নয়নারএমপিসাহেব
পর্ব:- ১৯
লেখনীতে:- Sanjana’s – গল্পঝুড়ি
__ এই অনুভূতিটা কি প্লাবন ভাইয়াকে নিয়ে?
হৃদি হঠাৎ করেই কড়া কন্ঠে প্রশ্নটা ছুড়ে দিল তরীর উদ্দেশ্যে। ওর কণ্ঠে স্পষ্ট অবিশ্বাস মিশে আছে, ও চোখ কুঁচকে আবারও তরীর উদ্দেশ্যে বলল,
__ তরী, এত কিছুর পরও তুই কিভাবে প্লাবন ভাইয়াকে পছন্দ করতে পারিস? সেদিন এত বড় বিপদে তোকে ফেলে সে নিজেই পালিয়ে এল। তারপরও তুই?
__ প্লাবন ভাইয়া নয়, হৃদি। আমি প্লাবন ভাইয়ার কথা বলছি না, আমি অন্য জনের কথা বলছি।
তরীর কণ্ঠ খুব নরম, শব্দগুলো অস্পষ্ট শোনাল যেন। হৃদি থমকে গেল মুহুর্তেই। ভ্রু কুঁচকে গভীরভাবে তাকাল তরীর দিকে। প্লাবন নয় অন্য কেউ ? সে কে? এই প্রশ্নটা আছড়ে পড়ল হৃদির মাথায়।
__ তাহলে কার কথা বলছিস তুই ?
তরী এবার ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসল। বুকের ভেতরটা অকারণে কাঁপছে ওর, চোখে মুখে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। তারপর মিনমিনে স্বরে বলল ও—
__ আমি… আসলে।
__তুই আসলে কি? প্লাবন ভাইয়ার কথা বলছিস না তো কার কথা বলছিস তুই?
তরী মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। ও আসলে কিভাবে বলবে বুঝতে পারছে না।
__কি হল বলললল…. কে সেই লোক ?
তরী এবার বড় বড় নিঃশ্বাস ছাড়লো, পরপর শান্ত ভাবে বলে উঠলো,
__আমি এমপি সাহেবের কথা বলছি হৃদি।
ব্যস কথাটা শোনা মাত্রই হৃদি তৎক্ষণাৎ চমকে দাঁড়িয়ে গেল, যেন ও কি শুনেছে , ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না। সত্যিই কি? ঠিক শুনেছে তো ও? কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকার পর ও ঝট করে বসে পড়লো।
__ কি? কি বললি তুই? কার কথা বললি?
তরী কোনো উত্তর দিল না। শুধু শান্ত চোখে তাকিয়ে রইল হৃদির দিকে। সেই নীরব স্বীকারোক্তি যেন হাজারটা কথার চেয়েও স্পষ্ট।
বিষয়টা বুঝতে পেরে হৃদি মুহুর্তেই নিজের মুখ চেপে ধরলো। তারপর হঠাৎই আনন্দ সামলাতে না পেরে খুশিতে লাফিয়ে উঠল।
__তুই দাভাইকে পছন্দ করিস? আমার দাভাইকে? তুই সত্যি বলছিস তো? ওয়েট! আমি স্বপ্ন দেখছি না তো? আমাকে চিমটি কাট তো!
তরী হতভম্ব চোখে তাকিয়ে আছে হৃদির দিকে। হৃদি এত খুশি হচ্ছে কেন! ও কিছুই বুঝতে পারছে না।
হৃদি আবারও বলল,
__ তুই সত্যিই দাভাইকে পছন্দ করিস, তরী? সত্যি বলছিস তো তুই?
তরী একটু ইতস্তত করে বলল এবার—
__ আমি জানি না পছন্দ করি কিনা। তবে আজকাল অদ্ভুত সব অনুভূতি হয় মনে।
হৃদি এবার আগ্রহে ঝুঁকে এল।
__ কিরকম অনুভূতি? আমাকে বল। তাহলে আমি বুঝতে পারব।
তরীর চোখ নামিয়ে মিনমিনিয়ে বলতে শুরু করলো,
__ আমার আজকাল বড্ড উনার কথা মনে পড়ে। সারাক্ষণ। চোখ বন্ধ করলে উনার মুখ ভেসে উঠে চোখের সামনে। প্রতিনিয়ত উনাকে দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু উনার সামনে যাওয়ার সাহস পায় না । কিন্তু লুকিয়ে চুরিয়ে উনাকে ঠিক দেখে নেয়। যখন উনাকে একটু দেখতে পায় মনটা খুশি হয়ে উঠে , এমন মনে হয় যেন পেটের মধ্যে প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। আবার যখন সারাদিন উনাকে দেখতে পায়না, তখন মনটা আবার খারাপ হয়ে যায়, আর যখন উনি বাড়ি ফিরে আসেন এবং আমি লুকিয়ে লুকিয়ে উনাকে দেখে ফেলি তখন অদ্ভুত একটা আনন্দ হয় মনে । সারাদিনের মন খারাপ এক নিমিষেই কোথায় যেন ঘায়েব হয়ে যায়।
তরীর কথা শুনে হৃদি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। ও যেন তরীর কথাগুলো শুনে আকাশ থেকে পড়ল।
__তুই লুকিয়ে লুকিয়ে দাভাইকে দেখিস? ভ্রু উঁচু করে জিজ্ঞেস করল হৃদি।
তরীও সরল ভাবে মাথা নাড়লো। যার অর্থ দাঁড়ায় হ্যাঁ ও লুকিয়ে লুকিয়ে হৃদয়কে দেখে। কিন্তু তার সামনে যাওয়ার সাহস পায় না।
হঠাৎই হৃদির ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল। সেই হাসি দেখে তরী প্রশ্নসূচক চাহনি নিক্ষেপ করলো।
__ কি হয়েছে? এইভাবে হাসছিস কেন?
হৃদি এবার হো হো করে সশব্দে হেসে উঠল—
__ হুম , হুমমমম।
খুব তো বলতি আমার দাভাই অসভ্য, জল্লাদ, তার মতো বজ্জাত লোক নাকি পৃথিবীতে দুটো নেই! তাকে নাকি কেউ বিয়েই করবে না আর যদি কেউ করে তবে তার কপাল পুড়বে! এখন বল তো! কার কপাল পুড়ল?
তরী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।
__মমানে?
__ মানে বুঝো না তুমি?
মানে হলো তুই আমার দাভাইয়ের প্রেমে পড়েছিস। শুধু প্রেমে না গভীর প্রেমে পড়েছিস । যাকে বলে একেবারে ঠাস করে পড়ে যাওয়া।
মুহুর্তেই তরীর চোখ গোল গোল হয়ে গেল। বড় বড় চোখে তাকালো হৃদির দিকে। ও প্রেমে পড়েছে তাও ঐ জল্লাদের? ইশশ। নিজের অনুভূতির ওপরই হঠাৎ করুণ মায়া হল ওর। এই এত বড় পৃথিবীতে আর কাউকে পেল না ও? শেষমেশ নিজের চিরশত্রুর প্রেমেই পড়তে হলো! যদি এই খবর ঐ জল্লাদের কানে যায়! তাহলে তো ওকে আর আস্ত রাখবে না, একেবারে ভর্তা বানিয়ে ফেলবে!
__কি হল? আবার কি ভাবছিস?
তরী তৎক্ষণাৎ লাফিয়ে উঠলো,
__খবরদার! এই কথা যেন তোর ভাইয়ের কানে না যায়, হৃদি।
__ কেন কেন?
__ পাগল নাকি? উনি যদি জানতে পারেন এইসব কিছু তাহলে আমাকে উল্টো ঝুলিয়ে রাখবেন! আর এমনিতেও উনি তো আর আমাকে পছন্দ করেন না। উনি তো ইনায়া আপুকে পছন্দ করেন।
হৃদি এবার ভ্রু কুঁচকাল,
__ কি? দাভাই ইনায়া আপুকে পছন্দ করে?
__হ্যাঁ।
__ তোকে এটা দাভাই বলেছে?
__ না! ইনায়া আপু নিজেই বলেছেন।
হৃদি এবার ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকাল। চোখে স্পষ্ট অবিশ্বাসের ঝিলিক আর অসন্তুষ্টি।
__সে বলল আর তুই বিশ্বাস করে নিলি? তুই সত্যিই ভীষণ বোকা রে, তরী। খুবই বোকা। আমার দাভাই যে তোকে নিয়ে কিভাবে সংসার করবে, কেউ এসে কিছু বলে যাবে আর তুই সেটা বিশ্বাস করে নিয়ে আমার দাভাইকে অবিশ্বাস করবি।
__আমি মোটেও উনাকে অবিশ্বাস করি না। আর না কখনো করবো।
__তার মানে তুই এটা মানিস যে তুই আমার দাভাই এর ফিউচার মিসেস তাই তো? শয়তানি হেসে কথাটা বলল হৃদি।
হৃদির এমন চালাকিতে তরী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।
চলবে
Share On:
TAGS: নয়নার এমপি সাহেব, সঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৯
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৫
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১৮
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১৬
-
নয়নার এমপি সাহেব গল্পের লিংক
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১৫
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১০
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ২
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৭