নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৪১
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
পিহুর জ্ঞান ফিরেছে কিছুক্ষন আগে।পুলিশ এসে জেরিন এর লাশ নিয়ে গেছে পোস্ট মার্ডাম এর জন্য। সাদি মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।জেরিন এর পরিবার কেও সে খুজেছে।পুরো পরিবার নিখোজ।এদিকে নিজের প্রিয়তমা।আবার তার প্রফেশন।মাথায় কাজ করছে না সাদির।
হসপিটালের সাদা রঙা দেয়ালে কেবিন এ বিছানার পাশে টুল এ পিহুর মুখের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।পুরো সাত ঘন্টা পর সেন্স এসেছে পিহুর।জেরিনের মৃত্যুর আঘাত টা একটু বেশি জোরে লেগেছে পিহুর অন্তরে।পিহুর সব পরিক্ষা করে ডাক্তার বলেছে অতিরিক্ত মানষিক চিন্তা আর খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো না করার কাতনে এই সমস্যা হয়েছে।রুগীকে যতটা পারা যায় মানষিক চাপ থেকে দূরে রাখতে হবে।
সাদি ভেবে পাচ্ছে না।কিভাবে মানষিক চাপ থেকে দূরে রাখবে।একের পর এক শোক বয়ে যাচ্ছে তাদের উপর থেকে।শক্ত পোক্ত সাদির ই মন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম আর সেতো শুরু থেকেই নরম হৃদয় এর।পিহু চোখ মেলে তাকালেও কথা বলতে পারছে না।কান্না গুলো বুকের মধ্যে কেমন দলা পাকিয়ে যাচ্ছে।জেরিন আর নেই ভাবতেই বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠছে।
জেরিনের কথা ভাবতেই পিহুর চোখের কীনা ঘেঁষে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে।পিহু সাদির দিকে তাকায়।মানুষ টার চোখ লাল।হয়তো কান্না করেছে।কারন সাদি কাদলেই তার চোখ লাল হয়।সাদিকে হয়তো পিহু প্রথম কাদতে দেখেছে আতিয়া বেগম কে হারানোর পর।নিজের মায়ের শোকে চাপা কান্না করেছিলো।তাই এমন চোখ লাল হয়েছিলো।
তবে আজ কেদেছে।কারন কি।তার জন্য কেদেছে।হতে পারে। আমার তার ধারনা ভুল হতেও পারে।কেনো কাদবে সাদি তার জন্য। পিহুর এমন তাকিয়ে থাকা দেখে সাদি শান্ত চোখে পিহুর দিকে তাকিয়ে নিজের দুই হাত পিহুর গালে ছুইয়ে চোখ বুজে নেয়।নিজের কষ্ট গুলো নিজের ভিতরে রাখতে চাই সাদি।
সকাল সকাল কেদে বুক ভাসাচ্ছে পিহু।সাদির সাদা টি-শার্ট এর বুকের কিছু অংশ ভিজে চাপ।
কাল রাতেই পিহুকে নিয়ে ওষুধ নিয়েবাড়িতে ফিরেছিলো সাদি।যতটুকু বুজেছে।এ দেশ তার বা তার প্রেয়সীর জন্য মোটেই ঠিক না।বিপদ যখন তখন হতে পারে।সাদি নিজের জন্য চিন্তা করছে না।তবে তার কিছু হলে পিহুকে কে দেখবে।আর পিহুর কিছু হলে সে বাচবে কিভাবে।
সাদি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েই নেই খুব তাড়াতাড়ি দেশ ছাড়বে পিহুকে নিয়ে।যদিও পিহুর পরিক্ষার পরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো।তবে এখন সেই ইচ্ছা শেষ। এক বছর গ্যাপ যাক পড়াশোনায় তবে তার পিহু সুস্থ থাক।সকাল আটটায় জেরিনের লাশ দিয়ে গিয়েছে পোড়া বাড়িতে।পোড়া বাড়ি নামেই স্বিকৃতি পেয়েছে সাদিদের চৌধুরী বাড়ি।এক সময়ের জাকজমক বাড়ি টা আজ শুন্য।পুড়ে গেছে।ধ্বংস প্রাপ্ত।
জেরিনের লাশ এর রিপোর্ট এ স্পষ্ট কিরে লেখা…
-“দ্য বডি ওয়াজ ব্রুটালি অ্যাট্যাক্টশি ওয়াজ রেপ্ড বাই অ্যাবাউট ফিফটিন টু সিক্সটিন মেনঅ্যান্ড বায়োলজিক্যাল এভিডেন্স (সিমেন) ওয়াজ ফাউন্ড অন অল অব দেম।অ্যান্ড শি ওয়াজ স্ট্যাব্ড অ্যাবাউট সিক্স টু সেভেন টাইম্স ইন দ্য চেস্ট।
এটুকু পড়ে সাদি স্তব্ধ হয়ে গেছিলো।কতটা নির্দয় হয়েছিলো মেয়েটার উপর ওই জানোয়ার গুলো।কত কষ্টই না পেয়েছে মেয়েটা।সাদির লোম কুপ বেয়ে শীতল হাওয়া বয়ে যায়।
জেরিন এর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আছে সাদি।তবে পিহু মাটিতে বসে পলকহীন ভাবে দেখছে জেরিনকে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে টপটপ করে।তবে মুখ দিয়ে শব্দ আসছে না এখন আর।ঘন্টা খানেক পর যখন জেরিনকে নিয়ে যাওয়ার সময় হলো। তখন পিহু গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠে সাদা কা*ফনে জড়ানো জেরিন কে জড়িয়ে ধরে।জেরিনের মুখ টাও বিভৎস দেখতে লাগছে।
পিহু জোরে কেদে উঠে বলে….
-“এই জেরিন। জেরিন।এই কলিজা তাকা আমার দিকে।সবার মতো তুই ও ছেড়ে যাইস না প্লিজ।আমি ভেঙে যাচ্ছি কলিজা।তুই তো জানিস তোকে ছাড়া আমি কতটা ছন্নছড়া।একবার তাকা আমার দিকে জান।একবার তাকা না কলিজা।এই জেরিন।আমারে আর বকবি না তুই।দেখ আমি অসুস্থ তুই আমার কথা ভাবলি না একবারো এই জান উঠ না একটু।একটু রাগ দেখা আমারে মার।তাও এমন ভাবে চুপ করে থাকিস না।
বলেই জেরিন কে জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকে পিহু।লোকজন পিহুকে সরিয়ে নিতে বললে সাদি বুকে পাথর চেপে পিহুকে টেনে নিয়ে আসে জেরিনের থেকে।এমনই একদিন সাদি পিহুকে টেনে এনেছিলো আর সেদিন জেরিন সামলিয়েছিলো এই পিহু।কিন্তু আজ কে সামলাবে।তাকেই সামলাতে হবে।
লোকজন জেরিনের লাশের খাটিয়া টা তুলে ধরতেই পিহু ছটফটিয়ে কেদে উঠে।কাদতে ক্সদতে দোম আটকে আসছে ওর।সাদি পিহুকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে।মেয়েটার কান্না তার বুকে এসে বিধছে।জেরিন কে সবাই গোরস্থান দিকে পা বাড়াতেই পিহু সাদির বুকে কিল বসাতে থাকে এলো পাথাড়ি।কাদতে কাদতে বলে উঠে….
-“এই সাদি।দেখেন না ওরা আমার জেরিন কেও নিয়ে যাচ্ছে।আমার বুক ফেটে যাচ্ছে সাদি।আমি আর পারছি না।আপনি না বলছিলেন আমাকে আর কাদতে দিবেন না।ওরা আমার জেরিন কে নিয়ে যাচ্ছে ফিরিয়ে এনে দেন আমি আর কাদতে পারছি না।আমি যদি জানতাম আমার সাথে আর দেখা হবে না আমি ওকে কখোনো বাড়ি ফিরতে দিতাম না।ও সাদি আমার জেরিন রে নরপশুরা খুবলে খেয়েছে।আমার জেরিন আর কথা বলছে না।এই সাদি…
আর কোনো কিছু বললো না পিহু।জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলো সাদির বুকে।সাদি বুকে পাথর চেপে কোলে তুলে নিলো জ্ঞান হীন পিহুকে।মেয়েটার কান্না আগে দেখলেও এতো কষ্ট লাগতো না সাদির।তবে এখন চোখে পানি দেখলেই কেমন হয়ে উঠে।
আবছা অন্ধকার ঘরে পিহুকে বুকে জড়িয়ে আধসোয়া হয়ে আছে সাদি।চোখে তার ঘুম নেই।পিহু ক্ষনে ক্ষনে ফুফিয়ে উঠছে সাদির বুকে মাথা রেখেই।আর কাদতে পারছে না।সাদি অনেক কষ্টে দুটো ফ্লাইট টিকিট ম্যানেজ করেছে কানাডার।এই পরিস্থিতিতে পিহুকে নিয়ে এখানে থাকতে চাইনা সে।সাবধানের মার নেই।
সাদি হটাৎ লক্ষ করে পিহুর গায়ে আবারো জ্বর আসছে দেরি না করে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে বুকের সাথে লেপ্টে কম্বল গায়ে দিয়ে সুয়ে পড়ে।জেরিন কে নিজ হাতে আর মাটি দেওয়া হয়নি সাদির।সোজা পিহুকে নিয়ে চলে এসেছে ফ্লাটে।তার বাবা মায়ের পাশেই জেরিন কে সমাধিত করা হয়েছে।
সাদি নিশ্চুপ সাথে পিহু ও।সকাল নয়টাই ফ্লাইট।আর আছে সামনের সপ্তাহে। কিন্তু এত দেরি করতে চাইনা সাদি।হটাৎ পিহু ফুফাতে ফুফাতে বলে উঠে..
-“সা..সাদি আমাকে একটু বারান্দায় নিয়ে যাবেন।আমার খুব দোম বন্ধ লাগছে।
পিহুর বলতে দেরি হয়।তবে সাদির পিহুকে কোলে তুলে নিয়ে বারান্দায় যেতে দেরি হয়না।দোলনায় কম্বল পেচিয়ে পিহুকে নিয়ে বসে আছে সাদি।পিহু দূর আকাশের মেঘে ঢাকা চাদের দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে।হটাৎ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পিহু বলে আকাশের দিকে তাকিয়েই বলে উঠলো…
-“তোরা কেও ভালো নারে।সবাই খালি আমারে কষ্টই দিলি।আমার চোখের পানি তোদের খুব আনন্দ দেই।দেখলি না প্রথমে আমার আব্বু আম্মু ভাই চলে গেলো।তারপর মামুনি বাবাই চলে গেলো আর আজ তুই ও চলে গেলি জানপাখি আমারে ছেড়ে।তোরা সবাই খারাপ।তোদের সাথে কথা নেই আমার।
বলতে বলতেই ফুফিয়ে উঠে পিহু।বুক ফেটে কান্না আসছে তার।সাদি কি বলে শান্তনা দিবে খুজে পাচ্ছে বলার ভাষা।একটা পর পর এত কষ্ট কিভাবে সহ্য করবে এই আঠারো বছরে।এক সময় কাদতে কাদতে সাদির উষ্ণ বুকে ঘুমিয়ে পড়ে পিহু।সারারাত দোলনায় পিহুকে নিয়ে জেগে বসে থাকে সাদি।নিজেদের ভবিষ্যৎ। সবার খুনের প্রতিশোধ কিভাবে নিবে সেসব ই ভেবেছে।খুনি কারা জানা সত্তেও ছেড়ে দেওয়া মানে নদীর পাড়ে এসে নৌকা দেখেও গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে যাওয়া।
তবে সাদি তা হতে দিবে না।তাকে এতিম করা।তার পিহুর প্রত্যেক টা চোখের পানির মুল্য চুকিয়ে নিবে ওদের থেকে তবেই সাদির শান্তি।যতদিন না উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারবে ওই নরপশু গুলোকে ততদিন সাদি হাল ছাড়বে না।
চলবে……..
-(এই পিহুটাও না বড্ড আবেগি।আজকের পর্ব নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য শুনতে চাইনা।কিছুটা এলোমেলো।জেরিন কে লিখতে গেলেই চোখ ভিজে যাই।তাই গল্পটুকু ও ঘুলিয়ে গেছে।তাও আশা করি ভালো লাগবে)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৯
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১০
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২০
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৮