Golpo কষ্টের গল্প পরগাছা

পরগাছা পর্ব ১২


পরগাছা |১২|

ইসরাত_তন্বী

(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

মধ্যিখানে পেরিয়েছে দুটো দিন। ইদানিং সময় যেন ঝড়ের গতিতে পেরোচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার। অদিতির গায়ে হলুদ। শেখ বাড়ি মেতেছে উৎসবের আমেজে। বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন। গতকাল থেকেই সকলের আগমন ঘটছে। সব বয়সের মানুষের পদ চারণে মৃ ত বাড়িটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। হৈ হুল্লোড় পরিবেশ বিরাজমান। ছোট ছোট বাচ্চা গুলো ভ্রমরের মতো দৌড়ে চলেছে এদিকে সেদিকে।

সিঁড়ির সম্মুখে চুপচাপ একাকী দাঁড়িয়ে আছে গুঞ্জরিকা। মুগ্ধ দৃষ্টি নিবিষ্ট সামনে দৌড়ঝাঁপে মত্ত নিষ্পাপ শিশুগুলোর দিকে। তারা নিজেদের মতো খেলছে, হাসাহাসি করছে। সেই সুমিষ্ট হাসির গুঞ্জনে চারপাশ মুখরিত হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। গুঞ্জরিকা হাসিমুখে সবটা দেখে চলেছে। এতক্ষণে আলগোছে পাশ ফিরতেই চক্ষুগোচর হলো আরও একটা বাচ্চা মেয়ের আনন। তার সাথে সবার বেশভূষায় বেশ ভিন্নতা পরিলক্ষিত। সদর দরজার এক পাশে একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে বসে আছে। পরিহিত কাপড় নোংরা। চুলগুলো রুক্ষ এবং এলোমেলো। ছোট্ট মেয়েটা আকাঙ্ক্ষিত চোখে অন্য বাচ্চাগুলোর খেলা দেখছে। হয়ত তার ও খেলতে সাধ জাগছে কিন্তু সাহস যুগিয়ে উঠতে পারছে না। বিচক্ষণ গুঞ্জরিকা ঠিকই বুঝেছে, পরিবারের অবস্থানের জন্য এত ভেদাভেদ। ছোট্ট মেয়েটার যত্ন নেই। হাত-পা গুলো সরু, খসখসে। হয়ত ঠিকমতো খেতে পায় না, যত্ন পায় না। হায়রে সন্তান! শুধু একটা সন্তানের জন্য আজ ভালোবাসার মানুষটার থেকে যোজন যোজন দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বুকের মাঝে অদৃশ্য ঘৃণার পাহাড় জমে চলেছে ক্রমশ। কেউ হাজার চেয়ে একটা সন্তান পায় না আবার কেউ পেয়ে কদর করতে জানে না। বড়ো কথা অভাবের সংসারে কদর শব্দটা বড্ড বেমানান। সন্তান হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া রহমত। যা সবার ভাগ্যে জোটে না। গুঞ্জরিকার চোখের কোণে পানি জমল। ডান হাতটা আলতো করে নিজের জঠর ছুঁয়ে গেল। ছোট্ট একটা ভ্রুণ ওর গর্ভেও বড়ো হচ্ছিল। কিন্তু সে পৃথিবীর আলো দেখতে পারেনি। উঁহু, তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি। হাহ্! আল্লাহর বিচারের অপেক্ষায় মেয়েটা দিন গুনছে। তার নীরবতা, তার বুক নিঃসৃত ক্লান্ত, ব্যথিত দীর্ঘশ্বাসই যথেষ্ট প্রকৃতির বুকে এই অবিচারের ঠাঁই মেলানোর জন্য।

বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে নিজেকে আর ভাঙল না গুঞ্জরিকা। বড়ো একটা শ্বাস ফেলে নিজেকে সামলিয়ে নিল। পা বাড়াল দরজার দিকে। এগিয়ে এসে বাচ্চাটার মুখোমুখি বসল। মাথায় স্নেহের হাত রাখল। ছোট মেয়েটা সবগুলো দাঁত বের করে হাসল। কী স্নিগ্ধ! কী অপরুপ সুন্দর সেই হাসি। গুঞ্জরিকার অসুস্থ মনটা চট করে ভালো হয়ে উঠল। বাচ্চাটা ওর দিকে তাকিয়ে শুধাল,
“তুমি কি নতুন বউ?”
কথাটা বলেই গুঞ্জরিকাকে ভালোভাবে দেখল বাচ্চাটা। তর্জনী আঙ্গুল গালে ছুঁইয়ে একটু ভাবুক হলো,
“কিন্তু আমি তো তোমাকে চিনি। এর আগেও তোমাকে এই বাড়িতে দেখেছি। আমাকে নতুন বউ দেখাবে তুমি?”

বাচ্চাটার ওমন পাকনা কথাতে গুঞ্জরিকা হেসে ফেলল। ভাব জমিয়ে বলল, “ঠিক নতুন নই‌। তবে পুরোনো বউ বলতে পারো। তোমাকে আমি নতুন বউ দেখাব তো। তার আগে বলো তোমার নাম কী, মিষ্টি মেয়ে?”

‘মিষ্টি মেয়ে’ শব্দ দুটো বাচ্চটার ভীষণ পছন্দ হলো। খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। রিনরিনে বাচ্চা কণ্ঠে প্রত্যুত্তর করল, “আমার নাম মোনা, পুরোনো বউ।”

তাই বলে সত্যি সত্যি এমন সম্বোধন! গুঞ্জরিকা হাসি দমিয়ে রাখতে পারল না। মৃদু শব্দে হেসে ফেলল। কোনো কথা ছাড়াই মোনাকে কোলে উঠিয়ে নিল। হাঁটা অবস্থাতেই বলল, “তোমার মতোই সুন্দর তোমার নামটা। আমাকে কি এখন থেকে এই নামেই ডাকবে তুমি?”

ছোট মোনা ভয় পেল। ভয়ার্ত চোখে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোঝাল। গুঞ্জরিকার সাথে এতক্ষণে বেশ ভাব জমে গেছে তার। তাই সবসময়ের মতো পাকা পাকা বুলি আওড়াল। মনটা ঈষৎ ভার করেই বলল। মুখটা ম্লান দেখাল,
“পুরোনো বউ আমাকে নামিয়ে দাও তুমি। আমি নোংরা। আমাকে কেউ ভালোবাসে না। কেউ আদর করে না। কেউ খেলায় নেয় না। মা বলেছে আমাকে একা থাকতে। আমরা গরীব। আমাদের শখ থাকতে নেই।”

থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল গুঞ্জরিকা। পাঁচ-ছয় বছরের বাচ্চার মুখে এমন কথা শুনে ওর চক্ষু জোড়া চড়কগাছ। বড়ো বড়ো চোখে চেয়ে আছে। এতটুকু মেয়ের মস্তিষ্ক এত ভেদাভেদ উপলব্ধি করে ফেলল? এই সমাজের টাকার বড়াই করা মানুষগুলো একেকটা কীট। তাদের ক্ষমতার বড়াই থেকে একটা নিষ্পাপ শিশুও রক্ষা পায় না। মোনাকে পুরোদমে অবাক করে দিয়ে ওর কপালে চুমু এঁকে দিল গুঞ্জরিকা। পুনরায় হাঁটতে শুরু করল,
“আজ থেকে তোমার খেলার সঙ্গী আমি। রোজ তুমি আর আমি খেলব। ঠিক আছে? তুমিও সুন্দর আমিও সুন্দর। দুই সুন্দরী একসাথে অনেক খেলা খেলব কেমন?”

ছোট্ট মোনা মাত্রাতিরিক্ত খুশি হলো। এভাবে কেউ কখনো ওকে বলেনি। ওর সাথে খেলতে চায়নি। অতটুকু বাচ্চার চোখে কৃতজ্ঞতার পানির দেখা মিলল। মোনা হেসে মাথা নেড়ে নেড়ে বলল,
“তুমি খুব ভালো পুরোনো বউ। না, না আমি তোমাকে সখী ডাকব। আজ থেকে আমরা সখী। কী মজা! আমি নতুন সখী পেয়েছি।”

গুঞ্জরিকা এই পর্যায়ে বেশ জোর আওয়াজেই হেসে উঠল‌। বিড়বিড় করে আওড়াল,
“আমিও নতুন সখী পেয়েছি।”
বুকের মধ্যিখানে আঁকড়ে ধরল মোনার মাথাটা। অদ্ভুতভাবে ভেতর থেকে অন্যরকম শান্তি অনুভূত হলো। মা সত্তাটা তার দেখা দিল। মোনাকে নিয়ে সেভাবেই দোতলার উদ্দেশে এগিয়ে চলল গুঞ্জরিকা। চারপাশে উপস্থিত সকলের আড়দৃষ্টির বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করল না। পাঁচটা বছর খুব তো করল সমীহ। আর কত? যাদের এত মেনে চলল দিনশেষে কেউ তো ভরসার বুকটা এগিয়ে দিল না। এই পৃথিবীতে কেউ কারোর না। নিজের কিছু না থাকলে কেউ তোমাকে মূল্য দিবে না। ওখানে অবস্থান করা সকলে বাড়ির বউয়ের এমন উঁচু শব্দের হাসি শুনে নাক মুখ কুঁচকাল। মেয়ে মানুষ তাও বাড়ির বউ হয়ে এত জোরে হাসে কীভাবে? গুরুজনদের মানে না। সুশিক্ষার অভাব।

আজ মাঠে আমন ধান লাগানোর জন্য দুজন মজুর হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। একজন এসেছে কেবল। আরেকজনের নিকট আত্মীয় মা রা যাওয়ায় সেখানে গেছে। এখন হাতের কাজ ফেলে মাঠে যেতে হবে আরুষকে। ওই একজন মজুরকে সঙ্গ দিতে হবে। ধানের চারা রোপণ করা অত্যাবশ্যক। নাহলে ওগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। লোকসান খেতে হবে বড়ো মাপের। এবছরে চারার মূল্য অনেক। তাই সেই কাজের উদ্দেশেই সকালে বেরোচ্ছিল। যত দ্রুত যাবে তত দ্রুতই কাজ সেরে ফিরে আসতে পারবে। বাড়িতেও তো কাজ কম নয়। অথচ নিচে এসে চোখ জুড়িয়ে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত একটা মুহূর্তের সাক্ষী হলো ছেলেটা। ওর গুঞ্জনের কোলে একটা বাচ্চা। এমন একটা দিন সত্যিই আসুক ওদের জীবনে। স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দিক এই ছোট্ট জীবনে। নয়ত সময়টা এখানেই থেমে যাক। সুখকর অনুভূতির সাথে সুক্ষ্ম একটা ব্যথা প্রতিটা শিরা উপশিরায় প্রবাহিত হলো। তারা বাস্তবতার প্রতিবিম্ব হয়ে ধরা দিল মন, মস্তিষ্কে। অনুভব করাল চিরন্তন সত্যটা। আরুষের চোখে মুগ্ধতা অথচ বুক পুঁড়ে চলেছে নির্নিমেষ। ছেলেটা যখন বাস্তবতা, কল্পনার মধ্যস্থানে দাঁড়িয়ে দুঃখকে লালন করতে ব্যস্ত তখন শ্রবণেন্দ্রিয়ে প্রবেশ করল পরিচিত নারী কণ্ঠস্বর,
“এই আরুষ তোর বউটারে আর সুশিক্ষা দিতে পারলি না? বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে কীভাবে হাসল দেখলি?”

আরুষের মসৃণ কপাল গুটিয়ে এল। ভ্রু যুগল কুঁচকে পাশ ফিরে তাকাল। দেখল বড়ো খালামনি দাঁড়িয়ে আছেন। শোনা গেল বিরক্ত মিশ্রিত গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠস্বর,
“সে এই বাড়ির বউ হওয়ার আগে একজন মানুষ। আর একজন মানুষের অবশ্যই হাসার অধিকার আছে। এটা তার নিজের বাড়ি খালামনি।”
ভদ্রতার সাথে কথাগুলো বলে হনহনিয়ে ওখান থেকে প্রস্থান করল আরুষ। রেবেকা শেখ এমন সোজা সাপ্টা জবাবে একটু অপমান বোধ করলেন। সাপের মত ফুঁসে উঠে চলে গেলেন রান্নাঘরের দিকে। হয়ত বোনের কান ভাঙাবেন। এটাতে তিনি বেশ পটু আছেন।
.

বেশ কিছুক্ষণ সময় পেরিয়েছে। গুঞ্জরিকা নিজ হাতে মোনাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে খাইয়ে দিয়েছে। আগামীকাল আসতে বলেছে। নতুন কয়েকটা জামা কিনে দিবে মোনাকে। এই তো এখন দুজন মিলে খেলছে। সঙ্গ দিয়েছে আরিকা। গুঞ্জরিকা অবাক হয়েছে বেশ। সেই সকাল থেকে বাচ্চা মেয়েটা ওদের বাড়িতে আছে অথচ তার পরিবারের কারোর কোনো মাথাব্যথা নেই। একটাবার খোঁজ করতে অবধি আসেনি। গুঞ্জরিকার এই পর্যায়ে মনে হলো মোনার বাড়িতে যাওয়া উচিত। হতে পারে তার মা অন্যদিকে খুঁজছে। জানে না এখানে এসেছে। মোনাকে ডাকল,
“সখী? তুমি বাড়িতে যাবে না?”

মোনা আরিকার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে আর খেলছে। ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে চাইল, “হ্যাঁ, যাব তো সখী।”

“তাহলে নিচে চলো। তোমার আম্মা নিশ্চয় এতক্ষণ খুঁজছে তোমাকে।”

মায়ের খোঁজার কথা শুনতেই মোনা দ্রুত পালঙ্ক থেকে নেমে দাঁড়াল। গুঞ্জরিকার হাত ধরে বলল, “চলো, আমি বাড়িতে বলে আসিনি সখী।”

গুঞ্জরিকা হেসে মাথা নেড়ে সায় জানাল। ওর সাথে হাঁটা ধরল। চৌকাঠের সম্মুখে আসতেই মুখোমুখি হলো চন্দ্রার। চন্দ্রা হাসিমুখে ওদের দুজনকে দেখল। মিষ্টি করে হাসল,
“তোর বাচ্চা এটা? ওহো দুঃখিত তোর দ্বারা তো সম্ভব নয়। কোথায় পেলি ওটাকে?”

হাসতে হাসতে জায়গামতো তীর ছুঁড়তে বরাবরই পটু চন্দ্রা। গুঞ্জরিকা অবশ্য ধরল না ওইসব কথাবার্তা। উলটো ক্ষীণ হাসল, “তোর দ্বারা তো সম্ভব। তোরটা দিয়েই না হয় তখন খেলব।”

“আমার বাচ্চাকে তোর কাছে আসতে দেওয়া যাবে নারে গুঞ্জ। তখন যদি তোর মতো বন্ধ্যা হয়ে যায়। কপাল পুড়বে আমার সন্তানের।” কথাগুলো বলেই শব্দ করে হেসে উঠল চন্দ্রা। বোঝাতে চাইল সে মজা করছে। গুঞ্জরিকা শান্ত চোখে দেখল সেই উপেক্ষার হাসি। অনুভব করল শব্দহীন ভাষার কটাক্ষ। এতে মেয়েটার মুখের হাসি বাড়ল বই কমল না,

“অথচ দিব্যি আমি আর তুই এক থালাতে খেয়েছি। এমনকি এখন তুই আমার ঘরে থাকছিস। আমার স্বামীকে ছুঁয়ে দিচ্ছিস। আমার ব্যবহৃত সবকিছু ব্যবহার করছিস।”

ছোট কয়েকটা সাধারণ বাক্য অথচ সামনে দাঁড়ানো প্রতিপক্ষকে একেবারে মাটিতে মিশিয়ে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। চন্দ্রা যেন না চাইতেও আবারও পরাজিত হলো। কিন্তু সেটা সে বরণ করতে নারাজ। ততক্ষণে গুঞ্জরিকা মোনাকে কোলে উঠিয়ে সিঁড়ির দিকে অগ্রসর হয়েছে। সেদিকে চেয়েই দাঁতে দাঁত পিষে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল চন্দ্রা,
“শুধু আমি না তোর স্বামীও আমাকে ছুঁয়ে দেখেছে। তোর জায়গা এখন আমার। তুই আমার ভাগ্যের সবটুকু সুখ কেড়ে নিয়েছিস গুঞ্জ। সেদিন আমাকে শেষ সুযোগ দিস নি। তুই সেদিন আমাকে ফিরিয়ে না দিলে আমাদের শেষ থেকে সবটা শুরু হতো। তুই আমার ভালো চাস না। তুই আমার সখী হতে পারিস না। তুই পাষাণ গুঞ্জ।”

কথাগুলো বেশ জোরেই বলল চন্দ্রা। লক্ষ্য অপরপক্ষ অবধি পৌঁছে দেওয়া। মেয়েটার গলা কাঁপছে। চোখ জ্বলছে। বুকটা যাতনায় পিষ্ট হচ্ছে। অথচ গুঞ্জরিকা থামেনি। অটল কদমে এগিয়ে চলেছে। তবে কি শোনেনি চন্দ্রার অভিযোগে পরিপূর্ণ কথাগুলো? কে জানে? হয়ত শুনেছে! হয়ত না!

চলবে

(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সকলের গঠনমূলক মন্তব্য ও রেসপন্সের আশা রাখি।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply