Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৯


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

০৯
এক জোড়া ভয়াৎ চোখ গোল গোল দৃষ্টি বুলাই ড্রয়িংরেমের চারপাশে। কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিটিকে আশেপাশে কোথাও দেখতে না পেয়ে মূহুর্তেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মায়া। কিচেন রুমের দরজার দাঁড়িয়ে মাথা বের করে বার কয়েক উঁকি ঝুঁকি করে দেখে ন্যায় আশেপাশের সমস্ত জায়গায় গুলো। রিদকে কোথাও দেখতে না পেয়ে মূহুর্তে গুটি গুটি পায়ে বের হয়ে আসে কিচেন রুমে থেকে উদ্দেশ্য ‘ নিজের রুমে যাওয়া এবং সেই সাথে নিজের পড়ুয়া স্কুল ড্রেসটি চেঞ্জ করা। হেনা খানের কর্ড়া আদেশে মায়ার সাথে মালাও যাচ্ছে রুম অবধি। মায়ার রিদকে নিয়ে ভয় পাওয়াতে মালার সঙ্গ নিতে হচ্ছে এই মূহুর্তে। কিন্তু তাঁর আগে মালাকে হেনা খানের কর্ড়া শাসনের দাবিত হতে হয়েছে। মায়াকে আজেবাজে কথা বলা ও শেখানো জন্য। তাই অগতি মালাও মন খারাপ করে মায়ার পিছন পিছন যাচ্ছে গাল ফুলিয়ে। মায়া গুটি গুটি পায়ে ড্রয়িংরুমের পিছনের রাস্তা ধরে সচ্ছ কাঁচে বিশাল বড় সিঁড়ি ধরে উপরে উঠতে গিয়ে এক জোড়া দৃষ্টিতে আবদ্ধ হয় সে। মায়া চোখ আওড়িয়ে আবারও ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশটা পযবেক্ষণ করতে গিয়ে চোখ পড়লো সেই চোখে মুনিতে। দুই জোড়া চোখের চোখাচোখি হয়। অপরিচিত কারও সাথে চোখাচোখি হতেই মায়া অপরাধীর ন্যায় নিজের দৃষ্টি সরিয়ে। মাথা নিচু করে পা বাড়ায় নিজের রুমের উদ্দেশ্য।

ড্রয়িংরুমে বাবা-মা নানুভাই এর সাথে বসে থাকা ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেটির হঠাৎ চোখ আটকায় মায়ার উপর। অপরিচিত মেয়েকে খান বাড়িতে প্রথমে দেখে চমকালেও পরে বুঝতে পারে এই মেয়েটিই মায়া। যার কথা হেনা খানের মুখে শর্তাধিক বার শুনেছে এই নিয়ে। মেয়েটি খান বাড়িতে আসা পর থেকে শুনে আসছে মেয়েটির সম্পর্কে সে। আজ প্রথম মেয়েটি দেখা তাঁর। হালকা হেঁসে মায়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়ায় সে, ‘উদ্দেশ্য মায়ার সাথে পরিচয় হওয়া। যেহেতু মায়া খান বাড়িতেই থাকবে, তাঁরও মাঝেমধ্যে প্রায়ই এই বাড়িতে আসা যাওয়া হবে নানু বাড়ি বলে। সেহেতু পরিচয় পর্বটা সেরে নেওয়া দরকার তাদের মাঝে। কথা গুলো ভেবেই সোহাগও পা বাড়ায় মায়ার উদ্দেশ্য। সোহাগের উদ্দেশ্য সৎ থাকলে বিপত্তি সৃষ্টি হয় ঠিক তার কিছুক্ষণ পরপরই।

মায়া ড্রেস চেঞ্জ করেই গুটি পায়ে বের হয় রুম থেকে। উদ্দেশ্য নিচে আবারও হেনা খানের কাছে যাওয়া। গায়ে গাঢ় সবুজ রঙ্গের গাউন পরিহিত। গায়ে ওড়না টানতে ভুলে গেছে মায়া। মস্তিষ্ক থেকে ছুটে গেছে রিদের বলা ওড়না জড়ানো বিষয়টি। মায়ার লম্বা চুল গুলো আগেই ন্যায় বেনি করে সামনে দিকে দুই পাশে দেওয়া। দুহাতে মোটো ভরতি গাঢ় সবুজ রঙ্গের রেশমি চুড়ি। পায়ে সবুজ পাথরে পায়েল। হেনা খানের কর্ড়া আদেশ ড্রেসের সাথে মিল রেখে হাতে, পায়ে চুড়ি আর পায়েল পড়া চাই-ই চাই তাঁর। নয়তো খুব খারাপ কিছু ঘটবে মালার কপালে। তাই হেনা খানের কথা অনুযায়ী মায়াকে রেডি করিয়ে বের হয় দুজন। মায়া চেহারার ভাবটা গোমরানো খানিকটা। রিদের কথা গুলো এখনো ঠিকঠাক হজম করতে পারিনি। ভয়টাও বেশ কাজ করছে নিজের মাঝে। রুম থেকে বের হতেই সম্মোহনী হয় সোহাগের চঞ্চল দৃষ্টিতে। এতক্ষণ যাবত সিঁড়ি পাশটায় দাঁড়িয়ে নীরবে ফোন চালাচ্ছিল সে। মায়ার অপেক্ষায়। মায়ার পায়েলের ঝনঝন শব্দে চোখ তুলে তাকাই সেদিকে। ঠোঁট প্রসারিত করে সভ্যসুলভ হেঁসে দাঁড়ায় মায়ার সামনে। চোখ বুলিয়ে মায়াকে পযবেক্ষণ করে বললো..

–” বাহ! নানুমার সোনামা তো অনেক আদুরি। পুতুল পুতুল ন্যায়। দেখলেই আদুর আদুর লাগে। তাহ পুতুলমনি নাম কি তোমার?

সোহাগ গার্হস্থ সোজাসাপ্টা কথায় খানিকটা ইতস্তত বোধ করে মায়া। অপরিচিত ছেলেটিকে র্নিদ্বিধা কথা বলতে দেখে বোকা চোখে তাকাই সোহাগের দিকে। সোহাগকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সাথে সাথে নিজের দৃষ্টি নামিয়ে নিচে রাখে। মুখ এঁটে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে জায়গায় বিনা বাক্য বয়ে। মায়াকে চুপ থাকতে দেখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় সোহাগ মায়ার দিকে। মায়া যে তাঁকে ভয় পাচ্ছে সেটা ঠিক ধরতে পারছে সে। কিন্তু কেন ভয় পাচ্ছে? সেটা বোধগম্য হচ্ছে না এই মূহুর্তে। সোহাগের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মধ্যে দিয়েই পিছনে থেকে মালার হাসি মুখে উৎফুল্লতার সহিত এগিয়ে এসে বললো…

–” ছোট ভাইজান! এই হইলো ছোটো আফামুনি! নামডা হইলো মায়া। বড় স্যার ম্যাডাম সোনামা বইলায় ডাকে।

সোহাগ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় মালার দিকে। মালা প্রয়োজনের থেকে বেশি কথা বলে সেটা সোহাগে আগের থেকেই জানা। তাই যথাসম্ভব মালাকে এড়িয়ে চলে এই খান বাড়িতে আসলে। কিন্তু আজও মায়ার বদলে মালাকে উত্তর বসাতে দেখে খানিকটা বিরক্তি রেশ পড়ে সোহাগের চেহারায়। সে জানা মায়ার সম্পর্কে সবকিছু। জেনেশুনেই এসেছে মায়ার সাথে পরিচয় হতে। মায়া সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে। সহজ হতে মায়ার সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলা তাঁর। কিন্তু তার আগেই মালাকে উত্তর দিতে দেখে বিরক্তি নিয়ে মালা উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো…

–” তোমাকে বলেছি উত্তর বসাতে অন্য কারও হয়ে? যার উত্তর সে দিবে! প্রত্যেকের নিজস্ব একটা মুখ আছে বলার জন্য। তাই তোমার নিজের ভারতি শব্দ না বয়ে চুপ থাকাটায় শ্রেয়। যাকে প্রশ্নটা করা হচ্ছে তাকে উত্তরটা দিতে দেওয়াই বেটার। আই থিংকস!

সোহাগের তীক্ষ্ণ গলায় কথা গুলো শুনে মূহুর্তেই চুপসে যায় মালা। নিজের আগ বাড়িয়ে কথা বলার জন্য যে তাঁকে এই মূহুর্তে কথা গুলো শুনতে হচ্ছে সেটা বেশ বুঝতে পারছে মালা। তাই ভারতি শব্দ না বয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে জায়গায়। সোহাগ মালা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে পুনরায় স্থির করে মায়ার উপর। মায়াকে এখনো চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটা ভ্রুঁ উঁচু করে আবারও বলে উঠলো…

–” কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে হয় যে, জানো না সেটা তুমি?

সোহাগের পরপর প্রশ্ন চোখ তুলে তাকাই মায়া। খানিকটা ইতস্তত বোধ করে ভিজা গলায় আস্তে করে বললো…

–” মায়া!

–“মায়া কি? শুধু মায়া আগে পিছু কিছু নেই?

–” রিক্তা ইসলাম মায়া।

–” বাহ! নামের সাথে সাথে চেহারা, গুনের ও মিল আছে দেখছি। সবটা জোরেই মায়া মায়া ভাব তোমার। যায় হোক! আমি সোহাগ শেখ! সন অফ শাহেবা শেখ। মানে আরাফ খানের, বড় মেয়ের, বড় ছেলে আমি। ভাই বোনের দিক থেকে দ্বিতীয়। আমার বড় ও ছোট দুইটা বোন আছে। আমি অর্নাস প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমাকে ভাইয়া বলে ডাকতে পারো তুমি। আমিও তোমাকে ছোট বোন হিসাবে মেনে নিলাম। যেহেতু আমার সাথে তোমার প্রায় দেখা সাক্ষাৎ হবে সেহেতু আমাদের পরিচয় হয়ে নেওয়াটা বেটার মনে হলো আমার। তোমার কি মনে হয় এক্ষেত্রে হুম?

সোহাগে কথা বিস্মিত চোখ তাকায় মায়া। সোহাগের মধ্যে কোনো রুপ জড়তা দেখতে না পেয়ে নিজের মধ্যে খানিকটা সহজ হয়ে আসে মায়া। বুঝতে পারে সোহাগ এই বাড়িরই ছেলে। সম্পর্কে ভাইয়া হয়। রিদ ভাইয়ার মতো ভাইয়া হয় মায়ার। রিদের কথা মায়ার মাথা আসতেই আবারও খানিকটা চমকে উঠে। এই ভেবে যে, সেও কি তার রিদ ভাইয়ার মতো ভিষণ খারাপ ভাইয়া হবে। নাকি ভিষণ ভালো ভাইয়া হবে মায়ার। নিজের চিন্তায় দ্বিধা দন্ডতায় ভুক্তভোগী হয়ে আস্তে করে নিজের মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায় মায়া। মায়াকে মাথা নাড়াতে দেখে ঠোঁট প্রসারিত করে হাসে সোহাগ। একহাতে মায়ার গাল টেনে বললো….

–” বড্ড আদুরীনি তোহ নানুমার সোনামা। সহজ কথা গুলো সহজেই বুঝে যায় তাই না?

সোহাগের হঠাৎ এমন কান্ডে চমকে উঠে চোখ বড় বড় করে তাকায় অপদস্তক হয়ে মায়া। এই মূহুর্তে এমন একটা কাজের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলা মায়া। সোহাগ মায়াকে চোখ বড় বড় করে তাকাতে দেখে মূহুর্তেই শব্দ করে হেঁসে উঠে সে। মজা ছলে এবার নিজের দু’হাতে মায়ার দুগাল টেনে ধরে সাথে সাথে। হাসি মুখে কিছু বলতে নিবে তার আগেই সামনে থেকে কেউ শক্ত গলায় বলে উঠলো…

–” কি হচ্ছে এখানে??

গম্ভীর কণ্ঠে কথা কানে আসতেই চমকে উঠে সাথে সাথে তিনজনেই তাকাই সামনের দিকে। রিদকে চোখে সামনে চোয়াল শক্ত হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মূহুর্তেই ভয়ে জড়সড় হয়ে যায় মায়া। সোহাগ রিদকে দেখে হাসি মুখে মায়ার গাল ছেড়ে স্বাভাবিক দৃষ্টি বংগিতে কিছু বলতে নিবে, তাই আগেই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত কান্ড। আকস্মিক ঘটনায় রিদ মায়ার হাত টেনে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সাথে সাথে শক্ত হাতে থাপ্পড় বসায় মায়ার গালে। ঝংকার তুলা রিদের থাপ্পড়ে মূহুর্তেই শান্ত হয়ে যায় পরিবেশটা। থেমে যায় সোহাগের প্রাযবন্তর হাসিটা। চমকে উঠে রিদের হঠাৎ কান্ডে। আবাক করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রিদের দিকে। হঠাৎ রিদের এতটা রেগে যাওয়া কারণটা খুজে না পেরে, বিচিলিত হয়ে দ্রুততা সঙ্গে মায়াকে ধরতে নিবে রিদ থেকে বাঁচানোর জন্য। তার আগেই রিদ সোহাগকে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিয়ে রাগে কটমট করতে করতে দাঁতে দাঁত পিষে বললো…

–” ডোন্ট ডু দিস। স্টে এওয়ে ফ্রম হার!

সোহাগ রিদের এমন আচরণে ভরকে গিয়ে টায় জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে। রিদ সোহাগ থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে স্থির করে মায়ার উপর। মায়া তখনো রিদের হঠাৎ থাপ্পড়ের তাল সামলাতে না পেরে গালে হাত দিয়ে ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। শরীর টলমল করছে রিদের শক্ত হাতে একটা থাপ্পড় খেয়েই যখন বুঝতে পারে কি হয়েছে নিজের সাথে। তখনই শব্দ করে কেঁদে উঠে রিদের সামনে। রিদ মায়াকে কাঁদতে দেখে আরও বেশি রাগে রি রি করে উঠে মূহুর্তেই। তাই উল্টো হাতে পুনরায় থাপ্পড় বসায় মায়া বামগালে। এতে করে মায়া তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিলেই হাত টেনে ধরে রিদ। মায়ার দুবাহু শক্ত করে চেপে ধরে নিজে কাছে এনে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বলে উঠলো…

–” চুপ! একদম চুপ। আর একবার তোর মুখ থেকে কান্নার শব্দ বের হবে তোহ তোর জিব টেনে ছিঁড়ে ফেলবো আমি। আমার না করা শর্তেও ওড়না ছাড়া রুম থেকে বের হয়েছিস তুই। সেকেন্ডলি! অবাধ্য হতে না করেছি, তারপরও অবাধ্য হয়েছিস তুই। বলেছিলাম আমার ডির্বোস না দেওয়া অবধি, কোনো ছেলের পাশ ঘেঁষবি না তুই। তারপরও গিয়ে ঘেঁষলি। অবাধ্য হলি। পরপুরুষে ছুঁয়া আবারও তোর শরীরের মাখালি। কেন করলি এমনটা তুই? আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিস তুই? বলেছিলাম না আমার ইগো হার্ট করবিনা। তাও করলি? আমাকে ভালো মানুষ মনে করেছিস তুই? আমাকে তোর মানুষ মনে হয়? হ্যাঁ?

রিদের বুক কাপানো কথা মূহুর্তেই চুপ করে যায় মায়া। ঠোঁট কামড়িয়ে নিজের কান্না আটকানো বৃথা চেষ্টা করেও না পেরে ফুপিয়ে শব্দ করে কেঁদে উঠে রিদের সামনে। রিদের ভয়ে ও থাপ্পড় তরতর করে শরীর কাঁপনি দিচ্ছে মায়ার। সাথে রিদের হিংস্র চেহারায় জান বের হয়ে আসার উপক্রম মায়ার। রিদের এতটা ভয়ানক রাগের সাথে পূর্ব পরিচয় নয় মায়া। রিদের অসম্ভব লাল হিংস্র চোখ জোড়া দিয়ে যেন মূহুর্তে ভস্ম করে দিতে চাই মায়াকে। মায়াকে রিদের বাহুতে চেপে ধরা অবস্থায়, ভয়ে সাথে সাথে নিজের দু-হাতে মুখ ঢেকে ফুপিয়ে কান্না করে উঠে মায়া। এতে রিদ যেন আরও ক্ষেপ্ত হয়। মায়া দু-হাত টেনে মায়ার মুখ থেকে হাত দুটো সরিয়ে, নিজের দুহাতে আবদ্ধ করে দুমড়ে মুচড়িয়ে ধরে মায়ার পিছনে কমড়ে মধ্যে। মায়াকে পিছন থেকে চাপ দিতেই ব্যাথায় কুর্কড়িয়ে উঠে সাথে সাথে দুপা উচু করে রিদের বুকে ডলে পরে মায়া।

–” এই বয়সেই এতটা ধার্চ শরীরে তোর? পুরুষ মানুষে ছুঁয়া এতটা পছন্দ তোর? না করা শর্তেও ডলাডলি করে বেড়াস তুই? শরীরের জ্বালা মেটাস তুই অন্যকে দিয়ে? আমার নামের জড়িয়ে থেকে আমারই নামের কলঙ্ক করিস তুই? জানে ভয় নেই। নাকি আমার চুপ থাকাটাকে ভালো মানুষি মনে করেছিস তুই? কোনটা হ্যাঁ? চল! আজ তোকে ডেমো দেখায়, আমার অবাধ্য হলে কি হয় সেটার?

কথা গুলো বলেই রিদ মায়ার পিছনের হাত দুটো আরও শক্ত করে দুমড়ে মুচড়ে ধরে। যার ফলে মায়ার হাতে রেশমি চুড়ি গুলো ভেঙে ঝরঝর করে পরে ফ্লোরে উপর। মায়ার হাত কাটে। কাটে রিদেরও হাত। দু’জনের হাতে চুড়ি ভেঙে ঢুকে যায়। তারপরও রিদের বিন্দু মাত্র ভাবান্তর নেই। সে কোনো ভাবেই মায়াকে ছাড়তে ইচ্ছুক নয়। রিদের রাগটা যেন মাথায় চেপে বসেছে আজ। পাশ থেকে রিদের এমন কান্ডে বিচলিত হয়ে পরে সোহাগ। দু’জনের হাতের অবস্থা দেখে উত্তেজিত কন্ঠে বললো….

–” ভাই! কি করছো ছাড়ু ওকে প্লিজ। মায়া ছোট অবুঝ ওহ! ব্যাথা পাচ্ছে হাতে। রক্ত ঝরছে হাত থেকে। সাথে রক্ত পড়ছে তোমার হাত থেকেও। তুমি….

আবারও থামে সোহাগ। রিদের লাল হিংস্র চোখের দৃষ্টিতে মূহুর্তেই চুপ করে যায় সে। রিদ রাগে রি রি করে মায়া উদ্দেশ্য করে বললো…

–” দেখছিস তোর বুলি আওড়াচ্ছে সে? অল্প কিছু সময়েই দেওয়ানা বানিয়ে নিলি তোর রুপের বাহ! তোর তোহ হেভি গুণ আছে ছেলেদের নিয়ে হুমম। যাহ! যে কাজটা আমি তোর আঠারোতে করতাম। সেই কাজটা আমি আজই করে যাবো তোর জন্য। তোকে আজই ডির্বোস দিয়ে তারপর যাবো আমি। এবার ওড়না ছাড়া এক ছেলে কেন? শত ছেলে সাথে ডলাডলি করে বেড়াস তুই। এতে আমার কিছুই যায় আসে না। তোর মতো মেয়েদের কাজই এই গুলা করা। তুই কর এবার! যাহ!

রিদের পরপর নোংরা কথায় চোখ বন্ধ করে ফুপিয়ে উঠে মায়া। হাতে ব্যাথা, গালের জলসা ব্যাথায় সয্য করতে না পেরে কাঁদতে কাঁদতে নিজের মাথাটা আস্তে করে এলিয়ে দেয় নিজের বুকে। কান্নায় টইটম্বুর হয়ে কোনো রকম অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠে….

–” আমি ব্যাথা পাচ্ছি তোহ ভাইয়া…

রিদের বুকে মায়ার বেখেয়ালি মাথা রাখাটায় যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় মায়ার জন্য। এই মূহুর্তে মায়াকে রিদের কাছে পৃথিবীর নোংরা জাতীয় কিছু মনে হচ্ছে। সোহাগের বেখেয়ালি স্পর্শ করাটা মোটেও পছন্দ হয়নি রিদের। সাথে রিদের বলার পরও মায়ার গায়ে ওড়না না জড়ানোটা ছিল রিদের দ্বিতীয় বার রাগের কারণ। মায়াকে রিদ পছন্দ না করলেও, মায়ার গায়ে ততক্ষণ অন্য কেউ টার্চ করতে পারবে না। যতক্ষণ না মায়া রিদের নাম জড়িত বউ হয়ে থাকবে। মায়ার সাথে রিদের ডির্বোস হওয়ার পর, মায়া যাহ খুশি তাহ করতে পারবে। কিন্তু ডির্বোস না হওয়ার আগ পযন্ত কিছুই করতে পারবে না।

এই মূহুর্তে রিদ মায়াকে আর সোহাগকে একসাথে দেখে সেটা মেনে নিতে পারিনি। যার ফল স্বরুপ এমনটা করা। রিদের ধারণা মায়া ইচ্ছাকৃত ভাবে বারবার রিদের ইগো হার্ট করছে। যেটা রিদের নীতি বাহিরে। আজ পযন্ত রিদের কথার অবাধ্য কেউ হয়নি যারা হয়েছিল সবাই এখন পরলোক গমনোদ্যত হয়েছে। সেখানে পিচ্চি একটা মেয়ে তাঁর ধৈর্য পরীক্ষা নিচ্ছে। বিষয়টি ভেবেই যেন রক্ত টগবগিয়ে উঠছে মাথায় রিদের। সেই সাথে মায়ার রিদের বুকে নিজের কপাল ছুঁয়ানোটা ছিল সেই রাগে ঘী ডালার মতো। ছিটকে মায়াকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে পরপর দুটো থাপ্পড় বসায় মায়ার গায়ে। মায়া রিদের সেই থাপ্পড়ে নিজের তাল সামলাতে না পেরে ছিটকে বারি খায় দেয়ালে সঙ্গে। রিদের থাপ্পড়ের প্রহরটা এতটাই তীক্ষ্ণ ছিল যে, মায়া দেয়ালের সঙ্গে বারি খেয়ে সাথে সাথে লুটিয়ে পড়লো ফ্লোরে উপর অজ্ঞান অবস্থায় রিদের পায়ে কাছে। মায়ার হাত লেগে সাথে সাথে পাশের বড় ফ্লাওয়ার ভাজটা ভেঙে পড়ে ফ্লোরে মায়ার সাথে। সোহাগ মায়ার পরিণতি দেখে সাথে সাথে চিৎকার করে উঠে মায়াকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু তার পরও মায়াকে ছুঁতে পারছে না রিদের ভয়ে। পিছনে থেকে মালা রিদের ভয়ে বিনা শব্দে কেঁদে উঠে মায়ার জন্য।



বিকট শব্দ কানে আসতেই। সবাই আতংকে উঠে সিঁড়ি ওপরের দিকে তাকায়। হাসি হাসি সবার মুখখায় মূহুর্তেই পড়ে যায় উত্তেজনার চাপ। বিকট শব্দের সাথে সাথে কানে ভেসে আসে পুরুষ ওয়ালি কন্ঠে উচ্চ স্বরে চিৎকার শুনা যায়। কেউ কাউকে বাঁচাতে চাইছে। উপস্থিত ড্রয়িংরুমের সবাই ভয়ে আতংকে উঠে উপরের দিকে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে প্রাণপূণ দৌড় লাগায় সেদিকে। টানটান উত্তেজনায় আরাফ খানের পিছন পিছন বাকিরাও দৌড়ে যাচ্ছেন সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে চিৎকারের উৎস ধরে। হেনা খান ব্যস্ত হাতে আবারও রান্নার কাজ চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ পুরুষ ওয়ালি কন্ঠের চিৎকার কানে আসে। ধোঁয়া উড়িয়ে দেওয়া রান্নার ক্ষুন্তিটা মূহুর্তেই থানে। একপ্রকার দৌড়ে চলে যায় দোতলায় দিকে। পিছন পিছন বাকি সার্ভেন্ডরাও দৌড়ায়। উদ্দেশ্য মুল গন্তব্যে পৌছানো। সবাই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই থমকে দাঁড়ালো। থেমে যায় পা দুটো আপনাআপনি। সামনের ভয়াবহ বিধস্ত ধ্বংসাত্বক! অবস্থায় কম্পন সৃষ্টি হয় সবার ভিতরে। ভয়রা সব দলা পাকিয়ে আসে। গলা শুকিয়ে কাটকাট হয়ে যায় সবাই। হেনা খান প্রাণপূর্ণ দৌড়ে আসে দোতলায়। হাঁপিয়ে উঠে সবার পিছন থেকে সামনে তাকাতেই নিস্তব্ধ হয়ে তিনি। পার্থর মূর্তি মতো দাঁড়িয়ে পড়ে টায় জায়গায়। কয়েক সেকেন্ড দম নিয়ে চিৎকার করে উঠে শক্তি দিয়ে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে দৌড়ে যায় মায়ার র্নিতন্ত ফ্লোরে পড়ে থাকা দেহটার দিকে। ঝাপটে তুলে নেন মায়াকে নিজের কোলের উপর। চিৎকার করে কান্না করতে থাকেন বুক ফুলিয়ে। মায়া ঠোঁট, নাক কপাল দিয়ে অনবরত রক্ত ঝরছে। তার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিদ। দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে রাগে রি রি করছে। অগ্নিকুন্ড ধারণ করে আছে এই মূহুর্তে। দুই চোখে থেকে যেন অগ্নির লালা ঝরছে ক্ষণে ক্ষণে। অসম্ভব লাল লাল দুটো চোখ মায়ার ফ্লোরে পড়ে থাকা দেহটির দিকে তাক করা।

রিদের রাগের ধাপটা এমন, যেন এই মূহুর্তে আরও দুইটা কষে থাপ্পড় মারার ইচ্ছা প্রবল মায়াকে তাঁর। ইচ্ছাটা দমাতে না পারায় ক্ষেপান্নীতটা উগ্রড়ে পড়ছে বারবার। হেনা মায়া কোলে তুলে কান্না জড়িত গলায়, মায়ার গালে হালকা থাপ্পড়ে হুস আনার চেষ্টা চালিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বললো….

–” সো সোনামা আমার উঠ তুই! কি হয়েছে তোর? দাদীমাকে বল তুই? এইতো দাদী এসে তোর কাছে। উঠ তুই! সোনামা? ওহ সোনামা?

সোহাগ নিজের উত্তেজনার দমাতে না পেরে সাথে সাথে হেনা খানের সামনে প্রায় হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে। উদ্ধিগ্ন কন্ঠে বলে উঠলো…

–” নানুমা! সি ইজ লোস্ট কনশাস্নেস। মাথায় আঘাত পাওয়ার জ্ঞান হারিয়েছে একটু আগে। সি নিড এ ডক্টর নানুমা। দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া দরকার ওকে।

–” কি হয়েছে আমার সোনামার? এতটা আঘাত পেল কিভাবে ওহ? শব্দ গুলা কিসের ছিল? মাত্রই তো আমার সাথে কথা বলে উপরে এসেছিল ডেস চেঞ্জ করতে। আমি পাঠিয়েছিলাম মালাকে দিয়ে তাহলে এমনটা হলো কিভাবে??? কে করলো এমনটা আমার সোনামার সাথে??

–” রিদ ভাইয়া আঘাত করেছে। অকারণেই মায়ার উপর হাত তুল…

থামে সোহাগ। অসম্ভব লাল এক জোড়া চোখকে নিজের উপর তাক করতে দেখে আবারও থেমে যায় সে। ভয়ে শুকনো ঢুক গিলে। রিদ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু হুট করে মায়াকে এতটা আঘাত করার কথাটা বুঝতে পারছে না সোহাগ। সবিই ঠিকঠাক ছিল। সেতো মায়ার সাথে কথা জাস্ট মজা করতে এসছিল। তার মধ্যে দিয়েই রিদের অপ্রত্যাশিত আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মায়ার উপর। কিন্তু কেন? এতটা অধিকার বোধ কিসের? আর কিসের বা ডির্বোস দুজনের মধ্যে? তাহলে কি মায়া রিদ ভাইয়ের বউ? নিজের বউকে সামান্য ছুঁয়াই এতটা ডেস্পারেট? সামান্য জন্য? নাকি আরও কিছু আছে রিদ ভাইয়ার মনে মায়াকে নিয়ে?

চলিত…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply