Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৪


দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

পর্ব : ২৪

লেখক_Jahirul_islam_Mahir

☘️
“আদনান আর আদ্রিয়ানা চট্টগ্রাম পতেঙ্গা সমুদ্রের ধারে বসে আছে, হাত ধরে। তারা দুজনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে, আর সমুদ্রের ঢেউগুলো তাদের পায়ে এসে আছড়ে পড়ছে। আদনান আদ্রিয়ানা কে আরো কাছে টেনে নিয়ে বলে”……

“বৌ জান, তুমি আমার জীবনে আসার পর থেকে আমার সবকিছু বদলে গেছে। তোমাকে পেয়ে আমি এখন অনেক বেশি খুশি, আর তোমার উপর অনেক বেশি সন্তুষ্ট।”

“আদ্রিয়ানা আলতো করে হাসল!”
— “আপনাকে পেয়ে আমিও অনেক খুশি।‌ আপনি আমার জীবনে আসার পর থেকে আমারও সবকিছু বদলে গেছে।”

“আদনান আদনান কে নিজের বাহু ডুরে আগলে নিয়ে বলে”…..
—“বৌ জান আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি। আমাকে কখনো ছেড়ে যাবেন না প্লীজ। আপনাকে ছাড়া নিঃশ্বাস আটকে আসার মতো কষ্ট পেয়ে মরে যাবে আপনার সাদা কালা পান্ডা।”

“আদ্রিয়ানা শরীরে সব শক্তি দিয়ে আদনান কে জড়িয়ে ধরে বলে”…….
— “কখনোই ছেড়ে যাবো না মিস্টার পান্ডা। যদি যাওয়ার ও তাহলে আপনাকে আমার সাথে নিয়ে তার পর যাবো। আপনাকে ছাড়া যে আমিও বাঁচতে পারবো না। আমি যে আমার সাদা কালা পান্ডা কে ভিষণ ভালোবাসি।”

“আদনান আদ্রিয়ানা কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে”…
—“বৌ জান আপনাকে হারানোর ভয় হয় তো আমার। যদি কখনো হারিয়ে যান তখন আমার কি হবে ? আমি যে আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না বৌ জান।”

“আদ্রিয়ানা আদনানের দুই গালে নিজের দুই হাত রেখে আদনানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে”……

“আমি আপনার চোখে চোখ রেখে আপনাকে কথা দিচ্ছি। আমি কখনোই আপনাকে ছেড়ে যাবো না। যদি যাওয়ার ও হয় তাহলে আপনাকে সাথে নিয়ে তার পর যাবো।”

“এতটুকু বলেই আদনানের কপালে একটা চুমু খাই আদ্রিয়ানা। আকাশে থাকা চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলে”…
— “হে চাঁদ তুমি সাক্ষী থেকো আমি আমার জামাই জান থেকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। যদি যাওয়ার হয় তাহলে তা কে সাথে নিয়ে যাবো।”

— ” হে আকাশ, হে বাতাস তোমরাও সাক্ষী থেকো আমার বৌ জান আমাকে ছেড়ে যাবে না বলেছে। যদি যাওয়ার হয় তাহলে আমাকে সাথে নিয়ে যাবে বলছে।”

— “হে সাগর তুমিও সাক্ষী থেকো আমি আমার জামাই জান কে কখনো ছেড়ে যাবো না।”

“আদনান আদ্রিয়ানা কে আবার ও জড়িয়ে ধরে। আদ্রিয়ানা ও আদনান কে জড়িয়ে ধরে। দুইজন দুইজনকে জড়িয়ে ধরল। সমুদ্রের ঢেউগুলো তাদের পায়ে এসে আছড়ে পড়তে লাগল। এই মুহূর্তটা তাদের কাছে খুব স্পেশাল একটা মূহুর্ত।”

☘️
“রাত একটা। ছাঁদের এক কোণে বসে আছে জাবির। জাবিরের চোখে একটা বিষণ্ণতা, সেই একটা গভীর চিন্তায় ডুবে আছে। সে ছাঁদে বসে নিকোটিনের ধোঁয়া উড়াচ্ছে, আর তার চোখগুলো যেন কোনো একটা অদৃশ্য বিন্দুতে আঁটকে আছে।”

“হঠাৎ, তার ফোনটা বেজে উঠল। জাবির ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল, একটা অজানা নম্বর। সে ভাবল, “কে হতে পারে?”

“জাবির ফোনটা রিসিভ করল”..
—-“হ্যালো, কে?”

“অপর প্রান্ত থেকে একটা মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে এল”…..
— “আপনার বৌ বলছিলাম স্যার।”

“জাবিরের চোখগুলো বড় হয়ে গেল”…
—“বৌ? কার বৌ? কোথাকার বৌ? কোন জন্মের বৌ?”…

— “আমি আপনার এই জন্মের বৌ বলছিলাম।”

—“শালির ঘরের শালি তুই আমার সাথে মশকরা করস?”….

— “আমি আপনার সাথে মশকরা করতে যাবো কেনো?”…

— “তাহলে এতো রাতে ফোন দিয়েছিস কেনো?”….

–“জামাই কে তো রাতেই ফোন দিবো তাই না?”…

—“শালির সাউয়াল হেয়ালি না করে কি বলতে চাস বলে ফেল।”

–“সত্যি বলবো?”…

–“ড্রামা বাদ দিয়ে কি বলার জন্য কল দিয়েছিস তা বলে ফেল।”

—“বলছিলাম যে”….

–“থেমে গেলি কেন বল।”

–“আমি না আপনাকে ভালোবাসি। প্রথম যেদিন আপনাকে দেখি সেই দিনিই আপনার প্রেমে পড়ে যায়। আমি আপনাকে ভালোবাসি মিস্টার জাবির রায়হান চৌধুরীর। I love you….

— “এই ছাপড়ি মার্কা কথা বলার জন্য এতো রাতে কল দিয়েছিস?”…

—“আপনার কাছে এই ছাপড়ি মার্কা কথা হলেও আমার কাছে এটা ভালোবাসা। আমার আবেগ। আমি আপনাকে ভালোবাসি। আর….

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না তূবা তাঁর আগেই জাবির ফোন কেটে দেয়। তূবা অবাক দৃষ্টিতে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে।‌ পরক্ষনেই আবার ও জাবিরের নাম্বারে কল দেয় তূবা। কিন্তু রিসিভ হয় না। পরপর জাবির কে আরো দশ টা কল দেয় তূবা। তাও কল রিসিভ হয় না।”

☘️
“সকাল দশটা। জাবির মিটিং এ বসেছে। কোম্পানির ডিল নিয়ে কথা বলা শুরু করতে যাবে ঠিক তখনি জাবিরের ফোন টা বেজে উঠে। জাবির ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে তূবা কল করেছে। জাবির বিরক্ত হয়ে তূবার নাম্বার টা ব্লক করে দেয়। ফোন অফ করে দিয়ে মিটিং এ মনোযোগ দেয়।”

“দুই ঘণ্টা মিটিং শেষ করে, মিটিং রুম থেকে বের হতেই জাবিরের চোখ পড়ে তূবার উপর। যে কিনা দুই হাত ভাঁজ করে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”

–“কি সমস্যা আপনার? আমার নাম্বার ব্লক করেছেন কেনো?”….

—“তুমি এখানে কেনো এসেছো? কি চাই?”….

—“আপনাকে চাই।”

—“মানে?”…

–“মানে আপনাকে চাই !”

–“মিস ডোবা….

—“আই অ্যাম নট ডোবা, আই অ্যাম তূবা।”

–“ওও সরি। তা মিস ডোবা আপনি যে নেশা করেছেন তা আপনি জানেন?”…

—“প্রথম তো আমি ডোবা না তূবা আর দ্বিতীয় তো আমি কোন নেশা করি নিই।”

—“তাহলে এখানে এসে মাতলামি করছেন কেনো?”…

—“আমার ভালোবাসা কে আপনার কাছে মাতলামি মনে হয় হচ্ছে? একটা মেয়ে হয়েও আপনার পিছনে চেচড়ার মতো ঘুরছি তা কি আপনি”…..

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না তূবা তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে”..

“Get out. Get out of my office right now.”

–“যদি না যায় তাহলে কি করবেন শুনি?”..

–“সিকিউরিটি ডেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো।”

—“কোন ছেলে সিকিউরিটি যদি আমার গায়ে হাত দেয় তাহলে আপনারা নামে আর কোম্পানির নামে নারী নির্যাতনের মামলা দিবো।”

–“জাবির রায়হান চৌধুরী কে ভয় দেখাচ্ছো?”…

–“হুম।

“জাবির রেগে যায়। জাবিরের চোখ দুটো লাল হয়ে যায়। তূবা কে কিছু বলতে যাবে তার আগেই জাবিরের চোখ পড়ে তাঁর বাবার উপর। বাবা কে দেখে হাতের মুঠো শক্ত করে নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করে নেয় জাবির।”

—“মিস ডোবা আপনি এখন এখান থেকে যান সন্ধ্যা সাত টাই হিলভিউ পার্কে আপনার সাথে দেখা করবো।”

–“সত্যি তো?”…

—“হুম সত্যি।”

–“মনে থাকে যেন ?

–“মনে থাকবে।”

–“সন্ধ্যা সাত টাই হিলভিউ পার্কে আপনার জন্য অপেক্ষা করবো। যদি না আসেন তাহলে কিন্তু আমি আপনার বাসায় “….

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না তূবা তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে”…

—“আরে খালা বললাম তো সন্ধ্যা সাত টাই দেখা করবো। তাঁর পর ও এতো কথা বলছেন কেনো?”…

–“আপনার কথা আমার বিশ্বাস হয় না তাই।”

–“একবার বিশ্বাস করেন।”

–“আচ্ছা ঠিক আছে।”

“তূবা চলে যায়। আর জাবির নিজের কেবিনের দিকে পা বাড়ায়।”

☘️
” সন্ধ্যা ছয়টা বিশ মিনিট। নীল রঙের শাড়ি পড়ে ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে আসে তূবা। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে হালকা মেকআপ করে নেয়। ঠোঁটে হালকা লাল লিপস্টিক। কপালে টিপ, হাতে নীল রঙের চুড়ি, মাথায় ফুল, কোমর পর্যন্ত চুল গুলো ছেঁড়ে দেওয়া। অসম্ভব সুন্দর লাগছে তূবা কে। তূবা মিররের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে শেষ বারের মতো দেখে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই বাবার মুখোমুখি হয় তূবা।”

–“তূবা এই অবেলায় এত সাজ গুজ করে কোথায় যাচ্ছিস?”….

—“আসলে বাবা, আমি আমার ফ্রেন্ডের জন্মদিনে যাচ্ছি।”

–“রাত আটটার মধ্যে তোকে বাসায় দেখতে চাই!”

—“তুমি কোন চিন্তা করো না বাবা। আমি আটটার মধ্যেই বাসায় চলে আসবো।”

—“আচ্ছা। যাইহোক সাথে করে ড্রাইভার কে নিয়ে যাও।”

—“আচ্ছা ঠিক আছে বাবা।”

“তূবা বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠে বসে। গাড়ি চলছে তাঁর আপন বেগে। তূবা খুব নার্ভাস কারণ সেই আজকে জাবির কে প্রপোজ করবে। কখনো কাউকে প্রপোজ করে নিই তূবা তাই একটু বেশিই নার্ভাস। তূবার হৃদয়টা যেন নাচ্ছিল, যখন সে জাবিরের সাথে দেখা করার কথা ভাবছিল। সে নিজেকে বার বার বলছে”…

— “আমি পারব, আমি পারব। যে করেই হোক আজকে জাবিরকে আমি আমার মনের কথা বলবই বলব।”

“তূবা কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই তূবার চোখ পড়ে একটা ফুলের দোকানের উপর।”

–“ড্রাইভার আংকেল গাড়ি থামান।”

“ড্রাইভার গাড়ি থামায়। তূবা গাড়ি থেকে নেমে ফুলের দোকানের দিকে এগিয়ে যায়। একশো টা লাল গোলাপ দিয়ে বানানো একটা তোড়া কিনে নেয় তূবা।”

“প্রিয়রা পর্ব ২৪ পর্যন্ত পড়ে কি মনে হয়? জাবির কি তূবা কে এপসেট করবে না কি ফিরিয়ে দিবে ? তূবা কি জাবিরের হবে না সামিরের? না কি জাবিরের জন্য নতুন কেউ আসবে ? না কি শেষ পর্যন্ত জাবির পৃথিবী থেকেই বিদায় নিবে?

“সবাই ইমোজি দিয়ে দশ টা করে কমেন্ট করে দাও প্লীজ। পেইজের অবস্থা ডাউন। রেসপন্স ও করো না। তোমরা রেসপন্স করো না বলে ফেসবুক আমার পেইজের আর পোস্টের রিচ কমিয়ে দিয়েছে। গল্প লিখার উৎসাহ পাই না। তোমাদের কে বেশি অপেক্ষা করাবো না বলে নিজের শরীরের উপর জোর খাটিয়ে গল্প দিই অথচ তোমরাই রেসপন্স করো না।”

চলবে……

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply