Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা অন্তিম পর্ব


নিষিদ্ধ_চাহনা

অন্তিম_পর্ব

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

নতুন একটা দিনের সুচনা হয়েছে ধরনীতে।তুষার পড়তে বাইরে।আকাশ টাও সাদা ফকফকা অন্ধকার। সকাল সাতটা বেজে বিশ মিনিট। জানুয়ারির তিন তারিখ চলছে।দেখতে দেখতে কেটে গেছে তিনটে বছর।কত গুলো ঋতু,,কত গুলো মাস কত গুলো।এতগুলো দিনে বদলে গেছে অনেক কিছুই।আবহাওয়া সমাজ।সবকিছুই।

সকাল সকাল মুখ ভার করে এলোমেলো চুল নিয়ে ল্যাপটপের স্ক্রীনে তাকিয়ে আছে পিহু।চোখে এক রাশ অভিমান জমা।ল্যাপটপের স্ক্রীনের ওপাশে সাদি।ইন্ডিয়া গিয়েজে বিজনেস এর কিছু দরকারি কাজের জন্য। সাত দিনের মাঝেই ফেরত আসবে।কল দেওয়া থেকে সাদির তাকিয়ে আছে পিহু তবে মুখে কোনো কথা নেই।চোখে এক রাশ অভিমান।শেষে সাদি না পেরে আবারো বলে উঠে…

-“কি হয়েছে জান।আপসেট কেন সকাল সকাল।

পিহুর মুখে তখনও কোনো কথা নেই।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।সাদি এবার বিরক্ত হয়ে বললো…

-“দেখ কি হয়েছে বল।না বললে বুজবো কি করে।আমি এতো দূর থেকে বুজতে পারবো তোর কিসে অভিমান হয়েছে।

পিহু এবার কেদে দেয়।পিহুর চোখে পানি দেখে সাদি ভড়কে যায়।মনের মাঝে কু ডেকে উঠে সাদির।সাথে সাথে উত্তেজিত হয়ে বলে উঠে…

-“এই জান কি হয়েছে।আমার কলিজা দুটো কই।আমার সাদিফ,, রাদিফ কই।বল এই জান কি হয়েছে।

সাদির এমন চিন্তিত কন্ঠস্বর শুনে পিহু ল্যাপটপ হাত দিয়ে ঘুরিয়ে বিছানায় তার পাশেই সুয়ে থাকা তার নাড়ী ছেড়া মানিক দুটোকে দেখালো।সাদির মতোই ঘুমের ভিতরে ভ্রু কুচকে আছে বাচ্চা দুটো।
সাদি একটা সস্তির নিশ্বাস ফেলে বলে উঠে…

-“তোর কি হয়েছে জান।তুই জানিস,,তুই আর আমার কলিজা দুটো ছাড়া আমি অসহায়।তোদের একটু মন খারাপেও আমার হৃদয় পুড়ে।বল জান কি হয়েছে।

পিহু কিছুক্ষন চুপ থেকে আবেগি কন্ঠে বলে…
-“আপনি আমাকে মিচ করছেন না সাদু..?

সাদি এবার পিহুর দিকে তাকিয়ে মুখে দুহাত এর ভর দিয়ে বলে….
-“হটাৎ এই প্রশ্ন..?

-“আচ্ছা আপনি তো আমাকে ভালোবাসেন।তাহলে তো মিচ করবেন..?

-“হুম।

-“মিচ করছেন..?

সাদি হাসে।মেয়েটা এখোনো বাচ্চাদের মতোই আছে।হুঠাট মুড সুইং হয় আর সাদিকে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে।যেখানে সাদি নিজের জান অব্দি পিহুর নামে কুরবান দিতে রাজি।সাদি এবার স্মীত হেসে বলে….

-“শুন্যতা অনুভব করা যদি ভালোবাসা হয়,,তাহলে আমি তোকে প্রতি মুহুর্তে ভালোবাসি স্টুপিড।

সাদির কথা শেষ হতেই পিহু চোখের পানি নিয়েই কাদতে কাদতে বলে….
-“তাহলে বলুন ফারিনা কে..?

সাদি স্ক্রীনের ভিতর থেকেই কপাল কুচকে বলে উঠে…
-“হু ইজ সী..?

-“আমি কিভাবে জানবো..?

-“তো বললি কেন..?

-“আপনার আলমারির ভেতরে ফাইল এ ফারিনার দেওয়া লাভ লেটার আছে। সে আপনাকে ভালোবাসে।

কথাগুলো একসাথে বলেই পিহু থামে।সাদি আবারো বকে উঠে…

-“কোন ফাইল..?

-“আপনি যেগুলো আমাকে চেক করতে বলছিলেন..!

-“ওহ..!

-“শুধুই ওহ..?

-“তো কি বলবো..?

-“ফারিনা কে…?

-“অফিসের স্টাফ হয়তো।সিউর না ফাহাদ কে জিজ্ঞাসা করে নিস।

-“আমি কেন জিজ্ঞাসা করবো।আর সে কেন আওনাকে ভালোবাসবে। আপনি তাকে কিছু বলেন নি কেন।

-“আমি তো জানি না জান।

-“সে আপনাকে..

সাদি থামিয়ে দেয় পিহুকে তারপর কাঠকাঠ গলায় বলে…

-“স্টুপিড যাস্ট স্টপ।

সাদির কথায় পিহুর অভিমানে চোখ পানিতে ভরে উঠে।কিছু বলতে যাবে তার আগেই সাদি গম্ভীর অথচ কোমল কন্ঠে বলে উঠে….

-“ডাজেন্ট মেটার হু ওয়ান্টস মি।মাই হার্টস অনলি ওয়ান্টস ইউ।

সাদির কথায় পিহুর মনে হাসি ফুটলেও কিছু বলেনা।সাদি এবার শান্ত কন্ঠে বলে…

-“আমার আরো দুদিন সময় লাগতো।তবে আজই ফিরবো।আর ফিরেই ওই মেয়েকে জব থেকে বের করবো।আমি চাই না সামান্য তম সন্দেহ থাক আমার কলিজাদের মাম্মার মনে।কারন আমি তাতেই আসক্ত।

আরো বেশ কিছুক্ষন মান অভিমানের কথা চলে।সাদি একটা মিটিং এর জন্য কল কেটে দেয় আর পিহু তার বাচ্চা দের দিকে ফিরে।তার দুই বছরের দুটো ফুটফুটে ছেলে।একেবারে দুজনেই বাবার ফটোকপি।চোখ গুলো টানা টানা।চুল গুলো কিছুটা বাদামি।আর সাদির মতোই ফর্সা।পিহু ও মাঝে মাঝে চিনতে পারে না তবে দুই ভাইয়ের মাঝে রাদিফ এর ঠোঁটের নিচে তিল আছে আর সাদিফ এর হাতের তালুতে।এটা নিয়েই চিনে।

বাচ্চা দুটো যখন মাম্মা বলে ডাক দেয় পিহুকে তখন পিহুর মনে হয় দুনিয়ার সব থেকে সুখি মেয়ে সে।সবথেকে সুখী মা।আর স্ত্রী।


সাদি নতুন বাড়ি কিনেছে।সেই বাড়িতেই গত এক বছর ধরে থাকছে। আজ বাড়িতে ছোট আকারে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সাদি।ইন্ডিয়া থেকে এসে ফারিনা কে অফিস থেকে বের করতে চেয়েছিলো পরে শুনে ওটা ডাস্টবিন এ ফেলতে গিয়ে ভুল ক্রমে ফাইল এর ভিতর গেছে।নতুন বিয়ে হয়েছে।আর তার হাসবেন্ড ও অফিসের স্টাফ তাই।

সাদি আর কিছু বলে নি।তবে ওয়ারনিং দিয়েছে আর যেনো এমন ভুল না হয় সেজন্য। আজ সাদির ফ্রেন্ড রাও এসেছে।সিরেন এখোনো আছে।আগের থেকে বেশি গলুমলু হয়েছে সাদা রঙ হওয়াই বেশ চকচকে বিড়ালটি।সাদিফ আর রাদিফ সারাদিন ই প্রায় সিরেনের সাথে খেলায় ব্যাস্ত থাকে।

সাদি গোপনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।আজ আতিয়া বেগম বেচে থাকলে কত খুশি হতো।এই বাচ্চা দুটো কে নিয়ে।কত আদর কত ভালোবাসা পেতো।বাচ্চা দুটোও দাদা দাদির ভালোবাসা পেতো।

রাত তিনটা পর্যন্ত পার্টি করে সবাই চলে যায়।সাদিফ রাদিফ ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে গেছে।পিহু উপরে আসে। নিজের পরনের সাদার উপরে নীল হলুদের কাজ করা গাউন টার দিকে তাকায়।চাপা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা সাদিফ রাদিফের পরনে থাকা জিন্সের প্যান্ট,, আর সিল্কের শার্ট টা খুলে বাসায় পরা নরম গেঞ্জি সেট পরিয়ে দেয়।ইতিমধ্যে সাদি রুমে চলে এসেছে।

পিহুকে সাদিফ রাদিফের পাশে দেখে আস্তে করে শব্দ করে ব্যালকোনিতে ডাকে। পিহু ও যায় পিছে পিছে। ব্যালকোনির দোলনায় বসে।বেশ ঠান্ডা লাগছে। সাদির হাতের পাশে গিটার।পিহু ব্যালকোনির কাচের দরজা টা লাগিয়ে দিয়ে সাদির গায়ে গা ঘেষে বসে।

সাদি পিহুর দিকে তাকিয়ে স্মীত হেসে বলে…
-“রাদিফের মাম্মাম।শুনছো..?

-“হু..!

-“আমাদের সাদিফ বলছিলো তার একটা বোন লাগবে।এখন যদি তার মাম্মাম অনুমতি দিতো।

পিহু ভ্রু কুচকে তাকায় সাদির দিকে।আসলে রাদিফ আর সাদিফ এক মিনিটের ছোট বড়।অপারেশন থিয়েটার এ পিহুর হাত ধরে সেদিন সাদি বসেছিলো।নিজ চোখে পিহুর আর্তনাদ দেখ্বছে।পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখ বাবা হতে পেরেছে।পিহু ভ্রু কুচকে বলে…

-“আপনাকে বলেছে..?

-“হু সত্যি..!

-“বলতেই পারে দুজনেই আপনার মতো বদের হাড্ডি।

-“তো কি তুমার মতো স্টুপিড হবে।

-“দেখুন ফেক্টুস ডাক্তার।

-“দেখাও।

-“ছিহহ অসভ্য লোক।লজ্জা নেই দুই বাচ্চার বাপ হয়েও।ছিহ।

সাদি হাসে খুব প্রশান্তির হাসি।দোলনায় গা এলিয়ে দিয়ে পিহুকে নিজের কোলে বসায়।তারপর পিহুর গালে টুকুস করে একটা চুমু দিয়ে বলে…

-“ভালোবাসি স্টুপিড খুব ভালোবাসি।

পিহু সাদির নাক টেনে বলে…
-“আমিও ভালোবাসি আমার ফেল্টুস ডাক্তার সাহেব কে।খুব খুব।

পিহু থামে তারপর আবার বলে উঠে..
-“সাদু..?

-“হু..!

-“একটা বাংলা গান শোনাবেন..?

-“উহু বাচ্চারা উঠে যাবে।

-“উঠবে না।প্লিজ শোনান।প্লিজ প্লিজ।সাদু।

সাদি হাসে।পিহুকে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয়পিহুর লম্বা গাউন দোলনা থেকে অর্ধেক নিচে পড়ে রয়।।ব্যালকোনিতে বেশ ঠান্ডা লাগছে।তাই নিজের উষ্ণতা খুজে পিহুর মাঝে।পিহুর অধর জোড়ায় ঠোঁট ডুবাই।কিছুক্ষন সেভাবে রেখে কপালে কয়েকটা চুমু দেয়।পিহু এবার সাদির বুকে মাথা গুজে।আর সাদি পিহুর মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে হাসি টেনে এনে খালি কন্ঠে সুর তুলে গেয়ে উঠে….

-“তুই আমার ফাকা মনে আনলি প্রেমের দিল দরিয়া।
-“দিনের শেষে ঘুমের দেশে তুহি মেরি ওইশোরিয়া।
-“হেই তুই কি জানিস তোর চোখে কত নেশা।
-“তোর কাছে হার মানে কারিনা আর বিপাশা।

-“তোকে হেব্বি লাগছে।
-“তোকে হেব্বি লাগছে। তাওকে হেব্বি লাগছে।
-“তোকে হেব্বি লাগছে রে।

-(কেন যানি সমাপ্ত লিখতে ইচ্ছা হলো না।তোমাদের কথা মতো একটা ছোট্ট সুন্দর ফ্যামিলি উপহার দিয়েছি তাদের।দিনশেষে খুব মিচ করবো তাদের।আমার কাচা হাতের লেখা সাদু আর তার স্টুপিড কে। সময়ের সাথে আরো লেখা ভালো হবে তবে এই এলোমেলো ভাবে লেখা গল্প টাকে মিচ করবো।
২২-১০-২০২৫ থেকে ২৮-০২-২০২৬ প্রায় ৪ মাসের যাত্রা শেষ। আজ থেকে আর কারোর অপেক্ষা করতে হবে না।আজ সকলে একটু বড় বড় কমেন্ট করে যাবেন।আশা করি শেষ টুকু ভালো লাগবে।সিজন ২ চাইলে আসবে। শুধু আপনাদের রেসপন্স এর উপর ভিত্তি করে।আসসালামু আলাইকুম)-

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply