The_Unpredictable_Love
পর্ব : ৪২
jahirul_islam_mahir
🌿
“সময় বহমান দেখতে দেখতে কেটে গেছে একটা মাস। রমজান মাস ও বিদায় নিয়েছে আজ। আজকে চাঁদ রাত আর কালকে ঈদ। আদ্রিয়ানা আর আদ্রিজা মিলে হাতে মেহেদী দিচ্ছে। বাকিরা পাশে বসেই গল্প করছে।”
“দেখতে দেখতে রাত দশটা বেজে যায়। আদনান, আদ্রিয়ানা, জাবির আদ্রিজা চারজনেই ছাঁদে চলে যায়। বাজি ফাটানো শুরু হয়। আদ্রিয়ানা আর আদ্রিজা ভয়ে ভয়ে কয়েকটা বাজি ফাটায়। রাত বারোটা পর্যন্ত তাঁরা চারজনে ছাদে আনন্দ করে। তাঁর পর যে যার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে।”
🌿”সকাল সাতটা। পাঞ্জাবি পায়জামা পড়ে মিররের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আদনান। হাতে ঘড়ি টা পড়ে নিয়ে চুল গুলো সেট করে নেয়। পছন্দের পারফিউম ক্লাইভ ক্রিশ্চিয়ান ইম্পেরিয়াল মাজেস্টি টা স্প্রে করে নেয়। মাথায় টুপি পড়ে নিয়ে মিররে নিজেকে শেষ বারের মত দেখে নেয়। জায়নামাজ হাতে নিয়ে রুমে থেকে বের হয়ে যায়। সিঁড়ি বেয়ে নেমে নিচে চলে যায়। আদনান ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসলে আদ্রিয়ানা আদনান কে অল্প কিছু সেমাই এনে দেয়। আদ্রিয়ানা খেয়েছে কিনা তা জিজ্ঞেসা করে আদনান। আদ্রিয়ানা খেয়েছি বলার পর আদনান খাওয়া শুরু করে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আদনানের খাওয়া হয়ে যায়। রাহিম, আদনান, জাবির তিন বাপ ছেলে মিলে ঈদগাহ ময়দানের উদ্দেশ্য বের হয়ে যায়।”
“সকাল নয়টা। এইমাত্র ঈদের নামাজ শেষ হয়েছে। আদনান আর জাবির এক সাথে রাহিম কে সালাম দিয়ে জড়িয়ে ধরে। রাহিম ও দুই হাত দিয়ে দুই ছেলে কে জড়িয়ে ধরে। আজ প্রায় আঠারো বছর পর ঈদের দিন দুই ছেলে কে এক সাথে জড়িত ধরতে পেরেছেন। খুশিতে রাহিমের চোখে পানি চলে আসে। আদনান রাহিমের চোখের পানি মুছে দিয়ে কান্না করতে নিষেধ করে এবং হাসতে বলে। রাহিম হাসে। আদনান আর জাবির ও হাসে। তাঁর পর আদনান আর জাবির ও কোলাকুলি করে নেয়।”
“আদনান, জাবির তাঁর ছোট বেলার বন্ধুদের সাথে হ্যান্ডশেক করে কোলাকুলি করে নেয়। তাঁর পর সোজা চলে যায় বাসায়।”
🌿
“বাড়ির কলিং বেল চাপতে দরজা খুলে দেয় জোবাইদা। প্রথমে আদনান জোবাইদা কে সালাম দেয় তাঁর পর জাবির দেয়। জোবাইদা সালামের উত্তর দিয়ে দুই ছেলে কে জড়িয়ে ধরে। জোবাইদার চোখে ও আনন্দের জল।”
“আম্মু আমরা নামাজ পড়ে চলে আসছি আর তুমি এখনো রেডি হও নিই কেনো? এক্ষুনি যাও আর তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসো।”
“আদনানের কথায় সাঁই জানিয়ে জোবাইদা রেডি হতে যায়। রাহিম আর জাবির সোফায় বসে আর আদনান পা বাড়ায় নিজের রুমের দিকে। রুমের সামনে গিয়ে দেখে দরজা ভিতর থেকে লক করা। আদনান দরজায় নক করে। ভিতর থেকে আদ্রিয়ানা বলে”…
–“কে ?”
“সানফ্লাওয়ার আমি, তোমার পান্ডা সাহেব।”
“পান্ডা সাহেব আর দুই মিনিট ওয়েট করেন। আমার শাড়ি পড়া শেষ এখন শুধু মাথায় আঁচল টা দিবো।”
“ওকেই সানফ্লাওয়ার।”
“মিনিট পাঁচেক পর আদ্রিয়ানা দরজা খুলে আদনান কে সালাম দেয়।”
“আসালামুয়ালাইকুম মিস্টার পান্ডা সাহেব।”
“ওয়ালাইকুমুস সালাম মিস্টার পান্ডা সাহেবের সানফ্লাওয়ার।”
“মিস্টার পান্ডা আমাকে কেমন লাগছে বললেন না যে?”
“আমার সানফ্লাওয়ার কে অসম্ভব রোকম সুন্দর লাগছে।”
“আদ্রিয়ানা একটা মুচকি হাসি দেয়। আদনানের দিকে নিজের হাত টা বাড়িয়ে দিয়ে বলে”…
“পান্ডা সাহেব আমার সালামি টা।”
“আদনান পকেট থেকে নিজের ওয়ালেট বের করে আদ্রিয়ানার হাতে দেয়।”
“মিস্টার পান্ডা সাহেব এই ওয়ালেটে কত টাকা আছে?”
“ক্র্যাশ বেশি নেই মাত্র বিশ হাজার। তবে কার্ডে টাকা আছে।”
–“কার্ডে কত টাকা আছে?”
–“তিন লাখ।”
“ওও আচ্ছা আচ্ছা তা কার্ডের পাসওয়ার্ড কি ?”
“92**7
“আদ্রিয়ানা ওয়ালেট টা আদনানের পকেটে ঢুকিয়ে দেয়। আদনানের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে।”
“আপনি আমার মানে আপনার সব কিছুই আমার। আপনার মতো এতো মূল্যবান একটা জিনিস আমার নামে যেহেতু লিখা আছে সেহেতু সামান্য টাকা দিয়ে কি করবো ? এইসব সালামি টালামি আমার লাগবে না।”
“আদনান আদ্রিয়ানার কোমর আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে একদমই নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।”
“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার তোমার সালামি না লাগলে ও আমার সালামি লাগবে।”
“তাহলে আমাকে আগে সালাম করুন।”
“আসালামুয়ালাইকুম মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার।”
“ওয়ালাইকুমুস সালাম সানফ্লাওয়ারের জামাই জান।”
“বৌ জান এইবার আমার সালামি টা দিয়ে দেন।”
“আমার কাছে তো এক টাকা নেই, আমি কোথায় থেকে সালামি দিবো?”
“সালামি হিসেবে কি শুধু টাকাই দেয়? টাকা ছাড়া কি আর কিছু দেওয়া যায় না?”
“আর কিছু বলতে কি হা? দুষ্টু পান্ডা আপনার মতলব তো দেখছি ভালো না। ঈদের দিনে ও ওইসব করতে চাইছেন?”
“বৌ জান ওইসবের শুধু ট্রেইলার করতে চাইছি ফুল মুভি না।”
“আদ্রিয়ানা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদনান আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। আদনানের সাথে আদ্রিয়ানা ও রেসপন্স করে।”
🌿
“রেডি হয়ে রুম থেকে বের হতেই জাবিরের মুখোমুখি হয় আদ্রিজা। আদ্রিজা কে দেখেই হা করে তাকিয়ে থাকে জাবির। আদ্রিজা আজকে সাদা রঙের একটা ড্রেস পড়েছে। বেশ সুন্দর লাগছে আদ্রিজা কে।”
“আসালামুয়ালাইকুম বেয়াই সাহেব?”
“আদ্রিজার কথায় জাবির বাস্তবে ফিরে”.
“ওয়ালাইকুমুস সালাম বেয়াইন সাহেব।”
“আমার সালামি টা দেন বেয়াই সাহেব?”
“একটু ওয়েট করুন বেয়াইন সাহেব।”
“এই কথা বলে জাবির নিজের ওয়ালেট বের করে। গুনে গুনে দশ টা এক হাজার টাকার নোট দেয় জাবির। দশ হাজার টাকা সালামি পেয়ে মহাখুশি আদ্রিজা।”
“বেয়াই বলছিলাম যে জিজু আর আপু কে সালাম করছেন?”
“ভাইয়া কে ঈদগাহ মাঠে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু ভাবী কে দেওয়া হয় নিই।”
“তাহলে চলুন এক সাথে যায়।”
–“চলুন বেয়াইন।”
“জাবির আর আদ্রিজা দুজনেই পা বাড়ায় আদনানের রুমে দিকে। মিনিট দুয়েকের মধ্যে আদনানের রুমের সামনে পৌঁছে যায়। রুমের দরজা খুলা দেখে দুজনেই রুমে ঢুকে যায়। আদনান আর আদ্রিয়ানা অপরকে জড়িয়ে ধরে আছে। তা দেখে জাবির আর আদ্রিজা অন্য দিকে ঘুরে যায়। দুজনে এক সাথে বলে”…
–“আমরা কিছু দেখি নিই।”
“জাবির আর আদ্রিজার গলা শুনে আদ্রিয়ানা আদনানের কাছ থেকে সরে যেতে চাইলে আদনান আদ্রিয়ানা কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।”
“মিস্টার পান্ডা সাহেব ছাড়ুন সবাই দেখছে।”
“তো দেখুক না সমস্যা কি? আমি তো আমার বৌ কে জড়িয়ে ধরেছি অন্য কাউকে না।”
“আদ্রিয়ানা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিজা বলে উঠে”…
“জিজু বলছিলাম যে, আপনাদের প্রেম কি শেষ হয়েছে?”
–“নো শালিখা শেষ হয় নিই।”
“তাহলে কনটিনিউ করেন আমরা বাহিরের আছি। প্রেম শেষ হলে ডাক দিয়েন, এসে সালাম করে সালামি নিয়ে যাবো নিই।”
“ওকেই মাই ডিয়ার শালিকা। এইবার তাহলে যাও প্রেম প্রেম খেলা শেষ হলে ডাক দিবো নে।”
“জাবির আর আদ্রিজা রুম থেকে বের হয়ে যায়।”
“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার সাপের মত এতো মোচড়ামোচড়ি করে শুধু শুধু নিজের এনার্জি নষ্ট কেনো করছো বুঝলাম না। তুমি সারাদিন মোচড়ামোচড়ি করলেও তো আমার কাছ থেকে ছুটতে পারবে না। সো মোচড়ামোচড়ি না করে শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখো।”
🌿
“বিশ মিনিট ধরে সালামির লোভে আদনানের রুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে জাবির আর আদ্রিজা। আদনানের প্রেম প্রেম খেলা শেষ হওয়ার কোন নামই নেই।”
“বেয়াইন আপনাকে বলছিলাম না ভাইয়ার প্রেম প্রেম খেলা এতো তাড়াতাড়ি শেষ হবে না, এখন দেখলেন তো? বিশ মিনিট পার হয়ে গেছে এখনো প্রেম প্রেম খেলা শেষ হওয়ার কোন নাম নেই।”
*আচ্ছা বেয়াই এই প্রেম প্রেম খেলা টা কি ?”
“প্রেম প্রেম খেলা হচ্ছে একধরনের সুখের খেলা।”
“মানে বুঝলাম না, বেয়াই কষ্ট করে একটু ক্লিয়ার করে বলবেন?”
“প্রেম প্রেম খেলা হচ্ছে একধরনের সুখের খেলা। যে খেয়ার ট্রাইলার শুরু হয় একে অপরের ঠোঁট দিয়ে। আর শেষ হয় থকথকে সাদা পদার্থ দিয়ে। এইবার বুঝতে পারছেন?”
“বেয়াই আপনি কি বলছেন কিছুই বুঝতে পারি নিই সব আমার মাথার তেরো হাত উপর দিয়ে চলে গেছে।”
“আপনাকে না বলে প্র্যাকটিক্যাল করে দেখালে মনে হয় ভালো বুঝতেন।”
–“তাহলে প্র্যাকটিক্যাল করে দেখেন?”
“বেয়াইনননন প্রেম প্রেম খেলার প্র্যাকটিক্যাল দেখতে চান?”
–“হুম বেয়াই একটু দেখান না দেখি।”
“দেখা দেখি করতে হলে তো আগে বিয়ে করতে হবে বেয়াইন। বিয়ের আগে দেখাদেখি করলে পাপ হবে। তাঁর চেয়ে বরং আগে আমরা বিয়ে টা করে আসি তাঁর পর না হয় দেখাদেখির কাজ শুরু করবো নে।”
“আদ্রিজা কোমরে হাত দিয়ে রাগী দৃষ্টিতে জাবিরের দিকে তাকায়। তা দেখে জাবির বলে”…
“কি ব্যাপার বেয়াইন ? আপনি এইভাবে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন কেনো?”
“লুচ্চা বেয়াই আমি ওইসব দেখা দেখির কথা বলি নিই আমি বলছি প্রেম প্রেম খেলার প্র্যাকটিক্যাল দেখার কথা।”
“একি তো বেয়াইন, দেখা দেখি আর প্রেম প্রেম খেলা খেলি সেম।প্রেম প্রেম খেলতে হলে তো খুলতে হবে। আর খুললে তো সব দেখা দেখি ও হয়ে যাবে।”
“আস্তগোফিরুললাহ বেয়াই আপনি এতো খারাপ? আমাকে এইসব কথা বলতে আপনার একটুও লজ্জা করলো না।”
“নাহ বেয়াই আমার তো লজ্জার বদলে আরো ভালো লেগেছে।”
“আপনি যে আমাকে এইসব কথা বলছেন এখন আমি জিজুর কাছে আপনার নামে বিচার দিবো।”
“এই কথা বলে আদ্রিজা আদনানের রুমে দিকে পা বাড়ায়। আদ্রিজার পিছু পিছু জাবির ও যায়।”
“আরে বেয়াইন আমার কি দোষ আপনিই তো প্রেম প্রেম খেলা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।”
চলবে…
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২১