Golpo romantic golpo নির্লজ্জ ভালোবাসা

নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৭


নির্লজ্জভালোবাসা পর্ব ১৭ লেখিকাপ্রিঁয়ঁসেঁনীঁ

সময় কখনো কারও সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না। সে শুধু তার মতো করে স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকে। সে চলার পথে কারও গভীর কষ্ট বা যন্ত্রণা দেখে না। কারও চোখের পানি দেখেও সে থমকে দাঁড়ায় না, আবার কারো আকুল ডাকেও সে কখনো পিছনে তাকায় না। সময় একদম সোজা রাস্তা ধরে তার নিজের নিয়মে চলতে থাকে। সে জানে, তার থেমে যাওয়া মানেই সৃষ্টির স্থবিরতা। তাই, মানুষের ব্যক্তিগত শোক বা আনন্দ কোনো কিছুই তার নিরপেক্ষ যাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে না।

দেখতে দেখতে তুরার বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলো। কাল তুরার বিয়ে। অথচ তার মনে তীব্র ঝড়। সে কোনোভাবেই এই বিয়ে মানতে পারছে না। ঠিক আগের সময় যখন বিয়ের মুহূর্ত সামনে এসেছিল।তখন মনের ভেতর শিহাবের জন্য তুরার যে মিষ্টি টান ছিল, তা আজ নেই। যে লজ্জা নামক অনুভূতিটা ছিল, তা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে।

আজ মনে কেমন জানি দম ফেটে যাওয়ার মতো এক অনুভূতি, কাউকে হারানোর অনুভূতি। আর সেই মানুষটা আর কেউ না,স্বয়ং আব্রাহাম রৌদ্র খান।এই সময়ে এসে তুরার মন যেন চূড়ান্ত সত্যের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে কি তুরা সত্যিই রৌদ্রকে ভালোবেসে ফেলল? যে সম্পর্ককে সে জোর করে ‘ভাই’য়ের নামে আড়াল করতে চেয়েছিল, আজ সেই ভালোবাসাই কি তার অনিবার্য নিয়তির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে?জানতে হলে তাহলে গল্পটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

আরশি আর আরফা আনন্দে ঝলমল করছে। কারণ, আজকে বিয়ের জন্য শপিং করতে যাবে, শুধু তাই নয় খান বাড়ির সকলেই যাবে। উৎসবের এক হালকা আমেজ যেন সকাল থেকেই বাড়িটাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।
আরশি আর আরফা খুব চেষ্টা করেছিল তুরার মনের ভেতরের ঝড়ের কথা জানতে। কিন্তু তুরা কোনো কিছুই স্বীকার করেনি। তার মুখ ছিল যেন পাথরের মতো কঠিন। তাই আরশি আর আরফা আর জোর করেনি ছেড়ে দিয়েছে তুরার মতো।

তবে খান বাড়ির সকলেই ভেতরে ভেতরে চিন্তায় আছেন। কারণ, তুরার মুখে এখন হাসি দেখাই যায় না। সে কথা কম বলে, সবসময় চুপচাপ রুমে বসে থাকে। বিষয়টাই সবার কাছে চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার অনেকে অন্য কিছু ভেবে সেই চিন্তা কাটিয়ে দিয়েছে। হয়তো বিয়ের পর আপন মানুষ ছেড়ে চলে যেতে হবে, তাই হয়তো মন খারাপ থাকে। কিন্তু তারা তো আর জানে না, এই বিষণ্ণতা ছেড়ে যাওয়ার জন্য নয়, বরং কাউকে ফিরে পাওয়ার অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নিয়েছে।

আরশি রেডি হয়ে খটখট শব্দে তুরার রুমে এলো। ঘরে এসে দেখে তুরা নেই। সে বেলকনির দিকে এগিয়ে গেল। দেখল, তুরা চুপচাপ বেলকনির গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে, তার দৃষ্টি বহুদূর শূন্যে স্থির। বাইরে আজকের সুন্দর দিনটিও যেন তার মনে কোনো ছাপ ফেলতে পারেনি।

আরশি তুরাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উদ্বেগ স্বরে বলল।
“কিরে তুরা, তুই এখনো রেডি হসনি? যাবি না নাকি? সবাই তো গাড়িতে ওঠার জন্য তৈরি!”

কারো ডাকে তুরা চমকে উঠল। তার চিন্তার জগৎ ভেঙে গেল। তাকিয়ে দেখে আরশি।তুরা ক্ষীণ, ক্লান্ত ও প্রায় ফিসফিস করে বলল,যেন মিথ্যা বলছে।

“ঐ না, আসলে আপু, আমার শরীরটা খারাপ লাগছে। তোমরা যাও। তোমাদের পছন্দ মতো যা কিনবে, তাই চলবে আমার।”

তুরার চোখে-মুখে স্পষ্টতই আগ্রহের অভাব। এই কথাগুলো শোনার পর আরশির সন্দেহ আরও জোরে আঘাত হানল। এত বড় শপিং, এত আনন্দ, অথচ তুরা বলছে শরীর খারাপ! সে বুঝতে পারল, তুরার সমস্যা শুধু শারীরিক নয়।আরশির মনে উদ্বেগ ও সন্দেহ এবার আরও বেশি পরিণত হলো। আরশির বিস্ময় কন্ঠে স্পষ্ট অবিশ্বাস নিয়ে বলল।

“কী বলছিস তুই! তোর বিয়ের শপিং! তুই যাবি না? সেটা কীভাবে হয়? আর তাছাড়াও শিহাব ভাইয়া আসবে! সেইবার তো দেখা করলি না! আজ শিহাব ভাইয়ার পছন্দ মতো তোর সবকিছু কিনে দেবে!”

আরশির কথাগুলো তুরার কানের কাছে যেন তীব্র শোরগোল সৃষ্টি করছে। শিহাবের উপস্থিতি, শিহাবের পছন্দ এই শব্দগুলোই তার ভেতরের যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে, আরশি কিছুতেই তার অজুহাত মানবে না।তুরার মন দ্বিধা আর চাপে অস্থির। সে আরশির প্রশ্নের জবাবে মুখ খোলার জন্য কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তেই রৌশনি খান এসে হাজির হলেন। তিনি অবাক হয়ে দৃশ্যটা দেখে কৌতুহল নিয়ে বললেন।

“সে কি! তুরা, তুই দাঁড়িয়ে যে? যাবি না?”

রৌশনি খানের এই কথায় আরশি যেন সুযোগ পেয়ে গেল। সে দ্রুত তুরার দিক থেকে রৌশনি খানের দিকে ফিরল এবং অভিযোগের সুরে বলল।

“দেখো না মা! তার বিয়ে, আর সে নাকি বলছে সে যাবে না! শরীর খারাপের অজুহাত দিচ্ছে!”

রৌশনি খান তুরার দিকে একদৃষ্টিতে তাকালেন। তুরার ফ্যাকাশে মুখ, চোখে-মুখে বিষণ্ণতার ছাপ এসব দেখে রৌশনি খানের মনেও চিন্তার কালো মেঘ জমল। শপিং-এর এই আনন্দের দিনে তুরার এই উদাসীনতা তাদের সবার জন্য এক নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।তবুও রৌশনি খান তুরার কপালে হাত রাখলেন, তারপর গলার কাছে এবং হাতে ভালো করে স্পর্শ করে দেখলেন, সব কিছু ঠিকঠাক দেখে।রৌশনি খানে শান্ত কৌতূহল স্বরে বলল।

“শরীর তো ঠিকই আছে! তাহলে যাবি না কেন? নিশ্চয়ই কিছু একটা লুকাচ্ছিস?।”

তুরার মনে চূড়ান্ত দ্বিধা। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
“আসলে চাচি…”।

বাকিটুক বলতে দিল না আরশি। সে আর সময় নষ্ট করতে রাজি নয়। আরশি তুরার হাত শক্ত করে ধরে জোর করে তাকে টেনে ভেতরের রুমে নিয়ে যেতে যেতে শাসন ও দৃঢ়তা স্বরে বলল।

“যাবি না মানে! তোর বাবা সহো যাবে থুক্কু কাকা সহো যাবে?।”

তুরার ভেতরে থাকা সব প্রতিবাদ আরশির এই দৃঢ় শক্তির কাছে যেন নিভে গেল। সে নীরবে আরশির হাতে নিজেকে সঁপে দিতে বাধ্য হলো। তার চোখ দিয়ে যেন শত অসহায় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে।

,,,,,,,,,,,

খান বাড়ির সকলেই রেডি হয়ে বাড়ির বাহিরে গাড়ির সামনে এসে এক এক করে দাঁড়াচ্ছে। শপিং-এর উত্তেজনায় চাপা আনন্দের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আরশি তুরাকে জোর করে রেডি করে নিয়ে এলো। তুরাকে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে সে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এসেছে।

তুরাকে দেখেই আশিক খান দ্রুত এগিয়ে এসে তুরাকে বুকের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরলেন।তিনি অসহায় স্নেহ বাৎসল্য ও চাপা কষ্ট নিয়ে বললেন।

“আমার সোনা মা, আমাদের ছেড়ে যাবি বলে মন খারাপ? আমাদের খুব মনে পড়বে?”

তুরার দম যেন আটকে এলো। সে কী জবাব দেবে, তা ভেবে পাচ্ছে না। কারণ, সে নিজেই নিজের মনের সাথে লড়ছে। এই বিদায়ের কষ্ট, নাকি রৌদ্রের জন্য অব্যক্ত যন্ত্রণা কোন্‌টা আসল, সে নিজেই জানে না। তুরা কিছু বলল না, চুপচাপ তার বাবার বুকেই মাথা নুয়ে রাখল। তার নীরবতা যেন সহস্র অব্যক্ত যন্ত্রণার প্রকাশ।

পাশ থেকে আনোয়ার খান এসে তুরার মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিলেন। তিনি কর্তৃত্বের মিশ্রণ সান্তনা অভিজ্ঞতা স্বরে বললেন।

“মন খারাপ করিস না মা। মেয়েদের একদিন পরের বাড়ি যেতেই হয়। তুই চিন্তা করিস না, শিহাব বাবা তোকে অনেক সুখে রাখবে। যা হয়েছে, সব ভুলে নতুন করে জীবন শুরু কর। সব ঠিক হয়ে যাবে মা।”

আনোয়ার খানের কথাগুলো যেন তুরার জোর করে বেঁধে দেওয়া নিয়তিকে আরও একবার নিশ্চিত করল। তার মনে হলো, কেউ তার আসল কষ্টটা বুঝতে পারছে না।তুরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে অনুভব করল পরিবারের কেউ তার ভেতরের আসল যন্ত্রণা বুঝবে কি করে? সবাই তো ধরে নিয়েছে, সে রৌদ্রকে ভাই হিসেবেই দেখে। সেই চিরাচরিত পারিবারিক সম্পর্কের বাইরে যে অন্য কোনো গভীর অনুভূতি থাকতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

অথচ আজ তুরার মনের সত্যটা ভিন্ন। আজ তুরা কেন জানি রৌদ্রকে ‘ভাই’ বলতেও তার গলা কাঁপছে। শব্দটি উচ্চারণ করার আগেই তার ভেতরে থাকা অজানা প্রবল স্রোত যেন বাঁধা দিচ্ছে।তুরা সবার উদেশ্য কৃতিম হাসি দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, ঠিক তখনই আয়ান দ্রুত তুরার সামনে এলো।আয়ান চঞ্চলতা ও দুষ্টুমি করে সে তুরার গালটা ধীরে টেনে দিল এবং মাথায় একটা হালকা গাঁট্টি মেরে দিয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে ছড়ার মতো করে বলল।

” বধূ বেশে কন্যা যখন এলো রে! যেন খুশির বন্যা বয়ে গেল রে!”

আয়ানের এই সরল আর দুষ্টুমি ভরা কথায় খান বাড়ির সবাই হেসে উঠল। এই হাসির শব্দে তুরার মন সামান্য হলেও বিচলিত হলো। সে কোনোমতে আয়ানের দিকে তাকিয়ে আবারো সামান্য লজ্জা কৃত্রিম হাসি হাসল। এই হাসি তার বিষণ্ণতা ঢাকার শেষ চেষ্টা। সে জানে, এই সরলতাটুকুও তার জন্য অসহ্য কারন।আনোয়ার খান সকলের উদেশ্য তাড়া দিয়ে বললেন।

“আরে চলো চলো সবাই! আর দেরি না! তুরা, তুই আরশির সাথে পিছনের সিটে বসে পড়। শিহাব হয়তো চলে এসেছে।”

,,,,,,

লাল টকটকে এক গোছা গোলাপ ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শিহাব। তার উদ্দেশ্য, তোড়াটি তুরাকে দেবে। সে অনেকক্ষণ ধরেই শপিং মলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর বার বার ঘড়ি দেখছে কখন তুরা আসবে, তাকে দেখবে। তার যেন আর তর সইছে না। অপেক্ষা করার এই প্রতিটা মুহূর্ত তার কাছে দীর্ঘ সময় মনে হচ্ছে।

দেখতে দেখতে শিহাবের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হলো। খান বাড়ির গাড়ি শপিং মলের সামনে এসে দাঁড়াল। গাড়ি দেখেই শিহাব যেন অস্থির হয়ে উঠল। এক এক করে সবাই গাড়ি থেকে বের হলো। সবার শেষে তুরাও নামল।

তুরাকে দেখেই শিহাবের মনে যেন হাজারো শান্তি নেমে এলো। তার মুখে ফুটল এক আকাশ পরিমাণ হাসি। সে কখনো ভাবেনি যে সে তুরাকে ফিরে পাবে। সে ভেবেছিল তুরাকে সে হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু না, হারায়নি! আল্লাহ তুরাকে আবার তাকে দিয়েছে এই আনন্দেই তার চোখ ভরে উঠল।

শিহাব দ্রুত এগিয়ে গিয়ে খান বাড়ির সকলের সাথে কুশল বিনিময় করে সবার সাথে কথা বলল। তার চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে, তুরা একটি বারের জন্যও শিহাবের দিকে তাকায়নি। সে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে।আরফা, শিহাবের হাতে গোলাপ ফুলের তোড়া দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠল। সে তুরার কাছে এসে তুরাকে কনুই দিয়ে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে কানে কানে ফিসফিস চাপা উত্তেজনা স্বরে বলল

“ওই দেখ! শিহাব ভাইয়া কত সুন্দর গোলাপ ফুল এনেছে! আমি নিশ্চিত ভাইয়া এই ফুল দিয়ে তোকে আজকে নতুন ভাবে প্রপোজ করবে!”

আরফার কথা শুনে তুরা যেন চমকে উঠল। তার বুকের ভিতর আরেক দফা ঝড় বইতে লাগল। প্রপোজ! এই মুহূর্তে শিহাবের কাছ থেকে এমন কোনো কথা শোনা তার জন্য অসহনীয়। কিন্তু তুরা চোখ তুলে তাকালো না। কোন্‌ মুখেই বা সে তাকাবে? কারণ, একসময় শিহাবের জন্য তার মনে যে মিষ্টি অনুভূতিটা ছিল, তা যেন আজ এক অদ্ভুত বিষণ্ণতায় পরিণত হয়েছে। যা তুরাকে তাকাতে বাধা দিচ্ছে। কেন জানি তুরা শিহাবের দিকে তাকাতে পারছে না তাকালেই যেন তার ভেতরের মিথ্যাটা প্রকাশ হয়ে যাবে।

শিহাবের সাথে কথা শেষ করে খান বাড়ির সকলেই উচ্ছ্বাস নিয়ে এক এক করে মলের ভিতর প্রবেশ করলো। তাদের এই আনন্দময় যাত্রা যেন তুরার যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।শেষে তুরাও আলতো পায়ে হেঁটে ভেতরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। তুরা চাইছে ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে, যাতে শিহাবের মুখোমুখি হতে না হয়। তুরা মাত্র কয়েক পা এগোতেই আচমকা শিহাব তুরার হাত ধরে ফেলল।

শিহাবের হাতের সেই অপ্রত্যাশিত স্পর্শে তুরা যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো। তার সমস্ত শরীর কেঁপে উঠল। তুরা দ্রুত হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইল, কিন্তু শিহাবের হাত ছিল শক্ত। তুরা থমকে দাঁড়িয়ে গেল, বাধ্য হয়েই শিহাবের দিকে মুখ ফেরাল। শিহাবের চোখে তখন গভীর অনুরাগ, আর হাতে সেই লাল গোলাপের তোড়া। এই অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত তুরার বুকের ধুকপুকানি বহুগুণ বাড়িয়ে দিলো।শিহাবের উদ্বেগ স্বরে বলল।

“কী হয়েছে তুরা? তুমি এমন করছো কেন?”

তুরা যেন ভয় পাচ্ছে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত বইছে।তুরা তোতলামি করে অস্থির স্বরে বলল।

“ক… ক… কেমন করছি?”

শিহাব তুরার হাত আরও শক্ত করে ধরল। তারপর কণ্ঠে অভিযোগ নিয়ে বলল।

“কথা বলছো না কেন আমার সাথে?

তুরার আকুতি নিয়ে জবাব দিল।

“এ… এ… এমনি! আমার হাত ছাড়ুন! আমি ভেতরে যাব।”

তুরা হাত ছাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল। তার অস্থিরতা শিহাবের চোখ এড়াল না।শিহাবের এবার নরম স্বরে জিজ্ঞাসা করল।

“এমন করছো কেন? কোনো সমস্যা?”

তুরার দৃঢ়তা, কন্ঠে বলল যদিও ভেতরে ভয়।

“না, না, কোনো সমস্যা না! আমার হাত ছাড়ুন! আমি ভেতরে যাব!”

তুরা আরও জোরাজুরি করতে লাগল হাত ছাড়া পাওয়ার জন্য। বাধ্য হয়ে শিহাব হাত ছেড়ে দিল। তুরা, হাত ছাড়ানো মাত্র এক সেকেন্ডও দেরি না করে এক প্রকার দৌড়েই মলের ভেতরে ঢুকে গেল। যেন পিছনে কোনো অচেনা মানুষ তাড়া করছে!

শিহাব তুরার আচরণে বাকরুদ্ধ। তুরা হঠাৎ এমন আচরণ করছে কেন? আগের তুরা আর এখনকার তুরাকে শিহাব যেন চিনতে পারছে না। এক পলকের জন্য তার মনে সন্দেহ জাগল। পরক্ষণেই নিজের মনকে ধাক্কা মারল। ‘হয়তো লজ্জা পাচ্ছে। এত মানুষের সামনে এমন একটু করবেই, এই ভেবে শিহাব আলতো হাসল। তারপর সেও ভেতরে প্রবেশ করল।

সবকিছুই ঠিক রইল। শপিং চলল, হাসি মজা চলল। কিন্তু,তুরার মনের ভেতরের অনুভূতি সেই গোপন তীব্র যন্ত্রণা আর অব্যক্ত রৌদ্রের প্রতি অজানা টান কেউ জানতে পারল না। সেই সত্য শুধু তুরার মনের গভীরে রয়েই গেল।কিন্তু,সেই অনুভূতি কি কখনো প্রকাশ হবে? সেই দিনের অপেক্ষায়। যদি কোনোদিন কেউ সেই অনুভূতি সম্পর্কে জানতে পারে, তখন কী হবে? সব হিসেব কি ওলটপালট হয়ে যাবে?

এখন প্রশ্ন হলো তুরাকে কে পাবে? শিহাব যাকে সমাজ এবং পরিবার তুরার জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে? নাকি রৌদ্র যার প্রতি তুরার হৃদয় এক অবাধ্য টানে বাঁধা পড়েছে?

জানতে হলে অবশ্যই আপনারা গল্পটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে!

চলবে….!

~~~~

ভুলক্রটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর গল্প দিতে দেরি হলো প্লিজ কেউ কিছু মনে করবেন না জানেনি তো হসপিটালে, আমি তাই একটু সমস্যা হচ্ছে…! 😔

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply