Golpo romantic golpo নতুন প্রেমের গান

নতুন প্রেমের গান পর্ব ৪


নতুনপ্রেমেরগান

পর্ব_০৪

নুজাইফা_নূন

“ তুমি চাও বা না চাও, আমি তো তোমাকেই বিয়ে করব লাল চমচম ।তুমি ব‌উ হবে।সিয়াদাত শাহারিয়ার লাল চমচমে ব‌উ।”

সুপ্রভার ভ্রু কুঁঞ্চিত হয়।সিয়াদাত শাহারিয়ার সম্পর্কে অন্যরকম একটা ধারণা ছিল তার মনে।নোরা সিয়াদাতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে সর্বদা।
নোরার থেকেই জেনেছে সিয়াদাত নাকি খুব‌ই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। মেয়েদের হার্টথ্রব সে । কিন্তু সে কখনো কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকায় না।ইভেন কোনো মেয়ে যদি প্রপোজ করে, তাকে এমন ধমক দেয় যে পরবর্তীতে সিয়াদাতের উপস্থিতি তার জন্য সুখকর নয় বরং যন্ত্রণাদায়ক হয়।সিয়াদাত যখন প্রথম চৌধুরী বাড়িতে পা রাখে, তখন সুপ্রভার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় সিয়াদাতের দিকে। তার গম্ভীর মুখ, এটিটিউউ দেখে সুপ্রভার মনে আতঙ্ক বিরাজ করে। তখনকার সিয়াদাত শাহারিয়ার আর এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সিয়াদাত শাহারিয়ার মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক রয়েছে। সিয়াদাতের কথা বলার ধরণ , মুখের এক্সপ্রেশন দেখে সুপ্রভার মনে হচ্ছে তার সামনে কোনো প্রফেসর নয় , পাড়ার পাতি মাস্তান দাঁড়িয়ে রয়েছে। যে মেয়ে দেখলেই তাদের সামনে লাল গোলাপ এগিয়ে দিয়ে বলে–

“ আমার ব‌উ হবে টুকটুকি? যদি মেয়েটার উত্তর না হয়, তখন তাকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার হু’মকি দিবে।”

“ বিয়ের আগেই বাসরের স্বপ্ন দেখছো না কি?”

সিয়াদাতের প্রশ্নে ভাবনার সুতা কাটা গেল সুপ্রভার।সে সিয়াদাতের দিকে কঠিন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। ক্রুদ্ধ স্বরে বলে –

“আপনি তো গিরগিটির থেকেও অতি দ্রুত রং বদলান।

সিয়াদাত নিজের দিকে তাকিয়ে বলে– “ রং ক‌ই বদলেছে? আগে যেমন গৌর বর্ণ ছিল, এখনও গৌর বর্ণ’ই রয়েছে।কালো হয়ে যায় নি।”

বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে আসে সুপ্রভার।সুপ্রভা গলা উঁচিয়ে বলে–

“ আপনি সবার সামনে ভদ্র মানুষের মুখোশ পরে থাকলেও আসলে চরম অভদ্র আপনি।আমার বুঝে আসছে না, আপনার মতো একটা অসভ্য, বেহায়া, নির্লজ্জ লোক প্রফেসর হয় কিভাবে?”

সিয়াদাত সুপ্রভার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে–

“ আমি পার্ট টাইম প্রফেসর।ফুল টাইম ভণ্ড। তবে সেটা শুধু মাত্র তোমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।একবার বিয়েটা হোক।তারপর দিন রাত এই ভণ্ডের ভণ্ডামি সহ্য করতে হবে তোমাকে।দম ফেলার ফুরসত মিলবে না।”

সিয়াদাতের ফিসফিসানি সুপ্রভার কানের লতিতে আগুন ধরিয়ে দিল। সে এক ঝটকায় এক পা পিছিয়ে গেল। বারকয়েক শ্বাস টেনে কর্কশ গলায় বলল–

“ আমি ম’রে গেলেও আপনাকে বিয়ে করব না।”

সিয়াদাত জোর গলায় বলল – “ করবে , করবে। তুমি নিজেই আমাকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে লাল চমচম। তোমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু যেতে হবে। আজ আসি।টেক কেয়ার।বাই।সি ইউ সুন বলেই সিয়াদাত বেরিয়ে যায়।”

সিয়াদাতের যাওয়ার পানে তাকিয়ে সুপ্রভা মনে মনে বলে – “ এই ভণ্ড প্রফেসর এতো শিওর হয়ে কিভাবে বলছে যে আমি তাকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠব? এই লোক আবার কালো যাদু টাদু করবে না কি? করতেই পারে।যে ভণ্ডের ভণ্ড।ভণ্ড প্রফেসর।”


“ ছেলেটা কে সুপ্রভা? আমার সাথে এভাবে কথা বলছিলো কেন?তোকেই বা কী বলে গেল?”

সৌরভের কথা শুনে পেছনে ফিরে তাকায় সুপ্রভা।
রিনরিনে গলায় বলে–

“নোরাকে দেখতে এসেছিল।”

কথাটা কর্ণগোচর হতেই মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে যায় সৌরভের।সে ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলে–

“ আমি বরং উঠি সুপ্রভা।”

সুপ্রভা সৌরভ কে জড়িয়ে ধরে মুখ অন্ধকার করে বলে– “ উঠি মানে কী হ্যাঁ ? সবেই তো এলে।
আজকে আবার তোমার জন্মদিন। ব্যস্ততার জন্য তোমাকে উইশ করার সময়টুকুও পাই নি।তুমি আজ কোথাও যাবে না। এখানেই থাকবে।আমি নিজের হাতে তোমার জন্য কেক বানানো।তোমার পছন্দের পায়েস রান্না করবো।”

“ এসবের কোনো দরকার নেই বোন। তোকে একনজর দেখতে পেয়েছি , তাতেই বুক জুড়িয়ে গেছে আমার।”

সুপ্রভা কিছু বলার আগেই ঈশিতা চৌধুরী , র‌ওনক চৌধুরী নিচে নেমে আসেন। সৌরভ তাদেরকে দেখে সুপ্রভাকে বুক থেকে সরিয়ে দেয়।তাদের দিকে এগিয়ে এসে নিচু স্বরে বলে–

“ আমাকে ক্ষমা করবেন মাওই মা।আমি রাগের বর্শবতী হয়ে আপনাকে অনেক কথা বলে ফেলেছি। কিছু মনে করবেন না মাওই মা।”

“ আমি কিছু মনে করি নি সৌরভ। বরং বোনের প্রতি তোমার ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।
কটা ভাই পারে বোনকে এভাবে বুক দিয়ে আগলে রাখতে।”

ঈশিতা চৌধুরীর মুখে ভাইয়ের প্রশংসা শুনে বড্ড ভালো লাগে সুপ্রভার।ভাইকে নিয়ে তার গর্ববোধ হয়। তার ভাই লাখে নয় কোটিতে একটা। অবশ্য সৌরভের গায়ের রং ফর্সা নয় , শ্যাম বর্ণ।কিন্তু সেই শ্যামবর্ণে লুকিয়ে আছে এক অন্যরকম দূতি।তার মুখের আদলে রয়েছে ভয়ংকর রকমের সৌন্দর্য। আর সবচেয়ে বড় কথা তার ভাইয়ের সুন্দর একটা মন আছে।সেই মনের রানী যে মেয়েটা হবে , সে নিঃসন্দেহে ভাগ্যবতী।সুপ্রভা ঈশিতা চৌধুরীর দিকে এগিয়ে যায়। অভিযোগের সুরে বলে–

“ আপনি ভাইয়াকে যতোটা ভালো বলছেন , ভাইয়া ততোটা‌ও ভালো নয় আম্মু।”

ঈশিতা চৌধুরী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে – “ খারাপের কী করেছে সৌরভ?”

“ আমার কথা শুনছে না। ভাইয়াকে কতো করে বললাম আজকের দিনটা এখানে থেকে যাও। কিন্তু সে আমার কথা মানতে নারাজ।”

ঈশিতা চৌধুরী আদেশের সুরে বললেন – “ তোমার কোথাও যাওয়া হচ্ছে না সৌরভ। তুমি আজকে আমাদের সাথেই থাকবে।আমি অলরেডি কেক অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই কেক চলে আসবে।আমরা সবাই মিলে তোমার জন্মদিন সেলিব্রেশন করবো। তাছাড়া তোমার সাথে আমার একটু পার্সোনাল কথা আছে। আমি তোমার মাকেও আসতে বলেছি।তিনি অলরেডি র‌ওনা হয়েছেন।”

সৌরভের বুক কেঁপে উঠে।মনে মনে বলে– “ মাওইমা আমার সাথে পার্সোনাল কথা বলবেন? আবার আম্মাকেও আসতে বলেছেন? মা‌ওইমা
কি কিছু সন্দেহ করছেন? তিনি কি ধরে ফেলবেন আমাকে?”

সৌরভ শুকনো ঢোক গিলে। মনে সাহস জুগিয়ে চাপা গলায় বলে—

“ আমি কি কোনো অন্যায় করেছি মা‌ওইমা ? আপনি কি আমার বিরুদ্ধে আম্মার কাছে অভিযোগ জানাতে চাইছেন?”

ঈশিতা চৌধুরী হেসে উঠেন। মিষ্টি কন্ঠে বলেন –

“ তোমার মতো একটা ভালো ছেলের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দিব বলো তো?”

সৌরভের বুকের উপর থেকে বড় একটা পাথর সরে যায়। সৌরভ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে–

“ তাহলে?”

ঈশিতা চৌধুরী কোনো প্রকার ভনিতা ছাড়াই বলেন –

“ সুপ্রভার বিয়ের ব্যাপারে।”

চলবে ??

[ সিয়াদাত শাহারিয়ার কে অনেকেই নায়ক হিসেবে পছন্দ করছেন না।সুপ্রভার জন্য কি অন্য নায়ক নিয়ে আসব?]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply