দিশেহারা (৫১)
সানা_শেখ
শ্রবণের ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে সিয়াম আর স্পর্শ। শ্রবণকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। হসপিটাল থেকেই এখানে আসলো দুজন। সোহার ফোনে বারবার কল করেও সোহাকে আর পাওয়া যায়নি।
তাড়াহুড়ো করে দুজন বেডরুমে প্রবেশ করে। সোহা এলোমেলো ভঙ্গিতে শুয়ে আছে বিছানায়। দুজন দ্রুত ওর কাছে এগিয়ে আসে। সিয়াম বোনকে ধরলে বুঝতে পারে অজ্ঞান হয়ে রয়েছে। হাত-পা-শরীর ঠাণ্ডা বরফ হয়ে গেছে। চেহারা ফ্যাকাশে, গোলাপী ওষ্ঠজোড়া কালচে দেখাচ্ছে। সিয়াম স্পর্শের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কি গলায় বলে,
“ভাইয়া, অজ্ঞান হয়ে গেছে। শরীর ঠাণ্ডা বরফ।”
“এই জন্যই এতবার কল করার পরেও কল রিসিভ করেনি।”
স্পর্শ দ্রুত সেন্টার টেবিলের উপর থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে নিয়ে আসে। সোহার চোখেমুখে পানি দিতে দিতে নাম ধরে ডাকে দুজন। জ্ঞান ফিরছে না।
শ্রবণের অবস্থা দেখে এমনিতেই দুই ভাই আতঙ্কিত হয়ে আছে, এখন সোহার এই অবস্থা দেখে আরো ভয় পেয়ে গেছে।
সিয়াম ভয়ার্ত কন্ঠে বলে,
“ভাইয়া, জ্ঞান তো ফিরছে না। এখন কী হবে?”
“হসপিটালে নিয়ে চল, তোল ওকে।”
সিয়াম বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, সোহাকে পাঁজা কোলে তোলার চেষ্টা করে। না পেরে সোহাকে ছেড়ে পাশে দাঁড়িয়ে বলে,
“ভাইয়া, তুমি নাও আমি পারছি না।”
স্পর্শ দ্রুত সোহাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ায়। সোহার ওজন অনেক বেড়ে গেছে আগের চেয়ে। মাঝখানে শুকিয়ে গিয়েছিল, এখন আবার শরীর স্বাস্থ্য বেড়েছে।
নিচে নেমে আসতেই সিয়াম দ্রুত গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে উঠে বসে। স্পর্শ সোহাকে সিয়ামের কোলে শুইয়ে দিয়ে নিজেও পাশে উঠে বসে সোহার পা-জোড়া ধরে রাখে। পায়ের তালুতে ঘষতে ঘষতে ড্রাইভারকে তাড়া দিয়ে বলে,
“আংকেল, দ্রুত চলুন।”
ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ছুটে চলে। সিয়াম বোনের গালে মৃদু চাপড় দিতে দিতে ডাকতে থাকে।
স্পর্শের ফোন বেজে ওঠে। পকেট হাতড়ে ফোন বের করে দেখে সামাদ চৌধুরী কল করেছেন।
“দাদা ভাই, বলো।”
“ফ্ল্যাটে পৌঁছেছো তোমরা?”
“হ্যাঁ। সোহাকে নিয়ে হসপিটালে আসছি। অজ্ঞান হয়ে বিছানায় পড়ে ছিল, এখনো জ্ঞান ফেরেনি।”
“দ্রুত আসো, আমি ডাক্তারকে বলে রাখছি।”
“ভাইয়ার কী অবস্থা?”
“অপারেশন চলছে।”
“এখনো হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?”
“এখন ঠিক হয়েছে। ডাক্তাররা ভয় পাচ্ছেন, আবার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
“আব্বু কোথায়?”
“পুলিশ এসেছে, ওনাদের সঙ্গেই কথা বলছে।”
“যেই কু/ত্তা/র বাচ্চারা ভাইয়ার এই অবস্থা করেছে ওরা একটায়ও যেন পার না পায়।”
“তাতো পাবেই না। তোমরা দ্রুত আসো।”
“হুম, আসছি।”
গাড়ি এসে দাঁড়ায় হসপিটালের সামনে। সোহাকে গাড়ির ভেতর থেকে বের করে স্ট্রেচারে শোয়ানো হয়। স্ট্রেচারের পেছন পেছন সবাই ছোটে হসপিটালের ভেতরে। শ্রবণের এই অবস্থা তার মধ্যে আবার সোহা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাড়ির সবাই ভীষণ চিন্তিত আর আতঙ্কিত হয়ে আছে।
কেবিনের ভেতর থেকে ডাক্তার বের হতেই শাহীন রেজা চৌধুরী, সিয়াম, সামাদ চৌধুরী আর তনিমা চৌধুরী ডাক্তারের কাছে এগিয়ে আসেন। শাহীন রেজা চৌধুরী বলেন,
“ডাক্তার, সোহার কী অবস্থা?”
“মা এবং বেবি দুজনেই এখন বিপদ মুক্ত। ভয় পেয়ে প্যানিক অ্যাটাক করেছিল। আবার বিপি ড্রপ হয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। স্যালাইন, মেডিসিন সব দেওয়া হয়েছে, টেনশনের কিছু নেই এখন।”
“জ্ঞান ফিরেছে?”
“ঘুমাচ্ছে এখন, কয়েক ঘণ্টা পর ঘুম থেকে জাগবে। খেয়াল রাখবেন, আবার যেন এমন কিছু না হয়। বারবার এমন হলে বেবির ক্ষতি হবে।”
“আচ্ছা।”
ডাক্তার চলে যান, নার্সও কেবিনের ভেতর থেকে বেরিয়ে পাশের কেবিনে প্রবেশ করে রোগী দেখার জন্য।
সামাদ চৌধুরী তনিমা চৌধুরী আর সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“তোমরা দুজন এখানেই থাকো সোহার কাছে, আমরা ওখানে যাচ্ছি।”
“আচ্ছা, যাও।”
সিয়াম কেবিনের ভেতর প্রবেশ করে, পেছন পেছন তনিমা চৌধুরী প্রবেশ করেন। সোহা নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে। ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে রাখা। ডান হাতটা বেরিয়ে আছে, হাতে স্যালাইন চলছে। সিয়াম বোনের পাশে টুল টেনে বসে। অনিমা চৌধুরী চাইলেও হসপিটালে আসতে পারেননি, উনি নিজেই অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন।
তনিমা চৌধুরী একটু দূরে দাঁড়িয়ে সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। সোহার বর্তমান অবস্থাই বলে দিচ্ছে সোহা শ্রবণকে ঠিক কতটা ভালোবাসে।
সোহার ঘুম ভাঙে মধ্যরাতে। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। সবকিছু কেমন ঝাপসা ঝাপসা লাগছে। কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রেখে আবার তাকায়। অপরিচিত জায়গা দেখে আশেপাশে নজর বুলায় তখনই স্মরণ হয় শ্রবণের কথা। শ্রবণের কথা স্মরণ হতেই অস্থির হয়ে ওঠে। তাড়াহুড়ো করে শোয়া থেকে উঠে বসতে চায়, মাথা চক্কর দিয়ে ওঠায় আবার শুয়ে পড়ে।
আশপাশের পরিবেশ দেখে বুঝতে পারে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে। ও তো ফ্ল্যাটে ছিল, এখানে আসলো কীভাবে? কে এনেছে ওকে? শ্রবণ? শ্রবণ ঠিক আছে? কোথায় শ্রবণ? ওকে এখানে রেখে কোথায় গেছে?
ডান হাতটা আপনাআপনি পেটের উপর চলে আসে।
আস্তে ধীরে শোয়া থেকে উঠে বসে। মাথার মধ্যে কেমন যেন করছে, চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে না। শোয়া থেকে উঠে ভীষণ খারাপ লাগছে।
বেড থেকে পা নামিয়ে দিতেই কেবিনে প্রবেশ করেন তনিমা চৌধুরী। সোহাকে নামতে দেখে দ্রুত এগিয়ে আসতে আসতে বলেন,
“নামছিস কেন? শুয়ে থাক।”
সোহা বড়ো মায়ের দিকে তাকায়। ওনাকে দেখে দুর্বল গলায় বলে,
“তুমি এখানে?”
“তোর কাছেই তো আছি। কেমন ফিল করছিস এখন?”
“ও কোথায়? ও তোমাকে আসতে দিলো এখানে?”
“শ্রবণের কথা বলছিস?”
“হ্যাঁ। কোথায় ও?”
দরজা ঠেলে সিয়াম ভেতরে প্রবেশ করে। সোহাকে বসে থাকতে দেখে কাছে এগিয়ে এসে বলে,
“সোহা, ঠিক আছিস তুই? কেমন লাগছে এখন?”
“ভালো লাগছে। ও কোথায়? আমাকে এখানে কে এনেছে?”
“আমি আর স্পর্শ ভাইয়া এনেছি তোকে।”
“চাবি কোথায় পেয়েছ? ও কোথায়? কেমন আছে? কারা মে’রে’ছে ওকে? কথা বলছো না কেন?”
“শান্ত হ তুই, কারা মে’রে’ছে এখনো জানা যায়নি তবে খুব শীগ্রই জানা যাবে। ভাইয়া হসপিটালেই ভর্তি আছে।”
“ওকে অনেক মে’রে’ছে? অনেক ব্যথা পেয়েছে? আমাকে নিয়ে চলো ওর কাছে।”
“কান্না বন্ধ কর। এভাবে প্যানিক করছিস কেন? আবার অসুস্থ হয়ে পড়বি, বাবুর সমস্যা হবে, শান্ত থাক তুই।
“আমি ওর কাছে যাব, আমাকে নিয়ে চলো।”
সোহা নেমে দাঁড়ায়, মাথা চক্কর দিতেই ভাইকে আঁকড়ে ধরে দাঁড়ায়। এত খারাপ লাগছে কেন?
তনিমা চৌধুরী সোহাকে ধরে বলেন,
“তুই অসুস্থ, সকালে যাস, এখন রেস্ট কর।”
সোহা চোখের পানি মুছতে মুছতে কান্না জড়ানো গলায় বলে,
“আমি এখনই যাবো ওর কাছে। ও রাতে খেয়েছে? দুপুরে তো না খেয়েই বেরিয়ে গিয়েছিল।”
সিয়াম চুপ করে থাকে। চুপ না থেকে কিইবা বলবে? শ্রবণ তো খাওয়ার অবস্থায় নেই।
“ভাইয়া, চলো।”
“হুম, চল। নিজের কথা না ভাবলেও বাবুর কথা ভাব। তুই অসুস্থ হলে কিন্তু বাবুর সমস্যা হবে। কান্নাকাটি কম কর, নিজেকে শক্ত রাখ।”
সোহা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে ভাইয়ের মুখের দিকে তাকায়। সিয়াম এসব কথা কেন বলছে? শ্রবণের গুরুতর কিছু হয়েছে?
তনিমা চৌধুরী চাদর জড়িয়ে দেন সোহার গায়ে।
সিয়াম সোহাকে নিয়ে আইসিইউ-এর সামনে আসে। দেখা হয় সামাদ চৌধুরী, স্পর্শ আর শামীম রেজা চৌধুরীর সঙ্গে। স্পর্শ গম্ভীর হয়ে চুপচাপ বসে আছে। শামীম রেজা চৌধুরী বাবার সঙ্গে কথা বলছেন। সোহাকে দেখে তিনজনই বসা থেকে উঠে দাঁড়ান। শাহীন রেজা চৌধুরী বাড়িতে ফিরে গেছেন।
সোহা তিনজনের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আইসিইউ-এর দরজার দিকে তাকায়। ওকে এখানে নিয়ে আসলো কেন? শ্রবণ আইসিইউতে রয়েছে? সোহার কোমল হৃদয় আরো বেশি হুহু করে কেঁদে ওঠে।
শামীম রেজা চৌধুরী সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“ওকে এখানে নিয়ে এসেছিস কেন এখন?”
“ভাইয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে।”
সোহা জড়ানো গলায় বলে,
“ওকে অনেক মে’রে’ছে? অবস্থা অনেক খারাপ?”
সামাদ চৌধুরী বলেন,
“তুমি এত টেনশন কোরো না, শ্রবণ সুস্থ হয়ে উঠবে ইনশা-আল্লাহ। অপারেশন সাকসেস হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সকালের মধ্যে কেবিনে শিফট করে দেবে।”
“অপারেশন! অপারেশন কেন? কী হয়েছে? অপারেশন কেন করেছে? তোমরা কিছু বলছো না কেন আমাকে?”
সোহার কান্না দেখে সিয়াম ওকে চেয়ারে বসায়। তনিমা চৌধুরী সোহাকে ধরতে আসলেই সোহা ওনাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“তোমরা আসবে না আমার কাছে, তোমরা সবাই স্বার্থপর। ওর সঙ্গে কেন এমন করেছো তোমরা? কেন ওকে ভালোবাসোনি? কেন ওর সবকিছু কেড়ে নিয়ে ওকে একা করে দিয়েছিলে? ওর সঙ্গে এত অন্যায় কেন করেছো তোমরা? ওকে কেন এত কষ্ট দিয়েছ? তোমাদের মতো বেঈমান স্বার্থপর মানুষ কারো জীবনে যেন না থাকে। শ্রবণ চৌধুরীও স্বার্থপর মানুষ, ভীষণ স্বার্থপর।”
“শান্ত হ সোহা, এমন করছিস কেন?”
সোহা ভাইয়ের কোমর জড়িয়ে ধরে হুহু করে কাঁদছে। সামাদ চৌধুরী সোহাকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন,
“সোহা দাদু ভাই, সামলাও নিজেকে।”
সোহা দাদার দিকে তাকিয়ে বলে,
“দাদা ভাই, আমি ওর কাছে যাব।”
“ভেতরে গিয়ে কান্নাকাটি করা যাবে না। আরো রোগী আছে ওখানে, তাদের সমস্যা হবে।”
“কান্না করবো না।”
“আসো।”
সামাদ চৌধুরী সোহার হাত ধরে আইসিইউ-এর দরজা থেকে ভেতরে ঢুকিয়ে দেন। ভেতরে ডিউটিরত নার্সকে বলে দেন শ্রবণের কাছে নিয়ে যেতে।
নার্স সোহাকে শ্রবণের বেডের কাছে নিয়ে আসে। শ্রবণ লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। মুখে অক্সিজেন মাস্ক, গলা পর্যন্ত ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে ঢাকা। চেহারা কেমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে। শ্রবণের চেহারার দিকে তাকিয়ে সোহার হৃদয় ভেঙেচুরে চুরমার হয়ে আসে। টুলের উপর বসে থেকে শ্রবণের এক হাত মুঠো করে ধরে। হাতটা আজ শক্ত মুঠোয় ধরছে না সোহার হাত। সোহার দুচোখ বেয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। শ্রবণের সিল্কি চুলে হাত বুলিয়ে মৃদু স্বরে বলে,
“কেমন আছো? ঘুমিয়ে পড়েছ? ওঠো, কথা বলো আমার সঙ্গে। তোমাকে এভাবে দেখে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আমার।”
শ্রবণের দিক থেকে কোনো উত্তর আসে না, চোখ মেলে তাকায়ও না শ্রবণ।
অপারেশনের কথা স্মরণ হতেই শ্রবণের গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে খুঁজতে শুরু করে কোথায় অপারেশন হয়েছে। ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে সোহার মুখের রঙ আরো ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শ্রবণের সারা গায়ে, হাতে শুধু মা’রের দাগ। লাল লাল দাগে ভরা, দেখে মনে হচ্ছে চামড়া ফেটে গেছে। জায়গায় জায়গায় ফুলে আছে। ফর্সা দেহে দাগগুলো বিভৎস দেখাচ্ছে। সোহার শরীর ঝাঁকি দিয়ে ওঠে, গায়ের প্রত্যেকটা লোম খাড়া হয়ে গেছে।
শ্রবণের হাতটা শক্ত করে মুঠো করে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“এই শ্রবণ চৌধুরী, এই ওঠো। ওঠো না, আমার অনেক ভয় হচ্ছে তোমাকে এভাবে দেখে। এই, তুমি কী ঘুমিয়ে আছো? ঘুমিয়ে থাকলে জাগো। তুমি তো দুপুরে খাওনি, রাতেও খাওনি। খাবে না? এখনো খিদে পায়নি তোমার? আমি খাইয়ে দেবো তোমাকে, ওঠো না। তোমার কোথায় কষ্ট হচ্ছে? আমাদের ছেড়ে তুমি যেতে পারো না। আমাদের সন্তান এখনো দুনিয়ায় আসেনি, ও ওর বাবাকে দেখেনি, কোলে ওঠেনি, হাত ধরে হাঁটেনি। তুমি এখনো আমাকে ভালোবাসোনি, আমাদের সুখের সংসার হয়নি। আমি তোমাকে হারাতে চাই না, তুমি আমাদের একা করে দিয়ে যেতে পারো না। এই শ্রবণ চৌধুরী, এই স্বার্থপর শ্রবণ চৌধুরী ওঠো, উঠছো না কেন? রাগ করেছো আমার সঙ্গে? সরি বলেছি তো, জীবনেও আর কিছু বলবো না। একটাবার কথা বলো, চোখ খোলো। তোমার কি হয়েছে কেউ বলছে না আমাকে। ওরা কেন মে’রে’ছে তোমাকে? কি করেছে মা’রতে মা’রতে। ওরা মানুষ নাকি জানোয়ার? এভাবে কীভাবে আঘাত করলো তোমার গায়ে?
তুমি না থাকলে আমাদের কী হবে? এই, ওঠো। ওঠো, ওঠো, আর কত ঘুমাবে?”
শ্রবণের গায়ের দাগ দেখে পাগলের মতো আচরণ শুরু করেছে। তার মধ্যে সেই স্বপ্ন বারবার মনে পড়ছে। ওকে এমন করতে দেখে নার্স দ্রুত এগিয়ে আসে ওর কাছে। ওকে ধরে বলে,
“আপনি এমন করছেন কেন? শান্ত হোন, রোগীকে ডিস্টার্ব করবেন না।”
“ও….ওর কী হয়েছে? ও উঠছে না কেন? ক…কথা বলছে না কেন? এভাবে শুয়ে আছে কেন?”
“আপনি আগে শান্ত হোন।”
“ও বাঁচবে না? ও উঠবে না? সুস্থ হবে না? আমাদের সন্তান দুনিয়ায় আসার আগেই এতিম হয়ে যাবে? ও আমাদের ছেড়ে চলে যাবে? ও ও আ—
নার্স ধরেও ধরে রাখতে পারে না সোহাকে। সোহা আবারো অজ্ঞান হয়ে ঢলে পড়েছে ফ্লোরে। কেমন পাগলের মতো আচরণ করছিল, উন্মাদ হয়ে উঠেছিল। নার্স সোহাকে জাগাতে না পেরে বাইরের দিকে ছোটে শ্রবণকে ঢেকে রেখে।
চলবে………..
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করবেন। যারা যারা এখনো পেজটি ফলো দেননি তারা দ্রুত ফলো দিয়ে রাখবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৯
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৬
-
দিশেহারা পর্ব ১৩
-
দিশেহারা পর্ব ১৫
-
দিশেহারা পর্ব ৩৭
-
দিশেহারা পর্ব ৩০
-
দিশেহারা পর্ব ১১
-
দিশেহারা পর্ব ৪৭
-
দিশেহারা পর্ব ৩৫
-
দিশেহারা পর্ব ৭