Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮১(প্রথমাংশ+শেষাংশ)


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

৮১_প্রথমাংশ
শীতের উষ্ণময় পড়ন্ত বিকাল। পশ্চিম আকাশে সূর্যটা হেলিয়ে আছে। আছরের আযান হলো বেশ সময় হয়নি। কাঁধের টনটন ব্যথায় মায়া মাথা উঠিয়ে বসল বারান্দার কাউচের উপর থেকে। কাঁদতে কাঁদতে এখানেই হেলিয়ে ঘুমিয়ে পরেছিল ওহ। তীব্র ব্যথা অনুভব করতেই কাধে একহাত ঘষতে ঘষতে বাহিরের দৃষ্টি ফেললো ফুলা ফুলা চোখে। চোখ জ্বালা করে উঠতেই বিরক্তিতে উঠে দাঁড়াল। এই অসময়ে কতক্ষণ ঘুমিয়ে জানা নেই মায়ার। দুপুরে দিকে না খেয়ে বসেছিল এখানে। তারপর রিদের কথা মনে করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরেছিল। এখন পড়ন্ত বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামবে। ফ্রেশ না হয়ে মায়া গায়ে হলুদ ওড়না জড়িয়ে রুম থেকে বের হলো। পেটে খুদা লেগেছে বেশ। না খেলেই নয়। দোতলা ঘর থেকে বের হয়ে সিঁড়ি ধরে মায়া নিচে নামল। নিচের ফ্ল্যাটের দরজাটা খুলা থাকায় ঝামেলা বিহীন ঢুকে গেল। ক্লান্ত আর ঘুমের রেশ ঠিকঠাক কাটাতে পারেনি বলে আশপাশটা তেমন লক্ষ করলো না। সোজা সামনে চলল। বসার ঘরে মায়া ঢুকতে রিদ চোখ তুলে তাকাল সেদিকে। সদ্য ঘুম জড়ানো ফুলা চোখ গুলোর দিকে এক পলক তাকিয়ে রিদ ফের দৃষ্টি সরিয়ে শফিকুল ইসলামের দিকে তাকাল। মায়া বেখেয়ালি পনায় তখনো রিদের উপস্থিতটা ধরতে পারল না। বসার ঘর থেকে কিছুটা দূরে যেতেই হঠাৎ মায়া থামে। চমকে উঠে পাশে তাকাতেই চোখে পড়ল শফিকুল ইসলামের মুখোমুখি রিদ বসে আছে সোফায়। চমকিত মায়া আড়ষ্ট হয়ে একপাশে দাঁড়াতেই দেখল ড্রয়িংরুমে পূর্ব থেকে সবাই উপস্থিত ছিল শুধু মায়া ছাড়া। মায়া এক পলক আশেপাশে তাকায়। জুই আর রেহেনা বেগমকে দেখল কিচেনের সামনে দাঁড়ানো। আর শফিকুল ইসলামের সাথে আরিফও রিদের মুখোমুখি বসে আছে। আসিফ রিদ থেকে দুই কদম দূরে দাঁড়ানো। আসিফের দৃষ্টিও মায়ার উপর। মায়া সঠিক বুঝল না এখানে কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে মায়া এতো বুঝতে পারলো মায়া এই আলোচনার মাঝে ঢুকেছে। মানে এই আলোচনা আরও পূর্ব থেকেই শুরু হয়েছে। মায়া কৌতূহলতা দূর হলো রিদের কথায়। রিদ শফিকুল ইসলাম উদ্দেশ্য ফের বলল…

—” আপনার জামাই হিসাবে আমাকে পছন্দ না। আমার যে শশুর হিসাবে আপনাকে মনে ধরেছে এমনটাও না। দুজনই দুজনের অপছন্দের তালিকায়।তারপরও কম্পোমাইজ করতে হবে দুজনকে। কারণ একটাই! আপনি আপনার মেয়েকে ভালোবাসেন। আমিও আপনার মেয়েকে ভালোবাসি। আপনি ত্যাড়ামি করবেন আর আমি যে তা সয্য করবো এমনটাও না। আপনার মেয়ে আমার বউ আজ বিগত এগারো বছর ধরে। রিতের ছয় বছর পর থেকে সে আমার সাথে আমার বউ হয়ে জড়িয়ে আছে। তারমানে রিত আপনার মেয়ে হয়েছিল মাত্র ছয় বছর। এখন আমার ইহকাল পরকালের সাথে সাথে দুনিয়ার বাকি জীবনটাও তো আপনার মেয়ের সাথে কাটাতে হবে। এবার হিসাব করে দেখতে গেলে, আপনার থেকে আমার দাবি বেশি আপনার মেয়ের উপর। এখন আপনি যদি বাবা হয়ে আমার বউকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চান তাহলে সেটা একান্ত আপনার চিন্তা। তবে এই ক্ষেত্রে আমার চিন্তাটা একেবারে ভিন্ন। আমার বউয়ের দ্বিতীয় বিয়ে মানেই হলো কাড়ি কাড়ি লাশের বন্যা বয়ে যাওয়া। আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি। কতটা ভালোবাসি সেটা হিসাব করা দুষ্কর। নিজেও আজ পযন্ত হিসাব মেলাতে পারিনি এই বিষয়ে। আপনার মেয়েকে ছাড়া আজকাল আমার শুয়ে বসেও শান্তি লাগে না। অশান্তি অস্থির লাগে। আমার অবাধ্য মনটা সারাক্ষণ বউ বউ করে। মানে তাঁর আপনার মেয়েকেই লাগবে। আর আমি হলাম বাঁধ্য পুরুষ। অবাধ্য মনের লাগাম টানতে বউ নিতে চলে আসলাম। বউ না পেলে আপাতত আমি আপনাদের কিছু করবো না। কিন্তু যারা বিয়ে করার উদ্দেশ্য আমার বউকে দেখতে আসতে রাজি হবে তাদের পুরো পরিবারের লাশ এনে আপনার বাড়িতে ফিরবে। আপনি মেয়ের জন্য ছেলে খুজতে খুজতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন কিন্তু আমি সেই ছেলেদের লাশ ফেলতে ফেলতে ক্লান্ত হবো না। আমার প্রফেশন এটাই! তবে রোজ কতটা মানুষ খুন করি সেটা দেখার বিষয় আপনার না। আপনি বাবা হয়ে শুধু দেখবেন আপনার মেয়েকে আমি কতোটা সুখে রাখছি আমার কাছে! আমি তাকে অসুখী রাখছি কিনা সেটা আপনার মেইন ফ্যাক্ট হওয়া উচিত। নাকি আমি কতটা খারাপ মানুষ সেটা দেখা উচিত? আমি গ্যাংস্টার সেটা বাহিরের মানুষের জন্য। বউয়ের জন্য আমি শুধুই তার ভালোবাসার জায়গায়। তার একমাত্র নিরাপদ স্থান। আমার মনে হয় না এর থেকে বেশি আপনাকে আমার আর কিছু বলতে হবে। বউয়ের মন রাখতে এখানে আসা। নয়তো কথা আমি নিজের বাপেরও শুনি না।

রিদের দায়সারা কথায় দম মেরে বসে আছে আরিফ। আপাতত সে কিছুই বলতে চাচ্ছে না। দুইদিক থেকেই সে ফেঁসে আছে। এদিক সেদিক দুটোই তার। মায়ার হঠাৎ সুইসাইড করার কারণ জানার কৌতূহলটাও বেশ কিন্তু ঝামেলায় মায়াকে এখনো কিছু জিজ্ঞেসা করা হয়নি তার। আগের মায়ার বিষয়টা জানবে তারপর বাকি সব ডিসিশন! শফিকুল ইসলামের বরাবরই রিদকে অপছন্দ। মায়াকে রিদের কাছে ফিরত পাঠাতে চাই না বিগত সময়ের গঠিত মায়ার হঠাৎ সুইসাইড করাকে কেন্দ্র করে। মায়া কিছু না বললেও তিনি জানেন রিদই হয়তো মায়াকে সুইসাইড করতে বাধ্য করেছে। এখন উনার কথা হলো বিয়ে মাসেককের ভিতর যদি উনার মেয়ে মরতে যায় তাহলে আগামী দিন গুলোতে যে উনার মেয়ে রিদের কাছে ভালো থাকবে তার কি নিশ্চিয়তা। এমনটাও তো হতে পারে কাল উনার মেয়েকে এই ছেলে নিজেই মেরে ফেলল। অস্বাভাবিক কিছু না। এই ছেলের নামে রোজ খুন খারাপি হয়। গুন্ডামীতে সেরা। এমন ভয়ানক ছেলের কাছে কোনো বাবাই তাদের মেয়েদের নিয়ে নিরাপদ মনে করে না। তিনিও করে না। প্রথম থেকেই রিদের উপর উনার বিশ্বাস ছিল না। মায়ার ভবিষ্যত নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিল। হলো তাই! এই ছেলে জন্য উনার মেয়েটা মরতে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো পুনরায় ফিরে পেয়েছেন উনার মেয়েকে। এবার যদি তিনি আবারও একিই ভুল করে, এই ছেলের সাথে উনার মেয়েকে সংসার করতে পাঠায় তাহলে সংসার তো হবেই না বরং এবার নিশ্চিত নিজের মেয়েকে হারাবেন চিরতলে। তিনি দৃঢ় নিজের সিদ্ধান্তে! যতকিছু হোকনা কেন মেয়েকে তিনি পাঠাবেন না এই ছেলের সাথে। দরকার হলে মেয়েকে তিনি কুমারী করে রাখবে সারাজীবন তারপরও এমন স্বামী ঘরে আর পাঠাবেন না। এতে যা করা লাগে তিনি করবেন। বেশ গম্ভীর কণ্ঠে বললে শফিকুল ইসলাম…

–” আমি এই নিয়ে বেশ কয়েক বার বলে ফেলেছি মেয়েকে আমি তোমার ঘরে পাঠাবো না। এবার যতকিছু হোকনা কেন! যে সংসারে ছাব্বিশ দিনের মাথায় আমার মেয়ে সুইসাইড করতে যায় সে সংসারের দরকার আপাতত আমি মনে করছি না। মেয়ে আমি পাঠাব না তোমার ঘরে! সব বাবা-মা ই সন্তানের ভালো চায়। আমি বাবা হয়ে নিজের সন্তানকে এমন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারবো না। যেখানে সন্তানের নিজের জীবনের নিরাপদ নেই। আপসোস তোমার সন্তান নেই। থাকলে তুমিও বুঝতে বাবাদের কষ্ট কতোটা হয় নিজের সন্তানদের কষ্ট দেখলে। দোয়া করি আল্লাহ যেন তোমাকে মেয়ে সন্তান দান করেন। এবং সেই সন্তানদের ধারা তোমাকে বুঝাক বাবাদের কষ্ট কাকে বলে!

শফিকুল ইসলামের কথায় রিদ সহমত পোষণ করে হেয়ালি কথায় বলে…

—” একজেক্টলি! আমিও সেটাই বলছি। আপনি মেয়ে না দিলে তো আমি বাবা হতে পারবো না। আপনার দোয়া কবুল হওয়ার জন্য হলেও আমার আপনার মেয়েকে চাই।

রিদের দায়সারা কথায় থমথমে খেয়ে যায় শফিকুল ইসলাম। খানিকটা রাগান্বিত কন্ঠে বলল..

—” আমার মেয়ের জন্য কি দুনিয়াতে ছেলের অভাব পড়ছে? তোমার থেকে ভালো ছেলের হাতে আমার মেয়েকে তুলে দিব আমি। দেখিও তুমি। জান থাকতে তোমার ঘরে পাঠাবো না আমি আমার মেয়েকে। তুমি যদি জোর করে আমার মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যাও তাহলে তোমার বাড়িতে গিয়ে সুইসাইড করে মরবো আমি। তখন তুমি থাকিও আমার মেয়ের ঘৃণা আর অপরাধী হয়ে সারাজীবন।

আসিফ ভয়ার্ত চোখ বুলিয়ে তাকাল রিদের দিকে। উপস্থিত সবাই দৃষ্টি রিদের উপরই। রিদ শফিকুল ইসলামে কথায় তেমন প্রতিক্রিয়া জানাল না। তিনি না করবেন এমনটা সে জানতো। তবে এমন ক্রিমিনাল মাইন্ডের কথা বলবে সেটা সবেমাত্র জানতে পারল। শশুরটাও দারুণ মাইন্ডের! রিদের বেশ লেগেছে। বাবার মৃত্যুর কথা শুনে মেয়ে এবার জীবনে যেতে চাইবে না রিদের সাথে। শশুরের ক্রিমিনাল মাইন্ডের প্রসংশা করতে হয়। রিদ আলতো হাসলো! বউয়ের মন রাখতে এখানে আসা তার। এবার যদি শশুর মশাই রিদের ভালোমানুষি বুঝতে না চায় তাহলে সে আর কি করবে? তার তো কিছু করার নেই! ভালো মানুষ তো আর সে না। তা তার যা করার তাই করবে। রিদ আগের নেয় শান্ত স্বরে বলতে লাগল…

—” আপনার মেয়ে আমার সবচাইতে বেশি দুর্বলতা জায়গায়। এতক্ষণে সেটা আপনিও বুঝে গেছেন। যায় হোক! আমার একটায় কথা, এখন যদি আপনি বাড়াবাড়ি করে আমার বউ, আমাকেই না দেন। এবং আমার সংসার ভেঙ্গে অন্য কোথায় বিয়ে দিতে চান। সে ক্ষেত্রে আমি কাউকে বিচার করবো না। দরকার পরলে আপনাদের সবাইকে মেরে বউ উঠিয়ে নিয়ে যাবো। জোর করে সংসার করবো আপনার মেয়ের সাথে। তাতেও যদি বউ রাজি না হয়, তাহলে আপনার মেয়েকে মেরে তার লাশ নিয়ে সংসার করবো। তারপরও বউকে ছাড়ছি না আমি। করুক বউ আমাকে ঘৃণা! তাতে আমার কি? বউ পাশে থাকাটা জরুরি! ভালোবাসাটা জরুরি না! এখন আপনি ঠিক করেন, সবকিছু সুন্দর শালীন ভাবে করতে চান? নাকি লাশের বন্যা বানিয়ে থামতে চান। আপনি যাহ চাইবেন সেটাতেই আমি রাজি। চয়েস ইজ ইউর!

রিদের কথায় তেতে উঠে শফিকুল ইসলাম। ক্ষেপান্তর গলায় বলে…

—” তোমার কি মনে হয়? আমি তোমার হুমকিকে ভয় পায়? যাও! যা করার করো! দিব না আমি আমার মেয়েকে। তোমার ক্ষমতা, গুন্ডামীকে আমি ভয় পায় না। মেরে ফেলো আমাদের! তারপরও মেয়েকে পাঠাব না তোমার ঘরে।

শফিকুল ইসলামের কথায় ঠাস করে দাঁড়িয়ে পড়ল রিদ। সম্মতি দিয়ে শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে সোজাসাপ্টা উত্তরে বলল…

—” ওকে ডান! তাই হোক! আমি আমার করনীয় করছি! এবার আপনি পারলে আমাকে আটকে দেখান!

কথা গুলো বলতে রিদ মায়ার দিকে এগিয়ে গেল শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে। থমথমে পরিবেশটা মুহূর্তে উত্তেজিত হয়ে উঠল রিদ আর শফিকুল ইসলামের মুখোমুখি অবস্থাতে। মায়া কম্পিত শরীরে ভয়ার্ত মুখে বারবার তাকাচ্ছে রিদ আর শফিকুল ইসলামের দিকে। মায়া কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না। বলার মতো কথা এই মূহুর্তে গলা দিয়ে আসছে না। রিদ এগিয়ে এসে মায়ার হাত টেনে ধরে নিজের সাথে জোর করে নিয়ে যেতে থাকল। মায়া পরিস্থিতি অনুকূল বুঝে রিদ থেকে নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো শফিকুল ইসলামের মুখের দিকে তাকিয়ে! শফিকুল ইসলাম রিদের কাজে চমকাননি! তিনি পূব থেকে নিশ্চিত ছিল রিদ যেন এমন কিছু করবে। তিনি এগিয়ে গেলেন রিদের সম্মোহে দাঁড়িয়ে বাঁধা দিল। দীর্ঘ এগারো বছর পর মুখোমুখি হল জামাই শশুর। মায়া নিজের হাত রিদের হাত থেকে ছাড়ানো চেষ্টা করে’ ছাড়ুন বলছি! বলে। রিদ মায়াকে ছাড়ল না বরং সবকিছু অপেক্ষা করে নিয়ে যেতে চাইলে কেঁদে উঠে মায়া। টেনে ধরে রিদের হাত। হাতে টান পরতেই রিদ ঘাড় ঘুরিয়ে কপাল কুঁচকে তাকায় মায়ার দিকে। মায়া চোখে পানি নিয়ে রিদের সাথে যেতে চাচ্ছে না দেখে মূহুর্তে রাগে তেতে উঠে রিদ। সবকিছু ছেলে খেলা পেয়েছে? বাপ-বেটি মিলে তার মজা পেয়েছে? তার ছটফট কারও চোখে না পরলে, সে কেন অন্যের কথা শুনতে যাবে? রিদ মায়া হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরে রাগে কটমট করে তাকাল মায়া দিকে। আরিফ দ্রুততা সঙ্গে এগিয়ে এসে শফিকুল ইসলামকে বাঁধা দিয়ে রিদের উদ্দেশ্য বলল…

—” ভাইয়া প্লিজ এই মূহুর্তে রাগারাগি করে কোনো সমাধান পাবেন না। রিতুর হঠাৎ সুইসাইডের বিষয়টাতে আমরা সবাই ভয় পেয়েছি। এজন্য বাবা রিতুকে আপনার সাথে পাঠাতে আপত্তি করছে। তবে ভাইয়া আমি কথা দিচ্ছি আমি বাবাকে বুঝিয়ে রিতুকে আপনার কাছে পাঠাব। প্লিজ ভাইয়া কিছুদিন সময় দিন ওদের। রিতুও মানসিক ভাবে ডিস্টার্ব! প্লিজ বুঝার চেষ্টা করুন। অন্তত কয়েকটা দিন দেন!
~~
রাত বারোটা! আবছা অন্ধকার রুম। ডিম লাইটের মৃদু আলো জ্বলছে রুমে! মায়া খাটের সাথে হেলান দিয়ে আধশোয়া অবস্থায় বসে আছে। হাতে কর্ণার ল্যামপের সুইচ। সেটাকে বারবার অন অফ করছে মন খারাপে। বিকালে দিকে আরিফের কথায় রিদ ঝামেলা করেনি। চলে গিয়েছিল মায়াকে অগ্নি দৃষ্টিতে শাসিয়ে! মায়া ভাবেনি রিদ মায়ার জন্য শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলতে আসবে। মায়া অবিশ্বাস লেগেছিল রিদের উপস্থিতটা। কিন্তু বাবা আর রিদের মধ্যে বনাবনি হতে না দেখে মায়া সেচ্ছায় চুপ ছিল। মায়া এবার সত্যি রিদের সাথে যেতে চাই না। আর কেনই বা ওহ যাবে? রিদ তো দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। তার বউও আছে। তাহলে কেন আসল মায়াকে নিতে? দুই বউ নিয়ে সংসার করতে চায় বলে এজন্য? কিন্তু মায়া তো সতীন নিয়ে সংসার করতে চায় না বলেই দুইদিন আগে, সেদিন রাস্তায় রিদকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বলেছিল শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে মায়াকে নিয়ে যেতে নয়তো ওহ যাবে না। কারণ মায়া পূর্ব থেকেই জানতো শফিকুল ইসলাম মায়াকে রিদের কাছে আর পাঠাবেন না। আর রিদও যে ত্যাড়া মানুষ জীবনের কারও কাছে নত হয়ে কিছু করবে না কখনো। রিদের শফিকুল ইসলামের কাছে আসা মানে রিদ খানের ইগোতে লাগা। কিন্তু রিদ সম্পূর্ণ মায়াকে ভুল প্রমাণ করে ইগো ফেলে আসল মায়ার জন্য শফিকুল ইসলামের কাছে। এতে মায়া অন্তত চমকে ছিল। কিন্তু তাই বলে মায়া সব ভুলে রিদের কাছে ফিরে যাবে এমনটাও না। মায়ার কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে তৎক্ষনাৎ একটা প্রশ্ন উদয় হলো! আচ্ছা উনার দ্বিতীয় বউটা এখন কোথায় আছে? খান বাড়িতে উনার রুমে আছে? হয়তো আছে! বিয়ে যেহেতু করেছে সেহেতু এক রুমে থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। সেদিন তো দুজন একসঙ্গেই ছিল। গলায় দলা পাকিয়ে আসা কষ্ট গুলো মায়া শুকনো ঢুক গিলে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো। মায়া কাঁদতে চায় না। তারপরও কেঁদে ফেলে। শক্ত হতেই পারে না। কি করবে মায়া রিদকে ছাড়া তো অন্য কোনো দুনিয়া সে দেখেনি। দেখতেও চাই না। রিদ না হলেও মায়া জীবনের দ্বিতীয় কোনো পুরুষ আসবে না। একদম না। রিদের ছুঁয়া থাকবে শেষ। রিদই মায়ার স্বামী হয়ে থাকবে। সংসার না করুক। ডিভোর্সও দিবে না রিদকে মায়া। কক্ষনো না। আবার একত্রে সংসার ও করবে না। মায়া দু’হাতে চোখের জল মুছতে মুছতে বারান্দায় খটখট শব্দ পেল। মায়া আবছা আলোয় সেদিকে তাকায়। এতো রাতে কিসের শব্দটা সে বুঝল না। তাই সেটা আমল নিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে শব্দটা তীব্র হতেই মায়া বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল বারান্দা থেকে কিসের শব্দ আসছে সেটা দেখতে। বাহিরে ঠান্ডা বেশ। গায়ের ওড়না নিতে গিয়েও নিল না। সেতো রুমে একাই। তাছাড়া এতো রাতে বারান্দায় হয়তো রাস্তার বিড়াল লাফিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। মায়া তাড়িয়ে দিলে চলে যাবে ভেবে ছেড়ে রাখা এলোমেলো চুল গুলো হাত খোঁপা করতে করতে এগোল সেদিকে। বারান্দা দরজার খোলায় আছে। মায়া কাছেকাছি যেতেই হঠাৎই ধুপ শব্দ করে কিছু বারান্দায় লাফিয়ে পড়ার শব্দ হতেই মায়া চমকে উঠে তাড়াহুড়ো সেদিকে ছুটে গেল। আবছা আলোয় মায়া বারান্দা ঢুকতে কেউ ওকে এলোমেলো ভাবে ঝাপিয়ে চেপে ধরে নিজের সাথে। আতংকিত মায়া চমকে উঠে বলে…

—” আরেহ কে আপনি ছাড়ুন? আরেহ! ছাড়ুন! উফফ!

জোড়াজুড়িতে মায়া বুঝল মানুষটি কে। কিন্তু থামানোর মতো পরিস্থিতি রইল না। জোড়াজুড়িতে মায়া বলে…

—” না! না! দেখুন! আমার জামাটা ছিঁড়বেন না। এটা আমার নতুন জামা! ছিঁড়লে আম্মু বকবে। প্লিজ ছিড়বেন না। আরেহ শুনুন। কি করছেন! উফফ!

—” আমি না থাকলেই তোর যত সাজগোজ থাকে।

—” ইশ আমি ব্যথা পাচ্ছি! আমি সাজেনি শুধু নতুন জামাটায় পরেছিলাম… আহ!

তীব্র গলা ব্যাথায় মৃদু চেচিয়ে উঠে মায়া। জোড়াজুড়িতে রিদকে থামানো দায়। অন্যান্য দিনের মতো কোমল আচরণ রিদ করছে না মায়ার সাথে। তার আচরণে মায়ার প্রতি রাগটায় প্রকাশ পাচ্ছে। রিদ মায়াকে দেয়ালে সঙ্গে চেপে ধরে অন্যহাতে জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলল ফ্লোরে। মায়া বরাবরই বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেও বিফল হল। জোড়াজুড়ির একটা সময় রিদ মায়াকে চেপে কোলে তুলে বারান্দা থেকে রুমে আসল। ডিল মেরে মায়াকে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে গায়ের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলল…

—” তোদের বাপ-বেটির নাটক অনেক সয্য করেছি। আমি শান্তি না পেলে তোদেকে শান্তিতে থাকতে দিব? ভালো মানুষ আমি না। তাই খারাপটায় করবো তোদের সাথে।

মায়া তাড়াহুড়ো পাশের কম্বলটা টানতে চাইল নিজের গায়ে জড়াতে। তার আগেই রিদ মায়ার একটা পা ধরে টেনে নিজের মুখোমুখি করল। আতংকিত মায়া কিছু বলতে চেয়ে মুখ খুলল…
—” দেখুন আমা..

মায়ার বাকশক্তি আর রিদের ধৈর্য দুটোই লোপ পেল। মায়া গোঙ্গাল। ছটফট করলো রিদের বহুতলে পিষ্ট হয়ে।

চলিত…

দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

৮১_বর্তীতাংশ
মধ্যে রাতের শেষ প্রহর। মায়া রিদের শিরায় বসে গুনগুন শব্দে প্যাচ প্যচ করে ওড়না দিনে নাক মুচ্ছে আর রিদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কাঁদছে। রিদ খালি গায়ে উপুড় হয়ে বালিশে শুয়া। ইতিমধ্যে সে ঘুমিয়ে পড়তো কিন্তু মাথার কাছে মায়ার গুনগুন বিরক্তিকর শব্দে কান্নাকাটিতে ঘুমাতে পারছে না। দু-চোখ পাতায় ঘুমের রেশ জেঁকে আছে। রিদ ঘুমাতে চাই। অনেকটা রাতের অঘুমা সে। বিগত কয়েক দিনের মনস্তাত্ত্বিক অশান্তিতে ঘুম হয়নি। রিদ বালিশ থেকে মুখ উঠিয়ে তাকাল পাশে বসে থাকা মায়ার দিকে। গায়ে রিদের ছিঁড়ে দেওয়া জামাটায় জড়িয়ে রেখেছে। রিদের হঠাৎ তাকানো চোখাচোখি হল দু’জনের। মায়া যেন আরও বেশি কেঁদে উঠল রিদের তাকানোতে। রিদ ধমক দেয়। মায়া ফের কাঁদে। রিদ বিরক্তি নিয়ে রাগে কটমট করে বলে..

—” কি সমস্যা আমার মাথা উপর বসে কাঁদছ কেন? যাও তোমার বাপের কাছে গিয়ে কাঁদো। গিয়ে বলো রিদ খান তোমাকে ধর্ষণ করেছে! তারপর দেখি তোমার বাপের কতোটুকু ক্ষমতা। আমি এখানেই আছি। বাপ-বেটির দু’টোর ব্যবস্হা আজ করে যাব এখান থেকে। যাও গিয়ে বিচার দাও।

রিদের কথায় নড়ে না মায়া। আবার বিরক্তিকর কান্নাটাও অফ করল না। বরং রিদের দিকে তাকিয়ে নাক টেনে ওড়নায় পরিষ্কার করে ঠোঁট ভেঙ্গে বলে…
–” ঐ সাদা মেয়েটা কি সত্যিই আপনার বউ?
আবছা আলোয় মায়া মুখটা আদলে দেখল রিদ। এখনো মায়া সেদিনের মেয়েকে নিয়ে ভেবে বসে থাকবে ভাবেনি রিদ। ভালোবাসা বিশ্বাস থাকতে হয়। রিদের উপর অবিশ্বাস করাটা তার পছন্দ হয়নি। তারপরও মায়ার মনের অবস্থা বুঝে রিদ হাত মেলে ডাকল মায়াকে নিজের কাছে আসতে।

—” বুকে আসো।
মায়া আসল না। বরং খানিকটা বেঁকে বসল আসবে না বলে…
—” না! আগে বলুন ঐ সাদা মেয়েটা কে?
মায়ার নাহুচে চেতে উঠে রিদ। রাগান্বিত গলায় শাসিয়ে বলে…
—” রিত বুকে আয়! ভালো লাগছে না আমার।

রিদের ধমকে মায়া আপোষেই কাছে আসল। কম্বল উঁচিয়ে তার ভিতর ঢুকে রিদের বুকে মাথা রাখতেই রিদ দু’হাতে ঝাপটে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল মায়াকে। তারপর বলতে শুরু করে…

—” আমার রুমের মেয়েটা ডক্টর ছিল।

—” কিছু হয়নি আপনাদের মধ্যে?
—” না!
—” তাহলে আপনার বুক পিঠে দাগ গুলো কিসের ছিল?
—” সেটা তোমার ছিল আগের রাত্রের দেওয়া। মনে নেই?

মায়া মাথা নাড়ালো ওর মনে আছে। রিদ ফের বলল..

—” তুমি যাকে আমার রুমে দেখেছিলে সে মূলত ডক্টর ছিল। সেদিন রাতে পার্টিতে আমাকে ড্রাগস সেবন করানো হয়েছিল তাই তোমাকে পার্টিতে ফেলে এসেছিলাম। কারণ আমি যদি সেদিন না চলে আসতাম তাহলে আরও বিপদ হতো তোমার জন্য।

এতটুকু বলেই রিদ থামে। কৌতূহলে মায়া চমকে চোখ উঁচিয়ে তাকাল রিদের দিকে…
—” আপনি আগে থেকে জানতেন ওরা আমাদের আঘাত করবে?
—” না!
—” তাহলে?
রিদ মায়া মাথাটা ফের নিজের বুকে চেপে ধরলো। আদুরে হাত মায়া মাথায় বুলিয়ে দিতে দিতে বলল..

—” তুমি আয়নের সাথে বাহিরে গিয়েছিলে সেটা আমি
জানতাম না। তাই তোমার খুঁজ করছিলাম সারা পার্টিতে। তখন অলরেডি আমি ড্রাগস সেবন করে পেলেছিলাম। কিন্তু তোমাকে হলরুমে কোথাও খুঁজে না পেয়ে আমি ভয় পেয়েছিলাম। খুঁজতে খুঁজতে একটা রুম ভিতর দুজন মানুষের অন্তরঙ্গ অবস্থায় আওয়াজ শুনতে পায়। এক মূহুর্তের জন্য আমি ভিষণ ভয় পেয়েছিলাম যখন রুমের ভিতর থেকে আয়ন আর তোমার গলার স্বর ভেসে আসে তখন। কিন্তু আমি তার সাথে সাথে বুঝতে পারি নকল করা গলার স্বরটা তোমার হলেও সেই ভয়েস রেকর্ডের মধ্যে যে সকল উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা গুলো ছিল তার কোনোটায় তুমি কখনোই বলতে পারো না। এমনকি রেকর্ডের অর্ধেক ইংলিশের অর্থ তুমি এখনো জানো না। তোমার সাথে আমি থাকি! তাই আমার ধারণা আছে উত্তেজিত অবস্থায় তুমি কতটুকু বলতে পারো। মূলত আমি তখনই শিওর হয়ে যায় রুমের ভিতর তুমি বা আয়ন কেউ নেই। পুরোটায় ফাঁদ! কিন্তু আমি এই ভেবে ভিষণ ভয় পেয়েছিলাম যে যদি সেদিন পার্টিতে ওদের প্ল্যানিং অনুযায়ী রুমের ভিতর তুমি আর আয়ন থাকতে তাহলে কি হতো? আমি কি করতাম? সবটা ভেবে এক মূহুর্তের জন্য থমকে গিয়েছিলাম। এজন্য জুইকে বাঁধা দিয়েছিলাম রুমের ভিতর না তাকাতে। পার্টি থেকে বের হতে হতে বুঝতে পেরেছিলাম আমার চারপাশে বেশ বড়সড় ষড়যন্ত্র জাল ফেলে হয়েছে। মূলত তাদের টার্গেট ছিল আমাকে দূর্বল করে এট্যাক করা। যদি সেদিন আমি চলে না আসতাম বা তোমাকে সরাসরি প্রটেক্ট করার চেষ্টা করতাম তাহলে হয়তো এমনটায় হতো। আমি নিজেই ড্রাগসে দূর্বল হয়ে ছিলাম তোমাদের সবাইকে প্রটেক্ট করার ক্ষমতা আমার ছিল না। আয়নও আহত ছিল! তাই কৌশল অবলম্বন করে সেদিন তোমার সাথে বাজে ব্যবহার করি আর তাদের ধারণা দেয় তাদের প্ল্যানিং সফল হয়েছে। আমি এমনটা না করলে সবটা আসিফের উপর জোর যেত বেশি। দেখা যেত আসিফ বডিগার্ড দিয়ে সবাইকে হেফাজত করার চেষ্টা করলেও আমার পরিবারের মধ্যে থেকে কেউ না কেউ নিশ্চিত আঘাত পেত। হয়তো মারাও যেত যেটা আমি কখনোই চাই না। আর এসবের পিছনে বড় হাত ছিল আয়নের বাবা নাহিদ চৌধুরী। মূলত উনার সাথে আমার কিছু বিজনেস শত্রুতা ছিল বিদায় তোমাকে টার্গেট বানিয়ে আঘাত করতো আমাকে দূর্বল করতে। আমি উনার বিষয়টা অনেক আগেই ধরতে পেরেছিলাম! কিন্তু কিছু করতে পারেনি দাদাজানের জন্য। এই বিষয়ে দাদাজানও জানতো। কিন্তু ফুপ্পির কথা চিন্তা করে আমাকে সাময়িক সময়ের জন্য চুপ থাকতে হয়। সেদিন পার্টিতে ওদের মাইন্ড ডাইভার্ট করাটা জরুরি ছিল। তাই তাদের প্ল্যান অনুযায়ী আমি চলি। অহেতুক তোমার উপর রাগারাগি করে চলে আসি। আর আসিফকে ফোন করে জানায় তোমাকে সেইফ রাখতে এবং সর্তক করতে বাকি বডিগার্ডও সিকিউরিটিদের। এর মাঝে নাহিদ চৌধুরী মনে করে ওরা ওদের কাজে সফল হয়েছে। যার জন্য আমার চলে যাওয়াতে তারা হামলা না করে তোমাকে নিরবে মারতে চায়। কিন্তু এতেও সফল হয়নি হঠাৎ আসিফের আগমনে ওরা এক মূহুর্তে জন্য ভয় পেয়ে জানের বাঁচাতে পালিয়ে যায় পাল্টা হামলা না করে। এখানেই আমি জিতে যায় তোমাকে সেইফ করতে। কিন্তু দ্বিতীয় ফাঁদটা হয় আমার রুমে। নেন্সিকা নামে বিদেশি মেয়েটা ছিল ডক্টর। আমার ওর সাথে দীর্ঘ সময়ের পরিচয়। বলতে গেলে আমার পারসোনাল ডক্টরদের মধ্যে একজন। বয়সে আমার থেকে সাত বছরের বড় ছিল। ফিটনেস আর সৌন্দর্যের কারণে তুমি নেন্সিকার বয়সটি ধরতে পারোনি। পার্টি থেকে উনার চেম্বারের গিয়ে আমি এন্টি ডোজের ইনজেকশন নেয় ড্রাগসের জন্য। ফিরার সময় নেন্সিকা আমাকে দূর্বল ভেবে বাসায় ড্রপ করতে আসে। কিন্তু আমার রুম অবধি এসে হয় আরেক ঝামেলা। নাহিদ চৌধুরী দুজন লোক আমাকে বেহুশ অবস্থা মনে করে নেন্সিকাকেও ড্রাগসের ইনজেকশন পুস করে। এবং আমার রুমে শুইয়ে দিয়ে যায় সাথে হিডেন সিসি ক্যামেরা ফিট করে। ওরা মনে করে আমি হুসে নেই। কিন্তু আমি তখন পুরায় হুসে ছিলাম। আমার ড্রাগসের নেশাও কেটে উঠছিল ততক্ষণে। নাহিদ চৌধুরীর পাঠানো দুজন লোক ছিল খান বাড়ির দুজন সার্ভেন্ড। এজন্য মূলত সকালে তোমার সাথে বাজে আচরণটা করি। কারণ ক্যামেরা পিছনে নাহিদ চৌধুরী ছিল। আর আমি তাদেরকে পালিয়ে যেতে দিতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু তুমি আমার জন্য চারটা দিন ধৈর্য ধরতে পারোনি। সুইসাইড এটেম করলে। এখন আবার বাপের বাড়ি এসে বসে আছো আমাকে ঠেঙ্গিয়ে। আমি বিগত কয়েক দিন ধরে বাসায় পযন্ত যায়নি। আমার রাতে তোমাকে ছাড়া ঘুম আসে না। অনেকটা রাতের অঘুমা আমি রিত! তোমাকে ছাড়া আমার বাড়িতেও ভালো লাগে না। কিচ্ছু ভালো লাগে না। অসয্য আর বিষাক্ত বিষ লাগে সবকিছু।

রিদ থামে। মায়া রিদকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে সবকিছু শুনে। ভুল বুঝাবুঝি কারণে আজ মায়া নিজের প্রথম সন্তানকে হারিয়েছে। এখন আবার রিদকেও কষ্ট দিচ্ছে অকারণে। মায়া পাপি! ভিষণ অপরাধী। গুমরে কেঁদে উঠে মায়া রিদের কাছে ক্ষমা চাইল। একবার! দুবার! বারবার! কিন্তু রিদ তৎক্ষনাৎ কিছু বললো না চুপ থেকে মায়ার মাথায় আদুরে হাত বুলাল। তার মাথায় এখন অন্য চিন্তা! তার বউ প্রেগনেন্ট হল কিভাবে? হসপিটালের বাচ্চার হঠাৎ সংবাদ পেয়ে সে প্রচুর শকট হয়েছিল! উত্তেজনায় জ্ঞানও হারিয়ে ছিল। কিন্তু নাই জিনিসের প্রতি রিদের বরাবরই মায়া খুব কম লাগে। মায়ার কনসিভ করা বিষয়টিও ঠিক তেমন ছিল। যখন শুনল মায়া কনসিভ করেছে তার সাথে সাথে মিসক্যারেজ বিষয়টিও সে শুনেছিল। তার মনে বাচ্চাটার জন্য ভালোবাসা জন্মানোর আগেই সেটা শেষ হয়ে যায়। সে বরাবরই শক্ত মনের মানুষ। জীবিত মানুষের প্রতিই তার মায়া-দয়া লাগে না। সেখানে অনিশ্চিত বাচ্চার জন্য কি কষ্ট পাবে? হ্যা বাচ্চাটা তার ছিল। সেই জন্য মনে কোথাও হয়তো কিছু খারাপ লাগা অনুভব হয়। হয়তো তার বউ কষ্ট পাচ্ছে বলে এজন্য। কিন্তু সব কথা মূল কথা হলো তার বউ প্রেগনেন্ট হলো কিভাবে? সেতো সর্তক ছিল এসব বিষয়ে। তাহলে কিভাবে কি করল তার বউ তার সাথে? নিশ্চয়ই কোনো কল-কাটি ঘুরিয়ে মিথ্যা বলেছে কোনো কিছু নিয়ে! কিন্তু সেটা কি?
কিছু একটা তো রিদ মিস করছে! যার জন্য তার বউ প্রেগনেন্ট হয়ে গেল কিন্তু সেটা কি? তীব্র কৌতুহল নিয়ে রিদ মায়ার মাথায় আদুরের হাত বুলাতে বুলাতে মিহি স্বরে ডাকল…

‘ রিত?
‘হুম!
‘ একটা কথা সত্যি করে বলবে?
‘ কি?
‘তুমি প্রেগন্যান্ট হলে কি করে? আমি তো সর্তক ছিলাম এসব বিষয়ে। যেদিন ভুল হয়েছিল সেদিন আমি নিজে তোমাকে মেডিসিন খাইয়ে ছিলাম তাহলে?

রিদের কথায় মায়া হাসফাস করলো চুরি ধরা পরা ভয়ে পেল। মায়া জানতো একদিন না একদিন রিদের সম্মোহনী এমন প্রশ্নের মুখমুখি হবে সে। মায়ার মেডিসিন না খাওয়ার সত্যিটা রিদকে বললে যে রাগারাগি করবে তাও মায়া জানে। তাই মায়া সত্যিটা রিদের কাছে চেপে গেল। রিদের বুকে মুখ লুকিয়ে মিথ্যা বলে বলল..

—” আমি কি জানি? মনে হয় মেডিসিনের এক্সপায়ার ডেট ছিল। সেজন্য কাজ করেনি।

মায়ার মনগড়া কথায় রিদ বিশ্বাস করলো না। অবিশ্বাস লাগল। রিদকে কেউ এক্সপায়ার ডেট মেডিসিন বিক্রি করবে? সেটাও সম্ভব? রিদ দ্বি-মনা করে আবার বিশ্বাসও করল। মেডিসিন গুলা রিদ নিজে গিয়ে কিনে আনেনি। হোটেলের স্টাফ দিয়ে আনিয়ে ছিল প্রথম রাতের পর। হয়তো সেই মেডিসিন গুলোর মধ্যে ঝামেলা ছিল বা এক্সপায়ার ডেট ছিল। তারজন্য গোলমিল হয়ে বউটা প্রেগন্যান্ট হয়ে গেল। এবার থেকে তাকে আরও সর্তক থাকতে হবে। এসব সেনসিটিভ বিষয়ের কাজ গুলো রিদ নিজে করবে এরপর থেকে। মনে খচখচ নিয়ে রিদ নিজের কথার সত্যায়িত যাচাই করতে মায়াকে নিজের বুক থেকে টেনে মুখোমুখি করে সন্দেহ গলায় বলে….

—” সত্যি তো তুমি কিছু করনি?

মায়া নাক টেনে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলে…

—” সত্যিই আমি কিছু করেনি! সব দোষ মেডিসিনেরই ছিল! আমি কিছু জানি না।

রিদ বিশ্বাস করল। মায়ার কপালে চুমু খেয়ে উঠে বসল মায়াকে নিয়ে। হাত বাড়িয়ে খাটের কোণায় ল্যামপের আলোয় জ্বালিয়ে মায়া দিকে তাকিয়ে বলল…

—” বারান্দায় দেখ একটা প্যাকেট আছে ঐটা নিয়ে আসো। যাও!

রিদের কথা অনুযায়ী মায়া গেল। বারান্দায় এক কোণায় একটা শপিং ব্যাগ পরে থাকতে দেখে সেটা উঠিয়ে হাতে নিল। রিদের কাছে যেতে যেতে দেখল ব্যাগের ভিতর রিদের একসেট কাপড় আর একটা ছোট প্যাকেট। সেটা কি মায়া জানে না। মায়া রুমে এসে দেখল রিদ ফ্লোরে পা নামিয়ে খাটের বসে আছে। মায়া এগিয়ে গিয়ে রিদের দিকে প্যাকেটটা দিতে দিতে বলল…

—” নেন!

রিদ মায়া থেকে সেটা হাতে নিল। প্যাকেটের ভিতর হাত ঢুকিয়ে কাপড়ের সাথে ছোট আরও একটি প্যাকেট ছিল সেটা হাতে নিল। শপিং ব্যাগটা পাশে রেখে কাগজ ছিঁড়ে সেখান থেকে পিল ট্যাবলেট বের করল। মায়া ঔষধটা দেখে চমকে উঠে। হাসফাস করে রিদের দিকে তাকাল। যদি মায়া ঔষধটা খেতে না করে তাহলে এই মূহুর্তে রুমের ভিতর আরও একবার তান্ডব ঘটে যাবে। মায়ার না করার মতো উপায় নাই। কিন্তু মায়া ঔষধটা খেতে চায় না। ওর আরও একটা বাবু চায়। ঔষধটা খেলে হবে না। মায়া কি করবে? কি করবে? ভেবে মায়া হাতের আঙ্গুলে ওড়না পেঁচাতে লাগল। রিদ প্যাকেট থেকে ঔষধ ছাড়িয়ে মায়ার হাত টেনে নিজের পাশে বসাল। রিদ পানির খুঁজ করতেই মায়া আঙ্গুল দিয়ে ড্রেসিংটেবিলের উপর রাখা পানির জগটা দেখিয়ে দিতেই রিদ সেদিকে এগিয়ে গেল। জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে পুনরায় মায়ার কাছে ফিরে আসল। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মায়ার হাতে মেডিসিন আর পানির গ্লাসটা তুলে দিল খাওয়ার জন্য। মায়া দুটো জিনিস দু’হাতে নিয়ে রিদের দিকে তাকাল অসহায় দৃষ্টিতে। রিদ শান্ত স্বরে বলল…

—” খাও! এবার আর ভুল হবে না। এই মেডিসিন গুলোরও এক্সপায়ার ডেট আছে। আমি নিজে গিয়ে চেক করে এনেছি তোমার জন্য। এবার খাও।

মায়া ভয়ার্ত ভঙ্গিতে হাসফাস করে রিদের সামনে পিল ট্যাবলেটটা মুখে নিল। গ্লাসের পানি মুখে নিয়ে সেটা খেয়ে নিতেই রিদ অবিশ্বাসে মায়াকে বলল ‘ খা করতে! মায়া সত্যি ঔষধটা খেয়েছে কিনা দেখতে। মায়া দুই ঠোঁট ফেরে হা করে রিদকে দেখাল। রিদ দেখল। সন্তুষ্টটি হয়ে মায়ার হাত থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে জায়গায় রাখতে গেলে মায়া সেই ফাঁকে জলদি করে গালের ভিতর থেকে ঔষধটা বের করে নিল। এবং রিদের ফিরে আসার আগে আগে খাটের নিচে সেটা ডিল মেরে ফেলে দিল। মায়ার সত্যি বেবি চায়। একটা না অনেক গুলা চায়। আর তার জন্য মায়ার যা করা লাগে করবে। তারপরও রিদকে পরিবারে সাথে বাঁধতে চায়। রিদ সন্তুষ্টিতে গ্লাস রেখে মায়ার পাশে বসতে বসতে বলল…

—” রুমের ওয়াশরুমটা কই?

মায়া ডাগর ডাগর চোখ তুলে অবুঝ দৃষ্টিতে তাকাল রিদের দিকে। রিদ মায়ার অবুঝ অসহায় দৃষ্টি দেখে চেতে উঠে বলে…
—” ডোন্ট টেল মি রিত! কি এই রুমে ওয়াশরুম নেই। তাহলে আমি তোমাকে ছাঁদ থেকে নিচে ফেলে দিব কিন্তু?

মায়া হাসফাস করে বলে…

—” ওয়াশরুম আছে তো! কিন্তু মেয়েলি ওয়াশরুমে অনেক কিছু থাকে এক্সট্রা। আপনি বসুন আমি সবকিছু সরিয়ে দিচ্ছি।

—” তার দরকার নেই। তোমাকে নতুন দেখছিনা আমি। বিগত তিন বছর ধরে তোমার এই মেয়েলি জিনিসপত্র দেখতে দেখতে অভ্যস্ত আমি। কতোবার যে তুমি আমার সামনে কাপড় চেঞ্জ করেছ তার হিসাব করা দায়। তাই ওয়াশরুমের সবকিছু হজম করতে পারব আমি।

রিদের কথায় মায়া চমকে উঠে বলে…
—” মানে?

রিদ উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল…

—” এতো কিছু শুনে তুমি কি করবা? আমি বললে তোমার হজম হবে না। উল্টো আমাকে খারাপ ভাববে।

রিদের সাথে সাথে মায়াও উঠে দাঁড়াল। অধৈর্যের গলায় বলল…

—” না খারাপ ভাববো না। আপনি বলুন। আমি শুনবো।

রিদ ঠোঁট কামড়িয়ে দুষ্ট হেঁসে চুলে হাত চালিয়ে সেট করতে করতে বলল…

—” তোমার খান বাড়িতে আসার পর আমি তোমার রুমে হিডেন ক্যামেরা সেড করে রেখেছিলাম। দূরে থেকেও আমি সবসময় তোমাকে নজরে রাখতাম। দিন আমার ব্যস্ততায় কাটলেও রাতটা চলতো না তোমাকে না দেখে। মন অচলে সারাদিনের ফুটেজ দেখতাম বসে বসে। সেখানে তুমি রুমের ভিতর যা করতে সবকিছুই দেখতাম। এমনকি তোমার অসংখ্য বার কাপড় চেঞ্জ করা, পুনরায় পড়া সবটায় সেই ফুটেজে থাকতো! এবার মাঝে মধ্যে তোমার টাওয়াল খুলে যাওয়ার বিষয়টাও থাকতো! আমি তোমা…

রিদের কথা শেষ করার আগেই মায়া হামলে পড়ল রিদের উপর। লজ্জায় আষ্টশ হয়ে রিদের বুকে ধাক্কা দিতে দিতে বলল…

—” ছিঃ আপনি এতো খারাপ? বাজে লোক! সবসময় আমার সাথে এমন করেন কেন?

রিদ শব্দ করে হেঁসে উঠে মায়ার দুহাত আটকিয়ে নিজের উম্মুক্ত বুকে চেপে ধরতে ধরতে বলে…

—” এজন্যই বলতে চায়নি। আমি বাজে হলাম কিভাবে? পর নারীকে দেখছিলাম নাকি? বাল্যকালের বউ ছিলে তুমি আমার। হুট করে তোমার বড় হয়ে যাওয়াতে টেনশনে থাকতাম অন্য ছেলের সাথে মিশে না যাও। এজন্য সবসময় কর্ড়া নজরে রাখতাম। কোনো ছেলেকে তোমার আশেপাশে ভিড়তে দিতাম না। তোমার সবকিছু আমার হাতেই থাকতো। কতটা কার সাথে মিশবে সেটা নিয়ে। বাকি রইল তোমার রুমের বিষয়টি। তাহলে বলল তুমি ওয়াশরুমে কাপড় চেঞ্জ না করে রুমে করলে এখানে আমার কি দোষ? আমিতো দেখার জিনিসই দেখছি তাই না? আমাদের বিয়ে না হলে হয়তো এমনটা করতাম না। লিমিটে থাকতাম। কিন্তু বিবাহিত বউ ছিলে বলে লিমিটে ছিল না! বিন্দাস দেখছি সবকিছু!

মায়া লজ্জায় আষ্টশ হয়ে মিইয়ে গেল। ছিঃ! এসব যদি মায়া পূর্ব থেকে জানতো তাহলে কখনোই রুমে ড্রেস চেঞ্জ করতো না। মায়া লজ্জা সিঁটিয়ে গিয়ে রিদের বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নিতে চেয়ে বলল…

—” ছিঃ আপনি এতো খারাপ।

রিদ বাঁধা দিল। মায়াকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়েই বলল…

—” হ্যাঁ আমি এতোই খারাপ! বলেছিলাম হজম হবে না তোমার। যাও এবার গোসল করে রেডি হও। আমরা এখন বের হলো। গাড়ি নিচে দাঁড়িয়ে আছে। যাও।

চমকে রিদের বুকে থেকে মুখ উঠিয়ে বলল…

—” এখন?
—” হ্যাঁ!
মায়া হাসফাস করে বলল…
—” আব্বু মানবে নাতো।
—” আমার বউ আমি নিয়ে যাব। তোমার বাপকে কেন জিগ্যেসা করতে যাব?
—” আব্বু কষ্ট পাবে তো!
—” মানে আমি কষ্ট পেলে তোমার চলবে?
—‘ আমি এমনটা বলেনি তো!
—” তাহলে বিনা শব্দ করে চুপচাপ চলো আমার সাথে। আজকে তুমি আমার সাথে না গেলে আমি চিরজীবনের জন্য দেশ ছেড়ে চলে যাব। আর আসবো না তোমার কাছে। বারবার এই মনমালিন্যতা ভালো লাগছে না আমার।

মায়া ভয়ার্ত মুখে চুপ থাকল। মাথা নাড়িয়ে রিদকে সম্মতি দিয়ে বলল ‘ সে রিদের সাথে যাবে। রিদ সন্তুষ্টি হলো। মায়াকে বলল গোসল করতে। মায়া গেল। সময় নিয়ে গোসল করে মাথায় তাওয়াল বেঁধে বের হয়ে রিদের কাপড় গুছিয়ে দিল। রিদক গোসলে পাঠিয়ে মায়া ততক্ষণে রিদের জন্য একটা ব্ল্যাক কফি করে আনল! আসার সময় হাতে শফিকুল ইসলামের একটা লুঙ্গি নিয়েও আসল। মায়া রিদকে কখনো লুঙ্গি পড়তে দেখেনি। এমনকি শট, হাফ প্যান্টও না। মায়া ইচ্ছা রিদ এই লুঙ্গিটা পড়ুক। অন্তত একটা বারের জন্য হলেও পড়ুক। মায়া দেখবে লুঙ্গিতে কেমন দেখায় রিদকে। দুষ্টুমি বুদ্ধিতে মায়া হাতের কফিটা খাটের পাশে ছোট টেবিলে উপর রেখে শপিং ব্যাগের ভিতর রিদের কাপড় গুলো কম্বলের নিচে লুকিয়ে ফেলে হাতের লুঙ্গিটা বিছানার উপর রাখতে রাখতে রিদ ওয়াশরুম থেকে বের হলো কমড়ে সাদা টাওয়াল বেঁধে। মায়া সেদিকে তাকাল। রিদ এগিয়ে এসে নিজের কাপড় খুঁজ করতেই মায়া শফিকুল ইসলামের লুঙ্গিটা হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দিল। রিদ সেটা হাতে নিল না। বরং কপাল কুঁচকে লুঙ্গিটা দেখে মায়াকে বলল…

—” এটা কি?
—” লুঙ্গি আপানার জন্য! নিন পড়ুন এটা।
—” এসব আমি পড়িনা। যাও! আমার কাপড় নিয়ে আসো!
মায়া বেঁকে বসে বলল…
—” একটা বার পড়ুন না প্লিজ! আমি দেখি! পড়ুন না!
—” নো!
রিদ বিছানার আশেপাশে নিজের কাপড়ের খুজ করে না পেয়ে বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে এলো আরও। মায়া রিদের হাত টেনে রিদকে নিজের মুখোমুখি করে লুঙ্গিটা হাতে তুলে দিতে দিতে বলে…

—” এমন করছেন কেন? একটা বার পড়লে কি এমন হয় লুঙ্গিটা! সবাই তো পড়ে।

—” সবাই যা করে আমি তা করি না। আবার আমি যা করি সবাই তা করে না। সাধারণ মানুষ গুন্ডামি করে না কিন্তু সেটা আমি করি। সো ডোন্ট এক্সাম্পল আদার্স পারসন! আমি এসব কাপড় পড়তে জানি না। কখনো পড়েনি। তাই নিয়ে যাও এটা! আমার কাপড় বের করো।

অসন্তুষ্টে মায়া অনড় দাঁড়িয়ে রইল। সে রিদকে লুঙ্গি পড়াবেই। রিদের বিরক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। বার কয়েক মায়াকে ধমক লাগাল। কিন্তু মায়া লুঙ্গি হাতে দায় দাঁড়িয়ে থাকল। না রিদের কাপড় ফিরত দিচ্ছে আর না নড়ছে। রিদ অতিষ্ঠ হয়ে লুঙ্গিটা হাতে নিল। উল্টিয়ে পাল্টিয়ে কাপড় দেখে বলল..

—” এটা কিভাবে পড়ে? আমি জানিনা এসব পড়তে!

রিদের কথায় মায়া খুশি হয়ে তাড়াহুড়োয় বলল…
—” এটা মাথা ঢুকিয়ে পড়ে নিলে হবে।

রিদ বিরক্তি ভঙ্গিতে সেটা মাথা ঢুকিয়ে উল্টো পড়ে নিল টাওয়ালের উপর দিয়ে। এতো বড় কাপড় কি করে পড়বে সেটা ভেবে না পেয়ে বারবার এটা নড়েচড়ে দেখতে লাগল। তারপরও লুঙ্গিটার গুছাতে পারছে না। সে ছোট থেকেই বিদেশের মাটিতে বড় হয়েছে বাবা-মার সাথে। এমনকি মায়াকে বিয়ে করার সময়ও বিদেশ থেকে দেশে এসেছিল নিজের পরিবারের সাথে। হেনা খান আরাফ খানকে নিয়ে তখনো বাংলাদেশের থাকতো। তাছাড়া তার পরিবারের কোনো পুরুষকে এসব পড়তে দেখেনি সে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে পড়তে দেখেছে। কিন্তু তার কখনোই পড়া হয়নি। এখন বউয়ের প্যারায় পড়ে কতো কিছু না নতুন নতুন করতে হচ্ছে তাঁকে। রিদের এলোমেলো লুঙ্গি গুছানোর চেষ্টাতে মায়া হেসে উঠল। রিদ চোখ তুলে তাকাল মায়া সুন্দর হাসির দিকে। রিদ হয়তো মায়ার এই হাসিটাকে বিগত কয়েক দিন মিস করছিল। বড্ড মিস করছিল বউয়ের আবোল তাবোল পাগলামি গুলোকে। আজ যেন রিদের অস্থির মনটা শান্ত হল। মায়ার বিগত দিনের জেদ গুলো মোটেও পছন্দ হয়নি তার। তার বউ কমল! তাঁকে কমল আচরণেই মানায়। শুধু শুধু জেদ কেন করবে?
রিদ লুঙ্গিটা পড়ল না। সেটা খুলে বিছানায় ফেলে মায়ার নাক টেনে নিজের কাছে আনতে আনতে আদুরে গলায় বলল…

—” এতো জেদ কোথায় থেকে আসে এতো ছোট শরীরে হ্যা?

মায়া নাক ঘষতে ঘষতে হেঁসে রিদকে বলে…

—” আপনার থেকে শিখেছি!

রিদ মায়ার কপালে টুকা মারতে মারতে বলে…

—” আমি তোমাকে রাগ শেখায়? আর কিছু শেখতে পারো না? এতো আদুর করি! সেগুলো শিখতে পারো না। কই একদিন তো আমাকে আদুর করতে দেখি না।

—” ছিঃ সবসময় বাজে কথা কেন বলেন আপনি। ভালো কথা বলতে জানেন না।

—” বউ দেখলে মাথা ঠিক থাকে না তাই এর থেকে ভালো কথা মুখ থেকে বের হয়না আমার। এরপর থেকে এমন আলাদা হওয়ার জেদ করো না বউ কেমন।

মায়া মাথা নাড়ালো। দু’হাতে রিদের পেট জড়িয়ে বুকে পরম শান্তিতে মাথা রাখল। মায়া জান রিদ। মায়া নিজেও অপদস্তক নিজের জীবনের আগ্রত একটার পর একটা বিপদের সম্মোহনী হতে হতে। মায়া আর ঝামেলা চায় না। তবে বিগত কয়েক দিনের পরিস্থিতি থেকে মায়া যেটা শিক্ষা পেল সেটা হলো। আর যায় হোক না কেন জীবনে কখনো রিদকে ভুল বুঝে দূরে সরে যাবে না সে। বরং যতকিছুই হোকনা কেন মায়া রিদের সাথেই থাকবে। মায়া ভালোবাসে তো ওর মিস্টার ভিলেনকে। অনেক ভালোবাসে।

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply