Golpo romantic golpo নির্লজ্জ ভালোবাসা

নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১২


নির্লজ্জ_ভালোবাসা

পর্ব ১২ ( রৌদ্রের পরিবর্তন)

লেখিকা_প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ

রাতটা নিঃশব্দ, চারদিক জুড়ে শুধু পাখির কিচিরমিচির ডাক। মাঝেমাঝে দূর থেকে ভেসে আসছে জঙ্গলের পশুদের হুংকার। সেই নিস্তব্ধতার ভেতর ভোরের আলো ফোটার আগেই মসজিদ থেকে ভেসে এলো আযানের ধ্বনি আল্লাহু আকবার । আযানের স্বরেই রৌদ্রের ঘুম ভাঙলো। চোখ খুলতেই মনে পড়ে গেলো তুরার শর্তের কথা। কিছু না ভেবেই সে উঠে পড়লো, সরাসরি ওয়াশরুমে গিয়ে ওযু সেরে এলো। তারপর আলমারির ভেতর থেকে একটা সাদা পাঞ্জাবি আর টুপি বের করে পরে নিলো। আয়নায় একবার নিজের দিকে তাকালো চোখেমুখে এক অচেনা প্রশান্তি।

রৌদ্র গাড়ির চাবিটা হাতে নিয়ে বের হয়ে পড়লো। ভোরের কুয়াশার ভেতর দিয়ে সে পৌঁছাল দূরের ছোট্ট এক মসজিদে। মসজিদের দরজায় ঢুকেই আবার ওযু করলো, তারপর নিঃশব্দে ভিতরে প্রবেশ করল। ইতোমধ্যেই কয়েকজন মুসল্লি এসে গেছে, মসজিদের ভেতর গাঢ় এক শান্ত পরিবেশ।রৌদ্র সবাইকে সালাম দিলো সবাই সালাম নিলো। একজন ইমামদার বয়সী লোক রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন,

“তুমি কে বাবা? আগে তো কখনো দেখিনি।”

রৌদ্র বিনীত গলায় উত্তর দিলো,

“আসলে চাচা, আমি নতুন তাই হয়তো চিনতে পারেননি।”

লোকটা স্নিগ্ধ হেসে বললেন,

“আচ্ছা, ভালোই করছো বাবা। নামাজে আসছো, সেটাই বড় কথা।”

সবাই নামাজে দাঁড়িয়ে পড়লো। রৌদ্রও চুপচাপ কাতারে জায়গা নিলো। ইমাম যখন কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করতে শুরু করলেন, তখন রৌদ্র মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি শব্দ শুনছে। আয়াতের প্রতিটি ধ্বনি যেন তার হৃদয়ের গভীরে গিয়ে বাজছে। চোখ বন্ধ করলে মনে হচ্ছে, প্রতিটি বাক্যের মাঝেই তুরার মুখ ভেসে উঠছে শান্ত, নিস্পাপ, অথচ কত দৃঢ় সেই দৃষ্টি।

নামাজ শেষ হলো। সবাই দোয়ার জন্য হাত তুললো। রৌদ্রও দুই হাত তুলে হাতের দিকে তাকালো, চোখের কোণে জমে থাকা জল ঝাপসা করে দিলো সবকিছু। বুক ভরে এক নিঃশ্বাস নিয়ে সে বলতে শুরু করলো।

“হ্যাঁ আল্লাহ, আমি তোমার এক পাপী বান্দা। আমার ক্ষমা হয় না, কারণ আমি অনেক অন্যায় করেছি। কিন্তু তুমি তো দয়ালু, তুমি তো করুণাময়। যদি কোনো বান্দা তোমার দরবারে ফিরে আসে, তুমিই তো তাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি জানি, আমার পাপগুলোর কোনোটাই ক্ষমার যোগ্য নয়, তবুও আজ আমি সত্যিই অনুতপ্ত। দয়া করে আমাকে মাফ করে দাও।”

কথাটা শেষ হতেই রৌদ্রের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেলো। চোখের পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো গাল বেয়ে, দুই হাত কাঁপছে মোনাজাতে। মুহূর্তেই মসজিদের নীরবতা ভেঙে গেলো সবাই তাকিয়ে আছে রৌদ্রের দিকে। তবুও রৌদ্র থামলো না। তার বুক কাঁপছে, গলার স্বর ভেঙে গেছে, আর কান্না যেন থামছেই না।রৌদ্র হুহু করে কাঁদছে একটা শিশুর মতো, এক অপরাধীর মতো, যে অবশেষে বুঝেছে সে কত ভুল করেছে। তার চোখের পানি ঝরছে দুই হাতের উপর, মাটিতে পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা করে। বুকটা ফেটে যাচ্ছে অপরাধবোধে,।

রৌদ্রের কান্না যেন থামতেই চায় না। বুকের গভীর থেকে উঠে আসা হুহু শব্দে কেঁপে উঠছে তার শরীর। দুই হাত এখনো উঁচু, আর চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম অশ্রুধারা। প্রতিটি ফোঁটা যেন তার অতীতের পাপ, অনুশোচনা, আর লুকোনো কষ্ট মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে। চারপাশের সবাই চুপ হয়ে গেছে, শুধু রৌদ্রের ভারী শ্বাস আর কান্নার শব্দ ভেসে আসছে মসজিদের নিস্তব্ধতায়।

অনেকক্ষণ পর ধীরে ধীরে রৌদ্র হাত নামালো, ঠোঁটে ফিসফিস করে শেষ দোয়া বলল।, তারপর কপালে হাত রেখে মাথা নিচু করলো। যেন নিজের ভেতরে কিছু ভেঙে পড়ছে, আবার নতুন কিছু জন্ম নিচ্ছে। ঠিক তখন পাশে এসে দাঁড়ালেন ইমাম সাহেব। বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়া সেই মানুষটি রৌদ্রের কাঁধে হাত রাখলেন। কণ্ঠে এক অদ্ভুত মমতা, শান্ত অথচ দৃঢ় স্বর

“জানি না বাবা, তুমি কী অপরাধ করেছো।তবে শুনো যে মানুষ নিজের ভুল বুঝে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চায়, আল্লাহ তাকে কখনো ফিরিয়ে দেন না। তিনি ক্ষমাশীল, তিনি দয়ালু। তুমি তোমার অপরাধ বুঝেছো, তাওবা করেছো এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এখন থেকে এই পথেই থেকো, আর কখনো অন্যায়ের পথে যেও না। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই মাফ করে দেবেন।”

ইমাম সাহেবের কথা শুনে রৌদ্র চুপচাপ মাথা নিচু করলো। চোখের পানি তখনও থামেনি, তবে সেই পানির ভেতর এখন অনুতাপের সঙ্গে মিশে গেছে এক বিন্দু শান্তি যেন বহুদিন পর বুকের ভেতরটা একটু হালকা লাগছে।

রৌদ্র বাড়িতে ফিরে এসে দেখলো তুরা এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। নিঃশব্দে রৌদ্র তুরার রুমে প্রবেশ করলো। দেখে বাচ্চাদের মতো কোলবালিশ জড়িয়ে হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে তুরা, মাথার চুল এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। সেই দৃশ্য দেখে রৌদ্রের ঠোঁটে অজান্তেই হালকা একটুখানি হাসি ফুটে উঠলো।সে ধীরে ধীরে তুরার পাশে এসে হাঁটু গেড়ে বসল, তারপর আলতো করে তুরার মুখ থেকে এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিলো। তুরার শান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রৌদ্র মৃদু স্বরে বলল।

“তুরা, তুই আমার জীবনের সেই নারী, যে এক ধাক্কায় আমার পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছে। তুই সেই নারী, যে আমার চোখের অপরাধগুলো আমায় বুঝিয়ে দিয়েছে। আজ আমি বুঝতে পেরেছি সব নারী একরকম নয়, তোর মতো কেউ কেউ সত্যিই আলাদা, সত্যিই বিশুদ্ধ। তুই আজ আমার ভেতরের মানুষটাকে জাগিয়ে তুলেছিস, তুই আমায় বদলে দিয়েছিস তুরা।বিশ্বাস কর, তোকে আমি সত্যি মন থেকে ভালোবাসি। পৃথিবীতে যদি রৌদ্রের মনে কারও জন্য জায়গা থাকে, তবে সেটা শুধু তুই তুই,যে আমার হৃদয়ের গভীরে, অন্তরের অন্তস্থলে জায়গা করে নিয়েছিস রে।”

কথাটা বলতেই রৌদ্র ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে একের পর এক, কিন্তু সেই অশ্রু তুরার চোখে পড়লো না। রৌদ্র আবারও তুরার মুখের দিকে তাকালো চোখে ছিল অনুতাপের গভীর ছায়া, কণ্ঠ কেঁপে উঠলো তার নিজেরই কথায়।

“তুরা আমি সত্যিই তোকে অনেক ভালোবাসি রে। জানি, কাউকে ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু ভালোবাসাকে জোর করে আদায় করার চেষ্টা সেটাই আসল অপরাধ। আগে বুঝিনি রে, এখন বুঝতে পারছি আমি কত বড় ভুল করেছি। তুরা তুই আমাকে মাফ করে দিস রে, একবার, শুধু একবার।”

রৌদ্র আবারও কেঁদে উঠলো ফুঁপিয়ে, থেমে থেমে, যেন সেই কান্নারও কোনো শেষ নেই। চোখের পানি বেয়ে পড়ছে বুকের উপর, গলার স্বর ভারী হয়ে আসছে। কিছুটা শান্ত হয়ে আবারও বললো সে।

“আমি চাই না,তুরা তুই আমার মতো একজন মানুষকে পাস। তুই ঠিকই বলেছিলি, মানুষ আমার মতো কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে আশা করে না। আমি অজান্তেই তোর জীবনে ঢুকে পড়েছি, তুই আমাকে মাফ করে দিস রে, এই পাগলামীটার জন্য।তুই চিন্তা করিস না, তোর জীবন আমি আবার আগের মতো ঠিক করে দেবো, আগের মতোই সুন্দর করে তোর পৃথিবীটা গড়ে দেবো। তারপর আমি চলে যাবো অনেক দূরে, এমন এক জায়গায় যেখানে তুই আমার মুখ আর কোনোদিনও দেখতে পাবি না। শুধু একটুখানি মাফ করে দিস, তুরা এই অপরাধী রৌদ্রকে।”

কথাটা বলেই রৌদ্র ধীরে ধীরে তুরার দিকে ঝুঁকে পড়লো। নিঃশব্দ, কাঁপা নিঃশ্বাসের ভিতর দিয়ে সে তুরার কপালে আঁলতো করে একটা চুমু খেলো একটা অনুতপ্ত, নরম আর শেষের মতো চুমু। তুরার চোখ তখনো বন্ধ, কিন্তু রৌদ্রের স্পর্শে হালকা ঘুমের মাঝেও কেঁপে উঠলো। তারপর রৌদ্র নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালো। একবার শেষবারের মতো তুরার মুখের দিকে তাকিয়ে নিলো, চোখে ছিলো গভীর অনুতাপ আর এক বিন্দু শান্তি। পরক্ষণেই নিঃশব্দ পায়ে দরজা খুলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

খান বাড়িতে এখন আবার একটু স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেছে, যদিও সবার চোখেমুখে এখনো একটা চাপা দুশ্চিন্তা লেগে আছে। আনোয়ার খানকে গতকালই হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয়েছে, তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন, কিন্তু আগের মতো প্রাণবন্ত হাসি আর দৃঢ় কণ্ঠটা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। রুমে ওষুধের গন্ধ ভাসছে, পাশে সাজানো আছে পানির গ্লাস, কিছু ফল আর ওষুধের বাক্স।

রৌশনি খান সময়মতো আনোয়ার খানকে ওষুধ খাওয়াচ্ছেন, আর আয়ান আর আরশি সারাক্ষণ তার পাশে থাকছে। কেউ যেন আর কোনো কথা তুলতে চায় না রৌদ্র বা তুরাকে নিয়েসবাই বুঝে গেছে, এই নাম দুটো উচ্চারণ করলেই আনোয়ার খানের বুক ভার হয়ে আসে।বাড়ির পরিবেশ বাইরে থেকে শান্ত মনে হলেও, ভেতরে একটা ভয়, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে যেন সবাই কিছু একটা ঘটার আশায় কিংবা আশঙ্কায় দিন গুনছে।

আয়ান আনোয়ার খানের বিছানার পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, হাত দুটো পকেটে গুঁজে, চোখ তার চাচার নিঃশ্বাসের ওঠানামায় আটকে আছে। ঘরে নিস্তব্ধতা শুধু দেওয়ালের ঘড়ির টিকটিক শব্দটা শোনা যাচ্ছে। ঠিক তখনই হঠাৎ আয়ানের ফোনটা বেজে উঠলো। শব্দটা যেন সেই নীরব ঘরে এক মুহূর্তে কেটে ফেললো সমস্ত শান্তি।আয়ান ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে হকচকিয়ে গেলো ডিসপ্লেতে লেখা রৌদ্র ব্রো। বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধুক করে উঠলো তার। কোনো দেরি না করে কাঁপা হাতে কলটা রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে শোনা গেলো রৌদ্রের গভীর, ভারী, তবু শান্ত একটা কণ্ঠ

“আয়ান, আমি তুরাকে নিয়ে আসছি”।

কথাটা শেষ না হতেই লাইনটা কেটে গেলো। ফোনের পর্দা নিভে গেলো, আর আয়ান একদৃষ্টিতে সেটার দিকে তাকিয়ে রইলো মনে হলো সময় যেন থেমে গেছে। কয়েক সেকেন্ড কিছুই বলতে পারলো না সে, নিঃশ্বাস যেন বুকে আটকে গেলো।তারপর ধীরে ধীরে মুখ তুলে রৌশনি খানের দিকে তাকিয়ে প্রায় স্তব্ধ কণ্ঠে বলল,

“চাচি রৌদ্র ব্রো আসছে।”

বলার সঙ্গে সঙ্গে রৌশনি খান চমকে উঠলেন,চোখের কোণ কেঁপে উঠলো। ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠলো,কেউই বুঝতে পারলো না রৌদ্র আসছে যাকে খোজে পাওয়া যাচ্ছে না সে নিজে থেকেই আসছে।

পরক্ষণেই রৌশনি খানের মুখে এক মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো অনেক দিন পর এমন হাসি এসেছে তার মুখে। হয়তো রৌদ্র তার ভুলটা বুঝতে পেরেছে, তাই ফিরে আসছে এই ভাবনাটাই তার মনে এক অদ্ভুত স্বস্তি এনে দিলো। চোখের কোণে জমে থাকা চিন্তার রেখাগুলো একটু একটু করে মিলিয়ে গেলো, হৃদয়ের ভারটা যেন হালকা লাগলো।

তিনি ধীরে ধীরে চেয়ারে বসলেন, মুখ তুলে এক নিঃশ্বাসে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ,এবার যেন সব ঠিকঠাক হয়ে যায়। এই ফিরে আসাটা যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি যেন আর না থাকে। সব যাতে আগের মতো ঠিকঠাক হয়ে যাশ।রৌশনি খানের ঠোঁটের কোণে সেই দোয়ার ছায়া এখনো রয়ে গেলো নরম, শান্ত আর আশাবাদী। যেন তিনি বিশ্বাস করছেন, এবার সত্যিই সব ঠিক হয়ে যাবে হয়ে যাবে।

আয়ান রৌদ্র আসার খবর টা সবাইকে জানালো। আয়ান খবরটা জানাতেই যেন পুরো খান বাড়িটা মুহূর্তেই উচ্ছ্বাসে ভরে উঠলো। রৌদ্র তুরাকে নিয়ে ফিরছে এই কথাটাই যেন সবার হৃদয়ে এক অদ্ভুত আনন্দ ঢেলে দিলো।উদ্বেগ আর মন খারাপের মেঘগুলো যেন এক নিমিষেই সরে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।

এদিকে গাড়ির ভেতর নিস্তব্ধতা। চারপাশে সকালের আলো ছড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু গাড়ির ভেতরটা যেন এক অদ্ভুত নীরবতায় ডুবে আছে। তুরা পাশে বসে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে বারবার চোখের কোণ দিয়ে, নিঃশব্দে। ওর মনটা অস্থির হয়ে উঠেছে, বুঝতে পারছে না রৌদ্র হঠাৎ এত শান্ত কেন, আর কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে।রৌদ্রের মুখে আজ কোনো রাগ নেই, নেই আগের সেই ঝড়ো স্বভাবটা। বরং তার চোখে এখন একরকম স্থিরতা, কেমন যেনো শান্ত এক মানুষ যে হয়তো পৃথিবীর সব কিছু ছেড়ে দিয়ে শুধু নিজেকে বদলে নিতে চায়,তুরা শুধু তাকিয়ে আছে।

গাড়ির ভেতর নীরবতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে অবশেষে তুরা ধীরে গলায় বলল,

“রৌদ্র ভাইয়া, কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে?”

রৌদ্রের কণ্ঠ এবার শান্ত, ঠান্ডা, অথচ গভীরতায় ভরা।

“তোর জায়গায় তোকে ফিরিয়ে দিতে।”

তুরা কপাল কুঁচকে তাকালো, বিভ্রান্ত স্বরে বলল।

“মানে?”

রৌদ্র মুখ না ঘুরিয়েই বলল।

“চুপ করে থাক, গেলেই দেখতি পারবি।”

গাড়ির জানালা দিয়ে আলো ছায়া একে একে তুরার মুখে পড়ছে। সে বোঝার চেষ্টা করছে রৌদ্রের চোখে এখন কী আছে রাগ, অনুশোচনা, না কি এক অদ্ভুত প্রশান্তি। রৌদ্রকে আজ কেমন যেন অন্যরকম লাগছে শান্ত, ভদ্র, যেন পৃথিবীর কোনো কিছুর প্রতিই আর তার আকর্ষণ নেই। তুরার বুকের ভেতর কেমন এক অজানা ভয় জেগে উঠছে, অথচ সেই ভয়টাও অদ্ভুতভাবে শান্ত।গাড়ি সামনে ছুটে চলেছে, রাস্তার বাঁকে বাঁকে হাওয়া কেবল তাদের নীরবতা ভাঙছে, আর তুরার মনে বারবার ঘুরে ফিরছে রৌদ্রের সেই কথা তোর জায়গায় তোকে ফিরিয়ে দিতে।”

অনেক ঘণ্টা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর অবশেষে রৌদ্রের গাড়ি এসে থামলো খান বাড়ির সামনে।গাড়ির জানালা দিয়ে পরিচিত বিশাল গেট, বাগানের সবুজ গাছপালা আর উঁচু বারান্দা দেখে তুরার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না রৌদ্র তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছে! তার বুকের ভেতর একরাশ কৌতূহল, ভয় আর অবিশ্বাস একসাথে জমে উঠছে।রৌদ্র গাড়ি থেকে নেমে ডোরের পাশে এসে দাঁড়ালো। কপালের সামনে দিয়ে হাওয়া বইছে, কিন্তু তার মুখে এখন একদম নির্ভার শান্তি। সে গাড়ির ডোরের দিকে ফিরে তুরার দিকে তাকিয়ে হালকা গলায় বলল,

“কি হলো, নামছিস না কেনো?”

তুরা হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, তারপর নিঃশব্দে রৌদ্রের মুখের দিকে তাকালো যেন উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে তার চোখে, এই মানুষটা হঠাৎ কি হলো সত্যি সত্যি বদলে গেলো নাকি।তুরা গাড়ি থেকে বের হয়ে আসলো। রৌদ্র তুরার এক হাতে ধরে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। বাড়ির ভিতরে পা রাখতেই…….!

চলবে….!

~~~~~~~~~

ভুলক্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর আজকের পর্ব পড়ে কে কি কি বুঝলেন তা কিন্তু অবশ্যই কমেন্ট ছুড়ে মেরে জানিয়ে যাবেন…!🙂

Share On:

TAGS:



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply