নতুনপ্রেমেরগান (১৪)
প্রফেসর শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার সিমির দাভাই
। এই সত্যটা জানার পর সুপ্রভার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই শূন্য মরুভূমি হয়ে যায়।মনে হয় যেন কেউ তার শ্বাসটুকু চুরি করে নিয়েছে।সিমি চিৎকার করে কিছু বলছে। কিন্তু সে শুনতে পাচ্ছে না।এমনকি দেয়ালের ঘড়ির টিকটিক শব্দটাও তার কানে ঢোকে না।তার হৃদপিন্ড টা দামামার মতো বাজছে। মুহূর্তের মধ্যে সবটা স্বচ্ছ কাঁচের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।যে ভন্ড প্রফেসরের থেকে সে পালাতে চেয়েছে, সেই ভন্ড প্রফেসর’ই সেই রাতে তাকে ন’রপশুদের মুখ থেকে ছিনিয়ে এনেছে। ফিরিয়ে দিয়েছে তার সম্মান, তার সতীত্ব।যেই ভন্ড প্রফেসরের ছায়াও মাড়াতে চায় নি, সেই ভন্ড প্রফেসরের পাশেই রাতভর থেকেছে সে।তার কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে শান্তির ঘুম ঘুমিয়েছে।সেই ভন্ড প্রফেসর’ই তাকে তার বাবার শেষ স্মৃতি টুকু ফিরিয়ে দিয়েছে। SSS গ্ৰুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের মতো এতো বড় একটা কোম্পানিতে তাকে চাকরি দিয়েছে।এতো বড় ঋণের বোঝা …”
“ভেতরে ঢুকতে দেবে না? নাকি এখনও আমাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখবে?”
সিয়াদাতের ধীরস্থির কণ্ঠে সুপ্রভার ভাবনার নদীতে ছেদ টানে। সিয়াদাত পুনরায় শুধোয় – “ ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিবে না?”
সুপ্রভা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।সিয়াদাতকে বলার মতো কোনো শব্দ খুঁজে পায় না ঠোঁটের কোণে। সে জানে সিয়াদাত শাহারিয়ার সিমির দাভাই। তবুও তার ঠোঁট ফুঁড়ে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে—“আপনি ? আপনি সিমির দাভাই?”
পেছন থেকে সিমির উচ্ছ্বসিত গলা ভেসে আসে—
“হ্যাঁ রে! এটাই আমার দাভাই। প্রফেসর শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার। তুই চিনিস নাকি?”
সুপ্রভা সিমির দিকে রোষ দৃষ্টিতে তাকায়। ইচ্ছে করে সিমিকে কাঁচা চিবিয়ে খেতে।এই মেয়েটাই যতো নষ্টের গোড়া।সে সবকিছু জানার পরেও তার থেকে সবটা লুকিয়ে গিয়েছে।তাকে ধোঁয়াশায় রেখেছে।সুপ্রভা সিমির দয়া চেয়েছে। কিন্তু সিয়াদাত শাহারিয়ার দয়া বা করুনা কোনটাই চায়নি। সুপ্রভা সিয়াদাতের সামনে কোনো সিনক্রিয়েট করতে চায়না। এই মুহূর্তে চুপ থাকাকেই শ্রেয় মনে করে সে।তবে চোখের ইশারায় সিমিকে বুঝিয়ে দেয় – “ আজ তার কপালে শনি আছে।”
সিয়াদাত ঘরে প্রবেশ করে। জুতা খুলে সোজা ড্রয়িংরুমে আসে। তার দৃষ্টি একবারও সুপ্রভার মায়াবী মুখ থেকে সরে না। সেই দৃষ্টিতে নেই কোনো বিদ্রুপ, কোনো রাগ , ক্ষোভ। রয়েছে এক অদ্ভুত শান্তি, অদ্ভুত মাদকতা।
সিয়াদাত ফ্রেশ হয়ে সোজা ডাইনিং টেবিলে চলে আসে।সিমি আগে থেকেই সিয়াদাতের জন্য খাবার বেড়ে রেখেছিল।তাকে দেখেই সিমি মিষ্টি হেসে বলে—“দাভাই, আজকের কিন্তু যে সে বিরিয়ানি নয়। স্পেশাল বিরিয়ানী। সুপ্রভার হাতের রান্না। তুমি খেয়ে দেখ, একদম ফাইভ স্টার!”
সুপ্রভার গাল হালকা লাল হয়ে ওঠে। লজ্জায়, অস্বস্তিতে, নাকি অন্য কোনো অজানা অনুভূতিতে সে নিজেই বুঝতে পারে না।সিমি সুপ্রভার দিকে একপল তাকিয়ে কিচেনে চলে যায়।সুপ্রভা সিয়াদাতের দিকে এগিয়ে আসে।তেজি গলায় বলে– “ এসব করে কী প্রমাণ করতে চাইছেন?”
সিয়াদাত এক লোকমা খাবার মুখে পুরে নেয়।
খাবার চিবোতে চিবোতে বলে– “ বিরিয়ানী টাও তোমার মতোই । ফার্স্ট ক্লাস।”
সুপ্রভা মনে মনে খুশি হয় বৈকি। কিন্তু সিয়াদাতের সামনে সেটা প্রকাশ করে না। বরং ক্রুদ্ধ গলায় বলে– “ আপনি সবটা জানার পরেও কেন এতো বড় একটা নাটক করলেন? কেন আমাকে সবটা বলেননি ?”
সিয়াদাত কপট হেসে বলে – “ আগে থেকেই সবটা বলে দিলে তোমার চমকে উঠা মুখটা দেখতে পেতাম বলো? তাছাড়া তুমি তো আমাকে মুখোশধারী শ’য়তান ভেবে নিয়েছিলে। ভাবলাম, মুখোশটা আরেকটু পরে খুলি।”
অফিসের কথা মনে পড়তেই সুপ্রভার মধ্যে থেকে তেজি ভাব বিলীন হয়ে যায়। সে নিচু গলায় বলে–
“ কেন দয়া দেখাচ্ছেন ? আমি তো আপনার দয়া চাই নি।”
সিয়াদাত মেকি রোষ দেখিয়ে বলে – “ খাওয়ার সময় কোনো কথা বলতে হয়না।এটা জানো না তুমি?”
সুপ্রভা লজ্জায় পড়ে যায়।সে কোনো কথা না বলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাত কচলাতে থাকে। সিয়াদাত তৃপ্তি সহকারে বিরিয়ানী খাচ্ছে।তার চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিরিয়ানী টা অনেক মজার হয়েছে।খাওয়া শেষ হতেই সিয়াদাত তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলে– “ বিরিয়ানীর সাথে তুমি পানি পড়া, চিনি পড়া মিশিয়ে দিয়েছো নাকি? বিরিয়ানী পেটে পড়তে না পড়তেই সারা শরীর জুড়ে সুপ্রভা সুপ্রভা বলে কারা জানি চেঁচিয়ে ম’রছে। তুমি প্রফেসর শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ারকে বশ করে ফেললে?”
চলবে???
[ রিচ ক্রমশ কমতে দেখে গল্পটা আর বাড়ানোর ইচ্ছে নেই। সম্ভবত আর দুই একটা পর্বেই গল্পটা শেষ করে দিব।]
® Nuzaifa Noon
Share On:
TAGS: নতুন প্রেমের গান, নুজাইফা নূন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ২
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৯
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১০
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১২
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৩
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১৩
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৮
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১১
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৫
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৬