Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৩


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৩৩

লেখক_Jahirul_islam_Mahir

🌿
“ভিডিও তে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ি রাস্তায় আদনানের গাড়ি টা কন্ট্রোল হারিয়ে ফুল স্পীডে ছুটে চলছে। আদনান গাড়ি টা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে কিন্তু ব্রক ফেল হওয়া গাড়ি কন্ট্রোল করতে পারছে না। মূহুর্তের মধ্যে গাড়ি টা রাস্তার বাহিরে চলে যায়। আর পাহাড়ের গভীরে পড়ে ব্লাস্ট হয়ে যায়।”

“ভিডিও টা দেখে আদ্রিয়ানা মুক্তির মতো জমে যায়। চোখের পলক পর্যন্ত ফেলছে না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফোনের দিকে।”

–“নিজের চোখে স্বামীর মৃত্যুর ভিডিও দেখার ফিলিংস কেমন?”..

–“নাহ এটা হতে পারে না। আপনার কিছু হতে পারে না। আমি জানি আপনি একদমই ঠিক আছেন।”

–“ঠিক নেই। গাড়ির সাথে আদনান নিজেও ব্লাস্ট হয়ে গেছে।”

“আদ্রিয়ানা চিৎকার দিয়ে বলে উঠে”..
–“নাহ, নাহ নাহ, উনার কিছুই হয় নিই।”

“আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে জাবির হো হো করে হেঁসে উঠে। জাবির কে হাসতে দেখে আদ্রিয়ানা বলে”…

–“কিভাবে পারলেন এমন টা করতে ? উনি তো আপনার ভাই। ভাই হয়ে ভাই কে কিভাবে”….

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে “..

–“শুনতে চাও ভাই হয়ে কীভাবে ভাই কে মারছি? তাহলে শুনো”…

“জাহির আদনান চৌধুরীর পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট আজিজ কে অস্ত্র বানিয়ে আদনান কে মেরেছি।”

“আদ্রিয়ানা অবাক দৃষ্টিতে জাবিরের দিকে তাকায়।”

–” আদনান পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসা বেশি করে। তাই সেই রাস্তায় কিছু পেরেক ঠুকে রেখেছিলাম। বোকা আদনান সেই পেরেকের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে গেছে। ফলে কিছু দূর যেতেই গাড়ি চাকা পাংচার হয়ে যায়। আদনান গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়।

“প্ল্যান অনুযায়ী সময় মতো ব্রেক ফেল করা গাড়ি নিয়ে আজিজ সেখানে পৌঁছে যায়। ভুলবাল বুঝিয়ে ব্রেক ফেল করা গাড়ির চাবি আদনান কে দিয়ে দেয়। আর বলে তোমাকে কিডন্যাপ করে সাজেক ভ্যালি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তুমি সেখানে আছো। বোকা আদনান আজিজের কথা বিশ্বাস করে ব্রক ফেল করা গাড়ি নিয়ে সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বোকা আদনান বুজতেই পারে নিই যে গাড়ির ব্রেক ফেল করা। বর্তমানে সাজেকের কোন একটা পাহাড়ের কোণে পড়ে আছে আদনানের ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাওয়া দেহ।”

“জাবিরের মুখে এমন কথা শুনে আদ্রিয়ানা ফ্লারে বসে পড়ে। হাউ মাউ করে কেঁদে ওঠে। আদ্রিয়ানা কে কান্না করতে দেখে জাবির বলে”..

–“জাননন এইভাবে কান্না করলে বিধবা বিধবা ফিল পাবা না। সাদা শাড়ি পড়ে আদনানের একটা ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করো। তাহলে জামাই হারানোর ফিল পাবা।”

–“আপনি যে এতো খারাপ আর জঘন্য একটা কাজ করবেন তা আমি কল্পনা ও করি নিই।”

–“আমি জাবির রায়হান চৌধুরী যে নিজের ভালোবাসার জন্য কি কি করতে পারি তা তোমার ভাবনা কল্পনা দুইটারি বাহিরে জানন। আদনান কে মেরে সবে মাত্র তো টেইলার দেখালাম এখনো তো ফুল মুভি বাকি।”

–“ভালোবাসা? কিসের ভালোবাসা? একটা কথা কান খুলে শুনে রাখুন। এই আদ্রিয়ানা এই জন্মে শুধু একজন কে ভালোবেসেছে আর সেই হচ্ছে শুধু জাহির আদনান চৌধুরী। পরের জন্ম বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে সেই জন্মেও আমি শুধু জাহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসবো।”

“আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে জাবির আদ্রিয়ানার গালে কষিয়ে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। থাপ্পড় খেয়ে ফ্লারে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আদ্রিয়ানা। জাবির আদ্রিয়ানার কোন রেসপন্স না পেয়ে আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নিয়ে বেডে শুইয়ে দেয়।”

🌿”ফজরের আযানের শব্দ কানে আসতেই শুয়া থেকে উঠে বসে জোবাইদা। সারা রাত ঘুমোতে পারি নিই তিনি। বুকের ভেতর টা কেমন জানি করছে তাঁর। হঠাৎ করেই কেনো জানি বারবার জাহিরের কথা মনে পড়ছে। জাহির কে একটা নজর দেখতে ইচ্ছে করছে। ওর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে।”

“জোবাইদা বেড থেকে নেমে অজু করতে চলে যায়। অজু করে এসে নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। নামাজ শেষে দুই ছেলের জন্যই অনেক দোয়া করেন। জায়নামাজ গুছিয়ে রেখে ফোন টা হাতে তুলে নেয়। কল দেয় জাহিরের নাম্বারে।

The number you have dialed is currently switched off.
“আপনি যে নাম্বারে কল দিয়েছেন সেই নাম্বার টি এখন বন্ধ আছে।

“জাহিরের নাম্বার বন্ধ থাকায় জোবাইদার আরো বেশি অস্থির লাগছে। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। বারবার জাহিরের নাম্বারে কল দিচ্ছে কিন্তু প্রতিবারই বন্ধ বলছে। জোবাইদা বেডের দিকে এগিয়ে গিয়ে রহিম কে ডাকে। রহিম উঠে বসে।”

“জোবাইদা সকাল সকাল তোমার আবার কি হলো?

“আমার মন টা কেমন করছে। কেনো জানি মনে হচ্ছে জাহির ভালো নেয়। ও কেমন আছে একটা বার খবর নিয়ে দেখো না প্লীজ।”

–“আচ্ছা ঠিক আছে আমি ও কে কল দিচ্ছি।”

–“কল দিয়ে লাভ নেই ওর ফোন বন্ধ।”

“রাহিম এইবার জাহিরের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট কে কল দেয়। প্রথম বার রিং হয়ে কেটে গেলেও দ্বিতীয় বার রিসিভ হয়। আজিজ কে জাহিরের কথা জিজ্ঞাসা করলে আজিজ বলে জাহির একদমই ঠিক আছে।”

–“জাহির ঠিক আছে। আর চিন্তা করতে হবে না।”

–“আমার মন তো মানছে না। কেনো জানি মনে হচ্ছে”…

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না জোবাইদা তার আগেই রাহিম বলে”..

–“তুমি একটু বেশিই চিন্তা করছো। এতো চিন্তা করো না। জাহির ঠিক আছে।”

🌿 সকাল নয়টা ত্রিশ মিনিট। হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে আদ্রিয়ানার রুমে প্রবেশ করে জাবির। বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে আদ্রিয়ানা এখনো ঘুমিয়ে আছে। জাবির খাবারের প্লেট টা ড্রেসিং টেবিলের উপরে রেখে বেডের দিকে এগিয়ে যায়। আদ্রিয়ানা দিকে তাকিয়ে কয়েক বার আদ্রিয়ানা কে ডাকে। আদ্রিয়ানার কোন রেসপন্স না পেয়ে জাবির বুঝতে পারে যে আদ্রিয়ানা এখনো অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।”

“রুমে থাকা জগ থেকে পানি এনে আদ্রিয়ানার মুখে ছিটিয়ে দেয় জাবির। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয় না। আদ্রিয়ানার জ্ঞান ফিরে না। পকেট থেকে ফোন টা বের করে তাঁর পরিচিতি একজন ডাক্তার কে কল দেয় জাবির।”

“আধা ঘন্টার মধ্যেই একজন মেয়ে ডাক্তার এসে হাজির হয় জাবিরের বাড়ির সামনে। গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। কলিং বেল চাপতে দরজা খুলে দেয় জাবির। ডাক্তার কে আদ্রিয়ানা রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তার আদ্রিয়ানা কে চেকআপ করেন।

  • ইনজেকশনের মাধ্যমে স্যালাইন দিয়ে দেয়। – অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়।
  • শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। অতঃপর ধীরে ধীরে আদ্রিয়ানার জ্ঞান ফিরে আসে।”

“ডাক্তার জাবিরের দিকে তাকিয়ে বলে”..
“মিস্টার জাবির আপনার ওয়াইফ অনেক বড়ো সড়ো একটা শখ খেয়েছে তাই এমন টা হয়েছে। এই সময়ে উনাকে কোন রকম শখ দেওয়া যাবে না। ওয়াইফের প্রতি যত্নশীল হোন। এই সময়ে ওয়াইফের যত্ন নেওয়া তাঁর পাশে থাকা হাসব্যান্ডের কর্তব্য।”

–“এই সময়ে মানে ? বুঝলাম না। একটু ক্লিয়ার করে বলুন তো।”

–” কংগ্রেস মিস্টার জাবির আপনি বাবা হতে চলেছেন। আপনার ওয়াইফ কনসিভ করেছে।”

–What? কনসিভ করেছে মানে ?”

–“কনসিভ মানে আপনার ওয়াইফ প্রেগন্যান্ট। বাই দা ওয়ে মিস্টার জাবির এখানে কিছু ঔষধ লিখে দিয়েছি এগুলো টাইম মতো খাওয়াবেন।”

“এই কথা বলে ডাক্তার চলে যায়। জাবির আদ্রিয়ানা দিকে তাকিয়ে দেখে আদ্রিয়ানা পেটে হাত দিয়ে কান্না করছে।

“জাবিরের মাথায় রক্ত উঠে যায়। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে রুম থেকে বের হয়ে যায় জাবির।”

🌿”ছাঁদের এক কোণে দাঁড়িয়ে নিকোটিনের ধোঁয়া উড়াচ্ছে জাবির। তাঁর কানে শুধু ডাক্তারের বলা কথা টাই বাজছে।

–” কংগ্রেস মিস্টার জাবির আপনি বাবা হতে চলেছেন। আপনার ওয়াইফ কনসিভ করেছে।”

“জাবির কান চেপে ধরে ফ্লারে বসে পড়ে। চিৎকার দিয়ে বলে”..

“নাহ এটা হতে পারে না। আদ্রিয়ানা আদনানের বেবির আম্মু কিছুতেই হতে পারে না। আদ্রিয়ানা যদি কোরো বেবির আম্মু হয়ে থাকে তাহলে শুধু আমার বেবির আম্মু হবে আর কারো নয়।”

“কথা টা বলে উঠে দাঁড়ায় জাবির। মিনিট দুয়েক চুপ করে থেকে কিছু একটা ভেবে হো হো করে হেঁসে উঠে।”

–“আদনানের মতো মাফিয়া কে যেহেতু মারতে পেরেছি সেহেতু ওর বেবি কেও মারতে পারবো। পৃথিবীতে আসার আগেই ও কে শেষ করে দিবো। আদনানের শেষ চিহ্নটুকু ও মুছে ফেলবো।”

“কেউ হতাশ হবা না। আমি গল্প টা যেভাবে সাজিয়েছি ঠিক সেই ভাবে এগোচ্ছি। সো ধয্য ধরে গল্প টা পড়তে থাকো। সামনে নতুন নতুন চমক পাবা।

চলবে

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply