দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ২৯
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
🌿
“রাত আটটা। ছাঁদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে তূবা। আর তূবার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে সামির। কেউ কোন কথা বলছে না দুজনের মধ্যে নীরবতা বিরাজ করছে। শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দই শোনা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ এই ভাবেই কেটে যায়। অবশেষে নীরবতা ভেঙে তূবা বলে”….
–“মিস্টার সামির আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। আই গেইস আপনি জানেন কথা গুলো কি নিয়ে?”..
–“হুম আমি জানি।
–“আপনি কি এই বিয়েতে রাজি?”..
–“হুম।
–“আমি অতীতে আপনার বন্ধু কে ভালোবাসতাম। হয়তো এখনো বাসি। কখনো ভুলতে পারবো কি না তাও জানি না। এইসব জেনে ও আপনি বিয়েতে রাজি?”..
–“হুম রাজি। কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
“সামিরের মুখে ভালোবাসার কথা শুনে অবাক দৃষ্টিতে সামিরের দিকে তাকায় তূবা। তূবা কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে সামির মুচকি হাসে।”
–“আজ আর কিছু লুকাবো না। আজকে আমি আমার ভালোবাসার কথা বলবো।”
“এতটুকু বলে সামির থেমে যায়। মিনিট দুয়েক সময় নিয়ে বলে”…
২৫ এ জানুয়ারি, রবিবার সন্ধ্যা সাত টাই হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে তোমাকে প্রথম দেখি আমি। আর প্রথম দেখায় তোমাকে ভালোবেসে ফেলি। যখন দেখলাম তুমি জাবির কে ভালোবাসো তখন আমি আমার সেই ভালোবাসা কে আবার সেখানেই কবর দিয়ে ফেলি। পরে যখন জাবির তোমাকে ফিরিয়ে দেয়, তখন আমি ভেবেছিলাম আমার ভালোবাসা হয়তো আবার জেগে উঠবে। কিন্তু তুমি তখনো জাবিরের স্মৃতিতে আটকে ছিলে। আমি তোমার পাশে থেকেছি, তোমার হাত ধরে রেখেছি, কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে পাওনি। আর যখন জাবির চলে গেল, তখন তুমি আমার দিকে তাকালে। তখন আমি বুঝতে পারলাম, আমার ভালোবাসা এখনো বেঁচে আছে। হয়তো কোন একদিন তুমি আমার দিকে তাকিয়ে বলবে , “সামির, আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
আর তখন আমার অপেক্ষার অবসান হবে।”
“জাবিরের মুখ এমন কথা শুনে অবাকের দ্বিগুন পর্যায়ে যায় তূবা।”
–“আমি তোমাকে খুব খুব খুব ভালোবাসি তূবা।”
“তূবা কিছু বলে না। শুধু অবাক দৃষ্টিতে সামিরের দিকে তাকিয়ে থাকে। তূবা কে চুপ করে থাকতে দেখে সামির বলে”…
–“তুমি যদি এই বিয়ে তে রাজি না থাকো তাহলে এই বিয়ে টা ভেঙে দিতে পারো। আমার কোন সমস্যা নেই। আমি তোমার মতামত কে সম্মান করি। তোমার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে এই বিয়ে করবো না। কারণ জোর করে বিয়ে করা গেলেও ভালোবাসা পাওয়া যায় না।”
“তূবা এতোক্ষণ চুপ করে থাকলেও এইবার বলে উঠে”….
–“জোর করে বিয়ে করবেন না মানে কি হা? জোর করে বিয়ে করবেন। আমি বিয়ে তে রাজি না থাকলে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে করবেন। একদমই ভিলেনদের মতো ওকেই?”…
“সামির কিছু বলে না শুধু তূবার দিকে তাকিয়ে থাকে। তূবা দৌড়ে সামিরের দিকে এগিয়ে এসে সামির কে জড়িয়ে ধরে বলে”…
–“এই কয়দিনে আমিও আপনাকে ভালোবেসে ফেলছি মিস্টার সামির। আমিও আপনাকে ভালোবাসি।”
“সামির তূবাকে নিজের বাহু ডুরে আগলে নেয়, আর তূবা সামিরের বুকে মাথা রাখে। সামিরের চোখে জল এসে যায়!”
— “আমি ভাবিনি তূবা, তুমি আমাকে এভাবে ভালোবাসবে।”
“তূবা সামিরের দিকে তাকিয়ে বলে”.. –“আমিও ভাবিনি মিস্টেক সামির, আপনাকে এভাবে ভালোবেসে ফেলবো।”
🌿”রাত নয়টা। আদনান অফিসের কিছু ফাইল চেক করছে। আদ্রিয়ানা পিছন থেকে আদনান কে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। আর একটু পর পর আদনান কে ডিস্টার্ব করছে। আদ্রিয়ানা আদনানের ঘাড়ে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে বলে”….
-“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা তখন থেকেই এই ফাইলে এতো কি দেখছেন বলেন তো ? সেই কখন থেকে ফাইল নিয়ে পড়ে আছেন। এই দিকে যে আপনার ঘরওয়ালীর ক্ষুধা লেগেছে সেটা কি আপনি জানেন?”…
–“কি খাবা বলো এক্ষুনি খাবার এনে দিচ্ছি।”
–“আমার না ফুসকা খেতে ইচ্ছে করছে।”
–“নিচে গিয়ে আছমা আন্টি কে বলো আর না হয় অনলাইনে অর্ডার দাও।”
–“অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার কোনো ওয়ে আছে? এই জঙ্গলের মধ্যে তো ভুলেও কোন ডেলিভারি ম্যান আসতে চাই না।”
–“তাও ঠিক বলছো। নিচে যাও আর আছমা আন্টি কে বানিয়ে দিতে বলো।”
–“নাহ। প্রায় সময় তো আছমা আন্টি তৈরি করে দেয়। আজকে আপনি তৈরি করবেন।”
–“আমি তো এইসব পারি না।”
–“ইউটিউব আছে না? ইউটিউব দেখে করেন।”
–“গুড আইডিয়া। কিন্তু সরি ঘরওয়ালী এইসব রান্না বান্না আমাকে দিয়ে হবে না।”
–“আপনি সিউর যে আপনাকে দিয়ে রান্না বান্না হবে না?”..
–“একশো পার্সেন সিউর।”
“আদ্রিয়ানা আদনান কে ছেড়ে দিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। আদনানের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি দিয়ে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে। আদ্রিয়ানার এমন কান্ড দেখে আদনান ফাইল গুলো রেখে দিয়ে বেডের দিকে এগিয়ে যায়। আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে বলে”…
–“আমার বৌ টা কি আমার উপরে রাগ করছে ?”
“আদ্রিয়ানা আবার ও মুখ ভেংচি কেটে অন্য দিকে ঘুরে যায়। আদনান মুচকি হেসে আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। নিচে গিয়ে আদ্রিয়ানা কে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে দিয়ে বলে”….
–“দশ মিনিট ওয়েট করো আমি ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ফুসকা তৈরি করে নিয়ে আসছি।”
“এই কথা বলে আদনান রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ায়। আদনানের যাওয়ার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে আদ্রিয়ানা।”
–“এই সাদা কালা পান্ডা এটা কি বলে গেলো? দশ মিনিট ওয়েট করো আমি ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ফুসকা তৈরি করে নিয়ে আসছি। মানে কি? কিছুই তো বুঝতে পারলাম না। সব তো মাথার তেরো হাত উপর দিয়ে গেলো।”
“আদনান ফুসকা বানানোর জন্য তৈরি হয়ে নেয়। ফোন টা হাতে তুলে নেয়। ইউটিউবে গিয়ে চার্জ দিলে ফুসকা তৈরির রেসিপি। মূহুর্তের মধ্যে শতশত রেসিপি এসে হাজির হয়। আদনান একটা ভিডিও অন করে পাশে রাখে। ভিডিও দেখে দেখে ফুসকা তৈরি করা শুরু করে। আদনান ফুসকা তৈরি করছে আর আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে।”
“আধা ঘন্টার মধ্যে ফুসকা গুলো ভাজা হয়ে যায়। ফুসকা গুলো ভাজা হয়ে গেলে সিদ্ধ আলু আর ডিম তৈরি করে নেয়। সব ঠিকঠাক তাঁর পর ও আদনানের কাছে কি একটা মিসিং লাগছে। আদনান আবার ইউটিউবে যায়। ইউটিউব থেকে জেনে নেয় যে টক এর অভাব। আদনান তেঁতুল দিয়ে টক তৈরি করে নেয়। ফুসকা তৈরি করা শেষ এইবার পরিবেশনের পালা।”
“আদনান একটা প্লেটে ফুসকা গুলো সাজিয়ে নিয়ে রান্না ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে ফুসকার প্লেট টা আদ্রিয়ানার সামনে দিয়ে বলে”….
–“ম্যাডাম এই নিন আপনার ফুসকা।”
“আদ্রিয়ানার মুখে হাঁসি ফুটে ওঠে। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে ফুসকা খাওয়া শুরু করে আদ্রিয়ানা। দশ মিনিটের মধ্যেই ২৫ টা ফুসকা খেয়ে ফেলে আদ্রিয়ানা।”
–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা ফুসকা আর নেই ?”
–“আছে একটু ওয়েট করো আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।”
“আদনান রান্না ঘরে যায়। রান্না ঘর থেকে বাকি ফুসকা গুলো ও এনে নেয়। আদ্রিয়ানা খাওয়া শুরু করে। আদ্রিয়ানা খাচ্ছে আদনান কে ও খাওয়াচ্ছে। মিনিট দশেকের মধ্যে এই ২৫ টা ফুসকা ও খাওয়া হয়ে যায়।”
–“মিস্টার পান্ডা ফুসকা গুলো অনেক মজা হয়েছে। যাইহোক এখন আমাকে রুমে নিয়ে চলেন আমি ঘুমাবো।”
–“ডিনার করবা না?”..
–“ফুসকা খেয়েছি, আজ আর ডিনার করা লাগবে না। রুমে নিয়ে চলেন।”
–“আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নিয়ে রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে আদ্রিয়ানা কে বেডে শুইয়ে দেয়। আদ্রিয়ানার গায়ে কম্বল দিয়ে আদনান ওয়াসরুমে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে টিশার্ট আর ট্রাউজার পড়ে নেয়। টাওয়েল টা বারান্দায় মিলে দিয়ে আসে আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে।”
রিচেক দেওয়া হয় নিই
চলবে”…..
( “ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ” )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৫
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪