Golpo romantic golpo নির্লজ্জ ভালোবাসা

নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৮


নির্লজ্জভালোবাসা পর্ব ১৮ লেখিকাপ্রিঁয়ঁসেঁনীঁ

বিয়ের শপিং শেষ করে খান বাড়ির সকল প্রবীণ সদস্য গাড়ি নিয়ে বাড়ি চলে গেলেন। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম আয়ান, আরফা, আরশি, তিথি, তুরা আর শিহাব তারা শিহাবের গাড়ি দিয়ে শহরের একটি নামী রেস্টুরেন্টে এলো।যদিও তুরা একদমই আসতে চায়নি। কিন্তু পরিবারের স্নায়ুচাপ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য, বিশেষ করে আরশি ও শিহাবের জোরাজুরিতে, সে বাধ্য হয়েই এসেছে।তুরার চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ। তার চারপাশে আনন্দের গুঞ্জন, উচ্ছল হাসি। কিন্তু সে যেন এই উৎসবে থেকেও নেই। তার মন পড়ে আছে এক অচিন ঠিকানায়।

সবাই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে নিজেদের জন্য বড় একটি টেবিল বুক করে বসতে শুরু করল। তুরা চাইছে যেকোনো মূল্যে শিহাবের থেকে দূরে থাকতে। সে আরশির পাশে বসতে যাবে, তার আগেই আরফা দ্রুত তুরাকে ধাক্কা দিয়ে সেই চেয়ারটা দখল করে নিল।তুরা অসহায় দৃষ্টিতে আরফার দিকে তাকাল।আরফা ঠোঁট টিপে দুষ্টু হেসে ভ্রু নাচালো যেন বলছে,এখানে তোর বসার জায়গা না শিহাব ভাইয়ার পাশে তোর বসার জায়গা।

তুরা আর কথা না বাড়িয়ে আবার আরেক চেয়ারে বসতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে আয়ান বাতাসের মতো ছুটে এসে সেই চেয়ারে বসে পড়ল। তাঁদের পাশে আর মাত্র একটি চেয়ার খালি কিন্তু তুরার ভাগ্য খারাপ সেই চেয়ারটিও খালি রইল না তিথিও তাড়াতাড়ি এসে সেখানে বসে পড়ল।

তুরার আর বুঝতে বাকি রইল না।সবগুলো ইচ্ছে করেই এমন করছে যাতে তাকে শিহাবের পাশে বসতে হয়!তুরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে যেন অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করল। নীরবে হেঁটে এসে শিহাবের পাশের চেয়ারেই বসলো। তার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত।

তিথি সাথে সাথে আনন্দে হাততালি দিয়ে শিহাবের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল।

“তো দুলাভাই, কী খাওয়াবেন? আমি কিন্তু কাচ্চি বিরিয়ানি ছাড়া কিছু খাবো না, বলে দিলাম! অন্য কিছু দিলে একদম রাগ করব!”

শিহাব তিথির দিকে স্নেহমাখা হাসি ছুড়ে দিল। তার কণ্ঠে ছিল আন্তরিকতা ও উদারতা।

“আরে এইটা কোনো কথা বললে তুমি! তুমি আমার একমাত্র শালিকা, তোমাকে খাওয়াবো না তো আর কাকে খাওয়াবো?”

পাশ থেকে আয়ান, আরফা আর আরশি তিনজনে চিল্লাইয়া একসঙ্গে বলে উঠল। তাদের কণ্ঠে ছিল কৃত্রিম অভিযোগ।

(আয়ান, আরফা, আরশির ) “এই শিহাব ভাইয়া! আমরা কি ভাইসা আইছি! শুধু তিথিকেই খাওয়াবেন নাকি?”

শিহাব জোরে হেসে উঠল। সে পরিবেশটাকে সহজ করতে চাইল, শিহাবে হালকা হাসির রেশ টেনে বলল।

“আরে রিল্যাক্স! তোমাদের মন মতো অর্ডার করো?।”

শিহাবের কথায় তিনজনেই খুশিতে হেসে উঠল। তারপর যার যার মতো খাবারের অর্ডার করল। তুরাকে কিছু অর্ডার করতে না দেখে শিহাবের দৃষ্টি তুরার দিকে গেল। শিহাব নরম সুরে জিজ্ঞেস করলো।

“কী ব্যাপার তুরা, তুমি কিছু অর্ডার করছো না কেন?।”

শিহাবের প্রশ্নে তুরা অসহজ বোধ করল। সে মাথা নিচু করে, ক্ষীণ কণ্ঠে উত্তর দিল।

“না, আসলে আপনারা খান। আমার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।”

শিহাবের চোখে দৃঢ় সংকল্প,সে তুরার উপর থেকে চোখ সরাল না।শিহাব কণ্ঠে জেদ ও স্নেহ নিয়ে বলল।

“তুরা, এইটা হয় না! সবাই খাবে আর তুমি খাবে না এটা কোনো কথা? আমি তোমাকে না খাইয়ে ছাড়ব না।”

শিহাব জেদ ধরেছে,পাশ থেকে আয়ান সুযোগ বুঝে পরিস্থিতি সামাল দিতে সে দুষ্টুমি চঞ্চলতা স্বরে বলল।

“ছেড়ে দিন না ব্রো! তুরার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাই সে কিছু খেতে চায়ছে না। তাই না তুরা বোন আমার?”

শেষের কথাটুকু আয়ান চোখ টিপে তুরার দিকে তাকিয়ে বলল।সকলেই আয়ানের কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠল। এই হাসির শব্দে তুরার অস্বস্তি আরও বাড়ল। সে শুধু আয়ানের দিকে হালকা চোখ পাকিয়ে তাকাল যেন বলছে, ফাজলামি করছো আমার সাথে।

তারপর তুরা আর কিছু না ভেবে শিহাবের ক্রমাগত অনুরোধে বাধ্য হয়ে হালকা কিছু অর্ডার করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সব খাবার টেবিলে এসে হাজির হলো। শিহাব মনে প্রাণে চাইছে একটু তুরার সাথে আলাদা করে দেখা করে গোলাপ ফুলের তোড়াটা দিতে। কিন্তু বেচারা এই শা’লা শা’লি দের জন্য সেই সুযোগটাই পাচ্ছে না। শিহাবের প্রতিটা পদক্ষেপ যেন নজরে রাখা হচ্ছে।

একসময় শিহাব চাপা বিরক্তি নিয়ে আয়ানের দিকে তাকাল এবং চোখ দিয়ে পাশের টেবিলে ইশারা দিল। আয়ান শিহাবের মতিগতি সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেল। চোখ টিপে শিহাবকে হাসি দিয়ে বুঝাল ঠিক আছে ব্রো, কাজ হয়ে যাবে।আয়ান, আরফা, তিথি আরশির কানে কানে ফিসফিস করে কিছু একটা বলল। সকলেই মুখ টিপে হাসল। এই হাসি ছিল গোপন ষড়যন্ত্রের হাসি।

তারপর আয়ান হালকা গলা খাক্কারি দিয়ে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে কৃত্রিম লজ্জা অভিনয়ে বলল।

“আমার না কেমন জানি বেডি মানুষের মতো লজ্জা লাগছে সবার সাথে বসে খেতে। আমি বরং ওই টেবিলে গিয়ে খাই।”

আয়ান কথাটা বলেই প্লেট নিয়ে দ্রুত দূরের একটা টেবিলে চলে গেল।

তিথিও খাবার গলায় আটকানোর অভিনয় করে কঠিন কাশি দিয়ে দুষ্টুমি অভিনয় স্বরে শিহাবের উদেশ্য করে বলল।

“হু হু! আমি দুলাভাইয়ের সামনে কাচ্চি বিরিয়ানিটা খেতে পাচ্ছি না! আমি বেশ ভালো করেই দেখছি, দুলাভাই আমার বিরিয়ানির দিকে বার বার চোখ দিচ্ছে। আরে বাবা, আমার তো পেট খারাপ হবে আর আমি সইতে পারব না! দৌড়া তিথি দৌড়া! যদি পেট বাঁচাতে চাস তাহলে দুলাভাইয়ের নজর থেকে দৌড়া!”

কথাটা বলেই তিথিও দৌড়ে দূরে আয়ানের টেবিলে চলে গেল।শিহাব তিথির কথা শুনে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলল।

“শা’লার! এইটা কোনো কথা? আমাকে ফাঁসানোর কী দরকার ছিল। নাকি নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছি আল্লাহই জানে!”

শিহাবের এই বিড়বিড়নিও যেন আরফা আর আরশির ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা দুজনে মুখ টিপে হাসছে।আয়ান ও তিথির বিদায়ের পর এবার আরশির পালা। সেও হালকা গলা খাক্কারি দিয়ে নাটকীয়তা কন্ঠে বলল।

“আমার মনে হয় আমারও যাওয়া উচিত, কারণ আমি নিজেও পেট খারাপ করা থেকে বাঁচতে চাই।”

কথাটা বলেই আরশি উঠে দাঁড়াল। সঙ্গে সঙ্গে আরফাও পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। সে যেন নাটকটা শেষ করতে চাইল।আরফা কণ্ঠে দুষ্টুমি ও চতুরতা নিয়ে বলল।

“আরে দাঁড়া! আমি কোন দুঃখে এইখানে থেকে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনবো? নিজে বাঁচলে বাবার নাম! চল তো?”

কথা শেষ না করেই দুজনেই আয়ান তিথির টেবিলে চলে গেল।

বেচারিরা গেল তো গেলই সাথে যেন শিহাবের মান-সম্মান সব নিয়েই গেল! শিহাব এখন বিমূঢ়। সে তুরাকে আর কী বলবে?গোলাপের তোড়া দিয়ে কীভাবে শুরু করবে? যা প্ল্যান করে রেখেছিল, সব যেন হাওয়ায় ভেসে গেল।শিহাবের মাথা রাগে আর হতাশায় ঝিমঝিম করছে। সে চাইছিল কী, আর এই দুষ্টু শা’লা শা’লিরা করে দিয়ে গেল কি!একপাশে একা তুরার সামনে বসে থাকা এবং অন্য টেবিলে সকলের হাসাহাসি সব মিলিয়ে তার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। তার এখন নিজের মাথায় নিজেই হাতুড়ি দিয়ে মারতে ইচ্ছে করছে।শিহাব ধীরে ধীরে টেবিলের নিচে রাখা গোলাপের তোড়াটা স্পর্শ করল এই ফুল এখন কীভাবে দেবে?

এদিকে তুরা বাকরুদ্ধ। সব কিছু যেন তার মাথার উপর দিয়ে গেল। যদিও তুরার বুঝতে দেরি হলো না যে, সবগুলো ইচ্ছে করেই এমন করল যাতে শিহাবের সাথে তার একান্ত সময় হয়। তুরা তবুও নিজেকে ঠিক রেখে চুপচাপ বসে থাকল। তার এই নীরবতা সহ্য করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তার সমস্ত মনোযোগ এখন খাবারের প্লেটের দিকে, যাতে একবারও শিহাবের চোখে চোখ না পড়ে।

শিহাব সব কিছু ভেবে গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চোখ গেল তুরার দিকে, যে এখন খাবারে মনোযোগ দেওয়ার ভান করছে।শিহাব নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে হালকা গলা খাক্কারি দিয়ে কণ্ঠে সামান্য জড়তা নিয়ে বলল।

“উহম উহম তুরা,তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল।”

তুরা শিহাবের ডাকে হঠাৎ কেঁপে উঠল। হাতে থাকা চামুচ থেমে গেল। এই মুহূর্তে শিহাবের কাছ থেকে কোনো কথা শুনতে সে প্রস্তুত না। তুরা নিজেকে সামলে শিহাবের দিকে তাকিয়ে কৃত্রিম হাসি দিয়ে নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করে বলল।

“জ্বী, বলুন।”

শিহাব গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের ভিতর সাহস জোগাড় করল। তার উদ্দেশ্য তুরাকে আজ প্রপোজ করবে। শিহাব টেবিলের নিচ থেকে গোলাপ ফুলের তোড়াটি বের করে তুরার দিকে এগিয়ে ধরল । চোখ বন্ধ করে আবেগ ও উত্তেজনা স্বরে বলতে লাগল।

“আই লাভ ইউ ত…”।

বাকিটুকু শেষ করতে পারল না।ঠিক সেই মুহূর্তে, একটা ওয়েটার খাবার নিয়ে যাচ্ছিল, যেতে যেতে ভুলবশত হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে নিলো। কোনোমতে সে নিজেকে সামলাতে পারল, কিন্তু হাতে থাকা খাবারগুলো সামলাতে পারল না পড়ে গেল! আর সেই খাবারের কিছু অংশ শিহাবের শার্টে গিয়ে লেগে গেল।

আপনাদের মনে পড়ে সেই দিনের ঘটনা। যেদিন তুরা আর শিহাব প্রথমবার রেস্টুরেন্টে এসেছিল। আগের সময়ে তুরার শাড়িতে পড়েছিল, কিন্তু আজ পড়ল শিহাবের গায়ে! নিয়তি জানে এদের ভাগ্যে যে কী লেখা আছে! বেচারি শিহাবের রোম্যান্টিক মুহূর্তটি আবারও আগের মতোই বাধাগ্রস্ত হলো।

ওয়েটার সাথে সাথে শিহাবের সামনে গিয়ে তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে ভীত স্বরে বলল।

“সরি, সরি স্যার! আমি আসলে ভুল করে হয়ে গেছে!”

শিহাবের মাথা আউট হয়ে গেল। এমনিতে তার মাথা গরম ছিল, তার মধ্যে নিজের অনুভূতির কথাটা বলতে যাচ্ছিল এই ওয়েটার আবার বারোটা বাজিয়ে দিল! রোমান্টিক প্ল্যান বার বার ভেস্তে যাওয়ায় তার এখন নিজের গলায় নিজেই দড়ি দিতে ইচ্ছে করছে। হাতে থাকা ফুলের তোড়াটা সে ধপাস করে টেবিলে ফেলে দিল।শিহাব কোনোমতে নিজের রাগ কন্ট্রোল করল। এই রেস্টুরেন্টে এখন মেজাজ খারাপ করলে আরও বড় ঝামেলা হবে। সে ওয়েটারের উদ্দেশ্যে কঠোর চরম বিরক্তি ও চাপা রাগের স্বরে বলল।

“ইটস ওকে। আমি ওয়াশরুমে যাচ্ছি।”

শিহাব দ্রুত আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার শার্টে লেগে থাকা খাবারের অংশটুকু রাগ নিয়ে ঝেড়ে সে দ্রুত ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।তুরা হতভম্ব হয়ে বসে রইল। তার মনে দ্বিধা ও স্বস্তি। মনে মনে সে গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কারণ তুরা বুঝতে পারল, শিহাব তাকে প্রপোজ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে এই প্রপোজের কথা শোনার পর তুরার পক্ষে কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব ছিল না। কোনোভাবেই না। এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা যেন আল্লাহ তাকে বাঁচাল। তুরা লম্বা স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

ঠিক সেই মুহূর্তে, টেবিলে থাকা শিহাবের ফোনের নোটিফিকেশনে বেজে উঠল টোন টোন করে।তুরা না চাইতেও শিহাবের ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাল। আর তাকিয়েই তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল! তার শরীর কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেল। কারণ,স্ক্রিনে স্পষ্ট ভাবে একটা মেসেজ ভেসে উঠেছে।

< তুরার গায়ে যদি একটা ফুলের আঁচড়ও লাগে, তাহলে তোকে আমি জ্যান্ত পুঁতে ফেলব! ভাবিস না, ছেড়ে এসেছি বলে মনের ভিতর থেকে সরিয়ে দিয়েছি। আমি দূরে থাকলেও আমার এই দু’চোখ তুরাকে দেখে। তুরা আমার ভালোবাসা, আর এই শেষ নিঃশ্বাস অব্দি সে আমার ভালোবাসা থাকবে। আমি চলে এসেছি শুধু মাত্র তুরার ভালোর জন্য। আমি তুরার হাসি চাই, তার চোখে পানি না কারন যে ভালোবাসতে পারে সে তার ভালোবাসার মানুষের খুশির জন্য সবকিছুই করতে পারে তাই নিজের ভালোবাসা কষ্টে বুকে চেপে রেখে আমি চলে এসেছি।কিন্তু তুরা আমার মনে সবসময় থাকবে। যেই ভালোবাসা কাছ থেকে কষ্ট দেয়, সেই ভালোবাসা দূর থেকেই সুন্দর হয়। হ্যাঁ, আমি তুরাকে দূর থেকে ভালোবাসতে চাই। তুই যদি ভাবিস আমি চলে গেছি বলে আমার ভালোবাসাও চলে গেছে, তাহলে তোর মনের ভুল।খোদার কসম, তুরার শরীরে এক টুকরো ফুলের আঁচড় লাগলে আমি তোর হাত কেটে কুচি কুচি করে ফেলব। মনে রাখিস। ভালো রাখবি তুরাকে সবসময়। আমিও তোদের দুজনের জন্য দোয়া করি। বেস্ট অফ লাক।>

মেসেজটি পড়ে তুরার মাথা তীব্রভাবে ঘুরতে লাগল। তার হৃদয়ের গতি হঠাৎই অনেক বেড়ে গেল। তুরা ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না। মনে হচ্ছে, তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। গলা শুকিয়ে আসছে, আর চোখে ঝাপসা দেখছে। এই আকস্মিক আঘাত তার শরীরকে এমনভাবে কাবু করেছে যে, কথা বলার শক্তিটুকুও সে যেন হারিয়ে ফেলেছে। সে দু’হাতে টেবিলের ধার শক্ত করে চেপে ধরল, যাতে চেয়ার থেকে পড়ে না যায়। এই হুমকি আর বার্তাটির তীব্র অধিকারবোধ তাকে আতঙ্কিত করে তুলল।তুরা চেয়ারে বসে কাঁপছে। তার শরীর শীতল, দৃষ্টি ফোনের স্ক্রিনে স্থির।

এখন প্রশ্ন হলো: কে এই মেসেজ দিয়েছে? আর এই মেসেজে তুরার নামই বা কেন লেখা? কেনই বা তার প্রতি এত অধিকারবোধ? আর শিহাবের অনুপস্থিতিতে মেসেজটি দেখার পর তুরা এমন কেন করছে?

নিশ্চয়ই, অনেক পাঠক ইতোমধ্যে বুঝে গেছেন এই মেসেজটি সেই তুরার হারিয়ে যাওয়া মানুষটির। কিন্তু তার ভালোবাসা এতটা যে কঠোর হবে এবং এতটা যে গভীর শক্তিশালী হবে,তা তুরা কল্পনাও করেনি!

,,,,,,

এখন কথা হচ্ছে তুরা, শিহাব এবং রৌদ্রের জীবনের এই জটিল সমীকরণ কোন দিকে মোড় নিয়ে যাবে? আগামীকালের পর্বে রয়েছে সত্যের উন্মোচন এবং চরম ধামাকা!

জানতে হলে অবশ্যই আপনারা গল্পটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

ধন্যবাদ সবাইকে!

চলবে….!

~~~~~

ভুলক্রটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন…! 🙂

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply