Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

০৪
–” কি ম্যাডাম বললেন নাতো অন্যের প্রেম, বিয়ে বাচ্চা কাচ্চা হওয়া নিয়ে আপনার এতো ইন্টারেস্ট কেন? খুব তাড়াতাড়ি বড় হওয়ার ইচ্ছা নাকি আরও কিছু আছে হুমম?

রিদের কথায় ধ্যান ভাঙ্গে মায়ার। রিদ থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিচে দিকে তাকায় অপরাধীর নেয়। হাতে থাকা চলন্ত পানির পাইপটা শক্ত করে চেপে ধরে মুষ্টি ভিতর। হাসফাস করে মূহুর্তেই। রিদকে ভয় পাচ্ছে এমন নয়! মায়ার ছোট মনের অজানা অস্থিরতা জেঁকে বসেছে। কাল রিদ সম্পর্কে অবগত ছিল না কিন্তু আজ আছে। রিদ খান বাড়ির ছেলে আরাফ খানে নাতি সেটা জানা মায়ার। সাথে এতটাও জানে রিদ মায়ার স্বামী নয়। রিদ স্বামী না হওয়ায় বেশ আহত হয়েছিল মায়ার মন। কিন্তু সে হেনা খানকে বলেনি আহত মনের কথা। নিরবে চেপে গেছে।

কাল রিদকে বেশ কয়েকবার লক্ষ করেছিল অবুঝ মায়া। মায়ার দেখার সুঠাম বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী শ্রেষ্ঠতম সুন্দর পুরুষ হচ্ছে রিদ। এই মূহুর্তে রিদের ফর্সা গায়ে কালো ড্রেসআপে কতটা মারাত্মিক ভয়ানক টাইপের সুন্দর লাগছে সেটা কাকে বুঝাবে মায়া? কালও সুন্দর লেগেছিল মায়ার কাছে তাইতো শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিল রিদের মুখশ্রীতে। পড়ে যখন জানতে পারে রিদ এই বাড়ির ছেলে তখন মায়ার এক মূহুর্তে জন্য মনে হয়েছিল রিদই বুঝি মায়ার স্বামী। কিন্তু পর মূহুর্তে হেনা খানের কাটকাট গলায় জানায় মায়ার কোনো স্বামী নেই সে সিঙ্গেল। মায়ার হুট সিঙ্গেল হওয়াটায় গভীর শোকাহত হতে হয়েছিল ওকে। মায়ার ছোট মস্তিষ্কের বারবার জানান দেয় ” ইশ এই সুন্দর পুরুষটা যদি তাঁর স্বামী হতো তাহলে খুব কি বেশি ক্ষতি হতো? পাওয়া না পাওয়ার বেদনা নিয়ে এতো এতো অস্থিরতা ভর করে মায়ার ছোট মস্তিষ্কের রিদের জন্য। তাছাড়া কালকে শোকাহত ভাবটা আজ কাটিয়ে উঠতেই হুট করে আবারও হাজির হয় রিদ মায়ার সামনে। আবারও মাথা নাড়িয়ে উঠে কালকে আহত ভাবটা। রিদকে নিজের সামনে দেখতে পেয়ে কেমন একটা জড়তা-সংকোচ সিটিয়ে নইয়ে যাচ্ছে মায়া। অবাধ্য মায়া মূহুর্তেই বাঁধ্য মেয়েতে পরিণত হয়েছে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়ে রিদের সামনে। কাল রিদের সামনে মায়া যতটা চঞ্চলতার সহিত কথাবার্তা বলেছিল আগ বাড়িয়ে আজ যেন তা কিছু পারছে না করতে। মায়া চঞ্চলতা যেন মূহুর্তে একরাশ গোধূলির আলোয় দামাচাপা পড়ে বাঁধ্য শান্তশিষ্ট মেয়েতে রুপান্তরিত করে রিদের সামনে। চঞ্চল বুলি গুলো দলা পাকিয়ে এঁটে যায় মায়ার গলগন্ডের কর্ণকুহরে। হয়তো এই মূহুর্তে মায়া রিদকে আশা করেনি, না রিদের করা প্রশ্ন গুলো আশা করেছিল। সেতো কৌতুহল বশে মালিকে এমনি এমনি কথা গুলো বলেছি কথার ছলে। তাহলে রিদ কেন এমনটা করে বলছে তাঁকে? মায়া আবারও চোখ তুলে তাকায়। মূহুর্তেই চোখাচোখি হয় দুজনের। রিদের গভীর দৃষ্টির অর্ণলে হারায় মায়ার ছোট মন। রিদের দৃষ্টিতে গভীরতা মাপতে না পারলেও রিদের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের বিমোহিত হয় মায়ার মন প্রাণ চোখ। অবুঝ মায়া আবারও হা হয়ে তাকিয়ে থাকে রিদের মুখশ্রীতে। আঁটকে পড়ে রিদের মাঝে।

রিদ মায়ার দৃষ্টিতে নিজের দৃষ্টি স্থির করে। নিজের করা প্রশ্ন পাল্টে জানতে চাই মায়া সম্পর্কে। চোখ বুলিয়ে আবারও মায়াকে দেখে নেই উপর থেকে নিচ পর্যন্ত। মায়ার গায়ে ওড়না না থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে মায়ার শরীরের অনাকাঙ্ক্ষিত জায়গায় চোখ পড়তেই মূহুর্তে খানিকটা কেঁপে উঠে রিদের বুক। সঙ্গে সঙ্গে নিজের দৃষ্টিতে সরিয়ে পাশে তাকায় সে। তাঁর জীবনে বিগত চব্বিশ বছরে এই প্রথম এমনটা হচ্ছে যে কোনো মেয়ের সামান্য দর্শনের বুক কেঁপে কেঁপে উঠছে তার। রিদ নিজের জীবনের বেশি ভাগ সময়ই দেশের বাহিরে কাটিয়েছে। এখানো কাটাচ্ছে। কাজের সূত্রে ভিন্ন দেশে মাসের পর মাস থাকা হয় তাঁর সেখানটায়। ভিনদেশী নারী মানেই অর্ধউলঙ্গ। প্রায় সময় তাদের পুরো উলঙ্গও দেখা যায়। কই? তখন তো তাদের দেখে বুক কাঁপেনি রিদে তাহলে আজ পিচ্চি মেয়েটিকে ওড়না ছাড়া দেখাতে তাঁর বুক কেন কাঁপছে? পিচ্চি মেয়েটি তার বউ বলে নাকি অন্য কিছু জন্য? রিদ কথা গুলো মন মনে আওড়িয়ে পুনরায় ঘাড় ঘুরিয়ে সামনে তাকাই মায়ার চোখের নিজের দৃষ্টি স্থির করে। নিজের করা প্রশ্ন পাল্টে মায়া সম্পর্কে জানতে শান্ত কন্ঠে বলে…

–” বয়স কত?

রিদের হুটহাট প্রশ্নে থমথমে খেয়ে যায় মায়া। বিষ্ময়ে তাকিয়ে আস্তে করে বলে…

–” আমার?

–” হুমম!( শান্ত বংগিতে)

আগের নেয় বলে উঠে…

–” জ্বিই পনেরো।

মায়ার উত্তরে মূহুর্তেই কপাল কুঁচকে আসে রিদের। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে…

—” এতো কম?

মায়ার রিদের আনমনের অস্পষ্ট সুরের কথাটা ঠিকঠাক শুনতে না পেরে প্রশ্ন বোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠে…

–” জ্বিই ভাইয়া???

রিদ মায়ার কথায় মনোযোগী না হয়ে। নিজের মতো আবারও প্রশ্ন করে শান্ত কন্ঠে বলে…

–” কোন ক্লাস?

–” নাইন পড়ছি।

মায়ার সহজ সরল জবানবন্দিতে মূহুর্তেই রিদ একটা ভ্রুঁ উচু করে বলে উঠে…

–” সামনে তো পরীক্ষা মনে হয়! এই অসময়ে তোমাকে নাইনে ভর্তি করালো কে?

মায়া আস্তে করে মিহি সুরে বললো…

–” দাদাজান করিয়েছেন উনার স্কুলে। আরও সাত মাস পর নাইনের ফাইনাল পরীক্ষা আমার। এতদিন আমাদের বাড়ির এলাকার স্কুলে পড়েছি আমি নাইনে চার মাস। এখানে এসেছি একমাস হয়েছে মোট পাঁচ মাসের পিছুটান পড়েছে আমার। তাই দাদাজান কালবিলম্ব না করে আপনাদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন আমাকে।

মায়ার গোছানো কথাবার্তায় মায়াকে ছোট নয় বরং বেশ বড় বলে মনে হচ্ছে রিদের। মায়ার শান্ত শিষ্ট হয়ে দাড়িয়ে থাকাটা দেখে পুনরায় আগের নেয় প্রশ্ন করে বলে…

–” নাম?

স্নিগ্ধ ভেজা গালায় বললো…

–” মায়া!

–” পুরোটা বলো।

ইতস্তত জড়িয়ে আস্তে বলে বলে…

–” রিক্তা ইসলাম মায়া।

রিদের দৃষ্টি গাঢ় হয় মূহুর্তেই। নিজের একটা ভ্রুঁ উঁচু করে বলে উঠে…

–” ডটার অফ শফিকুল ইসলাম! মাদার অফ রেহানা বেগম?

মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে আস্তে করে বলে….

–” হুমমম।

মূহুর্তে নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায় পরিবেশটাতে। ভয়ংকর নিরবতা জেঁকে বসে দু’জনের মাঝেই। চারপাশে পাখির কিচমিচ মনোরম শব্দ কানে ছন্ন ছাড়া হয়ে বারি খাচ্ছে দুজনেরই। মায়া মাথা নিচু করে অপরাধী নেয় দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটি যে তাঁর বউ এতে ১০০% শিওর হয় সে। রিদের কুঁচকে আসা কপালটা ক্রমশয় স্বাভাবিক হয় মায়ার সহজ স্বীকার উক্তিতে। রিদ বার কয়েক আবারও চোখ বুলিয়ে পরখ করে নেয় মায়াকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত। মায়ার কাঁচা হলদেটে গায়ে রঙ্গে চমৎকার লাগছে গাঢ় বেগুনী রংটা। মায়ার পোশাক বেশভূষায়, চেহারায় সদ্য পুতুল ন্যায় লাগছে রিদের কাছে। রিদ হারায়। এতটা মনোযোগ সহকারে কখনো কোনো মেয়েকে দেখা হয়নি তাঁর। কাল থেকে শুধু দেখেই চলছে মায়াকে গভীর দৃষ্টিতে। অনেকটা মোহনীয় লাগছে রিদের কাছে। রিদ থামে। চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকায়। মায়া জড়িত অতীত স্মৃতি গুলো মাথা নাড়া দিয়ে উঠতে দমে যায় রিদ। চোয়াল শক্ত হয়ে আসে তার। কিন্তু পর মূহুর্তেই কি মনে করে আবারও নিজেকে নিবারণ করার চেষ্টা চালায়। বার কয়েক বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করে। কাল থেকে মায়ার বারবার হুটহাট সামনে চলে আসাতে রিদের কোথায় যেন একটা গিয়ে ভিষণ ভাবে লাগছে! গভীর ভাবে লাগছে! রিদ চোখ আওড়িয়ে আবারও তাকায় মায়ার মুখশ্রীতে। শান্ত চোখে মায়াকে কিছুক্ষণ দেখে নিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে…

–” ভিতরে যাও।

রিদের কথায় মায়া বাঁধ্য মেয়ের ন্যায় সম্মতি জানিয়ে মাথা নিচু করে সামনে দিকে পা বাড়িয়ে কয়েক কদম এগিয়ে যেতেই পিছন থেকে রিদ আবারও বলে উঠে….

–” আজ থেকে ওড়না ছাড়া রুম থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ তোমার জন্য।

মায়া পিছন ঘুরে তাকায় রিদের দিকে। সাথে সাথে চোখাচোখি হয় দু’জনের। মায়া চোখ নামিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আবারও বাঁধ্য মেয়ের ন্যায় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে নিচু স্বরে বলে..

–” জ্বিই ভাইয়া।

রিদ খানিকটা সময় নিয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে।

–” যাও।

–” হুমম।



সকাল ৪ঃ৪৫ মিনিট। ড্রাইনিং চেয়ারে পা ঝুলিয়ে বসে আছে মায়া। চুপচাপ বসে আছে তা নয়। নিজের নাস্তা খাচ্ছে চঞ্চল বংগিতে। মায়ার পাশের চেয়ারটায় বসে আছে হেনা খান। দায়িত্ব সহকারে নিজের হাতে মায়ার মুখে নাস্তা তুলে দিচ্ছেন একে পর এক। মায়াকে একেবারে স্কুলের জন্য রেডি করিয়ে এনেছেন তিনি।

তাঁর ঠিক সামনে আরাফ খান বসে আছে ড্রাইনিং এ নাস্তা করার জন্য। আপাতত তিনি নাস্তা না করে বসে বসে নিউজ পেপার পড়ছেন মনোযোগ সহকারে। ফাঁকে ফাঁকে নিজের স্ত্রী ও মায়ার খুনসুটি দেখছেন তৃপ্তিতে। এই বয়সে এসে নিজের ছেলে ছেলের বউকে হারিয়ে মায়ায় যেন একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছে তাদের জন্য। মায়া ঘিরেই তাদের এখন দিনটা পার হয়। রিদকে তো দেশেই পাওয়া যায় না। কখন দেশে আসে কখন আবার চলে যায়। সেটাও ঠিকঠাক জানায় না রিদ। রিদের সম্পর্কে সবকিছু অজানা রহস্যের মতো ধোঁয়াসায় রাখে সে নিজেই। বছরের দুই একবার দেখা মিলে তার। রিদ বাংলাদেশে আসে তাও নিজের কাজের সূত্রে। কিন্তু খান বাড়িতে আসে না। খুব বেশি প্রয়োজনে নিজের দাদা-দাদিকে দেখতে আসে এক আর্ধবার খান বাড়িতে।এক দুই দিন থেকে আবারও চলে যায় নিজ গন্তব্যে। তবে সবসময় ফোনে যোগাযোগ হয় রিদের সাথে তাদের। খান বাড়ির বিজনেস কোম্পানি আরাফ খানের সাথে সাথে রিদও দেখাশোনা করে সবটা তবে সেটা দেশের বাহির থেকেই। অফিসে উপস্থিত থাকা ছাড়া বাকি সবটাই নিজের হাতে ম্যানেজ করে রিদ। বাংলাদেশর তাদের মেইন অফিস ও শাখা গুলোতে আরাফ খান থাকলেও দেশের বাহির গুলোতে রিদের প্রাধান্যটায় সবটা। কাল রিদ বাসায় এসেছে সেটা তিনি কাল দুপুরই শুনেছেন স্ত্রী মুখে। ফোন করে জানিয়েছিলে তাঁকে। রিদের বাড়ি ফেরাতে খুশি হয়ে তিনিও অফিসের সকল কাজ ছেড়ে চলে এসেছিল বাড়িতে। রিদের সাথে সময় কাটাবে বলে। মনে মনে স্থির করেন রিদ যতদিন খান বাড়িতে থাকবে তিনিও ততদিন বাড়িতেই থাকবে রিদের সাথে। কোনো রুপ অফিসে যাবেন না।

রিদ বাড়িতে থাকলে খান বাড়ির সবাই একসঙ্গে নাস্তা করে রিদের সাথে আলাদা সময় কাটানোর জন্য। আজও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না কিছুই। ড্রাইনিং এ বসে থেকেও নাস্তা করছে না তিনি বরং রিদের জন্য অপেক্ষা করছে রিদ আসলে একসঙ্গে নাস্তা করবেন তাঁরা। মায়ার স্কুলের তাড়া থাকায় হেনা খান আগ বাড়িয়ে মায়াকে নাস্তা করিয়ে দিচ্ছেন নিজের হাতে। মায়া একবার নাহুচ করছে তো হেনা খান চোখ রাঙ্গিয়ে শাসিয়ে খাবার খাওয়াচ্ছেন মায়াকে। আর সেটাই তৃপ্তি নিয়ে দেখছেন আরাফ খান নিউজ পেপার পড়ার ফাঁকে ফাঁকে। বহু বছর পর যেন খান বাড়িতে সুখ নামক শব্দটি দেখতে পারছেন তিনি মায়ার মধ্যে দিয়ে। আরাফ খান বুক ভরা স্বস্তির শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে নিরবে। ঠোঁটের চমৎকার মোলায়েম হাসি রেখে আবারও নিউজ পেপারে মুখ ডুবাতেই সামনে থেকে কেউ চেয়ার টেনে বসে ড্রাইনিং এ। সাথে সাথে চোখ তুলে সেদিকে তাকাই আরাফ খান সহ হেনা খান ও মায়া। মূহুর্তেই চোখে পড়ে রিদের গম্ভীর্য মুখ। আরাফ খান হেঁসে হাতের নিউজ পেপারটা পাশে রাখতে রাখতে রিদকে উদ্দেশ্য বলেন…

–” গুড মর্নিং ইয়াং ম্যান!

গম্ভীর্য মুখ বলে উঠে..

–” গুড মনিং!

সাথে সাথে সামনে থেকে হেনা খানও হাসি মুখে বলে উঠে…

–” গুড মর্নিং সোনাবাবা।

রিদ চোখ তুলে নিজের দাদীর দিকে তাকিয়ে আগের ন্যায় গম্ভীর মুখে বলে..

–” গুড মনিং!

কথা গুলো বলেই চোখ ঘুরিয়ে তাকায় মায়ার দিকে। সাথে সাথে চোখাচোখি হয় দুজনের। মায়াকে হা হয়ে ড্যাবড্যাব করে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সাথে সাথে কপাল কুঁচকায় রিদ। চারপাশে সচেতন দৃষ্টি ফেলে নিজের দাদা-দাদিকে পযবেক্ষণ করে নেয়। হেনা খান বসা থেকে হাত বাড়িয়ে নিজের স্বামী দিকে নাস্তা এগিয়ে দিচ্ছে বলে এদিকটায় তাদের খেয়াল নেই। রিদ দৃষ্টি আওড়িয়ে আবারও মায়ার দিকে তাকায়। চোখে পড়ে মায়ার গায়ে কালকের স্কুল ডেসটি পড়া। বুঝতে পারে মায়া স্কুলে যাওয়া জন্য রেডি হয়ে বসে আছে। কিন্তু রিদ মায়ার এমন হা হয়ে তাকানোটা মানে বুঝতে না পেরে কপাল কুঁচকে মায়াকে এক পলক দেখে নিয়ে মনোযোগ হয় নিজের নাস্তায়।

রিদের চোখ সরাতেও মায়া বেশ একটা ভাবান্তর হলো না বরং তখনো রিদের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিল। বরাবরই মায়া যখন বেখেয়ালি ভাবে রিদের দিকে তাকালে চোখ যেন মূহুর্তে আঁটকে যায় রিদের উপর। রিদের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আটকা পড়ে তাঁতে। এইতো সকালে রিদকে মায়া কালো ড্রেসআপে দেখছিল কিন্তু ঘন্টা দুই এক পার হতেই এখন দেখছে তাকে সাধারণ ফর্মাল ড্রেসআপে। হাফ সিল্কের সাদা ব্র্যান্ডের শার্ট এর সাথে কালো প্যান্ড পড়া। শার্টের হাতা দুটো হোল্ড করে গুটানো কুইন পযন্ত। বাম হাতে কালো ফিতার ব্র্যান্ডের ঘুড়ি পড়া। বুকের পাশের দুইটা বোতাম খুলে রাখা। সিল্ক চুল গুলো স্পাইক করা সেট করা। লোমশ বিহীন বুকটা যেন বার বার উঁকি দিতে চাচ্ছে দুই বোতাম খুলে রাখার উম্মত জায়গায় দিয়ে। রিদের বলিষ্ঠ দেহের জিম করা হাতের বাহুগুলো যেন সাদা শার্টটি ছিড়েখুঁড়ে বের হয়ে আসতে চাইছে বাহিরে।

মায়ার পলক বিহীন দৃষ্টিতে ধ্যান ভাঙ্গে হেনা খানের কথায়। তিনি মায়াকে আবারও জোর করে মুখে খাবার তুলে দিতে দিতে বললো…

–” শুন! স্কুলে যাচ্ছিস শুধু পড়াশোনা করবি মন দিয়ে অন্য কিছু নয়। একদম বাদরামি করবিনা স্কুলে মধ্যে। এদিকে সেদিক একা একা ঘুরেও বেড়াবিনা স্কুলে মাঠে। ড্রাইবার যেতে দেরি হলে স্কুলের ক্যান্টিনের বসে থাকবি। নয়তো তোর প্রিন্সিপাল স্যারকে বলবি তোর দাদাজানকে কল দিতে ড্রাইবারকে পাঠানোর জন্য। তারপরও স্কুল থেকে তোর একা বের হওয়া নিষিদ্ধ। পাকামো করে তো একদমই বাসায় আসা যাবে না তোর বুঝেছিস তুই।

হেনা খানের কথায় মায়া নাহুচ বংগিতে মুখ ছিটকে বলে উঠে…

–” আমি যাব না ঐ স্কুলে। আমার ভয় লাগে ঐ স্কুলে যেতে। পড়ব না আমি আর ঐখানে।

মায়ার এমন নাহুচ উক্তিতে মুখ তুলে তাকায় রিদ। মায়ার “ঐ স্কুলে যাবে না” এই বিষয়টি বুঝতে চাই রিদ। তাই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় মায়ার দিকে কপাল কুঁচকে। রিদের এমন তাকানোর মধ্যে হেনা খান কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে কাট কাট গলায় বলেন…

–” বললেই হলো পড়বি না তুই আর ঐ স্কুলে। ঐ স্কুলে কি এমন সমস্যা তোর যে রোজ রোজ ভয় লাগে স্কুলে যেতে? মিনিটে মিনিটে বায়না তোর স্কুলে যাবি না বলে। রোজ রোজ তোকে দুই ঘন্টা করে তৈল মালিশ করে স্কুলে পাঠাতে হয় আমার। তুই কি একাই আমার নাতিন ছিলি? আর কোনো নাতি- নাত্তোর ছিল না আমার হ্যাঁ! রিদকে দেখেছিস তুই আমার বাঁধ্য নাতি হলো রিদ। কই? ছোট বেলায় তোহ একবারের জন্যও বলেনি দাদী আমি পড়বো না। স্কুলে যেতে ভয় লাগে! বরং আমার কিছু বলার আগেই নিজের পড়া থেকে শুরু করে একা একা হোমওয়ার্ক পযন্ত শেষ করে রাখতো। সকাল সকাল স্কুলেও চলে যেত সবার আগে আগে। তুই রিদ থেকে দেখে দেখে শেখ। আজও পড়া নিয়ে অনিহা করে না। আর তুই? তোকে পড়ানোর জন্য আমাকে মাঠে নেমে প্রথমে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হয় তোর বিরুদ্ধে। সেই যুদ্ধে আমি তোর সাথে জয়ী হলে তারপর তুই পড়বি, নয়তো না। তুই জানিস রিদ কতটা মেধাবী স্টুডেন্ট ছিল? এখনও যে পড়াশোনা করছে ভিন্ন হায়ার হাইয়েস্ট ডিগ্রি অর্জনের জন্য সেটা জানিস তুই। তোর রিদ থেকে শেখা উচিত এবার।

হেনা খানের কথায় মূহুর্তে মায়া ছোট মনটি অপমান বোধ করে। রিদের নাম টেনে টেনে বারবার তাঁকে কথা শুনাচ্ছেন হেনা খান তাও রিদেরই সামনে। এতে যেন মায়া অপমানিত বোধ করার সাথে সাথে আহত ও হয়। হেনা খানকে নিজের যুক্তি দেখিয়ে মন খারাপ ভাব নিয়ে বলে…

–” আমার কারও কাছ থেকে শেখা লাগবে না। বরং তুমি তোমার নাতিকে আমার বদলে আবারও ঐ স্কুলে পাঠিয়ে দাও। এতোই যখন মেধাবী তখন আমার ভাগের পড়াটাও পড়ে ফেলতে বলো দাদী। এতে করে আমিও রক্ষা পেলাম রোজ রোজ ঐ স্কুলে যাওয়া থেকে। তাতে আমিও খুশি তুমিও শান্তি পাও।

মায়ার কথায় যেন ধৈর্যের বাঁধ্য ভাঙ্গে হেনা খানের। রিদ তখনও তাকিয়ে ছিল কপাল কুঁচকে। হেনা খান তেতে উঠে কিছু বলবেন তার আগেই সামনে থেকে আরাফ খান বাঁধা দিয়ে হালকা বিরূপ করে বলে উঠেন…

–” আহ হেনা! কি হচ্ছেটা কি? এই ভাবে মেয়েটাকে শাসাচ্ছো কেন? আগে ঠান্ডা মাথায় শুনো তো ওহ কি জন্য স্কুলে যেতে চাইছে না। ওর স্কুলে যেতে সমস্যা কোথায়? তারপর নাহয় ঠান্ডা মাথায় বুঝা যাবে কি করা যায়।

স্বামীর কথায় তেতে উঠে তিনি বলেন…

–” তোমার কি মনে হয়? আমি এমনি এমনি কথা গুলো বলছি ওকে হ্যাঁ? রোজ রোজ হাজার খানিক বার জিগ্যাসা করি স্কুলে যেতে কি সমস্যা বলতে আমাকে। কিন্তু ওহ কিছু বলে না! শুধু বলে ভয় লাগে ঐ স্কুলে যেতে। ঐ স্কুল নাকি ভালো না। হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী পড়ছে আমাদের স্কুলের মধ্যে। কারও কোনো ভয় হয়না শুধু ওর ই ভয় হয় স্কুলে যেতে। তাহলে ওকে কি করবো আমি না শাসিয়ে হ্যাঁ।

ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠে..

–” আচ্ছা বুঝলাম! তুমি দাঁড়াও আমি কথা বলছি ওর সাথে?

চোখ ঘুরিয়ে মায়ার দিকে তাকায় তিনি। সুরেলা কণ্ঠে বলে উঠেন..

–” সোনামা! এবার ফটাফট আমাকে বলে ফেলো তো কি সমস্যা তোমার ঐ স্কুলে যেতে হুমম?

থমথমে পরিবেশ সবার দৃষ্টির কেন্দ্র বিন্দু মায়া।প্রত্যেকেই আগ্রহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। রিদ খাবার ছেড়ে মায়ার মুখে পানে তাকিয়ে আছে কি বলে সেটা শুনার জন্য। রিদ কিছু একটা আঁচ করতে পারে মায়ার সম্পর্কে। কেন মায়া ঐ স্কুলে যেতে চাচ্ছে বিষয় বুঝতে পারছে, তবুও মায়ার মুখ থেকে শুনার জন্য তাকিয়ে আছে। মায়া চোখ দুটো আওড়ায় চারপাশে সবাই দিকে। সবার দৃষ্টি নিজের দিকে দেখে সাথে সাথে মাথা নিচু করে বসে থাকে ড্রাইনিং এ। নিচু স্বরে বলে উঠে…

–” আমার ঐ স্কুলে ভয় করে দাদাজান। যাবো না আমি ঐ স্কুলে।

মায়া ঘুরে ফিরে একিই কথাতে ক্ষেপে যান হেনা খান।তাই তিনি অধৈর্য গালায় সাথে সাথে বলে উঠেন।

–” দেখলে তুমি! বলেছিনা তোমাকে আমি। ওহ ঘুরে ফিরে একিই কথা বলছে।

হেনা খানের কথা শেষ করার আগে আরাফ খান হাতে ইশারায় থামতে বলে তাঁকে। স্বামী কথা মতো তিনিও চুপ করে যান। আরাফ খান মায়াকে স্বাভাবিক করার জন্য আবারও সুরেলা কণ্ঠে বলেন..

–” ঠিক আছে মেনে নিলাম আমার সোনামার কথা। পাঠাবো না তোমাকে আর ঐ স্কুলে। কিন্তু আমার সোনামাও আমাকে বলতে হবে সে কেন ঐ স্কুলে যেতে চাচ্ছো না সেটা।

আরাফ খানের কথায়৷ চোখ তুলে তাকায় মায়া। বারবার কয়েক আঁড়চোখে হেনা খানের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে নিয়ে মিহি কন্ঠে বলে উঠে…

–” ঐ স্কুলে রবিন আছে তাই!

মায়ার কথায় মূহুর্তে রিদ নিজের খাবারের মনোযোগ হয়। রিদের যাহ আঁচ করার তাহ করা হয়ে গেছে। বুঝতে পারে মায়ার না বলা সমস্যাটি। তাই সে মনোযোগী নয় কারও আলাপে মধ্যে। হেনা খান মায়ার অর্ধেক কথায় মানে বুঝতে না পেরে আরাফ খানের কিছু বলার আগেই তিনি প্রশ্ন করে বলে উঠেন…
.
–” রবিন কে?

ইতস্তত বোধ করে নিচু স্বরে বলে…

–” আমার ক্লাসের ফ্রেন্ড।

–” ছেলে ফ্রেন্ড? (তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে)

–” হুমমম!

হেনা খান মায়ার কথায় বিশেষ একটা পাত্তা দিলো না। কারণ মায়ার ক্লাস ফ্রেন্ড মানে সেও ছোট বাচ্চা। আর তাদের বাচ্চামোতে বড়রা জড়ানোটায় একটা বোকামো। মায়ার কথায় বিশেষ একা পাত্তা না দিয়ে শক্ত গলায় বলে উঠেন….

–” ফ্রেন্ডরা এমনই হয় একটু আরেকটু দুষ্টামি করেই তাঁকে সবকিছুতে। তুইও ছোট তোর ফ্রেন্ডরাও ছোট ছোট। তাই ছোট মানুষ গুলো দুষ্টামী করবে না তো আমরা করবো এই শেষ বয়সে এসে?

হেনা খানের কথায় গা জ্বলে উঠে মায়া। একটা ছেলে তাঁকে এতটা টর্চার করে জ্বালাই সেটা সামান্য মনে হচ্ছে নিজের দাদী কাছে। এই জন্যই বলতে চাইনি সে। মায়া রাগ দেখিয়ে ড্রাইনিং চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে শক্ত গালায় বলে উঠলো…

–” তুমি বুঝ না দাদী! লাগবে না তোমার বুঝা। গেলাম আমি।

কথা গুলো বলেই মায়া রাগে নাক মুখ ছিটকে বিরক্তি নিয়ে পাশ থেকে নিজের স্কুল ব্যাগটি কাঁধে চাপিয়ে হনহন করে বেড়িয়ে যেতে থাকে ড্রাইবারে উদ্দেশ্য। পিছনে থেকে হেনা খান থমথমে মুখে বসে আছে মায়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে। আরাফ খান ও মায়ার যাওয়া দিকে একিই ভাবে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু রিদ মনোযোগ সহকারে নিজের নাস্তা ফিনিশ করছিল। হেনা খান চিন্তিত কন্ঠে স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠেন..

–” আরাফ তুমি একটু স্কুলে খবর নিও তো রবিন ছেলেটির সম্পর্কে। মেয়েটা অথযা এতটা ভয় পাবার কথা নয়।

–” হুমম! আমারও তাই মনে হচ্ছে। আজ একবার স্কুলে গিয়ে চেক করে আসবো বিষয়টি। তুমি টেনশন করিও না এই বিষয়ে।

ফুস করে দীর্ঘ নিশ্বাস হয়ে আস্তে করে বলেন..

–” হুমমম।

মায়া থেকে মনোযোগ সরাতেই চোখে পড়লো রিদের গম্ভীর মুখখানা। মায়ার চিন্তায় ঠিকঠাক লক্ষ করতে পারেনি রিদকে। এখন মায়া না থাকায় সবটা মনোযোগ পড়ে রিদের দিকে উনার। তিনি আদুরে সহিত রিদকে বলে উঠেন..

–” সোনাবাবা এবার কয়েকটা দিন থাকবি তো আমাদের সাথে? তোকে ছাড়া বড্ড একা একা লাগে। আমাদের দুজনেরই বসয় বাড়ছে। এই শেষ বয়সে এসে কখন কার কি হয়ে যায় বলা দায়! তুই এবার নাহয় দেশেই থেকে যাহ। অনেকটা বছর তো কাটালী বিদেশের মাটিতে।

রিদ গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে…

–” ইটস নট পসিবল দাদী। আই হ্যাভ টু গো! দুই দিনের মধ্যেই ব্যাক করছি আমি নিজ গন্তব্যে।

রিদের কথায় মূহুর্তে হতাশ হন তিনি। রিদকে আটকানো কোনো পথ নেই হেনা খানের কাছে এই মূহুর্তে। রিদ বলছে মানে সে চলে যাবে-ই। থাকবে না আর বাংলাদেশে। শুধু রিদের কথাটা ভেবেই ছোট মায়াকে আনতে হয় নিজেদের কাছে। নয়তো আরও কিছু বছর পর মায়াকে নিয়ে আসতো নিজেদের কাছে। কিন্তু তিনি বরাবরই হতাশ হচ্ছে রিদের কর্মকান্ডে। বুক ভয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস নেন। ভাবেন “রিদকে আটকানো কি কোনো পথ নেই তাদের ” রিদের এই চলন্ত পা দুটো কি কখন স্থির হবেন না এই খান বাড়িতে” কথা ভেবেই তিনি হতাশ কন্ঠে রিদের দিকে তাকিয়ে বলেন..

–” তাহলে আরও কয়েকটা দিন আমাদের সাথে থেকে যাহ না সোনাবাবা।

–” নট পসিবল।

–” তাহলে অন্তত এই দুইটা দিন আমাদের সাথে থাক। যাসনা কোথাও! অফিস না গিয়ে আমাদের সাথে একটু সময় দে। আমরা কি তোর সাথে একটু সময়ও কাটাতে পারি না একান্ত ভাবে। এতটুকু চাওয়া পাওয়া কি নেই তোর থেকে আমাদের? ( আহত সুরে)

–” তোমার দাদীর সাথে আমিও একমত পোষণ করছি রিদ।( পাশ থেকে আরাফ খান বলে উঠেন)

চোখ তুলে তাকাই রিদ। কোনো রুপ বনিতা না করে সোজাসাপ্টা উত্তরে জানায়..

–” ওকে ডান তবে আমারও শর্ত আছে।

রিদের কথায় মূহুর্তেই খুশিতে চকচক করে উঠে হেনা খান ও আরাফ খানের চেহারা। রিদ তাদের সাথে এই দুইদিন খান বাড়িতে থাকতে চেয়েছে এটাই অনেক। এবার রিদের সব শর্তই মঞ্জুর তাদের। হেনা খান খুশিতে উৎফুল্লর হয়ে বলে উঠে..

–” তুই আমাদের সাথে বাড়িতে থাকবি এটাই অনেক। তোর সব শর্তে রাজি আমরা। বল কি শর্ত তোর।

আগের নেয় গম্ভীর মুখে কাট কাট গলায় বলে।

–” লুক দাদী! আমি ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলতে জানিনা তাই স্টিক তোমাকে বলছি। আমি জানি তোমার পায়ে কোনো মেডিক্যাল ইস্যু নেই। ইউ আর নট প্যারালাইসড। শুধু আমাকে দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার জন্য তোমার এই নাটক করা। সেটা আমি আরও বহু বছর আগেই ধরতে পেরেছিলাম। সেদিন তোমাকে কিছু বলেনি আমি শুধু তোমার ভালোবাসা দেখে থেমে গিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি থামাথামির নাম নিচ্ছো না বলেই আমি বাংলাদেশে আসতে চাই না। দম বন্ধ লাগে সবকিছু আমার। আমার মনে হয় আমি বাংলাদেশে আসলে তোমার আবারও আমার সামনে প্যারালাইসড হয়ে সেজে থাকতে হবে। যেটা আমার মোটেও পছন্দ না তোমার ক্ষেত্রে। তাই তোমাকে স্পেস দিতে গিয়ে আমার তোমার থেকে দূরে থাকা। এবার তুমি ঠিক করো তুমি কি স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করবে নাকি আমাকে হারাবে। চয়েজ ইজ ইউর।

রিদের এমন শান্ত কন্ঠে কথায় মূহুর্তেই চমকে উঠে হেনা খান ও আরাফ খান। রিদ যাহ বলছে সবকিছুই সত্য। হেনা খান নিজের অসুস্থ দেখিয়ে রিদকে নিজেদের সাথে রাখতে চেয়েছিল কিন্তু রিদ যে সবটা জেনে উল্টো বেঁকে বসবে বুঝতে পারিনি দু’জনই। নিজেদের করা কাজের জন্য উল্টো রিদকে হারাতে বসেছে দুজনই। আরাফ অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় রিদের দিকে। হেনা খান মূহুর্তেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠে নিজের ভুলের জন্য। আজ রিদকে বছরে এক আর্ধবার নয় বরং চার পাঁচবার দেখতে পেত বাংলাদেশে নিজের মাঝে। যদি তিনি এমনটা না করতেন। শুধু তাদের ভুলের কারণে রিদ আজ দূরে দূরে থাকছে।
চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply