দীর্ঘ দশ বছর পর সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরছে নির্লজ্জ play boy! আব্রাহাম রৌদ্র খান। নারী যেনো তার কাছে হাতের খেলার পুতুল।আজ পর্যন্ত সে কতজন নারীর সঙ্গে রুম ডেট করেছে তার নিজেরেই কোনো হিসাব নেই। নারীরাও যেনো রৌদ্র মানেই পাগল।এর পেছনে দু’টি কারণ রয়েছে।এক রৌদ্র দেখতে এতই আকর্ষণীয়, যে একবার দেখলেই মেয়েরা আর অন্য কারও দিকে তাকাতে চায় না। দুই রৌদ্রের পরিবার যেমন কঠিপতি, তেমন রৌদ্র ও।রৌদ্র নিজেই একজন বিখ্যাত টপ বিজন্যাস ম্যান, যার কঠিন চরিত্র ও কঠোর নিয়ম সবাইকে কাঁপিয়ে রাখে।সুইজারল্যান্ডে আব্রাহাম রৌদ্র খান নাম ইতিমধ্যেই বিখ্যাত হয়ে গেছে। এখন আব্রাহাম রৌদ্র খান সুইজারল্যান্ডের নাগরিক,সাথে একজন বড় বিখ্যাত বিজন্যাস ম্যান।আব্রাহাম রৌদ্র খান যেমন বিজনেসে নাম করা একজন টপ বিজনেসম্যান, তেমনি প্লে বয়’নামে কুখ্যাত।তার জীবন দুই দিকেই একরকম উন্মাদ,এক দিকে ব্যবসার জগতে কঠিনপতি হিসেবে শীর্ষে থাকা, আর অন্য দিকে নারীদের জীবনকে খেলাধুলার মতো উপভোগ করা।
খান বাড়িতে যেন উৎসবের আয়োজন চলছে। কতদিন পর খান বাড়ির বড় উত্তরাধিকারী বাড়ি আসছে। সবার মনে যেন এই আনন্দ।কিন্তু এত আনন্দের মাজেও শুধু একজনের মনে আনন্দ নেই। আর সেই হলো খান বাড়ির মেজো ছেলের মেয়ে, তাব্বাসুম ফিহা তুরা।ছোট সময় রৌদ্রের সাথে ধাক্কা লাগায়, কি থাপ্পড়টাই না দিয়েছিলো একদম দাঁত নড়ে গিয়েছিলো। আজ সেই দাঁত নরার ব্যাথা যেনো জাগ্রত হচ্ছে এমন মনে হচ্ছে। তাব্বাসুম মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে, রৌদ্র বাড়িতে আসলে রুম থেকে বের হবেই না।আব্রাহাম রৌদ্র খানের বাবা আনোয়ার খান।
তার দুই ভাই আশিক খান আর আরিফুল খান।আনোয়ার খানের সন্তান আব্রাহাম রৌদ্র খান (বড় ছেলে) আর আরশি (ছোট মেয়ে)।আশিক খানের মেয়ে(তিথি আর তুরা)আরিফুল খানের সন্তান, আয়ান (বড় ছেলে) আর আরফা (ছোট মেয়ে)।
এয়ারপোর্ট থেকে বের হলো আব্রাহাম রৌদ্র খান। রৌদ্র উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি, দুধের মতো ফর্সা শরীর, নানা জায়গায় ট্যাটু, হাতে বেন্ডের ওয়াচ, জিম করা মাসল দৃঢ় শরীর, পরনে সাদা শার্ট, নীল জিন্স, কালো জ্যাকেট, চোখে সানগ্লাস।রৌদ্র জ্যাকেট কাঁদে জুলিয়ে, বা হাত দিয়ে সুটকেস ধরে এয়ারপোর্ট থেকে বের হলো।বের হতেই দেখলো পুরো পরিবার দাঁড়িয়ে আছে।
রৌদ্র এগিয়ে এসে আনোয়ার খানকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“হাই, ড্যাড, কেমন আছো?”
আনোয়ার খানও রৌদ্রকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
“আমি ভালো আছি, মাই সান। কিন্তু এখন আরও ভালো হয়ে গিয়েছি, সন্তানটাকে কাছে পেয়ে।”
পাশ থেকে তিথি ভিজলিয়ে বলল,
“রৌদ্র দা, তোমাকে তো একদম বিদেশী বেডাদের মতো লাগে! বাংলাদেশে আসার আগে একবার বাঙ্গালী হয়ে তো আসতে পারতে যেমন ধরো ধুঁতি লুঙ্গি, আ….!
বাকিটুক বলতে পারলো না, রৌদ্র থামিয়ে তিথির কান মুঞ্চে ধরে বলল,
“আর সাথে তোর কান টাও মু্চকানো দরকার।”
তিথি কান ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,
“আহহহ! রৌদ্র দা, লাগছে ছাড়ো বলছি?
সকলেই দুজনের কান্ড দেখে হেসে উঠলো।রৌদ্র সবার সাথে কথা বললো, তারপর নিজেই একান্ত প্রাইভেট কারে চলে গেলো।কিছুদূর আসার পর কাউকে ফোন করলো। ফোনের ওপাশ থেকে মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো।
“হ্যালো বেবি! হাউ আর ইউ?”
“হেই বেবি, আই’ম বাংলাদেশে।”
“রিয়ালি? লেটস মিট লেটার!”
“হুম, আমি বাসায় যাচ্ছি। বাসায় গিয়ে মমের সঙ্গে দেখা করে আমি তোমার কাছে আসছি। বি রেডি টুডে, আজ কিন্তু তোমার সঙ্গ চাই আমার, রিলি।”
“ওকে বেবি, ক্যান্ট ওয়েইট!”
রৌদ্র বাসায় এসে তার মম রৌশনী খানের সাথে কথা বলল।তুরার মা তনুজা খানের সাথে কথা বলল।আরফার মা হিমি খানের সাথে কথা বলল।সবার সাথে কথা বলে নিজের রুমে চলে গেলো।
___________বিকেলে তুরা বেলকনির গ্রিলের ওপর বসে উপন্যাস পড়ছে।আজ সারাদিন ঘর থেকে বের হয়নি, অনেকে ডেকে গেছে খাওয়ার জন্য, কিন্তু তুরা খিদে নেই বলে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে।বাতাসে তুরার লম্বা লম্বা চুল হালকা হালকা উড়ছে।তুরা দেখতে একদম পরীর মতো হলুদ বর্ণের গায়ের রঙ, হরিণের মতো টানা টানা চোখ, যেনো কোনো আদর্শ্য পরী।সূর্যের আলোয় তার চুল ঝলমল করছে, আর পাশের বাগানের পাতারা যেনো তার দিকে তাকিয়ে শান্তির সুর গাইছে।
রৌদ্র রেডি হয়ে শীড়ে দিয়ে নামতে নামতে রৌশনী খানের উদ্দেশ্যে বলল,
“মম, আমি বের হচ্ছি। একটা কাজ আছে, দেরি হবে আসতে। চিন্তা করো না তুমি।”
রৌশনী খান এগিয়ে এসে বলল,
“সেকি, তুই তো আসলিই আজকে, এখনি আবার কোথায় যাচ্ছিস?”
রৌদ্র রৌশনী খানের কাঁধ জড়িয়ে ধরে বলল,
“তোমার বউমা আনতে যাচ্ছি।”
রৌশনী খান অবাক চোখে তাকাতেই রৌদ্র যেতে যেতে বলল,
“আমার একটা জরুরি কাজ আছে, তার জন্য যাচ্ছি। চিন্তা করো না, শেষ হলেই চলে আসবো।”
রৌদ্র বাসা থেকে বের হয়ে আবার সেই মেয়েকে ফোন করলো।ফোন কানে ধরে গাড়িতে উঠলো, গাড়ি চালাতে শুরু করলো।ঠিক তখনই রৌদ্রের চোখ পড়ল একটা বেলকনির দিকে, যেখানে এক মেয়ে বসে আছে।তার লম্বা লম্বা চুলএলোমেলোভাবে উড়ছে, পিছনের দিক দেখা যাচ্ছে।গায়ে কাঠালী রঙের চুড়িদার।এক মুহূর্তে রৌদ্র থমকে গেলো।
এমন কেশবতী মেয়ে, তাও তাঁদের বাড়িতে,কে এই মেয়ে, রৌদ্র জীবনে মনে হয় না এমন চুল আর কখনো দেখেছে।পরক্ষণেই রৌদ্র নিজে নিজেই ভাবলো যেই হোক তাতে আমার কি,রৌদ্র আর কিছু না ভেবে ধীরে ধীরে বাড়ির গ্রেট দিয়ে বেরিয়ে গেলো, রাস্তায় হাওয়ার ছোঁয়া তার চুলে খেলছে, গাড়ি চলতে চলতে শহরের রোদ, ছায়া, গাছপালা আর পাশের সবকিছুর সঙ্গে মিলিয়ে যেন পুরো দৃশ্যটি একধরনের উত্তেজনা ও অদ্ভুত আকর্ষণ নিয়ে তার মনে জমে উঠলো।
রাতের বেলা খান বাড়িতে যেন হুল্লা হুলি শুরু হয়ে আছে, হল রুমে অগণিত মানুষ,সামনে নানা রকমের খাবারের আয়োজন সবার মুখে হাসি, আলো ছায়ার খেলা, ঘরজুড়ে উৎসবের উচ্ছ্বাস, পাশেই ছুফাই টকটকা মিষ্টি রঙের কাতান শাড়ি পরে একদম নতুন বউয়ের মতো বসে আছে তুরা, তার উপস্থিতি পুরো ঘরটাকে আলোকিত করছে, আলোয় তার চুলের ঝলক, চোখের দীপ্তি সবকিছু মিলিয়ে যেনো স্বপ্নময় দৃশ্য তৈরি করছে। কারণ আজকে তুরাকে দেখতে এসেছে শিহাব চোধুরী, নাম করা ছেলে বিজনেসম্যান, যে তুরাকে আগে থেকেই পছন্দ করতো, তুরার কথা সে তার বাবা-মাকে জানিয়েছে এবং বাবা-মাও জানিয়ে দিয়েছে খান পরিবারকে, ছেলে ভালো হওয়ায় খান পরিবারের আর কেউ তা মানা করতে পারলো না। তবে জানিয়ে দিয়েছিলো বাড়ির বড় ছেলে সুইজারল্যান্ড থেকে ফিরে আসার পর বিয়ে দিবে,এখন রৌদ্র যেহেতো এসে গেছে, তাই শিহাব আর দেরি করতে চাইলো না আজ রাতেই তুরার সঙ্গে এনগেজমেন্ট করে রাখতে এসেছে, পুরো আয়োজন,আলো ছায়া, মানুষের হুল্লোড় সবকিছুর সঙ্গে মিলিয়ে পুরো দৃশ্য যেনো এক রোমাঞ্চকর ও সুন্দর অনুভূতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
সবার আড্ডার মাঝেই শিহাবের বাবা সকল পুরুষের উদ্দেশ্যে বললেন,
“তো ভাই, রৌদ্র তো এখনো আসছে না, আর কতক্ষণ লাগবে?”
পাশে থাকা আয়ান বারবার রৌদ্রকে কল করছে কিন্তু রৌদ্র কল ধরছে না। আয়ান আনোয়ার খানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“জেঠু ব্রো, কল ধরছে না, অনেক বার ট্রাই করেছি।”
আনোয়ার খান বিরক্ত হয়ে নিজের ফোন বের করে নিজে রৌদ্রের নাম্বারে কল দিলো।
এদিকে রৌদ্র সেই মেয়ে জেরিনের সঙ্গে রোমান্সে মেতে আছে। গাড়ির ভিতরে দুজনেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে লিপ কিস করছে। ফোন বারবার বাজতে দেখে জেরিন বিরক্ত হয়ে বলল,
“অফফ, ফোন দিচ্ছে কে? ধরলে ধরো না ধরলে বন্ধ করে রাখো!”
রৌদ্র বিরক্ত হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো তার বাবার নাম্বার থেকে কল এসেছে। মুহূর্তেই বুঝে গেলো, বাবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। রৌদ্র মাথার চুল পিছনে ঠেলে জেরিনের দিকে বলল,
“বেইবি, আমি এখন বাসায় যাচ্ছি। কাল হোটেলে যাবো, আমি তোমাকে এড্রেস দিয়ে দিবো।”
রৌদ্র জেরিনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সুজা বাড়িতে চলে এলো। বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই সে অবাক হয়ে গেলো ঘরে এমন তোলপাড়, সবাই যেনো কোনো আনন্দ উৎসবের অপেক্ষায়। কয়েকজন হেসে তাকাচ্ছে, কারও হাতে চায়ের কাপ ,আয়ান রৌদ্রকে দেখে সবাইকে দেখিয়ে বলল,
“ওই তো ব্রো, এসে গেছে?”
রৌদ্র কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে সবকিছু লক্ষ্য করলো। চারপাশের মানুষজনের হাসি,কৌতূহলী চাহনি, আর উচ্ছ্বাস। সব মিলিয়ে মনে হলো যেন সে কোনো আলাদা জগতে ঢুকে এসে পরেছে।আনোয়ার খান এগিয়ে এসে বলল,
“কখন থেকে তোকে কল দিচ্ছি, ধরছিলিনা কেন?”
রৌদ্র ফোঁস করে শ্বাস নিয়ে বলল,
“একটা কাজে ছিলাম, ড্যাড। আচ্ছা, এত মানুষ কেন?”
রৌশনী খান এগিয়ে এসে হাসিমুখে বলল,
“ওমা, তোকে বলেছিলাম না, আমাদের তুরার জন্য একটা ভালো সমন্বয় হয়েছে। তুই আসলেই আমরা বিয়ের কথায় এগোবো। এনারা তারাই।”
মুহুর্তেই রৌদ্র আবার সবার দিকে তাকালো। হঠাৎ তার চোখ পড়লো তুরার দিকে, যে একদম মাথা নিচু করে বসে আছে। তুরাকে দেখে মুহূর্তেই রৌদ্রের চোখ স্থির হয়ে গেলো, অজান্তেই বুকের স্পন্দন কেঁপে উঠলো।
টানা টানা হরিণের মতো চোখ, ঠোঁটের কোণে ছোট একটা তিল যা একদম আকর্ষণ করে টানছে রৌদ্রকে। রৌদ্র হা করে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো তুরার দিকে, যেনো চোখ সরাতেই ভুলে গেছে।মুহূর্তে রৌদ্রের মনে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জন্মালো, মিশ্রিত বিস্ময়, আকর্ষণ এবং হালকা উত্তেজনা। মনে হলো, তুরার সরলতার মাঝেই একটা রহস্য লুকিয়ে আছে, যা তার মনকে টানছে কিন্তু কেনো এমন হচ্ছে।
চলবে….!
নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাঃ-#প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
সূচনা পর্ব
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৪,১৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৯