Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৭


নিষিদ্ধ_চাহনা

পর্ব_৪৭

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

মাধা বা মাদাহ অঞ্চল। হাত্তা শহরের একেবারে কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ওমানের সিমান্তের একটি ছোট্ট শহর।পাহাড়ি অঞ্চল।যেখানে কোনো পুলিশ বা চেকপোস্টের আনাগোনা নেই।অপরাধীদের বেশির ভাগেরই গোপন ঘাটি এই মাধা।

সাফা মাত্র বেরিয়ে এসেছে নিজের ঘর থেকে সন্ধাই বার এ একটা মিটিং আছে।আগামী কাল বাচ্চা পাচার করবে ওমানে সেখান থেকে রাশিয়া।সাফার পরনে ব্লাক শার্ট আর জিন্সের প্যান্ট।হাটুর কাছ থেকে অনেক খানি ছেড়া।চুল গুলো ছেড়ে দেওয়া।

সাফা নিজের হাতে থাকা এপেল ওয়াচ এ টাইম দেখে চার টা উনিশ।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে রাত হয়ে গেছে।সাফা রা যে বাড়িতে থাকে এটা মুলত একটা বস্তির মতো।একেক্টা গলি একেক দলের আড্ডা।সবার নিজস্ব আইডেন টিটি আছে।আর যেহেতু সাফা ফাইজ এর লোক সেহেতু সাফার কোনো চিন্তা নেই।

সাফা একের পর এক গলি থেকে শিস দিতে দিতে বের হচ্ছে।তবে কারোর চোখ ই তার দিকে নেই।যে যার কাজে ব্যাস্ত।সাফা চলতে চলতে হটাৎ রাস্তায় একটা লোককে পড়ে থাকতে দেখলো।মাতাল ভেবে পাশ কাটিয়ে যেতে চেয়েও হাটু মুড়ে বসে চেক করতে গেলো লোকটা আদেও জীবিত কিনা।

হটাৎ লোকটা উঠেই সাফার মুখে কিছু একটা স্প্রে করে দিলো। সাথে সাথে পিছন থেকে কেও একজন এসে সাফার মুখ চেপে ধরলো।সাফা কোনো চিৎকার করার আগেই বেহুশ হয়ে গেলো।


মাধা অঞ্চলটি ছোট ও জন সংখ্যা কম।হওয়াই এখানে মানুষের আনাগোনা ও কম।তবে আন্ডারগ্রাউন্ড এ অনেক লাইসেন্স বিহীন বার আছে যেখানে চলে রাত ভর যুয়ার আড্ডা।পতি*তা বিক্রি সহ নানান অনৈতিক কার্জক্রম।

সাদি বারের স্টুলে বসে আছে।মাথায় তার চিন্তার রেখা।সময় গড়াচ্ছে কত মানুষ আসছে যাচ্ছে তবে যাদের দরকার তারা নেই।সাদির সামনেই বসে আছে সাদির হায়ার করা পারছোনাল সিকিউরিটি এসিস্ট্যান্ট। ছেলেটা দুবাই এর। তবে খুব বিস্বস্ত।

ছেলেটার চোখ ও এক দন্ড স্থির নেই।নিজের বস এর কাজ কম্পিলিট না করা পর্যন্ত তার নিজের মনে শান্তি লাগবে না।তার এসব যায়গা সম্পর্কে প্রচুর ধারনা।কিছু বছর আগে ডিটেকটিভ টিমের একজন সদস্য ছিলো সে।সাদি বসে রইলো একই ভাবে মুখে মাস্ক দেওয়ার জন্য তাকে চেনা যাচ্ছে না।তবে বেশ চিন্তায় সে।কোনো ভাবে সে যাদের খুজতে আসছে তারা কি তার খোজ পেয়ে যাচ্ছে।

সাদি ভাবনার মাঝেই পর পর কয়েকজন বারের ভিতরে ঢুকে একটা সোফায় গিয়ে বসলো।সাথে একটা মেয়েও আছে।সাদি দূর থেকে দেক্ষে ইশান কে চিনে ফেলে।আগের চেয়ে মোটা হয়েছে।মোট ছয় জন তারা এখানে। সাদি খুব ভালো করে দেখলো দেখার পর বুজলো মেয়েটা ফারজু।ইশান,,ফায়াজ,,জাহিন আর বাকি দুজন অচেনা।হয়তো ক্লায়েন্ট নয়তো ওদের দলের কেও।

সাদি সাথে কানে থাকা ব্লুতুথের মাধ্যমে তার দুজন সঙ্গীকে ইনফর্ম করে দিলো ওদের উপর নজর রাখার জন্য। সাদির কোমরে শার্ট এর নিচে গুজে থাকা গান এ এর দিকে একবার তাকালো।তার পর উঠে দাড়ালো স্টুল থেকে।

সাফা চোখ মেলে তাকিয়েছে এতক্ষন দুজন মিলে তাকে অনেক মিটিয়েছে।সাফার গাল কেটে গেছে।চুল গুলোও কেমন জটলা পাকিয়ে আছে।সাফা কথা বলতে পারছে না।লোহার চেয়ারের সাথে বেশ শক্ত করেই বেধে রাখা হয়েছে।কোমর পা সব যায়গায় দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাধা।চেয়ারের চার পায়ার সাথে বৈদ্যুতিক তার ফিট করা।

সাফাকে মারতে থাকা দুজন নারী পুরোপুরি দাঁড়িয়ে আছে রোবটের মতো।সাফা এতো মার খাওয়ার পরেও চিল্লিয়ে বলে উঠলো…

-“কোন কু** বাচ্চা আমারে এখানে এসেছিস বল সামনে আই…!

সাথে সাথেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক জন মহিলা গার্ড হাতে থাকা লাঠি দিয়ে চটাং করে বাড়ি মারলো গায়ের জোরে সাফার ঘাড়ে।সাথে কুকড়ে উঠলো সাফা।তবে তেজ কমলো না যেনো আরো বেড়ে গেলো।সাথে গালি দিয়ে বলে উঠলো….

-“একবার ছাড়া পাই মা** তোদের সব কটারে কাচা চিবিয়ে খাবো বলে দিচ্ছি খোদার কসম।

-“আগে ছাড়া পেয়ে তো দেখ..!

কথাটা বলতে বলতে হেসে উঠে এক রমনী।সাথে সাথে সারা ঘর কেপে উঠে সেই হাসির শব্দে।সাফা আবারো চিল্লিয়ে উঠে…

-“কে রে মা*** তুই সাহস থাকলে সামনে আই..?

সাফার কথা শুনে অজ্ঞাত রমনীটি আরো জোরে হেসে উঠে।ঘরটি মাটির নিচে।চারিপাশ বেশ স্যাতসেতে।হলদেটে একটা আলো জ্বলছে ঘরে।যে আলোয় ঘরটির ভয়াবহতা আরো বৃদ্ধি করছে।সাফা বোধ হয় হাসির শব্দে একটু ভয় পেলো তবে দমে গেলো না।সাফা চিৎকার করে বলে উঠলো…

-” জাহিন একবার জানলে তোরে পিচ পিচ করে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবে।আমাকে ছাড় বলছি।সাহস থাকলে সামনে আই।

সাফার কথা শেষ হতে না হতেই তার থেকে কয়েক গজ দূরে আরো একটা হলদে ভাবের লাইট জ্বলে উঠলো।সেখানেই পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে এক রমনী।পুরো শরীর টাই কালো পোষাকে আবৃত।কালো টপ্স,,কালো জিন্স আর কালো জ্যাকেট।সাথে বুট।চুল গুলো উচিয়ে পেনিটেইল করে বাধা।পাশেই দাঁড়িয়ে আছে আর একজন মেয়ে মারিয়া।

এটা মুলত মারিয়ার বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড। উপরে মারিয়ার বাড়ি।মারিয়া মুলত মেয়েটির বিস্বস্ত গুপ্তচর।সে শুধু সাদির উপরেই নজর দারি করে।মারিয়ার ভিতরে ইমোশন বলতে কিছু নেই।তার মতে টাকা ই সব। যে টাকা দিবে আমি তার।তবে সে বেইমান না।

মেয়েটিকে এমন ভাবে বসে থাকতে দেখে।সাফা হুংকার দিয়ে বলে উঠলো…

-“এই কে তুই।আর আমার কাছে কি চাস বল..?

মেয়েটি এবার উঠে দাঁড়িয়ে হাসতে এগিয়ে এলো সাফার দিকে।সাফার ঠিক সামনে এসে ডান হাত দিয়ে সাফার মুখের থুতনি উচু করে নিজের চোখের দিকে তাক করে বলে উঠলো…

-“পিহু…পিহু চৌধুরী। নাম তো জানিস ই।

একটা কথায় যেনো সাফার ভিতরে ভয় ঢুকে গেলো।চোখ মুখ ও কেমন অজানা আতংকে ছেয়ে গেলো।সে যতটুকু শুনেছে আর দেখেছে এ পিহুর সাথে সে পিহুর কোনো মিল নেই।তবে এ পিহু কে।সাফা কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো…

-“তুই না..নাবিল এর।

কথাটা বলার আগেই পিহু সপাটে সাফার গালে চড় বসালো।চড়ের জোর এত তীব্র ছিলো যে সাফার গালে পিহুর পাচ আঙুলের ছাপ বসে যায়।সাফা পিহুর দিকে তাকাতেই পিহু সাফার গাল চেপে ধরে বলে….

-“কিসের নাবিল।ডাক্তার সাদিকুর চৌধুরী সাদির বউ আমি।আর যেহেতু নাবিল এর কথা তুললি ই তাহলে বলে ফেল নাবিলের সাথে কি করলি….

সাফা ব্যাথাতুর কন্ঠে বলে…
-“আমি কি করবো ছাড় আমাকে..?

-“কিসের ছাড়বো তোকে।তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে মেরেছিস।তোকে ছাড়বো অসম্ভব।

-“আমি মেরেছি মানে…?

পিহু এবার সাফার চুল ধরে বলে উঠলো…
-“তুই ই তো মেরেছিস ওতো কষ্ট দিয়ে ওতো নির্মম ভাবে ওকে।তোকেও মারবো আমি এভাবে।

পিহুর কথায় সাফা জোরে হেসে উঠে। তার পর হাসতে হাসতেই বলে…
-“প্রথমে তোকে চালাক ভাবছিলাম। আসলেই তুই বোকা।আমি তো মেন তার্গেট কে মারিনা রে সোনা আমি তার পরিবার কে খতম করি।যেমন জেরিন এর।

সাফার মুখ দিয়ে কথাটা বলার সাথে সাথে পিহু মারিয়া কে ইশারা করে সরে দাঁড়ায়।সাথে সাথে মারিয়া সুইচ চাপ দেয়।আর সাফা ইলেকট্রনিক শক খেতে থাকে।কিছুক্ষন পর সাফাকে ছেড়ে দেই। সুইচ অফ করে।এত শট সহ্য করেও সাফা দাত কিড়মিড় করে বলে…

-“মা**** জাহিন একবার জানুক তোর কপালে শনি দাকিয়ে ছাড়বে।আমারে কারেন্ট এর শক দেওয়া।

পিহু কিছু বলে না।চুপ করে চেয়ারে গিয়ে বসে কিছুক্ষন ভাবনা চিন্তা করতেই মনে পড়ে যায়।সাদির সেই ফাইল এর কথা।যেখানে স্পষ্ট বলা ছিলো যে কিরিনা নামের মেয়েটা দলের একজন সাধারন সদস্য মাত্র।যে কিনা টাকায় কজ করে।কিন্তু হুট করে পিহুর মাথায় আসে আই এফ এস করা কথা।সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে সাফার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে উঠে…

-“আচ্ছা যা তোকে আমি ছেড়ে দিবো।তার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দে তো।খুব জানার জন্য মন উশখুশ করছে।

-“তুই কিন্তু বাচবি না আমাকে ছেড়ে দিলে তোর কি জানের ভয় নেই।আর কি প্রশ্ন।

-“জানের ভয় থাকলে কি তোকে ছেড়ে দিতে চাইতাম।প্রশ্নর উত্তর জানার পর মরেও শান্তি আছে।

-“বল কি প্রশ্ন…?

-“এই যে তোদের দলের লোক মানুষ রে খুন করে আই এফ এস লিখে রাখে।আগে ভাবতাম এস এ সাফা।কিন্তু তোর নাম তো কিরিনা।তাজলে এই এস এ আবার কে…?

সাফা এবার ঠোঁট জূড়ে হাসলো উচ্চস্বরে তারপর হাসতে হাসতে ঠোঁটে বিদঘুটে একটা গালি দিয়ে বলে উঠলো……..

চলবে…….

-(আমাদের বোকা পিহু রানী এখন অন্য রকম।১.৭k রিয়েক্ট হলে পরের পর্ব দিবো।আজকের পর্ব কেমন হয়েছে বলে জাবেন আশা করি ভালো লাগবে)-

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply