Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১১


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

১১
–” মেয়েটি কে নানুমা?

একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে হেনা খান বলে উঠলো…

–” মায়া। আমার সোনামা।

–” রিদের নাবালিকা বউ?(কপাল কুঁচকে)

আয়নের প্রশ্নটা পছন্দ হয়নি হেনা খানের। তিক্ত মনে যেন আরও ঘী পরলো আয়নের প্রশ্নটায়। তিক্ততা তিরতির করে বাড়লো। বিদ্রুপ কন্ঠে বললো…

–” সেটা ছিল কাল অবধি এখন আর নেই। রিদ বিয়েটা বাতিল করে গেছে। মায়া এখন কারও বউ নয়। আর না মায়ার কোনো স্বামী আছে। মায়া শুধু্ খান বাড়ির মেয়ে অন্য কিছু না।

হেনা খানের বিদ্রুপ কথায় স্মিথ হাসলো আয়ন। খান বাড়িতে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা সম্পর্কে অবগত সে। শুধু মায়াকেই দেখা হয়ে উঠেনি তাঁর এতদিন। নিজের মায়ের মুখে বেশ কয়েকবার মায়ার নামটা শুনেছিল। ফোনে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখেছিল বেশ কয়েক দিন দূর থেকে। ব্যস্তায় আয়নেই দেখা হয়নি মায়াকে। রিদ সম্পর্কে অবগত ছিল বলেই রিদের বাল্যবিবাহটা নিয়ে এতটা মাথা ঘামায়নি সে। মায়াকে ঘিরে অনেক কিছু ঘটে গেছে রিদের জীবনে। অনেক কিছু হারিয়েছে রিদ। তাই মায়াকে দ্বিতীয়বার নিজের জীবনে জড়াবে না সে। এমনটা ধারণাও ছিল আয়নে আগের থেকেই। এখন তাই হলো। রিদ সবটা জানতে পেরে সম্পর্ক বিছিন্ন করে গেলো মায়ার সাথে। নেক্সট রিদ কি করবে? সেটা রিদই জানে ভালো। আপাতত রিদের পরবর্তী পদক্ষেপ জন্য সবাই অপেক্ষা করতে হবে। রিদের বউকে নিয়ে নিজ পরিবারের সবার মাতামাতির থাকলেও আয়ন সেদিকে বিশেষ একটা পাত্তা ছিল না। মায়ার সাথে কথা বলে ফিহা প্রায়ই উৎফুল্লতা সঙ্গে আয়নকে বলতো..

–” ভাই জানিস রিদ ভাইয়ার বউ কত সুন্দর? কতটা মায়াবতী? নামে সাথে চেহারায় পুরো মিল আছে। সবটা জুড়ে শুধু মায়া মায়া ভাব। আহা! ভাই তুমিও কিন্তু মায়ার মতোই একটা বউ আনবে আমাদের জন্য। বুঝলে।

আয়ন শুধু বোনের কথায় বিস্মিত হতো। বুঝতে পারতো মায়াকে বেশ মনে ধরেছে ফিহার তাঁর জন্য আয়নের কাছেও আবদার বসাতো মায়ার মতোই ভাবি আনার। আয়ন পরিস্থিতি বুঝে চুপ থাকতো। নয়তো মাঝেমাঝে বলতো ‘আচ্ছা নিয়ে আনবো! কথা গুলো মনে মনে আওড়ায় আয়ন। হেনা খানের বদলর্তীত শক্ত চেহারায় তাকায়। পরিস্থিতি বুঝে খানিকটা সচেতন ভাব টানলো মুখে। গম্ভীর মুখে বললো…

–” নানুমা যাহ হবার তা হয়ে। সেটা নিয়ে মনে কষ্ট পুষে রাখলে তোমার চারপাশটা তোমার কাছে তিক্ত মনে হবে। কেন হয়েছে? কেন হয়েছে? ভাবতে ভাবতে তুমি আটকে থাকবে অতীতের পাতায়। অতীত কারও জন্যই খুব বেশি সুখকর নয়। অতীত আঁকড়ে ধরে বর্তমান পাড় করতে পারবে না। বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে বিষিয়ে তুলবে তোমার বিষাক্ত অতীত। যেমন আমরা বইয়ে প্রথম পৃষ্ঠা পড়ে, সেটা না উল্টালে দ্বিতীয় পৃষ্ঠাটা রহস্য উন্মোচন করা যায় না। ঠিক তেমনি রিদের মধ্যে আটকে থাকলে। মায়ার জীবনটা গড়া হয়ে উঠবে না। রিদ বাস্তবিক মানুষ। সময়ে সাথে সাথে সবকিছু ঠিকঠাক করে নিবে নিজের জীবনে। ওর ইচ্ছা বিরুদ্ধে ওকে এক চুলও নড়াতে পারবে কেউ। সেটা তুমি, আমি সবাই জানি। তারপরও কেন এসবের মধ্যে রিদকে টেনে মায়ার জীবনটা নষ্ট করতে চাইছো। সি ডিজার্ভ বেটার দ্যান রিদ। সময় থেমে থাকে না কারও জন্য। মায়া এখনো ছোট। ওকে পড়াশোনাটা ঠিকঠাক ভাবে করাও। স্টাবলিশ করো। নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করো তোমরা। ওর পাশে থাকো। মায়া বড় হলে ওর পছন্দ মতো আবার বিয়ে দিবে। ওকে এতো টানাহেঁচড়া করো না। পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করো নানুমা। মায়াও একটা মানুষ। ওর ও একটা মন আছে। মায়া মনটা বুঝার চেষ্টা করো। প্রেসার ক্রিয়েট করো না। রিদ ছাড়া আশেপাশে আরও অনেক ভালো ছেলে আছে। যে মায়াকে ভালো রাখবে। ভালোবাসবে! মায়ার সাথে খারাপ আচারণ করবে না। গায়ে হাত তুলবে না। একটা ভালো সিদ্ধান্ত! জীবন নতুন মোড় হয়। খারাপ সিদ্ধান্তে পদন্নোতি হয় নানুমা।

আয়ন প্রতিটা কথা গভীর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করলো হেনা খান। আরাফ খান নিরব বংগিতে বসে রইলো। আয়নের প্রতিটা কথার মানে বুঝতে পারলো হেনা খান। মায়াকে সামলাতে হবে। রিদ সাথে মায়ার সম্পর্কটা এখন অতীত। বর্তমান নয়। মায়াকে স্বাধীনতা দিতে হবে। মন খোলের বাঁচার রাস্তা দেখাতে হবে। তিনি আয়নের কথার মর্মার্থ বুঝে নিজেকে শান্ত করলো। অদ্ভুত দৃষ্টিতে আয়নের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলো মনে মনে। মাথায় কিছু আসতেই চট করে তাকালো স্বামী দিকে। আরাফ খানের দৃষ্টি হেনা খানের উপর ছিল। সাথে সাথে দু’জনের চোখাচোখি হয়। হেনা খানের অদ্ভুত দৃষ্টি দেখে সাথে সাথে সন্দেহে কপাল কুঁচকে এলো আরাফ খানের। কিছু একটা চলছে হেনা খানের মাথায় সেটা সাথে সাথেই বোধগম্য হলো আরাফ খানের। কিন্তু আপাতত কিছু বললো না হেনা খানকে। চুপ থাকলো। হেনা খান স্বামীকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে এক পলক দেখে নিয়ে চোখ আওড়িয়ে আবারও তাকায় ফোনের স্কিনে ঝলমল করে উঠা আয়নের মুখশ্রীতে। এদিকে ওদিকের কথা না বাড়িয়ে ভরাট কন্ঠে চট করে বললো…

–” তুই কবি আসবি বাংলাদেশে?

হেনা খানের হুট করে পাল্টানো প্রাসঙ্গিকে খানিকটা কপাল কুঁচকে এলো আয়নের। হেনা খান ঠিকঠাক আয়নের কথার মানে বুঝতে পারছে কিনা কে জানে? তারপরও আশাহত রইলো যে হেনা খান বুঝতে পারছে। তাই আয়ন আর আগ বাড়িয়ে কথা বাড়ায়নি। প্রশ্ন উত্তর বসাতে বললো….

–” ইন্টার্নশিপ শেষ করে বছর খানিকটা পর আসবো। হসপিটালের জয়েন হওয়ার আগে।

পাল্টা প্রশ্নে বললো…

–” তোর মার সাথে আসবি না তুই?

–” না নানুমা। আপাতত আসতে পারছি না। ব্যস্ত আছি। তবে ইন্টার্নশিপ শেষ হলেই চলে আসবো ওয়াদা করছি।

আয়নের কথার মধ্যেই শক্ত গলায় আবারও বলে উঠলো হেনা খান…

–” আমি কিছু চাইলে তুই আমাকে দিবি আয়ন? রাখবি আমার কথা?

হেনা খানের এমন কথায় মূহুর্তে থমথমে খেয়ে যায় আয়ন। হুটহাট আবদার জন্য খানিকটা অপ্রস্তুত ছিল আয়ন। তারপরও পরিস্থিতি বুঝে দারুণ হাসলো আয়ন। হেনা খানকে স্বাভাবিক করার জন্য বললো….

–” তুমি চাইবে আর এই অধম তাহ রাখবে না, তাই কি হয়? বলো!

শক্ত গলায় বললো…

–” ভেবে বল আয়ন! আমি যাহ চাইবো তাই দিতে হবে তোকে। ফিরাতে পারবি না কিন্তু?

বেশ নড়েচড়ে বসলো আরাফ খান। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো হেনা খানের মুখপানে। হেনা খানের কি চাই সেটা জানার তীব্র কৌতূহল সৃষ্টি হলো উনার মধ্যে। হেনা খান অনল হয়ে বসে রইলো। নিজের কথায় অটুট।
হেনা খানের শক্ত বংগিতে এবার টনক নড়লো আয়নের। কি এমন চাইবে নিজের নানুমা বিষয়টা বোধগম্য হচ্ছে না। তবে এতটা বুঝতে পারছে খুবই আপত্তিকর কিছু চাইবে হেনা খান। কিন্তু এই মূহুর্তে নিজের নানুমাকে’ না’ করা বা ফিরানো প্রশ্ন আসে না তাঁর। রিদের জন্য এমনিতেই প্রচুর ডিস্টার্ব হেনা খান। এখন আয়নের না করাতে, আরও ডিস্টার্ব হয়ে যেতে পারে। তাই না টা আপাতত করবে না সে। যাহ চাই তাই চুপচাপ দিয়ে দিবে সে। এবার সেটা যথটাই আপত্তিকর কিছু হোক না কেন? সে দিবে।

–” হ্যাঁ দিব বলো।

কাটকাট গলায় জানায়….

–” ঠিক আছে! আমি তোর এক বছরের অপেক্ষা রইলাম। আমার চাওয়াটাও এক বছর পরই তুলবো তোর সামনে। সময় সাথে চেয়ে নিব আমি। মনে রাখিস আমাকে কিন্তু ফিরাতে পারবি না। যদি ফেরাস তাহলে আমার আর তোর সম্পর্কে ইতিটাও আমি সেই দিনই টানবো। তুই নিজের ওয়াদার কথাটা মনে রাখিস।

বিষ্ময়কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আরাফ খান ও আয়ন। হেনা খান কি চাইছে কিছু বুঝতে পারছে না আয়ন তবে আরাফ খান কিছুটা আর্চ করতে পেরে। উত্তেজিতে খানিকটা হাসফাস করতে লাগলো। হেনা খান চোখ আওড়িয়ে এক পলক আরাফ খানকে দেখে নিয়ে আয়নের সাথে নিজের দীর্ঘ লম্বা কথা শেষ করলো। তবে চাওয়া সম্পর্কে কিছু বললো না। আয়ন কল কাটতেই চোখ তুলে তাকাই স্বামীর দিকে। আরাফ খানকে হাসফাস করতে দেখে কোনো রুপ বনিতা ছাড়ায় কাটকাট গলায় জানায়….

–” আমি আয়নে সাথে মায়ার বিয়ে দিতে চাই। আয়ন ভালো ছেলে। রিদের মতো উগ্র নয়। বউকে ভালোবাসবে! ভালো রাখবে। তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হলো আয়ন খান পরিবারের একজন সদস্য। আয়নের সাথে মায়ার বিয়ে হলে মায়া আমাদের সাথে এই খান বাড়িতে থাকবে বাকিটা জীবন আমার চোখে চোখে। এতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।

আরাফ খান আর্চ করা বিষয়টি সত্যি হওয়ায় বিষন্নয়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় উনার। আয়ন ছেলে হিসাবে খারাপ তা নয়। কিন্তু বউয়ের পাগলামো দেখে হতবাক, বাকরুদ্ধ। মায়াকে নিজের কাছে রাখার সর্বোত্তম চেষ্টা করছেন হেনা খান সেটা ঠিক বুঝতে পারছেন তিনি। কিন্তু আয়ন বা কি রাজি হবে এমন প্রস্তাবে? যদি না হয় তখনই বা কি করবে হেনা খান? সবকিছু মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায় আরাফ খানের। হতবাক কন্ঠে বললো…

–” আয়ন রাজি হবে তোমার মনে হয়?

–” না হওয়ার কিছু নেই। আমি রাজি করাবো। মেহেরবান দেশে আসলে, আমি কথা বলবো এই বিষয়ে। মেহেরবান আমার কথা রাখবে। আর বাকি রইলো আয়ন। তোহ! আমি রাজি করাবো। একবছর পরেই দুজনের বিয়েটা সেড়ে নিবো আমি।

হেনা খানের কথায় দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে আরাফ খান। এলোমেলো জীবনটা এবার কোন গতিতে চলছে কে জানে? কোথায় গিয়ে থামের জীবন নামক রাস্তাটি? রিদকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন গুলো এবার আয়নের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে এটাই অনেক। তাছাড়া আয়ন ভালো ছেলে মায়াকে সত্যিই ভালো রাখবে। সুখে রাখবে। জীবনে সবাই এগিয়ে গেলেও রিদের একাকীত্বটা যেন পুরিয়ে মারবে তাদের। আপাতত তাদের কিছুই করার নেই। সময়ে হাতে সবটা ছেড়ে দিয়েছে। সময় ঠিক করুক কে কতটা পাবে! আর কে কতটা হারাবে? নতুন করে আর কোনো চেষ্টা নেই রিদ মায়াকে ঘিরে। সবকিছু ইতি টানলো তাঁরা আজ থেকে।

বহমান নদীর স্রোত এর মতো সময় গুলোও যেন দ্রুত পার হতে লাগলো। সেইবার মায়া ক্লাস নাইনের ফাইনা পরীক্ষা চুকিয়ে দশম শ্রেণিতে উত্তির্ন হলো মাস চারেক আগে। মায়ার শারীরিক দিক থেকে বেশ পরিবর্তন ঘটেছে। গায়ে এবার ফ্লক নয়, জমায় জড়ায়। সেই সাথে ওড়না টানাও শিখে গেছে বেশ। খানিকটা বেশ গোলুমোলু উঠেছে আগে থেকে। এক বছরের গায়ের সাথে সাথে চুলেরও পরিবর্তন ঘটেছে চোখ ধাঁধানো। লম্বা চুল গুলো আরও বেশ খানিকটা লম্বা হলো হেনা খানের যত্নে যত্নে। হাটু সামান্য উপরে ঠেকলো দ্বিগুণ কালো চুল গুলো।

মায়া সাথে সাথে খান বাড়ির মানুষদের আনাগোনা মধ্যেই বেশ পরিবর্তন ঘটলো। মেহেরবান ফিহার লন্ডন থেকে এসেছিল এক বছর আগেই। ফিহাকে কলেজ ভর্তি করানো হয়েছে। এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ুয়া স্টুডেন্ট। খান বাড়িতে মাসের বিশটা দিন কাটায় মায়ার সাথে। বেশ বন্ধু মহল ভাব মায়ার সাথে ফিহা। এই এক বছরের দুইবার ব্রাক্ষণবাড়িয়াতেও গিয়ে ছিল বেড়াতে নিজের বাবা-মার কাছে। সাপ্তাহ করে থেকে পুনরায় চলে এসেছিল খান বাড়িতে। সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। বেশ কিছুদিন হলো আয়নের ইন্টার্নশিপ শেষ হলো। এবার সে বাংলাদেশে আসতে চাই। নিজের হাতের কাজ গুলো শেষ করেই পাড়ি জমাবে বাংলাদেশে। শুধু রিদেরই বিশেষ পরিবর্তন ঘটলো না। কোথায় আছে? কেমন আছে? কাউকে কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করে না। প্রয়োজন হলে মাসে একবার করে নিজেই আরাফ খানকে ফোন করে, তাদের দু’জনের সাথে অল্প টাইম বেঁধে কথা বলবে। এবং নিজ দ্বায়িত্ব কল কেটে দিবে তার পর মূহুর্তেই। রিদের আচরণে কষ্ট পান তাঁরা। তারপরও আশায় আছে নতুন আলোয়। যদি কোনো একদিন রিদের মন পরিবর্তন হয়। সে ফিরে আসে আপনজনদের কাছে সেই আশায়। সেটা কখন? কবে হবে? তা জানা নেই কারও। তবে এক বুক আশায় আশায় দিন পার হচ্ছে হেনা খান ও আরাফ খানের।

চলিত…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply