নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা
নাজনীননেছানাবিলা
পর্ব_১৩
অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌❌
(বিঃদ্রঃ আরেকটি পর্ব কিংবা বোনাস পর্ব আসবে কিন্তু রাত হবে।)
(গতকাল যেটা লিখেছিলাম সেটাতে অনেক অতীত ছিল। কিন্তু হঠাৎ আজ একটি প্লট মাথায় আসলো তাই সেটি লিখে দিলাম। বিশেষ করে কটন ক্যান্ডি)
বাংলা গান গাওয়ার পর মিহাল Jay Sean এর ride it গানটি গেয়েছিল।তার গাওয়া প্রথম গান খুব কম মানুষ বুঝছে অর্থাৎ কেবল বাঙালি রা বুঝছে এবং অন্য কেউই তেমন বুঝেনি তাই ইনজয়ও করতে পারি নি কিন্তু ride it গান টা সবাই বুঝেছে এবং খুব ইনজয় করেছে।মিহাল স্টেজ থেকে নেমে আসতে নিলেই সবাই ওয়ানস মোর,ওয়ানস মোর করছিল কিন্তু সে সৌজন্যমূলক হাসি বজায় রেখে নিচে নেমে পরলো।আর মুনভি এক জনরে ইকরা কে দেখে যাচ্ছে।মিহাল যখন গান গাইছিল তখন সে ইকরা কে দেখতে ব্যস্ত ছিল। মনে মনে ইকরার তো একটা নিক নেইম ও দিয়ে ফেলল সেটি হলো কটন ক্যান্ডি।বরাররই কটন ক্যান্ডি মুনভির খুব পছন্দের।আর ইকরাও কটন ক্যান্ডি কালারের শাড়ি পরেছে।ইকরার মায়াবী চোখ থেকে মুনভি নজর সরাতেই পারছে না। মনে মনে বলছে__
কটন ক্যান্ডি কি আছে তোমার মাঝে যা আমাকে পাগল করে তুলছে।আমার মন উতলা হয়ে উঠছে তোমার সাথে কথা বলার জন্য। কিন্তু তোমার সামনে গেলেই হাঁটু কাঁপা শুরু করে।মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। আগে কখনো এমন হয়নি আমার। এই প্রথম এমন হচ্ছে।গত দু’দিন যাবৎ শুধু তোমার কথা ভেবেছি। চোখ বন্ধ করলি তোমার দুটি মায়াবী ছোখ ভেসে উঠে।চোখ খুললে আশে পাশে তোমাকে দেখতে পারি। শুধু তুমি আর তুমি।আমার হৃদয় জুড়ে কেবল তোমার বসবাস।অথচ তুমি নিজের নতুন ঠিকানা হতে অজ্ঞাত।এ কেমন পরিহাস আমার জানা নেই কটন ক্যান্ডি।
মিহাল স্টেজ থেকে নেমে যখন দেখলো মুনভি তার সাথে নেই তখন সে আবার স্টেজের দিকে তাকিয়ে দেখলো মুনভি এক দৃষ্টিতে কোথাও একটা তাকিয়ে আছে। সে মুনভির দৃষ্টি লক্ষ্য করে দেখলো মুনভি সেই শাড়ি পরিহিত মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে। মিহাল কিছুটা অবাক হলো।মুনভি কে সে ছোট্টবেলা থেকে চিনে কিন্তু মুনভি কে কখনো কোন মেয়ের দিকে এভাবে তাকাতে দেখেনি। তার থেকে বেশি অবাক হচ্ছে এইটা ভেবেই যে যেই মেয়েটির সাথে সেদিন ক্যান্টিনে তার ঝগড়া হল সেই মেয়েটির দিকে মুনভি তাকিয়ে আছে। তার বিষয়টি পছন্দ হলো না।
কিন্তু সে তো জানেই না যে মুনভি নীল শাড়ি পরা মেয়েটির দিকে না বরং সেই মেয়েটির পাশে বেবি পিঙ্ক (লাইক পিঙ্ক) শাড়ি পরা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে।তার দৃষ্টি বার বার নীল শাড়ি পরা মেয়েটির দিকে যায় বলে সে ভাবল মুনভিও হয়তো এইদিকেই তাকিয়ে আছে।
নীলার গায়ের লোম এখনো দাঁড়িয়ে আছে। একটু আগে যে তার প্রফেসর গান গেল তার কাছে বেশ ভালো লাগলো।মনে মনে বলল __
বাহ্ পেয়ারে লাল তো বেশ ভালোই গান গায়। আমি তো জানতাম নিজের এই কর্কশ কন্ঠ দিয়ে কেবল ডো ইউ নো হু আই এম এইটাই বলতে পারে।এখন দেখছি বেশ ভালো গান গাইতে পারে।যাক কোনো তো ভালো গুণ আছে।( প্যারলাল শব্দ থেকে পেয়ারেলাল টাই বেশি সুন্দর তাই এভাবে বানানটি দিলাম।)
নীলা এইসব মনে মনে ভাবছিল হঠাৎ কিছু একটা বুঝে উঠতে পেরে তার টনক নড়ে উঠলো।চোখ বড় বড় হয়ে গেল। কারণ এই মাত্র তার প্রফেসর বাংলা গান গাইলো অর্থাৎ তার প্রফেসর একজন বাঙালি। আর সে তো সেদিন ঝগড়ার সময় আস্তে আস্তে বলেছিল __
আপনি যেই পেয়ারে লাল হোন না কেন হু কেয়ারস।
সে তো এ কথাটি ভেবে বলেছিল যে লোকটি এইখান কার হবে এবং তার বলা বাংলা কথা বুঝতে পারবে না। অথচ এখন সে বুঝতে পারলো লোকটি নিজেও বাংলা জানে তার মানে অবশ্যই সেদিন তার বলা কথাটি বুঝে ফেলেছে।
নীলা শুকনো ঢোক গিলল।সে যতই সাহসী হোক না কেন এইটা তার দেশ না। আর সব থেকে বড় কথা হলো সে নিজের প্রফেসরের সাথে বেয়াদবি করে ফেলেছে এখন যদি তাকে পরীক্ষায় মার্কস কম দেয় সে কিছুই করতে পারবে না।
এসব ভেবে নীলা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ইকরার কাছে বেশ ভালো লাগছে অনুষ্ঠান।সে আবার ইন্ট্রোভার্ট টাইপের। কথা বলে না বললেই চলে।নীলা কে চেনে কলেজ থেকে।নীলা নিজ থেকে এসেই তার সাথে বন্ধুত্ব করেছিল। সে সব সময় একা একা বসে থাকতো বলে নীলার কাছে ভালো লাগতো না তাই সে এসে এই মেয়েটাকে সঙ্গ দিয়েছিল। এখনো তাদের মাঝে বন্ধুত্ব টিকে আছে।
অন্যদিকে লিসা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠছে এবং কিভাবে নতুন মেয়েটিকে সে শায়েস্তা করবে সে কথাটি ভাবছে। একটা পরিকল্পনা করে ফিরেছে বটে। তার জন্যই এক ফ্রেন্ডকে একটা জিনিস আনার জন্য পাঠিয়েছে। কিন্তু নিজের পরিকল্পনা কি করে সফল করবে তা এখনো ভেবে চলেছে।হঠাৎ মাথায় কিছু একটা আসতেই সে তার এক ফ্রেন্ড কে বলল ফরাসি ভাষায়_
তুই গিয়ে ওইযে আনকমন কাপড় পরে আসা মেয়ে দুটির মধ্যে সে ডান পাশে বসে আছে তাকে গিয়ে বলবি তার ক্লাস মনিটর তাকে ডাকছে।সে যেন C4 ক্লাস রুমে চলে আসে।শাড়ি পরা মেয়েটিকে কথাটি বলবি।কোনো ভুল যাতে না হয়।
লিসার ফ্রেন্ড যার নাম নোরা সে মাথা নাড়িয়ে সায় দিল।লিসার ঠোঁটে শয়তানি হাসি ফুটে উঠলো। নিজের চেয়ার থেকে উঠে ক্লাস রুমের দিকে চলে যেতে লাগলো। কিন্তু যাওয়ার আগে সে তার এক ফ্রেন্ডকে পাঠিয়েছিল ধারালো ব্লেড ম্যানেজ করতে সেই ফ্রেন্ড এর কাছ থেকে ব্লেড নিয়ে তারপর ওয়াশরুমে গেল।
ইকরার সামনে সব লম্বা মানুষ বসেছে তাই সে ভালো করে দেখতে পারছে না। এখন স্টেজে নাচ হচ্ছে। আর সে নীলার থেকে অল্প একটু খাটো। তার ওপর আবার নীলার সামনে তেমন লম্বা মানুষ বসে নেই বলে নীলা অনায়াসে দেখতে পাচ্ছে। সে নীলা কে অনুরোধ করে বলল যেন নীলা তার সিটে বসে এবং সে নীলার সিটে বসে। নীলা মুচকি হেসে নিজে ইকরার সিটে বসলো এবং ইকরা কে তার সিটে বসতে দিল। তখনই এক মেয়ে এসে ইকরা কে বলল তার ক্লাসের মনিটর তাকে ডাকছে এবং তাকে এক্ষুনি যেতে হবে।ইকরা নীলা কে বলে ক্লাসের দিকে যেতে লাগলো ।নীলার তাকে আটকালো না। দূর থেকে মুনভি লক্ষ্য করলো তার কটন ক্যান্ডি কোথাও যাচ্ছে। এই সুযোগ পেল তার কটন ক্যান্ডি সাথে কথা বলার। তাই সে সঙ্গে সঙ্গে স্টেজ থেকে নেমে পড়ল।
মিহাল ফোনে একজনের সাথে কথা বলছিল। মূলত যেই লোকটি এতদিন বাংলাদেশে থেকে থাকে নীলার খবর দিয়েছে সেই লোকটির পেমেন্ট এখন চুকিয়ে দিল সে। এখন আর ওই লোকটার কোনো প্রয়োজন নেই। ফোনে কথা বলতে বলতে সে হঠাৎ দেখল মুনভি স্টেজ থেকে নেমে কোথাও একটা তাকিয়ে সেদিকে যাওয়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছে। মিহাল কান থেকে ফোন কিছুটা দূরে সরিয়ে মুনভি কে দেখতে লাগলো। তারপর সে নীল রঙের শাড়ি পরা মেয়েটি যেখানে বসেছিল সেখানে তাকিয়ে দেখল মেয়েটি নেই।
সেই জায়গা খালি। তার বুঝতে বাকি রইল না যে তার বন্ধু সে মেয়েটির পেছনে যাচ্ছে।তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।অথচ ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি যে অনেক বড় একটি শকিং নিউজ তাকে বলেছে সেটি সে শুনে নি। ফোনে অপর প্রান্তে থাকা লোকটি তাকে বলছে__
স্যার আমাদের একটা ভুল আছে ইনফরমেশনে।নীলা নামক মেয়েটির ইরফানের সাথে বিয়ে হবার কথা ছিল কিন্তু বিয়ের দিন ইরফান সেই মেয়েটির বেস্ট ফ্রেন্ড কে বিয়ে করে নিয়ে আসে এবং এর জন্য নীলার সাথে ইরফানের বিয়ে হয়নি। আপনি আমাদের কে বলে ছিলেন নীলার সাথে ইরফানের বিয়ে হয়েছে তাই নীলা খোঁজ নিতে।এর জন্য অন্য কিছুর খোঁজ খবর আমরা নেইনি। কিন্তু আজকে জানতে পারলাম নীলার সাথে ইরফানের বিয়ে হয়নি।সে আরশি নামক একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। এই সব কথা আমি তাদের প্রথম পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনেছি।যখন সেই এলাকায় গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে শিওর হবার জন্য লোক লাগালে জানতে পারি ঘটনাটি একদম সত্যি। এই ইনফরমেশনটি শিওর হয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।
কিন্তু আফসোস মিহাল ফোনে অপরপ্রান্তে থাকা লোকটি এতক্ষণ যা বলল তার একটা শব্দও তার কর্ণপাত হলো না। একেই মাইকের শব্দ তার ওপর ফোন কানের কাছ থেকে কিছুটা দূরে ছিল।আবার তার দৃষ্টি এবং মন ছিল অন্যদিকে।
সে মুনভি কে দেখতে দেখতে ফোন আবার কানের কাছে নিয়ে বলল_
থ্যাংকস ফর ইউর অল ইনফর্মেশন। আমি তোমার প্রেমেন্ট দিয়ে ফেলেছি এখন আর কোন দাবি নেই তোমার আমার কাছে। যদি তোমাকে প্রয়োজন হয় আবার তোমাকে কল করা হবে রাখছি। বলেই সে ফোন কেটে দিল।
প্রথমত সে নীলা যে অবিবাহিত সেই সত্য হতে অবগত হলো। তার উপর তার বেস্ট ফ্রেন্ড মুনভি যেই মেয়েটির জন্য যাচ্ছে সেই মেয়েটি অন্য মেয়ে,যেই মেয়ে কে সে ভাবছে সেই মেয়ে না। কারণ নীলা এবং ইকরা একে অপরের সিট পরিবর্তন করেছিল এবং সিটের মাঝে কিছুটা দূরত্ব ছিল।মিহাল কেবল সেইদিকে নিজের নজর বুলিয়েছিল যেইদিকে সে নীল শাড়ি পরা মেয়েটি বসেছিল। আশেপাশের সে আর নিজের দৃষ্টিপাত করার প্রয়োজন বোধ করেনি। এই ভুল বুঝাবুঝি হল।
মিহাল কিছুক্ষণ মুনভির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের মাথা ঝাঁকিয়ে উঠলো এবং নিজেকে শাসিয়ে বলল__
ফোকাস মিহাল খান ফোকাস। মুনভি কি করছে না করছে সেটা তোর বিষয় না। তোর আসল বিষয় হলো ইরফানের স্ত্রীকে কিভাবে তুই ব্যবহার করবি। যেহেতু মেয়েটি এখানে চলে এসেছে এখন আর হেলামি করলে চলবে না। যেভাবেই হোক তোকে সেই মেয়েটির ইনফরমেশন বের করতে হবে।
সে চলে গেল স্টুডেন্ট ইনফরমেশন অফিসে। এইখানে সকল স্টুডেন্ট দের সকল ইনফরমেশন থাকে। সেখানে গেলেই সে বাংলাদেশ থেকে আসা স্টুডেন্টদের লিস্ট পেয়ে যাবে। যেই মেয়ের নামের পাশে মীর্জা নাম দেখবে তখনই বুঝতে পারবে এই মেয়েটি নীলাঞ্জনা।
ইকরা খালি রুমে ঢুকে পরল।রুমটি অন্ধকার ছিল ।তার ভয় করতে লাগলো।লিসা রুমের ভেতরেই ছিল।তার ধারণা মতে এখন রুমে যেই মেয়েটি এসেছে সেই মেয়েটির জন্যই তাকে তার ক্রাশ সাসপেন্ড করেছিল। কিন্তু সে তো জানেই না এখানে অন্য একটি মেয়ে এসেছে। দরজা খোলা থাকার কারণে বাইরে থেকে কেবল হালকা আলো আসছে। ইকরার কিছুটা ভয় লাগছে। তাকে একা এখানে ডাকার কারণ সে ঠিক বুঝতে পারছে না। যে মেয়েটি তাকে এখানে ডেকে এনেছিল সেই মেয়েটি তো তাকে বলেছিল সেখানে সে ছাড়াও অন্যান্যরা আছে। এখন তো দেখছে এখানে কেউ নেই। তার উপর ইকরা নিজের ফোনটাও নীলার কাছে দিয়ে এসেছে। হঠাৎ কি হলো সে নিজেও জানে কেউ একজন এসে তার চোখ ধরে ফেলল পেছন থেকে। মেয়েটি ভয়ে লাফিয়ে উঠলো। নিজের চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো। হঠাৎ পিঠ থেকে হিজাব সরে গেল এবং পিঠে ব্যথা অনুভব করলো সাথে কাপড় ছেড়ার শব্দ পেল। খুব বুঝতে পারলো কেউ তার ব্লাউজ পেছন থেকে ছিঁড়ে ফেলেছে। হঠাৎ তাকে যেই মানুষটি ধরে ছিল সেই মানুষটি অনেক জোরে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল এবং দৌড় দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল।আর যাওয়ার সময় ক্লাস রুমের দরজা বাহির থেকে লাগিয়ে দিল।
ইকরা মাটিতে পরে গিয়ে আর্তনাদ করে উঠলো।বেশ ব্যাথা পেয়েছে সে। তার ওপর পিঠে ব্যথা অনুভব করছে ভীষণ। আস্তে আস্তে পিঠে হাত দিতে দেখল ব্লাউজ সম্পূর্ণ ছিঁড়ে গিয়েছে।সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তার ভীষণ জ্বালাপোড়া করছে। তার ওপর পুরো রুম অন্ধকারে আচ্ছন্ন।তার ভয় করতে শুরু করলো সে ফুঁপিয়ে উঠলো। পরে যাওয়ার কারণে হাতে ভীষণ ব্যথা পেয়েছে। হাতের কোনই ছুলে গিয়েছে। তবুও অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ালো এবং অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে দরজার কাছে পৌঁছালো। কিন্তু দরজা খুলতে গেলে দেখল দরজা বাহির থেকে লাগিয়ে দেওয়া। তার ভয় আরো বেড়ে গেল। এমনিতেই মেয়েটা অন্ধকার কে খুব ভয় করে। তার ওপর এখন সে এখান থেকে জরে চিৎকার করলেও বাহিরের কেউ শুনতে পারবে না কারণ সবাই স্টেজের সামনে এবং বাইরে গান বাজনা হচ্ছে। নিজের উপর ভীষণ রাগ উঠল। অন্তত ফোনটা নিয়ে আসলেও পারতো। তবুও এখান থেকে বাঁচার জন্য দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো সে। গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিল। কিন্তু কেউই তার চিৎকার শুনতে পেল না। ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে মেয়েটি বার বার। চিৎকার করে বলছে
হেল্প হেল্প কিন্তু তার চিৎকার শোনার মত এখানে কেউ নেই।
আর লিসা? সে তো এতক্ষণে নিজের আসনে এসে বসে পড়েছে। এখন যেন তার শান্তি লাগছে। মুখে তার বিজয়ের হাসি।
মুনভি কলিডোর দিয়ে হাঁটছে এবং কাউকে খুঁজেছে কিন্তু পাচ্ছেনা। সে তো তার কটন ক্যান্ডি কে এখানে আসতে দেখেছিল কিন্তু এখন খুঁজে পাচ্ছে না। হঠাৎ কারোর চিৎকার এসে বাজলো তার কানে। তার পা থমকে গেল। সামনের দিকে দৃষ্টিপাত করতে দেখল একটা দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে।দরজা কিছুটা কেঁপে উঠছে।মুনভি কিছু না ভেবে দৌড় দিয়ে দরজা খুলে ফেলল। দরজা খুলতেই কেউ তার বুকে হেলে পরলো।
ইকরা প্রায় 15 মিনিট যাবত এই অন্ধকার রুমে বন্দী ছিল। জোর চিৎকার করার কারণে তার গলা ভেঙে গিয়েছে।মাথা তার ঘুরাচ্ছিল। যেই না সে হেলে পড়তে নিল মেঝেতে অমনি কেউ একজন এসে দরজা খুলে ফেলল এবং সে সেই মানুষটির ওপর হেলে পড়ল। বিন্দুমাত্র শক্তি নেই। এমনি তেই মেয়েটি প্রথম বার নিজের পরিবারের থেকে এত দূর এসেছে তাই আরো দুইদিন তেমন ভালো ঘুম হয়নি। তার ওপর আজকে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল মেয়েটির সাথে।
মুনভি নিজের বুকের ওপর হেলে পরা মেয়েটিকে ধরে ফেলল। মেয়েটির চোখ দেখেই সে অবাক হয়ে গেল এবং মেয়েটিকে সঙ্গে সঙ্গে বুকের সাথে আগলে নিল। মেয়েটির গালে আলতো করে চাপড় দিয়ে চিন্তিত কন্ঠে শুধালো__
ইকরা ওহ ইরকা তাকাও? কি হয়েছে তোমার? ভয় পেয়েছো? আমি আছি না ভয় পেয় না তো।তাকাও বলছি মেয়ে। কটন ক্যান্ডি প্লিজ তাকাও না গো।
হঠাৎ নিজের হাতের মেয়েটি উন্মুক্ত পিঠ অনুভব করতেই মুনভি চমকে উঠলো।ইকরা কে খুব সাবধানতার সাথে কিছুটা সোজা দাঁড় করিয়ে নিজের হাত সামনে আনতেই দেখল হাতে রক্ত। তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।সে ইকরার পেছন তাকাতেই দেখলো শাড়ির ব্লাউজ অনেকটা ছিঁড়ে গিয়েছে আর পিঠ থেকে অল্প অল্প করে রক্ত বরে হচ্ছে।
মুনভি আর সময় নষ্ট না করে নিজের পরনের কোর্ট খুলে ইকরার পিঠ ঢেকে দিল। এখন সে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।তার হাত পা বরফ হয়ে এসেছে। অথচ কত বড় বড় রোগী কেও সে অনায়াসে সামলিয়েছে।
আর কিছু না ভেবে সে মিহাল কে কল লাগালো।
চলবে????
Share On:
TAGS: নাজনীন নেছা নাবিলা, নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১০
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৬
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা বোনাস পর্ব
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৯ এর শেষ অংশ
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৯ প্রথম অংশ
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৭
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা সারপ্রাইজ পর্ব
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩+বোনাস পর্ব