দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ২০
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“হাত পা বাঁধা অবস্থায় নিজেকে অচেনা একটা জায়গায় আবিষ্কার করে জারা। চোখ খুলতেই নিজের সামনে জাবির কে দেখে চারশো বল্ডের একটা শখ খাই জারা। জাবির কে দেখে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে জারা।”
–” জারার চোখে ভয়ের ছাপ, জাবির দিকে তাকিয়ে তার হৃদয় যেন থমকে গেছে। জাবির ঠোঁটে এক অদ্ভুত হাসি, যা দেখে জারার ভয় আরও বাড়ছে।
“কি গো জান সোনা আলু পটল, মুলা গাজর ইত্যাদি ইত্যাদি এই ভাবে কাঁপছো কেনো”?……
“জাবিরের শান্ত কন্ঠ শুনে জারার গলা শুকিয়ে আসে, সে জাবির থেকে দূরে সরে যেতে চায়, কিন্তু হাত-পা বাঁধা থাকায় সে নড়তে পারছে না।”
“জাবির, জারার আরও কাছে আসে, জারার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে”……
“কত দিন হয়ে গেল তোমার মুখ থেকে জান সোনা, কলিজা , আলু, পটল ডাক শুনি না। একবার ডাকো না জান”!
” জারার শরীরে ভয়ের শিহরণ, সে থরথর করে কাঁপছে। ভয়ে গলা দিয়া কোন কথা বের হচ্ছে না।”
—-“জাবির এইবার জারার গলা চেপে ধরে বলে”…….
“আমার সাথে প্রতারণা কেনো করলি ? কেনো আদ্রিয়ানা সেজে আমার মন নিয়ে খেললি বল”?….
“জারার নিঃশ্বাস আটকে আসছে। চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেছে।
—“জাবিরের চোখে রাগ আর প্রতিশোধের আগুন, যা দেখে জারার হৃদয় যেন থমকে গেছে। জাবির জারার গলা আরও জোরে চেপে ধরে। জারার অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। জারার শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। তা দেখে জাবির জারার গলা ছেড়ে দেয়। জারা বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে”….
“আমাকে ছেড়ে দেন প্লীজ। আমি জানি আমি আপনার মন নিয়ে খেলা করছি। আপনার মন ভেঙ্গে দিছি তাঁর পর ও বলছি আমাকে ক্ষমা করে দেন প্লীজ”।
“জাবিরের ডিকশনারি তে ক্ষমা বলে কোন শব্দ নেই। জাবিরের মন নিয়ে খেলার শাস্তি তোকে পেতেই হবে।”
” জাবির কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই জাবিরের চোখ পড়ে জারার হাতের উপর। জাবির জারার বুড়ো আঙুল টা ধরে বলে”……
“এই হাত আর এই আঙ্গুল দিয়েই তো মেসেজ টাইপ করতি তাই না”?……
“জারা ভয় ভয় চোখ নিয়ে জাবিরের দিকে তাকায়”।
“যদি তোর এই আঙ্গুল দুই টা কেটে দিই তাহলে কেমন হয়”?…..
“না, না প্লীজ, এমন করবেন ন……..
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না জারা কারণ তাঁর আগেই জারার চোখ পড়ে জাবিরের হাতের উপর। জাবিরের হাতে ধারালো একটা ছুরি”।
“জারা কাঁপা কাঁপা গলায় বলে”……..
“প্লীজ এমন করবেন না। আমি মানছি আমি অনেক বড় অপরাধ করছি। আপনার সাথে এমন টা করা আমার ঠিক হয় নিই। আমাকে ক্ষমা করে দেন প্লীজ”…
“জাবির আগেও বলছে এখন ও বলছে , জাবিরের ডিকশনারি তে ক্ষমা বলে কোন শব্দ নেই”!
“এই কথা বলে জাবির জারার ডান হাতের বুড়ো আঙুল টা কেটে ফেলে। আর জারা ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে উঠে। জারার হাত থেকে গড়িয়ে পড়ছে লাল রক্ত”।
“কষ্ট হচ্ছে কি ? তুর আঙ্গুল কাঁটার পর তুই যতটা কষ্ট পাচ্ছিস তাঁর থেকে ও শতগুণ কষ্ট আমি প্রতিনিয়ত পায়”।
—আশা করি উপলব্ধি করতে পারছিস আমি প্রতিনিয়ত ঠিক কত টা কষ্ট পায়”।
“জারা কোন কথা বলছে না। ব্যথায় কঁকিয়ে উঠছে শুধু। জাবির নিজের হাতে থাকা জারার আঙ্গুলের দিক এক পলক তাকিয়ে আঙ্গুল টা ছুঁড়ে মারে তাঁর পোষা কুকুরের সামনে। জাবিরের পোষা কুকুর টা মূহুর্তের মধ্যে জারার আঙ্গুল টা খেয়ে ফেলে”।
— অপরদিকে জারার দম বন্ধ হয়ে আসছে। চোখে অন্ধকার নেমে আসছে। জারা বুঝতে পেরেছে যে জারার সময় শেষ। জারা কোন রোকমে জাবিরের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে”…..
“আমাকে একটু পানি দিবেন প্লীজ? আমার খুব পানি তৃষ্ণা পেয়েছে। দয়া করে আমাকে একটু পানি দিন প্লীজ।
“জাবির উঠে দাঁড়ায়। রুমের ডান দিকে থাকা টেবিল থেকে পানির বোতল এনে জারার দিকে এগিয়ে দেয়। জারা জাবিরের দিকে তাকিয়ে হা করে। জাবির বোতল খুলে জারা কে পানি খাইয়ে দেয়। পানি খাওয়া শেষে জারা জাবিরের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে”….
“ধন্যবাদ মিস্টার জাবির রায়হান চৌধুরী।
“জাবির হাতে থাকা পানির বোতল টা ছুঁড়ে মারে ফ্লারে। জারার দিকে এক পলক তাকিয়ে চলে যাওয়া জন্য পা বাড়াতে যাবে ঠিক তখনি জারা বলে উঠে”……
“এক মিনিট মিস্টার জাবির রায়হান চৌধুরী এক মিনিট।”
“জাবির জারার দিকে ঘুরে তাকায়”..
“আপনাকে শেষ বারের মতো একটা কথা বলতে চাই মিস্টার জাবির রায়হান চৌধুরী”!
“কি কথা?”……
“প্রথমে আদ্রিয়ানা সেজে আপনার সাথে প্রেমের নাটক করলেও পরে কিন্তু আপনাকে সত্যি সত্যি ভালোবেসে ফেলছিলাম।
“এতটুকু বলে থেমে যায় জারা। জাবিরের দিকে তাকিয়ে আবার ও বলতে শুরু করে”….
–“আপনার বন্ধুর ফোন থেকে প্রথম যেদিন আপনার ছবি দেখছিলাম সেই দিনই আপনার উপর ক্রাশ খেয়ে যায়। তাঁর পর আপনার সাথে কথা বলা শুরু হয়। আপনার প্রতি ভালো লাগা কাজ করে। ভালো লাগা থেকে কখন যে আপনাকে ভালোবেসে ফেলছি আমি নিজেও জানি না।”
—“আমি আপনাকে ভালোবাসি মিস্টার জাবির রায়হান চৌধুরী। আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি।”
“জারার মুখে ভালোবাসার কথা শুনে জাবিরের কেমন জানি বিরক্ত লাগে। তাই আর এক মুহূর্তও দেরি না করে পা বাড়ায় সামনের দিকে। জাবিরের যাওয়ার দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে জারা। জাবির চোখের আড়াল হতেই জারার চোখে অন্ধকার নেমে আসে।”
☘️
” এটা একটা মানুষের রুম না গরু ঘর। এই রুমে একটা মানুষ থাকে না গরু থাকে? এতো বড় ছেলে রুমের কি অবস্থা করে রেখেছে। রুম টাও গুছিয়ে রাখতে পারে না।……….
“জাবিরের মা জোবাইদা রহমান জাবির কে বকা দিচ্ছে আর জাবিরের রুম গুছিয়ে দিচ্ছে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে জাবিরের রুম গুছানো হয়ে যায়। রুম গুছানো শেষে রুমে থাকা কাবাটের দিকে এগিয়ে যায় জোবাইদা। কাবাটের দরজা খুলতেই কিছু জামা কাপড় ফ্লারে পড়ে যায়। জোবাইদা বেগম আবার ও জাবির কে বকা দিতে দিতে ফ্লার থেকে জামা কাপড় গুলো হাতে তুলে নেয়। হঠাৎ জোবাইদার চোখ পড়ে ফ্লারে পড়ে থাকা কিছু ছবির উপর। জোবাইদা ছবি গুলো হাতে তুলে নেয়। একটা মেয়ের ছবি। মেয়েটা দেখতে ভারি মিষ্টি। একদমই পরীর মতো। মেয়েটার ছবির দিকে তাকিয়ে জোবাইদা হাঁসে। কারণ তাঁর আর বুজতে বাকি রইলো না যে মেয়েটা কে তাঁর ছেলে জাবির ভালোবাসে।”
“মাশাআল্লাহ মেয়েটা তো দেখতে খুব সুন্দর। আমার ছেলের পছন্দ আছে দেখা যায়।”
“জোবাইদা জাবিরের সব জামা কাপড় গুছিয়ে কাবাটে রেখে দেয়। একটা ছবি নিজের কাছে রেখে বাকি ছবি গুলো জায়গা মতো রেখে দেয়। জোবাইদা ছবি টা নিয়ে পা বাড়ায় রুমের দিকে। রুমে গিয়ে দেখে জাবিরের বাবা রহিম অফিসের কিছু ফাইল চেক করছে। জোবাইদা রহিমের দিকে এগিয়ে যায়। রহিমের পাশে বসে রহিম কে উদ্দেশ্য করে বলে”……
“সারাদিন অফিস নিয়ে পড়ে থাকবা না কি অন্য দিকেও একটু দেখবা ?
“কি বলতে চাও তা ক্লিয়ার করে বলো জোবাইদা। তোমার পেঁচানো কথা শুনার টাইম বা মোড কোনটাই আমার নেই”।
“এই ভাবে কথা বলেন কেনো? একটু সুন্দর করে ও তো কথা বলতে পারেন।”
“ওগো, কি বলার জন্য এসেছেন বলে ফেলেন।”
“জোবাইদা হাতে থাকা ছবি টা রহিমের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে”….
“এই ছবি টা দেখো। জাবিরের রুম থেকে পেয়েছি। আমার মনে হয় জাবির মেয়েটা কে পছন্দ করে। আমি বলছিলাম কি জাবিরের তো বিয়ের বয়স হয়েছে। তুমি জাবিরের কাছ থেকে মেয়ের ঠিকানা নিয়ে মেয়ের বাবার সাথে কথা বলো।
“রহিম ছবিটা দেখে বলে”….
“ঠিক বলছো। ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে। জাবির আজকে বাসায় আসুক তাঁর পর ওর সাথে কথা বলবো।”
“কথা বলে বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলো।”
“হুম খুব শীঘ্রই করবো।
“এই কথা বলে রহিম হাঁসে। রহিমের সাথে জোবাইদা ও হাসে। হঠাৎ জোবাইদার মনে পড়ে জাহিরের কথা।”
“আমরা একজনের কথা বলে যাচ্ছি না”? আমাদের কিন্তু আরো একটা ছেলে আছে। ওর ও কিন্তু বিয়ের বয়স হয়েছে। তাছাড়া ও জাবিরের বড়। জাহিরের আগে জাবিরের বিয়ে দেওয়া টা ভালো দেখায় না। আগে জাহিরের সাথে কথা বলে জাহির কে বিয়েতে রাজি করাও। তাঁর পর দুই ভাইকে এক সাথে বিয়ে দিবো।”
“আমাদের ছেলে তো আমাদের কে দেখতে পারে না। আমাদের কে দেখলেই ওর মাথায় আগুন ধরে যায়। ওর সাথে কিভাবে কথা বলবো বলো?”…..
“তুমি ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করছো ? করো নিই, এইজন্যই তো ওর আর আমাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।”
“তাহলে কি করবো?”…
“ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করো।
দেখো ওর মধ্যে থাকা রাগ আর অভিমান টা দূর করতে হবে। আমাদের কে ওর সাথে কথা বলতে হবে। ওর মধ্যে থাকা ভুল ধারণা টা দূর করতে হবে। ও কে বুঝাতে হবে যে আমরা ও কে খুব ভালোবাসি।”
“কিন্তু কিভাবে”?…
“কালকে আমরা দুজনে ওর সাথে দেখা করতে যাবো।
“ও কি আমাদের সাথে কথা বলবে?”…
“বলবে বলবে।”
“ঠিক আছে তাহলে কালকেই ওর সাথে দেখা করতে যাবো।”
“জোবাইদা হাঁসে। আর বলে”…
“ঠিক আছে, তাহলে এটাই কথা থাকলে। তুমি কাজ করো আমি রান্না ঘরে গেলাম।”
“এই কথা বলে জোবাইদা রান্না ঘরে চলে যায়। আর রহিম কাজে মন দেয়।”
আমার নতুন পেইজ টা ফলো করে দাও না কেন ফলো করে দিলে কি হয় ? ফলো করে দাও না প্লীজ। কমেন্টে পেইজের লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে।
চলবে….
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭