দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৮
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
৩৮
অবস্হানটা নিজ রুমেই মায়ার। রাত আটটা কি নয়টা। গায়ে রিদের সেদিনকার ব্রাউন জ্যাকেটটি জড়ানো। নিজের অর্ধ পড়ার বই-খাতা গুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ার টেবিলের উপর খোলারত রেখে ড্রেসিং টেবিলের সমানে দাঁড়িয়ে আছে অন্যমনস্ক হয়ে মায়া। দৃষ্টি ছলছল। টইটম্বুর আঁখি নয়ন। গুটি হাতে চেপে ধরে আছে রিদের মাক্সটি। দৃষ্টি স্থির করা রিদের সেই মাক্সটির উপরই। মায়া কান্নায় নাক টানলো। কিশোরী আবেগটা যেন কিছুতেই দমিয়ে রাখতে পারছে না। এতোদিন রিদের ভয়ে আষ্টশ হয়ে রিদের সামনে যেতে ভয় করলেও আজকাল যেন মায়া রিদকে প্রচন্ড মিস করছে। বিশেষ করে, যবে থেকে শুনেছে তার বিয়েটা হয়েছে মিস্টার ভিলেনের সাথে। তবে থেকে মনটা যেন আরও ব্যাকুল হয়ে থাকে রিদের একটু মুখ দর্শনের জন্য মায়ার। কিন্তু মায়ার পাষাণ্ড মিস্টার ভিলেনটাও অনেক নির্দয়। মায়াকে ছেড়ে আজ গোটা চারদিন ধরে ভিন্ন দেশে রয়েছে সে। কোথা আছে তাও কেউ জানে না। আর না কারও সাথে যোগাযোগ করে। বিগত চারদিন মায়া আঁড়ি পেতে হেনা খান ও আরাফ খানের কথা শুনতো একটু করে জানার জন্য তার মিস্টার ভিলেন কোথায় আছে? ভালো আছে কিনা? কিন্তু বরাবরই নিরাশ হত এটা শুনে যে, মায়ার মিস্টার ভিলেন আসলে কারও সাথে যোগাযোগই করেনি বিগত চারদিনে। মায়া ঠোঁট উল্টায় কান্নায়। মনের কষ্টে তিরতির করে কেঁপে উঠে মায়ার ওষ্ঠদয়। টইটম্বুর হওয়ার চোখর জল গায় গড়িয়ে পড়তেই জ্যাকেটের হাতা দিয়ে গাল মুছে নিল। ঘুরে তাকালো ড্রেসিং টেবিলের আয়নার দিকে। নিজের অশ্রু সিক্ত প্রতিবম্বিটা চোখে পড়তেই অভিমানী হাতে তৎক্ষনাৎ দু-গাল ভালো করে মুছে নিলো মায়া। মনোভাব শক্ত করলো দৃঢ় অভিমানে। যে ব্যক্তি একটা বার তাঁকে বলে যাওয়ার প্রয়োজন বোধই মনে করেনি তার জন্য কিসের মন খারাপ আবার মায়ার? সে কেন কষ্ট পাবে এমন বাজে লোকের জন্য? দুনিয়াতে কি মন খারাপের কারণ অভাব পড়ছে মায়ার জন্য? যে এই বাজে লোকটার জন্য বসে বসে তাঁকে মন খারাপ করতে হবে? দরকার পড়লে সে মালার থেকে মন খারাপ ভাব দার নিবে। মালার সারাদিন যে পরিমাণ কষ্ট বিলায়, মন খারাপ করে বাংলা সিনামা দেখে দেখে। সেও নাহয় মালার শোকে কাতর হয়ে কষ্ট বিলাবে, মন খারাপ করবে সমান তালে তারপরও মায়া এই বাজে মিস্টার ভিলেন জন্য কাদবে না। মন খারাপও করবে না একদম। মায়া প্রচন্ড অভিমানে নিজের হাতে চেপে ধরা রিদের মাক্সটি ঠাস করে রাখলো ড্রেসিং টেবিলের উপর। অভিমানে জেদ্দে গায়ের জড়ানো রিদের জ্যাকেটটি টেনে খুলতে খুলতে গিয়েও হঠাৎ থেমে গেলো। কপাল কুঁচকে নাক লাগালো রিদের জ্যাকেটের কলারের উপর। মূহুর্তেই মায়ার নাকে ভাজলো জ্যাকেটের মধ্যে মিশ্রিত রিদের শরীর মিষ্টি ঘ্রাণটি। কিশোরীনির মায়ার শরীরময় মৃদু কেঁপে উঠে তৎক্ষনাৎ দুচোখ বন্ধ করে নিল উত্তেজনায়। শরীরের কম্পন কমলো না বরং জোড়ালো হলো দৃঢ়ভাবে। গুটি হাতে শক্ত করে চেপে ধরে রাখলো রিদের জ্যাকেটটিকে। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে পুনরায় চোখ মেলে তাকালো। মৃদু কম্পিত হাতে আবারও রিদের জ্যাকেটের কলার টেনে নাকে লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে বার কয়েক নিজের মাঝে শ্বাস টানলো মায়া। রিদের শরীরের মিষ্টি ঘ্রাণে মায়ার মন প্রাণজুড়ে বয়ে গেলো শীতল হওয়া। স্থির মায়ার আসক্ত চোখ দুটো মেলে পুনরায় তাকায় আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দিকে। কম্পিত হাত বুলিয়ে রিদের জ্যাকেটটির উপর স্পর্শ করতেই মায়ার শিরধারায় যেন এক অদ্ভুত শিহরণ সৃষ্টি হলো। মনে হলো এই বুঝি রিদ মায়ার শরীরের সাথে ল্যাপ্টে আছে গভীর ভাবে। মায়া চমকালো, ভড়কালো, হকচকিয়ে গেলো নিজের ভাবনার জন্য। উত্তেজিত হয়ে দ্রুত হাতে মায়া নিজের গায়ে থেকে রিদের জ্যাকেটটি টেনে খুলার মধ্যে দিয়েই পিছন থেকে কেউ একজন ভারি বিস্ময়কর কন্ঠে মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে…
—” রিতু কি হয়েছে তোর? এমন অদ্ভুত আচারণ করছিস কেন?
মায়া চমকে উঠে তৎক্ষনাৎ পিছন ঘুরে তাকাতেই চোখে পড়লো জুঁইয়ের বিস্ময়কর দৃষ্টি। থমথম খেয়ে যায় মায়া। জুঁই এই রুমে কখন এসেছে জানা নেই মায়া। জুইয়ের অনুপস্থিততেই মায়া রিদের জ্যাকেট গায়ে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে জুইয়ের আগমনে ও তীক্ষ্ণ প্রশ্নে খানিকটা ইতস্তত বোধ করলো মায়া। জুইয়ের দিকে তাকিয়ে মিনমিন গলায় বললো…
—” তুই বুঝবি না।
মায়ার কথা পছন্দ হলো না জুইয়ের। কপাল কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মায়াকে দেখে নিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে এসে বসলো মায়ার সম্মুখে বিছানার উপর পা ঝুলিয়ে বসতে বসতে বললো…
—” তো বুঝা আমাকে! আমি তোর থেকে বড়। তাই সবকিছু তোর আগে আগেই বুঝবো। তুই বল শুধু।
মায়া উত্তর করলো না জুইয়ের কথায়। বরং জুইয়ের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালো পুনরায় আয়নার দিকে। নিজের গায়ের জ্যাকেটটি খুলতে খুলতে জুইয়ের উদ্দেশ্য স্বাভাবিক কন্ঠে বললো…
—” কি বলবো? বলা মতো তো কিছুই হয়নি?
কপাল কুঁচকে বলে উঠলো জুঁই…
—” তুই কি নিজেকে আমার থেকে বড় প্রমাণ করতে চাইসি রিতু? আমি সবকিছু বুঝি বুঝলি। আমি তোর থেকে গুনে গুনে সাত মাস তেরো দিনের বড়। আমার সাথে মিথ্যা নয় সত্যি বলবি। সম্মানের সাথে কথা বলবি বুঝলি।
রিদের জ্যাকেটটি ভাঁজ করে হাতের উপর রাখলো মায়া। স্বাভাবিক ন্যায় ঘুরে তাকালো জুঁইয়ের দিকে। হালকা চোখ মুখ কুঁচকে বললো…
—” বড় বলে কি মাথা কিনে নিসত আমার। তুই বড় এটা তোর সমস্যা আমার না। তাছাড়া সম্মান কে আবার? আমি কোনো সম্মান-টম্মান কে চিনি-টিনি না। তাই কোনো সম্মানের সাথে কথা বলতে পারবো না। তুই কথা বললে বল নয়তো বাদ দে।
মায়া কথায় মূহুর্তেই থমথমে খেয়ে যায় জুই। ভাবলো হয়তো সে মায়াকে তার কথা গুলো বুঝাতে পারিনি। তাই জুই মায়াকে বুঝানোর জন্য পুনরায় বলে উঠে….
—” মানে ইজ্জত দিইয়া কথা কইবি আরকি?
আগের ন্যায় বলে উঠলো মায়া…
—” ইজ্জত পাবে কই এখন আবার? আমার কাছে ইজ্জত নাই। তোর কাছে থাকলে দে আমাকে। আমি তোকে দিইয়া কথা কই।
মায়ার ঘুর প্যাঁচ কথায় মূহুর্তে তেতে উঠে জুঁই। বিছানার পাশে ছড়িয়ে পড়ে থাকা বালিশের কুশন নিয়ে ছুঁড়ে মারতে মারতে বললো মায়াকে…
—” কুত্তী মজা লস আমার সাথে?
বালিশের কুশনটি ক্যাচ করতে করতে মায়া বললো…
—” মজা নিব কেন? তুই কি আমার ভাবি লাগস নাকি?
তৎক্ষনাৎ স্বর্ণাভে কিছু মনে পড়তেই মায়া চমকে উঠে, নিজের ভুল শুধরিয়ে তুমুল গতিতে জুইয়ের উদ্দেশ্য বললো…
—” হ! হ! ভাবি লাগস তো তুই আমার! মজা করা যায় তোর সাথে।
মায়ার খাপছাড়া কথায় মূহুর্তেই থমকায় জুঁই। ভুলে যাওয়া বিষয় গুলো পুনরায় একে একে মনে পড়তেই ভিষণ ভয় জড়তা কাজ করলো নিজের মাঝে জুইয়ের। কিন্তু দমে গেলো না মায়ার সামনে। বরং চোখ মুখ শক্ত করে ক্ষেপ্ত কন্ঠে বললো….
—” ভাবি তো তুইও আমার লাগস। সেই সুবাদে একটা মজা তো আমিও করতে পারি। জামাইর বিরহে বিরহীনি হয়ে যে তুই রাত বিরাতে জামাইর জ্যাকেট পড়ে ভং সেজে থাকিস। সেটা কি আমি কাউরে কইছি। তুই যে এতক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কান্না-কাটি করলি। আমি কি সেটাও কাউরে কইছি? কই নাই তো। একদম চুপ থাকছি বিগত তিন মিনিট ধরে। দরকার হলে আরও তিন মিনিট চুপ থাকমো কিন্তু চার মিনিটে মাথায় বোম ফাটামো তোর শশুর বাড়ির মানুষদের কানে। যাহ যাহ দেখছি সব কমো। এখন বল তুই কোনটা চাস? আমার সাথে ভাবি’ ভাবি’ খেলবি নাকি বোন হয়ে চুক্তিপত্র করবি। চুক্তি পত্রে থাকবে যে তুই ভালোই ভালোই সত্যিটা আমারে জানাবি সম্মানের সহিত কোনো রকম বনিতা ছাড়া। এখন বল কোনোটা করবি তুই?
নিজের চুরি ধরা পড়ার ভয়ে খানিকটা দমে গেলো মায়া জুইয়ের সামনে। বনিতা না করে সোজাসাপ্টা বললো…
—” কি শুনতে চাস তুই?
—” এইতো ময়না লাইনে আইসো। এখন আমি যাহ প্রশ্ন করছি তা বলে ফেলতো ময়না। তোমার এই অদ্ভুত আচারণের কারণ কি হুম? তুমি যে এতক্ষণ ধরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রং-ঢং করছিলা? সেটার আসল কাহিনি কি প্রকাশ করো আমাকে। আর এই জ্যাকেটটা কার? এই জ্যাকেটের মালিক কে ভাই?
—” না এটা আমার জ্যাকেট।
—” তোর এই জ্যাকেট না? টপ মারছিস আমাকে? তোর সাইজের জ্যাকেট কি দুনিয়াতে কম পড়ছে হ্যাঁ। এই জ্যাকেট তোর কিভাবে হয়? প্রথমত্ব এই জ্যাকেটের চেহারায় একটা ছেলে ছেলে ভাব। মেয়েলি কোনো স্বভাব নাই জ্যাকেটের গায়ে। দ্বিতীয়ত্ব এই জ্যাকেটের ভিতর তোর মতো রিক্তা তিনটা অনাহেষে জায়গায় পাবে। জ্যাকেটের শরীর তোর হাঁটু অবধি ঠেকছে। আর হাতা দুটোর কথা তো নাই বললাম। জ্যাকেটের হাত দুটো তোর হাতের থেকে একহাত বেশি বড় হয়ে ঝুলে আছে। এখন তুই আমারে বুঝা এই জ্যাকেটের মালিক তুই কেমনে হইলি?
জুইয়ের পরপর যুক্তিতে খানিকটা হাসফাস করলো মায়া। ইতস্তত গলায় বললো…
—” আমারই। আসলে উনি দিসে আমাকে।
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো…
—” তোর উনি কে আবার? ভাই দিসে?
—” হুমমম!
আর কথা বাড়ালো না জুঁই। চুপ করে গেলো। কারও পার্সোনাল বিষয়ে কথা না বলায় বেস্ট বাবা শিখেছে। তাই মায়ার বিষয় গুলোও আর ঘাটালো না জুঁই। তবে প্রসঙ্গ পালটে তীক্ষ্ণ কন্ঠে প্রশ্ন করলো মায়াকে…
—” ফিহা আপুর ব্যাপারে কিছু বলতে পারিস তুই?? মুড অফ দেখলাম??
রিদের জ্যাকেটটি ভাজ করে নিজের কবাটে তুলে রেখে পিছন ঘুরে মায়া জুইয়ের প্রশ্নের উত্তরে বললো..
—” নাতো! কেন কি হয়েছে ফিহা আপু??
—” জানি না। আপুর রুম থেকে আসলাম মাত্র। উনাকে আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হলো না। অস্বাভাবিক লেগেছে। অনেকটা সময় নিয়ে কান্না করলে যেমনটা লাগে তেমনটায় লেগেছে আমার কাছে। হয়তো কোনো বিষয় নিয়ে আপসেট। তুই কি জানিস কিছু??
—” না। আপুকে দুপুরও তো ঠিক দেখলাম। হাসি-খুশিতে ছিল। হঠাৎ কি হবে উনার। তোকে কিছু কিছু বলেছে আপু?
—” উহুম! আমি প্রশ্ন করেছিলাম আপু কিছু বলেনি আমার। উল্টো আমার সাথে স্বাভাবিক আচারণ করার চেষ্টা করেছিল। তাই দ্বিতীয় বার প্রশ্ন করার সাহস হয়নি। হয়তো পারসোনাল বিষয় হবে তাই কিছু শেয়ার করতে চাচ্ছে না আমাকে।
—” হুমম হয়তো।
মায়া নিজের বাক্যে ইতি ঘটিয়ে পুনরায় প্রস্হান করলো নিজ পড়ার টেবিল। মায়া চেয়ার টেনে বসতে বসতেই জুই কৌতূহল নিয়ে আবারও মায়াকে প্রশ্ন করে বলে…
—” আচ্ছা! রিতু জিজুকে মনে হয় বাড়িতে তেমন একটা থাকে না। তাই না?
নিজের বই হাতা নিজের কাছে টানতে টানতে মায়া বলে..
—“হুমমম।
—” জিজু সবসময় থাকে কোথায় রিতু??
জুইয়ের পরপর প্রশ্ন মূহুর্তেই তেতে উঠলো মায়া নিজের ভিতরের জমানো অভিযোগে কারণে। যার রেশ টেনে নাক মুখ কুঁচকে বলে উঠলো…
—” তোর জিজু শশুর বাড়িতে থাকেন সবসময়। বউকে ছাড়া উনার এখানে থাকতে ভালো লাগে না বিদায়! দুই দিন পরপর চলে যায় শশুর বাড়িতে গোপনে। এবারও তাই করেছে। কাউকে না জানিয়ে শালাকে নিয়ে চুরি করে ফিরতি চলে গেছে শশুর বাড়িতে।
বিস্মিত কন্ঠে বললো জুঁই…
—” শশুর বাড়ি! বউ! শালা! এগুলা কে আবার রিদ জিজুর??
আগে ন্যায় বলে উঠলো মায়া…
—” যেখানে দুইদিন পরপর উনি চলে যায় সেটা হলো উনার শশুর বাড়ি। আর বউ হলো উনার কাজ। সারাদিন ল্যাপ্টে থাকে এই বউ নামক কাজের সাথে আলাদা করাই যায় না। ছেঁহ! খাওয়া-দাওয়ার ঘুম সব বাদ, এই বউ পাইলে। বাকি আমরা সবাই জলে আর তলে উনার জন্য। আর শালা হইলো আরিফ। সারাদিন ভাই’ ভাই’ করে মুখে ফেনা তুলে ফেলে। যেখানে যাবে সেখানেই থাকবে এই শালা নামক প্রাণীটি। না আমার জামাই নিজের শালারে ছাড়তে চাই আর না শালা তার দুলাভাইরে ছাড়তে ইচ্ছুক। একমাত্র টয়লেট ছাড়া বাকি সবজায়গায় শালা-দুলাভাইয়ে সঙ্গ গলাগলি ভাব জোড়ালো আঠার মতোন, ছাড়িছাড়ির নয়।
মায়ার এমন কথায় মূহুর্তে জুঁই গড়াগড়ি করে বিছানায় লুটপাট চালায় হাসতে হাসতে।
~~
দিনটি বৃহস্পতিবার। ভ্যাপসা গরম খাঁ খাঁ রোদময় দুপুর। কলেজ হাফডেতে ছুটি হওয়ায় সবেমাত্র কলেজ থেকে ফিরলো মায়া খান বাড়ির গেইট ধরে। গাড়ি থেকে নামতেই চোখ মুখ কুঁচকে আসে তপ্ত রোদে মায়ার। প্রখর রোদে থেকে বাঁচার জন্য তৎক্ষনাৎ নিজের মুখের সামনে একটা হাত ধরে ছায়া দিলো। রয়েসয়ে ধীরস্থে সামনে দিকে পা বাড়াতে গিয়েই, অসাবধানতার বশত সু-লেইস সাথে নিজের পা ভেজে হুঁচট খেয়ে পড়তে গিয়েও গাড়ির সাইড ধরে ব্যালেন্স ঠিক করলো মায়া। প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে নিজের পায়ে দিকে তাকায়। জোতার সু-লেইস দুটো খোলা অবস্থায় জমিনে গড়াগড়ি খেতে দেখে মায়া বিরক্তি নিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে উপুড় হয়ে ঝুকে নিজের পায়ের সু-লেইস বাঁধার চেষ্টা করলো। কিন্তু সেটাও দীর্ঘক্ষণ করতে পারলো না। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে একটা শক্তপোক্ত হাত মায়ার ঝুঁকে থাকা মাথাটা পিছনে থেকে, নিজের পাঁচ আঙ্গুলের মধ্যে ঢাবিয়ে চেপে ধরে মায়াকে দাঁড় করিয়ে, নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে, মায়াকে নিজের সম্মুখে দাঁড় করায় জোড়ালো ভাবে ব্যক্তিটি। মায়া ভয়ার্ত থমথমে দৃষ্টিতে ব্যক্তিটির দিকে তাকাতেই বাঁকা হেঁসে বলে উঠলো ব্যক্তিটি…
—” হ্যালো ম্যাডাম! ভালো আছেন?
মায়া চমকালো, ভড়কালো, হকচকিয়ে গেলো হঠাৎ রিদের উপস্থিততে। অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে রিদকে নিজের সামনে পেয়ে খানিকটা অপদস্তকও হলো। ভয়ার্ত হলো মায়ার মুখশ্রী। উত্তেজিত হয়ে দুই কদম পিছাতে গেলে মায়ার পিঠ ঠেকলো গাড়ির দরজার সাথে। রিদ বাঁকা হেঁসে এগিয়ে আসলো। গাড়ি উপর একহাত রেখে মায়ার মুখোমুখি হয়ে ঝুঁকে পড়ে একটা ভ্রুঁ উচু করে বলে উঠল…
—” কি ম্যাডাম বেহুশ হবেন মনে হচ্ছে? এতো অল্পতে জ্ঞান হারালে চলবে হুমম? আমার অনেক কিছু করা বাকি আর আপনার অনেক কিছু সহা বাকি। আমি নিজের শশুর বাড়ি! নিজের প্রথম বউ ফেলে, শালাকে নিয়ে চলে আসছি আপনার টানে। আর আপনি বেহুশ হওয়ার ধান্দায় আছেন ম্যাডাম?
মায়া চমকে উঠে রিদের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকায়। রাতে জুইকে বলা কথা গুলো রিদের কান অবধি কিভাবে পৌঁছালো তা জানা নেই মায়ার। জুঁই কখনো রিদকে এসব বিষয়ে বলবে না সে ধারণাও আছে মায়ার। তবে রাতে মায়ার কথা গুলো জুইকে গোপনীয় ভাবে বলেছিল যেটা রিদের কান অবধি পৌছাবার নয়। কিন্তু তারপরও রিদের কান অবধি পৌছালো মায়ার গোপনীয় কথা গুলো। ভয়ার্ত মায়া শুকনো ঢুক গিলল বার কয়েক। রিদের ভয়ে উত্তেজনায় পালানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না। কারণ তৎক্ষনাৎ নিজেকে রিদের দু’হাতের মধ্যেস্হে আটকা পেলো সে। কি করবে? কি করবে? নিজের উত্তেজনায় মায়া সাথে সাথে নিজের দুহাতে মুখ ঢেকে ফেললো রিদের ভয়ে। রিদ কপাল কুঁচকায়। তীক্ষ্ণ চোখে মায়াকে পযবেক্ষণ করতেই তার চোখে ঝলমল করে উঠলো মায়ার বামহাতে থাকা সাদা পাথরের হীরার আংটি-টি। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো মায়ার বামহাতে ঝলমল করা আয়নের দেওয়া সেই এংগেজমেন্টের আংটিটি দিকে। রিদ বিরক্তি নিয়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে মায়ার বামহাতটি নিজের একহাতের মুঠোয় নিতেই জোর খাটালো মায়া। ভয়ার্ত মায়া রিদের হাত থেকে নিজের হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই, রিদ বিরক্তির রাগী চোখ তুলে তাকালো মায়া দিকে। দমে গেলো মায়া। কম্পিত হাতে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো জায়গায়। নড়াচড়া করলো না আর। রিদ মায়ার ভয়কে প্রধান্য না দিয়ে, মায়ার বামহাতটা নিজের সামনে ধরে আংটিটিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে বলে উঠে…
—” এটা এখনো আপনার হাতে কি করে?? ফেলে দিলেন না কেন??
রিদের কথায় মায়া এক পলক নিজের বামহাতের আংটিটি দেখে নিয়ে পুনরায় চোখ আওড়িয়ে তাকায় রিদের বিরক্তি মাখা ফেঁসে দিকে মায়া। রিদের রাগে লালচে হয়ে উঠা মুখটা চোখে পড়তেই ভয়ে মায়া আবারও বার কয়েক শুকনো ঢুক গিললো পরপর। ভয়ার্ত ঠোঁট দুটো জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে মিহি কন্ঠে বললো…
—” এটা আয়ন ভাইয়ার আম্মু আমাকে গিফট করেছিল অনেক দিন আগে। দাদীও জোর নিষেধ করে বলেছিল এটা আমায় না খুলতে। এখন এটা ফেলে দিলে দাদী আমাকে বকা দিবে মিস্টার ভিলেন।
মায়া কথায় যেন রিদের রাগটা কমলো নয় বাড়লো। কিন্তু তারপরও মায়ার সাথে কোনো প্রকার রাগ প্রকাশ করলো না। সংযম করলো নিজেকে। তবে তৎক্ষনাৎ মায়ার অনামিকা আঙ্গুল থেকে আংটিটি খুলে নিতে নিতে হাক ছেড়ে ডাকলো রিদ আসিফকে। কয়েক সেকেন্ড মধ্যে আরিফ হাজির হতেই রিদ আংটিটি হাত বাড়িয়ে আরিফকে দিতে দিতে বললো….
—” নে ধর! তোর ভাবি তোকে এই আংটিটা গিফট করেছে। তোর একটা গার্লফ্রেন্ড আছে না? তাকে এই আংটিটা বিক্রি করে চকলেট কিনে দিবি নে!
রিদের সোজাসাপটা কথায় মূহুর্তেই থমথমে খেয়ে যায় আসিফ। সচকিত গেল তার গোপনীয় কথা গুলো রিদকে প্রকাশ করতে দেখে। কারণ সে নিজেও এখন পযন্ত মেয়েটিকে নিয়ে শিওর নয়। ভালো লাগে বিদায় মেয়েটির সাথে জোরপূর্বক কথা বলে ব্যস এটুকুই। তাও সেটা অল্প দিনে মাত্র। ভালোবাসার সম্পর্ক এখনো শুরু করে নাই। আর এই সবটাই ছিল রিদের গোপনে। তাহলে রিদ ভাই জানলো কিভাবে?? আরিফের মনে প্রশ্নের গুলো দুই সেকেন্ড টিকলো না রিদকে নিয়ে। সাথে সাথে গোপনে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললো সে। এই ভাবে যে রিদ খান দুর্দান্ত বিচক্ষনতার মানুষ। কতটা তীক্ষ্ণ মাইন্ডের সেটা তার থেকে কি ভালো জানে আর? গ্যাংস্টার সাম্রাজ্যে একা আধিপত্য বিস্তার করাটা হয়তো চারটে খানি কথা নয়। বিশাল ব্যাপার। কিন্তু রিদ খান অল্প বয়সেই নিজের সেই আধিপত্য অনেকটায় বিস্তার করে ফেলেছে পুরো দুনিয়ায় জুড়ে। দিন দিন রিদ খানের সেই আধিপত্য, দাপট- পাওয়ার, ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে শুধু তার এই ক্রিমিনাল মাইন্ডের জোরেই। রিদ খানের মুখ নয় দৃষ্টি চলে। চুপ থাকবে কিন্তু তান্ডব ঘটাবে তুমুল। কোথায় থেকে কি হলো বুঝতে বুঝতে সামনের মানুষটার জন্য সবকিছু ধ্বংসস্তূপ ধুলিস্যাৎ করে দিবে কালক্ষণিকেই সে। আর সেই রিদের জন্য তার বিষয় গুলো জানা তো অতি সামান্য ব্যাপার। আসিফ মনস্তাত্ত্বিক বিষয় গুলো আর ঘাটালো না। গোপনে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে আবারও চোখ আওড়িয়ে এক পলক মায়াকে দেখে নিয়ে হাত বাড়িয়ে রিদ থেকে নিল আংটিটি। সূক্ষ্ম কন্ঠে সম্মতি জানিয়ে বললো…
—” জ্বিই ভাই..
আরিফ যেতেই রিদ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় মায়ার ঘামন্ত লাল মুখটার দিকে। কপালে বিরক্তি সূক্ষ্ম ভাঁজ ফেলে মায়াকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পরখ করে নিল অতি সন্তপর্ণে। রোজকার মতোই মায়ার গায়ে কলেজ ড্রেসে দাঁড়িয়ে আছে। এপ্রোনের সাথে গলায় স্কার্ট বেঁধে। রিদের এবারও পছন্দ হলো না মায়ার রোজকার ড্রেসটা। আপত্তি পোষণ করলো নিজ মস্তিষ্কে। যার রেশ টেনে রিদের উঠতি রাগে মাথা গরম হয় মায়াকে নিয়ে যার ফলে রিদ পুনরায় ঝুঁকে পড়ল মায়ার দিকে। রিদের হঠাৎ কান্ডে মায়া ভয়ে হকচকিয়ে গিয়ে গাড়ির সাথে চেপে যেতেই, রিদ নিজের বাড়ন্ত রাগে কটমট করে দুপাশে হাত রেখে মধ্যস্থে মায়াকে আঁটকে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠে…
—” আপনার এই অবাধে খাপছাড়া চলাফেরাটা আমার আর ভালো লাগছে না। বোকরা কই আপনার?
রিদের রাগের ভারি নিশ্বাস মায়ার মুখের উপর আঁচড়ে পড়তেই, মায়া নিজের এপ্রোনের দুপাশ শক্ত করে চেপে ধরে নত মস্তিষ্কের দাঁড়ায় রিদের সামনে। মায়ার গা শিউলিয়ে উঠছে রিদের তপ্ত নিশ্বাসে। কম্পন সৃষ্টি হচ্ছে শিরা উপশিরায়।
—” ক কলেজ কে কেউ বো-বোকরা পড়ে নাতো।
মায়ার কম্পিত স্বরের মানেটা বুঝলো না রিদ। হয়তো নিজের রাগের কারণের কিশোরীনি মায়ার মনের হঠাৎ হওয়া কম্পন বুঝলো না সে। আর না বুঝার চেষ্টা করলো। বরং বিরক্তিটাই প্রকাশ করলো দ্বিগুণ হারে। দাঁতে দাঁত চেপে বললো…
—” তো?
অসহায় চোখ তুলে রিদের দিকে তাকাতেই চোখ মিলল রিদের চোখের সাথে মায়ার। রিদের রাগান্বিত দৃষ্টি সাথে মায়া নিজের দৃষ্টি স্থির করতে না পেরে পুনরায় নিজের দৃষ্টি নত করে মিনমিন গলায় বললো….
—” বাসার কেউ তো বোকরা পড়ে না। দাদী, ফুপি, ফিহা আপু, জুই, সার্ভেন্ডরাও তো বোকরা পড়ে না। তাই আমি কিভা…
মায়া কথা সম্পূর্ণ হলো না। তার আগেই রিদ মায়াকে মধ্যস্থ আটকিয়ে বিরক্তির সহিত বলে উঠলো…
—” নাটক করেন আপনি আমার সাথে? আমি সবার ঠেকা নিয়ে রাখছি। যে কে কি পড়লো না পড়লো? কে কি করলো না করলো? তাতে আমার কি? কেউ খাক, মরুক! বাঁচুক! আমার দেখার প্রয়োজন নাই। কিন্তু আপনার সাথে আমার লিংক আছে। তাই আপনারটা আমার দেখতে হবে। আপনি আমার আমানত নিয়ে ঘুরেন। আমার সম্পদের যাতে খেয়ানত না হয় সেটাও আমার দেখার দ্বায়িত্ব। কারণ আমি আমার সকল বিষয়ের প্রতি খুবই সেনসিটিভ। তাই অহেতুক যুক্তি আমাকে দেখাবেন না ম্যাডাম? বোখরা পড়বেন মানে পড়তেই হবে এখানেই শেষ। হয় বোকরা পরে পড়াশোনা করবেন নয়তো বাঁধ দেন। পড়াশোনা আর করা লাগবে না আপনার। এমনিতেও পড়াশোনা করে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন না আপনি। আমার সল্প শিক্ষিত বউই চলবে। কিন্তু তারপরও আমার সম্পদের দিকে কারও সামান্যতম দৃষ্টি মেনে নিব না আমি মনে রাখবেন ম্যাডাম।
রিদের বারবার বলা সম্পদ কথার অর্থটা মায়ার ছোট মস্তিষ্ক বুঝলো না। তাই চোখ তুলে রিদের দৃষ্টি সমেত হয়ে বোকার মতো প্রশ্ন করলো রিদকে…
—” মানে! সম্পদ কি??
মায়ার অবুঝতার প্রশ্নটা রিদকে আরও রাগিয়ে দেয়। আজব সে যে এতক্ষণ যাবত মেয়েটাকে ভাষণ দিল, বুঝালো তার মূল আমানত নিয়ে বিষয়টি। অথচ মেয়েটি বুঝলোই না আসলে সে কি বুঝাতে চাইছে
মেয়েটিকে? রিদ বিরক্তিতে তিরতির করে গলা ঝেড়ে বলে উঠে…
—” আপনার পা থেকে মাথা অবধি যা কিছু আছে সবই আমার সম্পদ। আমার আমানত! যাহ আপনি নিয়ে ঘুরেন রোজ অবাধের মতোন। কিন্তু আজকের পর থেকে সেটাও করা যাবে না। কারণ আপনি এখন থেকে আমার সম্পদ। এবার যদি আপনার কোনো সম্পদ আমার কাছে থেকে থাকে তাহলে সেটাও বলতে পারেন। আমি মাইন্ড করবো না। বরং আমিও নাহয় নিজ দ্বায়িত্বে হেফাজত করার চেষ্টা করবো আপনার সম্পদের। কি আছে নাকি কোনো সম্পদ আপনার আমার কাছে হুমম??
রিদের চলিত কথার মধ্যেই মায়া লজ্জায় তুমুল গতিতে নিজের দু’হাতে মুখ ঢেকে নিতে নিতে বললো…
—” ছিইই! কি বাজে আপনি?
মায়ার হঠাৎ লজ্জায় রিদের রাগান্বিত চোখ দুটো মূহুর্তেই খুশিতে চকচক করে উঠলো। রিদ নিজের রাগ বিরক্তি ভুলে তৎক্ষনাৎ মায়ার হাত দুটো টেনে ধরলো পুনরায়। জোরপূর্বক মায়ার মুখ থেকে হাত দুটো টেনে গাড়ির সাথে চেপে ধরে বিস্মিত কন্ঠে রিদ বললো..
—” বউ তুমি সম্পদ মানে বুঝ??
রিদের কথায় মায়া প্রচন্ড লজ্জায় চোখ দুটো খিঁচে বন্ধ করে নিয়ে ছটফট করলো রিদের শক্ত হাতের বাঁধন থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। রিদের শক্তি সাথে পেরে উঠলো না। কিন্তু তারপরও রিদের কাছে ধরা দিল না। যে সে রিদের বলা সম্পদ সম্পর্কে বুঝতে পেরেছে। বরং কৌশলে এরিয়ে গেলো মায়া বিষয়টি। রিদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কথা ঘুরিয়ে বললো…
—” উফফ! আমার বোখরা নেই তো।
রিদ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো মায়ার লজ্জা মিশ্রিত চেহারার দিকে। মায়াকে প্রসঙ্গ পাল্টাতে দেখেও সে চুপ থাকলো। বরং নিজেদের মাঝে দূরত্ব ঘুছিয়ে রিদ মায়ার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাইলো। ঝুঁকে পড়লো মায়ার মুখ বরাবর। মায়ার গালের সাথে নিজের উষ্ণ গাল স্পর্শ করে কানের কাছের মুখ নিয়ে নেশাক্ত কণ্ঠে ফিসফিস করে বললো…
—” মিস করেছিলে আমায় বউ??
.
চলিত….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৩