নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_২৭
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
সময় ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে চলে যাচ্ছে আজ ইশানরা চলে যাবে।ফাইজ এর রাগ প্রচুর ইশানের উপর যেহেতু কোনো ভাবেই ইশান পিহুকে তার কাছে এনে দিতে পারিনি।যদিও বলেছিলো যাওয়ার আগের দিন দিবে তবুও দেয় নি।ইশান ও ভিতরে ভিতরে রাগে পুড়ছে।তবে প্রকাশ করতে পারছে না।এক মাত্র ফারজু যে কিনা হেসে হেসে বেড়াচ্ছে।আতিয়া বেগম কে এই সাত দিনে আপন করে নিয়েছে বেশ।তাইতো সকাল সকাল এক ঝুল কেদেছে দুজনে।পিহুর চোখেও পানি ফারজুর জন্য। ইশান এর উপর রাগ থাকলেও ফারজুর মুগ্ধ আচরনের কারনে পিহুর মনে যায়গা কিরে নিতে পেরেছে সে।
বাইরে গাড়ি এসে দাঁড়ায় বেশ কিছুক্ষন আগেই।যেহেতু সাদির এসবে ইন্টারেস্ট নেই তাই সে আজ বিছানা ছেড়ে উঠে নাই।ভেবেছে ইশান রা চলে যাওয়ার পরেই বিছানা ছাড়বে।সকাল সকাল ওদের মুখ দেখবে না।সাদি এখোনো জানে না ইশান এর এখানে আসার আসল রহস্য কি।তবে এটা সে বুজেছে কোনো কারন ছাড়া ইশান চৌধুরী কিছু করে না।
ফারজু ফাইজ একে একে গাড়িতে সব ল্যাগেজ তুলতে শুরু করে।সব শেষ করে গাড়ি তে উঠে বসে তারা।ইশান ও বিদায় নেয় সবার থেকে শেষ মুহুর্তে পিহু আর সামনে আসে না। ইশান ভিতরে এসে ইলিয়াস চৌধুরী কে জড়িয়ে ধরে।ইলিয়াস চৌধুরী ও ছেলেকে আবেগে বুলে টেনে নেয়।তখন ইশান কান্নার মাঝেও সয়তানি হাসি দিয়ে ফিসফিস করে কিছু একটা বলে ইলিয়াস চৌধুরীর কানের কাছে।কথাটি বলে ইশান পা বাড়ায় বাইরে গাড়ির দিকে।এদিকে ইলিয়াস চৌধুরী যেনো নিশ্চুপ হয়ে গেছে ইশানের কথা শুনে।কি বলে গেলো ছেলেটা।মাথার উপর দিয়ে গেলো যেনো।
হটাৎ দরজায় কলিং বেল এর আওয়াজে পিহুর ধ্যান ফিরে আসে।কল্পনার জগৎ থেকে বাস্তবে চলে আসে।পিহুর চোখের কোনে নোনাজল চিক চিক করছে।হয়তো কোনো বাধার জারনে গড়িয়ে পড়ে নি।পর পর কয়েক বার কলিং বেল বেজে চলছে।পিহু বিরক্ত হলো বেশ।বিছানা থেকে নেমে মাথায় উড়না উঠিয়ে দিলো।বারান্দার দিকে এক পলক তাকিয়ে দেখলো শহরে আধার নেমেছে।ব্যস্তময় শহর আরো ব্যাস্ত হয়ে গেছে এই রাতে।
পিহু ধীরে ধীরে হেটে চললো সদর দরজার দিকে।পিহু দরজা খুলতেই চোখ পড়ে নিরশ মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সাদির দিকে।চোখের নিচে কালো হয়ে গেছে ফরশা মুখশ্রী কেমন যেনো ফ্যাকাশে হয়েছে।দাড়ি গুলো বড় হয়েছে। চুল গুলো এলোমেলো।কেমন যানি পাগল পাগল লাগে পিহুর কাছে এই সাদিকে।দিন দিন কেমন যানি হয়ে যাচ্ছে মানুষটা।
সব সময় টাইম মেইন টেইন করা মানুষটাও আজ কেমন অগোছালো হয়ে গেছে।ঠিক মতো খাই না।হয়তো ঘুমাই ও না।কোনো দিন নেশায় আসক্ত হয়ে যায়।যদিও পিহুকে বুজতে দেয় না।তবুও পিহুর অষ্টাদশী মন সব বুঝে যায়।
পিহু দরজা থেকে সরে দাড়াতেই সাদি ঘরের ভিতর প্রবেশ করে।সাদির হাতে বেলি ফুলের গাজরা।সাদি ডাইনিং টেবিল এর উপর গাজরা টা রেখে সোজা নিজের রুমে চলে গেলো মুখ দিয়ে কোনো কথা ও বললো না চোখ তুলেও তাকালো না পিহুর দিকে।
পিহু দরজা বন্ধ করে এগিয়ে আসে টেবিল এর দিকে সেখান থেকে ফুলের গাজরা টা নিয়ে খুব সুনিপুণ ভাবে আটকায় নিজের খোপায়।এটা তার নিত্যদিনের কাজ।যদিও প্রথম প্রথম ইচ্ছা হতো না শুকিয়ে যেতো।তবে পছন্দের ফুল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যেতে দেখতে কি আদেও কোনো মেয়ের ভালো লাগতো।আর সে জানে সে পরুক আর না পরুক যেদিন থেকে সাদি শুনেছে বেলি ফুলের গাজরা তার পরতে ভালো লাগে সেদিন থেকেই আনে।তবে এখন কার সাদিকে পিহুর একটু ও পছন্দ না।আগের সাদি টাই তার কাছে ভালো ছিলো।অন্তত রোজ ঝগড়া হতো।
সাদি নিজের রুমে গিয়ে বিছানায় ঠাশ করে বসে পড়ে।চোখ গুলো লাল তার।আজ ও ড্রিংক করেছে সে।বুকের ভিতর টা জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে তার।এ ব্যাথা কাওকে বলে বুজাতে পারবে না সে।সেই সুন্দর জীবন টাকে সাদির আজ খুব মনে পড়ছে।তবে আজ খালি হাহাকার ই ফিরে আসছে।সাদি আর বসে না।ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়।এই এলকোহোল ও তাকে সাময়িক শান্তি দিতে পারে না।সাদি টাওয়েল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে রুম থেকে বেরিয়ে হল রুমে আসে।পুরো হল রুমে এক পলক তাকিয়ে দেখলো।রান্নাঘরে আলো জ্বলছে তাহলে সেখানেই পিহু।সাদি গিয়ে ডাইনিং টেবিল এ বসে।সে জানে সে না খেলে এই মেয়েটাও আজ আর খাবে না।হুট করেই মেয়েটা চেঞ্জ হতে শুরু করেছে। আসলেই কি চেঞ্জ হচ্ছে নাকি এটা তার মতিভ্রম।
পিহু রান্না ঘর থেকে খাবার নিয়ে এসে সাদির সামনে রাখে।তার নিজেও খেতে বসে কোনো কথা না বলে।ইচ্ছাও হয় না মাঝে মাঝে।সব ঠিক থাকলে হয়তো এ জীবন থেকে কবেই মুক্তি পেতো সে।পিহুর সারাদিন ই মন খারাপ থাকার কারনে এখন খাবার ইচ্ছা নেই।তবুও খাচ্ছে।কারন যানে সে না খেলে সাদি খাবে না।আর মামনি ও সব সময় সাদিকে খাওয়াতো।পিহুর সাদির উপরে রাগ থাকলেও কেন জানি তা সব সময় আসে না।সে জানে সাদি না খেয়ে তেমন থাকতে পারে না।তাই তো খাই।
খাবার টেবিল এ কেও কোনো কথা বলে না।মনে হচ্ছে দুটো কাঠের পুতুল।যে যার মতো খাওয়া শেষ করে।সাদি প্লেটে হাত ধুতে ধুতে পিহুর উদ্দেশ্য বলে উঠে…
-“পিহু….
পিহু একটু চমকায়।পুরো বিশ ঘন্টার ও বেশি সময় পর তার নাম টা পরিচিত একটা কন্ঠে শুনলো সে।সাথে সাথে পিহু বলে উঠে…
-“জ..জ্বী..!
-“কাল কলেজ এ এডমিট দিবে।জেরিন আসবে সকালে ওর সাথে চলে যাস।
-“কিন্তু..?
-“টাকা আমার মানিব্যাগ এ আছে কত লাগবে যানি না নিয়ে যাস বেড সাইট টেবিল এর উপর থাকবে।
-“আ..আপনি কোথায় যাবেন..?
পিহুর কথায় সাদি একটু থামে।মাথার উত্তাল রক্তের শিরা গুলো দপদপ করছে।সাদি পিহুর মুখের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে..
-“কাল শনিবার আমার হসপিটালে কাল ডিউটি নেই একটু ঘুমাবো। ডাকার প্রয়োজন নেই।বাইরে থেকে লক করে যাস।
পিহুকে আর কিছু বলতে না দিয়ে সাদি উঠে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়।সাদি যানেনা তাদের এই সম্পর্কের নাম কি।নামে মাত্র স্বামী স্ত্রী। কবে সাভাবিক হবে তাদের এই সম্পর্ক। আদেও কি ঠিক হবে।সাদি আর কিছু ভাবে না। তবে পিহুর উপরে সে কোনো জোর খাটাবে না।যাক না বৈঠা বিহীন নৌকা প্রবল স্রোতে ভেসে।কত দূর ই বা যাবে।সাদি না হয় নদীর পাড় হয়ে আটকে নেবে কোনো এক কালে।
সাদি চলে যেতেই পিহু ও সব গুছিয়ে লাইট নিভিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়।যদিও যানতো কাল তার কলেজে যেতে হবে। তবে সাদি যানে এটা ভালোই হয়েছে।পিহু নিজের রুমের লাইট নিভিয়ে তলিয়ে যায় ঘুমের অতলে।।
নতুন একটা দিনের সুচনা হয়েছে ধরনীতে।আজ বেশ চকচকা সূর্য উঠেছে রোদ টাও বেশ কড়া। কলেজ মাঠের সেই চেনা পরিচিত জলপাই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে পিহু আর জেরিন।হাতে এডমিট কার্ড।সামনের মাসের বারো তারিখে পরিক্ষা শুরু।হাতে মাত্র কয়েকদিন।পিহুদের থেকে কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে আছে নাবিল।ছেলেটার চুল গুলো কেমন উশকো খুশকো। কেমন জানি দেখা যায়।যেদিন থেকে শুনেছে পিহু সাদির বউ।সেদিন থেকেই কেমন যানি হয়ে গেছে।
নাবিল ঘাড় কাত করে পিহুর দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে বললো…
-“কেমন আছো..?
-“আলহামদুলিল্লাহ.. আপনি..?
-“মন কে মৃত্যুদন্ড দিয়ে দেহের খোজ নিচ্ছো যে কেমন আছি..?
নাবিলে কথাটা যেনো পিহুর বুকে গিয়ে লাগলো।সেতো নাবিল কেই চেয়েছিলো।তবে এই বিবাহো বন্ধন থেকে বের হতেও পারবে না।পুরো বিশ বছরের চুক্তি করা কাবিন নামায়।কোনো ভাবেই বের হওয়ার উপাই নেই।আর বের হওয়ার শেষ উপায় হলো সাদিকে আবার বিয়ে করা মানে আবার একই বন্ধনে জড়িয়ে পড়া।পিহুকে বোকা বানিয়ে সাদির এই বিয়ের মতো কাজের জন্য সাদির উপর পিহুর খুব রাগ।
যদিও সাদি তার কথা রেখেছে সেদিনের পর আর তাকে মারেনি।তবে পিহু যেদিন যেনেছে সাদির সাথে তার বিয়ে হয়েছে সেদিন থেকেই কেমন যানি সাদিকে বেশি ঘৃনা করতে শুরু করেছে ভিতরে ভিতরে।মনটাও কেমন জানি।বিবেক বলে এক মন বলে আরেক।পিহুকে চুপ থাকতে দেখে জেরিন বলে…
-“তাহলে পিহু চল এবার আমরা এগোই..নাবিল ভাইয়া আপ্নিও বাসায় যান।
নাবিল পিহুর দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে..
-” পিহু একটা কথা জিজ্ঞাসা করি…?
পিহু জিজ্ঞাসা সুচক মুখ নিয়ে পিহুর দিকে তাকাতেই নাবিল বলে উঠে…
-“তুমি কি সত্তিই সাদি ভাই এর সাথে সুখে আছো।আমার কেন জানি বিশ্বাস হয় না। দেখো না আমি সুখে নাই তোমারে ছাড়া।তুমি কিভাবে সুখে আছো আমারে ছাড়া।বলো পিহু বলো..?
পিহু কিছু না বলে জেরিনের হাত ধরে হাটা শুরু করে মাথা নিচু করে। সে বুজতে পারছে না।কি হচ্ছে তার সাথে।সে কিছুটেই বর্তমান কে মেনে নিয়ে ভবিষ্যৎ এ এগিয়ে যেতে পারছে না।বুক ফেটে কান্না আসছে তার।পিহুকে চলে যেতে দেখে সাদি কষ্টের এক দলা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।নিজের উপরেই হাসি আসছে তার।সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো। নাবিল ফিছলে হেসে বিড়বিড় করে বলে উঠলো…
-“তুমি ছিলে সেই ফুটন্ত গোলাপ যাকে আমি আমার বুক পকেটে রাখার আগেই অন্য কারোর বুক পকেটে নিজের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছো।
চলবে……
-(গল্প টা আজ এলোমেলো।আসলে আমি নিজেও এলোমেলো খুব কষ্টে এটুকু লিখেছি।মাফ করে দিও দয়া করে।আমার জন্য দোয়া করিও।আগামী কাল নতুন একটা টুইস্ট পাইবা।তোমাদের রেসপন্স একেবারে কমে গেছে।কিছু বলার নাই)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১০
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৯
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৬
-
চার বছরের চুক্তির মা গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৯(ক+খ)
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৩