নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৫২
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
পিহুরা যখন রাস্তায় তখনয় খবর পায় রুচাই বারে কোনো একটা সমস্যা হয়েছে তার ভিতরে তার স্পাই গুলো ওক্টু আগেই নক দিয়ে বলেছিলো।সাদিরা আজ ছয় তলায় না তিন তলার বারে আছে।আর তারাও সেখানে।তবে বিগত মিনিট পাচেক আগ থেকে সবার ফোন বন্ধ।মারিয়ার মাথায় যেমন চিন্তা তার উপর পিহুর বেশি চিন্তা।
রাস্তায় যেতে যেতে কয়েকটা এম্বুলেন্স আর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে দেখলো রুচাই বার এর রাস্তায়।পিহুর মনে অজানা একটা আশংকা জমা হলো।রীতিমতো ঘামছে মেয়েটা।মারিয়া গাড়ির স্পীড বাড়ালো।ইতিমধ্যে গাড়ির ভিতরে থাকা স্পীকারে লাইভ খবর পাবলুশ করা হচ্ছে রুচাই বার এ বোমা-বিস্ফোরন।কথা টা শুনে পিহুর আরো বেশি চিন্তা করছে।পিহু মনে প্রানে আল্লাহর কাছে দোয়া করছে তার সাদি যেনো ঠিক থাকে।সাদি ঠিক থাকলে আল্লাহর কাছে আর কিছু চাইবেনা পিহু।
পিহুদের গাড়ি এসে থামে রুচাই বারের সামনে।প্রচন্ড ভিড়।সাংবাদিক এ ঘেরা পুরো এরিয়া।পুলিশ সিল করে রেখেছে।পিহুরা ভিড় ঠেলে ভিতরে আসতেই স্তব্ধ হয়ে যায়।তিনতলা দিয়ে শুধু ধোয়া উড়ছে।ফায়ার সার্ভিস এর কর্মিরা আগুন নিভিয়ে ফেলেছে।ইতিমধ্যে কিছু মানুষের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।সেগুলোয় মুলত সাদা কাপড়ের উপর আলাদা আলাদা করে রাখা হচ্ছে।
বেশির ভাগ মানুষই পুড়ে গেছে।তার ভিতরে অনেকের হাত পা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে চারিদিকে ছড়িয়েছে।আর কেও কেও বা অর্ধ পুড়েছে।পিহু নিজের কথা বলার শক্তি হারিয়েছে।হাত পা অসাড় হয়ে আসছে মেয়েটার।মারিয়া তাদের দলের সেই স্পাই গুলোর সাথে আবারো কন্টাক্ট করা ব্যার্থ চেষ্টা করলো।মারিয়ার আর বুজতে বাকি রইলো না বিপদ যা ঘটার ঘটে গেছে।সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।
মারিয়া পিহুর পাশে দাঁড়িয়ে পিহুর ঘাড়ে হাত দিলো।পিহু কোনো কিছু চিন্তায় বিভোর।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে ওর।মারিয়া পিহুকে এনে এক সাইটে বসিয়ে দেয়।তবে পিহুর কোনো অনুভূতি নেই। কেমন যেনো শুন্য হয়ে গেছে মেয়েটা।
সব উদ্ধার কাজ শেষে যখন খবর এর হেডলাইন বের হলো….
-“হাত্তা শহরের নামকরা আন্ডারগ্রাউন্ড এর কুখ্যাত মানুষদের জনপ্রিয় রুচাই বারের তৃতীয় তলা সন্ত্রাসী বোমা হামলায় বিস্ফোরিত হয়েছে।বারের ভিতরে উপস্থিত প্রায় পঁচাশি জন নারী পুরুষ নিহত হয়েছেন।তৃতীয় তলার একজন মানুষ এর পুরো পুরি অখ্যাত দেহ পাওয়া যাইনি।এমনকি আন্ডারগ্রাউন্ড এর মাফিয়া কিং লিওনার এভ্রেন ও বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন।সাথে পরিচিত অনেকেই।ধারনা করা যাচ্ছে যে তার ই কোনো শত্রু করেছে কাজটি।যাদের খন্ডিত দেহবসাসেস পাওয়া গেছে যদি আত্মীয় সজন থাকেন তাহলে নিজ নিজ ভিক্টিম কে চিহ্নিত করুন।
পিহু পুরো থেমে গেছে।যেনো তাকে পুরোপুরি মেরে দিয়েছে।চোখের পলক ও পড়ছে না পিহুর।মারিয়া পিহুর এমন চেহারা কখোনো দেখেনি।পিহুর নৃশংস চেহারা দেখেছে তবে এমন হেরে যাওয়া পিহুকে দেখেনি।
যখন লাশ চিহ্নিত করতে একে একে সব যেতে লাগলো তখন মারিয়া পিহুকে বললো তবে পিহু নড়ছে না।অজানা এক ভয় কুড়ে খাচ্ছে।যদি তার সাদি আর না থাকে।যদি তার সাদি এখানে লাশের ভিড়ে থাকে।তবে পিহু।পিহু কি নিয়ে বাঁে কি করে থাকবে পিহু তখন।
মারিয়া পিহুকে নিয়ে উঠে দাড়াতেই পিহু মারিয়াকে জড়িয়ে ধরে হাওমাও করে কেদে উঠে।মারিয়া হতভম্ব হয়ে যায় পিহুর আকশ্মিক কান্নায়।পিহু কাদতে কাদতে বলে উঠে…
-“এই মারু..আমরা জাবো কেন ওখানে।তোমার স্যার নেই ওখানে আমরা জাবো না।
বলে আরো জোরে কেদে উঠে পিহু।এতক্ষনের চাপা কষ্ট এখন চোখের পানির সাথে বের হয়ে আসছে।মারিয়া পিহুকে শান্তনা দিতে পারলো না কারন সে তো জানে সাদি সেখানেই ছিলো।আর তার বের হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই।এমনকি কেওই বের হতে পারেনি।
যদি এখানে কোনো খন্ডিত অংশ পায় তাহলে হলো আর নয়তো ছায় হয়ে গেছে এটা ভেবে ননকে বুজ দিতে হবে। মারিয়া আবারো পিহুকে বলে উঠলো….
-“ম্যাম..আমি জানি স্যার ওখানে নেই।কিন্তু আমাদের তাও দেখা প্রয়োজন।
-“কেনো কেনো দেখবো আমরা।আমার সাদি ওখানে নেই।ওর কিছু হয়নি।কিছু হতে পারে না ওর।
-“ম্যাম আমাদের দলের দুজন ছিলো তাদের কে একভার চিহ্নিত করে আসি চলুন।
পিহু আর কথা বাড়ায় না।মারিয়ার সাথে এগিয়ে চলে ভিড়ের মধ্যে দিয়ে ভিড় ঠেলে।সাদা কাপড়ের উপরের আলাদা আলাদা মানুষের খন্ড খন্ড অংশ রাখা হয়েছে।যার অধিকাংশই পোড়া।
পিহুরা এগিয়ে গিয়ে দেখতে লাগলো।একে একে সব লাশ গুলোর অংশ কে।হটাৎ একটা খন্ডিত পোড়া হাতের কাছে এসে পিহু থমকে যায়।হাতের সাথে শার্টের গোটানো হাতা টুকু এখোনো লেগে আছে।পানিতে ভিজে পড়া চামড়ায় লেগে গেছে।তবে মেরুন রঙ টা চকচক করছে। হাতের ঘড়িটাও পিহুর অনেক বেশি চেনা।পুড়ে যাওয়া সাদা রোলেক্স ঘড়ি টা পিহুর চেনা।পিহু নিজে পছন্দ করে কিনেছিলো ঘড়িটা।আর আজ সাদি সেই ঘড়িটায় পড়েছিলো।
পিহু আর কিছু ভাবতে পারে না।তার আগেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়।ঠিক সময়ে মারিয়া ধরে নেয় পিহুকে।মানুষের সাহায্যে গাড়িতে বসিয়ে এগিয়ে চলে হসপিটালের দিকে।
পিহুর জ্ঞান ফেরে গভীর রাতে। হাত্তার একটা হসপিটালে বিছানায় সুয়ে আছে সে।পাশেই বসে আছে সাদি।চোখে চশমা লাগানো সাদা ফ্রেমের আয়তকার গ্লাস।বেশ মানিয়েছে সাদিকে।পরনে মেরুন রঙের সেই শার্ট আর কালো প্যান্ট।শার্টের উপর সাদা এপ্রোন।
পিহু পিটপিট করে চোখ খুলে সাদির দিকে তাকায়।সাদি ও তার দিকেই তাকিয়ে আছে। পিহু সাদির দিকে তাকিয়ে থাকে বেশ কিছুক্ষন তারপর ভ্রু কুচকেই জিজ্ঞাসা করে…
-“স…সাদু..?
পিহুর কথায় সাদি হাসে। ঠোঁট মেলে।পিহু মুগ্ধ নয়নে দেখে সেই হাসি।সাদি পিহুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে…
-“জান..!
পিহু এগিয়ে সাদির গালে হাত ছুইয়ে দেয় কাপা হাতে। তারপর উঠে বসতে চায়। সাদি তাড়াতাড়ি পিহুকে ধরে উঠে বসায়। পিহু সাদিকে গায়ের জোরে জড়িয়ে ধরে কেদে বলে উঠে….
-“আপনি ঠিক আছেন। কই গেছিলেন আপনি।আপনাকে কত খুজেছি আমি।ওরা আপনার পোড়া হাত…
আর কিছু বলার আগেই সাদি পিহুর মুখে নিজের হাত দেয়।তারপর ফিশফিশ করে বলে…
-“আর না জান।খুব ভালোবাসিতো আমি তোমায়।খুব খুব।আমি আমার স্টুপিড কে ভালোবাসি।
-“আমিও আপনাকে ভালোবাসি সাদু।
সাদি আবারো হাসে। পিহুর কপালে ছোট্ট একটা চুমু দিয়ে সাদি বলে উঠে…..
-“তুমি কাদছো কেন জান।কি হয়েছে…?
-“আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না তো সাদুউউ..!
সাদি আবারো হাসে।পিহু ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়।তারপর করুন চোখে পিহুর দিকে তাকিয়ে বলে…
-“আমাদের প্রনয়ের কাহিনী হয়তো পুর্নতা পেলো না জান।তবে আখিরাতে তোর পাশে আমি আবারো দাড়াবো।আর সেই জনমে তোকে সারাজীবন ভালোবাসবো।খুব খুব ভালোবাসবো আর ছেড়ে যাবো না।
সাদির কথা শেষ হতে না হতেই পিহু সাদিকে জড়িয়ে ধরতে যায়।ঠিক তখনই সাদি অদৃশ্য হয়ে যেতে থাকে।পিহু নিজের গলার সমস্ত শক্তি দিয়ে বলে উঠে…….
-“সাদিইইইইই যাবেন না……
হটাৎ পিহুর চিৎকারে কেবিনে ছুটে আসে মারিয়া সহ ডাক্তার রা।এতক্ষন পিহু সপ্ন দেখছিলো।পিহু ঘেমে একাকার।হার্টবিড দ্রুত চলছে।মারিয়ার চোখে পানি।পাচ ঘন্টা ধরে পিহু অজ্ঞান।মারিয়া পিহুর পাশে এসে বসতেই পিহু মারিয়াকে জাপটে ধরে কেদে উঠে বলে…..
-“মারু..এই মারু আমার সাদি।আমার সাদি আর নেই।চলে গেছে আমারে রেখে।সবাই চলে গেছে আমারে রেখে।সবাই খারাপ মারু।কেও ভালো না।কেও ভালোবাসে না আমাকে খুব খারাপ ওরা।খুব খুব।আমি ওদের মাফ করবো না।এই মারু আমার সাদু আমারে আর স্টুপিড বলে ডাকবে না।এই মারু।আমার সাদি।আমার সাদি আর নেই।
জ্ঞান হারিয়ে আবারো লুটিয়ে পড়লো মারিয়ার গায়ের উপর।প্রিয় মানুষ হারানোর শোক খুব ভয়াবহ।মারিয়া শুনেছে পিহুর জীবন কাহিনী।তাই সাদির বেপারটায় সে নিজেও কাদছে।
চলবে…….
-(এই শেষ টুকু লিখতে গিয়ে অঝোরে কেদেছি।খুব খুব কেদেছি।কেও বাজে মন্তব্য করবেন না।২k রিয়েক্ট হলে পরের পর্ব দিবো।আশা করি হতাশ করবা না)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (খ)
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৫
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৪(ক+খ)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২১
-
নিষিদ্ধ চাহনা অন্তিম পর্ব
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৭