দিশেহারা (০৬)
সানা_শেখ
নিজের রুমে প্রবেশ করে সোহাকে প্রায় ছুঁড়ে ফেলার মতো করে ঠেলে দেয় শ্রবণ। নিজেকে সামলাতে না পেরে ফ্লোরে আছড়ে পড়ে সোহা। ব্যথা পেয়ে আরো জোরে কেঁদে ওঠে। শ্রবণ দরজা লাগিয়ে সোহার সামনে এসে বসে পায়ের উপর ভর করে। সোহার চোয়াল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“আমার সামনে একদম ন্যাকা কান্না কাঁদবি না। কাঁদবি তো তোর জিহ্বা টেনে ছিঁ’ড়ে ফেলবো। মুখ বন্ধ কর দ্রুত।”
সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকায় একবার। হিংস্র চেহারা দেখে সাথে সাথেই দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। কান্না বন্ধ করতে চাইলেও পারছে না।
শ্রবণ ওকে ছেড়ে দিয়ে উঠে বসে বিছানায়।
সোহা মুখে হাত চেপে অন্য দিকে ঘুরে বসে থাকে। ওর ভবিষ্যৎ যে সুখের নয় সেটা এখনই বুঝতে পারছে।
তনিমা চৌধুরী স্পর্শকে ধরে ঝাঁকি দিয়ে বলেন,
“স্পর্শ এরকম ভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? স্বাভাবিক হ।”
স্পর্শ ওর মায়ের মুখের দিকে তাকায়। নিজের বাহু থেকে মায়ের হাত সরিয়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে,
“আমি এই বাড়ির ছেলে না? ভাইয়া আমার ভাই না? আব্বু আমার আব্বু না? এই বংশের র’ক্ত আমার শরীরে নেই?”
তনিমা চৌধুরী চুপ করে থাকেন। স্পর্শ চিৎকার করে ওঠে,
“কথা বলছো না কেন? আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। বলো আমার আসল বাবাকে? আমার আসল পরিচয় কী? কোন বংশের র’ক্ত আমার শরীরে? কোন বাড়ির ছেলে আমি?”
ছেলের চিৎকারে তনিমা চৌধুরী কেঁপে ওঠেন। ওনার শান্ত ছেলেটা শ্রবণের মতো এভাবে চিৎকার করছে কেন? স্পর্শ তো এমন স্বভাবের ছেলে না।
শামীম রেজা চৌধুরী ছোটো ছেলের কাছে এগিয়ে আসেন। ছেলের বাহুতে হাত রেখে বলেন,
“স্পর্শ শান্ত হও।”
স্পর্শ বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে কাতর স্বরে বলে,
“আব্বু তুমি আমার আব্বু না?”
শামীম রেজা চৌধুরী ছেলের গালে হাত রেখে বলেন,
“হ্যাঁ। আমিই তোমার আব্বু, তুমি আমার ছেলে।”
“তাহলে ভাইয়া কেন বললো আমি এই বাড়ির ছেলে না, ভাইয়া আমার ভাই না, তুমি আমার আব্বু না?”
“তুমি আমার ছেলে, তুমি এই বাড়ির ছেলে। শ্রবণের মানসিক সমস্যা আছে তুমি জানোই তো। কী উল্টা পাল্টা বলছে ও নিজেও জানে না। ও যাদের অপছন্দ করে তাদের কোনো ভাবেই সহ্য করতে পারে না সেটা তো তুমি জানো। ও রাগের মাথায় এমন বলেছে তুমি শান্ত হও।”
“ভাইয়া তাহলে কেন বললো আম্মু আমাকে নিয়ে এসে তোমাকে বিয়ে করেছিল? ভাইয়া কেন আম্মুকে আম্মু ডাকে না? কেন আম্মুর সাথে কথা বলে না?”
“শ্রবণ তো আমার সাথেও কথা বলে না। বাবা বাদে এই বাড়ির কারো সাথেই তো কথা বলে না, কাউকে সহ্যও করতে পারে না।”
“কেন বলে না? কেন সহ্য করতে পারে না? অতীতে কী ঘটেছিল? ভাইয়া কেন এমন করে?”
শামীম রেজা চৌধুরী চুপ করে থাকেন। বাড়ির সবাই চুপ হয়ে আছেন। সামাদ চৌধুরী ছেলে আর স্পর্শের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি তো জানেন স্পর্শ এই বাড়ির ছেলে না, আর নাতো ওর শরীরে এই বংশের র’ক্ত আছে। তনিমা চৌধুরী তো স্পর্শকে নিয়ে এসেই ওনার ছেলেকে বিয়ে করেছিল। মাকে হারানোর এক মাসের মধ্যেই বাবার দ্বিতীয় বিয়ে মানতে পারেনি শ্রবণ। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর কিছু ঘটেছিল শ্রবণের সাথে যা শ্রবণ কাউকে বলেনি। মায়ের মৃ’ত্যুর পর এমনিতেই ছোট শ্রবণের অবস্থা ভালো ছিল না, মা নেই বাবাকেও কাছে পায় না। তার উপর শামীম রেজা চৌধুরী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর আস্তে আস্তে মানসিক ভাবে অসুস্থ হতে শুরু করেছিল শ্রবণ। ছোটো বেলা থেকেই সামাদ চৌধুরীকে বাদে কাউকে সহ্য করতে পারতো না। কেউ ওর সাথে কথা বলতে আসলেই হিংস্র হয়ে মা’রা’র জন্য তেড়ে যেত। বিশেষ করে স্পর্শ, তনিমা চৌধুরী আর ওর বাবাকে। এই তিন জনকে একে বারেই সহ্য করতে পারে না, এখনো না।
স্পর্শ বাবার দিকে তাকিয়ে আবার বলে,
“কথা বলছো না কেন? সত্যি টা বলো আমাকে।”
শামীম রেজা চৌধুরী ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“সেন্টারে চল গেস্টদের তো জানাতে হবে বিয়েটা হচ্ছে না।”
“আব্বু আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাও।”
শামীম রেজা চৌধুরী বেরিয়ে যান বাড়ি থেকে। ওনার পেছন পেছন শাহীন রেজা চৌধুরীও বেরিয়ে যান।
স্পর্শ মায়ের দিকে তাকাতেই ওর মা মেড কে উদ্দেশ করে বলেন,
“শ্রবণের রুমে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করো।”
কথা গুলো বলে দ্রুত পায়ে নিজেদের রুমের দিকে এগিয়ে যান। অনিমা চৌধুরী নিজেও বড়ো বোনের পেছন পেছন চলে যান।
স্পর্শ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে চার জনের চলে যাওয়া। চার জনই যেন ওর কাছ থেকে পালিয়ে গেলো একপ্রকার। সবাই কিছু তো একটা লুকোচ্ছে ওর কাছ থেকে। দাদার দিকে তাকিয়ে বলে,
“দাদা ভাই অন্তত তুমি বলো।”
সামাদ চৌধুরী শান্ত কন্ঠে বলেন,
“তুমি পরে তোমার বাবা মায়ের কাছ থেকেই জেনে নিও।”
“আমি এখনই শুনতে চাই, তুমি বলো।”
সামাদ চৌধুরী কিছু বলেন না। ধীর পায়ে হেঁটে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যান। শ্রবণ যে এমন কিছু করতে পারে ওনার কল্পনায় ছিল না। যেই সোহাকে দুই চোখে দেখতে পারে না তাকে বিয়ে করে নিল? কোন মতলবে সোহাকে বিয়ে করল? স্পর্শের সাথে বিয়ে হচ্ছিল বলে নাকি অন্য কোনো কারণে?
স্পর্শ একাই দাঁড়িয়ে রইলো ড্রয়িং রুমে। পুরো ড্রয়িং রুম এখন ফাঁকা। সিয়াম পার্লারের দিকে গেছে সোহা আর শ্রবণকে খুঁজতে। ওদের ফোনেও পাওয়া যাচ্ছিল না আবার পার্লারে কল করলে জানতে পারে ওরা পার্লারে পৌঁছায়নি, তাই সিয়াম বেরিয়েছিল খুঁজতে।
ঘণ্টা খানিক পর শ্রবণের রুমের দরজায় নক হয়। শ্রবণ দরজার দিকে তাকিয়ে ফ্লোরে বসে থাকা সোহার দিকে তাকায়। সোহা এখনো একই ভঙ্গিতে বসে আছে ফ্লোরে।
শ্রবণ হাতের ফোন বিছানায় রেখে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। বড়ো বড়ো কদমে দরজার কাছে এগিয়ে এসে দরজা খুলে দেয়। মেড খাবারের ট্রে হাতে দাঁড়িয়ে আছে। অন্য জন পানিভর্তি জগ নিয়ে।
শ্রবণ খাবারের ট্রে আগে ভেতরে রেখে খালি জগ একজনের হাতে ধরিয়ে দিয়ে পানিভর্তি জগটা নিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়।
জগ রেখে হাত ধুয়ে নেয়। দু’জনের খাবার দিয়ে গেছে। শ্রবণ একটা প্লেটে নিজের জন্য খাবার নিয়ে বিছানায় বসে। চুপ চাপ পেট ভরে খাবার খায়। গত কয়েক দিন ধরে ঠিক মতো খেতে পারেনি।
খাওয়া শেষে রুমের দরজা চাবি দিয়ে লক করে দেয়। রুমের লাইট অফ করে পাঞ্জাবি পরেই শুয়ে পড়ে। ঘুম পাচ্ছে ভীষণ, আরামের ঘুম দেবে এখন।
বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে যায়। শ্রবণের ভারি শ্বাস ফেলার শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে সোহা। শ্রবণ ঘুমে বিভোর হয়ে গেছে বুঝতে পেরে ঘাড় ঘুরিয়ে বিছানার দিকে তাকায়। বুকের উপর বালিশ রেখে দুই হাতে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেছে।
সোহা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। নিচে বসে থাকতে থাকতে পা আর মাজা ব্যথা হয়ে গেছে। তখন আছড়ে পড়ার কারণেও ব্যথা পেয়েছিল।
ধীরে ধীরে নিঃশব্দে দরজার দিকে আগায়। দরজা খুলতে গিয়ে বুঝতে পারে চাবি দিয়ে লক করা হয়েছে। বোকা মেয়ে, ওকে মুক্ত রেখে কী শ্রবণ এভাবে বিভোর হয়ে ঘুমাবে?
রুম থেকে বের হতে না পেরে আবার ফুঁপিয়ে ওঠে সোহা। দরজা ঘেঁষে বসে পড়ে আবার। একবার রুম থেকে বের হতে পারলে জীবনে আর শ্রবণের সামনে আসতো না। এমন জায়গায় গিয়ে লুকাতো যে শ্রবণ সারা জীবন খুঁজেও ওকে পেতো না।
আচ্ছা স্পর্শ কী করছে এখন? ও ঠিক আছে? কাদঁছে কী? সোহার তো ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আর কান্না পাচ্ছে স্পর্শকে না পেয়ে। সোহা তো স্পর্শকে ভালোবাসে, স্পর্শও ওকে ভীষণ ভালোবাসে। গত কয়েক দিন দু’জন কত সুন্দর সুন্দর সময় কা’টিয়েছে। দু’জন একসাথে কত-শত স্বপ্ন দেখেছিল এই কয়েক দিন ধরে, সব আজ শেষ হয়ে গেছে। শ্রবণ নামক ঝড় আজ হুট করে সব ধ্বংস করে দিয়েছে। ওর স্বপ্ন, ওর অল্প কয়েক দিনের ভালোবাসা সব শেষ।
বিছানার দিকে তাকায় আবার, সকলের ঘুম হারাম করে, শান্তি কেড়ে নিয়ে নিজে শান্তির ঘুম দিয়েছে।
শ্রবণের বলা কথা গুলো স্মরণ হয়। শ্রবণ অনেক বার বলেছে স্পর্শ ওর ভাই না, তনিমা চৌধুরী ওর মা না। এরকম কথা কেন বললো শ্রবণ? সোহা তো বুঝতে শেখার পর থেকেই জানে স্পর্শ আর শ্রবণ আপন ভাই। তনিমা চৌধুরী শ্রবণের নিজের মা।
তনিমা চৌধুরী যদি শ্রবণের মা না হয় তাহলে শ্রবণের মা কে? সে কোথায়? স্পর্শ কী শ্রবণের সৎ ভাই? শ্রবণ তো এটাও বললো স্পর্শের সাথে ওর র’ক্তের কোনো সম্পর্ক নেই। স্পর্শ এই বাড়ির ছেলে না। আরো যেন কী কী বললো মনে নেই সোহার।
সব কিছু কেমন সোহার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে না কিছুই।
কী চলছে এই বাড়িতে? এত কেন ঝামেলা শুধু? শ্রবণ এই বাড়িতে আসলে একটা না একটা ঝামেলা হবেই। এই ব্যাটা শ্রবণ চৌধুরী না, ঝামেলা চৌধুরী। শ্রবণ নাম না রেখে ঝামেলা রাখা উচিত ছিল।
এর সব কিছুতেই সমস্যা আর শুধু ঝামেলা করে।
পাঁচটার দিকে ঘুম ভাঙে শ্রবণের। শোয়া অবস্থায়ই সোহা যেখানে বসে ছিল সেখানে তাকায়। সোহাকে দেখতে না পেয়ে আশে পাশে নজর বুলায়। দেখে সোহা দরজার সাথে ঘেঁষে বসে আছে হাঁটুতে মুখ গুঁজে।
ওখানে বসে থাকার কারণ উদঘাটন করতে দশ সেকেন্ডও সময় লাগে না শ্রবণের।
শ্রবণ শোয়া থেকে উঠে বসে। গায়ের পাঞ্জাবি খুলতে খুলতে গম্ভীর স্বরে বলে,
“পালিয়ে যেতে পেরেছিস?”
তড়িৎ গতিতে মুখ তুলে শ্রবণের দিকে তাকায় সোহা। শ্রবণ পাঞ্জাবি রেখে উঠে দাঁড়িয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
“আমার অনুমতি ব্যতীত তুই ওয়াশরুমেও যেতে পারবি না সেখানে রুমের বাইরে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।”
কথা গুলো বলতে বলতে ওয়াশরুমের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। সোহা আগের মতোই বসে রইলো। জীবনে কী পাপ করেছে যে শ্রবণের মতো একটা সমস্যার সাথে ওর জীবন জড়িয়ে গেলো?
শাওয়ার নিয়ে কোমরে টাওয়েল পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসে শ্রবণ। সোহা একবার তাকিয়ে সাথে সাথেই দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। শ্রবণ কাভার্ডের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
“ভুলেও তোর নোংরা দৃষ্টি আমার ওপর দিবি না নোংরা মহিলা। বিয়ে ঠিক হয়ে সারেনি পুরুষ মানুষের সাথে ঢলাঢলি শুরু। আমি ড্রেস ছাড়া থাকলেও তুই চোখ তুলে তাকাতে পারবি না, তাকালে তো চোখ উপড়ে নেবো আমি।”
সোহা কিচ্ছু বলে না। শ্রবণ ট্রাউজার পরে টিশার্ট গায়ে জড়ায়। চুল গুলো ভালোভাবে মুছে ব্যালকনির দিকে আগায়। বেতের চেয়ারের ওপর রাখা সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরায়। একটা টান দিয়ে ধোঁয়া উপরের দিকে ছেড়ে দেয়। গেটের দিকে চোখ যেতেই দেখে কয়েক জন গেস্ট বেরিয়ে যাচ্ছে। আরেক টান দিয়ে ধোঁয়া বাইরে উড়িয়ে দেয়।
স্পর্শের নানা ভেতরের দিকে আসছিলেন, ওনার চোখ পড়ে শ্রবণের ব্যালকনির দিকে। দু’জন দু’জনের দিকে তাকিয়ে থাকে। শ্রবণ সিগারেটে আরেক টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে দেয়। স্পর্শের নানা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভেতরের দিকে এগিয়ে আসেন।
শ্রবণ ঘাড় কাত করে মুচকি হাসে। সেই আনন্দ হচ্ছে ওর। বিয়ে করে আসার পর থেকে একেক জনের চেহারা দেখে ওর নাচতে ইচ্ছে করছে।
আহা শান্তি।
সময় গড়ায়।
বিকেল সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নয়টা বেজে গেছে।
শ্রবণ একবারের জন্যও রুম থেকে বের হয়নি আর। সোহা একপাশে দেওয়ালের সাথে ঘেঁষে বসে আছে এখনো। একবার শুধু ওয়াশরুমে গিয়েছিল।
শ্রবণ দাদার ফোনে মেসেজ পাঠায়।
“দাদা ভাই আমার খাবার দিয়ে যেতে বলো।”
ওর এখন নিচে গিয়ে ওই ডা’ই’নি আর শ’য়’তা’ন গুলোর চেহারা দেখতে মোটেও ইচ্ছে করছে না।
নিচে গেলেই শান্ত মেজাজ টা গরম হয়ে আগ্নেয়গিরির মতো ব্লাস্ট করবে।
পাঁচ মিনিট হওয়ার আগেই মেড খাবার দিয়ে যায় দু’জনের জন্য। শ্রবণ নিজের খাবার নিয়ে খেতে শুরু করে। সোহার দিকে একবার তাকিয়ে আবার বিরিয়ানি তুলতে তুলতে বলে,
“না খেয়ে ম’র’তে চাস নাকি এখনই? খাবার খা, খেয়ে বেঁচে থাক, তুই ম’রে গেলে তো আমার শান্তিও ম’রে যাবে। তাই তোর বেঁচে থাকা প্রয়োজন। দ্বিতীয় বার আর বলবো না, দ্রুত খা।”
শেষের কথা গুলো রাগী গলায় বলে।
সোহা উঠে দাঁড়িয়ে শরীর টেনে নিয়ে আসে খাবারের কাছে। সেই সকাল দশটার সময় খেয়েছিল তারপর সারা দিন ধরে না খাওয়া। শরীরে এখন শক্তি পাচ্ছে না, কেঁদেকেটে অবস্থা আরো খারাপ। মৃ”ত্যু কে ভয় পায় সোহা। ও এখনই ম’র’তে চায় না, আরো অনেক বছর বাঁচতে চায়। দুপুরে খেতে ইচ্ছে করেনি আর এখন শ্রবণের ভয়ে খাচ্ছিল না।
শ্রবণ আরেক লোকমা মুখে পুরে বলে,
“নিচে বসে খাবি।”
সোহা প্লেটে খাবার নিয়ে নিচেই বসে। শ্রবণ বিছানায় বসে খাচ্ছে। সোহা বুঝতে শেখার পর থেকে কোনো দিন চেয়ার টেবিল ছাড়া বসে খাবার খায়নি। আর আজকে নিজ বাড়িতে ফ্লোরে বসে খেতে হচ্ছে।
কয়েক লোকমা জোর করে গিলে ফুঁপিয়ে ওঠে মেয়েটা। শ্রবণ বিরক্তিতে মুখ দিয়ে ‘চ’ সূচক শব্দ উচ্চারণ করে। সোহার দিকে তাকিয়ে জোরে ধমক দিয়ে রাগী স্বরে বলে,
“মুখ দিয়ে আর একটা শব্দ বের হলে তোর মুখ সিল করে দেবো সারা জীবনের জন্য।”
সোহা শ্রবণের দিকে তাকায় না। প্লেট হাতে নিয়েই আরো দূরে সরে বসে যেন ভুল করে মুখ দিয়ে শব্দ বের হয়েও শ্রবণ শুনতে না পায়।
খাওয়া শেষ হয় শ্রবণের। প্লেট নিচেই রেখে দেয় এলোমেলো ভাবে। হাত ধুয়ে এসে কতক্ষন ফোন চাপে। সোহার খাওয়া শেষ হতেই লাইট অফ করে দিয়ে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ে। গম্ভীর স্বরে বলে,
“তুই ফ্লোরে ঘুমাবি বিছানা বালিশ ছাড়া। মনের ভুলেও বিছানায় আসার সাহস করবি না, আর কাউচেও না। আরেকবার যদি তোর নাক টানার সাউন্ড আমার কানে আসে— সেদিনের কথা ভুলিসনি নিশ্চই?”
সোহা বসে রইলো আগের মতোই। জন্মের পর থেকে যেই মেয়ে তুলতুলে ম্যাট্রেসে ঘুমিয়ে বড়ো হয়েছে সেই মেয়ে এখন এই শক্ত ফ্লোরে কীভাবে ঘুমাবে, তাও বিছানা বালিশ ছাড়া? বালিশ ছাড়া ঘুমোনো যায়?
কাউচেও ঘুমাতে নিষেধ করে দিয়েছে।
একটা মানুষ এত এমন কীভাবে হতে পারে? একটুও কী দয়া-মায়া নেই?
“আমি স্পর্শ নই যে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবি। নিজের দৃষ্টি সংযত কর নয়তো তোর চোখ কানা করে দেব।”
দ্রুত ঘুরে বসে সোহা। অন্ধকারের মধ্যে কীভাবে বুঝলো সোহা বিছানার দিকে তাকিয়ে আছে?”
চলবে………..
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২
-
দিশেহারা পর্ব ২৯
-
দিশেহারা পর্ব ১৫
-
দিশেহারা পর্ব ৩২
-
দিশেহারা পর্ব ৩০
-
দিশেহারা পর্ব ২৬
-
তোমার সঙ্গে এক জনম গল্পের লিংক
-
দিশেহারা গল্পের লিংক
-
দিশেহারা পর্ব ৩৭
-
দিশেহারা পর্ব ২১