দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ৩১
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
🌿
“জাহির আদনান চৌধুরীর বাড়ির সামনে এসে গাড়ি ব্রেক করে জাবির রায়হান চৌধুরী। গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে যায় বাড়ির দিকে। বাড়ির মেন দরজায় লাথি মেরে দরজা খুলে নেয় জাবির। বাড়ির ভিতরে ঢুকে সোজা চলে যায় দুতলায় ডান পাশে থাকা একেবারে শেষ রুম টা তে। রুমে ঢুকতেই দেখে আদ্রিয়ানা রুম গুছাচ্ছে।”
–“কেমন আছো জান?
“কথা টা কানে আসতেই আদ্রিয়ানার হাত দুটো থেমে যায়। হাত থেকে বালিশ বেডের উপর রেখে দিয়ে পিছনে ঘুরে তাকায় আদ্রিয়ানা।
জাবির পকেটে দুই হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। জাবির কে দেখে চারশো বল্ডের একটা শখ খাই আদ্রিয়ানা। সত্যি কি জাবির তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে না কি স্বপ্ন দেখছে, আদ্রিয়ানা কনফিউজ দূর করার জন্য নিজের হাতে চিমটি কাটে। এটা স্বপ্ন নয় বাস্তব। জাবির সত্যি সত্যি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”
–“সারপ্রাইজ জান। হঠাৎ করে আমাকে এখানে দেখতে পাবা তা কল্পনা ও করো নিই তাই না জানননন?”
–“আপনি এখানে কেনো এসেছেন?”
–“তোমাকে নিয়ে যাওয়া জন্য।”
–“আমাকে নিয়ে যাওয়া জন্য মানে?”..
–“তোমাকে নিয়ে যাওয়া জন্য মানে তোমাকে নিয়ে যাওয়া জন্য। তোমাকে আমি আমার সাথে নিয়ে যাবো।”
–“আপনি আমাকে নিয়ে যাওয়ার কে ? আমি আপনার সাথে কোথাও যাবো না।”
–“তা তো হবে না। একবার যেহেতু তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি সেহেতু আমার সাথে তোমাকে যেতেই হবে।”
–“দেখুন আমি আপনাকে ভালোয় ভালোয় বলছি, আপনি এখান থেকে চলে যান। আপনার ভাইয়া এক্ষুনি চলে আসবে। আর এসে যদি আপনাকে এখানে দেখে তাহলে কিন্তু আপনাকে মেরে ফেলবে।”
“জাবির হো হো করে হেঁসে উঠে। জাবির কে হাসতে দেখে আদ্রিয়ানার ভয় আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়।”
–“কে মারবে আমাকে? ওই জাহির আদনান চৌধুরী ? লাইক সিরিয়াসলি ?সেই সেই জোক টা সেই ছিল।”
–কথা টা বলে আবার ও হো হো করে হাসতে থাকে জাবির।”
–“দেখুন আমি আপনাকে আবার ও বলছি, ভালোয় ভালোয় এখান থেকে চলে যান।”
–“চলে তো অবশ্যই যাবে। তবে একা না তোমাকে সাথে নিয়ে তার পর যাবো।”
“জাবির এই কথা বলে এক পা এক পা করে আদ্রিয়ানার দিকে এগোতে থাকে। জাবির কে এগোতে আদ্রিয়ানা পিছাতে থাকে।”
–“এগোবেন না বলছি, একদমই এগোবেন না। যেখানে আছেন সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলুন।”
“কে শুনে কার কথা। জাবির এক পা এক পা করে আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর আদ্রিয়ানা ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে।”
–“এগোবেন না বলছি। আপনার ভাই জানতে পারলে কিন্তু আপনাকে মেরে ফে”…
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা তাঁর আগেই জাবির একটা রুমাল দিয়ে আদ্রিয়ানার মুখ চেপে ধরে। আদ্রিয়ানা কিছুক্ষণ ছটফট করে শান্ত হয়ে যায়। জাবির আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই আছমা আন্টির মুখোমুখি হয় জাবির। আছমা আন্টি দুই হাত মিলে জাবিরের সামনে দাঁড়ায়। আছমা আন্টি কে দেখে বেশ বিরক্ত হয় জাবির।”
–“সামনে থেকে সরে দাঁড়ান।”
–“নাহ, আমি বেঁচে থাকতে আদ্রিয়ানা কে কোথায় নিয়ে যেতে দিবো না।”
–“বেঁচে থাকতে যেহেতু নিয়ে যেতে দিবেন না সেহেতু মরেন।”
“জাবির কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই টিনা পিছন থেকে আছমা আন্টি কে ছুরি দিয়ে পরপর দুইবার আঘাত করে। আছমা আন্টি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। জাবির এক পলক আছমা আন্টির দিকে তাকিয়ে বের হয়ে যায়। জাবিরের পিছু পিছু টিনা ও বের হয়ে যায়।”
“টিনা গাড়ির দরজা খুলে দেয়। জাবির আদ্রিয়ানা কে গাড়িতে হেলান দিয়ে শুইয়ে দেয়। গাড়ির ব্রেক সিট থেকে একটা ব্যাগ বের করে টিনার দিকে এগিয়ে দেয় জাবির।”
–“এখানে পঞ্চাশ লাখ টাকা আছে। বাঁচতে চাইলে এই টাকা নিয়ে এই শহর ছেড়ে চলে যা।”
“টিনা কে টাকার ব্যাগ টা দিয়ে গাড়িতে উঠে বসে জাবির। আদ্রিয়ানার মুখের দিকে এক পলক তাকিয়ে গাড়ির ইঞ্জিন স্টাস্ট দেয়। মূহুর্তের মধ্যে গাড়ি টি ধুলো আর জঙ্গলে পড়ে থাকা শুকনো পাতা উড়িয়ে হাওয়া হয়ে যায়।”
🌿 দুপুর দুই টা। এইমাত্র নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়েছে আদনান। ডানদিকে ঘুরে তাকাতেই দেখে বাচ্চারা জিলাপির জন্য লাইন ধরছে। একে অপরের সাথে ঠেলাঠেলি করছে। ওদের এমন কান্ড দেখে মুচকি হাসে আদনান।
“এখন জিলাপির জন্য লাইনে দাঁড়াবে না কি দাঁড়াবে না। বাচ্চা গুলোর দিকে তাকিয়ে এই কথা ভাবছে আদনান। অবশেষে নিজের ইগো আর লজ্জার সাথে যুদ্ধ করে লাইনে দাঁড়িয়ে যায় আদনান।
আদনান কে লাইনে দাঁড়াতে দেখে আদনানের এসিস্ট্যান্ট আজিজ সহ আশেপাশের সবাই বেশ অবাক হয়। যে ব্যক্তি বাচ্চাদের কে জিলাপি দিচ্ছিল সেই ব্যক্তি আদনান কে লাইনে দাঁড়াতে দেখে একটা ছোট পলিথিনের দুই পিস জিলাপি নিয়ে আদনানের দিকে এগিয়ে আসে। জিলাপির প্যাকেট টা আদনানের হাতে দেয়। আদনান মুচকি হেসে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসে।”
🌿সময় দুই টা ত্রিশ মিনিট। এইমাত্র বাসার সামনে এসে পৌঁছেছে আদনান। গাড়ি থেকে নেমে খুশি মনে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় আদনান। বাড়ির মেন দরজা খুলা দেখে কিছু টা অবাক হয় আদনান। তবে বিষয়টা তেমন পাত্তা না দিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে যায়। একটু এগিয়ে যেতেই দেখতে পায় আছমা আন্টি মাটিতে পড়ে আছে। আদনান দৌড়ে যায় আছমা আন্টির কাছে।”
–“আন্টি, আন্টি কি হয়েছে আপনার? আপনি ঠিক আছেন তো? আন্টি আপনি কি আমার কথা শুনতে পারছেন?”.
“আছমা আন্টি আদনানের হাত ধরে বলে “..
“বা…বা তো…মার বৌ কে বাঁচাও। তোমার বৌ কে তুলে নিয়ে গেছে তোমার ভা”..
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আছমা আন্টি। তাঁর আগেই আছমা আন্টির রুহ এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। আদনান আছমা আন্টি কে ফ্লারে শুইয়ে দেয়। পকেট থেকে ফোন টা বের করে তাঁর এসিস্ট্যান্ট আজিজ কে কল দেয়। আছমা আন্টির দাফন কাফনের ব্যবস্থা করতে বলে আদনান বের হয়ে যায় আদ্রিয়ানার খোঁজে। বাড়িতে রেখে যায় আছমা আন্টির মৃত দেহ আর আদ্রিয়ানার জন্য নিয়ে আসা সেই দুই পিস জিলাপি।
“মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী নিজের ইগো আর লজ্জার সাথে যুদ্ধ করে লাইনে দাঁড়িয়ে বৌয়ের জন্য জিলাপি নিয়ে এসেছিল ঠিকিই কিন্তু সেই জিলাপি আর বৌয়ের হাতে দেওয়া হলো না। বৌ খেতে পারলো না সেই জিলাপি। ফ্লারের এক কোণে পড়ে আছে আদ্রিয়ানার জন্য নিয়ে আসা দুই পিস জিলাপি।”
🌿রাত আটটা। সামির আর তূবা কে বিয়ের আসরে নিয়ে আসা হয়েছে। একে অপরের সামনে বসে আছে সামির আর তূবা। সামির আর তূবার নাম ঠিকানা লিখে নিয়ে কাজী বিয়ে পড়ানো শুরু করে। সব কিছু শেষে কাজী সামির কে কবুল বলতে বলে।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল কবুল কবুল।”
“সামিরের পরে তূবা কে কবুল বলতে বলা হয়। তূবা বাবার দিকে এক পলক তাকায়। মিনিট দুয়েক সময় নিয়ে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে”..
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল কবুল কবুল।”
“উপস্থিত থাকা সবাই এক সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে। তিন কবুলের মাধ্যমে সামির আর তূবা বাঁধা পড়ে বিয়ে নামক এক পবিত্র বন্ধনে, সারাজীবনের জন্য আবদ্ধ হয়।”
“এইবার বিদায়ের পালা। বাবা কে ছেড়ে যাবে না বলে বাবা কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করছে তূবা। মেয়ের কান্না দেখে লিটন নিজেও কান্না করছে। সামির সহ সবাই তূবা আর লিটন কে বুঝানোর চেষ্টা করছে। কে শুনে কার কথা। তূবা আর লিটন কান্না করেই যাচ্ছে। শেষমেষ কান্না করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তূবা। সামির তূবা কে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেয়। লিটন সামিরের হাত জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলে”…
“বাবা আমার মেয়ে টা কে কখনো কষ্ট দিও না। মা মরা মেয়ে আমার। ছোট বেলায় মা কে হারিয়েছে। আমি ও কে কখনো মায়ের অভাব বুঝতে দিই নিই। অনেক আদরে বড় করেছি ও কে। আমার মেয়ে টা যদি কোন সময় , কোন কারণে তোমার কাছে ঘৃণার পাত্রী হয়ে যায় তাহলে আমার মেয়ে কে আমার কাছে ফিরত দিয়ে যেও।”
“সামির লিটনের হাত ধরে বলে”..
“আংকেল আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি। তূবা কে কখনো কোন কষ্ট পেতে দিবো না। আপনার কাছে যেমন ছিল আমার কাছে ও তেমন থাকবে। সব সময় ওর পাশে থাকবো। সুখে দুঃখে বিপদে পড়ে ওর ডাল হয়ে দাঁড়াবো।”
“সামিরের এমন কথায় লিটন ভরসা পান।
“একটা কথা। সামির আর তূবার ভালোবাসার পর্ব দেওয়ার পর অনেকেই বলছে, এতো তাড়াতাড়ি ভালোবাসা হয় কেমনে?
যারা এই কথা বলছো তাদের কে বলছি। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি ভালোবাসা হঠাৎ করেই হয়ে যায়। তাছাড়া আমি গল্প টা অন্যদের মতো বেশি পেঁচাতে চাচ্ছি না। শুধু গল্পের মুল কাহিনী গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মূল কাহিনী দিয়ে গল্প টা শেষ করে দিতে চাইছি।”
অফলাইনে চলে যেতে হবে মনে হয়। হঠাৎ করে ফোন টা সমস্যা করতেছে। নিজে নিজে একবার বন্ধ হচ্ছে একবার খুলছে, আমি যখন নাইনে উঠি তখন এই ফোন টা আমাকে কিনে দেয়। ২০২১ সালে আমি নাইনে ছিলাম আর এখন ২০২৬.
আমাকে যদি অনলাইনে না দেখো তাহলে বুঝা নিবা যে সত্যি সত্যি ফোন টা নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ আবার ভন্ডরে ভুলে যেও না।
চলব”….
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৮