দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৩
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
৩৩
মায়া নড়েচড়ে দাঁড়ায় তারপরও রিদের দিকে তাকায় না। দৃষ্টি স্থির রিদের পায়ের সাদা কালো লোফারের দিকে। রিদ মায়ার দৃষ্টি বুঝে নিজের পায়ের দিকে তাকায়। নিজের হাতের ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে গম্ভীর মুখ বলে উঠে….
—” পায়ের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই। এই জোতা তোমার পায়ে আসবে না। বড় হবে।
মায়া যেন অপমান বোধ করলো রিদের কথায়। তারপরও চোখ তুলে তাকালো না রিদের দিকে। নিজের অনূভুতি লুকানোর জন্য অনড় রিদের পায়ের দিকেই তাকিয়ে থাকলো। রিদ মায়ার ঘামন্ত লাল মুখটা পরখ করে নিল অতি সন্তপর্ণে। কিন্তু হাত বাড়িয়ে ছুলো না মায়ার লাল ঘামন্ত মুখটা। খানিকটা সময় কাটলো নিরবতায়। রিদ চারপাশে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে পরখ করে নিয়ে মায়াকে উদ্দেশ্য করে বললো…
—” মাক্স পড়ো মুখে।
চোখ তুলে তাকালো না মায়া। মিনমিন গলায় বললো…
—” মাক্স নেই। ভুলে সকালে গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম।
রিদের বিরক্তি বাড়ে চারপাশটা পুনরায় তাকিয়ে। আজকাল সে সবকিছুতে অল্পতেই বিরক্তি হয়ে পড়ছে এই মেয়েটার জন্য। জীবনে যে কাজ করবে না বলে শপথ করেছিল আজ সেই কাজটাই করতে যাচ্ছে এই বেখেয়ালি মেয়েটার। এই মেয়েটা তাঁকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে দিন বা দিন। তারপরও মেয়েটার শান্তি নেই। শেষ পযন্ত তাকে কোথায় এনে দাঁড়া করালো বিষয়টি ভাবতেই গা ঝাঁকিয়ে তরতর করে বিরক্তি বাড়ে রিদের। যা স্পষ্ট হয়ে ফুটের উঠে রিদের কপালে বিরক্তি ভাঁজে ভাঁজে। রিদ বিরুক্তির গলা ঝেড়ে বললো মায়াকে….
–” মাক্স নেই বেশ হয়েছে! দেখুক সবাই তোমাকে! তোমাকে দেখার উচিত সবার। আজকে সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে তোমাকে এই রাস্তা, এই রোদে হাঁটিয়ে নিয়ে যাব কাজি অফিস অবধি। কোনো গাড়িটাড়িতে নিব না তোমাকে। চল…
রিদের কথা যেন তব্দা খেয়ে গেলো মায়া। লজ্জিত চোখে দুটোতে মূহুর্তে বিরাজ করলো এক আকাশ সমান বিস্মিত। ঠিক প্রায় সাথে সাথে মায়ার সেই দৃষ্টিতে ভর করলো রিদের বিরক্তিতে কুঁচকানো চোখ দুটোও। রিদের সাথে আসলে কোথায় যেতে হবে? বিষয়টি যেন শুনেও বুঝতে পারলো না মায়া। একরাশ বিস্মিত নিয়ে প্রশ্নে করলো রিদকে মায়া…
—” মানে কোথায় যাব?
রিদ বিরুক্তি নিয়ে চুপ থাকলো কিছু বললো না মায়ার কথার পিষ্টে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যায় মায়ার মধ্যে সে নিজের মধ্যে ঠিক থাকতে পারলো না অবশেষে। ঘোর লাগলো রিদের অবাধ্য মায়াবী নয়নজোড়াতে দেখে। এক মূহুর্তে জন্য যেন ভুলে গেল রিদের বলা কথাটি! শুধু প্রকাশ পেল মায়ার চোখে একরাশ মুগ্ধতা রিদকে দেখে। দূর থেকে রিদের প্রতি যে অনূভুতিটা লুকায়িত করতে চাচ্ছিল মায়া সেটা যেন এক মূহুর্তেই প্রকাশ প্রায় রিদের নেশাক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে মায়ার। রিদের মুখে মাক্স থাকায় তার ফর্সা ললাটে মধ্যে ঘন কালো ভ্রুঁ জোড়ার মাঝে গভীর দুটো চোখের দৃষ্টিতে আটকায় মায়া। রিদের গাঢ় ব্রাউন কালারের চোখ দুটোও মায়াতে স্থির হয়ে রইলো বিরক্তিতে। এবার যেন রিদ মায়ার চোখের দৃষ্টি বুঝে নিয়ে বিরক্তি কমালো নিজের মাঝে। তবে সেটা প্রকাশ করলো না বিন্দু মাত্রও। বরং চোখে মুখে আগের ন্যায় বিরক্তি চাপ টেনে রাখলো। নিজের টানলো খানিকটা কন্ঠে শীতলতা রিদ। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো মায়ার দৃষ্টিতে। কয়েক সেকেন্ডর মধ্যে রিদ নিজের পড়া মাক্সটা আলতো হাতে টেনে খুলে বাড়িয়ে দিলো মায়ার দিকে। ধীর কন্ঠে বললো…
—” এটা পড়ো মুখে।
রিদের শীতল কন্ঠে ধ্যান ভাঙ্গে মায়ার। নিজের দৃষ্টি সংযম করে চট করে তাকায় নিচে। থুঁতি ঠেকলো গলায়। লজ্জা মিশ্রিত চোখ দুটো ঝাপটে বন্ধ করে মেলে ধরে রিদের পায়ের দিকে পুনরায়। নিজের করা কান্ডে লজ্জায় সিটিয়ে কোনো রকম বলে মায়া…
—” তাহলে আপনি কি পড়বেন?
বিরক্তি গলায় বললো রিদ…
—” আমাকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। ধরো!
কথা বাড়ালো না মায়া। চুপচাপ রিদের হাত থেকে মাক্সটি তুলে ন্যায় সে। মাক্সের দুপাশ ধরে পড়তে গিয়ে নাকে ভাজলো এক মাতাল করা মিষ্টি ঘ্রাণ। মায়া চমকে উঠে, মাক্স না পড়ে পুনরায় রিদের মাক্স থেকে ভেসে আসা মিষ্টি ঘ্রাণটি, হালকা নাক লাগিয়ে ঘ্রাণ নিল চুপটি করে। অবুঝ পাখির ন্যায় যেন নড়েচড়ে উঠলো মায়ার মন কোঠা। কিশোরী বয়সে এই ছোট ছোট বিষয় গুলোই সবচেয়ে আকৃষ্ট করে কিশোরীদের মন। মায়ার ক্ষেত্রেও তাই হলো। ভেসে গেলো রিদ নামক মুগ্ধতায়। মায়া তৎক্ষনাৎ চোখ তুলে তাকায় রিদের দিকে। রিদ তখন নিজের গাড়ির দরজা খুলে হালকা উপুড় হয়ে কিছু একটা করছে। নিজের কাজ শেষ করে রিদ মায়ার দিকে ফিরতেই চোখে পড়লো মায়াকে মাক্স হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে। রিদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কপাল কুঁচকে মায়ার দিকে তাকাতেই মায়া চট করে রিদের দেওয়া মাক্সটি পড়ে ন্যায় কম্পিত হাতে। রিদ মায়ার এমন কান্ডে কিছু বললো না বরং নিজের হাতে থাকা সাদা রুমালটা দুকোণা কোণি ভাজ করে মুখের সামনে দিয়ে নিয়ে পিছনে বেঁধে নিলো ছোট করে মাক্সের মতোন। তারপর কথা না বাড়িয়ে সমানের দিকে হাঁটতে হাঁটতে মায়াকে উদ্দেশ্য করে গম্ভীর কণ্ঠে বললো…
—” ফলো মি…
মায়া রিদকে অনুসরণ করে হাঁটতে থাকতো নীরবে। পাশাপাশি দু’জন একসাথে হাঁটছে তারপরও কারও মুখে কোনো রুপ কথা নেই। রিদকে ভিষণ গম্ভীর মনোভাব দেখালো মায়ার কাছে। মায়া বারবার চোখ আওড়িয়ে রিদকে পযবেক্ষণ করছে। বলিষ্ঠ দেহের সাদা শার্ট কালো প্যান্ট কি দারুণ মানিয়েছে। মায়া চোখ আওড়িয়ে নিজেকেও একবার দেখে নিলো তৎক্ষনাৎ। মনে অসন্তুষ্টি খেলা করলো সাথে সাথেই। মায়াকে কেন সাদা ড্রেসটাতে সুন্দর লাগছে না রিদ ভাইয়ার মতো করে। কেন রিদ ভাইয়াকে মায়ার থেকে এতো বেশি সুন্দর লাগছে? কেন? মায়ার হতাশ চোখ জোড়া কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঝলমল করে উঠলো কিছু একটা ভেবে! খানিকক্ষণে জন্য মায়া নিজেকে সান্ত্বনা দিল মন মনে এই ভেবে! রিদ ভাইয়া নিশ্চিত তাকে হারানোর জন্য মেকাপ করে এসেছে। ইচ্ছা মতো সেজেগুজে এসেছে মায়ার সামনে যার জন্য তাকে এতো বেশি সুন্দর লাগছে। নয়তো মায়াকেই বেশি সুন্দর লাগতো এই সাদা ড্রেসটাতে। মায়ার ছোট মন খুশিতে চকচক করে উঠলো অতঃপর। মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে রিদের সঙ্গ ধরলো হাঁটায়। কয়েক সেকেন্ড মধ্যে মায়া পুনরায় তাকালো রিদের দিকে।
সে দিব্যি পকেটে দুহাত গজিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটছে ধীরস্থে। মায়ার মনে হলো সেই প্রথম দিনের ন্যায় আজও মায়া রিদের সাথে হেঁটে যাচ্ছে তবে আজ মায়ার গন্তব্যটা অজানা। মায়ার কৌতুহল জাগল রিদকে প্রশ্ন করতে তাঁরা কোথায় যাচ্ছে এই ভর দুপুরে। কিন্তু প্রশ্ন করা হলো না রিদের ভয়ে মায়ার। অকারণে আজ রিদ বারবার রেগে যাচ্ছে মায়ার উপর সেই ভয়ে খানিকটা দমে গেল মায়া। তবে বেশিক্ষণ নিজের কৌতূহলটা দমিয়ে রাখতে পারলো না মায়া। কয়েক সেকেন্ড মধ্যেই উত্তেজনায় বলে উঠলো রিদকে মায়া….
—” বাড়ির রাস্তাটা আমরা উল্টো পথে ফেলে এসেছি বাতিল স্বামী। এটা ভুল রাস্তা তো…
রিদ উত্তর করলো না মায়ার কথায় আর না ঘুরে তাকালো মায়ার দিকে। সে নির্ভীক ভাবে সামনে দিকে হেঁটেই চলছে। মায়া থামলো না রিদকে প্রশ্ন করা থেকে। বরং আগের ন্যায় উদ্বিগ্নতা দেখালো মায়াকে। ফিরতি পুনরায় প্রশ্ন করলো রিদকে বললো মায়া…
—” আমরা কোথায় যাচ্ছি বলুন না বাতিল স্বামী?? এমন করছেন কেন??
মায়ার মুখে বারবার বাতিল স্বামী’ বাতিল স্বামী শব্দটি মোটেও পছন্দ হচ্ছে না রিদের তারপরও চুপ থাকলো। নিষেধ করলো না মায়াকে। নির্ভীক ভঙ্গিতে সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে গম্ভীর কণ্ঠে বললো…
—” কাজী অফিসে যাচ্ছি ডিভোর্স নিতে।
মায়া চকমে উঠে তৎক্ষনাৎ বললো…
—” কাদের ডিভোর্স আজকে?
—” আমাদের।
রিদের ছোট্ট স্বীকার উক্তিতে মায়া থমকালো, ভড়কালো হতভম্ব হয়ে টায় জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লো তব্দা খেয়ে। সচ্ছল পা দুটো যেন মূহুর্তেই নিশ্চল হয়ে পড়লো রিদের মুখের ছোট্ট কথায়। মায়ার চোখে মুখে রাজ্যে প্রশ্ন ভিড় করলো তৎক্ষণাৎ। মায়ার সাথে তো রিদের বিয়েটা নষ্ট হয়ে গেছিল সেই দুই বছর আগেই তাহলে নতুন করে কিসের ডিভোর্স তাদের আজকে? তাছাড়া মায়া শুনেছে কাজী অফিসে মানুষ বিয়ে করতে যায়। ডিভোর্স দিতে নয়। মায়ার জানা মতে ডিভোর্সের জন্য কোটকাচারি উকিলের কাছে যেতে হয়। কাজি অফিসে নয়। তারপর মায়া বিয়েটা রিদের সাথে বাতিল হওয়ার সময় তো তাই-ই হয়েছিল। উকিল ডেকে মায়ার কাছ থেকে সিগনেচার নিয়ে ছিল কিছু পেপারে আরাফ খান যে গুলো রিদ পাঠিয়ে ছিল মায়াকে বিয়েটা বাতিল ঘোষণা করা জন্য। তাহলে এখন আবারও নতুন করে কিসের কি?? মায়া বুঝলো না কিছু। চোখ আওড়িয়ে তাকায় রিদের দিকে। রিদ বেশ অনেকটা পথ সামনে হাঁটছে মায়ার থেকে। মায়া হঠাৎ থেমে যাওয়ায় পিছনে পরে যায়। কিন্তু রিদ সেদিকে দেখেও দেখলো না মনে হয়। সে নিজের মতো করে সামনের দিকে হেঁটেই যাচ্ছে পকেটে দুহাত গজিয়ে আনমনে। মায়া নিজের মাথায় একঝাক প্রশ্ন নিয়ে পুনরায় দৌড়ে যায় রিদের কাছে। রিদের পাশেপাশি হাঁটতে হাঁটতে অকপট বলে উঠলো মায়া…
—” আমাদের বিয়েটা তো দুই বছর আগেই বাতিল হয়ে গেছে তাহলে এখন আবার নতুন করে কিসের ডিভোর্স ভাইয়া??
রিদ তাকালো না মায়ার দিকে। নিজের দৃষ্টি সামনে দিকে রেখে হাঁটতে হাঁটতে গম্ভীর মুখে বললো…
—” বিয়ে বাতিল হওয়া আর ডিভোস হওয়া দুটো আলাদা ব্যাপার। আমাদের বিয়েটা বাতিল হয়েছে কিন্তু ডিভোর্স হয়নি। এখন সেটাই করতে যাচ্ছি আমরা..
—” মানে? বিয়ে বাতিল হলে বুঝি আবারও ডিভোর্স নিতে হয় ভাইয়া??
বিরক্তি সুরে বললো…
—” হুমমম…
মায়া মাথা আওড়িয়ে কিছু বুঝলো না রিদের কথা গুলো। অকপটে নিজেই বলে উঠে…
—” কি এক বিয়ে করলাম ভাইয়া? বিয়েটা এতো বার শেষ করেও শেষ হচ্ছে না লেগেই আছে। উফ!
রিদ কিছু বললো না। মায়া খানিকটা থেমে আবারও প্রশ্ন করলো রিদকে…
—” আমরা কাজি অফিসে কেন যাচ্ছি তাহলে? কাজি অফিসে তো মানুষ বিয়ে হয় শুনেছি। কিন্তু ডিভোর্স হতে তো শুনি নি ভাইয়া।
বিরক্তিতে একরোখা কন্ঠে জবাব দিলো রিদ…
—” আমি যখন বলেছি কাজি অফিসে ডিভোর্স হয় মানে হয়। আর আজকেই আমাদের ডিভোর্স।
এবার মায়া সিরিয়াস হলো। বিষন্নতা খেলা করলো প্রচন্ড। কষ্ট লাগলো কোথাও এক জায়গায়।
মায়া বিষন্ন মনে আবারও ধাক্কা লাগলো যেন খুব জোরে সন্তপর্ণে। বুক ভারি হলো। তাই খানিকটা কষ্ট শায়িত মনে নাহুচ করলো রিদকে…
—” আমি যাব না আপনার সাথে।
রিদ সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে এবার চোখ ঘুরিয়ে তাকালো মায়ার দিকে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো…
—” তোমার মনে হয় আমি তোমার কাছে অনুমতি চাইছি যাওয়ার জন্য??
মায়া গাল ফুলালো। আগের নেয় বললো..
—” দিব না ডিভোর্স আপনাকে আর।
মায়ার কথায় মূহুর্তে কপাল কুঁচকে আসে রিদের। মুখে রুমাল বাঁধার অবস্থায় উপর দিয়ে রিদ একটা ভ্রুঁ উঁচু করে বলে উঠে মায়াকে…
—” তো কি বিয়ে করতে চাও নাকি আমাকে??
মায়া হাসফাস করলো রিদের এমন কথায়। নিজের দৃষ্টি নত করে মিনমিন গলায় বললো…
—” একদমই না।
—” তো ডিভোর্স দিবেন না কেন শুনি??
—” জানি না।
রিদ মায়ার কথায় মনোযোগী হলো না। পুনরায় সামনের দিকে হাঁটা ধরলো আগের ন্যায়। গম্ভীর কণ্ঠে বললো….
—” কিন্তু আমি জানি ম্যাডাম আমাকে কি করতে হবে। আপনাকে আমারও মোটে পছন্দ নয়। তাই আজকেই আমি এর রফাদফা চাই, মানে ডিভোর্স দিতে চাই আপনাকে। কিন্তু শর্ত হলো আপনি না করতে পারবেন না কোনো কিছুতে। শুধু কাজি যাহ বলে তা তা করে যাবেন আপনি তাহলেই হবে। বাকিটা আমি দেখে নিব।
মায়া কন্ঠে কষ্টে জড়তা ভাজলো রিদের কানে তারপরও দেখলো না রিদ মায়ার চেহারা। সে নির্ভীক হেঁটে যাচ্ছে সামনের দিকে। যেন এই মূহুর্তে রিদের হাঁটা ছাড়া কোনো গতি নেই। মায়া ফেরতি ভারি কন্ঠে বললো রিদকে..
—” একটা বিয়েকে আর কতবার ভাঙ্গতে হবে ভাইয়া?
রিদের সোজাসাপ্টা উত্তর…
—” যতবার আমি চাইবো ততবার।
মায়া কথা বাড়ালো না আর। কষ্টে ভারি বুক নিয়ে রিদের পিছন হাঁটতে লাগলো। আজকে পুনরায় একবার নিজের অনূভুতি গুলো নিজের মধ্যে চেপে যেতে হবে মায়াকে। সে নিরুপায়। মায়া দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললো গোপনে। তার মধ্যেই শুনা গেল রিদের পুনরায় কন্ঠে স্বর মায়ার কানে। তবে এবার রিদ নিজের কূটনীতি বুদ্ধি খাটালো মায়ার সাথে। মায়াকে যুক্তিও দেখালো নিজের মতো করে। বলে উঠলো ভরাট কন্ঠে…
—” শুনো মেয়ে আমাদের বিয়েটা এখনো তোমার বাবা-মা আমার বাবা মার কাছে সম্পূর্ণ আস্ত রয়েছে গেছে। তারা এখনো মনে করে তুমি আমার বউ। আর এখানটায় আমার সমস্যা। আমাদের বিয়েটা যে বাতিল হয়ে গেছে সেটা আমার বাবা-মা বুঝতে চাইছে না। কারণ তারা হলো আগের যুগের মানুষ অনেকটা ব্ল্যাক মাইন্ডের আরকি। তারা এই যুগের বিয়ে বাতিল টাতিলে বিশ্বাস করে না। আর এখানেই আমি নিরুপায় হয়ে গেলাম তোমার মতো বুঝলা? বাঁধ্য হয়ে তোমার সাথে আমাকে ডিভোর্স পড়তে হচ্ছে। কারণ কাল আমার বাবা-মা আমার স্বপ্নে এসে তোমাকে আমার বউ বলেই দ্বাবি করে চালিয়ে দিচ্ছিল প্রায়। আমি তাদেরকে অনেকটা বুঝিয়ে বলেছিলাম স্বপ্নে, যে তুমি আমার বউ নও। আমাদের বিয়েটা বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু আমার বাবা-মা এই বিষয়টি শুনলোও না, মানলো না, উল্টো আমাকে বললো তারা নাকি এই বিয়ে বাতিলের বিষয়টি কোনো ভাবেই স্বীকৃতি দিবে না। তুমি যে আমার বউ না এই একটি বিষয় আমি তাদেরকে স্বপ্নে বুঝাতে সক্ষম হয়নি। উপরন্ত আমার বাবা-মা আমাকে জোর খাঁটিয়ে বললো, তাঁরা আমার কথা বিশ্বাস করবে, যদি আমি তাদেরকে তোমার সাথে আমার ডিভোর্সের কাগজ দেখায় তো। নয়তো তারা মেনে নিবেন না আমাদের বিয়ে বাতিল হওয়া বিষয়টি। আর সেই জন্যই সকল কাজ-কর্ম ফেলে চলে এসেছি তোমাকে ডিভোর্স পড়ানো জন্য আজ। ওহ হ্যাঁ আরেকটা কথা! আমার বাবা-মা আমাকে স্বপ্নে গুরুত্বপূর্ণ একটা শর্তও দিয়েছে তোমাকে ডিভোর্স দেওয়া নিয়ে।
মায়া ব্যাকুল কন্ঠে বললো…
—” কি শর্ত??
রিদ পুনরায় আগের ন্যায় পকেটে দুহাত গজিয়ে সামনের দিকে হেঁটে যেতে যেতে বললো…
—” তাদের শর্ত হলো আমাদের বিয়েটা উনারা যে নিয়ম মাফিক দিয়েছিল! এখন ঠিক একিই নিয়ম মাফিক মেনে আমাকেও তোমায় ডিভোর্স দিতে হবে। নয়তো তারা নাকি মানবে না আমাদের ডিভোর্সের সত্ত্বায়িতের বিষয়টি।
মায়া মনোযোগ ভরা কন্ঠে আবারও প্রশ্ন জাগলো, রিদকে বলে উঠলো…
—” মানে? কি কি করতে হবে ভাইয়া??
—” বেশি কিছু না। কাজি যাহ বলে তাই করবে শুধু। আমাদের যে নিয়ম কানুন মেনে বিয়েটা হয়েছিল? এখন পুনরায় কাজি সাহেব একিই নিয়ম কানুন মেনে আমাদের ডিভোর্স পড়াবেন ব্যাস। তুমি শুধু ফটাফট তিনবার কবুল বলবে আর সামান্য কিছু পেপারে সাইন করে দিবে লক্ষী মেয়ের মতোন। তাহলেই হবে বুঝেছ?
রিদের কথায় মায়ার মাথায় ঝট পাকিয়ে আসে এলোমেলো হয়ে। ‘ডিভোর্স পড়ানো হয় এই বিষয়টি নিয়ে। সে এতকাল শুনে এসেছে ‘বিয়ে পড়ানো হয় কবুল বলে? কিন্তু আজ রিদের মুখে প্রথম শুনছে কবুল বলে ডিভোর্স পড়ানোও হয়। মায়ার ছোট মস্তিষ্ক ধরতে পারলো না রিদের কূটনীতি বুদ্ধিটা। রিদের রহস্যে ভেড়া জ্বালে অনাহেষেই ভেসে যায় মায়া। মায়া আরও ভাবলো তার রিদ ভাইয়া বুঝি কারও কাছে নিরুপায় হয় কখনো? মায়া হতাশ হলো কিন্তু দমে যায়নি রিদকে প্রশ্ন করা থেকে মায়া। নিজের অবুঝতায় মায়া পুনরায় প্রশ্ন করে বললো রিদকে…
—” কিন্তু ভাইয়া? বিয়ে মতো করে ডিভোর্স কিভাবে পড়ানো হয়? আমি তো শুনেনি এটা? কেউ তো বলেনি কখনো আমাকে যে এভাবেও ডিভোর্স হয় সেটা?
মায়ার পরপর প্রশ্নে রিদ কপাট রাগ দেখালো চোখে মুখে। প্রচন্ড বিরুক্তিতে কপাল কুঁচকালো এমন একটা ভাব করে সম্পূর্ণ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় মায়ার দিকে। নিজের কন্ঠে রাগ মিশালো মায়াকে দমিয়ে দেওয়ার জন্য। ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো…
—” তুমি বেশি বুঝো আমার থেকে? তুমি বড় নাকি আমি বড়? আমি বুঝি না কোনটা কিভাবে হয়, না হয় হ্যাঁ? জ্ঞান দাও আমাকে? আমি বলছি না বিয়ের নিয়মেই ডিভোর্স পড়ানো হয় মানে হয়। এখানেই কথা শেষ। আর জীবন কয়টা বিয়ে? কয়টা ডিভোর্স দেখছো তুমি হ্যাঁ? জীবনে কাউকে কখনো দেখছো ডিভোর্স নিতে? দেখনি! তাহলে জানবে কি করে যে কিভাবে ডিভোর্স হয় মানুষের। আমার থেকে একদমই বেশি বুঝতে যাবে না তুমি বলে দিলাম। আমি যখন বলেছি আমার তোমাকে পছন্দ না তারমানে আমাদের আজকেই ডিভোর্স পড়ানো হবে। ব্যাস!
রিদের ঝাঁঝালো কণ্ঠের কথায় কষ্টে চোখ লেগে আসলো মায়ার। দমেও গেলো নিজের মাঝে। আর প্রশ্ন করার সাহস পেল না রিদকে। মনে মনে ভাবলো মায়া, রিদ ভাইয়া যখন বলছে ডিভোর্স পড়ানো হয়, তারমানে সত্যিই ডিভোর্স পড়ানো হয় বিয়ের মতো করে। মায়া ছোট তাই সে কিছু জানে না। কিন্তু রিদ ভাইয়া বড় তাই সব জানে। সব বুঝেন। মায়া দমে গেলো মূহুর্তেই কিন্তু তারপরও মায়ার একটা আপত্তি হলো সে কেন চুরি করে রিদকে ডিভোর্স দিতে যাবে। বরং বাড়ির সকলকে সামনে রেখেই সে ডিভোর্স পড়বে রিদ ভাইয়ার নামে নয়তো না। তাই মায়া পুনরায় আপত্তি করে কষ্ট ভরা কন্ঠে বললো…
—” দাদা-দাদীকে ছাড়া আমি আপনার নামে ডিভোর্স পড়বো না ভাইয়া। আপনি দাদা-দাদীকে বলুন আসতে।
রিদ তেতে উঠে মায়ার মুখে বারবার ভাইয়া ডাকটা যেন রিদের অগ্নি রাগে কারণ হচ্ছে। কিন্তু তারপরও রিদ রাগটা প্রকাশ করলো না চেপে গেলো। এই মূহুর্তে যদি রিদের বিশেষ মূহুর্ত না হতো তাহলে এতক্ষণে মায়ার গালে ঠাটিয়ে মারতো এক চড়। ভাইয়া ডাকার দায়ে।কিন্তু আপাতত সে এমন কিছুই করতে চাচ্ছে না। আগে ভালো ভালোই হিসাবটা কষে নিক এই বাতিল বউয়ের সাথে তারপর নাহয় দেখে নিবে সে এই অবাধ্য নারীকে। যে কতটা অবাধ্য হতে পারে তাঁর। রাগে রিদ ভিতর ভিতর জ্বলে উঠলেও মুখে প্রকাশ করলো আংশিক। মায়ার দিকে এক পলক চোখ ঘুরিয়ে তাকিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলো রিদ। ধমক স্বরে বললো…
—” এই মেয়ে! দাদা-দাদী আমার কাছে ডিভোর্স চেয়েছে যে তাদের ডাকবো আমাদের ডিভোর্স পড়ানো সময়। আমার কাছে ডিভোর্স চেয়েছে আমার বাবা-মা। এখন তাঁরা দুনিয়াতে থাকলে নাহয় তাদেকে সামনে হাজির করে তোমাকে ডিভোর্স দিতাম। কিন্তু তাঁরা নেই বলেই আমি আর তুমি একা একা তাদেরকে দেখানোর ডিভোর্স নামা পড়বো। নয়তো আমার মোটেও ইন্টারেস্ট নেই তোমার প্রতি বুঝেছ?
রিদের যুক্তি মাথা ছোট মাথায় আঠলো। কিছুটা
আমতাআমতা করে বললো মায়া…
—” কিন্তু
রিদ পুনরায় ধমক স্বরে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বললো মায়াকে…
—” সেটআপ ইডিয়ট! আর একটা কথা বললে মাথার উপর তুলে রাস্তা আছাড় মারবো তোমাকে। তারপর হাত পা ভেঙ্গে নিয়ে যাব কাজি অফিসে…
রিদের ভয়ে মূহুর্তেই সিঁটিয়ে যায় মায়া। কোনো কথা না বাড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে যায় রিদের পিছন পিছন কাজি অফিস অবধি। কাজি অফিসের মধ্যে কাজিকেসহ তিনজন উকিল নিয়ে আগের থেকে বসে ছিল আসিফ। রিদ মায়াকে নিয়ে ঢুকতেই এগিয়ে আসে আসিফ। রিদকে বসার জন্য চেয়ার দিতেই সেটা টেনে বসে পড়লো রিদ আরাম করে। এতক্ষণ যাবত মুখে পড়ে থাকা রুমালটি টেনে গলায় নিচে নামিয়ে নেয় রিদ। দৃশ্যমান হয় রিদের ঘামন্ত লাল গম্ভীর মুখটা। রিদের পাশে আরও একটি চেয়ার দেওয়া হয় মায়াকে বসার জন্য কিন্তু মায়া বসলো না রিদের পাশের চেয়ারটায় বরং ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে রইলো রিদের পাশে নীরবে নিজের চোখের জল বিসর্জন দিতে দিতে। রিদের মাথা ঘামালো না মায়াকে নিয়ে বিন্দুমাত্র গম্ভীর ন্যায় বসে রইলো সটান হয়ে চেয়ারে। কয়েক সেকেন্ড মধ্যেই কাজি সাহেব জপতো করে কিছু পড়লো লাগলো। নিজের পড়া শেষ করে মায়াকে কবুল বলতে বললে মায়া রিদের দিকে তাকায় অশ্রু সিক্ত ভেজা চোখে। রিদ মায়াকে কবুল বলতে না দেখে পুনরায় ধমকে উঠে সশব্দে। মায়ার রিদের ধমকে চমকে উঠে ভয়ে সাথে সাথেই গরগর করে তিনবার কবুল বলে দেয়। কাজি সাহেব মায়াকে বিয়ে পড়নোর পর রিদকে ঠিক একিই ভাবে কবুল বলতে বললে সে গম্ভীর কণ্ঠে পরপর তিনবার কবুল বলে ফেলে। বিয়ে সম্পূর্ণ হয়। আসিফসহ বাকি সবাই সাথে সাথে শব্দ করে ” আলহামদুলিল্লাহ! পড়ে ফেলে তৎক্ষনাৎ।
ধর্মীয় মোতাবেক বিয়েটা সারতেই উপস্থিত তিনজন উকিলের মধ্যে একজন উকিল মায়ার দিকে বেশ কিছু কাগজ এগিয়ে দেয়। মায়া প্রথমে এতো গুলো পেপার দেখেই নাহুচ করে বসে সাইন করা থেকে। কিন্তু অবশেষে রিদের হুমকি-ধমকি ভয়ে উঠতে না পেরে একগাধা কাগজে সাইন করে দিল মায়া কান্না রফাদফা হতে হতে। রিদ মনোযোগ সহকারে দেখলো সদ্য বিয়ে হওয়া বউটিকে। তার সাইন করতে কত জড়তা, কত কষ্ট। আচ্ছা! মেয়েটা কি তাকে পছন্দ করে নাকি? নয়তো এতো জড়তা এতো কান্না কিসের ডিভোর্স ভেবে সাইন করতে? শুধুই কি তার ভয়ে মেয়েটা এমন করছে নাকি আরও কিছু আছে? রিদের ভাবনা সুতো ছিঁড়ল যখন উকিল সাহেব সেই কাগজ গুলো রিদের দিকে বাড়িয়ে দেয়। রিদ গম্ভীর মুখে খচখচ শব্দ করে দক্ষ হাতে সবগুলো পেপারে সাইন করে দিল একে পর এক। অবশেষে রিদ অবুঝ মায়াকে ধমকাতে ধমকাতে বিয়েটা করে নিল অনেকটা ষড়যন্ত্র ভাবে। মায়া বুঝলোও না রিদের ষড়যন্ত্রের চক্রটা। বরং মায়ার ভিষণ মন খারাপে গাল বেয়ে পড়ছে চোখের পানি। মায়ার কাছে আজ আবারও রিদ হয়ে উঠলো দুনিয়ায় সবচাইতে নিষ্ঠুর খারাপ মানুষ। যার মন নেই। নির্দয় পাষান্ড মানুষ! রিদ গম্ভীর মুখ উঠে কাজি অফিস থেকে বাহির হতেই মায়াও রিদের পিছন পিছন বের হয়ে আসে নিজের হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছতে মুছতে। রিদ বাহির হয়ে রাস্তা পাশে এসে দাঁড়ায় নিজের গাড়ির সামনে। পিছনে ঘুরে মায়ার দিকে তাকায় খানিকটা দুষ্টমী দৃষ্টিতে। রিদের দৃষ্টি খেলা করলো মায়ার কান্না জড়িত লাল মুখটার দিকে। রিদ গা এলিয়ে দাঁড়ায় গাড়ির সাথে। নিজের পকেটে পুনরায় দুহাত গজাতে গজাতে বললো….
—” ম্যাডাম ডিভোর্স পড়ানো শেষ। এবার যথার্থ নিয়মে বাসরটাও সারতে হবে আপনাকে। ঐ যে বললাম বিয়ের সকল নিয়ম কানুন মেনে ডিভোর্স পড়াতে হবে। তাই এখন নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে বাসরটাও সারতে হবে আমার সাথে নয়তো আমার বাবা-মা বিশ্বাস করবে না আমাদের ডিভোর্স হয়েছে সেটা। বিশ্বাস করানোর জন্য হলেও একটাবার বাসরটা সারতে হবে আপনাকে। কি প্রস্তুত তো আপনি? আমি কিন্তু প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি?
রিদের কন্ঠে খেলে গেলো দুষ্টমী কিন্তু চোখে মুখে রয়ে গেলো ভিষণ গম্ভীর্য্য ভাব। মায়া অশ্রু সিক্ত চোখ দুটো মুছতে মুছতে তাকায় রিদের দিকে। রিদের কথার যথার্থ অর্থ না বুঝেই মাথা নাড়িয়ে রিদকে সম্মতি জানায়। যার অর্থ ‘সে রিদের সাথে একটা বাসর করবে। মায়ার মাথা নাড়ানোতে এই প্রথম ঠোঁট কামড়িয়ে হাসলো রিদ। প্রচন্ড লাজুক সে হাসি। কিন্তু মায়া রিদের সেই হাসিটুকু দেখের আগে রিদ কৌশলে নিজের গলায় ঝুলে থাকা রুমালটি টেনে উপরে তুলে নেয়। নিজের মুখ ঢেকে নেয় চট করে। তারপর রসিয়ে বলে উঠে…
—” ম্যাডাম বাসর অর্থ বুঝেন আপনি??
মায়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায় যার অর্থ সে বুঝে বাসর অর্থ কি? রিদ যেন সুযোগ পেল। অকপটে প্রশ্ন করলো সাথে সাথে মায়াকে…
–” তাই? ভালো! তা কি জানেন বাসর সম্পর্কে শুনি?
মায়া রিদের থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিচে তাকায়। টলমলে চোখে বললো…
—” বিয়ের ফাস্ট নাইটকে বাসর বলে!
রিদ আহত সুরে মৃদু আতৎনার্ত করে উঠলো মায়ার সামনে দুষ্টুমীতে রসিয়ে বলে উঠলো তৎক্ষনাৎ…
—” উফ! ম্যাডাম এই ভাবে বুলিয়েন না প্লিজ। লাগে! শরীর মন দুটোই জ্বলে। আসলে ফাস্ট নাইট সম্পর্কে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা নাই তো তাই। একটু শিখিয়ে পড়িয়ে নিবে আমাকে কেমন??
মায়া না বুঝে আবারও মাথা নাড়ায়। যার অর্থ সে রিদকে শিখিয়ে পড়িয়ে দিবে। রিদ পুনরায় ঠোঁট কামড়িয়ে হাসলো। বুঝতে পারলো মায়া বারবার বাসরের যথার্থ না বুঝেই তাঁকে সম্মতি জানাচ্ছে। এখন রাতে বুঝা যাবে এই মেয়েটি তার সাথে কি করে? তখন নাহয় রিদ চিন্তা ভাবনা করে নিবে এই মেয়েটিকে ছেড়ে দেওয়া যায় নাকি পিষে দেওয়া যায়।
চলিত…..
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ১ গল্পের লিংক
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৩
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫