নয়নার এমপি সাহেব
পর্ব – ৫
লেখনীতে – Sanjana’s গল্পঝুড়ি
__প্লাবন ভাইয়া…..
হঠাৎ করে তরীর মুখে নামটা শুনে হৃদিও ওর দৃষ্টি অনুযায়ী সেদিকে তাকালো। ওদের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে প্লাবন, আর তার পাশে একটি সুন্দরী মেয়ে। প্লাবন মেয়েটার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে দৃশ্যটা হৃদির চোখ এড়াল না। তবে তরীর সেইসবে খেয়াল নেই, ওর চোখে তখন অন্য রকম খুশি। ও চকচক চোখে তাকিয়ে আছে প্লাবনের দিকে।
তরী উচ্ছ্বসিত কন্ঠে হৃদির উদ্দেশ্যে বলল,,,,
__দেখ হৃদি, ঐ যে প্লাবন ভাইয়া! বলেই ও আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। প্রায় দৌড়ে ছুটে যেতে লাগল প্লাবনের দিকে। এইদিকে পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা হৃদি বিরক্তিতে ঠোঁট কামড়ে রইল। প্লাবনকে কোনো কালেই ওর পছন্দ না। এই ছেলে সম্পর্কে ওর কাজিন হলেও হৃদির তাকে খুব একটা সুবিধার মনে হয় না। অতিরিক্ত ভালো ভাব দেখায় বিশেষ করে তরীর সামনে। এই ভালো মানুষির আড়ালে কী লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে হৃদির সন্দেহ বহুদিনের। প্লাবনের চরিত্র নিয়েও হৃদির ডাউট হয় অনেক সময়। কিন্তু ওর এই সন্দেহ নিয়ে ও কখনোই তরীকে কিছু বলেনি। কেননা তরীর মনে বেড়ে ওঠা প্রথম প্রেম হল প্লাবন খান। প্লাবন! খান পরিবারেরই ছেলে। সবার চোখে সে অতিরিক্ত ভদ্র , শান্ত এবং ভালো। ঠিক হৃদয়ের উল্টো। তাই তাকে নিয়ে সবার খুব গর্ব। কোনো বেড রেকর্ড নেই, সবার সাথে ভদ্র ব্যবহার করে। আজ পর্যন্ত তাকে কেউ অভদ্র ভাবে কথা বলতে দেখেনি। অন্যদিকে হৃদয় নিজের কাজ ছাড়া খুব কমই ভদ্রভাবে কথা বলে। বলতে খান পরিবারের সবাই হৃদয় থেকে একটু সমঝে চলে, কখন না সে রেগে যায়।
হৃদয়ের দাদারা ছিলেন চারভাই। হৃদয়ের দাদা অর্থাৎ ইউসুফ খান ছিলেন সবার বড়, উনার পড়ে বাকি তিনজন— ইলিয়াস খান, ইকবাল খান এবং ইলহাম খান ।
ইউসুফ খানের স্ত্রী ছিলেন আফরোজা বেগম। আর উনাদের একমাত্র সন্তান হলেন ইব্রাহিম খান।
ইউসুফ খানের পরে দ্বিতীয়ত ছিলেন ইলিয়াস খান। উনার স্ত্রী ছিলেন ফরিদা বেগম। উনাদের দুই সন্তান বড়ো ছেলে সাফোয়ান খান এবং ছোট মেয়ে শিরিন বেগম।
সাফোয়ান খানের স্ত্রী হলেন নাফিসা বেগম। তাদের দুই সন্তান বড়ো ছেলে প্লাবন এবং ছোট মেয়ে স্নেহা।
প্লাবন বয়সে হৃদয়ের থেকে তিন বছরের ছোট। হৃদয়ের বর্তমান বয়স ত্রিশ এবং প্লাবনের সাতাশ। অন্যদিকে স্নেহা হৃদয় থেকে সাত বছরের ছোট।
শিরিন বেগমের স্বামী হলেন জুবায়ের খান। তাদের এক মেয়ে ইনায়া।
ইলিয়াস খানের পরে তৃতীয়ত ছিলেন ইলহাম খান। ইলহাম খানের স্ত্রী হলেন ফাতিমা বেগম। তাদের দুই সন্তান। বড়ো ছেলে আবরার খান এবং ছোট ছেলে ইফরান খান।
আবরার খানের স্ত্রী হলেন সাফিয়া বেগম। তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান হল আরিশা। হৃদয় এবং আরিশা একবছরের ছোট বড়। আবরার খান খুব কম বয়সে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সাফিয়া কে।
অন্যদিকে ইফরান খানের স্ত্রী হলেন সায়মা বেগম। তাদের একমাত্র ছেলে হল নোহান। নোহান এবং হৃদয়ের বয়সের ডিফারেন্স পাঁচ বছরের।
ইলহাম খানের পরে চতুর্থত হলেন ইকবাল খান।
ইকবাল খানের স্ত্রী ছিলেন জাহানারা বেগম। তাদের দুই সন্তান। বড়ো মেয়ে শাহনাজ এবং ছোট ছেলে ইহসান খান ।
শাহনাজের স্বামী আফতাব চৌধুরী। তাদের দুই মেয়ে দিয়া এবং কেয়া। উনারা বর্তমানে কানাডায় থাকেন।
ইহসান খানের স্ত্রী হলেন ইলফা বেগম। তাদের দুই যমজ ছেলে সন্তান। ইয়ান এবং ইজাজ। দুজনেই হৃদি থেকে দুবছরের বড়ো।
বর্তমান…..
তরী প্লাবনকে অসম্ভব রকমের পছন্দ করে। প্লাবন যাই করে সবকিছু তরীর পারফেক্ট মনে হয়। তরীর চোখে প্লাবনের প্রতিটা কাজই নিখুঁত। সে যা করে, যা বলে সবই ঠিক। যেন প্লাবনের দ্বারা কখনো কোনো কিছু ভুল হতে পারে না। এইটা তরীর ধারনা
কিন্তু বিচক্ষণ হৃদি হয়তো প্লাবনের এই খুব ভালোমানুষি ভাবটা বিশ্বাস করতে পারে না।
যথাযথই বিরক্তিতে একটা চাপা শব্দ বেরিয়ে এলো হৃদির মুখ থেকে। শপিং করতে এসেছিল তারা, আর এখন তরী এই ছেলেকে দেখেছে মানে এখন তার পিছু পিছু ঘুরবে। তবুও তরীর পিছু পিছু হৃদিও এগোল প্লাবনের দিকে। ততক্ষণে তরী প্লাবনের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
__প্লাবন ভাইয়া…
হঠাৎ এই রিনরিনে গলা শুনে প্লাবন চমকে উঠলো। কণ্ঠস্বরটা তার খুব পরিচিত। খুব কাছের। আর ঠিক এই মুহূর্তেই এই মানুষটাকে সে এখানে আশা করেনি। প্লাবনের মনে হল সে কোনো ভাবে এখান থেকে পালাতে চাইছে।
প্লাবন কে জবাব দিতে না দেখে তরী আবারও বলল,,,
__প্লাবন ভাইয়া, শুনছো…
প্লাবন এবার বাধ্য হয়ে ঘুরে তাকালো। নিজেকে স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সে, যাতে করে তরীর সামনে ধরা না পড়ে যায়। অতঃপর প্লাবন স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই জিজ্ঞেস করল,,,,
__নয়না! তুমি এখানে?
তরী হেসে জবাব দিল,,,
__হ্যাঁ। আমি আর হৃদি এসেছি একটু ঘুরতে।
বলতে বলতে তরীর চোখ গিয়ে পড়লো প্লাবনের পাশে দাঁড়ানো মেয়েটার দিকে। মুহূর্তেই তরীর হাসিমুখটা যেন নিভে গেল। চোখের কোণায় জমে থাকা উচ্ছ্বাসটা মুছে গিয়ে সেখানে এসে বসলো এক চিমটি শূন্যতা। এই সময়ই হৃদি এসে দাঁড়ালো তরীর পাশে।
এদিকে প্লাবন জোর করে একটা হাসি টেনে বলল,,,
__কেমন আছো তোমরা?
হৃদি জবাব দেওয়ার আগেই তরী নিরাসক্ত গলায় প্রশ্ন করলো,,,,
__উনি কে, প্লাবন ভাইয়া?
হৃদি এক পলক তাকালো তরীর দিকে। মেয়েটার মুখটা নিস্তেজ। চোখদুটো আর আগের মতো উজ্জ্বল নয়। যদিও সেই ভাব বেশিক্ষণ থাকলো না। কেননা তার আগেই প্লাবন তাড়াতাড়ি করে বলে উঠলো,,,,
__ও, তোমাদের সাথে পরিচয় করানো হয়নি। মিট মাই ফ্রেন্ড নেনা। অনেকদিন পর দেশে ফিরেছে। তাই আজ বন্ধুরা মিলে দেখা করার প্ল্যান। কিন্তু দেখো না কেউই এখনও এসে পৌঁছায়নি। সব লেট লতিফ বুঝলে।
প্লাবনের এই কথায় তরীর ভেতরটা একটু শান্ত হলো যেন।
__ওও, তোমার ফ্রেন্ড! হালকা হাসি দিয়ে বলল তরী।
__হ্যাঁ নয়না। এখন তুমি বলো তোমার কি খবর? পড়াশোনা ঠিকঠাক করছো তো?
তরী মাথা নাড়ল। প্লাবনও জবাবে হেসে অতঃপর হৃদির উদ্দেশ্যে বলল,,,
__তা হৃদি তোর ভাই কই? আজ আসেনি তোদের সাথে তোদের সেফটির জন্য?
প্লাবনের এমন কথায় হৃদির মেজাজ চড়ে গেল। লোকটা সবসময়ই যেন ওর দাভাই এর পিছনে পড়ে থাকে।
তাও ও জোর করে একটা হাসি মুখে এনে বলল,,,
__আমার দাভাই তো ফ্রি মানুষ নয়, যে সারাক্ষণ আমাদের সাথে সাথে থাকবে। সে একজন এমপি। তার অনেক কাজ থাকে ভাইয়া। আমাদের পাশাপাশি পুরো দেশের কথা ভাবতে হয় তার। আর রইলো আমাদের সেফটির কথা আমাদের সেফটির সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করে রেখেছে আমার দাভাই। বলেই পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন বডিগার্ডকে দেখিয়ে দিল ও।
মুহুর্তেই প্লাবনের মুখটা একটু চুপসে গেল। পরপর খারাপ পাওয়ার মত করে বলল,,,
__তুই আমার সাথে এইভাবে কথা বলতে পারলি হৃদি? খান পরিবারের সবার ছোট তুই তোকে আমরা কত ভালোবাসি বলতো। আর আমাকেও সবাই কত ভালোবাসে শুধু তুই আর তোর ভাই ছাড়া। আমি তোর ভাইয়ের কি এমন ক্ষতি করেছি বলতো। তুমিই বলো নয়না আমি কি কারোর কোনো ক্ষতি করতে পারি তোমার মনে হয় সেটা?
একদমই না প্লাবন ভাইয়া তুমি কখনোই কারোর ক্ষতি করবে না আমি জানি। আর ঐ জল্লাদ সে তো কাউকেই সহ্য করতে পারে না, দেখোনি আমাকেও সহ্য করতে পারে না। আমাকে দেখলেই কেমন খ্যাক খ্যাক করে। আর হৃদি প্লাবন ভাইয়া তো তোকে স্নেহা আপুর মতোই ভালোবাসে,তাই না প্লাবন ভাইয়া?
__হ্যাঁ একদম, আমার কাছে স্নেহা এবং হৃদি দুজনেই সমান। আমার সববোনেরাই আমার কাছে সমান।
এইদিকে হৃদির ইচ্ছে করলো তরীর মাথা টা ফাটিয়ে দিতে, ওর সামনে ওর ভাইকে জল্লাদ বলে ঠিক আছে,তাই বলে সবার সামনে বলবে নাকি।
হৃদির ভাবনার মাঝেই পেছন থেকে একটা কঠোর স্বর ভেসে আসলো,,,,
__আমি যেমনটাই হই, না কেন! তোর আজীবন এই আমাকেই সহ্য করতে হবে।
হঠাৎ করে হৃদয়ের কন্ঠস্বর শুনে দ্রুত গতিতে পিছনে ঘুরে তাকালো তরী। মুহুর্তেই ওর হাসি মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট হল।
ওদের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে হৃদয়। মুখে মাস্ক লাগানো। মাথায় ক্যাপ। এখন আর সকালের মতো ফর্মাল ড্রেসে নেই সে। ব্ল্যাক হুডি ব্ল্যাক প্যান্ট। এমপি হৃদয়কে এখন আর চেনার উপায় নেই। তবুও তরী চিনে ফেলেছে ঠিক, এই চোখদুটো ও শতশত ভিড়ের মাঝেও চিনে ফেলবে। কারণ ওর এই ছোট জীবনের একমাত্র ভয়ের কারণই হচ্ছে এই চোখ দুটো আর ঐ কন্ঠস্বর।
হৃদয়ের আশেপাশে এখন আর বডিগার্ড নেই। তবে তার পাশে একজন মেয়ে এবং একজন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে যাদেরকে তরী খুব ভালো করেই চিনে।
সেকেন্ডের মধ্যে হৃদয় এগিয়ে এলো তাদের একদম কাছে। হৃদয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। চোখে জমে থাকা রাগ যেন এখনই বিস্ফোরিত হবে। ইচ্ছে করছে এখনই তরীর নরম তুলতুলে গালটাতে থাপ্পর বসাতে। কিন্তু সে এই কাজ টা করতে পারবে না এখন। কেননা দুইপাশে তার দুই হাত শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে তার দুই বন্ধু। যেন হৃদয়কে শান্ত করতে চাইছে তারা।
প্লাবন প্রথমে হৃদয়কে না চিনতে পারলেও , হৃদয়ের পাশের দুজনকে দেখে সে বুঝতে পেরেছে এটা হৃদয়। প্লাবন কিছু বলবে তার আগেই হৃদয় এক ঝটকায় নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল । পরমুহূর্তেই তরীর কব্জি শক্ত করে চেপে ধরলো। হঠাৎ আক্রমণে প্রথমে তরী ভড়কে গেলেও পরপর ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো।
হৃদয় টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে তরীকে। প্লাবন আটকাতে চাইলো হৃদয়কে কিন্তু শামিম অর্থাৎ হৃদয়ের বন্ধু প্লাবনকে আটকে দিয়ে বলল,,,,
__তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।
__আমার হাতে ব্যথা পাচ্ছে এমপি সাহেব…
ভাঙা কন্ঠে বলল তরী। ব্যথায় ওর চোখ ছলছল করে উঠছে।
কিন্তু হৃদয় তরীর কথায় কান দিলনা, যেন এইবার সে সত্যিই জল্লাদের রুপ ধারণ করেছে। চোখদুটো পাথরের মতো কঠিন, চোয়াল শক্ত। তরী মরিয়া হয়ে কব্জি ছাড়ানোর চেষ্টা করে, কিন্তু পেরে উঠে না।
মলের বাইরে পৌঁছাতেই হৃদয় আর এক সেকেন্ড দেরি করল না। গাড়ির দরজা খুলে তরীকে ছুড়ে মারলো ভেতরে। সাথে সাথেই তরীর মাথাটা গিয়ে বাড়ি খেল স্টিয়ারিংয়ে।
__আহ্… ব্যথায় মাথায় হাত চেপে ধরে ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠলো ও। কপালের দিকটা সাথে সাথে ফুলে উঠেছে। অতিরিক্ত ভয়ে তরীর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তীব্র কান্নার শব্দ হৃদয়ের এই বড়ো গাড়ির ভেতরে প্রতিধ্বনি তুলছে। হৃদয় ড্রাইভিং সিটে বসে ঠাস করে দরজা বন্ধ করল।
পরপর চিৎকার করে বলল,,,,
__চুপ আর একবার তোর কান্নার শব্দ আমার কানে আসলে তোকে জানে মেরে ফেলবো আমি।
মুহুর্তেই তরীর কান্নার শব্দ বন্ধ হয়ে গেল। ইঞ্জিনের গর্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ শোনা গেল না। ভয়ে বেচারি সিটে সেঁটে গেছে , দরজার দিকটাই আরও চেপে বসে রইল। যেন এই ধাতব দরজাটাই ওর শেষ আশ্রয়। কী হচ্ছে ওর সাথে, কেন হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না ও।
অনেকক্ষণ যাবত গাড়ি ছুটে চলছে কিন্তু কোথায় যাচ্ছে তা তরীর জানা নেই। হৃদয়কে কিছু বলবে তারও সাহস হচ্ছে না। পরে যদি ধাক্কা দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ওকে ফেলে দেয়।
তরী চোখ বন্ধ করে সবকিছু উল্টো করে ভাবতে লাগলো। সকাল থেকে কী কী করেছে ও? কোথায় ভুল হলো? যার কারণে হৃদয় এত রেগে গেছে।
প্রতিটা মুহূর্ত, সব যেন মাথার ভেতর রিভার্সে চলতে লাগলো। কিন্তু কোনো উত্তর মেলে না। শুধু একটাই সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে, হৃদয়ের রাগের কোনো নিয়ম নেই। আর তার সামনে দাঁড়ালে ভুলটা কতটা বড় ছিল, সেটা বোঝার সুযোগও দেয় না সে। নির্দয় পাষান্ড লোক।
চলবে।
সম্পূর্ণ ভাবে কপি করা নিষিদ্ধ ❌❌
Share On:
TAGS: নয়নার এমপি সাহেব, সঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৪
-
নয়নার এমপি সাহেব গল্পের লিংক
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ২
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৬
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৩