ঞাসা করল, “এতরাতে এই অধমকে স্মরণ করার কারণ কী?”

“কথা ছিল তোর সাথে।” সহজ সাবলীল জবাব চন্দ্রার। গুঞ্জরিকা অধর বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের শব্দে হাসল, “কিন্তু আমার নেই।”

চন্দ্রার মুখের হাসি বাড়ল, “তোর মনে হচ্ছে না তুই সবকিছুতেই বেশি বাড়াবাড়ি করছিস?”

“হ্যাঁ।”

“তাহলে থেমে যাওয়া উচিত নয় কি?”

“না।”

“তুই নিজেকে নিজেই নিচে নামাচ্ছিস গুঞ্জ।”

“নিজের মূল্য জানা থাকলে অন্যের কাছে দামি প্রমাণ করার প্রয়োজন পড়ে না।”

জবাব দিয়ে চন্দ্রার মুখের উপরেই দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিল গুঞ্জরিকা। আকস্মিক এমন কাজে চন্দ্রা চমকাল ঈষৎ। হাসি মুখটা বিলীন হয়ে থমথমে হয়ে উঠল। বন্ধ দুয়ারের পানে একদৃষ্টে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। উলটো ঘুরতেই দেখল ওদের কক্ষের সম্মুখে আরুষ দাঁড়িয়ে আছে। অধরপল্লব একপাশে কিঞ্চিত উঁচু হয়েছে। চন্দ্রার শ্রবণেন্দ্রিয়ে ঝংকার তুলল পুরুষালী ভরাট গলার আওয়াজ,

“ওর সাথে পারবে না। বৃথা চেষ্টা করছ। যখন আমরা শতচেষ্টায় অপরপক্ষকে বদলাতে পারি না তখন নিজেরাই বদলে যাই‌।”

চলবে

(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সকলের গঠনমূলক মন্তব্য ও রেসপন্সের আশা রাখি।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply